বাংলাদেশের স্বাভাবিক প্রবণতা অনুযায়ী যে কাউকে ও যেকোনো কিছুকে মুহূর্তের মধ্যে মাথায় তুলতেও সময় লাগে না, কাউকে পায়ের তলায় পিষতেও সময় লাগে না। আর তারই পথ ধরে, একদার (কথিত) বাটপার শাহেদ সাহেব করোনার চিকিৎসা দিতে এগিয়ে এসে হয়ে পড়েছিলেন হিরো, আবার সেই হিরো শাহেদ সাহেবই এখন রিজেন্ট কান্ড উদঘাটিত হয়ে পড়ায় জিরো। এই নিয়ে কথা বাড়াবো না। আমি শাহেদ সাহেব বা তার অতীত, ভবিষ্যত জীবন ও সত্য নিয়ে উদগ্রীব নই। কারন, ভালমতো খোঁজ নিলে দেখা যাবে, আমরা সবাইই শাহেদ।
দুর্নীতি, বাটপারি, লুট-এটা এখন আমাদের জাতীয় চরিত্র ও গণঅধিকার। ধরা পরার আগ তক আমরা সবাইই দেবতা। দুর্নীতির একেকটা কান্ড ধরা পরার পরে এই যে গেল গেল গেল, ঢ়ি ঢ়ি ঢ়ি পরে যায়, তার অন্যতম একটি সুক্ষ্ন কারন কি জানেন? সেটা হল, “ইশ, শাহেদ কেন, ওই টাকাগুলো কেন আমি বাগাতে পারলাম না! সেই আফসোস। যাহোক। শাহেদ সাহেবের প্রতিষ্ঠান রিজেন্টের ৫-৭ জন কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। তাদের নামে মামলাও নিশ্চয়ই হবে। এরকম করে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের অপকর্ম ধরা পরার পরেই তার কর্মীদের, বিশেষত উপরের দিককার কর্মকর্তাদের গ্রেফতার ও মামলা দেয়াটাই রীতি। হয়তো সেটাই হওয়ার কথা। প্রতিষ্ঠান অপকর্ম করলে আমিও তো তার ভাগিদার।
কিন্তু দেশটা যেহেতু বাংলাদেশ, তাই আমি বিপরীত দিকটা ভাবছিলাম। তা হল, বাংলাদেশে আসলে কর্মী ও কর্মকর্তারা কি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম, বিধান, ব্যবস্থা, ব্যবস্থাপনা, আদেশ ও নির্দেশের বাইরে গিয়ে চাকরি করার ক্ষমতা রাখেন? প্রতিষ্ঠানের বেআইনি যে কোনো কিছুর প্রতিবাদ করা বা তা আটকে দেবার ক্ষমতা কোন সরকারী বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীর থাকে? বিশেষত বেসরকারী কোনো কর্মচারী কি তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দাড়াতে সক্ষম? বাস্তবতা কী বলে? বিরুদ্ধে দাড়িয়ে সে চাকরী বহাল রাখতে পারবে?
আর যদি বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানে অপকর্ম, বেআইনি কাজ হচ্ছে জেনেও সেখানে প্রতিবাদ/প্রতিরোধ না করতে পারুক, চাকরি ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র জয়েন করতে তো পারত। কিন্তু আপনি কি বলবেন, এই নীতি অনুসরন করতে চাইলে একজন বাংলাদেশী কোনো বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারবে? সবারই তো একই রোগ। ধোয়া তুলসী পাতা প্রতিষ্ঠান কোনটা আছে? আপনি অনেকগুলোর নাম বলবেন হয়তো। ভাইরে, ধরা পরার আগে পর্যন্ত সবাইই দেবতা। ধরা পরলেই পতিতা। সুতরাং, আমার মাথাব্যথাটা হল, প্রতিষ্ঠানের অপকর্ম ও আইনভঙ্গের দায়ে কর্মী বা কর্মচারীকে সাজা দেবার বিষয়টা নিয়ে ভাবা উচিত। আমাদের ঘাড়ের ওপর তো তিনটা কল্লা নাই, যে যেখানে চাকরি করব, সেখানে হারকিউলিসের মতো রুখে দাড়াবো। নিরুপায়দের জন্য আইনে কি কোনো নিদান নাই? বিশেষত সেই রাষ্ট্রে, যেখানে সত্য কথা বললে, ন্যায় কথা বললে কল্লা চলে যাবার প্রভূত সুযোগ আছে?
#liability #crime #guilty #punishment #Corruption #Bribe