”রথযাত্রা, লোকারণ্য, মহা ধুমধাম,
ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম।
পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভাবে আমি,
মূর্তি ভাবে আমি দেব, হাসে অন্তর্যামী।”
প্রিয় দেব ও মহাদেবগণ, নগরে অগ্নি সংযোগ হইয়াছে সে বহুদিন। এইক্ষণে দেবালয়ও পুড়িতেছে। নগর, গাঁও, দেবালয়ের পশ্চাতদেশে অগ্নি প্রজ্বলিত হইয়াছে মাত্রই। ভাল করিয়া তাহা এখনও আটঘাট বাঁধিয়া সবকিছু ছারখার করা শুরুই করিতে পারে নাই। মহাপ্রলয় কেবলই মাত্র হাঁটু গাড়িয়া বসিতেছে। হালকা করিয়া হুঙ্কার দিতেছে। তাহার মৃদু ছোবলেই যেমন করিয়া কুপোকাৎ হইতেছি, খেলা তো আরও বাকি রহিয়াছে দেবগণ। তাহার নীল ছোবল আসিতেছে। আপনারা দেবগণ তাহার হুহুঙ্কার শুনিতে ব্যর্থ হইলেও তাহার হননেচ্ছায় বিন্দুমাত্র কমতি হইবে না।
আক্ষেপ করিবেন না, ওপাড়ে সঙ্গহীন শূন্য হারেমে বেশিদিন কাটাইতে হইবে না। রাজত্বহীনতার বেদনা বেশিদিন বহিতে হইবে না। করোনাদেবীর নীল আশির্বাদে শীঘ্রই নিজ নিজ পার্থিব সঙ্গী, সঙ্গীনি, সভাসদ, চামচাগণ, ছাতাধারী, এমনকি নিজ নিজ ধ্বজভঙ্গ আম জনগণকেও পাইয়া যাইবেন। হাজার হউক, এই পাড়ে ছোট হউক, বড় হউক একজন মাননীয়, মহামান্য, মহোদয় তো ছিলেন। নতজানু ও সম্মুখে কাঁচুমুুঁচু হইয়া করজোরে দন্ডায়মান জনতা ছাড়া কি আর মন বসিবে ওপাড়ে?
বিশেষ দুঃখিত হইবেন না দেবশ্রেষ্ঠ। উহারাও শীঘ্রই কাতারে কাতারে আপনাকে সঙ্গ দিতে ছুটিবে দেবালয়ে, মানে ওপাড়ে। উহারাও এপাড়ে মৃত্যুর হোলিখেলার অগ্নিকুন্ডে হাসিতে হাসিতে ঝাপাইয়া পড়িতেছে কাতারে কাতারে।
চায়ে ফুঁক দিতে দিতে, পাড়ার রকে আড্ডা দিতে দিতে, তাজা টাটকা বাজার করিতে করিতে তাহারা শীঘ্রই আপনাদের সঙ্গলাভে ধন্য হইবে।
আর করিবেই বা না কেন? উহাদের তো আপনরা সেইরূপেই পয়দাইয়াছেন। আপনাদের লাগিয়াই তো উহাদের ইহকাল পরকাল নিবেদীত করিয়াছেন পরম ঈশ্বর।
#corona #bigshots #leaders #giants #anerchy #indiscipline #breakoforder #publiccharacters