Skip to content

দ্বিচারিতার রকমসকম: দ্বিচারী নারী-দ্বিচারী পুরুষ

  • by

মানুষ মাত্রই কি দ্বিচারী?

মানুষ মাত্রই কি দ্বিচারী?

ছেলেটা স্মোকার ছিল অথচ তাকে কেউ কখনো সিগারেট খেতে দেখেনি। সে ভন্ড।

—আসলে সে সস্তা কেটু সিগারেট খেতো বলে সবার সামনে স্মোক করত না।

ছেলেটা কখনো চায়ের আড্ডায় বসত না। ও ফ্রেন্ডলী ছিল না।

—আসলে খালি পেটে চা খেলে তার আলসারটা বেড়ে যেত।

ছেলেটা কখনো পার্টিতে যেত না। সে খুব অসামাজিক ছিল।

—আসলে পার্টিতে যাবার জন্য তার কাছে কোনো ভাল পোষাক থাকত না।

ছেলেটা সবসময় মেয়েটার আগেই ডেটিং স্পটে হাজির থাকত। ছেলেটা খুব প্যাশনেট ছিল।

—আসলে সে হেঁটে হেঁটে স্পটে আসত। সেটা মেয়েটাকে দেখাতে চাইত না।

ছেলেটা কখনো ফার্স্ট বেঞ্চে বসত না। সে ফাঁকিবাজ ছিল।

—আসলে তার পুরোনো শার্টের একটা বোতাম অন্য রঙের ছিল।

ছেলেটার লম্বা চুল ছিল। মেয়েটার খুব ভাল লাগত তার বাবড়ি চুল।

—আসলে পয়সা বাঁচাতে সে বছরে একবারই চুল কাঁটাতো।

ছেলেটা সময়মতো এ্যাসাইনমেন্ট জমা না করে পরীক্ষায় ফেল করে। সে খারাপ ছাত্র।

–আসলে তার নিজেরটা বান্ধবীকে দিয়ে দিয়েছিল।

ছেলেটা পালিয়ে বিয়ে করার দিন আর আসেনি অথচ মেয়েটি প্রতিক্ষায় ছিল। সে প্রতারক।

—আসলে ছেলেটি ওইদিন দৌড়তে দৌড়তে আসার সময় বাস চাপায় মারা পরে।

সোস্যাল মিডিয়াতে একটা ট্রল প্রায়ই দেখবেন যেখানে দু’জন শাশুরীর মধ্যে কথা হচ্ছে। শাশুরীকে যখন তার ছেলে ও পুত্রবধুর ব্যাপারে মতামত চাওয়া হয় তখন তিনি স্ত্রীর কথামতো চলার অপবাদে ছেলেকে বউয়ের চাকর, স্ত্রৈণ-নানা আখ্যা দেন। আবার একটু পরেই যখন তার মেয়ে জামাইয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয় তখন তিনি বলেন, জামাই অত্যন্ত সুবোধ। তার মেয়ের কথা ছাড়া চলে না। সারাক্ষণ শ্বশুর বাড়ির ন্যাওটা হয়ে থাকে। এই শাশুরীর চরিত্রকে কী বলেন আপনারা? দ্বিচারী বোধহয়।

আমরা মানুষেরা অত্যন্ত দ্বিচারী। এবং দু’মুখো। না, অন্যদের কথা বলছি না। খেয়াল করে দেখলাম, আমি নিজেও কি এর বাইরে যেতে পেরেছি। কয়েক দিন আগে। রাতের খাবারের পরে বাসনগুলো সিংকে পরিষ্কার করছি। রাতের পালারটা আমার। হঠাৎ পাশের প্রতিবেশি ব্যালকনীতে আসায় কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও হাতের কাজ বন্ধ করে দিলাম। {লোকে কী ভাববে-সেই চিন্তায়।} আরেক দিন রাতে দোকান হতে দু’জনে গলি দিয়ে বাসায় ফিরছি। গিন্নীর নতুন ব্যস্ততা হয়েছে। গাছের যত্নে নানান কাজ কাম ইউটিউবে শেখা আর তার প্রয়োগ।

তো, গলির মধ্যে একটি আম গাছ। তার শুকনো পাতা পড়ে আছে গলির সদ্য কংক্রিট করা পথে। ব্যাস, বেগম লেগে গেলেন শুকনো পাতা সংগ্রহে। লক্ষ্য-শুকনো পাতা টবে দিয়ে নাইট্রোজেন সরবরাহ বৃদ্ধি। ক্ষণিকের জন্য হলেও আমি আত্মবিস্মৃত হলাম। করো কী, করো কী-বলে আটকাতে গেলাম। [যদিও স্ত্রী জাতির সাথে জিততে পেরেছে-এমন মহাবীর হেক্টর বা এন্টোনিওরাও ছিলেন না।] পরে নিজে নিজে ভাবলাম, কেন? কীসে আমাদের এত সংকোচ? কাকে আমাদের এত সংকোচ? সমাজকে? লৌকিকতাকে? মানুষকে? নাকি নিজেকে?

দ্বিচারীতার আরো কিছু সাক্ষাত উদাহরন বলি? সামনের লোকটার মুখে দুর্গন্ধ হলে আমরা তার উপর বিরক্ত হই।কিন্তু তার দুই নাম্বারি পয়সায় কেনা বডি স্প্রের ঘ্রানের প্রশংসা করি।লোকটা দুই নাম্বারি পয়সা কামিয়ে বড়লোক হলে তাকে তোয়াজ করি। ফুটপাত অবৈধ দখল হওয়ায় আমার হাঁটতে অসুবিধা হলে দখলদারদের গালি দিই কিন্তু সেই আমরাই অন্যের হক নষ্ট করে ঘুষের পয়সা সহাস্য বদনে হাত পেতে নিই। পুলিশ ঘুষ খায়, পুলিশ খারাপ-খুবই কমোন ডায়লগ অথচ আমি বড় কর্মকর্তা হওয়ায় আমাকে লোকে রাস্তায় দেখলেই চা খাওয়ায়, সিগ্রেট সাধে আর আমিও আমার অধিকার হিসেবে সেটা খাই-এতে কোনোরকম অপরাধবোধ হয়না।

পাবলিক প্লেসে কেউ ধুমপান করলে আমরা জাগ্রত বিবেক নিয়ে তাকে হামলা করি অথচ পাবলিকলী সহকর্মীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থাতেই আমি ঘুষের/কমিশনের দরাদরি করি-লজ্জাবোধ করিনা। মন্ত্রীরা দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে ডিল করলে তাদের গালি দিই অথচ যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করি তার স্বার্থ, তার হাজার হাজার কর্মীর জীবন জীবিকার কথা না ভেবে নিজের স্বার্থে আসবে-এমন চুক্তি সাইন করি-বিন্দুমাত্র অনুশোচনা হয়না?

নিজের অবুঝ সন্তানদের সততার উপদেশ দিই। আবার উপদেশ দেবার পরেই তার পকেটে যে পকেটমানিটা গুজে দিই তার উৎস বিভিন্ন কাজ/অর্ডারে পাওয়া কমিশন। নাহ, আমার একটুও অসুবিধা হয় না। দুর্নীতি করবেনই? বন্ধ করতে পারছেন না? করুন, অসুবিধা নেই। অন্তত দয়া করে দ্বিচারিতা বন্ধ করুন। ফিলিস্তিনে আমাদের মুসলমান ভাইদের ইসরাইল অত্যাচার করলে আমরা এখানে কোক, পেপসি, ইউনিলিভার বর্জনের ডাক দিই অথচ সৌদি আরব যখন কাতার বা ইয়েমেনের মুসলমানদের উপর যুদ্ধ শুরু করে তখন আমরা সৌদি তেল বর্জন করি না।

নজরুলকে “মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই” কবিতার জন্য নিজেদের স্বজাতি মনে করে আপ্লুত হই আবার সেই আমরাই নজরুলের শ্যামা সঙ্গিত শুনে তাকে কাফের বানিয়ে দিই। স্বর্গে যাবার স্বপ্নে বিভোর, সারাক্ষন মনে লালায়িত স্বপ্ন তার জন্য। কিন্তু ধর্মগুরু হতে চন্ডাল-মরতে কেউ রাজি না। আরে ভাই না মরলে স্বর্গে যাবেন কী করে? বনানীতে তরূণী ধর্ষিত হলে আমরা তণুর ভাইয়েরা ধর্ষকের ফাসি চাই কিন্তু সেই ভাইয়েরা ধর্ষিত তরুণীকে বিয়ে করতে রাজি না।

অনেকের মধ্যেই বিশেষত বাঙালী সমাজে প্রচলিত ভুল মিথগুলোর একটি হল-”বিধাতা নারী-পুরুষের ভুমিকাকে আলাদা করে দিয়েছেন।সংসারের সকল গৃহস্থালী কাজ তাই একচেটিয়াভাবে বাড়ির মেয়েরা করবে।”মেয়েরাও অনেকে এটাই ধ্রূব সত্য বলে মনে করেন।পুরুষরাতো করেনই।তাই গৃহস্থালীর ছোটখাটো কাজ যেমন ডিনারের পর বাসনগুলো ধুতে হাত লাগানোকে অনেকেই মর্যাদা হানিকর বলে মনে করেন।অথচ নিজের ছেলে ইটালী গিয়ে হোটেলে বাসন মেজে পয়সা রোজগার করলে তাকে নিয়ে গর্ববোধ করেন।এটা কি দ্বিচারিতা নয়?

নিজ গৃহে বাসন মাজা,বাচ্চার ন্যাপি বদলানো বা সবার কাপড়গুলো নিজে আয়রনিং করলে তাতে প্রেস্টিজ কমবে না, বাড়বে।বিধাতা মানুষ সৃষ্টি করেছেন।নারী-পুরুষের পৃথক ভুমিকা মানুষ নিজেই নিজের সুবিধামতো সৃষ্টি করে নিয়েছে। সেইসাথে নিজের সুবিধামতো নির্ধারন করে নিয়েছে নিজের দ্বিচারী ডিসকোর্স। একজন ছেলে যখন প্রেম করতে চায় সে খোঁজে মডেল কন্যা। আবার সেই ছেলেই যখন দু’চার বছর প্রেম করার পর বিয়ের পাত্রি খোঁজে তখন চায় পর্দানশীন ধার্মিক পাত্রী।

কে যেন বলেছিল, পুরুষেরা বিয়ে করতে চায় বোরকা পরা সানি লিওন কিন্তু সানি লিওন তওবা করে বোরকা পড়লেও তাকে গ্রহন করবে না। আর মেয়েরা খোঁজে ইমাম সাহেবের মতো পুতঃপবিত্র স্বামী অথচ সেই আবার ইমাম সাহেবকে বিয়ে করতে রাজি না কারন সে (তথাকথিত) মডার্ন বা কুল না।

একটা চ্যানেলে সিরিয়ালের মধ্যে কিঞ্চিৎ বক্ষ উন্মুক্ত নারীর দৃশ্য এলেই বুক ঢাকতে সেখানে ব্লার করে দেখানো হয়। তার একটু পরেই আবার গোসলখানায় গণহারে মেয়েদের প্রায়নগ্ন গোসলের দৃশ্য কোনোরকম রাখঢাক না করে দেখানো হয়। তাহলে এটা কি দ্বিচারিতা বা চরিত্রহীনতা নয়? একটা বাংলাদেশী মেড ইন্ডিয়া ফ্লেভারের সিরিয়ালে দেশের সুস্থ সঙইসকিরিতির (সংস্কৃতির) ধারক দুই জামাই বউ অভিনেতা অভিনেত্রী সেই স্টার প্লাস টাইপ (ঘুমাতে কাতান পড়া, জাগরনে লিপস্টিক থাকা, কুটনামি, পরকিয়া) সিরিয়ালে সগর্বে অভিনয় করে যাচ্ছেন আবার সভাসমিতিতে দেশী সংস্কৃতি নিয়ে চোখের জল ফেলছেন।

এটাকে কী বলবেন?

পাকিস্তানী মুরগীর রান চিবাচ্ছেন একদিকের গালে, আরেক কানে মোবাইলে আলিম দারের বজ্জাতীর জন্য তার মুন্ডুপাত করছেন! কেমন হয়ে গেল না? ধোয়া ওঠা কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে আইপিএল ম্যাচ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছেন আর অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড কাপে ইন্ডিয়ার বজ্জাতীর জন্য মাঠে ময়দানে আহা উহু করছেন! কেমন কেমন লাগে না? এবার একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দ্বিচারিতার নগ্ন উদাহরন বলি। কোনো দেশে এই যুগেও দেখেছেন, নারি ও পুরুষ খেলোয়াড়দের একই টীম/ যেকোনো খেলায় জাতীয় দল মানে ছেলেদের টীম। কেন?

রাস্ট্র যদি বলতে পারে নারী পুরুষ সমান, তবে আলাদা টীম কেন? জানেন কিনা? বাস্তব জীবনে হিরোদের চেয়ে ভিলেনরা বেশি মার্কেট পেয়ে থাকে? না জানলে ক্ষতি নেই। আপনি তো আর সেই মার্কেটের আশায় ভিলেন হবেন না। কার্যক্ষেত্রে প্রত্যেক বাঙালীই নিজেকে ভিলেনের মতো মার্কেটের মালিক বানাতে চায়। কিন্তু আবার সে লোকের চোখে হিরোও সাজতে চায়। এ এক নিরন্তর প্রহলিকা। দ্বিচারী বাঙালীর চরিত্রহীনতা। যাহোক। পাড়ার দোকানে দেখতাম, চায়ের দোকানী তার তাকের মধ্যে দুয়েকটা কনডমের প্যাকেটও রাখত।

আমরা বুঝতাম না, ওষুধের দোকান বাদ দিয়ে কেউ কি তার ওই ছাতা পড়া কনডম কালেভদ্রে কিনতে আসবে? তবে হ্যা, বিক্রী হত। মানুষ নিরুপায় হলে তার ওই ছাই পড়া কনডমই পকেটস্ত করে নিয়ে যেত। সেই আশায় দোকানী দিনের পর মাস দু’চার প্যাকেট কনডম দোকানে রাখত। হয়তো দুটো একটা আতরের বোতলও। তবে কাস্টমাররা, মানে বাঙালীরা মানুষকে, তাদের চারপাশের পারিপাশ্বিকতাকে নিজস্ব টেস্ট নিয়ে দেখতে চায়। তারা ওরকম চায়ের দোকানে কনডম কিংবা ওষুধের দোকানে রাইস ব্রান অয়েল দেখতে চায় না।

এজন্যই মনে হয়, বাঙালী মাল কাছা মেরে কাঁচা বাজারে যায়, কারন সে সুপার শপের ঝলমলে আলোয় শুকনা স্থানে ভ্যাঁদা মাছ কিনতে পছন্দ করে না। সেটার জন্য তার মাছের বাজারেই যাওয়া চাই। দ্বিচারীতা আসলে আমাদের মন মগজে। দ্বিচারীতা নারী-পুরুষের শয়নে, স্বপনে। মানুষের মনোজগতে, চিন্তায়, জীবনাচরনে, কালচারে, উঠতে বসতে দ্বিচারীতার জয়জয়কার। তবে ওইযে, যারা দুই নৌকায় পা দেয়, তাদের শেষ পরিণতি জানেন তো?

দ্বিচারি আমি:

মানবসম্পদ বিভাগে প্রচুর বায়োডাটা আসে চাকরি প্রত্যাশীদের। অনেক সময়ই আমাদের সহকর্মীরা তাদের পরিচীত প্রার্থীদের সিভি রেফার করেন। একজন কর্পোরেট পারসোন হিসেবে এটা অবশ্যই খুব স্বাভাবিক যে এদেশের আর্থ-সামাজিক সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে একজন কর্পোরেট পারসোনের কাছে তার পরিচীতরা চাকরির জন্য রেফারেন্স চাইবেনই।

