Skip to content

”জাত গেল, জাত গেল বলে, এ কী আজব কারখানা!”

  • by

[এই লেখাটি কোনো বিশেষ ধর্ম, বিশ্বাস, চিন্তা বা মতবাদকে অনুগ্রহ বা আঘাত-কোনোটা করার জন্যই নয়। কোনো একটি বিশেষ ঘটনাতে মানুষে মানুষে গোত্র, বর্ণ, জাত-পাত, ধর্ম, বিশ্বাসের ভিন্নতায় সৃষ্ট নিকৃষ্ট ঘৃনা ও সহিংসার কিছু ঘটনাতে তাৎক্ষণিক আন্দোলিত হয়ে লেখা। কেউ ব্যক্তিগতভাবে বা দলগতভাবে আহত হবেন না। ]

মহান আল্লহ তার প্রিয় রাসূল মুহাম্মাদ (সাঃ) কে মহান শান্তির ধর্ম ও বাণী দিয়ে পাঠালেন। তিনি তার সারাটি জীবন দিয়ে শান্তি ও অহিংসার ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করলেন। প্রতিষ্ঠিত করলেন শান্তির ধর্মের শান্তিপ্রিয় কিছু মহান মানব অনুসারীর।

কালক্রমে সেই শান্তির ধর্মের উত্তরসুরীদের একটি ক্ষুদ্র অংশ আজ শুধু ধর্মকে আকড়ে ধরলেন। ভুলে গেলেন শান্তির অংশটি। অহিংসার অংশটি। মহান আল্লহ ও তার মহান রাসূলের চেয়েও তারা হয়ে উঠলেন শান্তির ধর্মের বেশি বেশি রক্ষক। সহিংসতা হয়ে গেল তাদের অহিংস ধর্মকে সমুন্নত করার একমাত্র পথ।

দলে দলে, উপদলে, গোত্রে, ফেরকায়, মাযহাবে, মতবাদে ভাগ হয়ে একজন আরেকজনকে খুন করার হোলি খেলায় মত্ত এই উন্মত্ত গোষ্ঠী। যার মহান রাসূল তায়েফে প্রায় মৃত হয়েও, সুযোগ পেয়েও শত্রূকে সামান্য অভিশাপ দিতেও রাজি হননি।

মহান গৌতম বুদ্ধ শান্তি ও অহিংসার খোঁজে ঘর ছাড়েন। একদিন নিজের জীবনের সব ত্যাগের বিনিময়ে খুঁজে পান অহিংসা ও শান্তির সবুজ পথ। জীবন সায়াহ্নে তিনি রেখে যান শান্তি ও অহিংসার বাণীতে উদ্বুদ্ধ একদল অনুসারী। কালের পরিক্রমায় সেই শান্তি, অহিংসার অনুসারীদের উত্তরসূরীদের বিপথগামী অংশ হিংসা ও সুপ্রিমেসিকে বেছে নিল জীবনের ব্রত হিসেবে। তাও আবার ধর্ম রক্ষার নাম করে। কোথায় সেই বুদ্ধের অহিংসার বাণী?

মহান যিশু (কিংবা ঈশা আঃ) এর ক্ষেত্রেও তাই। তিনি ও তার অনুসারীরা শান্তি, সমতা, অহিংসার প্রচারে জীবন দিলেন (বা মুসলিম মতে উর্দ্ধাকাশে গমন করলেন।) কালক্রমে সেই নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষেরা, যারা শান্তি, অহিংসা ও মুক্তির আশায় যিশুর অনুসরন করেছিলেন, তাদেরই বংশধররা, নিজেদের শ্রেষ্ঠজ্ঞান করে অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের নেশায় বেছে নিল অন্য ধর্মের মাইনরিটি বা দুর্বলদের নিপীড়ন নির্মূলের পথ। দুর্বল ও অন্য ধর্মের অনুসারীদের রক্তে হাত ভেজানো হয়ে গেল অহিংসার ধর্মের মহান ক্রূসেড।

মহান মুসা (আঃ) এর অনুসারী ইহুদীরাও নিজেদের ব্যতিক্রম কিছু হিসেবে দাড়া করাতে চাইলেন না। সুপ্রিমেসির রক্ত নেশায় উন্মত্ত ও একদা অন্য সুপ্রিমের হাতে নিঃশেষিত ইহুদীরা ভুলে গেলেন, মহান খোদা শান্তি, সমতা, ন্যায্যতা ও অহিংসার জন্য, মানবের মুক্তির জন্য ধর্মকে পাঠিয়েছেন, পয়গম্বরকে পাঠিয়েছেন।

ধর্মের আগমন তাবৎ মানবের নির্বানের জন্য। কাউকে পদতলে পিষে, তাকে আউটকাস্ট বিচার করে অবদমিত করার জন্য নয়।

সবাই ঈশ্বরের সৃষ্টি। মহামতি রামচন্দ্র, মহামানব রামকৃষ্ণ পরমহংস, শ্রী-কৃষ্ণ, শ্রীচৈতন্য, বিবেকানন্দ-কেউ কি হিংসার বাণী নিয়ে এসেছিলেন? কেউ কি তার অনুসারী নন-এমন সবাইকে নির্বিচারে আউটকাস্ট ঘোষনা করে খুন করার ব্রত করেছিলেন? বা অনুসারীদের আদেশ করে গেছেন? না তো?

তাহলে আজ কেন তাদের অনুসারীদের পথভ্রস্ট অংশ নিজেকে শ্রেষ্ঠ আর অন্যকে নিকৃষ্ট বিবেচনায় তাকে অবদমিত, লাঞ্চিত, নিঃশেষিত করার মহাযজ্ঞে নামে? কেন? কেন? কেন? কেন তবে চলমান বিশ্ব সংকট, মহামারির আহত নিহতদের মধ্যেও মানুষ খোঁজে  কে নমোঃ, কে শুদ্র, কে মিয়া, কে মশায়, কে সাহেব, কে বুদ্ধ? কেন একটি নিহত প্রাণ ‘মানুষ’ হিসেবে পরিচীত হয় না?

কেন তার পূজিত ঈশ্বর হয়ে ওঠেন তার সবচেয়ে বড় পরিচয়? মরে পঁচে গেলে তো সেই কাদামাটিই বনে যায় সবাই। বোমার লাল আগুন তো সবাইকে একইভাবে পোড়ায়। বিন্দুমাত্র রহম করে না। তবে কি আমরা ঈশ্বরের চেয়েও বেশি বেশি তার ধর্মের ধার্মিক হয়ে গেলাম? ঈশ্বরের প্রেরিত দূতের চেয়েও তার ধর্মকে বেশি আত্মস্থ করে ফেললাম?

আবারও বলছি, নিজের কোলে ঝোল টানবেন না। কাউকে কারও সাথে তুলনা করা হয়েছে কিনা-সেই অপদার্থ চিন্তা করে থাকলে তার দায় আমাকে দেবেন না। আমি নিজেকে ‘পরমহংস’ ভাবি কিনা-সেটা নিয়েও বিন্দুমাত্র ভাবিত হবেন না। স্রেফ জন্ম জঠরের পরিচয়ের বদৌলতে কোনো বিশেষ ধর্মের অনুসারী বনে গিয়ে নিজেকে সুপ্রীম ভাবার কোনো কারন নেই।

”জন্ম হোক যথা তথা, কর্ম হোক ভাল।”

নিজ নিজ ধর্ম পবিত্রজ্ঞানে ভক্তিভরে পালন করেও অন্যের বিশ্বাসকে সমান সম্মান করা যায়। চাইলেই যায়। সুপ্রিমেসি আর হিংসার তরবারীর আঘাত করেই দেখুন, সবার শিরাতেই একই লাল লহু। সেই লালে কোনো ধর্ম পরিচয় লেখা থাকে না। খোদা নিজেও লিখে দেননি তাতে।

#religiousfanatism #extremeism #outcast #classstatus #classconflict #classdiscrimination #cult #obsolete #obscure #lowercast #abandoned #racism #SupremacySyndrome #InferiorityComplex #communal

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *