যদিও উপরের দিকে যারা চাকরী করে-বিশেষত এইচআরের, তারা যতই ভাল কথা বলুক বা কাজ করুক, ফেসবুক মুমীনরা তাদের ‘দালাল’ এর চেয়ে বেশি কিছু মনে করতেই পারে না। তারপরও একটু বলি। এই যে, বিগত ১৭ মাস ধরে উগান্ডান রাজকীয় কর্তৃপক্ষ আর তথাকথিত ’সাধারন মানুষ’ বা ’জনগন’ একটা চোর পুলিশ অথবা আলাল-দুলাল খেলা খেলছে, রাজা লকডাউন দিলে মানুষ জোয়ারের মতো রাস্তায় নামে, পরিবহন বন্ধ করে দিলেও বাড়ি যেতে পিপড়ার মতো লাইন ধরে, সেই লাইন ধরা নিয়ে সুশীল ও দুঃশীল-উভয় শীলরা তর্কে ফেসবক জ্যাম করে ফেলে, বাড়িতে যেতে মানা করলেও যায়, যেতে দিলে আবার পঁচায়, মাস্ক পরতে বললে খুলে ফেলে, খুলতে বললে দিয়ে রাখে, এই যে পরিবহন বন্ধ করলে-”কেন বন্ধ করল, মানুষ যাবে কেমনে”, আবার খোলা রাখলে-”ওই মিয়া, খোলা রাখলে মানুষ যাইব না ক্যা”; আবার অফিস খুলে পরিবহন বন্ধ করা, বন্ধ করে ফেসবুক মোমীনদের গালি খেয়ে আবার খোলা, খুলে আবার বাড়ানো -এই যে বিরুদ্ধাচারন, এই যে উভয় পাশের অসহযোগীতা ও সমন্বয়হীনতায় হযবরল, এই যে পরস্পরের প্রতি পরস্পরের অবাধ্যতা ও আস্থাহীনতা, তার কারন কী? কেন মানুষ সংক্রমন ও মৃত্যুর ঝুঁকি সত্ত্বেও বাড়ি যায়? কেন মানুষ লকডাউন দেখতে রাস্তায় নামে আর জরিমানা খায়? কারন, কারন, কারন কারন-?????কারন হল-বিগত ৫০ বছর ধরে উগান্ডার রাজা, রাজন্য ও রাজর্ষীবৃন্দ তাদের নিজ উদ্যোগে ও স্বার্থে তার প্রজাদের এমন ‘কূ-নাগরিক’ করেই পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলেছে। তাতে রাজত্ব করতে সুবিধা। তাই এমন প্রজাই তাদের প্রাপ্য। জার্মান বা জাপানীজ মাল তথা প্রজা আশা করা উগান্ডায় তাই পাপ। আর এদেরকে উঁইঘূরের মতো সংশোধনাগারে ধোলাই করে সু-নাগরিক বানানোর চেষ্টা করে লাভ নেই। তাই মিয়ানমারের রাস্তা ধরতে পারেন-পুশ আউট ফ্রম উগান্ডা টু আদ্দিসআবাবা। আবার প্রজারাও বিগত ৫০ বছর ধরে তার রাজা বা প্রভূদের এভাবেই রাজত্ব করতে দিয়েছে, এভাবেই তাদের প্রভূত্ব মেনে নিয়েছে, এরকম শাসনেই নিজেদের সুখী ভেবেছে, এমন রাজাকেই বৈধতা দিয়েছে, নিজেদের ন্যাচারাল চরিত্তির সবরকমভাবে দেখিয়ে এমন রাজাদের উপযুক্ত প্রজা হিসেবে নিজেকে প্রমান করেছে-তাই তারা এমন রাজাই ডিজার্ভ করে। জেসিন্ডা বা মেরকেল স্বপ্নে দেখলে হবে কেন? আর যদি মনে করেন তারপরও হতাশ হতাশ লাগে, তাহলে কাঙালের এই বিখ্যাত বাণীটি মনে রাখুন- তুমি উগান্ডায় জন্মেছ-সেটা তোমার বাবা-মা ও একটুকরো রাবারের ফল্ট। তুমি উগান্ডাতেই মরেছ-সেটা নেহাতই তোমার ফল্ট। উগান্ডার রাজা ও প্রজা-এ এক রাজযোটক, এ এক সোনায় সোহাগা সঙ্গম। যেমন গাছ লাগাবেন, ফল তো সেটাই দেবে। চোতরা গাছ লাগালে তো আর কাঁশফুলের নরম ছোঁয়া মিলবে না। আরেকটা কারন আছে। মানুষ আসলে হতাশ, অধৈর্য আর স্বপ্নহারা হয়ে পড়েছে। আর কত দিন অপেক্ষা করলে তারা মুক্তি পাবে-টানেলের মাথায় সেই আলোটুকুও যদি দেখতে পেত, তাহলেও অনেক মানুষ সব নিয়ম মানত। হতাশ ও নানামুখী ফাযলামোতে বিতশ্রদ্ধ মানুষ এখন কোনোকিছুতেই আর ভরসা রাখতে চায় না। ফলে, মানুষ মরবে জেনেও মাস্ক পরে না, মরবে জেনেও বাইরে ঘোরে, মরবে জেনেও ফেরীতে ওঠে, মরবে জানা সত্ত্বেও পথে নামে। ন্যান, ফেসবুক মুমীনদের মনমতো একটা এশটেটাশ দিলাম। সবাই বলুন আমীন।
#lockdown #CoronavirusPandemic #loyalty #economicreality #financialcrisis