Skip to content

যেখানে ভূতের ভয়

  • by

ইন্ডিয়ান চ্যানেল সনি ও সনি৮ এ আহট নামে একটা হাস্যকর ভূতের সিরিয়াল হয়।

ভূতের চেহারা, অবয়ব, আবির্ভাব আর কাজকর্ম দেখে হাসতে হাসতে মরে যাই। ভারতীয় টিভি, মিডিয়া বা কোনো প্রকাশনায় ভূত বা প্রেতাম্মা নিয়ে কিছু দেখানো নিষেধাজ্ঞা আছে। তাই ওরা ভূত বলে না, বলে আত্মা। হিন্দীতে আত্মা তো বলা যায় না, বলে আতমা। তো আমরা দুইজন যখন মন খারাপ থাকে, তখন সনি৮ এ আতমার সিরিয়াল দেখি। আহট।

ভূতের সিরিয়াল হত ডিসকভারীতে। সম্ভবত The Hunting কিংবা A Hunting। প্রায় বিশ্বাসযোগ্য করেই বানাতো সিরিয়ালগুলো। রাত ১১ টার দিকে হত। দেখে বেশ ভয় ভয় জাগত। তবে সেগুলো যে ভূয়া সেটাও সত্যি। সাদা চামড়ার সাহেবরা খুব বিশ্বাসযোগ্য করে মিথ্যা বলতে পারে। ঠিক যেমন WWF এ মিথ্যা দেখানো হয়। ভূত নিয়ে খুব কিউট একটা মূভী করেছে শাহরুখ আর রানী-পেহেলী। অসাধারন লাগে আমার কাছে। ভূত যে এত কিউট হতে পারে, সেটা পেহেলী দেখেও মনে হতে পারে।

ক্যাসপার কার্টুনের কথা মনে পড়ে? ছোটবেলায় ক্যাসপার কার্টুনটা খুব একটা জনপ্রিয় ছিল না, থান্ডারক্যাটস, ক্যাপ্টেন প্লানেট কিংবা ডিফেন্ডারস অব দ্যা ইউনিভার্সের আড়ালে। কিন্তু ক্যাসপার (একক কার্টুন নাকি টম জেরির সাইড ক্যারেক্টার মনে নেই) ছিল কিউট একটা ভূত। দেখলে ভয় তো লাগতোই না, মায়া হত।

মফস্বলে থাকতে ভূতের গলির নাম শুনতাম। ঢাকায় এসে ভূতের গলি খুঁজতাম। পেতাম না। আমার অগস্ত হাটার স্বভাব ছিল। এখনো আছে। একদিন সত্যি সত্যি হাঁটতে গিয়ে দেখি বাড়ির ঠিকানার বক্সে লেখা, “ভূতের গলি”। চৈত্রের দুপুরে। শুনশান রাস্তায়। ভয় পেয়েছিলাম। সত্যিই ভূত আছে কিনা, জানতে অনেকবার গেছি পরে।জানো কিনা? ছোটবেলায় আমরা ভাবতাম ভুতূম পেঁচা ভূত হতেই এসেছে? তবে ওটা যে হুতোম প্যাঁচা সেটাতো নেকাপড়া শেখার আগে জানতামই না। প্যাঁচা দেখলেই তাড়া করতাম।

অনেক আগে। ধানমন্ডি ভূতে খেতে গিয়েছি। বড় এক আপার মেয়ের জন্মদিনের ট্রিট। তো ভূতে ঢুকে খাবার অর্ডার করেছি। ভাগ্নী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ভূত কখন আসবে, কখন আসবে। সত্যি সত্যি মিনিট দশেক পরে ভূত বাবারা দল বেঁঝে হাজির। নানান শব্দে, হুল্লোড়ে প্রায় ৭/৮ জন ভূত ডায়নিং হলে লম্ফঝম্প করে বাচ্চাদের ভয় দেখাতে শুরু করল। ভাগ্নী আমার এতক্ষণ ভূতের জন্য রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা করলেও যেই ভূতে টেবিলের পাশে এসে ম্যাও করেছে, সে একলাফে “মাগোওওওওওওওওওওঁওঁওঁওঁ” করে সোজা রেষ্টোর‌্যান্টের বাইরে। সাথে সাথে তার মাও দৌড়ে মেয়ের পেছনে পেছনে তাকে ধরতে গেল।

যাহোক, কিছুক্ষণ পরে ভূতের উপদ্রব চলে গেল। আমি গিয়ে মা আর মেয়েকে ডেকে আনলাম। খাবার খেতে খেতে ভাগ্নীকে সাহস দিলাম। ওমা, আমার বেহেন আমাকে বলে, ”বিদ্যুৎ, আসলে আমিও খুব ডরাইছি। তাই মেয়েকে আনার নাম করে আমিও চামে চামে ভাগছি।”

বোঝো ঠেলা।

#vootউড়ে96/98 #ghost

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *