আচ্ছা, উগান্দেশের রাজকীয় কর্মীবাহিনীর (মানে সরকারি কর্মচারী) বহরটা কত? শোনা যায়, সংখ্যাটা প্রায় ১৫ লাখ। দুর্মূখেরা বলে, আসলে ৫ লাখ হলেই কাজ চলত খুব ভালোভাবে। বাকি ১০ লাখ স্রেফ রিহ্যাবিলিটেশন; অনেকটা কা.বি.খা’র মতো—মানুষকে এনগেজ রাখা, প্রোভাইড রাখা, ফেড রাখা। কারণ, অন্য স্বার্থ রক্ষার বিষয় আছে।
ধরুন, এই রাজকীয় কর্মচারী বহর, যেটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে, যদি কোনো স্মার্ট ও আধুনিক প্রাইভেট কোম্পানিতে হত, তাহলে সংখ্যাটা পরের মাসেই ৫ লাখে নামিয়ে আনা হত। আর সবচেয়ে প্যাথেটিক হলো, বিপুল হেডকাটের পরেও বহরের দক্ষতা তিনগুণ বেড়ে যেত। সবই দুর্মূখের কথা—বাদ দিন। এই রাজকীয় কত্তারা সব যুগেই অধরা।
দেশে ৫৫ বছরে কত সরকার, কত রাজা-রানী অদলবদল হয়েছে, কিন্তু এই আমলা-কামলাদের টিকিটির অগ্রভাগ তো দূরে, গুপ্তকুন্তলও কেউ স্পর্শ করতে পারেনি—বা আসলে, করেনি। কারণ, তাদের সাথে সবারই স্বার্থ জড়িত। সরকার অস্থায়ী, আমলাতন্ত্র স্থায়ী।
তাই, সকল সরকারই এই আমলা-কামলাদের পদযুগলে ফুলচন্দন দিয়ে গদী চালায়। সরকারের যত আকাম-কুকাম দেখেন, তার প্রায় চৌদ্দ আনা প্রসবই হয় এই কামলাদের মাথা থেকে। এহেন কামলারা আউট অব স্টুপিডিটি, রিল্যাকট্যান্স ও ভেস্টেড ইন্টারেস্ট—হেন বদবুদ্ধি নেই, যা সরকারকে দিয়ে প্রসব করায় না।
এই ঘরানার সর্বশেষ উদাহরণ হলো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে TIN বাধ্যতামূলক করা। আমার সুহৃদ মি. তানিম মাহমুদ ইতিমধ্যেই প্রাণঘাতী একখানা প্রতিক্রিয়া ও ফলাফল ফোরকাস্ট লিখেছেন, তাই আমি আর বাড়তি কিছু বলছি না। শুধু এটুকু বলি—সচিবালয়ের এসি রুমে বসা কামলাদের মাথা থেকে ভালো কিছু বের হওয়া সম্ভব নয়। যেই দেশের কামলাদের পুকুর কাটাও বিদেশে গিয়ে শিখতে হয়, তাদের মাথায় ভালো জিনিস আসবে কোথা থেকে?
রাজনীতিবিদরা তো সাবেক গলি মাস্তান আর টোকাই বাহিনী। পলিসি মেকার হবার বিদ্যা তাদের আসবে কোথা থেকে? সুশীল বুদ্ধিজীবীরা? ওহ, তাদের দৌড় আমরা দেড় বছর ভুগেছি।
তো, আমরা কী দেখতে যাচ্ছি? দেশে ১৮ কোটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আর ১৮ কোটি TIN? ফুহ! ব্যাংক থেকে টাকা উল্টো আরও তোষকের তলায় যাবে। এই উগান্দেশে মিনিমাল জীবন কাটানোর সুযোগটাও খুঁজে খুঁজে মারা হবে। কারণ, কাউকে ওপরে উঠতে হলে কাউকে মরতেই হবে।
গত ৫–৬ বছর আমরা মানুষকে বলেছি, চাকরির বাজার খারাপ যাচ্ছে, ভালো সময় আসবে। কিন্তু ৫–৬ বছর পরেও ভালো হবার কোনো কারণ দেখছি না। কারণ বুঝতে চাইলে ইনভেস্টমেন্ট, এমপ্লয়মেন্ট ক্রিয়েশন, মানি ফ্লো, ট্রাস্ট, পলিসি—এসব নিয়ে একটু ঘাটুন।
বাজেটের চিত্র:
উগান্দেশের মোট বার্ষিক বাজেটের ১৮–২০% খরচ হয় রাজকীয় (প্রায় ১৫ লাখ) কর্মী বহরের বেতন, বোনাস, ফ্যাসিলিটি ও পেনশনারদের পেনশন খাতে। যা কমবেশি ১.৫ লাখ কোটি টাকার আশপাশে থাকে। সরকারের পরিচালন ব্যয় বাজেটের ৬৪%, আর উন্নয়ন ব্যয় প্রায় ৩৫%।
প্রায় প্রতিবছরই বাজেট ঘাটতি থাকে ২ লাখ কোটি টাকার আশপাশে। ঘাটতি মানে ওই টাকা আয় থেকে আসবে না, ধার করতে হবে। ধার আসে বিদেশী লোন (চড়া সুদে) আর দেশীয় অর্থব্যবস্থা থেকে। বিদেশী লোন নিলে সুদ দিতে খবর হয়—এই বছরের লোনের টাকায় আগের বছরের সুদ শোধ করতে হয়, চক্রবৃদ্ধি হারে। আর দেশীয় লোন নিলে বেসরকারি খাত লোন পায় না, পেলেও কস্ট বেড়ে যায়। ফলে দেশের মধ্যে সবকিছুর দাম বাড়ে।
প্রতি বছর ঋণের সুদ শোধ করতেই সরকারের মোট বাজেটের প্রায় ১৫% (১.২ লাখ কোটি টাকা) খরচ হয়। লোন বাড়ছে, সুদের বহর বাড়ছে, চক্রবৃদ্ধি হারে।
কর্মচারী বহর ও জবাবদিহি:
সরকারি কর্মচারী বহর এত বড় কেন? বা বেতন-ভাতার ব্যয়ের রেশিও উন্নয়ন খরচের প্রায় অর্ধেক কেন? জানা নেই।
মজার বিষয়, সরকারি কর্মচারীদের ডিপার্টমেন্ট আজও জনপ্রশাসন বিভাগ—মানবসম্পদ বিভাগ নয়। হয়তো সরকার নিজেই তাদের সম্পদ ভাবে না, অথবা প্রশাসক ও নিয়ন্ত্রকের তকমা তাদের বেশি পছন্দ।
দেশের একটি পান দোকানেরও KPI আছে—দৃশ্যমান বা অদৃশ্য। কিন্তু এই সোয়া লাখ কোটি টাকা কনজিউম করা বহরের কোনো পারফরম্যান্স KPI নেই। নেই মানে নেই। তাদেরকে বছর শেষে জিজ্ঞেস করার বা জবাবদিহির আওতায় আনার কোনো সিস্টেম্যাটিক উপায় নেই।
একটি দেশ তার বাজেটের এক-পঞ্চমাংশ যেখানে খরচ করে, সেখানে KPI নেই। অথচ প্রতি বছর বাজেট প্রদান হয়, আর বাজেটের সাথে বিন্দুমাত্র সংশ্লেষ না থাকা সত্ত্বেও জিনিসপত্রের দাম বাড়ে।
উন্নয়ন বাজেটের বাস্তবতা:
উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ সরকার খরচ করতে পারে না। ফলে তা ফেরত যায়। হ্যাঁ, ১৮ হাজার টাকায় বালিশ কিনে ৭ হাজার টাকায় ছয়তলায় ওঠানোর পরও উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগ অর্থ খরচ করতে পারে না সরকার। বিদেশী অর্থের অংশ আরও অকেজো, কারণ সরকারী কত্তারা বিদেশী অর্থের হিসেব ও জবাবদিহির অত্যাচার নিতে চান না। দেশীয় ফান্ডিংয়ের প্রজেক্টে তাদের বেশি খাতির, আর সেগুলোর সফলতার হার তুলনামূলক ভালো।
ইনফ্লেশন ও বিনিয়োগ:
ইনফ্লেশনের অভিঘাত সামলাতে সামাজিক সুরক্ষা খাতে যে হারে ক্যাশ টাকা বাজারে ঢালা হচ্ছে, সেটাই উল্টো আরও ইনফ্লেশন বাড়াবে। ক্যাশ এইড ইনফ্লেশন কমায় না, বরং ঘামাচিতে মিল্লাত পাউডার হয়ে আসে।
চড়া সুদে লোন নিয়ে বেসরকারি খাত কতটা ইমার্জ হবে সন্দেহ আছে। ফরেন ইনভেস্টমেন্ট আসার মতো ভদ্রলোক আমরা নই। তাই বাংলাদেশে ইনভেস্টররা অন্য দেশে ইনভেস্ট করে। ইনভেস্ট না হলে আমাদের ৪ কোটি বেকার কোন পথে যাবে কে জানে।
কেন লিংকডইনে লিখছি? ওহে, চাকরি করে খান তো? চাকরির বাজারের জন্য ভালো কোনো খবর নেই। সেজন্যই এত মাথাব্যথা। সেজন্যই লিংকডইনে নাযায়েজ পোস্ট ফরমানো। (পোস্টে ব্যবহৃত তথ্য ১০০% নির্ভুল বা টু-দ্য-পয়েন্ট নয়, এবং এটি ২০২৫ সালের বাজেট মাথায় রেখে লেখা।)
#Budget #PublicFinance #GovtSpending #FiscalDeficit #DebtTrap #InterestBurden #AdministrativeCost #CivilService #Bureaucracy #PolicyFailure #TIN #TaxPolicy #EconomicCrisis #Inflation #InvestmentCrisis #Employment #JobMarket #Governance #Accountability #KPI #ROI #DevelopmentBudget #ForeignLoan #DomesticLoan #CostOfFunds #EconomicReality #BangladeshEconomy #LinkedInInsights #ThoughtLeadership