Skip to content

মনকলা নামক আত্মপ্রবঞ্চনার বাস্তবতা

  • by

মনকলা নামক আত্মপ্রবঞ্চনার বাস্তবতা:

মানসিক প্রবোধ বা আত্মপ্রচঞ্চনা নামে একটি বিষয় আছে। সত্যিই কি নিজেকে নিজে সান্তনা বা প্রবঞ্চনা করা যায়?

আমার বিশ্বাস, সবক্ষেত্রে না হলেও, কিছু কিছু ক্ষেত্রে যায়। এই যেমন ধরুন, কেউ আপনাকে রোজ বলে, আপনাকে সুন্দর লাগছে। আপনার হয়তো তেমন কিছু বোধ হয় না। কিন্তু, একদিন না বলুক। দেখবেন, আপনার একটু মিসিং মিসিং লাগছে।

আবার, আমরা যখন পোস্ট বুস্ট করি, প্রচুর লাইক, কমেন্ট পড়ে। আমরা জানি যে, এটা জোর করে টানা বুস্ট, লাইক। তারপরও আমরা কি খুশি হই না? অধীনস্থরা প্রশংসা করলে, জানি, বসকে তেল দিচ্ছে। তবু কি আমরা খুশি হয়ে উঠি না? যারা বলি, আমি প্রশংসা পছন্দ করি না। তারাও কি প্রশংসা শুনলে বিগলিত হই না? যারা বলি, আমি সমালোচনাকে পজিটিভলি দেখি, তারাও কি মনের মধ্যে খঁচখঁচ অনুভব করি না? সমালোচনাকারীকে অপছন্দ করি না?

মানব মন বড়ই বিচিত্র। তার গতিধারা বোঝা দায়। তাকে বশে রাখতে হয়। টিভির একটি বিজ্ঞাপনে মিজ সুইটির দেয়া একটি ডায়লগ খুব ভাল লাগে, “সব কিছু সুন্দর থাকে না, করে নিতে হয়।”

সেলফ মোটিভেশনের বক্তা বলেন না, সকালে উঠে নিজেকে বলুন, তুমি ভাল আছ?

এটা ৩০ দিন প্রাকটিস করে দেখুন। দেখবেন, আপনার মন বিভ্রান্ত হবে। সে বিশ্বাস করতে শুরু করবে, আসলেই তো আমি ভাল আছি। দশজনকে টাকা দিয়ে নিয়োগ করুন, যারা আপনাকে রোজ মেসেজ পাঠাবে, “আপনি দেখতে ঐশ্বরিয়ার মতো।” দেখবেন, একদিন আপনার ভেতরে বিভ্রান্তি তৈরী হবে, “আসলেই তো, আমি দেখতে দারুন।”

আত্মপ্রবঞ্চনা কি মনে মনে মনকলা খাওয়ার মতো?

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের “অটো সাজেশন” বস্তুটার সাথে আপনার পরিচয় আছে? ওটা অনেকটা মনকলা খাওয়ার মতো বস্তু। যাক, আজ কোয়ান্টামকে আপাতত রেহাই দিলাম। অন্যরকম একটা অটোসাজেশন বলব আজ।

আমার সহকর্মীদের সাথে প্রায়ই একটা মজা করি। [অবাক হবেন না, আমিও মাঝে মধ্যে মজা করতে জানি।] মজাটা হল, তিনি হয়তো আমাকে ফোন দিয়েছিলেন বা আমি তাকে। তিনি ধরেননি বা আমি। পরে ফোন ব্যাক করা হলে আর তিনি বা আমি মনে করতে পারি না, যে, ফোন করার মূল উদ্দেশ্যটা কী ছিল।

কখনো কখনো তো এমনও হয়, ফোন করলে ওপ্রান্তে ফোন ধরলে সাথে সাথে ভুলে যাই যে, কেন ফোন করেছি। তো তখন আমি বলি, “ভাই বাদ দিন। যেই জিনিস ভুলে গেছেন, সেটা কষ্ট করে মনে করতে হবে না। কারন, ওটা যদি তেমন গুরুত্বপূর্নই হত, তাহলে আপনি ভুলে যেতেন না।” হা হা হা।

আরেকটা বলি। মাঝে মধ্যে মধ্যবয়সী পুরুষ সুহৃদদের এটা বলি। সেটা হল, প্রেমিকা বা বউ যদি তার জমানো এফডি আর গয়নাগাটি সহ অন্য কারো সাথে চলে যায়, তাহলে খুব বেশি মুষড়ে পড়ার দরকার নেই। কারন, সে চলে গেছে, মানেই হল, সে আপনার ছিলই না।

আর যদি সে আপনারই হয়ে থাকে, তাহলে সে আবার ফিরে আসবে। এটাকেই বলে অটো সাজেশন।

আরেকটা আছে-অটো সান্তনা।

আপনি যদি আপনার দুঃখের কথা, শোকের কথা মাত্রই ফেসবুকে পোস্ট করে থাকেন, তাহলে ধরে নিতে পারেন, যে আপনি খুব একটা খারাপ নেই আর শোকে পাগলও হন নাই।

যথেষ্টই হুশে আছেন আপনি।

ম্যান ইন ব্ল্যাক। ম্যান ইন হোয়াইট।

ভেতরের আসল মানুষটি সাদা নাকি কালো-তা নিয়ে অন্যের কৌতুহল থাকলেও থাকতে পারে। না-ও পারে।

আমার খুব আছে। আমি কে, আমি কী, আমি কেন? জানবার কৌতুহল আমার ব্যপক।

নিজেকে জেনেই কুলকিনারা করতে পারিনি। অন্যকে জানবার সময় কোথায়?

নারসিসিজম নামে নাকি একটা ব্যাধি আছে। শুধু নিজের চেহারা বা খোপরির জন্য অবসেশন বা প্রেমই কি নারসিসিজম?

এই যে, আমরা যারা দিবারাত্রি অষ্টপ্রহর শুধু নিজের স্বার্থ আর ধান্দা নিয়েই ভাবি, তারা কি নারসিসিস্ট না?

এই যে, আমাদের মধ্যে কত মানুষ নিজেই নিজেকে সেরা, মহান, জ্ঞানী, ভদ্র, শান্ত, সৎ, মহত, বিখ্যাত, উচ্চমার্গীয় ভেবে ভেবে আত্মতুষ্টি ও তৃপ্তির ঢেকুর তুলে দিন পার করেন, তারা কি নারসিসিস্ট নন?

নিজেই নিজেকে জগতের সবচেয়ে ভালা মানুষটির খেতাব দিয়ে মনে মনে মনকলার আত্মপ্রসাদ খাওয়া মানুষ কি আমাদের আশপাশে নেই?

আসলে আমরা, এই কপোট্রনিক কলিযুগের মিলেনিয়াল মানুষেরা সবাই একেকজন নারসিসিস্ট।

বিভ্রান্তি ও চতুরতার মাধ্যমে কীভাবে কাজ আদায় করতে পারেন, তার আরেকটি উদাহরন দেবার জন্য নিচের গল্পটিও পাদটিকা হিসেবে দিলাম। পড়ে দেখতে পারেন।

বিভ্রান্ত ও মন্ত্রমুগ্ধ করে কাজ আদায়: (মূল লেখক: জনাব Shekh Piash Islam; উৎস: Learner’s Den)

বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন নতুন অধ্যাপক তাঁর ক্লাস নিতে শুরু করলেন। যে মুহুর্তে তিনি পড়ানোর জন্যে ব্ল্যাকবোর্ডের দিকে ঝুঁকলেন, সেই সময় ছাত্রদের মধ্যে কেউ একজন হঠাৎ করেই শিস বাজালো।

অধ্যাপক ঘুরে জিজ্ঞেস করলেন, কে, কে শিস দিয়েছে?

কেউ উত্তর দিলোনা। সবাই চুপ।

অধ্যাপক শান্তভাবে চকটি টেবিলে রেখে বললেন, আজ আর লেকচার দেবোনা। তবে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া একটি গল্প শোনাব তেমাদের।

সবাই আগ্রহী হয়ে নড়ে চড়ে বসলো। অধ্যাপক গল্প শুরু করলেন।

গতকাল রাতে আমি গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে দেখি পুরো রাস্তা খালি। চারিদিকে ঠান্ডা বাতাস, আকাশে হালকা মেঘের আড়ালে আধো চাঁদ। তাই ভাবলাম একটু আশেপাশে ঘুরেই আসি।

একটু সামনে অগ্রসর হতেই হঠাৎ রাস্তার পাশের এক কোণে আমি একজন ভদ্রবেশী সুন্দরী তরুণী মেয়েকে দেখলাম। আমি চোখ ফেরাতে পারছিলাম না! প্রথম নজরেই প্রেমে পড়ে গেলাম।

আমি গাড়ির কাচ নামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আমি কি কোনো সহায়তা করতে পারি আপনাকে? ‘

তিনি মৃদু হেসে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমি কি তাকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দিতে পারি? ‘

আমার হার্টবিট বেড়ে গেলো। আমি গাড়ি থেকে নেমে তাকে আমার সামনের দরজা খুলে দিলাম। তিনি আমার সাথে সামনের সিটেই বসলেন সানন্দে।

অতঃপর আমি তাকে নিজের পরিচয় জানিয়ে বললাম, আমি আপনাদের এলাকারই পাশের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। উনিও উনার পরিচয় জানালেন।

তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার পর রাখঢাক না করেই তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি বিবাহিত? আমি বুঝে ফেললাম, তিনিও প্রথম দর্শনেই আমার প্রেমে পড়েছেন।

আমি বললাম, আপনার অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে প্রথমেই আমি গাড়ি ঘুরিয়েছিলাম। তারপর আপনার জ্ঞান, বুদ্ধি ও কথার গভীরতা শুনে আমি খোলাখুলি বলছি, ইতিমধ্যে আমিও আপনার গভীর প্রেমে পড়ে গেছি।

মেয়েটি বললো, আসুন আমাদের এপার্টমেন্টে। চা খাবেন ও আরো কিছুক্ষন গল্প করা যাবে।

প্রেম যখন প্রকাশিত হয়েই গেছে দুই তরফে, তাহলে আর দ্বিধা রেখে লাভ কি। ওর বাসার ভেতরে চলে গেলাম।

আরো কিছুক্ষণ গল্প করে বিদায় নেয়ার সময় সে আমাকে বললো, শুনুন, আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা উল্লেখ করেছেন, আমার ভাই সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। মানে আপনারই ছাত্র হবে। যদিও সে এখন বাসায় নেই। আপনি ওর দিকে একটু খেয়াল রাখবেন যেন ঠিকমতো পড়াশুনা করে। এখন থেকে আমাদের মধ্যে যেহেতু একটি সুন্দর সম্পর্ক হয়ে গেছে সেহেতু এটি আপনার দায়িত্ব হয়ে গেল।

আমি বললাম, তোমার ভাইয়ের নাম কি?

আমার নব্য প্রেমিকা বললো, আপনি আর আমি পরস্পরকে আমাদের প্রখর বুদ্ধিমত্তার কারণে স্বল্প সময়ে ভালোবেসে ফেলেছি। আপনি আপনার বুদ্ধি দিয়ে খুঁজে বের করবেন তাকে। তাই আমি তাঁর নাম বলছি না। তবে আমার ভাইয়ের একটা বৈশিষ্ট আছে যা দিয়ে আপনি তাকে চিনতে পারবে।

বললাম, আচ্ছা। তাহলে বলো কি সেই বৈশিষ্ট?

আমার প্রেমিকা বললো, সে প্রায়ই হঠাৎ জোরে শিস দেয়!

পুরো ক্লাসের সমস্ত চোখ তৎক্ষণাৎ যে ছেলেটি শিস দিয়েছিল তাঁর দিকে ঘাড় ফিরিয়ে তাকিয়ে রইলো। অধ্যাপক ধীরে ধীরে চকটি আবার হাতে উঠিয়ে নিয়ে গম্ভীর স্বরে বললেন: “মনোবিজ্ঞানে আমার পিএইচডি ডিগ্রিটি এমনি এমনি আসেনি, আমি এটি অর্জন করেছি।

#autosuggestion #condolence #selfmotivation #importance #grief #Selfdeceit #psychology #deceit #manipulation #mindreading #mindgame #exploitation #thoughtreading #hipnotism #mindcontrol

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *