গার্মেন্টস সেক্টরের বহুল প্রচলিত একটি হিসাব হল মোট বেতন হতে ব্যাসিক (বা বেইসিক স্যালারী) বা মূল মজুরী হিসাব করা।
এই কাজটি করার একটি সূত্র আছে, যা হল: – মোট মজুরী হতে ভাতার ১৮৫০ টাকা বিয়োগ করে সেই বিয়োগফলের ফিগারকে ১.৫ দিয়ে ভাগ করতে হবে। যে ভাগফল পাওয়া যাবে, সেটিই ব্যাসিক বা বেইসিক স্যালারী।
এখন, এই ১.৫ সংখ্যাটি কোথা হতে এলো এবং কেনই বা সর্বত্র ব্যবহার হবে, তা নিয়ে আমার মনে সবসময়ই প্রশ্ন জাগত। অনেককে জিজ্ঞেস করে খুব যুক্তিযুক্ত উত্তর পেতাম না। বিষয়টা ভুলে গিয়েছিলাম। হঠাৎ একটি গ্রূপে ওই একই প্রশ্ন নিয়ে একটি লেখা দেখে পুরোনো জিজ্ঞাসাটি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠল।
অনেকেরই অনেক রকম ব্যাখ্যা থাকতে পারে। আমার জিজ্ঞাসার জবাবে অনেকে তাদের বিশ্লেষন বিভিন্ন সময়ে দিয়েছেন। তাদের সকলকে ধন্যবাদ। আমি আমার নিজের মতো একটি ব্যাখ্যা এখানে দেব। এটিকে চুড়ান্ত মনে করার কিছু নেই। একই অংক ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে করা যায়। তবে সেই পদ্ধতি হতে হবে বিজ্ঞান নির্ভর, যুক্তি নির্ভর। আইন অনুযায়ী, মজুরীর যে বিভিন্ন লেয়ার আছে, তার সর্বনিম্ন ৭ নম্বর গ্রেডের বেতন ৮,০০০ টাকা। একে বলা হয় গ্রস স্যালারী বা মোট বেতন।
এখন, কর্মীদের বেতনের মধ্যে কিছু সেগমেন্ট বা ফ্র্যাকশন রয়েছে। মূলত ওভারটাইম ভাতার হার, বোনাস বা আরও এমন কিছু সাইড ইনকামের হার হিসাব করার জন্য মোট বেতনকে কয়েকটি সেগমেন্টে ভাগ করা হয়, আমরা যাকে স্যালারী ব্রেকডাউন বলি। তারই আলোকে, ৮,০০০ টাকাকে উদাহরন হিসেবে ধরলে, এর ব্রেকডাউন বা সেগমেন্টগুলো হল-মোট বেতন = ৮,০০০ টাকা, যার মধ্যে-ব্যাসিক বেতন = (মোট বেতন-১,৮৫০)/১.৫ = ৪,১০০ টাকা । বাড়ি ভাড়া = ব্যাসিক বেতনের ৫০% = ২,০৫০ টাকা । খাদ্য ভাতা = ৯০০ টাকা । চিকিৎসা ভাতা = ৬০০ টাকা । যাতায়াত ভাতা = ৩৫০ টাকা । এই তিনটি ভাতা একত্রে ১,৮৫০ টাকা, যা রিজিড বা স্থীর ফিগার।
বেতন যেই স্তরেরই হোক, যতই হোক, এই ভাতার পরিমান স্থীর বা নির্দিষ্ট। এখন, প্রশ্ন হল, ওই ১.৫ টা কী ও কোথা হতে এলো?
দেখুন, ওয়েজ সংক্রান্ত বিধানে বলা হয়েছে, বাড়ি ভাড়া হল, ব্যাসিক যা হবে, সেটার ৫০%; অর্থাৎ, ব্যাসিক যদি ১০০ টাকা হয়, তার বাড়ি ভাড়া হবে ৫০ টাকা। সেক্ষেত্রে ব্যাসিক ও বাড়ি ভাড়ার যোগফল হবে ১৫০ টাকা। তাতে দাড়াচ্ছে,
ব্যাসিক ১০০ টাকা হলে যাসিক+বাড়ি ভাড়া হবে ১৫০ টাকা । (এবার, ঐকিক নিয়মানুযায়ী)
ব্যাসিক ১ টাকা হলে ব্যাসিক+বাড়ি ভাড়া হবে ১৫০/১০০ টাকা = ১.৫ টাকা ।
আপনারা জানেন, ১ হল, সবচেয়ে ছোট একক কার্যকর সংখ্যা। যেকোনো হিসাব করার সময়ে, আমরা ১ এর মূল্যকে কে ভিত্তি দর বা হার ধরি, যেমন, বাজারে গেলে, আমরা বলি, ১ কেজি আলুর দাম কত? সেটাই আলুর দর বা হার। ১ কেজি চালের দাম কত? ১ টি ডিমের দাম কত? ১ কিলোমিটার যেতে কতটা সময় লাগে? ১ ঘন্টায় গাড়িটি কতটা যেতে পারে? সেটাই গাড়ির গতির ভিত্তি।
অর্থাৎ, যেকোনো হিসাব নিকাষে ১ এর মান হল ভিত্তি হার। সেই নিয়মানুযায়ী, সবসময়ই যেকোনো বেতনে প্রতি ১ টাকা ব্যাসিকের বিপরীতে ব্যাসিক ও বাড়ি ভাড়ার সম্মিলিত ফিগার বা অঙ্ক বা রেশিও হবে ১.৫।
ব্যাসিক ও (B+HR) এর অনুপাত ১ : ১.৫ । অর্থাৎ ব্যাসিক : (Basic+HR) : : ১: ১.৫ (অনুপাতে প্রকাশ) ।
একে যদি এবার উল্টে দিই, তাহলে দাড়ায়, যেকোনো বেতনের হিসেবে, (Basic+HR) যদি ১.৫ টাকা হয়, তাহলে তার ভিতরে ব্যাসিক হবে ১ টাকা। আগেই বলেছি, ১ হল ভিত্তি হার।
যেকোনো ফিগারের স্যালারীই হোক, সেখানে বাকি তিনটি ভাতা (মেডিক্যাল, খাদ্য ও যাতায়াত) তো স্থীর বা ১,৮৫০ টাকা। তার মানে ওই তিনটা বাদ দিলে স্যালারীতে সবসময়ে থেকে যায় ব্যাসিক ও বাড়ি ভাড়ার সম্মিলিত ফিগার, যেটা হতে ব্যাসিক আলাদা করে নিতে হয়।
এবার, আবার ঐকিক নিয়মে, ১ টাকা ব্যাসিকের হিসাবকে ভিত্তি বা ধ্রূবক বা কনসট্যান্ট ধরে, যখন, ব্যাসিক+বাড়ি ভাড়া ((Basic+HR) এমাউন্ট হবে ১.৫, তখন ব্যাসিক হয় ১ টাকা সুতরাং, B+HR যখন ১ টাকা, তখন ব্যাসিক হবে ১/১.৫ টাকা সুতরাং, B+HR যখন ………….. টাকা, তখন ব্যাসিক হবে (১/১.৫) X ………………
তাহলে কি বোঝা গেল, ১.৫ কনসট্যান্টটি কোথা হতে এলো? কেনই বা সেটি ভিত্তি হিসেবে গৃহিত হল? আর ব্যাসিক বের করতে সেটি কেন ব্যবহৃত হবে? প্রতি ১ টাকা ব্যাসিক তার আনুপাতিক হারে নির্নিত বাড়ি ভাড়ার সাথে মিলে বেতনের ভ্যারিয়েবল এমাউন্টের মোট ফিগার সৃষ্টি করে ১.৫ টাকা (Basic+HR), বিধায়, মোট বেতন হতে ১,৮৫০ টাকার নন-ভেরিয়েবল এমাউন্টটি বাদ দিয়ে বাকি টাকাকে সবসময়ে ১.৫ চলক বা কনসট্যান্ট দিয়ে ভাগ করে ব্যাসিক বের করা হয়।
#salaryfixation #wagecalculation #salarybreakdown #formulaofbasiccalculation #query #জিজ্ঞাসা