ছেলেবেটি সমাচার-১:
’ছেলেবেটি’ দেখে আবার ছেলে ও মেয়ে ছমঝাইয়েন না য্যান। কথাটা আসলে ’সিলেব্রিটি’ হইবেক। বলছিলাম, ছেলেবেটিদের জীবন নিয়ে। আগেও বলেছি।
সম্প্রতি ছেলেবেটি সাকিব আল হাসান ও তাকে নিয়ে বঙ্গফেসবুকীয় জাগ্রত জনতার ক্যারিকেচার দেখে আবার মনে পড়ল। একবার কোন এক বেয়াদব যেন একটা ট্রল করেছিল-”দেশে তিনজনই ’….ল’ আছেন, যেমন-সাকি বাল, তামিমিক বাল………..জাফরিকবাল।”
সাকিব আল হাসান নামক বিষ্ময় বালক, যাকে বঙ্গদেশের আ- পা- ম- র- জনতা চেনে সাকি বাল হাসান নামে, তিনি বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার ক্রীকেটার। তবে বঙ্গজনতার কাছে তার চেয়ে গুরুত্ববহ জিনিস হল, তিনি বেশুমার পয়সার মালিক বনে গেছেন। বয়স ৪০ হবার আগেই। তার মানে অর্বাচীন অথচ ধনী। তার বাপ দাদা জমিদার ছিল না। তার চৌদ্দ গুষ্টিতে কেউ পুলিটিশিয়ান নেই। সাকিবালের ইরফানীয় আর্ম পাওয়ার নেই। আর সেই কারনেই বঙ্গদেশের আ- পা- ম- র- জাগ্রত জনতার কাছে তিনি সাকিবাল। তার জীবন জনতার জীবন। তার পরিবার জনতার সম্পত্তি। তার বউ জনতার ভাউজ। তার বাচ্চা জনতার পাটক্ষেতের ক্যানভাসের প্রতিরূপ। সাকিবালের যা কিছু আছে-সবই পাবলিক প্রোপার্টি।
সুতরাং, সাকিবাল কী করবে, কী ভাববে, কী পড়বে, কী পরিধান করবে, কী খাবে, কোথায় যাবে, কোথায় মুতবে, কোথায় হাগবে, কোথায় শুচবে, কোথায় খেলবে, কোথায় থু ফেলবে, তার বউয়ের পোষাক কী হবে, তার বাচ্চা কোথায় জন্ম নেবে, সে পূজার লাড্ডূ খাবে কিনা, সে ভক্তকে কোলে নেবে কিনা, সে স্ত্রী সহবাস করবে কিনা, সে কোয়ারেন্টিন করবে, কি না-সবই পাবলিক ডিসিশন ম্যাটার। জাগ্রত জনতাই সব ঠিক করে দেবে। সাকিবাল শুধু তা তামিল করবে। আফটার অল, সে তো পাবলিক ফিগার তথা পাবলিক প্রোপার্টি।
সাকিবাল তার নিজস্ব জীবন নিজের সিদ্ধান্তে পরিচালনার অধিকার হারিয়েছেন সেদিনই, যেদিন হতে তিনি জাগ্রত জনতার চোখে বঙ্গদেশীয় অলরাউন্ডার সাকিবাল হয়েছেন। জয়তু সাকিব! তুই বাবা একটা রিমোট আবিষ্কার কর। সেটা পাবলিকের হাতে তুলে দে। তারাই তোকে চালাক। আগেও একবার বলেছিলাম।
বঙ্গদেশে সাকিবালের সবচেয়ে বড় দোষ কী জানেন?
এক; তিনি বাচ্চা অথচ ধনী মানুষ।
দুই; তার একজন অনিন্দ্য সুন্দরী স্ত্রী আছেন। এই মরার দেশে ট্যালেন্টড হওয়াটাও একটা পাপ। এখানে পদে পদে ট্যাকশো আর সালাম না দিলে মহাবীর আলেক জান্ডারও ডান্ডা দেখতেন, আয়রনম্যানও গুলিস্তানের মোড়ে চটকানা খেতেন।
ছেলেবেটি সমাচার-২:
বঙ্গদেশে ’কর্পোরেট’ নামে “আছে ফল গাছে নাই” ধরনের একটা জিনিস আছে। সেই সাথে আছে শো-লাইফ নামের এক জিনিস। একদা পাবলিকের মার খাবার হাত হতে বাঁচতে এক ছেলেবেটি নিজেকে ‘পাবলিক ফিগার’ হিসেবে পরিচয় দিতে গিয়ে আরেক দফা ছ্যাচা খেতে বসেছিল। তিনি অবশ্য ফেসবুকে পান খেয়ে কুলি ফেললেও জাগ্রত জনতা ১ লক্ষবার হরিবোল বলে তোপধ্বনী করে। তো, কর্পোরেট ও শো-লাইফের যারা ছেলেবেটি আছেন, তাদের ‘পাবলিক ফিগার’ হবার সাথে সাথে তাদের চাকরবাকর, দারোয়ান, গাড়িয়াল, চৌদ্দগুষ্টিসহ, বাসার কুত্তাটাও একরকম পাবলিক ফিগার তথা ছেলেবেটি। বস যেমন ছেলেবেটি, তাদের সার্ভিস স্টাফ, এমনকি পোষা কুত্তাটাও ছেলেবেটি মর্যাদা পায়।
আর তাই, এই ছেলেবেটিদের সমাজে যতটা আদর, কদর, তোয়াজ, তমিজ, তৈলমর্দন, তাদের চৌদ্দপুরুষ পর্যন্ত সেই একই তমিজ, আদর, সোহাগের ভাগিদার হয়ে থাকে। কোনো কোনো কর্পোরেট ছেলেবেটি আবার কর্পোরেট পীরও হয়ে থাকেন। সেটা হলে তো আর কথাই নেই। মুরীদরা পারলে পীর সাহেবের গাড়িটাকেও দেখলে সালাম দেয়। তার ড্রাইভারকে বেনসন অফার করে। তার পোষা কাউয়াকেও তখন নাইটিঙ্গেলের মতো সুন্দর লাগে। এসব দেখে আমি একটা খোশ এরাদা করেছি। কী সেটা?
পরের জন্মে আমি ছেলেবেটিদের বাড়ির কুত্তা হয়ে জন্ম নিতে চাই।
#celebrityaholic #stardom #popularity #showoffatitsbest #exhibitionism #TRPaholic #fameseeker #attentionseeker #fame #publicfigure #personality #privacy