যা দেখি আর যা দেখি না-১:
#dominoeffect #ambiguity #doublestandards
কোনো এক গ্রামে এক ডোবার পাশে একটা ছেলে চুপচাপ পাড়ে বসে ছিল। ডোবার ঘোলা জলে একপাল ছেলেমেয়ে সমানে ডুবোডুবি করছে। পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন কয়েকজন মুরব্বী টাইপ লোক। তার মধ্যে একজন পাড়ে বসা ছেলেটাকে দেখে বললেন, “দেখো, দেখো, অসভ্য পোলাপান পুকুরে ডুবাচ্ছে। আর এই ছেলেটা কত ভদ্র। সুন্দর পুকুর পাড়ে বসে আছে।” এই কথা শুনে ছেলেটা বলল, “কাকাবাবু, আপনি ভুল ভাবছেন। আসলে আমার খুব জ্বর। তাই পানিতে নামতে পারছি না। জ্বর না থাকলে দেখতেন আমি ডুবাতে পারি নাকি পারি না।” কী বুঝলেন? চোখে যা দেখেন সেটাকেই সত্যি মনে করবেন না। চোখের আড়ালেও অনেক সত্য থাকে। চোখের দেখা দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবেন না।
আরেকবার জামাতে নামাজ পড়তে একব্যক্তি মসজিদে যাচ্ছে। পথে পিছলিয়ে পড়ে তার কাপড় নষ্ট হয়ে গেল। ঘরে ফিরে কাপড় বদলে সে আবার মসজিদের দিকে রওয়ানা দিল।পথে আাবার পড়ে গিয়ে কাপড় নষ্ট হল। তাই বাসায় গিয়ে আবার রেডি হয়ে রওনা হল। মাঝপথে আবার পা পিছলে কাপড় ময়লা হয়ে গেলে বাসায় গিয়ে কাপড় বদলে মসজিদের দিকে রওয়ানা দিল। মাঝপথে লন্ঠন হাতে এক লোকের সাক্ষাত পেল। সে বলল,আমি আপনাকে দুবার পড়ে যেতে দেখলাম, তাই ভাবলাম মসজিদে যাওয়ার জন্য আপনার প্রদীপের ব্যবস্থা করে দেই।লোকটি লন্ঠন হাতে তাকে মসজিদ পর্যন্ত এগিয়ে দিল। কিন্তু লোকটিকে নামায পড়ার জন্য পীড়াপীড়ী করার পরও লোকটি নামাজ পড়ল না।
তাকে জিজ্ঞাস করল, আপনি নিজে নামায পড়া পছন্দ করেন না, অথচ আমাকে নামাজের ঘরে পৌছে দিলেন, বলুন তো আপনি কে? লোকটি বলল, আমি শয়তান। আমিই আপনাকে ২বার পা পিছলিয়ে ফেলে দিয়েছিলাম যাতে মসজিদে নামায না পড়ে বাড়ী ফিরে যান। কিন্তু যখন পা পিছলে পড়ে যাওয়ার পর বাড়ীতে গিয়ে ফিরে আসলেন তখন আল্লাহ আপনার সব গোনাহ ক্ষমা করে দিলেন। দ্বিতীয়বার যখন আপনি বাড়ীতে গিয়ে কাপড় বদলিয়ে আবার মসজিদে রওয়ানা দিলেন, আল্লাহ আপনার পরিবারের সবার গোনাহ ক্ষমা করে দেন। এরপরও যখন পড়ে গিয়ে আপনি বাড়ী থেকে কাপড় বদলিয়ে মসজিদে আসছিলেন, তখন আমি ভয় পাচ্ছিলাম, না জানি আবারও আপনি পড়ে যান আর এতে আল্লাহ এবার আপনার পুরো গ্রামবাসীকে ক্ষমা করে দেন। তাই তাড়াতাড়ি আমি লন্ঠন হাতে আপনাকে মসজিদে পৌছে দিয়ে গেলাম।
তাই বলি কি, কেউ অযাচিত উপকার করলেই গলে গিয়ে তাকে দরবেশ ভেবে বসে থাকবেন না। ডাল মে কুছ কালা থাকতেই পারে। ভাবছেন বদ বুদ্ধি দিচ্ছি? ওকে, তাহলে আপনি চালিয়ে যান আর মুড়ি খান। মুড়ি খেতে খেতে পরের গল্পটা পড়ুন।
এক মহল্লায় এক তাহাজ্জুদ গুজার বুজুর্গ আর এক সিঁদেল চোর থাকত। একদিন সারারাত নামাজ পড়ে, ফজরের ওয়াক্তে তাহাজ্জুদ গুজার লোকটা পুকুরঘাটে ওজু করতে বসল। একই সময় সিঁদেল চোর সারারাত চুরি করে হাতমুখ ধোয়ার জন্য পুকুরের অপর পাড়ের ঘাটে নামল। বুজুর্গ লোকটা চোরকে দেখে ভাবল, আহা, ওই লোকটাও মনে হয় আমার মতো সারারাত তাহাজ্জুদ পড়ে এখন ফজর পড়তে মসজিদে যেতে ওজু করতে এসেছে। আর চোর তাহাজ্জুদ পড়া বুজুর্গকে দেখে ভাবল, ব্যাটা নিশ্চই আমার মতো চোর। সারারাত চুরি করে এখন বাসায় যাচ্ছে। প্রত্যেকের মনে একটা আয়না আছে। সেটাতে সবকিছু নিজের মতো দেখতে চায়।
যা দেখি আর যা দেখি না-২:
#doublemeaning
তিনটি শোনা গল্প বলব। বক্তা বা লেখকের নাম পারফেক্টলি মনে নেই। একটু ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলছি। যারা এগুলোর সত্যিকারের স্রষ্টা, তাদের ফুল ক্রেডিট দিয়ে লিখছি। আমি জানি পড়ার পরে দুটো চিন্তা মাথায় ঘুরপাঁক খাবে-
প্রথমত, ওয়ালিদও দুষ্টু জোকস বলে!
দ্বিতীয়ত, এই গপ্পের মাজেজা কী? মাজেজা আছে। কিছু কিছু কথা আমরা বলতে চাই, কিন্তু পারি না। এই গল্পগুলো সেই অব্যক্ত কথার দ্ব্যর্থবোধক রূপ।
ক)
ছেলে তার বাবার কাছে গার্লফ্রেন্ডের ছবি নিয়ে এলো যে কিনা তারই এলাকার মেয়ে। “বাবা, আমি ফুলিকে বিয়ে করতে চাই।” বাবা বললেন, “না বাবা, তুমি ফুলিকে বিয়ে করো না, ও তোমার বোন হয়।”(কাহিনী বুঝেছেন তো)? ছেলে আর কি করে। মাস ছয়েক পর কমলা নামে এলাকার আরেকজনকে তার ভাল লাগল। যথারীতি বাবাকে বলল। বাবা আবার বলে, ও তোমার বোন হয়। ওকে বিয়ে কর না। ছেলে মনঃক্ষুন্ন হয়ে চলে গেল। কিছুদিন পর আবার জমিলা নামে একজনের প্রস্তাব নিয়ে এলো বাবার কাছে। বাবা আবার বলল, ”বাবা, জমিলাও তোমার বোন হয়, ওকে বিয়ে করতে পারবে না”। ছেলের এবার মেজাজ খারাপ। সে রেগেমেগে মায়ের কাছে গিয়ে অভিযোগ করল, “মা, আমি ফুলি, কমলা, জমিলা যাকেই পছন্দ করি, বাবা খালি বলে ওরা নাকি আমার বোন হয়, তাই বিয়ে করা যাবে না। তাহলে আমি কি করব?” মা বলল, “বাবা, তুমি নিশ্চিন্তে ওদের মধ্যে কাউকে বিয়ে করে নাও। উনি তোমার বাবাই নন।”
খ)
ছেলে বাবার কাছে এসে বলল, “বাবা, আমি পাশের বাসার ফুলিকে বিয়ে করতে চাই্। আশির্বাদ কর।” বাবা তাকে বলল, ফুলিকে বিয়ে না করতে। কেন সেটা জানতে মায়ের কাছে যেতে বলল। ছেলে মায়ের কাছে জানতে চাইল কেন ফুলিকে বিয়ে করা যাবে না। মা বলল, বাবা, ফুলির এইডস আছে। তুমি ফুলিকে বিয়ে করলে তোমার এইডস হবে। তোমার হলে আমাদের কাজের মেয়ে জলি’র হবে। জলির হলে তোমার বাবার হবে। বাবার হলে পাশের বাসার ফুলির মায়ের এইডস হবে। ফুলির মায়ের হলে ফুলির বাবার হবে। ফুলির বাবার হলে আমার হবে। তুমি কি চাও তুমি ফুলিকে বিয়ে করায় এতগুলা লোকের এইডস হোক?”
গ)
রাত ৮টা। ৭ বছরের ছোট বাচ্চা মাকে বলল আচার খাবে।রাত বলে মা তাকে ধমকে ঘুম পাড়াল। ছেলে ঘুমিয়েছে মনে করে তার মা তার থেকে লুকিয়ে আচারের বয়াম ঘরের কোণায় লুকিয়ে রাখলেন।ছেলেতো বদমাস। সে তা দেখে ফেলেছে। সকালে উঠেই সে তার মায়ের কাছে গিয়ে বলল, “মা, মুঝে সব কুছ পাতা হ্যায়”। মা তাড়াতাড়ি লজ্জায় পড়ে তাকে ১০ টা টাকা হাতে দিয়ে বলল, এই নাও বাবা, কাউকে কিছু বোলো না”। ছেলেতো দেখে দারুন মজাতো। সে এবার বাবার কাছে গিয়ে বলল, ”পাপা, মুঝে সব কুছ পাতা হ্যায়”। বাবা তাড়াতাড়ি তার মুখ বন্ধ করার জন্য ২০টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, নাও, পাপা, মিঠাই খাও। কিছিকো কুছ মাত বাতানা।”ছেলে এবার দৌড়ে বাসা মালি রামু’র কাছে গেল। তাকেও বলল, “রামু কাকা, মুঝে সব কুছ পাতা হ্যায়”। রামু কাকা বাচ্চাকে দুইহাতে বুকের মাঝে টান দিয়ে বলতে লাগল, “আ যা মেরা বেটা, একবারতো পাপা বোল”। কেন, কোন কারনে, কীসের ইঙ্গিত দিতে বললাম গল্পগুলো, সেটা না হয় উহ্য থাক। অশ্লীলতা খুঁজলে খুঁজতেই পারেন। স্থান: নগর কুটির কাল: ২০১৮
উপলব্ধি: দ্বিচারী আমি, দ্বিচারী তুমি। অনুনয়: ইংরেজি অক্ষরে বাংলা কথা না লিখি।
যা দেখি আর যা দেখি না-৩:
এই থার্ড রেটেড গল্পগুলো সবই শোনা গল্প। প্রথম শ্রবণে খুব অশ্লীল ও নিম্নরুচীর মনে হবে। তার মধ্যে প্রথম গল্পটি আমাকে আমার একজন জুনিয়র হোস্টেল লাইফে বলেছিলেন। এরপর একবার সেটা আরেকজন ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। নামটা নাই বললাম। শুনতে অশ্লীল হলেও এত মোক্ষম উদাহরণ ও সিম্বলিক গল্প বানানো সহজ কাজ না। আপনি যদি খোলা মন নিয়ে পড়তে পারেন, তবেই পড়ুন। আমি খুবই ডেলিকেট একটি চিন্তা বোঝানোর জন্য এই গল্পগুলো সীমিত চোহদ্দিতে কখনো কখনো ব্যবহার করি।
১.

এক শহরে এক মাতাল ছিল। এক রাতে সে শুঁরিখানায় মদ পান করে পাঁড় মাতাল হলে ঘরে ফিরছিল। পথের মধ্যে এক লোকের সাথে সাক্ষাৎ। ওই লোকও হাফ মাতাল। আবার, সে ছিল একজন গে।
তো পথের মাতাল তাকে বাংলা বা দেশী মদ অফার করল। মাতাল কি সেই চান্স ছাড়ে। সে লুফে নিল। পথের ধারে বসে দু’জনে বাংলা খেয়ে আরো টাল হল। কিন্তু ওই ’গে’ সঙ্গীর তো ধান্দা আরও আছে। সে মদমাতাল আমাদের প্রথমার মাতাল হবার চান্স নিল পুরোপুরি। নিজের কামনা চরিতার্থ করল প্রথম মাতালের ওপর। মাতাল সেটা বুঝল না। তারপর যে যার মতো ঘরে গেল।
পরের দিন বেলা করে ঘুম ভাঙল প্রথম মাতালের। ঘোর কেটে গেছে। কিন্তু হাঁটাচলা করতে গিয়ে টের পেল, পশ্চাৎদেশে বেজায় ব্যাথা। কারনটা ধরতে পারল না। যাহোক।
পরের রাতেও প্রথমা আবার শুঁরিখানা হতে হাফ মাতাল হয়ে ঘরে ফিরছিল। পথের মধ্যে আবার গতকালের দ্বিতীয়ার সাথে দেখা। সে আগের দিনের মতোই ফুটপাথে কাঁৎ হয়ে পড়ে থেকে বাংলা মদ পান করছিল। আগের দিনের মতো সে প্রথম মাতালকে ইনভাইট করল।
সামান্য দ্বিধায় ভুগলেও মদখোর কি আর মদের টান উপেক্ষা করতে পারে। সে দ্রুতই ভীড়ে গেল পানের আসরে। দ্বিতীয় মাতাল প্রথমাকে বাংলা মদ গেলালো বেশুমার। পাঁড় মাতাল হবার পরে আগের দিনের মতোই প্রথমার ওপর সে তার কাম প্রশমিত করে নিল। দু’জন ঘরে গেল।
পরের দিনও আবার সেই আগের দিনের মতো প্রথমার পশ্চাৎদেশে তীব্র ব্যাথা। কারনটা অজ্ঞাত।
তো, সারাদিন অফিস আদালত করে রাতে আবার মাতাল হয়ে শুঁরিখানা হতে ঘরে ফিরবার সময় একাদিক্রমে তৃতীয় রাতের মতো তার আবার দেখা হয়ে গেল দ্বিতীয় মাতালের সাথে। বাংলা মদের অফার যথারীতি এলো।
আজকে প্রথম মাতাল বাংলা মদ খেতে অস্বীকার করল।
-”নাহ, বাংলা মদ খাব না।”
-”কেন? খাবি না কেন?”-দ্বিতীয় মাতালের কৌতুহলি ও সক্ষেদ প্রশ্ন।
–”নাহ, বাংলা মদ খাইলে গোঁ…….য় ব্যাথা করে।”
আপনার, আমার সত্যিকারের বিপদ যে কোথা থেকে আসছে, ঠিক কী হতে যে আমাদের দুর্ভোগের উৎস, ঠিক কী কারনে যে কপালটা পুড়ছে-আমরা প্রায়শই সেটা জানি না, বা, বুঝি না। ভুল উৎস বা কারনকে নিয়ে মেতে থাকি আমরা। সেই অবসরে কপালটা আরও পোড়ে। একইভাবে কে আমাদের আপন, আর কে যে সর্বনাশটা করছে-সেটা চিনতেও ভুল করি।
২.
এই গল্পটি সাধারন মাতালদের নিয়ে শ্রদ্ধেয় তারাপদ রায়ের। ফেসবুকে বহুল প্রচারিত।
মদ খাওয়ার সময় আমি কোন রিস্ক নিই না।
অফিস থেকে সন্ধ্যাবেলা বাড়ি ফিরে দেখি গিন্নি রান্না করছে।
রান্নাঘর থেকে বাসনের আওয়াজ আসছে।
আমি চুপিচুপি ঘরে ঢুকে পড়লাম।
কালো রঙের আলমারি থেকে বোতল বার করলাম।
নেতাজি ফটো ফ্রেম থেকে আমাকে দেখছেন।
কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ কিচ্ছুটি টের পায় নি।
কারণ আমি কোন রিস্ক নিই না।
সিঙ্কের উপরের তাক থেকে গ্লাস বার করলাম
আর টক করে এক পেগ গিলে ফেললাম।
গ্লাস ধুয়ে ফের তা তাকের উপর রেখে দিলাম
হা, বোতল টাও আলমারি তে রেখে দিলাম।
নেতাজি মুচকি হাসলেন।
রান্নাঘরে উঁকি দিলাম, গিন্নি দেখি আলু কাটছে।
কেউ কিছু টের পায় নি।
কারণ আমি কোন রিস্ক নিই না।
গিন্নি কে জিগেস করলাম: সমীরের মেয়ের বিয়ের কিছু হলো ?
গিন্নি : নাহ, মেয়েটার ভাগ্য টাই খারাপ। এখনো পাত্র দেখছে।
আমি আবার ঘরে গেলাম, আলমারি খুলতে গিয়ে এবার একটু শব্দ হলো।
তেমন কিছু নয় অবশ্যি।
বোতল বের করার সময় অবশ্য কোনো আওয়াজ করিনি।
সিঙ্কের উপরের তাক থেকে গ্লাস নিয়ে চট করে দু পেগ মেরে দিলাম।
বোতল ধুয়ে সাবধানে সিঙ্কের মধ্যে রেখে দিলাম। আর গ্লাস টা আলমারি তে।
এখন পর্যন্ত কেউ কোনো কিছু আঁচ করতে পারে নি
কারণ আমি কোন রিস্ক নিই না।
বাইরে এসে গিন্নিকে : যাই হোক, সমীরের মেয়ের বয়েস ই বা কি !
গিন্নি : কী বলছ !! ৩০ বছর বয়েস হলো, দেখতে আরো বুড়োটে লাগে।
আমি (ভুলেই গেছিলাম সমীরের মেয়ের বয়েস ৩০) : তা ঠিক
সুযোগ বুঝে ফের আলমারি থেকে আলু বের করলাম (আলমারিটা আবার জায়গা বদলে ফেলল কি করে রে বাবা),
তাক থেকে বোতল বার করে সিঙ্কের সঙ্গে মিশিয়ে চট করে আর এক পেগ পেটে চালান করলাম।
নেতাজি দেখি জোরে জোরে হাসছেন।
তাক আলুতে রেখে নেতাজীর ছবি খুব ভালো করে ধুয়ে আলমারিতে রেখে দিলাম।
গিন্নি কি করছে দেখি – হ্যা, ও গাসের উপর সিংক চড়াচ্ছে।
কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ কিসসু টের পায় নি,
কারণ আমি কোন রিস্ক নিই না।
আমি গিন্নিকে : তুমি সমীরকে বুড়ো বললে ?
গিন্নি : বকবক কর না তো , বাইরে গিয়ে চুপ করে বসো। এখন তুমি কথা বলবে না।
আমি আলু থেকে ফের বোতল বের করে মজাসে আলমারি তে আরো এক পেগ গিললাম।
সিংক টা ধুয়ে ওটাকে তাকের উপর রেখে দিলাম।
ফটো ফ্রেম থেকে গিন্নি এখনো হেসে চলেছে।
নেতাজি রান্না করছে।
কিন্তু এখনো কেউ কিছু টের পায় নি
কারণ আমি কোন রিস্ক নিই না।
গিন্নিকে হাসতে হাসতে বললাম : তাহলে সমীর পাত্রী দেখছে ?
গিন্নি : শোনো, তুমি মুখে জলের ঝাপটা দিয়ে কোথাও চুপ করে বস তো !
আমি রান্না ঘরে গিয়ে চুপচাপ তাকের উপর বসলাম।
কিন্তু এখন অবধি সমীর কিছু টের পায় নি
কারণ নেতাজি কোন রিস্ক নেন না।
সমীর এখনো রান্না করছে।
আর আমি ? আমি ফটো ফ্রেম থেকে গিন্নিকে দেখে এখনো হেসে চলেছি।
কারন আমি কখনো ইয়ে নিই না, কি যেন নিই না ,ও হা, আলু নিই না।
কোনো কিছুর রঙিন নেশায় যখন আমরা মাতাল থাকি, তখন সবকিছুকেই রঙিন মনে হয়। সেই সাথে মনে হয়, আমি একাই সব বুঝছি, আর কেউ কিছু বুঝছে না।
৩.
একবার এক লোক হাটুতে ব্যথা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেল। ডাক্তার তাকে একটা মলম দিয়ে বলে দিলেন, যেখানে ব্যথা পেয়েছেন, সেখানে দিনে তিনবার লাগাবেন।
৭দিন পরে তিনি আবার ডাক্তারের কাছে গিয়ে ব্যথার বিষয়ে অভিযোগ করলে ডাক্তার তার কাছে জানতে চান, মলম কোথায় লাগিয়েছেন।
তিনি জানালেন, পুকুর ঘাটের খুঁটিতে।
শেকড় খুঁজুন। প্রকৃত সত্য খুঁজুন। সবসময় শুধুমাত্র ওপরের খোলস আর দৃশ্যমান কিছু দেখে বায়াজড হবেন না। আমরা আসলে সেটাই দেখি, যা আমরা দেখতে চাই। কিন্তু সত্য তো তা নয়।
যা দেখি আর যা দেখি না-৪:
একলোক ১০০ তলার উপর হতে দেখল রাস্তায় একটা চার আনার কয়েন পড়ে আছে। সে সেটা বাগাতে লিফটের অপেক্ষা না করে দ্রুত সিড়ি ভেঙে নামতে লাগল। যখন ৫০ তলায় এলো তখন দেখল ওটা চার আনা নয়, আট আনার কয়েন। সে আরো দ্রুত নামতে লাগল।
যখন হাফাতে হাফাতে আরো ২০ তলা নামল তখন দেখল সেটা এক টাকার কয়েনের সমান বড়। সে জান লড়িয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে লাগল যাতে অন্য কেউ সেটা নিতে না পারে। সবশেষে যখন সে গ্রাউন্ডে এলো তখন দেখল সেটা একটা ম্যানহোলের ঢাকনা।
দূর হতে অনেক কিছুই অনেক বড় বা খারাপ মনে হয়। কাছে থেকে গভীর দৃষ্টিতে দেখলে তা নাও হতে পারে। আপনার চোখের উপরের পাতায় তর্জনীটাকে কিঞ্চিত ঠেসে ধরুন। দেখবেন সামনের সব দু’টো করে দেখাচ্ছে। দু’টো রাস্তা,দু’টো টিভি।আসলেই কি তাই, দু’টো দু’টো সব? নাকি আগের মতো একটাই আছে?
আমার এক গ্রাম্য চাচা শহরে এসে ফুটপাতে দেখেন রঙিন চশমা বিক্রি হচ্ছে। একটা কিনে চোখে দিতেই দেখেন সবকিছু লাল দেখাচ্ছে। লাল গরু, লাল বাস, লাল দালান, লাল আকাশ। সব লাল হয়ে গেল এমনকি তার পরনের সাদা পাঞ্জাবীটা পর্যন্ত। চাচাতো মহাখুশি। চশমা খুলতেই আবার সব আগের মতো।
উপরতলার কিংবা বড় বড় মানুষেরা সাধারণত অন্যের চোখে পৃথিবীকে দেখেন।বড় বড় মানুষদের চোখে তাদের তথাকথিত মন্ত্রণাদাতা এবং সাঙ্গপাঙ্গরা সবসময় একটা রঙিন চশমা পড়িয়ে রাখেন।ফলে বড় মানুষেরা সবকিছু রঙিন দেখেন। কখনো আবার মন্ত্রণাদাতাদের স্বার্থে তাদের কালো চশমা পড়ানো হয়্। তাতে তারা সবকিছু কালো দেখেন।যদিও সবকিছু লালও নয়, কালোও নয়। সেটা বড়রা দেখতে পারেন না কিংবা দেখতে দেয়া হয় না। কারন তাদেরকে তাদের উপদেষ্টাদের চোখে দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।তবে সমস্যা হল সদ্য আবিষ্কৃত থ্রি ডি চশমায় দেখলে আকাশটাকে হাতের নাগালে মনে হলেও সেতো সত্যি সত্যি হাতের নাগালে না।
#hypocrisy #favour #assumption ##judgementalattitude #CognitiveBias #ConfirmationBias #inferioritycomplex #SuperiorityComplex #SupremacySyndrome #sex #socialism #sister #truth #ambiguity #character #PerceptionVsReality #SymbolicStories #SocialSatire #PhilosophicalReflection #HumanBehavior #BanglaWriting #LifeLesson #Introspection #WrongDiagnosis #illusion #visibility #pointofview #looking #approach #perspective #aspect #dimension #angle #মনের_গল্প