’CV’-এই নামটি আমরা গণহারে ও সার্বজনীনভাবে ব্যবহার করলেও, আসলে এই গোত্রে চারটি জিনিস আছে-CV-Resume-Biodata-Portfolio।
এর সাথে আমি আরেকটি যোগ করব-প্রোফাইল।
পার্থক্যটা বিস্তারিত আজ আর বলব না। আপনি একটু খোঁজ খবর করলেই অনলাইনে চারটির ভেদ নিয়ে প্রচুর লেখা পাবেন। শুধু জানুন, গড়পড়তা, চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য আমরা Resume এর কথাই বলে থাকি। CV হল একাডেমিশিয়ান, রিসার্চার বা পাবলিক ক্যরেকটারের জন্য। বায়োডাটা ব্যবসায়িক কাজ কিংবা বিয়ের কাজে লাগে বেশি। পোর্টফলিও সিরিয়াস ধরনের প্রফেশনাল প্রমোশনে, একটু সিনিয়রদের বেশি লাগে।
এই লেখায় মূলত আমরা resume (রিজিউউউম) নিয়েই কথা বলব।
মাঝে মাঝেই দুয়েকজন পেশাজীবি তাদের জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে মতামত জানতে চান, তার জীবনবৃত্তান্তটি কতটা মানসম্পন্ন আর কী কী পরিমার্জন দরকার-তা জানাতে। বাংলাদেশের জলে স্থলে অন্তঃরীক্ষে ভেসে বেড়ানো নানা রকমের Hoax এর অন্যতম হল,
’বিশ্বমানের জীবনবৃত্তান্ত’।
‘CV making consultant’রা বিষয়টি নিয়ে অনেক কথাই বলেন। বিপরীতে পেশাজীবিদের একটি বড় অংশই তাদেরকে নির্বিচারে ধুয়ে দিয়ে থাকেন।
রীতিমতো একটি ধুন্দুমার চলছে এখানে। ব্যক্তিগতভাবে আমি জীবন বৃত্তান্ত নয়, একটি কার্যকর ’কর্মজীবন বৃত্তান্ত’কে অগ্রাধিকার দিই।
আমি ও আমার Team যখন কাউকে নিয়োগ দেবার প্রক্রিয়া শুরু করি, তখন জীবনবৃত্তান্তগুলোর তথ্য, মেকিং এর ওপর খুব বেশি ভরসা না করে,
প্রত্যেক shortlisted প্রার্থীকে আমরা নিজস্ব পদ্ধতিতে পূঙ্খানুপূঙ্খভাবে যাঁচাই করে নেবার চেষ্টা করি, সে তার জীবনবৃত্তান্তে যত ভাল আর মন্দই থাকুক না কেন। কিছু ক্ষেত্রে আমরা গুগল ফর্ম দিয়ে তাদের সবথেকে সংশ্লিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ এমপ্লয়েবিলিটি কনসিডারেবলসগুলো জেনে নেবার চেষ্টা করি।
হ্যা, এটা সত্যি, যে, আমাদের হাতে আসা আবেদনগুলোর ৯০% ই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির সাথে সার্বিকভাবে বেমানান।
তারও পরে যে ক’টা রয়ে যায়, তাদের আবার বৃত্তান্ত হিসেবে গুনমান অত্যন্ত নিম্নমানসম্পন্ন। তারপরও আমরা মোটামুটি চলনসই কর্মজীবনবৃত্তান্তগুলো নিই, প্রাথমিক তালিকায়। বৃত্তান্তগুলোতে বাধ্য হয়েই বেশি জোর দিই না। বরং,
সেগুলোকে স্রেফ কিছু মৌলিক তথ্য জেনে সশরীরে সাক্ষাতকারের জন্য বাঁছাই করি।
কী করি বলুন, আমাদেরই ঠেকা-জনবল লাগবে যে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে আমরা কখনোই চাকরি প্রত্যাশীদের ‘চাকরি প্রার্থী’ মনে করি না। আমরা এখন আর ’চাকরির আবেদন’ বলি না। আমরা বলি ‘চাকরির জন্য এপ্রোচ’। চাকরি কোনো প্রার্থনার বস্তু না। চাকরি দেয়া দান বা বদান্যতা না। চাকরি দেয়া ও নেয়া, চাকরি দাতা ও গ্রহিতার সম্পর্ক স্রেফ লেনদেনের, এমপ্লয়্যাবিলিটি সেল ও এমপ্লয়মেন্ট সেলের।
তবে, আমার একটি বিষয় খুব জানতে ইচ্ছে করে। আপনাদের করে কিনা জানি না।
প্রশ্নটি করছি। দেখুনতো উত্তর জানেন কিনা।
প্রশ্নটি হল-”সার্বিকভাবে যেই বিশ্বমানের ও সুউচ্চ প্রকৃতির জীবনবৃত্তান্তের কথা আমরা শুনে বা বলে থাকি, সেরকম একটি জীবনবৃত্তান্ত যদি আমার থাকেও, আপনার কি মনে হয়, সেরকম একটি resumeর সত্যিকারের মূল্যায়ন করার মতো উপযুক্ত HR/নিয়োগকর্তা সত্যি সত্যি বাংলাদেশে আছে?”
আমি বেশ কয়েকবার আমার মোটামুটি মানসম্পন্ন জীবনবৃত্তান্তটি নিয়ে সাক্ষাতকার পর্বে শুনেছি,
“আপনার CVতে তো কিছুই নেই”।
আবার যখন আমার জীবনবৃত্তান্তে “অনেক কিছুই” যোগ করে বড় করে উপস্থাপন করেছি, তখন শুনেছি,
“এত বড় রচনা ল্যাকছেন ক্যান?” ।
প্রশ্নটি আবারও বলছি-সত্যিকারের মানসম্পন্ন জীবনবৃত্তান্ত, যেটি অনেকের কাছেই আরাধ্য (যেটি সংক্ষিপ্ত, সুস্পষ্ট, তথ্যবহুল, আকর্ষক ও অন্যান্য কাঙ্খীত বৈশিষ্ট সম্পন্ন), সেটির যথোপযুক্ত মূল্যায়ন করার মতো ‘interviewer’ কি ‘interview board’ এ পাওয়া যায় এদেশে?