তবে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে মানবসম্পদ বিভাগকে কিছু মৌলিক নীতি মেনে চলতে হয়। গার্মেন্টসকে বলা হয় শ্রমঘন শিল্প। তবে তার মানে এই নয় এখানে অসীম সুযোগ। প্রথমত গার্মেন্ট শিল্পে এক্সিকিউটিভ স্ট্যাটাসের চাকরি খুবই সীমিত। এখানে প্রায় ৮০% হল শ্রমিক। বাকি ২০% এর মতো স্ট্যাফ। সেই স্ট্যাফদের মধ্যে আবার প্রায় অানুমানিক ৮০-৮৫% হল প্রোডাকশান স্ট্যাফ যেসব চাকরিতে মূলত একটি ডিগ্রি থাকার চেয়ে টেকনিক্যাল স্কিলটাই বেশী প্রাধান্য পায়।

বাকি যে সামান্য সংখ্যক এক্সিকিউটিভ স্ট্যান্ডার্ড জব যাকে সাধারনত অফিস জব বলা হয় তার সংখ্যা খুবই নগন্য। এই নগন্য সংখ্যকের আবার ক্ষুদ্র অংশ ফ্রেশ প্রার্থী দরকারহয়। কিন্তু আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশী রেফারেন্স আসে এই সবচেয়ে সীমিত জবগুলোর অনুরোধ জানিয়ে। অনেক সময় জব ভ্যাকান্সি না থাকায় আমরা প্রার্থীদের ডাকতে পারি না। এই এক্সিকিউটিভ জবগুলোর নিয়োগে আমরা বিভাগের কাজের ধরন ভিত্তিক কিছু মৌলিক কোয়ালিফিকেশান কামনা করি। কিন্তু যেকোনো এক্সিকিউটিভ জবের জন্য কোম্পানীর স্বার্থে এবং ব্যাসিক মানবসম্পদ নীতি অনুযায়ী কিছু কমোন যোগ্যতা বাধ্যতামুলকভাবে আমরা যাচাই করি। তার মধ্যে আছে ইংরেজিতে ভাল দক্ষতা, কম্পিউটার জ্ঞান, স্মার্টনেস, ভাল এক্সপোজার, ভাল আই কিউ, ভাল অ্যাপিয়ারেন্স, স্থায়ীত্বের সম্ভাবনা ইত্যাদি।

এর মধ্যে ইংরেজি দক্ষতা ও কম্পিউটার জ্ঞান না থাকলে তাকে কোনো বিভাগের কোনো এক্সিকিউটিভ জবে নিয়োগ করাটা কোম্পানীর সার্বিক স্ট্যান্ডার্ড ও ভবিষ্যতকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। বিধায় এরকম ক্যান্ডিডেটদের আমরা বিবেচনা করতে পারি না। অনেকেই সিভি দেন বিভিন্ন স্ট্যান্ডার্ডের প্রার্থীর। একটি নিয়মতান্ত্রিক ইন্টারভিউ শেষে প্রার্থীর যোগ্যতা অনুযায়ী তার ভাগ্য নির্ধারিত হয়। সুতরাং রেফার করা প্রার্থীর যোগ্যতা না থাকলে কোম্পানীতে চাকরি না হওয়াটাই স্বাভাবিক। আবার অনেক সময় প্রার্থীকে তার যোগ্যতা ও কোম্পানীর চলমান ভ্যাকান্সি অনুযায়ী কোনো বিভাগে দেয়া হলে তাদের রেফারীরা তাদের জন্য আরো ভাল কোনো কাঙ্খিত বিভাগে দেবার অনুরোধ করেন।

চাকরি দেয়া বা পছন্দের বিভাগে দেবার যেকোনো অনুরোধ কোম্পানীর স্বার্থ, প্রয়োজন ও সর্বোপরী প্রার্থীর যোগ্যতার উপরই নির্ধারিত হয়। মনে রাখা দরকার, ব্যক্তির ইচ্ছার চেয়ে কোম্পানীর হাজার হাজার কর্মীর স্বার্থ, ভবিষ্যত ও কোম্পানীর স্বার্থ সবার উর্দ্ধে। অযোগ্য কর্মী নিয়োগের ফলে অতীতেও বহু প্রতিষ্ঠিত কোম্পানী ধ্বংস হয়েছে। আবার অনেকে বলেন মাস্টার্স পাশ প্রার্থী কি করে গার্মেন্টসে অযোগ্য হয়? আমরা সিম্পলী বলতে চাই দেশের সার্বিক পড়াশোনার বর্তমান হতাশাজনক মানকে বিবেচনায় নিতে। আমরা কোনো প্রার্থীকে হেয় করছি না।

শুধু সবার জ্ঞাতার্থে আমাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ কেউ বলে থাকেন গার্মেন্টসে অত যোগ্যতা খুঁজলে চলে না। আমরা সবিনয়ে বলতে চাই গার্মেন্টস সেই অচ্ছ্যুৎ স্থান হতে অনেক এগিয়ে গেছে। দেশের সবধরনের শিক্ষিতরা এখন এই সেক্টরে কাতারে কাতারে আসছেন। আর বিশেষত আমাদের কোম্পানীতে এই সংখ্যা আরো বেশী। সুতরাং সম্মানিত রেফারীগনকে অনুরোধ করব কাঙ্খিত প্রার্থীর চাকরি না হলে বা কাঙ্খিত বিভাগে না হলে আমাদের সার্বিক স্ট্যান্ডার্ড ও কোম্পানীর বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে মানবসম্পদ বিভাগের নীতির প্রতি আস্থা রাখতে।

আমাদের নৈতিক অপারগতা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি। আমাদের সুযোগ্য প্রার্থী রেফার করে কোম্পানী উন্নয়নে হেল্প করার বিনীত অনুরোধ রইল। অতি সম্প্রতি আমরা একজন প্রার্থীকে ইন্টারভিউ করি যিনি একজন মাস্টার্স হোল্ডার। তিনি এমনকি তার নিজের সিভিটি পড়ে শোনাতে পারেননি। তিনি হিজ ও হার এর তফাৎ জানেন না। একবার একজন ট্রিপল ই ইঞ্জিনিয়ারকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল অনু ও পরমানুর মধ্যে কোনটি বড়। তিনি বলতে ব্যর্থ হন।

এইচআরে চাকরির মনোঃপিড়ার একটা উদাহরণ দিই। একবার একজন সুশীলের সাথে ঘন্টাখানিক দেশের শিক্ষার মান, অযোগ্য ক্যান্ডিডেট, তাদের চাকরিতে নিতে অন্যায় আবদার, বিভিন্ন পদে অযোগ্যদের তৈরী অপকর্ম, যোগ্যতার মাপকাঠি কী হওয়া উচিৎ এসব নিয়ে হা পিত্যেস করলাম।

তিনি আমায় সান্তনা দিলেন, কোয়ালিফিকেশনে আপোষ না করার উপদেশ দিলেন, আমার নীতির প্রশংসা করলেন, অযোগ্যদের নানা ক্ষতিকর দিক বললেন, লবিষ্টদের নানান কুকথা বললেন।

আমি সান্তনা পেলাম যাক কেউ একজন আমাদের জ্বালাটা বুঝল।

ঘন্টাখানেক পর যেই উঠব ওমনি তিনি আলগোছে একটা সিভি বের করে বললেন, “কিছু মনে করবেন না, এনার একটা গতি করতেই হবে।” যোগ্যতা তিনিই বললেন যে ইন্টারভিউয়ে তেমন ভাল না করারই কথা। তবে আমায় আশ্বাস দিলেন, বিশ্বস্ত হবে।

হায়রে দ্বিচারী দুনিয়া। চাকরির জন্য যোগ্যতা না, বিশ্বস্ততা বেশী কাবেলিয়াত হয়। কার কাছে দুস্কের কাহিনী বললাম!

দ্বিচারী তুমি:

সামনের লোকটার মুখে দুর্গন্ধ হলে আমরা তার উপর বিরক্ত হই।কিন্তু তার দুই নাম্বারি পয়সায় কেনা বডি স্প্রের ঘ্রানের প্রশংসা করি।লোকটা দুই নাম্বারি পয়সা কামিয়ে বড়লোক হলে তাকে তোয়াজ করি।

ফুটপাত অবৈধ দখল হওয়ায় আমার হাঁটতে অসুবিধা হলে দখলদারদের গালি দিই কিন্তু সেই আমরাই অন্যের হক নষ্ট করে ঘুষের পয়সা সহাস্য বদনে হাত পেতে নিই।

পুলিশ ঘুষ খায়, পুলিশ খারাপ-খুবই কমোন ডায়লগ অথচ আমি বড় কর্মকর্তা হওয়ায় আমাকে লোকে রাস্তায় দেখলেই চা খাওয়ায়, সিগ্রেট সাধে আর আমিও আমার অধিকার হিসেবে সেটা খাই-এতে কোনোরকম অপরাধবোধ হয়না।

পাবলিক প্লেসে কেউ ধুমপান করলে আমরা জাগ্রত বিবেক নিয়ে তাকে হামলা করি অথচ পাবলিকলী সহকর্মীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থাতেই আমি ঘুষের/কমিশনের দরাদরি করি-লজ্জাবোধ করিনা।

মন্ত্রীরা দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে ডিল করলে তাদের গালি দিই অথচ যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করি তার স্বার্থ, তার হাজার হাজার কর্মীর জীবন জীবিকার কথা না ভেবে নিজের স্বার্থে আসবে-এমন চুক্তি সাইন করি-বিন্দুমাত্র অনুশোচনা হয়না?

নিজের অবুঝ সন্তানদের সততার উপদেশ দিই। আবার উপদেশ দেবার পরেই তার পকেটে যে পকেটমানিটা গুজে দিই তার উৎস বিভিন্ন কাজ/অর্ডারে পাওয়া কমিশন। নাহ, আমার একটুও অসুবিধা হয় না।

বঙ্গদেশে গণতন্ত্র আছে কি নেই-এই নিয়ে প্রচুর হা পিত্যেষ বর্ষণ হতে দেখি প্রতিনিয়ত। আমার জানতে ইচ্ছে করে, নিজ বাড়িতে, পরিবারে, অফিসে, ডিপার্টমেন্টে নিজে যদি গণতন্ত্র চর্চা না করি, তবে রাষ্ট্রে গণতন্ত্র নিয়ে আহাজারি করার মুখ থাকে কিনা?

পরিবারের বা প্রতিষ্ঠানের-যেখানেই আমি কর্তা হই, আমি যদি স্বৈরাচারীর মতো সিদ্ধান্ত নিতে অভ্যস্ত হই। আমার জানতে ইচ্ছে করে, আমি কি রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রীক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকার হারাই না?

কন্ট্রাকটর সাহেব রাস্তা বানানোর সময় আরসিসি ঢালাইতে রডের সাথে ৩০% বাঁশ মিশিয়ে দিলেন।
সেই কনট্রাকটর সাহেব, কাজ শেষে বিল তুলতে গেলে তার কাছে ঘুষ চাইলেন একাউন্টসের বড় বাবু। কন্ট্রাকটর সাহেব, “দেশটার আর কিছু রাখল না দুর্নীতিতে। দেশটারে খাইল দুর্নীতিতে” টাইপের সাধুবাক্য কতটা যুক্তিযুক্ত?

মাস্টারমশাই ক্লাসে সময়মতো আসেন না। আসলেও পড়ান না। পড়ালেও মানসম্পন্ন পড়ান না। টিউশনি আর কোচিংয়ে ব্যস্ত থাকে তার উচাটন মন।

ছাত্র কোনোমতে হেঁচড়ে পেঁচড়ে ডাক্তার হল। মাস্টারসাব তার কাছে বুড়ো বয়সে ডাক্তার দেখাতে গেল। ডাক্তার ভিজিট, টেস্ট, ওষুধ সবমিলিয়ে তার গলাটা সুন্দর করে কেটে রাখল। মাস্টার মশাই হতাশায় মাথা নাড়তে নাড়তে চেম্বার হতে বের হতে হতে বলতে থাকেন, “আইজকাইল ডাক্তাররা সব কসাই, মানুষ না শালারা।” মাস্টারসাবের নিজের সৃষ্টি নিয়ে নিজে অভিযোগ করাটাই কি ঠিক?

মাড়োয়ারি সাহেব চালের বড় উৎপাদক। একারই ৭ টা মিল তার। তার মিলে ইউরিয়া দিয়ে চাল চকচকে করা হয়। মোটা চাল কেটে সরু করে বেশি দামে বেঁচে তার পোয়াবারো।

মাড়োয়ারি সাবের ছোট ছেলে একদিন স্কুলে চটপটি খেয়ে ডিসেন্ট্রি। কলেরা হয়ে মরো মরো। মাড়োয়ারি সাহেব সরকারের খাদ্য দপ্তরের শাপশাপান্ত করেন। “শালারা সব ফাঁকিবাজ। সব ঘুষখোর। কোনো কাজ করে না।” হাসপাতালে ভর্তি করালেন। ডাক্তার সময় দেয় না। আবার “শালারা সব প্রাইভেটে ব্যস্ত। রোগীকে সেবা দেয় না।” হাসপাতালে ওষুধ নেই। গেলেন বাইরে কিনতে। স্যালাইন নিলেন। খেয়ে ছেলে আরো নেতিয়ে গেল। ভেজাল স্যালাইন। মাড়োয়ারি বাবু দেশের তাবৎ ওষুধ নির্মাতাদের গুস্টি উদ্ধারে নামলেন, “এই দেশের কী হবে? সবখানে ভেজাল। খাদ্যে,,,,,,,,,,,,,,,,,,ওষুধে………………””

বাপ বিজনেস করে আলুর। বিশাল ধনী। বড় মেয়েটাকে সবচেয়ে নামকরা স্কুলটাতে ভর্তি করালেন ১০ লাখ টাকা ডোনেশন দিয়ে।

পরের দিন বড় মেয়েকে কলেজে ভর্তি করাতে গেলেন। গিয়ে দেখেন, কনফার্ম করা সীট তারা বেঁচে দিয়েছেন আরেকজন জাহাজ ব্যবসায়ীর মেয়ের জন্য। আলুর কারবারি অগ্নিশর্মা, “এই দেশে সব দুর্নীতিবাজ। শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করল এই ঘুষ।”

ঘুষ ও লুটের টাকায় কেনা বা লোটা জিনিসপত্রে ঘর ভর্তি। নতুন বছরের ক্যালেন্ডার দিতে গেলে সুফি সাহেব আঁতকে ওঠেন, “ভাইজান, প্রাণীর ছবিওয়ালা ক্যালেন্ডার দেবেন না। ঘরে ফেরেশতা আসে না।”

আপিসের মাঝারি কর্তা। তিনি সামনে বসা কাস্টমারকে তাড়া লাগান, “ভাইজান, যা করবেন, তাড়াতাড়ি করেন। আমার জামাত মিস হয়ে যাবে।”

ওদিকে বড় কর্তা আফসোস করেন ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারে। গেল হপ্তায় ঘুষ ও কমিশন বাবদ পাওয়া ১ হাজার টাকার বান্ডেলটায় ভেতরে ১ টা নোট জাল। আজকাল মানুষ সব বেইমান আর অসৎ হয়ে গেছে। এরকম ধোঁকার কাজ কেউ করে? ছি ছি! হারাম খায় এরা?

আর লিখতে ইচ্ছে করে না।

এসব দেখি কানার হাটবাজার। দুর্নীতি করবেনই? বন্ধ করতে পারছেন না? করুন, অসুবিধা নেই। অন্তত দয়া করে দ্বিচারীতা বন্ধ করুন।

#resume #qualification #interview #trainee #doublestandard #ambiguity #hypocrisy #hypocritenation #reference #competence #competencies #smartness #compromise #equivocal #character #behaviour #selfdeceit #ambiguious ##judgementalattitude #CognitiveBias #ConfirmationBias #inferioritycomplex #SuperiorityComplex #SupremacySyndrome #psychology #চোখেধুলোদেয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *