”স্বামী বিদেশ” এই নামে সত্যি সত্যিই কোনো ফেসবুক পেজ থাকতে পারে, আমার জানা ছিল না। তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এই নামে একটি পেজ আছে, এবং তার সদস্য নারী পুরুষ-উভয়ই। যেসব নারী এই পেজের ভক্ত, বুঝলাম, সবার জামাই বিদেশ থাকে। কিন্তু পুরুষদের ব্যপারটা কী?আমার ধারনা, তাদের ’বউ বিদেশ’।আমার একজন সহকর্মী বলছিলেন,মোবাইলে ’উমু’, ‘ইমু’, ‘এমু’ ‘উম্মু’ নামে একটা যে অ্যাপস আছে, তার নাম নাকি মানুষ মজা করে রেখেছে ‘স্বামী বিদেশ” অ্যাপ।
নিশ্চয়ই এই অ্যাপ ব্যবহার করে বিদেশে থাকা স্বামীদের দাবী দাওয়া, আক্ষেপ মিটানো হয়ে থাকে। অথবা, স্বামী বিদেশ থাকায় তৃষিত ইভকূলের জরুরত মেটাতে সেখানে পুরুষকূলেরও আবির্ভাব। বিদেশী স্বামীদের স্থানীয় স্ত্রীদের দাবী দাওয়া মিটানোর যোগসূত্র দেয় এই অ্যাপ।তাই হয়তো এমন নাম।ভুলক্রমে ওই নোংরা পেজ; আর একবার, ঠ্যাকায় পড়ে ওই ইমু অ্যাপে ঢুকে আমার যা অভিজ্ঞতা, সেটা ভাষায় প্রকাশের না। রুচীতে বাঁধায় ওই দিকে গেলাম না।তবে এই লেখার মাজেজা হল,
সাম্প্রতিক কয়েকটা অভিজ্ঞতায় মনে হল,আর একটা গুরুত্বপূর্ন পেজ খোলার সময় হয়েছে।তা হল, ‘স্বামী অফিসে’।এই পেজের লক্ষ্য হবে, হাঁচড়ে পাঁচড়ে দামি গোলামীর চাকরি বা কলা ফুলে আঙুল গাছ হয়েছি-এমন কিছু সুপুরুষের প্রচুর আলগা টাকার সুবাদে যেসব নারী, স্বামীর আলগা বা অবৈধ টাকার বদৌলতে হঠাৎ করে জাতে উঠেছে,জামাই সারাদিনের জন্য অফিসে চলে গেলেই, সেই আলগা টাকার গরম কমাতে মাগনা বা জামাইয়ের দানের টাকায় কেনা উপচানো ’এমবি’ দিয়ে অন ও অফ-দুই লাইনেই সমানে দেশোদ্ধার,জাতির পতিত চেতনা উদ্ধার, নৈতিকতার পাঠ,ঘরের যাবতীয় অপ্রয়োজনীয় জিনিস বেঁচা, কূটনীতি চর্চা, ধর্মজ্ঞানদান,কখনো কখনো বুলিং, চোরাগলির বানানো ৭ নম্বর সালোয়ার কামিজের ব্যবসা,জীবনের ব্যবহার হবে না জেনেও জামাইয়ের পকেট হতে চুুরি করা টাকায় অনলাইনে মাগনা বা সস্তা জিনিস কিনে ঘর ভরার কাজ করে সময় কাটায়-এদেরকে একটা প্লাটফরম গড়ে দিতে এই পেজ-’স্বামী অফিসে’।
শুনতে আপনার যতই রুড, রাফ, নেগেটিভ, স্ল্যাং কিংবা সাবস্ট্যান্ডার্ড মনে হোক,আপনি যদি ‘স্বামী বিদেশ’ কিংবা ‘স্বামী অফিস’ হয়ে থাকেন, তাহলে একটু খোঁজ খবর রাখুন। আপনার আলগা বা অবৈধ টাকার উপচানো প্রাচুর্যে ভাসা ঘরওয়ালী আপনি অফিসে গেলে অন ও অফলাইনে কতটা দেশোদ্ধার করে।যাদের অমন আলগা টাকা বা অবৈধ টাকা নেই, বা যাদের ‘স্বামী অফিসে’ হওয়া স্বত্ত্বেও এই দেশোদ্ধারে মত্ত নন-তারা দয়া করে দূরে থাকুন।
এই দেশে একটা জঘন্য মিথ্যা কথা ব্যাপক জনপ্রিয়। সেটা হল,নারী একচেটিয়াভাবে নির্যাতিত জাতি। কিন্তু, একটু তলিয়ে দেখলেই বোঝা যায়, সুযোগ মতো এই নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশই [সবাই না, আংশিক] নিজেরাই নির্যাতক, প্রতারক, সন্ত্রাসী, বুলিং মাস্টারের ভূমিকায় অবতীর্ন হয়ে থাকে। নারীবাদি ও নারী-কেউ যদি এই লেখা পড়ে আমাকে ম্যাকিয়াভেলীর যুগের মানুষ ভাবেন, ভাবতেই পারেন। সত্যি কথা বললেই ‘হাজি সাবের মুখ খারাপ।’

আমি আমার দুই হাত দূরে ’ঠাডা’ পড়লেও সাধারনত বদারড হই না। যদি ঠাডা আমার পকেটে ও গর্দানে হাত না দেয়।
এমনিতে ভদ্রমহিলার ইংরেজি হল হুদা Lady, Gengtle Lady না। অথচ পুরুষ মানুষকে যদি ভদ্রলোক বলতে হয়, তার নামের সাথে Gentle লাগিয়ে বলতে হয় Gentleman। কেন এই বৈষম্য? কেন শুধু man মানে ভদ্রলোক নয়-জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন।
[এক শ্রেনীর নেটিজেনের ধারনা হয়ে থাকতে পারে, ভদ্রতা মানে দুর্বলতা ও ভীরুতা। কেউ যদি মনে মনে মন কলা খায়, তার দায় তার, লেখকের না। ভদ্রতা প্রদর্শনের দায় কেবল ভদ্রলোকের সাথে।]
#whore #feminism #womenempowerment #womeninbully #cyberbully #অবলানারী #bully