Skip to content

শারিরীক শিক্ষার উপযুক্ততা: হয়েছে কি সময়?

  • by

আমার একজন প্রাজ্ঞ বন্ধুর একটি লেখার প্রেক্ষিতে মন্তব্য হিসেবে কিছু কথা বলেছিলাম। সেটাই আবার বলছি।

টপিক ছিল, সন্তানদের “শারিরীক শিক্ষা” দেবার ভাল মন্দ নিয়ে। এই দেখুন, আমিও সোস্যাল ট্যাবু হতে বের হতে পারছি না।

একটি শিশুকে নিয়ে কীভাবে জীবন কাটাতে হয় সে সম্পর্কে আমার কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। একটি মানব শিশুর জন্মদান পরিকল্পনা হতে শুরু করে তাকে ২৫ বছরের পর্যন্ত পৌছে দেবার পুরো প্রক্রিয়াটি ঠিক কীসের কীসের সমন্বয়ে, কোন কোন শিক্ষা, কোন পদ্ধতিতে, কতটা মাত্রায় দিয়ে তাকে এগিয়ে নিতে হবে সেটা একটা বিরাট প্রশ্ন। এখন পর্যন্ত ‘বাচ্চা মানুষ করার আদ্যোপান্ত’ এমন কোনো ম্যানুয়াল কিংবা বৈজ্ঞানিক পূর্নাঙ্গ গবেষনা হয়নি। বিধায় ঠিক কোন নীতি ও প্রক্রিয়া স্রেফ একটি মানুষের ছানা হিসেবে জন্মানো হোমোসেপিয়েনকে মানুষ করে তোলার জন্যে সর্বৈব উপযুক্ত হবে সেটা জানাটা বেশ কঠিন।

সেই বিচারে বলতে পারি, আজও আমরা একরকম এক্সপেরিমেন্টের ভিতর দিয়ে যাচ্ছি। তার মধ্যেই এসে পড়েছে স্মার্ট ফোন ও মুক্ত ইন্টারনেটের যুগ। বিষয়টা আমাদের জন্য আরো কঠিন হয়ে গেছে। কারন বাচ্চা জেনেটিক্যালী পয়দাই হচ্ছে অত্যন্ত অ্যাডভান্সড ও কমপ্লেক্স জিন নিয়ে। তাদের মানুষ করা তো আরো কঠিন। আদর না শাসন, বন্ধু না গার্ডিয়ান, চাপ নাকি মুক্ত জীবন, লিবারেল নাকি কনজারভেটিভ-কোনভাবে বাচ্চাকে এপ্রোচ করলে সে ২৫ বছরে একটা মানুষের বাচ্চার মতো হবে-সেটার কোনো সার্বজনিন বা প্রমানিত তত্ত্ব নেই। ১৮ না বলে ২৫ বলছি, তার কারন আমি মনে করি বাংলাদেশের একটা মানুষের ছানা ২৫ বছর পর্যন্ত বাবা-মা’র অধীনে বা দায়ীত্বে রয়ে যায়।

তাই ”শারিরীক শিক্ষা” তাদের কোন বয়সে, কত মাত্রায়, কত ডিগ্রীতে, কোন এঙ্গেলে, কোন ডাইমেনশনে ইনজেক্ট করতে হবে সেটা নিয়ে অভিভাবকরা দ্বিধাদ্বন্দে পড়াটা স্বাভাবিক। তার উপর ওই যে বললাম, ট্যাবু। ট্যাবু হতে বের হতে পারাটা শুধু প্রচারনায় হবে না। ওটা রক্তে, জিনে থাকে। আর ওই ”শারিরীক শিক্ষা” যাদের দেয়া হয়েছে, তাদের বড় বয়সের কোনো পোস্ট-এক্সপিরিমেন্ট স্ট্যাডি কি হয়েছে? ওই প্রোগ্রামের ফিডব্যাক বা ইমপ্যাক্ট জানতে?

বোধহয় তেমন জোগ্নাল কোনো তথ্য নেই। আমি ওই শিক্ষার একচেটিয়াভাবে পক্ষে বা বিরুদ্ধে না। আমি শুধু বলছি, একটি বৈজ্ঞানিক ও টোটাল প্যাকেজ দরকার। আর দরকার একটি সহায়ক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা। একা পরিবারে বাবা-মা তাকে আগলে রাখলে কী লাভ? সেতো একটু বড় হলেই তার ২৪ ঘন্টার জীবনের একটা বড় অংশ বাইরে থাকে। সেখানে তাকে বিগড়াতে হাজারটা উপাদান দাড়ানো।

যেই দেশে এখনো বাচ্চা পয়দা হওয়াটা বেশিরভাগই স্রেফ একটি দুর্ঘটনা কিংবা সংসার টিকানোর ব্রীজ বলে মনে করা হয়, যেই দেশে বাবা-মা হতে কোনো ট্রেইনীং লাগে না, যেই দেশে মেয়ের মা-খালা দ্রূত মেয়েকে বাচ্চার মা হয়ে যেতে বলেন, সেই দেশে বাচ্চাকে ০ দিন হতে ২৫ বছর পর্যন্ত একটি পূর্নাঙ্গ শিক্ষা ও শিক্ষনপ্রক্রিয়ার (যৌনশিক্ষাসহ) ভিতর দিয়ে যাবার কথা ভাবাটা একটি দুরকল্পনা।

ভাল থাকুন। ভাল থাকুক আমাদের প্রজন্ম।

#sexeducation #awareness #taboo #childrearing

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *