Skip to content

রুপান্তরবাদে বাঙালী পুরুষ

  • by

বাঙালী পুরুষ। জন্ম নিয়ে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ওপর দেবত্ব আরোপ-”বংশের বাত্তি এসেছে, তার নামে গরু জবাই করো।” বাঙালী বাবা-মায়ের ঘরে বাঙালী সমাজে একজন শিশু পুরুষ জন্মেই পায় “দেব শিশু’র আরতি।

একটু বড় হয়ে বছর তেরো হতেই কিছু বুঝে ওঠার আগেই কোনো এক আনচান আনচান দুপুরে বা রাতঘুমে তার “বালক” হয়ে ওঠা (শব্দটা বা….গ হবে আসলে। বাংলার সমাজে প্রচলিত ট্যাবু ভাঙার ভয়ে বালকেই থাকলাম।) ’শিশু’ হতে বাঙালী পুরুষটি ’বালকে’ পরিণত হয়ে যায় নিজের অজান্তে।

আরেকটু বড় হলে সে কলেজে পা রাখে। জীবনে প্রথম বিপরীত ‘জেন্ডার’র কাউকে দেখে, কারো হাত ধরে, হালকা শিহরীত হয়ে প্রথম বছর কাটানোর পরে, দ্বিতীয় বছরে সে আরো পরিণত ও সাহসী হয়ে একদিন সেই একদা ’বালক’ তার বালকত্বকে সাবালকত্বে রুপ দিয়ে ’বালক হতে ‘যুবক’ এ উত্তরন ঘটায়। তা

রও দুই গন্ডা বছর পরে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজেকে আবিষ্কার করে কোনো একজন রাজনন্দিনীর মনের মানুষ হিসেবে। সে বাঁধা পড়ে মনের শিকলে। বেরোবার রাস্তা সে বহুত খোঁজে। পারে না। ’যুবক’ হতে তার ‘প্রেমিক’ পরিচয়ে পদার্পন সেদিনই।  তা

রও পরে একদিন সেই ‘প্রেমিক’ তার ‘বান্ধবী’র পরিবারের চাপে/কখনো তাকে হারানোর অতিক্রমযোগ্য দুর্যোগ হওয়া স্বত্বেও, ছাদনা তলায় (কিংবা কাজি অফিসের বেলতলায়) নিজের ‘প্রেমিক’ জাত বিসর্জন দিয়ে ‘স্বামী’তে রুপান্তরিত হয়। তারপর দিনে দিনে ‘স্বামীত্ব’ পরিচয়ের চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে যাবার পরে, সে পরিণত হয় একজন “শুধুই পুরুষে”।

আর তারও পরে, সেই ‘পুরুষ’টি রুপান্তরিত হয় ‘বুইড়া ব্যাডা’য়।

তারও পরে, একদিন সেই একদা জন্মানো ও হঠাৎ অবাক হওয়া পুরুষ মানুষটি, সেই শিশুটি যে শিশু হতে বালক, বালক হতে যুবক, যুবক হতে প্রেমিক, প্রেমিক হতে স্বামী, স্বামী হতে পুরুষে রূপ পরিগ্রহ করেছিল এবং প্রতিটি স্তরই অতিক্রম করেছিল নিজের অজান্তে, সে টুপ করে একদিন ভোরে নিজেকে আবিষ্কার করে “লাশ” হিসেবে একখানা খাটিয়ার উপরে।

শেষ পরিচয়টাও সে নিজের অজান্তেই ধারন করে। একজন বাঙালী পুরুষ কখনোই তার নিজের পরিচয় বেছে নেবার অধিকার পায়না।

তার পরিচয় সবসময়ই আরোপিত। এবং পুরোটাই অবাক রুপান্তরের রহস্যময় গল্প।

#change #conversion #Bangali #purush #masculinism #সুপুরুষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *