আশির দশকে জন্মানো আমাদের ছোটবেলায় মফস্বল বা গ্রামে থাকা আমাদের সবারই একটা খুব ছেলেমানুষি ছিল। সেটা হল, এলাকাতে যদি কোনো চার চাকার ‘মডোর গাড়ি’ কোনো এক ঈদের চান্দে দেখা যেত, তাহলে আমরা মহল্লার সমস্ত বাচ্চারা তার পেছন পেছন হল্লা করে ছুটতাম। ওই সময়ে একটি চার চাকার গাড়ি ছিল আমাদের কাছে পরম বিষ্ময়ের। একই কাজ করতাম যদি আকাশে হেলিকপ্টার বা প্লেনের গর্জন শোনা যেত। ব্যাস, ছেলেবুড়ো সবাই ঘর হতে বাইরে বেরিয়ে সেই হেলিকপ্টার বা বিমানের ছুটে চলা দেখতাম পরম বিষ্ময়ে, হরিষে।
আজকের এই মিলেনিয়াল ট্যাব প্রজন্ম হাজার চেষ্টা করলেও এটা কিছুতেই কল্পনা করতে পারবে না, যে, আকাশে হেলিকপ্টার উড়লে সেটা ছুটে গিয়ে দেখার কী ছিল। ঠিক তেমনই এক বিষ্ময় ছিল টিভি। তখনকার সেই নিপ্পন, ন্যাশনাল অথবা প্যানাসনিকের কাঠের বডি সাদাকালো টিভিতে শুধু বিটিভি দেখাতো। আজকের এই ইন্টারনেটে দেখা 4K এনড্রয়েট টিভির দর্শকরা কিছুতেই কল্পনা করতে পারবেন না, সেই কাঠবডির ঝিরঝিরে চলমান বিনোদন আমাদের কীভাবে আন্দোলিত করত। আহ, কী সব দিন ছিল!
বুকে হাত দিয়ে বলোতো, আজও, যদি আমাদেরকে টিভিতে কোনো একটা ১০ সেকেন্ডের নিউজেও দেখানো হয়, তাহলে আমরা ১০০ জনকে ফোন দিয়ে কি বলি না, “এই, আজকে রাত আটটায় আমাকে টিভিতে দেখাবে, দেখিস কিন্তু!”আমাদের আরেক বিষ্ময়ের নাম ছিল পত্রিকা। দেশে শুককুরবার ভোরে ঘটে যাওয়া ঘটনা আমরা পত্রিকায় পড়তাম, জানতাম পরের দিন শনিবার বিকেলে। তবুও পত্রিকায় কিছু ছাপানো মানেই আমাদের কাছে ছিল বিরাট সত্য ও বিষ্ময়।
কারো কাছে কোনো সংবাদ বা তথ্য অবিশ্বাস্য মনে হলেই আমরা বলতাম, “না না, পত্রিকাতেও এসেছে।” আধবুড়ো এই বয়সে সেইসব বিষ্ময়, যুগের পরিবর্তনে আজ তার আবেদন হারালেও পুরোনো সেই প্রেমের মতো নষ্টালজিয়া ফেরত আসে আমাদের প্রিয় 96/98 গ্রূপের জন্মের ফলে। সেই আশির দশকের শৈশব ও শৈশবের বন্ধুদের আবার একসাথে নিয়ে স্মৃতি রোমন্থনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে আমাদের 96/98 গ্রূপ।
তোমাদের মনে পড়ে কি? সেই যে, ছোটবেলায় ধান কেটে ফেলার পরে এবড়োথেবড়ো মাঠ কুপিয়ে, মাটি সমান করে, কাদামাটি লেপে ক্রিকেটের পিচ বানানো, সেই যে, চিকন বাঁশ কেটে স্ট্যাম্প বানানো আর অনেক দিনের টিফিনের টাকা জমিয়ে একটা টাইগার বা এরোপ্লেন বল কেনা? তারপরে বিকেলগুলো সেই ক্রিকেট ক্রিকেট করে হারিয়ে যাওয়া? সেই যে দাগ কেটে ব্যাট চাপা দিয়ে ব্যাটিং সিরিয়াল করা? অথবা, এক দল ব্যাট করে আরেক দলকে ব্যাট করার সুযোগ না দিয়ে পালানো? তাই নিয়ে পুকুর পাড়ে সালিশী? হা হা হা।সেই আবেশকে ফিরিয়ে আনা, সেই শৈশবের বন্ধুদের সাথে আবার ক্রিকেট খেলা, ওহ! অবিশ্বাস্য নস্টালজিয়া।
বন্ধুরা, রেসিডেন্সিয়াল কলেজ মাঠে হয়ে গেল আমাদের 96/98 গ্রূপের ৫ম বার্ষিক ক্রিকেট মহাসম্মেলন। এ তো ক্রিকেট খেলা নয়, এ হল, শৈশবে ফেরত যাওয়া। আধবুড়ো আর আধবুড়ি (তবে চির সুন্দরী) ১৮ হাজার বন্ধু পাগলকে নতুন করে নাচানো।আমাদের দুইদিন ব্যাপী সেই প্রাণের সম্মিলনকে কাভার করেছে অসংখ্য মিডিয়া (!!!!!!!)। যদিও মিডিয়া কাভারেজ আমাদের প্রাণের স্পন্দনের চেয়ে বেশি কিছু প্রাপ্তি নয়। তবুও, আমাদের কাজকে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে যেতে দেখলে, দেশের আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা আমাদের সেই দুই লক্ষাধিক ৯৬ বা ৯৮ বন্ধুদের খুঁজে আনতে এই কাভারেজ সাহায্য করছে-দেখলে নিশ্চয়ই বুকটা ভরে ওঠে?
আমি আমাদের এবারের টুর্নামেন্ট’র মিডিয়া কাভারেজের লিংকগুলো একসাথে এখানে দিচ্ছি। দেখে নাও, আমাদের ছড়িয়ে যাওয়া, ছড়িয়ে পড়া, আমাদের 96/98 এর কাজের জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃতি। জয়তু 96/98। ক্রিকেট দূতিয়ালীর সব আয়োজককে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ। সবার পক্ষ হতে। খেলায় অংশ নিয়ে আর দর্শক হয়ে হাত তালি দিয়ে যারা টুর্নামেন্টকে সফল করেছ, তারা তো আসল হিরো।[লিংকগুলো পেতে সহায়তা দিয়েছে অভি, দ্য ঈগলম্যান। যেসব বন্ধুরা আমাদের এই মিডিয়া কাভারেজ স্বেচ্ছায় দিয়েছ, তাদেরও কৃতজ্ঞতা। বিশেষভাবে স্মরন করব বন্ধু ও 96/98’র সুহৃদ Mohammad Arifuzzaman আরিফুজ্জামানের অকুন্ঠ অবদানকে। কী করে শুধিব এ ঋন হে সখা!]
#96/98 #crickettournament2021 #mediacoverage