সুপ্রিয় মাসুদ,শুনিতে পাইলাম, 96/98তে তুমি একখানা কর্মসূচী নামাইয়াছ। যাহা চলচ্চিত্র লইয়া। আবার নাকি তুমি আমাকে উক্ত কর্মসূচীর ঘোষনাতে কন্ঠিবদ্ধও করিয়াছ। বড়ই প্রিত হইলাম। যদিও বিগত কয়েক মাসে গ্রূপে উন্মুক্ত করা আমার লেখাগুলা প্রচন্ড রকম মার খাইয়াছে। কোনোটা সাতটা, কোনোটা নয়খানা লাইক পাইয়াছে।
ভাবিতেছিলাম, আর লিখিব না। আমি তো আর সেই অশ্লীল যুগের মতো করিয়া সালমানের নায়িকা মুসুমী যেমন দর্শক পাইতে আর বাজারে টিকিয়া থাকিতে শেষতক ফোয়ারার পানিতে জলকেলীতে নামিতে শুরু করিয়াছিল, তেমনি করিয়া খেমটা লেখা লিখিতে পারিতাম না। কিন্তু তোমার আহবান ফেলিতেও পারি না। তায় আবার, লিখিবার নেশাটা পুরুষের কামের মতো। শক্তি রহিত হইলেও প্রবৃত্তি রহিত হয়না।
মুশকীল হইয়াছে কি জানো, সাম্প্রতিক মাসগুলাতে আহার ও আচ্ছাদন সংগ্রাহক কর্মকান্ডে এতটাই নিমজ্জিত থাকিতে হইতেছে, যে, বিশেষ কিছু লইয়া লিখিবার মতো সময় ও মেজাজ কোনোটাই হাসিল করিতে বেগ পাইতে হইতেছে। তদূপরি চলমান সেপ্টেম্বরে কোনো প্রকার লেখা লিখিব না বলিয়া মনস্থ করিয়াছিলাম। তোমার কন্ঠিবদ্ধতা আমাকে কলম হাতে লওয়াইল। গৃহে প্রত্যাবর্তন করিবার সময়ে তাই তের নম্বর বাসে ঝুলিতে ঝুলিতে লিখিতেছি। চলচ্চিত্র লইয়া লিখিতে পারিব না। প্রথমত, আমি গোটা জীবনে মাত্র ৩ বার প্রেক্ষাগৃহে প্রবেশ করিয়াছি।
তবে দূরদর্শনে চলচ্চিত্র দেখিবার সৌভাগ্য ও দূর্ভাগ্য দুইটাই হইয়াছে। যাহা হউক, চলচ্চিত্র লইয়া বলিতে গেলে সর্বা্গ্রে যেই স্মৃতিখানা মনে পড়িয়া যায়, তাহা হইল, চলচ্চিত্র শুরু হইতেই জনৈক শয়তান (বাল্যকালে ভিলেনকে আমরা শয়তান বলিয়াই জানিতাম আর নায়ককে বলিতাম ভাল) কর্তৃক নায়কের পিতার খুন আর কোনো এক যাদু বলে সকল সময়ে নায়ক পর্দার আড়ালে হইতে সব দেখিতে পাইত। আবার খুন হইবার পরেই নায়কের পিতা কোনো এক যাদুবলে নায়ককে শুধু বলিয়া যাইতে পারিত, “বৎস, কালিয়া তোমার মাতাকে আর আমাকে হত্যা করিয়াছে। উহাকে তুমি ছাড়িবে না।” অতঃপর দৃশ্যে ভিলেনের আগমন। মৃতপ্রায় পিতা কর্তৃক পুত্রকে পালাইবার আদেশ। নায়ক কিয়ৎকাল দোনোমনো করিয়া অতঃপর পলায়ন। ভিলেন কর্তৃক উহাকে তাড়া দেয়া।
তবে কোনো এক আজব কারনে ভিলেন কখনোই নায়ককে দৌড়িয়া ধরিতে পারিত না। {বোধ করি, নায়কেরা সর্বদা হুসাইন বল্টুর খালাতো ভাই হইতেন।] যাহা হউক, অতঃপর নায়কের কচি পা দৌড়িতে থাকিত আর সিন আগে বাড়িত। পশ্চাৎপটে সিনেমার কলাকূশলীদের নাম উঠিতে থাকিত। সিন আগে বাড়িত আর নায়কের কচি পা ক্রমে গদা গদা দুটি পায়ে রুপান্তরিত হইতে থাকিত। নাম প্রদর্শন অবসান হইতেই নায়ক যুবাতে পরিণত হইত আর দৃশ্যপটে জসিম আসিয়া পড়িত।
সিনেমা লইয়া ইহাই আমার স্মৃতির নব্বইভাগ দখল করিয়া রাখিয়াছে। বাকি দশ ভাগের নয় ভাগে শাবানার সেলাই মেশিন ও আলমগীরের তিপ্পান্ন সালের লেদার ব্রিফকেস। বাকি একভাগ রহিয়াছে আধুনিক কালের ময়ুরী নাম্নী এক ওজনদার অপ্সরীর মেদবহুল গাত্রের প্রদর্শন ও ডিপজল নামীয় ভিলেনের আরাকানীয় ভাষায় ডায়লগ।
আরো কহিতে মন চাহিলেও উপায় নাই গোলাম হোসেন। চক্ষু বুজিয়া আসিতেছে। অবিশ্রান্ত অত্যাচারে উহাদের অবস্থা কাহিল। বাকি কথা আবার কভু হইবে। গরীবের প্রতি আশির্বাদ রাখিও। কুশলাদী কেমন?
ইতি, বিদ্যুৎ
#96/98 #cinema #moviereview