আমি যখন এইচ.এস.সি শেষ করলাম, তখন কিছু সঙ্গত কারনে সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি স্থানীয় কলেজে স্নাতক করব। সেই মতে ইংরেজিতে ভর্তিও হলাম। দুচারটা ক্লাসও করলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরম কিনেছি, কিন্তু মনে মনে ঠিক করা, যে, পি.সি কলেজেই থাকব। কিন্তু ঈশ্বরের ইচ্ছা ছিল ভিন্ন। সেই সময়ে ঢাকা ডেন্টালের এক বড় ভাইয়ের সাথে ঘটনাক্রমে পরিচয়।
ভদ্রলোক আমাকে প্রায় ধমকে নির্দেশ দিলেন, “তুমি অবশ্যই অবশ্যই যে কোনো মূল্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে এবং ঢাকাতেই পড়বে। পি.সি কলেজে পড়ার চিন্তা ভুলেও মাথায় স্থান দেবে না।” সেসময় ওনার ওই উপদেশ বা ধমক, যা ই বলি, মনে হয়েছিল, ওটা বেশি বেশি আর অনধিকার চর্চা। আমার মনে হয়েছিল, এটা বাস্তবে করা আমার জন্য সার্বিক বিচারে সম্ভব হবে না। তবে ওনার ধমকেই হোক, আর কপালের লিখনেই হোক, শেষতক আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম আর নানা নাটকীয়তার পরে পড়াশোনা শেষ করলাম।
আজ ১৯৯৮ সালের ২২ বছর পরে বসে বসে ভাবি, ওই দিন ওই বড় ভাইয়ের সেই ধমক বা উপদেশ না শুনলে জীবন আজ অন্যরকম হত নিশ্চয়ই। আজকের আমি নিশ্চয়ই হতাম না। সেটা ভাল হত বা খারাপ-সে বিচার খোদা ছাড়া কেউ জানেন না। তবে যেকোনো বিচারেই ওই ডেন্টাল বড় ভাইয়ের সেই পরামর্শ ও উৎসাহ আমার জীবনকে অন্যরকম করেছে-তা নিশ্চিত। আজকে আমি বিশ্বাস করি, ওনাকে খোদা সেইদিন সাক্ষাৎ দেবদূত করে হাতে ধরে আমার কাছে পাঠিয়েছিলেন।
পেশা নয়, নেশাও নয়, ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনধারা নিয়ে মাঝে মধ্যেই আগ্রহী ব্যক্তিদের বিশ্লেষণ দিয়ে সাহায্য করাটা আমার একটি পরিবীক্ষণমূলক কাজ। আমার পেশাগত ও লাইফ এক্সপেরিয়েন্স হতে কাউকে মতামত বা বিশ্লেষণাত্মক সাহায্য করার কাজটি করি অনেকদিন হতেই। একবার একজন আগ্রহীকে ৭ পাতা টেক্সট লিখে মতামত দিয়েছিলাম। ওটাই এযাবতকালের সর্বোচ্চ। অনেকে ইনবক্সে বিশ্লেষণ চান। সিভি রিভিউ চান। হঠাৎ হঠাৎ দুয়েকজন সরাসরি ফোন করেন-তাদের জিজ্ঞাসার কোনো নির্ধারিত পরিধী নেই। বহুব্রীহির ফরিদ মামার মতো বিচিত্র বিষয় নিয়েও কথা হয়। আমার বিশ্বাস, আমি যদি কোনোদিন সেকেন্ড ইনকাম হিসেবে কিছু করতে পারি, সেটার জন্য জোর সম্ভাবনা আছে, ঘন্টাচুক্তি কথা শোনা ব্যক্তি হিসেবে চার্জ করা। আমি ভাল বক্তা না হলেও ভাল শ্রোতা।ইনবক্স আর ফোন-দুটোতে যেসব কল হঠাৎ হঠাৎ আসে, তাদের কথা শুনি, লাইভ ভাবি, তৎক্ষণাৎ বিশ্লেষণ দিয়ে দিই। [আমি কখনো কাউকে সরাসরি পরামর্শ দিই না।] এগুলো হতে আমার একটা পারসেপশন তৈরী হয়েছে। আমাদের পেশাজীবিদের সিংহভাগই সেই ছাত্রত্ব থেকে শুরু করে চাকরিজীবনেও একটা স্বপ্নহীনতা, ভুল লক্ষ্য, লক্ষ্যহীন যাত্রা, ভুল স্ট্রাটেজি এবং ভুল সিদ্ধান্তের আবর্তে ঘুরপাক খান। আমার এ্যাডভাইজরির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বলে, কী ভীষণ ভুল ও দ্বন্দ্বের ঘুরপাকে যে মানুষগুলো ঘুরে মরছে, সময় নষ্ট করছে-তা সত্যিই অকল্পনীয়। চেষ্টা করি, ওনাদেরকে একটি তুলনামূলক