নিয়োগকারী ও নিয়োগপ্রার্থী-উভয়কেই Resume সম্পর্কে আধুনিক ও বাস্তববোধসম্পন্ন হতে হবে। সমস্ত দায় ও দায়ীত্ব কিন্তু শুধু নিয়োগপ্রার্থীদের ওপর চাপিয়ে দিলে হবে না।
যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী পাওয়া কিন্তু আপনারও ঠ্যাকা। আপনি একজন এমপ্লয়মেন্ট সেলার। আপনার পণ্য সেল না হলে আপনারও লস।
আজগুবি ধরনের চাহিদা নিয়ে লোক খুঁজতে বসলে শেষতক প্রতিষ্ঠান চালাতে হবে এলিয়েন নিয়ে, মানুষ দিয়ে নয়। নিয়োগকারী ও তাদের HR কর্মীদেরও আধুনিক HRM ও competency নিয়ে যথেষ্ট Orientation দরকার আছে।
আমি রিজুমী নিয়ে আলাদা করে লেখার দরকার কখনো অনুভব করিনি। আমার Network এ থাকা কয়েকজন বিজ্ঞ পেশাজীবির ওই বিষয়ে খুব সমৃদ্ধ কিছু পরামর্শসূচক লেখা রয়েছে। যখনি কেউ Resume নিয়ে পরামর্শ চান, আমি ওনাদের লেখা পড়বার জন্য সূত্র দিয়ে দিই।
তবুও একদিন মনে হল, এই বিষয়ে সবার মতামতকে সংগঠিত করে কিছু লিখি, মূলত, আমাদের কিছু সাধারন ভুল এবং ’নজর দিতে হবে’-এমন কিছু সূক্ষ্ণ দিক নিয়ে।
শুরুতেই বলে রাখছি, লেখার শেষে আমি কয়েকটি সমৃদ্ধ লেখার সূত্র দিচ্ছি। আপনারা Resume নিয়ে যদি সত্যিই আন্তরিকভাবে জানতে চান, তাহলে ওই লেখাগুলো অবশ্যই পড়বেন।
এক: Resume কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
খুবই, যদি না, আপনি একজন স্টিভ জবস, মার্ক জাকারবার্গ বা রবীন্দ্রনাথের মতো জিনিয়াস না হন। আর যদি আপনাকে হাতে ধরে সিংহাসনে বসিয়ে দেবার মতো কোনো সম্রাট আকবর না থাকেন-তাহলে।
Career বা কর্মজীবনের সবরকম প্রস্তুতি ও কর্মকান্ড যদি ১০০ হয়, তবে আমি বলব, Resume তার ২০%। আমার দৃষ্টিতে Resume হল আপনার একটি ব্যক্তিগত শো-কেজ বা আপনার বিজ্ঞাপন, যেটির মধ্য দিয়ে কোনো নিয়োগকারী আপনাকে চোখের দেখাটা দেখার আগেই,
আপনার আদ্যোপান্ত, আপনার যোগ্যতা, দক্ষতা, মূল্য সম্পর্কে একটি মোটামুটি ধারনাচিত্র পেয়ে যান, এবং আপনাকে না দেখেও আপনি তার প্রতিষ্ঠানে কী কী Value addition করতে পারবেন-তার একটি হিসেবে নিকেষ করে ফেলেন।
সুতরাং, ওই Resume টিকে এমনভাবে বানাতে হবে, যেন সেটি আপনার সবদিক হতে পরিপূর্ণ একটি বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রতিভাত হতে পারে।
আপনার সবথেকে মূল্যবান saleable item বা যোগ্যতার দিকগুলো যেন ওতে সবার আগে ও সবথেকে আকর্ষকভাবে উপস্থাপিত হয়। আমি এমপ্লয়্যাবিলিটি ফিচারগুলোকে, চাকরিপ্রত্যাশীদের যোগ্যতাগুলোকে পণ্যই বলি।
হ্যা, আকর্ষক মানে কিন্তু রংচঙে নয়।
যারা বলে, “সিবি দিয়া কি অইব, যগ্যতাই সব”-তাদের থেকে দূরে থাকুন।
জগতের সবথেকে সেরা মানুষ, বস্তু, পণ্য-সবাই নিজের বিজ্ঞাপন দেয়। দেশেরও বিজ্ঞাপন হয়। ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশের কথা শুনেছেন তো?
ব্র্যান্ডিং আর বিজ্ঞাপন না থাকলে, আপনি যে এক সুপারম্যান, অমূক ছাঁইয়ের গাঁদায় পড়ে আছেন-সেটা সম্ভাব্য এমপ্লয়ার কীভাবে জানবেন? তিনি তো আর যাদুকর না।
দুই: Resume আসলে কাদের জন্য বানাবেন?
প্রথমত নিজের জন্য। আপনি কে, আপনি কী-সেটা আগে নিজেকে জানাতে হবে। পরিষ্কার ও কনফিডেন্ট থাকতে হবে।
আপনি নিজেকে কোন চোখে দেখেন, নিজেকে কতটা যোগ্য ও উপযুক্ত মনে করেন-সেটি নিজেই নিজের Resumeতে প্রতিফলন রাখুন। আপনি যা, আপনার রিজিউম হবে তার আয়না। আবার, আপনার রিজিউমে যা আছে, তার সব যেন আপনার ভেতরে থাকে। আর দুয়ে মিলে, জব মার্কেটে বা এমপ্লয়ারদের যা দরকার, তা যেন ওই দুটোর মধ্যেই থাকে।
দ্বিতীয়ত, নিয়োগকারীর জন্য। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আপনার Resumeতে কী দেখতে চান, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের চোখ দিয়ে দেখুন। এখন নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের MD তো সবার আগে আপনার Resume দেখবেন না।
দেখবেন তাদের HR বিভাগের কর্মীরা। সুতরাং, Resume‘র গুনমান ও সেটি বানানোর বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানার চেষ্টা করুন,
তাদের দিকনির্দেশনা অনুসরন করতে চেষ্টা করুন। যুক্তিটি খুব সহজ।
কোন Brand এর মরিচের গুড়া ভাল হবে, সেটি তো রাধুনীই সবচেয়ে ভাল বলতে পারবেন, তাই না?
তিন: Resume কি নিজে বানাবেন? নাকি অন্য কাউকে দিয়ে বানিয়ে নেবেন?
এই বিষয়ে লেখা শেষে একটি বিস্তারিত লেখার সূত্র দিয়েছি। পড়ে দেখবেন।
সংক্ষেপে বললে, নিজে বানাবেন। সেটাই কাম্য।
যদি মনে করেন, নিজে সবরকম উপযোগী করে বানানোটা জানেন না, তাহলে এই বিষয়ে পড়াশোনা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করুন।
তারপরে নিজে বানান। কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে যাঁচাই ও সংশোধন করে নিন।
তারপরও যদি মনে করেন, পারবেন না, তখন একজন যোগ্যতাসম্পন্ন Resume মেকারকে দিয়ে Resume বানিয়ে নিন।
এই বিষয়ে অতি বিপ্লবী ও সমাজতন্ত্রীদের বাধা শুনবেন না। অন্যকে দিয়ে যদি নিজের যাবতীয় ব্যক্তিগত কাজই করাতে পারেন, তাহলে দরকার মতো একজন পেশাদার ও বিশেষজ্ঞকে দিয়ে নিজের Resume বা বিজ্ঞাপন বানিয়ে নেয়া অবশ্যই পাপ নয়। হ্যা, যে Resumeটি তিনি বানিয়ে দেবেন, সেটি যেন সত্য কথার সমাহার হয়-মিথ্যা যোগ্যতায় যেন ঠাসা না হয়। আর কী বিজ্ঞাপন দিলেন, সেটি যেন আপনার কন্ঠস্থ ও মগজস্থ থাকে। আপনি যা, আপনার রিজিউম হবে তার আয়না। আবার, আপনার রিজিউমে যা আছে, তার সব যেন আপনার ভেতরে থাকে। আর দুয়ে মিলে, জব মার্কেটে বা এমপ্লয়ারদের যা দরকার, তা যেন ওই দুটোর মধ্যেই থাকে।
মনে রাখবেন, Resume আপনাকে চাকরি দেবে না, এটি আপনার Interview তে ডাক পাবার চাবিমাত্র।
চাকরি দেবে যোগ্যতা। আর বানিয়ে নেবার পরে, নিজের Resume অন্তত ১০ বার নিজে পড়বেন।
তার কোথায়, কী, কেন, কীভাবে বলা হয়েছে, তা যেন আপনার চোখের সামনে থাকে আর আপনি যেন প্রতিটার ব্যাখ্যা দিতে পারেন।
চার: Resume কোন ফরম্যাটে হলে সবাই পছন্দ করবে?
Resume’র কোনো সর্বজনগ্রাহ্য ও বিশ্বব্যাপী আদৃত Format ও Design নেই।
যেমন নেই, Resume‘র সার্বজনীন পছন্দ। হ্যা, কিছু Common বিষয় আছে।
সেটি আপনি সূত্রে দেয়া লেখায় পাবেন। মনে রাখবেন, ফরম্যাট খুঁজবেন না।
শুধুমাত্র ধারনা নেবার জন্য ভাল কিছু Resume মনোযোগ দিয়ে পড়বেন, এটা বোঝার জন্য, যে, Resume আসলে কেমন হওয়া উচিত।
অন্যের কঙ্কালে নিজের মাংস-মানে অন্যের Format এ নিজের তথ্য বসিয়ে খিচুড়ি পাকাবেন না।
আপনি যদি এতটুকুও না পারেন, তাহলে আপনার বিপদ আসন্ন।
আপনাকে আরও মনে রাখতে হবে, Resume চাকরির ধরন অনুযায়ী বারবার পরিমার্জন হবে। না, আবার এটা ভাববেন না, আপনি বিক্রয় পেশায় দক্ষ। আবেদন করবেন ডাক্তার পদে। সেজন্য Resumeতে নিজেকে ডাক্তার হিসেবে উপস্থাপন করবেন না।
আগেই জেনে নিন, কোনো একটি চাকরির বিজ্ঞাপনের বিপরীতে Approach করবার নিয়মটা কী। আপনি যে Formatএই Resumeটি বানান না কেন, আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে,
আপনার সবচেয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক বিষয় ও তথ্যগুলো যেন অত্যন্ত সুচারুভাবে, আকর্ষকভাবে, খুবই সহজভাবে এবং
সহজে বেঁছে/যাঁচাই করা যায়-এভাবে উপস্থাপন ও সাজাতে হবে। আপনি কে ও কী-সেটা জানতে/বুঝতে যেন নিয়োগকারীর অনেক Effort না দিতে হয়। এবং,
মনে রাখবেন, আপনার Resumeটি যার হাতে পড়বে, তারা সবাই কিন্তু আপনার পেশা ও স্তরে সমান নন। তাই, তারা আপনার সম্পর্কে ধারনা পেতে চাইলে সেটা কিন্তু আপনার নিজেকে নিয়ে নিজের ভাবনার মতো সহজ কাজ না।
ইনফোগ্রাফিক, কালারফুল, লং, শর্ট, কনটিনেন্টাল, ট্র্যডিশনাল-কোন ফরম্যাট ঠিক-এই প্রশ্নই অবান্তর। সবই ঠিক, সবই বেঠিক-পারসপেকটিভ ভেদে।
পাঁচ: Resume কত পৃষ্ঠা হবে?
এটা বুঝতে হলে ওই যে, বলেছিলাম, CV-Resume-Biodata তিনটির পার্থক্য ও স্বরুপ বুঝে আসুন। সাধারন বুদ্ধি হল, ১০ পাতা Resume আদৌ কেউ পড়বে কিনা। আর ১ পাতায় নিজেকে সত্যিই এমনভাবে উপস্থাপন সম্ভব কিনা, যেটা একজন নিয়োগকারীকে প্রার্থীকে না দেখেই তার যোগ্যতা ও Value addition সম্পর্কে ধারনা তৈরী করতে দেবে?
এবার যা বোঝার, তা বুঝে নিন।
Resume প্রতিটি কাগজের এপাশ-ওপাশ করে মুদ্রন করবেন। কাগজ অপচয় কাম্য নয়। নিয়োগকারী ও নিয়োগপ্রার্থী-সবারই যথাসম্ভব Digital Resume নিয়ে কাজ করতে পারা উচিত।
কথায় কথায় মুদ্রন কোনো আধুনিক মানুষের কাজ নয়। চারপাশ হতে ১ ইঞ্চি করে Margin দেয়া জরুরী নয়।
তবে Common sense বলে, নিয়োগকারী তো তাদের পাওয়া Resumeগুলো Punch করবেন। সেটা করলে যেন কোনো অংশ কেটে না যায়।
আবার Margin দেবার ঠেলায় কাগজ অপচয় না হয়। পৃষ্ঠা নম্বর দেবেন [Page 1 of 4] এইভাবে। প্রতিটি পৃষ্ঠায় একটি ‘Header’ রাখুন, যেটুকুতে আপনার নাম, এক লাইনের Portfolio ও অন্যান্য অতি জরুরী Contact থাকতে পারে।
ছয়: অপ্রয়োজনীয়/অবাস্তব অথচ খামখেয়ালী।
Resume তে স্থায়ী ঠিকানা, জেন্ডার, উচ্চতা, ধর্ম, বাবা-মায়ের নাম, SSC/HSC স্তরের একদম স্কুলের নাম, প্রশিক্ষণসমূহের প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, Job description, সেবাগ্রাহক/Brand customer এর লোগো, Soft copyতে সাক্ষর-এসব দিয়ে কী হবে?
আমি তো মনে করি, Resume তে এসব থাকার দরকার নেই। গতানুগতিকতা থেকে বের হতে হবে। যদিও এর অনেক কিছুই আমাদের এখানকার প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালী ও কুপমন্ডূকতার কারনে রাখতে হয়। এটা ঠিক, যতই সিনিয়র হবেন, ততই আপনার রিজিউম হতে অদরকারী, কম দরকারী তথ্য বাদ দিতে থাকতে হবে। জুনিয়র বা ফ্রেশার অবস্থায় অনেক তথ্য রেখে দিতে হবে। যেমন, ১০ বছর চাকরি হলে রেফারেল বাদ দিন, ৫ বছর হলে স্থায়ী ঠিকানার বদলে শুধু হোমটাউন দিন। ফ্রেশার বা বিগিনারদের রিজিউমে মেজর কোর্সের নামগুলো থাকা উচিত বলে মনে করি, তিনি একদম সহজ ভাষায় কী কী পারেন (জুতো সেলাই, জুডো, কামান দাগা, ছবি আঁকা হতে গ্রাফিকস, রান্না, স্পোর্টস, ডিজিটাল মার্কেটিং, SEO, Freelancing, মাছ কোটা যা কিছু পারেন) তা থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। আবার বিগিনার মা মিড লেভেল তক রিজিউমে আপনার সংক্ষিপ্ত JD থাকাটা ভাল। কিন্তু, সিনিয়র বা টপার হয়ে গেলে JD সরিয়ে সেখানে আপনার KRA ও Achievement metrics প্রতিস্থাপন করা উচিত।
একবার আমার একজন প্রবাসী পেশাগত সুহৃদ এমনকি Resume তে প্রার্থীর ছবি থাকার বাধ্যবাধকতার যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। বাংলাদেশের নানা বাস্তবতার কারনেই আমরা বেশকিছু অবাস্তব ও বেদরকারী কাজ করতে বাধ্য হই। যেটা আমি লেখার শুরুতে খানিকটা বলেছিলাম।
সাত: Resume কীভাবে কাউকে দেবেন?
PDF এ দেয়াটাই সবথেকে সমিচীন। এখানে একটি সূক্ষ্ণ সমস্যার কথা বলি। মনে করুন, বিকেল ৬ টার সময়ে একজন Mentor/Job linker আপনাকে ফোন করে আপনার একটি Resume তাকে দিতে বললেন। আপনি তো পড়লেন বিপদে।
আপনার Resume তো রয়েছে ল্যাপটপে। বাসায় অথবা কর্মস্থলে। কালকের আগে বা রাতে বাসায় না গিয়ে তো দিতে পারবেন না। আবার, তিনি হয়তো এখুনি কোথাও পাঠাবেন।
আমি অনেকবারই এমন অবস্থায় মানুষের Resume অন্য কাউকে দিতে বাধ্য হয়েছি, যখন, Resume ঠিক ১০ মিনিটের ভিতর দিতে হবে।
Resumeর PDF file টি যেই Folder এ যেই Device এই রেখে থাকুন, সেই Folderটি Google Drive এ Synchronized করে রাখুন। যাতে করে, যখনি কেউ কারো Resume চাইবেন, সেটা Mobile/Laptop/PC যেটাই হাতের কাছে আছে, সেখান হতে ততক্ষনাৎ দিয়ে দেয়া যায়।
হ্যা, শুধুমাত্র Messenger এ এই বিদ্যা খাটে না। Messenger এ mobile হতে PDF বা MS Word পাঠানো যায় না। শুধু JPG attach করা যায়। তবুও যদি কেউ Messenger এই চায় (আমি যেমন চাই),
তখন কী করবেন?
উপায় আছে। আপনার একজন কাছের মানুষকে Laptop হতে PDF বা MS Word Resume টি মাঝে মধ্যেই আপডেট করে পাঠিয়ে রাখবেন।
পরে সেটা যখন যেমন দরকার, Laptop/Mobile যেকোনোটা হতেই শুধু Forward করুন।
ব্যাস।
আমি কাউকে Resume দিতে বললে Messenger এ ই দিতে বলি। সেটা নানা কারনে সুবিধাজনক। সবচেয়ে বেশি সুবিধা Mobile এ থাকাকালীন খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে।
যখন কেউ শুধু Message Box এ Resumeটাই চাইবেন, তখন তাকে কেবল সেটা দিন।
কিন্তু, সাধারনভাবে, কাউকে Resume দিতে হলে বা কোথাও আবেদন করতে হলে, অথবা কেউ যদি বলেন, আমাকে আপনার Resumeটা একটু mail করুন তো, তখন বলুক বা না বলুক, Cover mail ও Resume দুটোই দেবেন।
Mail এ Application করা বা Resume পাঠানোর সময়ে আমি আলাদা করে Attachmentএ Cover letter দেয়ার চেয়ে Cover mail দেয়াটাই পছন্দ করি। তবু, যদি সুস্পষ্টভাবে নিয়োগকারী বলে দেয়, তাহলেই Cover letter দিন। কভার লেটার আলাদা করে দিলেও Cover mailটি লিখুন।
আমার কাছে পছন্দের Subject line হল An approach for the position of Executive_HR@X Ltd এই Template ।
আপনার Resume Fileটির নাম দেবেন এভাবে-Zaman বা Zaman’s resume_Executive_HR_RMG/FMCG_3 years এই Template এ।
আট: মুদ্রিত resume? নাকি Soft file?
গড়পড়তা অভিজ্ঞতা বলে, মুদ্রিত resume যেটি আমরা আগের দিনে ছোট একটা খামে ভরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের Resume বাক্সে বা অভ্যর্থনা ডেস্কে দিয়ে আসতাম,
আজকাল ওই মুদ্রিত ও খামে ভরা Application সাধারনত নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের HR বিভাগ না খুলেই ফেলে দেন।
(কেন দেন বা সবাই দেন কিনা-সেটা নিয়ে বিতর্ক অন্যসময় করব।)
হ্যা, যদি বিজ্ঞপ্তিতে সেভাবে বলে দেয়া থাকে, তবে করতে পারেন। আবেদন করার কিছু মৌলিক নীতি আমি সূত্রে দেয়া লেখায় বলেছি। যার ভিতরে Fraudulence সম্পর্কেও বলেছি। পড়ে নেবেন।
আরেকটি বিষয় মনে রাখবেন, চাকরি বা Interview-এই দুই কাজে যেখানেই যাবেন, যার কাছেই যাবেন, Interview দেবার প্রস্তুতি এবং সাথে করে মুদ্রিত resume নিয়ে যাবেন, তবে সেটি একটি A-4 খামে।
প্রথম/বা প্রাথমিক Interview তে নিয়োগকারী ও নিয়োগপ্রার্থী-উভয়েরই Resume ব্যতিত আর কোনো কিছু সঙ্গে নিয়ে যাবার অহেতুক বাধ্যবাধকতা ও বাস্তবতা নিয়ে ভাববার সময় হয়েছে।
যদি সেটি চুড়ান্ত Interview হয়, তাহলে দরকারী অন্যান্য কাগজপত্র বহন করা উচিত।
নয়: resume নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি নয়।
নিয়োগকারী ও নিয়োগপ্রার্থী-উভয়কেই মনে রাখতে হবে, resume একজন প্রার্থীর স্রেফ বিজ্ঞাপন ও Show-case মাত্র।
resume’র উপর ভর করেই কারো নিয়োগের বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।
নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রার্থীর আসল যোগ্যতা, দক্ষতা, মূল্য সংযোজনের সম্ভাবনা, কাম্য সুযোগ সুবিধা ও প্রতিষ্ঠানের চাহিদা-এসবের ওপর বিবেচনা করে।
ফাটাফাটি resume হলেই চাকরি ঠেকায় কে, আমাদের এখান হতে resume বানালে চাকরির নিয়োগপত্র হাতের মুঠোয়-
এগুলো স্রেফ বিজ্ঞাপন এবং আমি ওই বিজ্ঞাপনকে ন্যায্য মনে করি।
আপনাকেই বুঝতে হবে, ওগুলো বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপন থাকবে বিজ্ঞাপনের যায়গায়।
আপনি ওই বিজ্ঞাপন ও তার আরও গভীরতা যাঁচাই করে resume বানিয়ে নিলে নিন। তবে সেটা যে চাকরির স্বর্ণমন্দীরের চাবি নয়-সেটি আমি বললাম।
আপনি মনে রাখবেন, আজকাল প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে হাজার হাজার আবেদন জমা পরে।
ব্যস্ত কর্তৃপক্ষ’র হাতে কতটা সময় আছে আপনার resumeটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়বার? চাইলেও তারা সেটি পারবেন না।
তাই আপনাকেই এমন কিছু করতে হবে, যাতে সেটি নিয়োগকারীর নজরে আসে আর সেটা যেন তাকে impress/convince করতে পারে।
আর নিয়োগকারীকেও মনে রাখতে হবে, resume দেখে ভোলা চলবে না। ওটি যেমনই হোক, কাউকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাঁচাই না করে চাকরি দেবেন না।
দশ: resume তে মিথ্যা তথ্য নয়।
চাকরির বিজ্ঞাপন, প্রতিষ্ঠানের ধরন ও চাকরির ধরন অনুযায়ী আমরা পেশাদাররা আপনাদের চাকরির সার্বিক Approach কে সমন্বয় করতে বলি। resumeকে পরিমার্জন ও At per করতে বলি।
তার মানে এই নয়, আপনি যা নন, সেভাবে নিজেকে উপস্থাপন করুন। ধরুন, আপনার অভিজ্ঞতা মোট ৩ বছর।
বিজ্ঞাপনে চেয়েছে ৫ বছর। বাদবাকি সবকিছুতে মিল আছে,
এই ২ বছরের জন্য আপনি নাগাল পাচ্ছেন না। মনে করলেন, আরেহ, আমি তো ৩ বছরেই ৫ বছরের সমান Caliber অর্জন করে ফেলেছি।
বলে দিই ৫ বছর।
না, মিথ্যা তথ্য কখনো resume তে দেবেন না। সত্য ও সঠিক তথ্য দিন।
হ্যা, আমরা যেটি বলি, তা হল, আপনি যা ও আপনি যেমনটা আছেন, সেটিকে নিয়োগকারীর বর্ণিত পজিশন, চাহিদা ও বিস্তারিত’র আলোকে সংযোজন/বিযোজন/পরিমার্জন/Transform/Legitimate/Co-related করে উপস্থাপন করুন।
আপনি যদি ভিন্ন ধরনের কিছুতে নিজেকে সত্যি সত্যিই উপযুক্ত মনে করেন, বা কর্মজীবনের কোনো একটা যৌক্তিক পর্যায়ে Migrate/Divert হতে চান, তাহলে আপনার বর্তমান যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, জ্ঞান-
এসব কীভাবে কাম্যতা ও প্রাপ্যতার বৈপরীত্যের বিপরীতে ওই প্রতিষ্ঠানকে লাভবান করতে পারে-তা শক্ত যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করে দিন।
মনে রাখবেন, resume‘র Format ও Design যাই হোক, সেটিকে সাজাতে হবে একজন নিয়োগকারীর দৃষ্টি দিয়ে।
অর্থাৎ, একজন নিয়োগকারী আপনাকে দেখার সময় কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি Priority দিয়ে দেখবেন-সেটির আলোকে resume’র তথ্যের সন্নিবেশ করুন।
ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেবার পরামর্শ আমরা কখনো দিই না। সেটি নৈতিক ও পেশাগত-উভয় দৃষ্টিতেই ভুল কাজ হবে।
সেই সাথে আরেকটা জিনিস বলব, চাকরিপ্রত্যাশী বা ক্যরিয়ার প্রত্যাশী-যেটাই বলি, আপনাকে অবশ্যই বিভিন্ন ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পোর্টালে, কমোন জব পোর্টালে আর সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের একটি পেশাদার ও আকর্ষক প্রোফাইল নির্মান ও উপস্থাপন করতে হবে। ওটাই এক ধরনের রিজিউম। এর পাশাপাশি আজকাল অডিও-ভিজ্যুয়াল রিজিউম কিংবা পোর্টফলিও, ভিডিও রিজিউম খুবই ডিম্যান্ডিং। ওগুলোও বানান। আপনার একটি রিচ নিজস্ব ওয়েবসাইট এই যাত্রায় আরও সহায়ক হবে। এবং, সার্বিকভাবে আপনার একটি ওয়েবসাইট বানাতে পারেন, যেখানে আপনার আপডেটেড রিজিউমও থাকবে, আপনার অন্য সব পোর্টফলিও ও তথ্য বিস্তারিত থাকবে, আর তার একটি QR কোড করে সেটা আপনার বিজনেস কার্ডে যুক্ত করে নিন। দারুন স্মার্ট কাজ হবে।
এতক্ষণ তো আপনাদের কিছু সাধারন ধারনা দিতে চেষ্টা করলাম। সেই সাথে আমাদের কিছু সাধারন ভুলও তুলে ধরতে চেষ্টা করলাম। শেষ কথাটা হল, এই যাবতীয় কিছু মেনে যেই Resumeটি আপনি বানাবেন ও পাঠাবেন, সেটি ও আপনি যেন অবশ্যই At per হয়ে আসেন।
আপনাকে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কিংবা এলন মাস্কের রেজুমের মতো অতি উচ্চমার্গীয় রেজুমে বানাবার জন্য আমাদের মতো মানুষেরাই রাত-দিন আপনাকে গুতোগুতি করবে। সেটা অস্বাভাবিকও না। আমরা প্রত্যেকেই কেবল নিজের নিজের কনটেকসট হতেই কথা বলতে অভ্যস্ত। যার যেটা ব্যবসা, যার যেটা নিয়ে কারবার, সে সেটার হাইপ না তুললে খাবে কী?
সেজন্য, কেউ বলবে, রঙিন করো, কেউ বলবে সাদামাটাই ভাল; আবার, এই দ্বিচারিত্ব শুনে তৃতীয় একজন বলবে, তাহলে তুমি সিম্পলের মধ্যে গর্জিয়াস করো। কেউ বলবে, ইনফোমেট্রিকস করো, কেউ বলবে, সিভি ডক্টরকে দিয়ে করো, কেউ বলবে, নিজে করো, কেউ বলবে ভারী করো, কেউ বলবে হালকা। কিন্তু, এত এত মানুষের ভাবনাকে তো আপনার এক রেজুমেতে আটতে পারবেন না। তাই অন্তত এতটুকু করুন।
আপনার রেজুমেটা যিনি বা যারা যারা দেখবেন, তারা কেউই তো আপনার সাথে আগে কাজ করেননি। আপনাকে তারা একদমই চেনেন না। তাই রেজুমেটা বানাবার সময় অন্তত, জ্বি, অন্তত এতটুকু খেয়াল রাখুন ও নিশ্চিত করুন, যে,
আপনার রেজুমেটা পড়ে যেন তিনি খুব সহজেই অন্তত এতটুকু বুঝতে পারেন, আপনি কে (WHO) ও কী (WHAT); তথা কী হতে চান, কী করেন, কী পারেন। অর্থাৎ, আপনি মূলত একজন এমপ্লয়েবিলিটি ক্রেতা তথা এমপ্লয়মেন্ট বিক্রেতার কাছে কী বিক্রী করতে গেছেন-সেটা বিনা আয়াসে ‘চট করে’ ধরা যায় কিনা-তা একজন ক্রেতার দৃষ্টি দিয়ে দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন।
যেমন ধরুন, একজন মার্চেন্ডাইজারের রেজুমেতে খুব স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে, যে, তিনি-
কোন কোন কাস্টমার ডিল করেছেন ও এখন করেন;
কোন ধরনের প্রোডাক্ট রেঞ্জ নিয়ে কাজ করেছেন ও করেন;
তিনি নীট নাকি ওভেন নাকি সোয়েটারের মানুষ, সেই সাথে কোনটাতে কতদিন;
তিনি বায়িং হাউজের মানুষ, নাকি ট্রেডিংয়ের, নাকি ভেন্ডর কারখানার;
তিনি মার্চেন্ডাইজিংয়ের কোন কোন সেগমেন্ট সম্পর্কে দক্ষ (স্যাম্পলিং, নাকি কস্টিং, নাকি সোর্সিং, নাকি প্রোডাকশন এক্সেকিউশন, নাকি অন্য কিছু);
তিনি টিম লিড করেন, নাকি জুনিয়র হিসেবে কাজ করেন;
এই বিষয়গুলো স্পষ্ট হতে না পারলে রেজুমে যত উচ্চমার্গীয়ই হোক, এমপ্লয়ার ভিড়মি খাবেই।
এই পথ অনুসরন করে বাদবাকি পেশার মানুষেরা নিজ নিজ রেজুমে বানানোতে একটু খেয়াল রেখে নিজের বিক্রয়যোগ্য পণ্যটা সুন্দর করে ক্যাসকেডিং ও বাস্কেটিং করলে সবার কষ্ট কমে, সফলতা বাড়ে।
#resumemaking & #coverletterwriting নিয়ে দুজন প্রাজ্ঞ মানুষের দুটি মৌলিক ও দরকারী লেখা:
মি. মুজাহিদুল ইসলাম: ফ্রেশদের কাছ থেকে তাদের সিভিতে যে ১০ টি বিষয় চাই:
১। উল্টাপাল্টা ফন্ট আর চোখ ধাঁধানো রঙ দিয়ে দিয়ে সিভিটা হিজিবিজি আর বিল বোর্ড এর মত বানাবেন না। সহজ-সুন্দর আর সাবলীল করে তথ্য উপস্থাপন করুন। ছবিটা অবশ্যয় মডেলদের মত করে দেবেন না। এখন অনেকেই এই ভুল টা করেন। বি প্রফেশনাল, প্লীজ!
২। সিভির শুরুতে স্পষ্ট করে আপনার সেল নাম্বারটা আর ইমেইল আইডিটা দিন। পারলে, একটা নাম্বার আর একটা ইমেইল আইডি দিন যেগুলোতে আপনি অ্যাভেইলেবল। অনেক সময়, আমরা একটা নাম্বার বন্ধ পেলে, আরেকটাতে করতে চাইনা।
৩। পারলে, নিজের সম্পর্কে ছোট্ট একটা হাইলাইটস লিখুন যেটাতে আপনি আপনার লাইফের ভাইটাল ঘটনা গুলো উল্লেখ করুন। আপনার হাইলাইটস আপনাকে অন্যের চেয়ে আলাদা হতে সহায়তা করবে।
৪। ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ নিয়ে ধানাই-পানাই বক্তব্য লিখিয়েন না। যেটা হতে চান, খুব ছোট্ট করে এক লাইনে লিখুন। একটা ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ সব জায়গাতে চালাবেন না। টিএসও-এর সিভিতে যে অবজেক্টিভ লিখবেন, সেই অবজেক্টিভ যদি ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি পদের জন্য দেন, তবে ধরা খাবেন নির্ঘাত। কপি-পেস্টিং-এর যুগ অনেক আগেই শেষ!
৫। পড়াশুনার কথা লিখবার সময় খুব স্ট্রেইট-ফরওয়ার্ড হোন। সরাসরি লিখুন, কোথায় পড়েছেন, কি পড়েছেন, কি রেজাল্ট করেছেন আর কোন সালে এসব করেছেন। নিজের অর্জনটা লিখতে ভুলবেন না কিন্তু!
৬। এক্সট্রা কারিকুলার খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। এটাকে নাম্বার-ড্রিভেন করুন। যেমন ধরুন, আপনি অমুক ক্লাবের তমুক ছিলেন না লিখে, লিখুন, অমুক ক্লাবের তমুক থাকার সময়, এত এত ইভেন্ট করেছেন, এত এত ছাত্রের/ মানুষের সাথে ইন্টের্যাক্ট করেছেন, এটা আপনার সিভিকে ফ্যাক্ট-বেইজড করবে, যেটা আমাদের খুব পছন্দ।
৭। দক্ষতা লিখবার সময়, আপনি ওটাতে খুব ভালো, অনেক দখল এসব ভেইগ কথা-বার্তা না লিখাই ভালো। যদি আপনি নিজেকে টীম ওয়ার্কে ভালো মনে করেন, তবে তথ্য-সম্বলিত উদাহরণ দিন, যেখানে আপনার টীম ওয়ার্কের প্রমান পাওয়া যায়, যাতে আমরা আপনাকে আর দশ জন থেকে আলাদা করতে পারি। নিশ্চিত করে একটা কথা বলি, ইদানীং, দক্ষতা বুঝানোর জন্য অনেকেই কিছু বার চার্ট ইউজ করেন। এটা দক্ষতার লেভেল বুঝানোর জন্য একটা মিনিংলেস প্রচেষ্টা মাত্র। কারন, ৮০ ভাগ আপনি যা বুঝাতে চেয়েছেন, সেই ৮০ ভাগ দিয়ে আমার প্রত্যাশা অন্য রকম হতে পারে। হ্যাঁ, যদি ইস্টাব্লিশড কিছু থাকতো, তবে এটা গ্রহণযোগ্য হত।
৮। কতগুলো ওয়ার্কশপ আর ট্রেইনিং করেছেন, খুব স্পষ্ট করে লিখুন। আমি কিন্তু ভাইভা- বোর্ডে জিজ্ঞাসা করি “আচ্ছা, আপনি তো এই সেমিনার এ ছিলেন, কেন গিয়েছিলেন, কে কে কথা বলেছেন, কি কি শিখেছেন, বলেন তো?” ওই সময়, যদি দেখি যে ব্লা ব্লা আর গাইগুই করেন, আমি ধরে নেই, আপনি চাপাবাজি করতেই ওই তথ্য দিয়েছিলেন। আর এটা প্রায় সব রিক্রুটাররা করেন। অতএব, আপনি বুঝুন, কোনটা দেবেন আর কোনটা দেবেন না।
৯। দয়া করে, বানান ভুল করবেন না আর গ্রামার এর কোনও মিস্টেক রাখবেন না। কোথাও পাঠানোর আগে, জানেন, এমন কাউকে দিয়ে সিভিটা চেক করিয়ে নিন। আপনার ভুল শুধু আপনার অজ্ঞতাই প্রমান করেনা, আপনি যে একটা মহা-গুরুত্বপুর্ন বিষয় নিয়ে একেবারেই সিরিয়াস না, তার ও প্রমান করে। মনে রাখবেন, সবাই কিন্তু ছোট্ট ভুলও মাফ করবার অবস্থায় থাকেনা।
১০। ব্যাক্তিগত তথ্য ও রেফারেন্স দেবার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। নিজের গ্রাম-গঞ্জ বলবার সময়, অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাদ দিন। আর, রেফারেন্সের ক্ষেত্রে, একজন একাডেমিক আর একজন পারলে কোনও প্রফেশনাল এর দিন। দয়া করে, এমন কাউকে দেবেন না যিনি আপনাকে নিয়ে তথ্য দিতে পারবেন না । সিভি আপনার মার্কেটিং টুল এবং আপনার ব্যাক্তিত্বের পরিচায়ক। আপনি সিভিতে নিজেকে ফুটিয়ে তুলুন, সময়োপযোগী করে, জব-এর প্রয়োজনীয়তা বুঝে। মনে রাখবেন, সিভি ইজ নট আ ফরম্যাট, ইট’স আ ডিসপ্লে অফ কন্টেন্টস এন্ড বিইং সিম্পল ইজ বিইং এক্সট্রা অরডিনারি।
মি. Tarikul Islam:
সত্যি বলতে, সিভি/রিজুমে তৈরীর জন্য সঠিক ও নিভুর্ল কোনো স্ট্যান্ডার্ড নেই, অন্তত আমার জানা নেই। একটি সঠিক ও নির্ভুল সিভি একেক জনের কাছে একেক রকম এবং বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সেখানে গিয়েই শেষ হয়, যেখানে সিভিটি যে উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়েছে তা যদি সার্ভ হয়, নতুবা যত ভালভাবে বা নির্ভুলভাবেই সিভি লেখা হোক না কেন—এই প্রশ্নটিই ফিরে ফিরে আসে, সিভি তৈরী ঠিক হয় নি, অথচ এটি নিতান্তই ভ্রান্ত একটি ধারণা, কেন না একটি সিভি তার সাধারণ উদ্দেশ্য সফল করার জন্য যে কয়েকটি প্রয়োজনীয় বিষয় দাবী করে, তা যদি ধারণ করে (বানান ভুল বা বাক্য গঠনের ভুল ছাড়া), তবে সেটি কোনো প্রকার প্রশ্ন ছাড়াই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঠিক ও নির্ভুল সিভি, আর সেক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যদি কেউ যথাযথভাবে মেনে চলে, তবে তার নিজের তৈরী করা সিভি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, তিনি সঠিকভাবেই তা তৈরী করেছেন।
১. কারও সিভি থেকে হুবহু কোনো কিছু কপি পেস্ট করবেন না বরং আপনার ক্ষেত্রে যা বাস্তব ও সঠিক, কেবলমাত্র সেটিই তুলে ধরুন, এক লাইনও বানিয়ে বা অতিরিক্ত লিখবেন না। কারণ মনে রাখবেন, আপনার ইন্টারভিউ যিনি নেবেন তিনি সাধারণত আপনার চেয়ে অভিজ্ঞ ও এই সকল বিষয়ে সম্যক জ্ঞান রাখেন, ফলে সেই একটি লাইনও তার নজর পড়ে যেতে পারে ও আপনাকে আটকে দিতে পারে।
২. সিভিতে বিভিন্ন প্রকার ডিজাইন, প্যাটার্ন, শ্যাডো, দৃষ্টিনন্দন ফন্ট, ফন্টের নানারূপ আকার, ডার্ক ব্যাকগ্রাউন্ড—দয়া করে এইসব করা থেকে বিরত থাকুন। একটি কমন ফন্ট যেটা বরং সিভির টেক্সটগুলো সহজেই পড়তে সহায়ক, সেটি ব্যবহার করুন। তাছাড়া, এমন কোনো ফন্ট ব্যবহার করবেন না, যেটি অন্য পিসিতে ডিফল্ট হিসেবে নেই, নতুবা অনেক সময় আবেদনের জন্য পাঠানো সিভি ফাইলটি অন্য কম্পিউটারে ওপেন করলে পড়া যায় না বা ফন্ট ভেঙ্গে-চুরে এমন অবস্থা দেখাতে পারে, যা আপনার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নেতিবাচক ধারণা প্রদান করবে।
৩. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কাছে মুখ্য বিষয়, আপনি নিশ্চিত থাকুন, একজন এইচ.আর. কর্মকর্তা খুব বেশি হলে আপনার সিভিতে ১৫-৩০ সেকেন্ডের বেশি চোখ বুলাবেন না এবং আপনার জন্য সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হলো, সেই স্বল্প সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মনোযোগ দাবী করা, যাতে তিনি আপনার সিভিটি শর্ট লিস্ট ফোল্ডারে সরিয়ে রাখেন এবং পরবর্তীতে বিস্তারিতভাবে পড়তে বাধ্য হোন। আমার ধারণা, চাকুরীর জন্য আবেদন করা, ইন্টারভিউ কল পাওয়া ও নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হওয়া—এই প্রক্রিয়াগুলো মধ্যে সবচেয়ে কঠিনতম বিষয় হলো সিভি সর্টিং করতে থাকা কর্মকর্তার সেই ১৫-৩০ সেকেন্ড অধিকার নেওয়া (যদিও এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে এইচ.আর. বিভাগের কাজের চাপের দরুণ এই সময় ১০-১৫ সেকেন্ডের বেশি হয় না, আর সে সব প্রতিষ্ঠানে আবেদনের ক্ষেত্রে আপনাকে আরও বেশি সচেতন ও সাবধানী হতে হবে। প্রয়োজনে সে সব প্রতিষ্ঠানে আবেদনের আগে নতুন করে সিভি এডিট করে তারপর আবেদন করতে পারেন )।
৪. একই ছবি বছরের পর বছর ব্যবহার করবেন না (আমি নিজেও যে একই অপরাধে দোষী, সেটি অস্বীকার করব না)। কিন্তু অনেক পরে হলেও জেনেছি, প্রফেশনাল কাজে ব্যবহৃত ছবি অবশ্যই বছরে একবার আপডেট করা জরুরী। ছবি অবশ্যই ল্যাব প্রিন্ট নেবেন। চারপাশে যেসব লোকাল স্টুডিও আছে, তারা কম্পিউটার প্রিন্ট দেয়, যাতে ছবির কালার যেমন ঠিক থাকে না, তেমনি সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। সর্বোপরি অপরিচ্ছন্ন, আবছা, পুরোনো ছবি থেকে ছবি রিপ্রিন্ট করবেন না, যা ফটোশপে এডিট করার ফলে, আপনার মুখোমন্ডল বদলে যায় বা অস্পষ্ট দেখায়। আপনার ছবিটি তাই আপডেট রাখুন এবং পরিস্কারভাবে বোঝা যায় এমন ছবি সংযুক্ত করুন।
৫. আপনার সিভিটি শুধু দেশি জব পোটালগুলোতে নয় বরং বিদেশি জব পোর্টলাগুলোতেও আপলোড করুন, এতে সিভি আপলোড করার সময় আপনি জেনে যাবেন ইন্টারন্যাশনাল প্রেক্ষাপটে সিভিগুলোর ফরম্যাট কেমন হয় বা তারা কিভাবে তা চায়। এছাড়া অনেক দেশি ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনগুলোর ওয়েবসাইটে জব সেকশনে সিভি আপলোড করার অপশন থাকে। আপনি সময় নিয়ে মেজর সব কোম্পানীরগুলোর (যেমন-টেলেকমিউনিকেশন কোম্পানীগুলো, বিট্রিশ আমেরিকান টোবাকো, নেসলে বাংলাদেশ, সকল এন.জি.ও., ইউনিলিভার বাংলাদেশ, বিট্রিশ কাউন্সিল—এসব কোম্পানীগুলো) সাইটে গিয়ে আপনার সিভি আপলোড করুন। বিশ্বাস করুন, প্রফেশনাল জীবনে যতগুলো কাজ আছে, যা করতে আমি চূড়ান্তভাবে করতে অপছন্দ করি, তার মধ্যে এই কাজটি অন্যতম, কেন না কাজটি এত সময় সাপেক্ষ ও বিরক্তিকর যে, মাঝে মাঝে তা করতেই ইচ্ছে করে না আর কাজটি করতে গিয়ে একের পর এক এতগুলো ওয়েব ফর্ম পূরণ করতে হয় যে ধৈর্য্য থাকে না। তারপরও আমি কাজটি শুধু দেশি কোম্পানীতেই নয়, বরং বিদেশি অনেক কোম্পানী ও বিখ্যাত অনেক জব পোর্টালেগুলোতেও করেছি বা আজও করি। কিংবা এও বলা চলে, যেখানে যখন আমি আমার সিভি আপলোড করার অপশন পেয়েছি, যত বিরক্তিই লাগুক না কেন, আমি সেটি করেছি। ফলে আমি জেনেছি, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একটি সিভিতে সবাই কোন কোন অংশগুলোকেই প্রাধান্য দেয়। সবসময় যে আপনি ইন্টারভিউ কল বা জব অফার পাবেন, এমন আশা থেকে কিছু করবেন না, তা নয়, বরং কিছু কিছু কাজ জানার জন্য লাগাতার করতে থাকুন, যা আপনাকে দক্ষতর হয়ে উঠতে সহায়তা করবে এবং সামনের দিকে কয়েক ধাপ সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
৬. যে সাইটেই আপনার সিভি আপলোড করুন না কেন, সেখানে থেকে দেওয়া আইডি ও পাসওয়ার্ড অবশ্যই কোথাও লিখে রাখবেন, যাতে পরবর্তীতে সেই কোম্পানীতে কোনো জব সার্কুলার হলে আবেদন করার নময় পুনরায় আপনাকে সিভি আপলোড করতে না হয়।
৭. চাইলে সিভির শুরুতেই Objectives অংশটি বাদ দিতে পারেন। ব্যক্তিগতভাবে এই অংশটি আমি কখনোই পড়ি না, বিশেষ করে নতুনদের জন্য এই অংশটি আমার কখনোই জরুরী মনে হয় নি, বরং আমার মনে হয়েছে, লক্ষ লক্ষ সিভিতে বর্ণিত এই অংশটুকু থেকে কোনো এইচ.আর. কর্মকর্তা সুনির্দিষ্ট কোনো ধারণায় পৌঁছাতে সক্ষম নন, বিশেষ করে আমাদের মতো দেশে তো নয়ই। সুতরাং আমি বলব, এই অংশটি পরিহার করুন এবং Key Skills বা Key Strengths দিয়ে শুরু করুন। তবে একগাদা পয়েন্ট উল্লেখ করবেন না। আপনি নিজে যে বিষয়গুলোতে দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী, এমন ৪/৫টি পয়েন্ট উল্লেখ করলেই চলবে।
৮. পরের অংশটি শুরু করুন আপনার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যে বিষয়ে মেজর করেছেন সেটি দিয়ে (প্রয়োজনে কয়েকটি সাবজেক্ট উল্লেখ করতে পারেন, যদি তা আবেদনকৃত পদটির জন্য গুরুত্ব বহন করে)। যোগ্যতার সাথেই সালটি উল্লেখ করুন, যেমন MBA (Marketing), 2010. এরপর যে প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করেছেন তার নাম ও রেজাল্ট। যদি আপনার মনে হয়, এই অংশে আরও কিছু বিষয় যোগ করলে (যেমন কোনো বিশেষ অর্জন বা পুরস্কার), আপনার সম্পর্কে উচ্চতর ধারণা তৈরী হবে, তবে তা যুক্ত করুন। কিন্তু অযথাই লাইনের পর লাইন লেখার প্রয়োজন নেই।
৯. পরের অংশটিতে আমি বরং প্রফেশনাল শিক্ষাগত যোগ্যতার উল্লেখের প্রতি গুরুত্ব দেব। নতুন হিসেবে আপনার প্রফেশনাল যোগ্যতা থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেই, কিন্তু যদি থাকে তবে সেটি আলাদাভাবে শিক্ষাগত যোগ্যতার পরপরই উল্লেখ করা ভাল। তবে জানিয়ে রাখি, আমার কাছে একজন প্রার্থীর ২ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে ২ বছরের প্রফেশনাল যোগ্যতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই বিষয়টি প্রথাগত শিক্ষার চেয়ে এডভান্সড এবং প্রার্থী হিসেবে আপনার থেকে ন্যূনতম প্রফেশনাল কোয়ালিফিকেশন আশা করা সহজ হয়ে ওঠে।
১০. কম্পিউটার লিট্যারেসি বা টেকনিক্যাল কোনো সক্ষমতা উল্লেখ করার সময় খুব সতর্ক থাকবেন। আমি অনেক প্রার্থীকে এই প্রশ্নটি করে দেখেছি—‘মাইক্রোসফট এক্সেলে এ আপনার দক্ষতা কেমন? যদি দক্ষতার বিচারে ১০ নম্বরের মধ্যে নম্বর দিতে বলি, তবে নিজেকে কত মার্ক দেবেন’? এমন প্রশ্নের উত্তরে ৯৯% প্রার্থীই নিজেকে ৮ বা ৮ এর অধিক নম্বর দিয়েছে, যা বরং তাদের কান্ড-জ্ঞানহীনতারই প্রকাশ ঘটায়। কারণ তারা মনে করেন কম্পিউটার লিটারেসি মানে জিমেইল, ফেসবুক, হোয়াটস এ্যাপ, ভাইবার, ইমো এগুলো চালাতে পারা, মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে টাইপ করা, পাওয়ার পেয়ন্ট স্লাইড তৈরী করা ও এক্সেলে যোগ-বিয়োগ-গুন-ভাগ করা ও কিছু সূত্র জানা। কিন্তু আসলেই কি তাই? বস্তুত, মাইক্রোসফট এক্সেলে দক্ষতার বিচারে কেউ যদি ১০ এর মধ্যে ৮ পায়, সে রীতিমতো মাস্টার এই অফিস প্রোগ্রামে। যাই হোক, আপনারা বরং গুগল করে জেনে নিন, এভভান্সড লেভেলে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, পাওয়ার পয়েন্ট, এক্সেলে কি কি কাজ করা হয়। যদি আপনি সেগুলো আগেই করে থাকেন, তো ভাল, নতুবা যেগুলো জানা প্রয়োজন, সেগুলোর ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়াশোনা করুন, দেখবেন আপনি আপনার চিরাচরিত জানা-শোনার বাইরে চলে এসেছেন এবং নতুন কিছু জানার আগ্রহ আপনাকে তাড়িত করছে। যেমন, মাইক্রোসফট অফিস ব্যবহার শুরুর ৫ বছর পর জেনেছিলাম Macros ও OCR কি, অথচ তার আগ পর্যন্ত বিশ্বাস করতাম, যে আমি মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে যথেষ্ট ভাল আর আজ এতগুলো বছর কাজ করার পরও কেউ যদি আমাকে দক্ষতার বিচারে মাইক্রোসফট অফিসে ১০ এর মধ্যে নম্বর দিতে বলে, তবে নিজেকে ৬ অধিক নম্বর দিতে বুক কাঁপবে।
১১. যদি আপনার পড়াশোনার পাশাপাশি আলাদা এক্টিভিটিস থাকে, যেমন সামাজ-সেবা মূলক কাজে যুক্ত থাকা, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া, খেলা-ধুলায় পারদর্শিতা, প্রজেক্ট ডিজাইন করা বা লিড দেওয়া—এসব বিষয়গুলো যোগ করতে পারেন। থাকতেই হবে তার কোনো মানে নেই, তবে থাকলে আপনার শারীরীক ও মানসিক সক্ষমতার দিকটি তুলে ধরে, যা কিনা ভবিষ্যত লিডার হিসেবে আপনার প্রাথমিক যোগ্যতার সম্ভাবনা তৈরী করে।
১২. সিভিতে অনেকেই দেখি ঠিকানাসহ সমস্ত কিছুর বিবরণ দিয়ে রাখেন। এমন কি ধর্ম পর্যন্ত। অত কিছু না দিয়ে নিজের, বাবার ও মায়ের নাম দিন। জন্ম তারিখ (সাথে বয়স লিখে দিন, কারণ অনেক সময় যিনি সিভি দেখছেন তিনি আপনার জন্মসাল থেকে বর্তমান সময় বিয়োগ করে আপনার প্রকৃত বয়সটি বের করতে অপছন্দ করেন), বৈবাহিক অবস্থা লিখে সিভি শেষ করে দিন। স্বাক্ষর না হলেও চলবে, কেন না ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে পাঠানো সিভির ক্ষেত্রে আপনার ইমেইল আইডিটিই স্বাক্ষর এর কাজটি করে থাকে, যদি তা সিভিতে উল্লেখ থাকে।
১৩. সিভিতে রেফারেন্স দেবার দরকার নেই। যদিও জানি, এই উপদেশটি দেওয়া রীতিমতো ভুল পরামর্শ দেওয়ার মতো বিষয়, কেন না আমি নিজেও এমন শত শত কোম্পানীতে আবেদন করেছি বা এখনও করি, যেখানে আবেদনের সময় স্পষ্টভাবেই রেফারেন্স চায় আর আমি নিজেও দিয়ে থাকি (অবশ্য না চাইলে রেফারেন্স আমি কখনোই দিই না, এমন কি কোনো প্রতিষ্ঠান যদি আমাকে সিভির প্রিন্ট কপি ও সার্টিফিকেট এর অরিজিনাল কপি নিয়ে যেতে বলে, আমি ইন্টারভিউ দিতে যাই না, কারণ সেটা অপমানজনক)। আমার দৃঢ় বিশ্বাস বিষয়টি এভাবেই চলতে থাকবে আরও কয়েক দশক, কেন না আমরা পরিবর্তন এর জন্য সন্মিলিতভাবে কাজ করি না, ফলে পূর্বের প্রচলিত নিয়মটিকেই অলিখিত সত্য রূপে যুগের পর যুগ মেনে চলি, অথচ উন্নত দেশগুলোতে অনেক আগে থেকেই সিভিতে রেফারেন্স উল্লেখ করা হয় না, বরং সিভির শেষে এই ছোট্ট বাক্যটি লেখা থাকে, ‘References available upon request’। তারপরও বলব, সুনির্দিষ্টভাবে না চাইলে আবেদন করার সময় রেফারেন্স দেবার দরকার নেই। একজন প্রার্থী যতক্ষণ পর্যন্ত না চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হচ্ছেন, তার আগ পর্যন্ত তার সিভিই যথেষ্ট তার স্বপক্ষে কথা বলার। যদি তার বাইরে কেউ কিছু আগাম বা বাড়তি চায়, তবে এই বিষয়টিই নিশ্চিত করে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যথাযথ বা স্ট্যান্ডার্ড এইচ.আর. ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা রাখেন না এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তিনি দায়বদ্ধতা অনুভব করেন না।
১৪. সিভি যথাসম্ভব এক পাতার করুন, কেন না একজন ফ্রেশার এর সিভি এক পাতার অতিরিক্ত হবার সম্ভাবনা নিতান্তই কম এবং সেটি ব্যতিক্রম ঘটনা ছাড়া কিছুই নয়। আমার কাছে যে কারও সিভি সর্বোচ্চ দুই পাতার অধিক হতে পারে না, যদি না বিষয়টি এমন এমন পজিশনের জন্য হয়, যেখানে বিস্তারিত বর্ণনাসহ সিভি চাওয়া হয় ও তা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সার্বিক প্রফেশনাল জীবন ও কাজ সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। এই পজিশনগুলো হয় টপ মোস্ট সিনিয়র পজিশন এবং তাদের দায়-দায়িত্ব হয় সেনসেটিভ ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
১৫.সিভিতে কোন কিছু বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলবেন না, কেন না আপনি আপনার দেয়া তথ্যর উপর ভিত্তি করে হঠাৎ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে উতরে যেতে পারবেন না, অথচ আপনার লক্ষ্য সবসময় এই থাকবে, আপনার দেওয়া তথ্যর উপর ভিত্তি করে যে কোনো ভাবে বা পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হোক না কেন, আপনি চ্যালেঞ্জকারীকে এই বিষয়ে অন্তত আশ্বস্ত করতে সক্ষম হবেন যে, আপনি বিষয়গুলো সম্পর্কে জানেন ও জ্ঞান রাখেন।
১৬. সিভিতে যাই লিখুন না কেন, পুরো সিভির বানানগুলো একবার নয়, বারবার চেক করে নেবেন। যদি আপনি নিজে বাক্য গঠন করেন (দয়া করে হুবহু কপি করবেন না, এটি নকল করে পাস করার মতো কোনো বিষয় নয়, বরং আপনার নিজের সম্পর্কে লেখার বিষয়, আর এই কাজটিও যদি না পারেন, তবে আপনার কেবল লজ্জিত হওয়া নয়, সেই সাথে নিজেকে ক্ষমা করারও কোনো অপশন থাকে না) ও সংশয়ে থাকেন সঠিক হলো কিনা, তবে অনলাইনে এমন অসংখ্য সাইট আছে যেখানে আপনি আপনার লেখা অংশটুকু পেস্ট করে বানান, গ্রামারটিক্যাল ভুল এসব চেক করাসহ সঠিক সাজেশনটিও পেয়ে যাবেন, তাও বিনামূল্যে। এত কিছু অপশন হাতের মুঠোয় থাকার পরও যদি আপনি কাজটি করতে না পারেন, তবে আপনার যোগ্যতার মূল্যায়ন বা পরীক্ষা করার জন্য আর ইন্টারভিউ দিতে যাবার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।
তাই সব নতুনদের অনুরোধ করব, নিজে চেষ্টা করুন, বারবার চেষ্টা করুন আর তা করতে করতেই একদিন আপনি বিষয়টি কেবল শিখে যাবেন না বরং দক্ষ থেকে দক্ষতর হয়ে উঠবেন। পরিশেষে আমার কাছে একটি যথার্থ সিভি সেটিই, যেটাতে প্রাথমিকভাবে চোখ বুলালেই বুলেট পয়েন্টগুলো অনাসায়েই মার্ক করা যায় ও কাঙ্খিত যোগ্যতাগুলোর সাথে মিলিয়ে সিভিটিকে আলাদা করে রাখতে ও পরবর্তীতে মনযোগ সহকারে পড়তে বাধ্য হতে হয়।
#Resumemaking #resumewriting #CVmaking #portfoliomanagement #profilemaking