Skip to content

BSHRM নির্বাচন নিয়ে একজন নন-ভোটারের ভাবনা

  • by

প্রিয় BSHRM ইসি সদস্য ও ইসি হতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা,আমাকে আপনারা চিনবেন না।

তার মূল কারন, আমি ”আমাদের” এই সংগঠনটির সদস্য নই। সদস্য না হয়েও ”আমাদের” কেন বললাম, সেটা আস্তে আস্তে বুঝবেন।

যাহোক, আগামী মাসে আমাদের ইসি নির্বাচন। এই দেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়েই আমার কোনো আগ্রহ নেই। জেনে অবাক হবেন, আমি আমার ৪০ বছর বয়সে কোনোদিন কোনো ইলেকশনে ভোট দিইনি। যাহোক, সেটি বড় বিষয় না। তাহলে আমাদের এই ইলেকশন নিয়ে আমি কেন কথা বলছি?

কারন আছে।কারনটি হল ওই, “এটি আমাদের সংগঠন”। BSHRM যেকোনোভাবেই হোক, যে কারনেই হোক, যেমনই হোক, দেশের সবচেয়ে বড় HR সংগঠন। সবচেয়ে পুরোনোও। বড় মানে হল, (যদিও ডাটা নেই, আর ডাটা ছাড়া আমি কোনো জেনারেল স্টেটমেন্ট দিতে চাই না, আপাতত কাজ চালানোর জন্য বলছি) দেশের বিরাট সংখ্যক HR প্রোফেশনালরা BSHRM এর সাথে যুক্ত।

আমার ধারনা, এটি মোট পিওর HR প্রোফেশনালের প্রায় ৬০%। তার মানে কথার কথা ধরে নিলাম, BSHRM দেশের প্রায় ৬০% HR প্রোফেশনালকে প্রতিনিধিত্ব করছে। এই বিশাল প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন তাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক পাঠ অনুযায়ী আমারও সংগঠন হতে বাধ্য। অফিশিয়ালি যদিও আমি সদস্য না, কিন্তু ঠিক যেই কারনে একটি দলীয় সরকার সারাদেশের সরকার (হয়তো সে মাত্র ৫১% ভোট পেয়েছে), সেই কারনেই BSHRM আমারও সংগঠন।

সেই সংগঠনকে নিয়ে কথা বলার অধিকারও তাই আমার আছে। তার কাছে আমার চাওয়া, পাওয়া, দাবী, অনুযোগ জানাবার অধিকার আমারও আছে।

কিছুদিন আগে আমি BSHRM এর ফেসবুক পেজে আমার দুটি লেখা দীর্ঘ প্রায় দুই মাস এ্যাপ্রূভালের অপেক্ষায় পড়ে থাকার বিষয়ে আমার বিষ্ময়ের কথা জানিয়েছিলাম। তারপর BSHRM আয়োজিত HR কনফারেন্সের আগক্ষণে “কনফারেন্স ও সেমিনারের উপযোগীতা” নিয়ে আমার একটি লেখা কাকতালীয়ভাবে BSHRM এর কনফারেন্সের সময়কালের সাথে ওভারল্যাপ হওয়ায় কেউ কেউ ধরে নেন, আমি হয়তো BSHRM কে মাথায় রেখে লেখাটি দিই। আসলে তা নয়। দুটির মধ্যে কোনো সংযোগ নেই।

আমি মানুষটি খুবই ইমপারসনাল। তাছাড়া আমি BSHRM এর ইলেকশন কেন্দ্রীক আরেকটি ছোট লেখায় বলেছিলাম, BSHRM কে নিয়ে আমার আবেগ, ভাবনার কথা। সেসময়ই বলেছিলাম, BSHRM ইলেকশন নিয়ে আমার কিছু ভাবনার কথা বিস্তারিতভাবে লিখব।

হ্যা, আমার মতো একজন অপরিচীত ও ক্ষুদ্র একক প্রোফেশনালের ভাবনার প্রকাশে হয়তো একটি বিশাল সংগঠনের খুব একটা ভাবিত হবার কারন ঘটে না, কিন্তু BSHRM আমার অনেক প্রোফেশনাল বন্ধুর সংগঠন আর তারা এবার অনেকেই ইলেকশনে প্রতিযোগীতা করছেন। বিধায় মূলত এই লেখাটি তাদের উদ্দেশ্য করে লেখা। আমি জানি, তাদের অনেকেই এবার ভোটে জিতবেন। ইসি হবেন। তাই তারা যদি লেখাটি পড়েন আর মনে রাখেন ভোটের পরেও, সেই আশায় লিখছি। আবারও বলছি, লেখাটি দুই প্যানেলে থাকা আমার প্রোফেশনাল বন্ধুদের উদ্দেশ্যে লেখা। BSHRM কে নিয়ে লেখা নয়। আর আমার ধারনা, আমার এই কথাগুলো BSHRM এর অনেক সদস্য’র মনের কথাও হবে।

১.

আমি এই সংগঠনের সমালোচক ও সমর্থক-দুটোই। সমালোচক, কারন চাওয়া ও পাওয়ার অনেক কথা আছে। সমর্থক এজন্য যে, এই বিশাল সংগঠনটির এইচআরের উন্নয়নে, সদস্যদের ভাগ্য সুরক্ষায় অনেক কিছু করার বিরাট সুযোগ আছে। যা করার তাকেই করতে হবে। কারন সে মুরব্বী, সে অগ্রজ। যারা তার সমর্থক বা সদস্য আর যারা তার সদস্য নয়-সবার কথা তাকে ভাবতে হবে।

২.

আমি জানি, BSHRM এর অবশ্যই একটি সংবিধান ও মেনিফেস্টো আছে। সেটিকে কি আরেকটু প্রাঞ্জল, সহজবোধ্য (আসলে পড়ুন, সবার কাছে অর্থবাহী) করা যায়? আর তার প্রচার কি একটু করা যায়?

৩.

”মেহেম্মেদ যদি পাহাড়ের কাছে না যায়, তবে পাহাড় মেহেম্মেদের কাছে আসবে” এই পুরোনো প্রবাদটি কি BSHRM এর অপারেশনাল ম্যনুয়েলের বেলায় প্রয়োগ সম্ভব? মানে, সংগঠনটিকে মানুষের কাছে নিয়ে যাবার চেষ্টা করা কি সম্ভব? BSHRM মহিরুহ, কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমার মনে হয়, তার ভিতরে বড় হবার একটা অহং জড়িয়ে গেছে। তাই BSHRM কে জনমানুষের মানে HR প্রোফেশনালদের কাছে নিয়ে যাবার প্রচেষ্টা আশা করব নবগঠিত ইসির কাছে। ইন্টার‌্যাকটিভ, কানেকটেড, কমিউনিকেটেড, প্রোঅ্যাকটিভ, ডাইনামিক BSHRM প্রত্যাশা করি আমরা। “মহান স্বত্ত্বা” হয়ে দূরে দাড়িয়ে থাকা BSHRM নয়। যারা এখন এইচআরএম নিয়ে পড়াশোনা করছে, তাদের কাছেও পৌছাতে হবে এই সংগঠনকে। মোদ্দা কথা হল, এটিকে হতে হবে, এইচআর শিখবার একটি স্কুল।

৪.

আমরা সংগঠন বানাই যে কারনে তার সবচেয়ে বড় কারন সংগঠিত হওয়া আর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্যে। BSHRM কে আমি ও আমার মতো গণমানুষেরা দেখতে চাই, আমাদের পাশে যেকোনো বিপদে দাড়ানোর মতো অভিভাবক হিসেবে। দেশের সাধারন বা প্রান্তিক শ্রমিকরাও আজ যেই ক্যারিয়ার নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পায় তাদের বিভিন্ন সংগঠন হতে, এমনকি সরকারী এসটাবলিশমেন্ট হতে, আমরা সেই সেবা বা সুরক্ষাবোধ পেতে চাই BSHRM হতে। আমরা দেখতে চাই, আমাদের যেকোনো বিপদে BSHRM আমাদের সাপোর্ট দিচ্ছে। আমাদের হয়ে লড়ছে। দরকারে উকিল দিয়ে হলেও।

৫.

BSHRM এর এবার উচিৎ একটি সিভি ব্যাংক, ডাটা ব্যাংক, জব পোর্টাল বানাবার দিকে নজর দেয়া। চাই নিজস্ব জব পোর্টাল।৬.ইতিমধ্যেই দেখেছি FBHRO নামে একটি সেন্ট্রাল বা সম্মিলিত ফোরাম সৃষ্টি করা হয়েছে। (এটির জন্ম কেন হল তা সৃষ্টিকর্তারাই ভাল জানেন)। কিন্তু এই নবোদয়টি নিয়ে আশাবাদী হতে চাই। এই ফোরামটি নিজে কোনো স্বত্ত্বায় পরিনত না হয়ে তার মূল লক্ষ্য “সমন্বয়” ও “সংযোগ” যেন অটুট থাকে। আর নামের মধ্যে HR থাকলেও কমপ্লায়েন্স ও এ্যাডমিন সংক্রান্ত যতগুলো সংগঠন আছে, তাদেরও যেন এই সংগঠন নিজের আওতা বা গন্ডীতে নিয়ে নেয়। তাহলেই সে সত্যিকারের একটি অভিভাবক ফোরামে পরিণত হবে। কারন দেশের সর্ববৃহৎ সেক্টর আরএমজিতে HR মানে HR, কমপ্লায়েন্স ও এ্যাডমিন-তিনটিকে নিয়েই বোঝায়।

৭.

আর্থিক খাতের পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সুষ্পষ্ট পরিকল্পনা, পরিকল্পনামাফিক ব্যয় এবং সদস্যদের কাছে গ্রহনযোগ্য ও চাওয়ামাত্র প্রদেয় একটি হিসাব, অডিট ও উপস্থাপন যদি না থাকে, তাহলে পাড়ার একটি সামান্য ক্লাবও সদস্যদের কাছে গ্রহনযোগ্যতা হারায়। যারা নতুন নেতৃত্বে আসবেন, তারা বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখবেন।

৮.

থোড়বড়িখাড়া>খাড়াবড়িথোড়-এই যেন না হয় এবার ইলেকশনের পরবর্তি BSHRM এর সার্বিক ম্যানেজমেন্ট ও কর্মকান্ডের ধারা। যেকোনো কারনেই হোক, এবার BSHRM ইলেকশন ও প্যানেলগুলো নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। এবারের ইলেকশনকে বলা হচ্ছে পরিবর্তনের হাওয়ার ইলেকশন। আপনারাও আশা করি উপলব্ধি করছেন, এবারের ইলেকশনের তাৎপর্য তাই অনেক। এবারের পরেও যদি আপনারা সফল না হন, কাঙ্খিত পজিশন ও মানে BSHRM কে না নিতে, তবে সেই আশাভঙ্গের প্রভাব বহুদিন ভোগাবে BSHRMকে। আর তার ফল ভুগবে আমার মতো সাধারন সদস্য ও অসদস্যরাও।

৯.

সবচেয়ে বড় কথা, BSHRM যেন স্রেফ ”এইচআরে চাকরী করে-এমন মানুষদের সমিতি” এই পরিচয়ে আটকে না থাকে দেশের আপামর প্রোফেশনাল জগতে। তবে হ্যা, বন্যার সময় ত্রান আর দামী দামী কনফারেন্স করেই কিন্তু আপামর জনগনের সংগঠন হতে পারব না আমরা।

১০.

গণতন্ত্র-বহুল উচ্চারিত ও কাঙ্খিত একটি বিষয়। BSHRM গণতন্ত্রের চর্চা কতটা করে-তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন হল, নতুন কমিটি/নেতারা সেটাকে কতটা বাস্তব করতে পারেন-সেটা।

১১.

সদস্যদের ফিডব্যাক ও মতামত নেবার কোনো ব্যবস্থা BSHRM রাখেনি। (আমি যতটা জানি। আমার ভুল হতে পারে।) সদস্য ও শুভাকাঙ্খীদের মতামত, পরামর্শ, আইডিয়া, অনুযোগ, অভিযোগ, চাহিদা জানার লাগসই ব্যবস্থা BSHRM কে নিতে হবে। আমাদের ফেসবুক পেজ ও লিংকডইন পেজ নিয়ে কার্যকর একটি ইনটার‌্যাকটিভ ফোরাম সৃষ্টি সম্ভব।

১২.

একটু বায়াজড মনে হতে পারে, তবু সাহস করে বলছি, দেশের সবচেয়ে বড় সেক্টর আরএমজিকে BSHRM এর বিশেষ নজর/মর্যাদা/স্টাটাস/গুরুত্ব দিয়ে চলা উচিৎ-নিজের স্বার্থেই। মনে রাখতে হবে, আমরা কোনো এলিট ক্লাব দেখতে চাই না। আমরা চাই গণমানুষের সংগঠন বানাতে। মান যেমনই হোক, আরএমজির HR (আসলে HR/এ্যাডমিন/কমপ্লায়েন্স এর একটি সম্মিলিত রূপ) যেকোনো বিচারে আকারে ও ব্যপ্তিতে দেশের বৃহত্তম HR। তাদের বাস্তবতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে BSHRM এর স্ট্রাটেজিক প্যাটার্ন সাজানো উচিৎ।

১৩.

এতক্ষনতো শুধু ইসিদের উদ্দেশ্যে কথা বললাম। শেষ একটা কথা ভোটার বা সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলব। ভোট দেবেন ব্যক্তিকে। ভোট দেবেন আপনার স্বার্থকে, ভোট দেবেন নিজেকে, ভোট দেবেন নিজের স্বপ্নকে। কোনো প্যানেল বা কারিশমাকে নয়। কোনো দায় বা দায়বদ্ধতা থেকে নয়। নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে দেখতে যোগ্য ব্যক্তিতে ভোট দিন।

আমি জানি, আমার মতো অসদস্য ও অর্বাচিনের কাছ থেকে এই দীর্ঘ বক্তৃতা শুনে আপনারা যারপরনাই বিরক্ত ও ক্রূদ্ধ। বহিরাগত একজন জুনিয়রের কাছ থেকে উপদেশ বা দাবীনামা শুনতে কার ভাল লাগে? কিন্তু আমার অধিকারের স্থানটি হল, এবারের ইসি প্রার্থীরা। অন্তত ১২-১৫ জন প্রার্থী আমার ব্যক্তিগত প্রোফেশনাল বন্ধু বা সিনিয়র। তাদের কাছে ছোটভাই কিংবা সহযাত্রী হিসেবে একটা দাবীতো করতেই পারি।

তাছাড়া, আমার এত কনসার্নড হবার আরো একটা কারন হল, দেশে সত্যিকারভাবেই একটি শক্তিশালী ও কার্যকর HR সংগঠন থাকা দরকার। যার সবরকম ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়ে আছে BSHRM এর জন্য।এক BSHRM এর উপর অনুযোগ ও আশাহত হবার ঘটনা হতে প্রচুর বিচ্ছিন্ন ও প্রান্তিক সংগঠন গড়ে উঠেছে ও উঠবে।

যার ফলে HR প্র্রোফেশনালদের ঐক্য আরো নষ্ট হবে। তাছাড়া, BSHRM এতটাই বড় হয়ে গেছে, যে সে যদি তার কাজটা না করে আর কেউ যদি সেই বাস্তবতা হতেই আরেকটি সংগঠন দাড়া করার চেষ্টা করে, সেটা আলোর মুখ দেখার সম্ভবনা কম। আমি আশা করি, BSHRM তার করনীয়টি এই বাস্তবতা হতেই ঠিক করবে।

এটি যেন কোনো বিশেষ ব্যক্তি, দল, ফোরাম, অঞ্চল, পেশা, মুগ্ধতা, কৃতজ্ঞতার সংগঠন না হয়। ২০১৮ পরবর্তি BSHRM যেন হয় বাংলাদেশের সকল ধরনের HR প্রোফেশনালদের প্লাটফরম।নতুন ইসির জন্য আগাম শুভকামনা।

#election #BSHRM #menifesto #commitment #demand

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *