আজকে আপনাদের একজন জ্বীন ও এলিয়েন বাবার জীবনের গল্প বলব।
যে আমি জীবনে কো-ইনসিডেন্ট বলে কিছুতে আমি বিশ্বাস করি না, তার কাছে কো-ইনসিডেন্টের অস্তিত্ব বারবার ফিরে এসেছে। কয়েকটা উদাহরন বলছি:-
ক.
অফিস যাচ্ছিলাম। আমার গলায় একটা স্বর্ণের চেইন। দরোজা দিয়ে বেরোবার সময় হঠাৎ কী মনে হল জানি না। বউকে বললাম চেইনটা খুলে রেখে দিতে। অবাক হলেও ও রেখে দিল।
সেদিন গাড়ির জন্য অপেক্ষার সময় একটা বড় ভেজালে জড়ালাম। লোক জড়ো হয়ে ব্যপক হাঙামা। আমাকে কিছু লোক টেনে নিয়ে গেল আরেকপাশে। যার সাথে সমস্যা তাকে একপাশে। ব্যপক হুজ্জম। এর মধ্যে গাড়ি এসে পড়ায় ওরা আমাকে টেনে গাড়িতে তুলে নিল।
গাড়িতে বসে শান্ত হবার পর মনে পড়ল, আজ গলায় চেইনটা থাকলে ভীড়ের মধ্যে নির্ঘাত হারাতাম।
খ.
জীবনে অন্তত ৭ বার এমন হয়েছে কিছু চুুরি হয়েছে বা চুরি হবার উপক্রম হয়েছে কিংবা হারাবার উপক্রম হয়েছে। কিন্তু ফেরত পেয়েছি বা রক্ষা পেয়েছি। একটা দুটো ঘটলে সেটা হত মিরাকল। কিন্তু সেটা যদি ৭ বার ঘটে সেটাকে কী বলবেন?
লুঙ্গী চুরি হয়েছে নাটোর গিয়ে। নতুন কেনা শখের লুঙ্গী। চোরের কাছ হতে উদ্ধার করেছি ১৫ দিন পর।
টাওয়েল চুরি হয়েছে হলের গোসলখানা হতে। উদ্ধার করেছি আরেকজনের ব্যলকনী হতে ৭ দিন পর।
জুতা চুরি হয়েছে হলের মসজিদ হতে। আরেকজনের রূমের সামনে হতে উদ্ধার করেছি ১ মাস পর।
মোবাইল, চাবি, পেনড্রাইভসহ ব্যাগ হারালাম বাসের ভিতর। অফিসে যাবার পথে। ৪ ঘন্টা পর পুরো ব্যাগ অক্ষত ফেরত পেয়েছি।
বাসে উঠতে গিয়ে পকেট হতে মোবাইল বের করে ফেলেছে চোর। শেষ মুহূর্তে টের পেয়েছি। নিতে পারে নি।
গাবতলি টার্মিনালে ঈদের ভীড়ে পকেট হতে মোবাইল চুরি করে ভেগেছে চোর। ১০ মিনিটের মাথায় মোবাইল উদ্ধার করেছি।
গ.
অফিসের গাড়িতে হাতের আংটি পড়ে গেল। আর পাইনি। আশা যখন ছেড়ে দিয়েছি তখন ৫ দিন পর ল্যাপটপের ব্যাগের পকেটে দেখি আংটি। অথচ ওই পকেটে পড়বার কোনো সুযোগই ছিল না।
ঘ.
অফিসের গাড়ি এক দোকানের সামনে রাতে দাড়িয়েছে জ্যামের জন্য। হঠাৎ দেখি দোকানের সামনে ২/৩ হাত দূরে একটা টাকার মোটা বান্ডিল। একটু অাবছাঁয়ায়। আমি দেখে দোকানদারকে বান্ডিলটা বুঝে নিতে বললাম। অথচ বান্ডেলটার পাশেই একটা লোক দাড়িয়েছিল। তার চোখে পড়েনি।
ঙ.
মিরপুর ২ নম্বর বাজারের ভিতর দিয়ে মিয়া-বিবি বাসায় যাচ্ছি রিক্সা করে। হঠাৎ রাস্তার মাঝে দেখি একটা মোবাইল পড়ে আছে। নেমে সেটা হাতে নিলাম। নতুন এবং চালু। বাসায় নিয়ে গেলাম। ঘন্টাখানেক পরই মালিক ফোন দিল সেই ফোনে। পরে ঠিকানামতো এসে নিয়ে গেল।
এগুলোকে কী বলবেন? আমি বলি কো-একসিডেন্ট। তো, এই কো অ্যাকসিডেন্ট যদি সংখ্যায় এত হয়, তাহলে তাকে প্রথম শ্রেনীর না হলেও গরীবের শাহরুখের মতো গরীব জ্বীন তো বলাই যায়।
এবার আরেকটু সিরিয়াস জ্বীনি কারবার বয়ান করি।
কখন বুঝবেন, আপনি মানুষ নন? উগান্ডার রাজধানী ঢাকনা মহানগরে বাসা হতে বের হয়ে বিকেল সন্ধ্যায় আবার বাসায় ফেরার মাঝের সময়টাতে যদি-
আপনার সাধের গাড়িটার পশ্চাতদেশে সি.এন.জি বা বাইকের অন্তত একটা আলতো চুমু না খান,
আপনার মাত্রই পলিশ করে আনা পাম্প-শু জোড়ার সামনের ডকে জৈনক নাগরিক উচক্কার নির্মম একটা দলন উপভোগ না করে থাকেন, অন্তত তিনটা মোড়ে গাড়ির তলে পড়তে পড়তে মরতে মরতেও বেঁচে না থাকেন, বড় দালানের জানালা দিয়ে ছোড়া বাচ্চার ডায়াপার বা কলার খোসায় যদি আপনি মৃদু সম্ভাষিত না হন;
সদ্যই ইলশে গুড়ি বৃষ্টি উপভোগের জের হিসেবে পাশ দিয়ে যাওয়া বাইকের ছেটানো সড়কজলে যদি আপনার সাধের সাদা শার্টটা টাইডাই না হয়ে থাকে;
আপনার চকচকে টাকটাতে কোনো এক কাক যদি টারগেট প্রাকটিস করতে ব্যর্থ হয়,
আর সবশেষ;
সকালে বের হয়ে বিকেলে যদি আপনি দিব্যি বেঁচে ফেরেন, এবং, অতি আশ্চর্যভাবে, আপনার শরীরের সমস্ত অঙ্গ ও প্রত্যঙ্গ সেই সকালের মতোই আস্ত থাকে;
তাহলে আপনি মানুষই নন। আপনি আসলে একজন উগান্ডান জ্বীন।
এই ডেফিনিশন গোণায় ধরলে আমি নিজেও একটা জ্বীন। কই মাছের প্রাণ বলে না কথাটাকে? আমার মনে হয় খোদা আমাকে ওটা দিয়েছেন।
একবার এক যাত্রাপালা চলছিল। এক দৃশ্যে নায়ক তলোয়ার যুদ্ধে ভিলেনকে কতল করলেন। তারপর তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে নিজের কৃতিত্ব জাহির করার সময় হঠাৎ ভিলেন জীবিত হয়ে মঞ্চে আসীন হল।
নায়ক তো এই স্ক্রীপট বহির্ভূত অভিনয়ে হতভম্ভ হয়ে কী করতে হবে বুঝতে পারছেন না। ফিসফিস করে ভিলেনকে বলতে লাগলেন, আরে, তুমি তো মরে গেছ। শুয়ে পড়।
ভিলেন বলল, “মরি নাই, মরি নাই, আমার আলতার প্রয়োজন।” মানে তলোয়ারের আঘাতের জায়গায় লাল রঙের আলতা দিতে হবে। হা হা হা।
আমি আমার জীবনে অন্তত ৯ বার সুনিশ্চিত মৃত্যুর মুখ হতে ফিরেছি। বিশ্বাস করবেন? সেই গপ্পটাই রঙ চড়িয়ে আপনাদের বলব। পড়ে দেখুন:
১.
আমি পুকুরে পড়ে গেলাম যখন বয়স মোটে ২ বছর। আমার চাচী দেখতে পেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে উদ্ধার করেন।
তলিয়ে যাবার বেশ কিছুক্ষণ পরে আমাকে পুকুর ঘাটের পানির তলা হতে উদ্ধার করা হয়। সেই হতে পানি আমার দুই চক্ষের বিষ। এমনকি কক্সবাজার গিয়েও পানিতে কোনোমতে হাটুপানির নিচে নামতে পারি না।
২.
বাসের চিপায় পড়লাম।
যাত্রাবাড়ি গেছি বাবাকে বাসে তুলে দিতে। ফেরার সময় রাস্তা পাড় হতে গেছি। হঠাৎ করে দুটো বাস একসাথে এসে পড়ল। আমি পড়লাম দু’টোর ঠিক মাঝে। আমি আতঙ্কে চিৎকার করতে গেছি। গলা দিয়ে শব্দ বের হল না। বামপাশের বাসের হেলপার শেষ মুহূর্তে দেখে চিৎকার করে বাস থামালো। আমি কয়েক মাইক্রো সেকেন্ডের জন্য বেঁচে গেলাম।
৩.
৪ তলার অসম্পূর্ন বারান্দা হতে পড়ে যাচ্ছিলাম।
বাসা ভাড়া নিতে গেছি। ৪ তলায় ফ্ল্যাট দেখতে গেলাম। ঘুরে দেখার সময় একটা দরজা বন্ধ ছিল। ভিতরে খোলে। আমি নব ঘুরিয়ে ধাক্কা দিয়ে সেটার ভিতরে দেখতে গেছি। দরজা খুললে দেখি ওপাশে কোনো ফ্লোর নেই। বিল্ডিঙ এর খোলা সাইড। আসলে ওটা বারান্দার দরজা ছিল। কমপ্লিট হয়নি। আমি ওইদিন তলাহীন বারান্দার দরজা দিয়ে পড়ে যেতে পারতাম। শেষ মুহূর্তে তাল সামলানোয় বেঁচে যাই।
৪.
কুমিরের মুখের কাছে বসেছিলাম।
আমি আমার ছোট্ট ভাগনিকে নিয়ে বাগেরহাট মাজার দেখতে গেছি। দীঘির পাশেই একটা চত্তরে কুমির রেষ্ট নিচ্ছে চোখ বুজে। ওই মাজারে মানুষকে কুমির দেখিয়ে বা তার কাছে নিয়ে দোয়া চাওয়ানোর রেওয়াজ আছে। আমি আমার ভাগনিকে নিয়ে কুমিরের একদম একহাতের মধ্যে গেলাম। কুমিরটার মোট দৈর্ঘ বিশ ফুটের কম না। একটা দৈত্য। তারপর তখনকার ফিল্ম ক্যামেরায় একজন খাদেমকে দিয়ে ফটো তুললাম। তারপর চলে আসি। আজও সেই ছবিটা দেখতে বসলে বুক কেঁপে ওঠে। সেদিন কিভাবে এমন দুঃসাহস করেছিলাম জানি না। কুমিরটা জাস্ট কয়েক সেকেন্ডের দুর্মতি হলে দুজনকে মেরে ফেলতে পারতো।
৫.
ক্যাডারের পাইপগানের মুখে জীবন।
হোস্টেলে থাকতে একদিন দুপুরে হল দখল হচ্ছিল হঠাৎ দুপুরে জুমার আজানের পর। আমরা দুই রুমমেট রুমে জুমাতে যাবার জন্য রেডি হচ্ছি। এমন সময় হল দখলের জন্য গেটে গোলাগুলি। গুলি থামল। হল আরেক পক্ষ দখল করল। এমন সময় রুমের দরজায় প্রচন্ড লাথি। দরজা খুলতেই পাইপগান হাতে দুজন ঢূকল। আমাদের দুজনের দিকে বন্দুক তাক করে জানতে চাইল, একটু আগে রুমের জানালা দিয়ে কেন গুলি করেছি গেটের দিকে। মাথাগরম ও সদ্য হল দখলকারী একজন ক্যাডারের টেম্পার কেমন হতে পারে নিশ্চই জানেন। সেদিনের সেই ক্যাডার মুহূর্তে গুলি করে বসতে পারতে গরম মাথায়। তবে খোদার রহমতে বেঁচে গেছি।
৬.
৫ তলার সানশেড দিয়ে পড়তে পড়তে বাঁচলাম।
আমার রুম ছিল ৫ তলায়। জানালায় গ্রীল ছিল না। তবে প্রতিটা রুমের জানালার চারপাশ ঘিরে সানশেড। আমরা ওখানে টব রাখতাম। একদিন রুমে চাবি রেখে তালা লাগিয়ে বের হয়ে গেছি। এখন ঢুকব কিভাবে? রুমমেট বাড়িতে। বাধ্য হয়ে পাশের রুমের খোলা সানশেডে নেমে হাত বাড়িয়ে আমার রুমের সানশেডের সাইড ধরে আমার ব্যালকনিতে এলাম। তারপর জানালা দিয়ে রুমে ঢুকলাম। রিস্ক হল, সানশেড দিয়ে পাশের সানশেডে যেতে যদি সামান্য হাত ফসকাতো আমি ৫ তলা হতে নিচে পড়তাম।
৭.
ইলেকট্রিক হিটারে ল্যাম্প চেপে ধরেও বেঁচে গেলাম।
আমার বয়স যখন ৫/৬ তখন আমাদের পিডিবি কলোনিতে ইলেকট্রিক হিটারে রান্না হত। পাওয়ার স্টেশনের সেই বাসাগুলোতে কারেন্টের ফুল ভোল্টেজ থাকত। একবার একজন মারাও গিয়েছিল কারেন্টে। তো আমি একটি পিতলের তৈরী তেলের ল্যাম্প জ্বালাবার জন্য সেই হিটার সুইচ অন করে জ্বালিয়ে তার মধ্যে সেই পিতলের ল্যাম্পটা চেপে ধরলাম। মুহূর্তে আমাকে হাজার ভোল্টেজে শক করল। আমি ছিটকে পড়লাম ফ্লোরে। জ্ঞান হারিয়েছিলাম বোধহয়। কারেন্ট যদি ধাক্কা না দিয়ে আমায় টেনে ধরত (যেটা সে করেও) তবে সেদিন মরতাম।
৮.
কাঁচ খসে পড়ল একহাত সামনে।
একদিন বিকেলে আমার এক কাজিনের বাসায় যাবার পথে প্রবল ঝড় শুরু হল। আমি একদম কাছেই থাকায় না দাড়িয়ে রওনা হলাম। একটা চিপা গলি পার হবার সময় হঠাৎই আমার ঠিক এক হাত পেছনে একটা জানালার কাঁচ প্রচন্ড শব্দে ভেঙে পড়ল। ওই কাঁচটা আমার গায়ে বা মাথায় পড়তে পারত ঠিক একহাত পেছনে থাকলে।
৯.
নিজের এলাকার মুদী দোকানে কাজ সেরে একটা গলি দিয়ে বাসায় ফিরছিলাম। বাসার একদম শেষ গলি। একটা আন্ডার কনসট্রাকশন টাওয়ারের সামনে দিয়ে যাবার সময় আমার ঠিক ১ হাত পেছনে ওপরের দশ তলার ছাদ হতে একটা বড় কাঠের দন্ড দুম করে পড়ল। ভয়ে জান উড়ে যাবার যোগাড়। তাকিয়ে দেখি, রাজমিস্ত্রিদের ঢালাই সমান করার যে ভারী কাঠের দন্ড, সেটা পড়েছে ওপর হতে। একদম ১ হাত পেছনে। আরেকটু আগে পড়লেই আমি শেষ।
১০.
বাথরুমের ফ্লোরে অজ্ঞান হয়ে পড়লাম।
ক্লাস ৭/৮ এ পড়বার সময় একবার খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি। প্রচন্ড লো প্রেশার গ্রাস করে আমাকে। দীর্ঘদিন ভুগেছিলাম। তো সেই অবস্থায় একদিন বাথরুমে গেছি। বাংলা কমোড। বাথরুম করে ওঠার সময় প্রেশার ফল করল। সাথে সাথে আমি সেই দাড়ানো অবস্থা হতেই কাটা কলাগাছের মতো ঝুপ করে ফ্লোরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলাম। ৩ মিনিট পড়ে জ্ঞান এলো। বের হলাম। একদম অক্ষত। ফ্লোরে পড়ে মাথায় আঘাত পেয়ে মরার বহু ঘটনা আছে। শুধু বহুক্ষণ লেগেছিল পুরো ঘটনাটা মনে করতে। মেমোরী ল্যাপস হয়েছিল সাময়িকভাবে।
কেন বেঁচে গেছি আমি নিজেও জানি না। আমার বিশ্বাস, আমার বাবা-মায়ের পূণ্যে। আমার মা জননীর বিশেষ কিছু দোয়া না থাকলে ওই ঘটনাগুলোর প্রতিটা আমার মৃত্যূ ঘটাতে পারত। হ্যা, বড় হয়ে আমি আমার মা জননীর ও বাপজানের জন্য কিছুটা হলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ পাব-সেটা আমার ভবিতব্য ছিল। সেজন্যই খোদা আমায় বাঁচিয়ে দেন।
ও হ্যা, ওই ঘটনাগুলো হতে বহু বছর পরে নিটোল নামক আমার দেখা অত্যন্ত অদ্ভূৎ একজন নারীর জীবনসঙ্গি হতে হবে- সেটাও বেঁচে থাকার একটা কারন বটে। হা হা হা।
#coincident #accident #escape #deathescape #danger #/savinglife #miracle #urbanlifeindhaka #lifeinametro #dangersofDhaka #escapethedeath #alienlife #humanoralien