বাংলাদেশের অত্যন্ত ছা-পোষা একজন কেরানী এই আমি। নিজে একটি বেসরকারী চাকরি করা বাদে প্রায় কোনো কিছুই আমি শিখিনি। কোনো কিছু বলতে আয় করার মতো আর কোনো কিছু। ফলে চাকরি হতে প্রাপ্ত যৎসামান্য টাকাই আমার ও পরিবারের সবার ভরণপোষণ, চিকিৎসা, সামান্য বিনোদন, ভবিষ্যতের জন্য অতি আয়াসে দুই চার টাকা জমানো-সব কিছুর উৎস। এর বাইরে নৈতিক ও অনৈতিক-কোনো উপায়েই বাড়তি কিছু কামানোর বিদ্যা, সক্ষমতা ও সুযোগ আমার মতো একটি বিশাল সংখ্যক মানুষের নেই।
ফলে আমরা যক্ষের ধনের মতো অতি কৃপণতার সাথে অমানবিক পদ্ধতিতে অতি সামান্য কিছু টাকা প্রতি মাসে বাঁচাই। আর সেই টাকাটা আর কোনো পথ না পেয়ে ব্যাংকে রাখি। আর ব্যাংক সেটাকে কী এক যাদুবলে প্রতিবছর নানা ঘাইকিচিং দেখিয়ে কমিয়ে ফেলে। কীভাবে? আরে, ব্যাংক এখন হতে সুদ দেবে সর্বোচ্চ ৫-৫.৫% আর দেশে মূদ্রাস্ফিতি ৫.৫%-৬%। ফলাফল-সিস্টেমে টাকা বামন হয়ে যাচ্ছে।
অবস্থাদৃষ্টে যা বুঝতে পারছি, আজ হতে আরও বছর বিশেক যদি বেঁচে থাকি আর ওই টাকাটা সত্যি সত্যিই দরকার পরে (কোনো প্রাণঘাতি রোগের চিকিৎসায়, বুড়ো বয়সের চাল ডাল কেনায় কিংবা গ্রামে একটা ছোট্ট কুড়েঘর তুলতে কাজ লাগাবো), তার কোনো আর উপায় রাখা হচ্ছে না। এমনিতে ব্যাংকে রাখা ছাড়া আমাদের আর কোনো মুরোদ নেই।
আচ্ছা? থাকতে হবেই বা কেন? একটি চাকরি ও তার যাবতীয় কাজ মন দিয়ে সততার সাথে, দক্ষতার সাথে করার বাইরে আর কিছুর মুরোদ থাকাটা রাষ্ট্র কেন বাধ্যতামূলক করে তুলবে আর আমরা কেন বাধ্য হয়ে নিজেদের অযোগ্য অকেজো হিসেবে আবিষ্কার করব? যাহোক, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ব্যাংকের দুই চার লাখ টাকা চমৎকার করে দেশ ও দশের কাজে ভোগে চলে যাবার সব আয়োজন করে ফেলেছেন ’কর্তারা’।
আমি ও আমার মতো নিতান্ত গরীব ও ছা-পোষা চাকরিজীবি ও পেনশনজীবিরা রোজ রাতে এই টেনশন নিয়ে ঘুমাতে যাচ্ছি, যে, সকালের খবরে হয়তো দেখব, “অমুক ব্যাংক নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার অনুমতি পেয়ে গেছে আর তারা তাদের ভল্টের যাবতীয় ভার্চুয়াল ও হার্ড কপি টাকা ভূতকে নৈবেদ্য দিয়ে ফেলেছেন।” তা নিন, আমরা তো রাষ্ট্রেরই গোলাম। আমাদের হাড়, চামড়া, মাংস, টাকা, বাড়ি, গাড়ি, রক্ত-সবই রাষ্ট্রের। আমাদের রক্ত জল করা টাকা যদি রাষ্ট্রের ভোগে যায়, তাতে তো আমাদের পরকাল উদ্ধার হয়ে যাবে। এতো আমাদের ভাগ্যি।
হে ঈশ্বর! হে মানুষের ঈশ্বর! যদি সত্যিই সেই দিন আসে, তবে তোমার কাছে কোনো উপায় চাই না। শুধু তোমার মৃত্যুদূতকে একটু বলে দিও, আমাদের সেই দিনই যেন, আমাদের পরিবারসহ তুলে নেয়। আমাদের অবর্তমানে আমাদের পরিবারগুলোকে দেখার মতো কেউ অন্তত এই রাষ্ট্রে থাকবে না, তাই তারা বেঁচে করবেনটা কী?
** বেকুবের মতো রাজনৈতিক মন্তব্য করতে চাইলে অন্যত্র করুন। আমি রাজনীতির মানুষ নই।
#perheadincome #GDPgimmick #economicgrowth #middleincomecountry #cosmeticdevelopment #lootinbanking #inflation #devaluation