রাস্তা বলে দিতে। ২১ তারিখ এক ভদ্রলোক ফোন করেছেন আমার নির্দিষ্ট সময়ে। বাসায় ফিরতে ফিরতে ৪৫ মিনিট কথা তার সাথে। ৮ বছরের ক্যারিয়ার। কনফিউজড। কথা বললাম। তার কন্ঠস্বরে মনে হল, তিনি হয়তো যা খুঁজছিলেন, সেটা পেয়েছেন। কতটা কাজে লাগাতে পারবেন, সেটা জানি না। তবে আমার খারাপ লাগে। আমি ও আমরা আমাদের সেরা পোটেনশিয়ালগুলো কীভাবে অপচয় করছি, সম্ভাবনাগুলোকে কীভাবে ভুলে কবর দিচ্ছি। আমি নিজে পেশাগত বা ব্যক্তিগত যাত্রায় খুব সামান্যই অর্জন করেছি। বড় কিছু হওয়ার সুযোগ হয়নি। অনেক সীমাবদ্ধতা আমার। পরামর্শ দেবার মতো উদাহরন আমি নিজেও নই। কিন্তু, আমার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ। জীবন, সমাজ ও কর্ম-তিনটি নিয়েই। আমার বয়সের তুলনায় আমি বেশি অভিজ্ঞ। অভিজ্ঞ। তবে আমি হতাশ বা মনোঃক্ষুন্ন নই আমার অবস্থান নিয়ে। তবে আফসোস আছে। আমাদের জীবন গড়ার শুরুতে আমরা খুব কম সুযোগ পেতাম কারো সুপরামর্শ পেতে। একটি সঠিক গাইডলাইন পেলে ও গাইডেড হলে অনেক কিছুই অন্যরকম হতে পারত। সেই সুযোগ হয়নি। আর সেজন্যই আমার সখের উপদেষ্টাগিরি। মুফতের উপদেষ্টাগিরি। ক্যারিয়ার নিয়ে কিংবা জীবনের নানা জটিল বাস্তবতা নিয়ে যদি কথা বলার মানুষ চান কিংবা বিশ্লেষণাত্মক মতামত চান, কথা বলতে পারেন। আমি একাই নই, যেকোনো বিজ্ঞ প্রোফেশনালের সাথে। লাভ না হোক, ক্ষতি হবে না। [এটি কোনো বিজ্ঞাপন নয়। বাস্তব দেখে, বাস্তবে ঠকে, বাস্তবে ঠেকে একজন পেশাজীবির অন্যদেরকে বাস্তববাদী ও স্থীরলক্ষ্য হতে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা মাত্র।]
আমাদের বাঙালীদের ভিতর সাবলম্বিতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে ‘জিদ’ ও ‘গোয়াড়পনা’ নামের দুটো ভুল আছে। আমরা অন্যের সদুপদেশকে নিতে পারি না। মনে করি, আমাদের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। অথচ, একটি ভাল পরামর্শ আপনার জীবন বদলে দিতে পারে। আপনার যদি মনে হয়, অন্যের মতামত ও পরামর্শ না শুনে একদম বিশুদ্ধ আত্মশক্তিতে ও আত্মমতে চলার মতো বড় মিয়া আপনি এখনো হননি, তাহলে ক্যারিয়ার, জীবনবোধ ও জগতবোধ-তিন নিয়ে কথা বলুন। যেকোনো একজন বা একাধিক প্রাজ্ঞ মানুষের সাথে। মতামত নিন, জীবনকে গোছান, জীবনকে পরিকল্পিত করুন।
শনিবার বাদে রোজ সকাল ৮:৩০ টা হতে ৯:৩০ টা কিংবা সন্ধ্যা ৬:০০ টা হতে ৭:০০ টা-কথা বলতে পারেন। ইনবক্স বা ফোনে। ফ্রি। তবে ভাল হয়, আলাপটা ইনবক্সে শুরু করলে। অতি জরুরী না হলে ফোন ব্যবহার না করুন। [ইয়ে, তিনটি কথা-আমি নিজেই মানুষের কাছে বুদ্ধি পরামর্শ ধার করি কিন্তু। আর এটি আমার বিজ্ঞাপন নয়। আর, ফ্রি বললেও বিষয়টি পুরো ফ্রি না। আলোচনা যেমনই হোক, সেটা কাজে লাগল, নাকি, আপনার সময় নষ্ট হল-আলোচনার পরে সেটা নিয়ে একটি ছোট ফেসবুক বা লিংকডইন রিভিউ আশা করব। রিভিউ বলছি, প্রশংসা নয়। সেটাই আমার ফিস। মানে ওই ফ্রি ফ্রি মার্কেটিং আর কি। তবে সেই মার্কেটিং আমার পসার বাড়াতে যতটা নয়, তার চেয়ে বেশি হল, আরও একজন সম্ভাব্য মানুষকে রাস্তা খুলে দিতে।]
#counseling #advisory #consultancy #MyCareerPlanning