Skip to content

বাঙাল ও বাঙালির চরিত্র বিশ্লেষণ

  • by

১. আমাদের ছ্যাড়:

কোনো এক প্রতিষ্ঠানে তখন চাকরি করি। ঘটনাক্রমে জুনিয়র আমার হাতে বেশ কিছু প্রকল্প দেখভালের দায়ীত্ব এসে যায়। যেখানে বেশ নুদুসনাদুস টাকাপয়সার হাতছানি আছে। তো সেই মধুর মোহে আমার বিভাগের লতায় পাতায় এক বস আকর্ষিত হলেন। আমাকে হঠাৎ করে নিজের ’সাবোর্ডিনেটতো ভাই’ বানাবার চেষ্টা করলেন। যথারীতি তাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি কোম্পানীর টপ পারসনের কাছে বিচার দিলেন।

কী বিচার? ”ওয়ালিদ তো বড়দেরকে সালাম-ই দেয় না।” [আসলে সালামী/বখরা দেয় না বলতে চেয়েছিলেন।]

সালাম পাওয়া, ছ্যাড় ডাক শোনা, নত মস্তকের সাবোর্ডিনেটকে সামনে দাড়ানো দেখা, জ্বি ছ্যাড় জ্বি ছ্যাড় মার্কা ভীতিপ্রসূত ঐকমত্য পাওয়া-বিশাল সংখ্যক তথাকথিত স্যারদের এক ধরনের মানসিক রোগ ও অবসেশন।  নিজ নিজ ব্যক্তিগত জীবনে মমন্তুদভাবে ব্যর্থ, হতাশ, প্রত্যাখ্যাত ’ছ্যাড়’রা কর্মক্ষেত্রে হ্যাডমের ক্ষতি পুষিয়ে নেবার চেষ্টা করেন। অফিসকে ভেবে নেন আপন সুলেমানী অটোমান সম্রাজ্য, তিনি যার জাঁহাপনা। জাঁহাপনাদের আবার সুলেমানের মতোই আগা, পাশা সবই থাকে। জাঁহাপনা ছ্যাড়দের গরমে তারাও যথাবিহীত প্রোটোকলে ছ্যাড় না হলেও ষাঁড়, বস ডাক আদায় করে কানের সুখ মিটিয়ে নেন।  কেউ বোঝে, কেউ বোঝে না।

২. ঋন শোধ আর কৃতজ্ঞতার পরাকাষ্ঠা: 

একবার এক বুজুর্গ ব্যক্তির কাছ থেকে শোনা একটি জ্ঞানগর্ভ  কথা বলি। তিনি বলছিলেন, “কখনো কখনো বান্দা এত খুশি হয়, এত খুশি হয়, এত খুশি হয়, যে, খুশিতে বাগ বাগ হয়ে সে উচ্ছাসে ফেটে পড়ে বলে, ”হে খোদা, তুমি আমার বান্দা, আমি তোমার রব!!!”

গল্পটি রূপক হলেও এর গভীরতা অনেক। কেউ কেউ ক্ষণিকের আবেগে, উচ্ছাসে, কৃতজ্ঞতায় গদগদ হয়ে মুহূর্ত মাত্র চিন্তা না করেই কাউকে সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়, “আপনার ঋণ আমি জীবনেও শোধ করতে পারব না। আজ হতে আপনি আমার কেনা গোলাম।”

সেই একই পুরষ্কারদাতা ব্যক্তি কিছুদিন পরে সেই একই ব্যক্তিকে আগের উচ্ছাস ছাপিয়ে “এই জীবনের পাতায় পাতায় লেখা যা, সবই ভুল” বলতেও দ্বিধা করে না। ফুলের মালা দেবার আগে আরেকটু ভেবে নিলে ভবিষ্যতে বাঁক নেবার রাস্তাটা আরেকটু খোলা থাকে।

৩. সময় গেলে সাধন হবে:

বহু আগে একলোক একবার রোজা রেখেছে যে কখনো রাখে না। তো বিকেল নাগাদ ক্ষিধেয় তার অবস্থা কাহিল। তখনকার দিনে ঘড়ি ছিল না। মাগরিব ওয়াক্ত হয়েছে কিনা তা বোঝার জন্য গ্রামের মানুষ অন্ধকার নামার উপর নির্ভর করত। তারা এও জানত সন্ধ্যা হলে মুরগী ঘরে ফেরে। তো সে ভাবল, মুরগী ঘরে ফেরা মানেই তো হল ইফতারের ওয়াক্ত হবে। সে ধাওয়া দিয়ে মুরগীকে সেই বিকেল বেলাতেই ঘরে ঢুকানোর কসরত শুরু করল। কারন মুরগী ঘরে ঢুকলেই তো ইফতার। মুরগীর তো টাইম হয়নি। সে দৌড়াদৌড়ি করে সারাবাড়ি মাথায় তুলল কিন্তু ঘরে আর ঢোকেনা।

এদিকে মুরগীর পিছনে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে উল্টো ওই লোকের অবস্থা ক্ষুধা তৃষ্ণায় আরো কাতর। হয়রান হয়ে সে বলতে লাগল, ”বদমাশ মুরগী, ঘরে তো শেষে যাবি, তবে আমার বারোটা বাজিয়ে। আমার মা একটা কথা বলেন, “সাপ, সোজা তো হইবা, তয় মরার পরে” মানে চরম বাঁকা স্বভাবের সাপও যখন মরে তখন লাঠির মতো সোজা হয়ে পড়ে থাকে। কিছু না বলা কথা আছে, যা প্রকাশ্য দিবালোকে বলার উপায় নেই। তাই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বললাম।

নজরুলের একটা কবিতার কথা মনে পড়ে যায়-

‘বিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে আমরা তখন বসে বিবি তালাকের ফতোয়া খুঁজেছি কুরান-হাদিস চষে’।

#adressing #siraholic #identitycrisis #performanceevaluation #gratefulness #timebound #respect #salam #corruption #raud #obedience #loyalty #happiness #change #deceit #prejudice #backwardthoughts #rectification #fasting #purification #fanatism #modification

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *