Skip to content

প্যারাডাইম শিফট: কারো আত্মাহুতির দামে

  • by

অদ্ভূৎ এক ক্রান্তিকালের হ্যঙ্গারে ত্রিশঙ্কু হয়ে আধঝোলা হয়ে পড়ে আছে প্রিয় বাংলাদেশ।এখানে আজও সেই অন্ধকার যুগের মতো ‘ডাইনি’ খতম করার মতো করে একজন ‘নারি’ নামের মানুষকে ‘পুরুষ’ নামের আরেকজন অমানুষের লাম্পট্য প্রস্তাব অমান্য করার ঔদ্ধত্যের শাস্তি হিসেবে ডাইনিদের মতোই পুড়িয়ে মারা হয়। অতঃপর কিছু কালো মনের নারি পুরুষ সেই লম্পটের জয়গান প্রকাশ্য রাস্তায় করে। মিডিয়া সেটা প্রচার করে অজান্তেই সবার অবচেতন মনে ঢুকিয়ে দেয়, “ডাইনি নিধনকারীরা একা নয়।”

প্রিয় বাংলা, এ নিছক দুর্বল নারীর বিরুদ্ধে সবল পুরুষের বলপ্রয়োগ নয়। এটা এই সমাজে দুর্বলের বিরুদ্ধে সবলের সতেজ সবুঝ দখল। নারী বা পুরুষ পরিচয় এখানে গৌণ। ক্রান্তীয় এই দাহকালে ‘নারী’ ও ‘পুরুষ’ কেবলি মানুষের লৈঙ্গিক বৈশিষ্ট। কি অত্যাচারী, কি অত্যাচারিত-উভয় মাত্রায়।

নিন এবার।

নুসরাত আপনাদের মুক্তি দিয়ে গেল।

পহেলা বৈশাখের যথেষ্ট আগে সে চলে গেল। যাতে পহেলা বৈশাখের আমোদে মত্ত হতে আপনার মনের মধ্যে সামান্য বাঁধো বাঁধোও না করে। যেন টাইমলাইনে নুসরাতের সাদা ব্যান্ডেজের কাফন মোড়া ছবিটা এসে সেলফী উৎসবকে বিরক্ত করতে না পারে।

নিন এবার।

টকশোতে মন খুলে কথা বলতে পারছিলেন না। ‘নুসরাত ইস্যূ’ নিয়ে। সে না মরেছিল, না বেঁচে ছিল। অধ্যক্ষকে কোন অভিধায় ডেকে টকশো গরম করবেন বুঝছিলেন না। সে না ধর্ষক, না খুনি। কারন নুসরাত বোকার মতো ধর্ষিত হয়নি, আবার আগুনে না মরে বেঁচে ছিল, ফলে অধ্যক্ষ খুনিও না। বড়জোর হত্যাচেষ্টাকারী বলতে পারছিলেন, যাতে আসর গরম হচ্ছি্ না। এবার গলা খুলে টকশো করুন।নিন এবার।

দেশে ইস্যূর মেয়াদ সরকারিভাবে ৩ দিন। সেখানে নুসরাত না মরে ৭ দিন ধরে কভারেজ ফোকাস অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছিল। এবার সে মরে সবাইকে পরের ইস্যূ উপভোগ করার জন্য সুযোগ করে দিল। নুসরাতরা মরে হলেও সবাইকে স্বস্তি দেয়।

#transitory #time #rape

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *