Skip to content

ঢাকা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় মাদ্রাসা

  • by

উগান্ডেশের প্রথাগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটিরও আন্তর্জাতিক রেটিং খুব একটা না থাকলেও এখানকার তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিন্তু বিপুল জনপ্রিয়তা, হাই রেটিং ও প্রভাব। সেগুলো হল-
১. বঙ্গীয় ফেসবুক বিশ্ববিদ্যালয়

২. আল হটস্যাপ বার্চিটি

৩. মাদ্রাসাতুল ইন্টারনেটিয়া ওয়াল আলিয়া

এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত জোড়া (কু)খ্যাতি। এই ভূখন্ডে এদের শিক্ষার্থী ও ভক্ত কোটি কোটি।

এই বঙ্গে জ্ঞান, বিজ্ঞান, গবেষনা, উদ্ভাবন, সৃষ্টির সবই এই তিন বিশ্ববিদ্যালয় হতে এখন পরিচালিত হয়।

প্রায় ১৫ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়েছি।

যেদিন মাস্টার্সের শেষ পরীক্ষাটা দিলাম, সেদিনই বইখাতা সব বাঙ্কারে তুলে ফেললাম। মনে মনে বললাম, বইখাতার সাথে আড়ি। যেদিন ছাত্র অসন্তোষে হল বন্ধ ও পরে ছাড়তে হল, সেদিনই বিদায় দিলাম হল জীবনকে।

ভেবেছিলাম, প্রিয় ক্যাম্পাসকে চিরবিদায়ই দিলাম। হল না। ফেসবুকের সুবাদে গন্ডা গন্ডা একই উদ্দেশ্যে বানানো ফেবু গ্রূপে যোগ হবার কারনে ক্যাম্পাসের সাথে একটা আত্মিক যোগ রয়েই গেল। ক্যাম্পাসে আজও যাই। চুপি চুপি। কাউকে জানান না দিয়ে। তার গল্প অন্য কোনোদিন।

আজকের এই ভয়াবহ ঝড়ের মধ্যে গাড়ির সিটে বসে ঝড় দেখছিলাম। সাথে সাথে ফেসবুক ঝড়ও। হঠাৎ এই পেজে এলাম। নজরে যতটা পড়ল, পুরোটা না হলেও প্রায় ৯০ শতাংশ পোস্ট ছিল……………………………………………… কী নিয়ে ছিল, সেটা বললাম না। বাকিটা পড়লে বুঝবেন।

অন্তত তিনটা পোস্ট দেখলাম যার বক্তব্য হল, টিএসসিতে জুটিদের প্রেম করার নিন্দায়, ক্যাম্পাসে বহিরাগত নিয়ে, ক্যাম্পাসের বেশরিয়তি ও অনৈতিক কাজকারবার নিয়ে।

এক ভদ্রলোক লিখেছেন, টিএসসিতে কীসব নোংরামি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ কী করছে? আমি সাধারনত ধর্মের ষাড়ের মতো যেখানে সেখানে গুতোতে যাই না। আজকে ঝড়বৃষ্টিতে মাথাটা কিছুটা আউলা থাকায় বোধহয়। ঢুকে পড়লাম একটা মন্তব্য দিয়ে,

“ভাই, টিএসসিতে কী কী নোংরামি হয়?”

তিনি উত্তর দিলেন, যেখানে সেখানে জুটিরা জড়াজড়ি করে বসে থাকে। আরেকজন বলে বসলেন,

“ভাই, আপনি কি ফার্স্ট ইয়ারে?”

আমি উত্তর দিলাম, ”জ্বি, মানে ভাইয়া, আমি ২০০৪ সালে পাশ দিয়েছি।”

কথা কমাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, স্ট্যানফোর্ড, ক্যালিফোর্নিয়া, এমআইটির স্ট্যান্ডার্ড ও রেটিং এর সমকক্ষ হতে পারে না, তা নিয়ে প্রায়ই আমি অসংখ্য পোস্ট ও আহাজারি দেখতে পাই। আমার উপরের পোস্ট ও নিচের পোস্টদাতাদের কাছে জানতে ইচ্ছে করে, “অক্সফোর্ডের মতো রেটিং চান, তাহলে অক্সফোর্ডের সংস্কৃতিও তো মানতে হবে, তাই না? কলাটা খাবেন, ছোকলাটা ছুঁবেনও না, তা কী করে হবে?

টিএসসি, মলচত্বর, দোয়েল চত্বর এলাকার অনৈতিক প্রেম নিয়ে যত যত পোস্ট আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক গ্রূপগুলোতে দেখি, তার সিকিভাগ পোস্টও বিভিন্ন কোর্স কারিকুল্যাম, গবেষনা, জ্ঞান, বিজ্ঞান, জানা, জানানো, তথ্য নিয়ে দেখি না। ছাত্রছাত্রীরা কি আজকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাহলে সমাজ উদ্ধার করার জন্যই আসেন? জ্ঞান অর্জনে না?

আমি জানি, বেশিরভাগই তা নন। তারা পড়তেই আসেন। কিছু কিছু মানুষ এখানে এসে পড়েন, যারা চান, শিক্ষায় ও রেটিঙে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে অক্সফোর্ডের মতো, ধর্মীয় রীতি মেনে চলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে ঢাকা আলীয়ার মতো, খরচের দিক দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে বঙ্গবাজারের মতো, খাবারের মান আবার হবে ম্যাকডোনাল্ডের মতো, সাবসিডি দিয়ে ডিগ্রী দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হতে হবে পেট্রোলিয়াম সেক্টরের মতো, আবার টাকা বরাদ্দ করতে হলে বাবার ট্যাক্সের পরিমাণও বাড়ানো চলবে না, সেটা আবার হতে হবে ভেনেজুয়েলার মতো।

আমার একটা প্রশ্ন করতে খুব ইচ্ছে করে। এটিতো একটি বিশ্ববিদ্যালয়। মাদ্রাসা না। পাঠশালাও না। টোলও না। দুনিয়াতে বিশ্ববিদ্যালয় নামক কনসেপ্ট কেন এসেছে? সারা দুনিয়ার যাবতীয় বিষয় নিয়ে জ্ঞানচর্চচার জন্য। তো সেইরকম একটা স্থানে এসে কি আপনি আশা করতে পারবেন, মিশরের আল আজহারের মতো সব পরম শরিয়তি পথে এগোবে? সেক্যুলার পড়াশোনা করাটাই তো ধর্মে নিষেধ।

তো সেই সেক্যুলার সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, আইন, অশ্লীল বাংলা সহিত্যও পড়বেন, কারন চাকরী চাই। সেক্যূলার পড়াশোনার ডিগ্রী ছাড়া চাকরী নেই। আবার সেই পড়াশোনাই করব পরম ধর্মীয় রীতি ও পরিবেশে-কত বিপরীতধর্মী আকাঙ্খা আমাদের। আমি জানি, এই লেখাটা যতজন পড়বেন, প্রত্যেকে আমাকে গালি দেবেন। জুনিয়ররা সিনিয়র, অগ্রজ, এসব ভুলে গিয়ে গাল পাড়তে নেমে পড়বেন। আমার ধর্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন হবে। আমি কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, নাকি ছদ্মবেশী-তা নিয়ে প্রশ্ন হবে। কেউ কেউ আরো এক ডিগ্রী এগিয়ে হয়তো………………..থামুন, থামুন।

গড়পড়তা অনেকের চেয়েই ধর্মজ্ঞানটাও আমার একটু বেশি। শুধু পার্থক্যটা হল, ওটার সাথে আমি খুব শক্ত র‌্যাশনাল ও এনালিটিক্যাল চিন্তাশক্তির ক্ষমতা রাখি। যেটা অনেকের মস্তিষ্কে থাকে, কিন্তু মগজে থাকে না। কিন্তু তাই বলে আমি ম্যাকডোনাল্ডে গিয়ে হ্যামবার্গার পরিবেশনের প্রতিবাদে অনশন করি না।

টিএসসিতে জুটিদের ঢলাঢলি, গলাগলি কি তাহলে আমি সমর্থন করি? না। টিএসসি প্রেম ও রোমান্স বিনিময়ের স্থান নয়। আবার টিএসসি শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মীদের জ্ঞানচর্চা, বিনোদন চর্চা, সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা বাদে অন্য কোনোকিছু চর্চারও স্থান নয়।

ঝোপে ঝাড়ে জুটিরা ”চাককুম চুককুম” (দুঃখিত, এটা আমার কথা নয়, ওই পোস্টের ভাষ্য অনুযায়ী বললাম।) করলে আপনার নজর সেদিকে কেন যাবে? করিডোরের চিপায় নর ও নারী জড়াজড়ি করলে আপনার আমার যখন খুব গায়ে লাগে, তার সবটা কিন্তু ধর্মভয় না, কতকটা “নিজের নাই” সেই ক্ষোভ ও জেলাসী, অনেকটা বাবা-মা, চাচা-চাচীদের কাছ থেকে ধার করা ট্যাবু আর খুব সামান্য একটু ধর্ম ও সামাজিক নৈতিকতার বিনষ্টের ভয়।

আপনি আমি যদি পিওরলি ধর্মপ্রাণ, ধর্মঅন্তপ্রাণ ও খোদাভীতি তথা তাকওয়াবান হতাম, এইসব নোংরামি নিয়ে ততোধিক নোংরা ভাষায় টেক্সট লিখতাম না। সাহস করে তাদের গিয়ে তাকওয়ার কথা বোঝাতাম আর সাহস না করলে মসজিদে জায়নামাজে বসে খোদার দরবাারে চোখের পানি ফেলে দোয়া করতাম উম্মার হেদায়েতের জন্য।

বুঝতে পারলে তো ভাল। ভুল বুঝলে তাও ভাল। তাও বলি, ঝোপে ঝাড়ে প্রেম করার, ছ্যাবলামো ও আবলামো করারও আমি পক্ষপাতি না।

আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিজাতীয় শিক্ষার শিক্ষালয়ে জেনেবুঝে পড়তে এসে ক্যাম্পাসের ভিতরে এত এত মূর্তী কেন, জবাব চাই, নিপাত চাই-এই ভাড়ামো ও আত্মপ্রবঞ্চনারও সমর্থক নই।

#UniversityofDhaka #UniversityRating #extremism #fanatism

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *