Skip to content

জাজমেন্টাল-প্রিজুডিসড-ফ্রিকস-হাইপোথেসিস

  • by

দুই বা বহু পক্ষের বক্তব্য শুনে যে সিদ্ধান্ত ও বিচার হয়, তাকে জাজমেন্ট বলে। এক পক্ষের কথা শুনে বা দেখেই সিদ্ধান্ত নেয়াকে জাজমেন্টাল বলে।

বাংলাদেশের প্রচলিত অসংখ্য অসঙ্গতির মধ্যে খুবই দুঃখজনক এক মড়কের নাম জাজমেন্টাল দৃষ্টিভঙ্গি ও বিচার।

জাজমেন্টাল এটিচুড। বাঙালীর প্রিয় বিষয়।

মুখ দেখলেই মনের খবর বলে দিতে পারি-বাঙালীর প্রিয় গর্ব।

সবাইকেই আমার চেনা আছে, কমতো দেখলাম না-বাঙালীর প্রিয় বিশ্বাস।

আমাকে শিখাতে আসবেন না, আমি কম বুঝি না-বাঙালীর প্রিয় কনফিডেন্স।

আমি এরকমই। আমি আমার মতো-বাঙালীর প্রিয় আত্মসম্মান।

“ব্যাডার চেহারা দ্যাকলেই বোজা যায়, হালায় একটা লুইচ্চা।”

“ছেমড়ির সুরত দ্যাকচেন, এক্কেরে গারমেনসের মাইয়াগো মতো।”

“ওই, তোরে দ্যাকতেই খুনির মতো লাগে।”

“দেখেছ, ওই বাসার ভাবির মধ্যে একটা গেঁয়ো গেঁয়ো লুক আছে?”

“চেহারাটাকে এমন ফকিন্নীদের মতো করে রেখেছ কেন?”

এগুলো হল সরলিকরণ, জাজমেন্টাল ও মার্জিনালাইজেশন প্রিয় এই আমাদের বাণী অমৃত।

তো, সেই জাজমেন্টালদের দেশে, একদিন,  স্বামী প্রতিদিনকার মতো বাড়ি এসে বউকে ডেকে বলল, মায়া বড়ি দাও। স্ত্রী শুনে অবাক হলেও তাকে এনে দিল আর স্বামী দিব্যি অভ্যাসমতো সেই বড়ি খেয়ে নিল। তারপর বাকিটা ইতিহাস।

কী ভাবছেন ? ১৮+ কিছু? এইযে, এটার নামই জাজমেন্টাল। লোকটার স্ত্রীর নাম মায়া আর স্বামী খেয়েছিল গ্যাসের বড়ি।

একজন ধর্মীয় বুজুর্গ (প্রকৃত পরিচয় মনে করতে পারছি না) বলেছিলেন, ”তোমাকে যদি কেউ এসে বলে অমুক আমার একটি চোখ গেলে দিয়েছে, সাথে সাথে তার কথার উপর ভর করে রিএ্যাক্ট করো না। হতে পারে, সে নিজে হয়তো ওই লোকের দুটি চোখই আগে গেলে দিয়েছিল।” প্রোপারলি বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান করলে অনেক সময়ই দেখা যাবে, কথিত বা অভিনয়রত ভিকটিমই আসলে ক্রিমিনাল ছিল আর কথিত ক্রিমিনালই হলে ভিকটিম।

একজন মানুষ কথা কম বলেন। চুপচাপ নিজের কাজ করেন। অফিসে তার নাম হয়ে গেল ভাবিষ্ট। আসলে কি তাই?

কাউকে সালাম দেন, তিনি মৃদু হেসে মাথাটা নিচু করেন। কোনো শব্দ করেন না। ভাবলেন ব্যাটা বেয়াদব। আসলে লোকটা বোবা।

আপনি কাউকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালেন তিনি একসেপ্ট করছেন না। ভাবছেন, বেশি দেমাগী।

অথচ হয়তো লোকটার নির্দিষ্ট কোনো ছক আছে ফ্রেন্ডলীষ্ট মেইনটেইন করার। অনেকেই আছেন নির্দিষ্ট প্যাটার্ন মেনে চলার। আমারও একটা আছে। কীরকম সেটা, সেটা বলছি না।

দেশ বন্যায় ভেসে যাচ্ছে। অনেকে প্রচুর ডোনেট করছেন বন্যার্তদের সাহায্যার্থে। কেউ কেউ বড় বড় ছবি পোষ্ট করে দিলেন ত্রাণ বিতরণের। ব্যাস একদল নিজেদের এ্যাজাম্পশন ঠিক করে নিলেন।

ব্যাটা নাম ফুটাতে চায়। তাই ঢাকঢোল পিটাচ্ছে (অনন্ত জলীলকে নিয়ে এই জাজমেন্টাল কাজটি বেশি হয়।)

আসলে হয়তো লোকটার উদ্দেশ্য হল, তাকে দেখে অন্যরাও উৎসাহ পাক।

আবার একজন মানুষ কোথাও কোনো ডোনেশন দেয়ার কথা বলেনি। কোনো ছবি নেই। ডোনেশনের আলোচনায় নেই। ব্যাস, লোকেরা তার দুর্নাম শুরু করল, ব্যাটা কিপটা, হৃদয়হীন, কপোট, ভন্ড, দেশদ্রোহী। এমন বন্যায়ও একটা টাকা কোথাও দান করেনি।

অথচ হয়তো লোকটি প্রচারবিমুখ। গোপনে হয়তো তিনি এক লাখ টাকা দান করে বসে আছেন।

এক মহল্লায় এক তাহাজ্জুদ গুজার বুজুর্গ আর এক সিঁদেল চোর থাকত। একদিন ফজরের ওয়াক্তে তাহাজ্জুদ গুজার লোকটা পুকুরঘাটে ওজু করতে বসল। একই সময় সিঁদেল চোর সারারাত চুরি করে হাতমুখ ধোয়ার জন্য পুকুরের অপর পাড়ের ঘাটে নামল। বুজুর্গ লোকটা চোরকে দেখে ভাবল, আহা, ওই লোকটাও মনে হয় আমার মতো সারারাত তাহাজ্জুদ পড়ে এখন ফজর পড়তে মসজিদে এসেছে।

আর চোর তাহাজ্জুদ পড়া বুজুর্গকে দেখে ভাবল, বেটা নিশ্চই আমার মতো চোর। সারারাত চুরি করে এখন বাসায় যাচ্ছে। এই দৃষ্টিভঙ্গির নাম হল মার্জিনালাইজেশন ও জাজমেন্টাল এটিচুড।

গল্পই যখন বললাম, তখন এটাও বলি।

এক পেটুক ও কিপটে গিয়েছে নেমন্তন্ন খেতে। কৃপণ লোক যদি নেমন্তন্নে যাবার সুযোগ পায়, তাও আবার কৃপণ, তার ফলাফল যা হয় আর কি। বাঙালরা যেমন, একখানা পেতলের কলসিতে আম্রপত্রের ঘটা যোগ করে সেইখানা সতেজে প্রদর্শন করে গুষ্টিশুদ্ধ গান্ডেপিন্ডে বিয়েবাড়ি, মুসলমানী বাড়িতে গিলে আসত, ঠিক তেমনি। এই হাড় কেপ্পনও নেমন্তন্ন খেতে বসল।

শ্রাদ্ধ বাড়ি, বাইরের উঠোনে পাত পেড়ে গণপরিবেশন। অঢেল ও সুপ্রচুর আয়োজন। বেহিসেব খানাপিনা। কেউ মরেছে-তার চেয়ে সুখের উপলক্ষ্য আর কী হতে পারে ভুরিভোজের জন্য। তো, পেটুক তো খেতে খেতে খেতে খেতে খেতে……………গলা তক এসেছে। অবস্থা এমন, যে, এখন আর মাথা নিচু করতে পারছে না।

পেটুক তো দমবার পাত্র না। তাকে তো পুষিয়ে নিতে হবে। সে মাথাটা উর্দ্ধমুখে রেখে, পা ছড়িয়ে এক হাতে ভর দিয়ে এলিয়ে বসল।

পরিবেশক এসে হাঁক পারে, “দাদা, আরেকটু প্রসাদ কি দেব?””থালায় না থাকলে দাও।”-পেটুক জানান দেয়। পরিবেশক থালা খালি থাকা সাপেক্ষে আরও দুই হাতা খানা বেড়ে দিয়ে যায়। পেটুক আবার আন্দাজে হাতিয়ে হাতিয়ে খেতে থাকে। এভাবে খেতে খেতে খেতে, যখন একটু নাড়া পড়লেই বমনের উপক্রম, তখন পেটুক হাত তুলল।

কায়ক্লেশে দশজনে ধরে তাকে তুলে পথে তুলে দিল। মাথাটা নিচু করলেই চাপ পড়ে পেটের বস্তু উর্দ্ধগমন করবে-এই ভয়ে মাথা ওপরেই তোলা। পথ দেখতে পাচ্ছে না। মনের আন্দাজে চেনা গাঁয়ের পথে বাড়ি ফিরছে।

মাটির রাস্তার ওপর কাদের যেন একটা বুড়ো বলদ বাঁধা ছিল। কতকটা বয়সে, কতকটা কৃমিতে পূর্ণ সেই বলদের পেট। সে দুপুরের রোদে হাপিয়ে পথের মধ্যেই পেট এলিয়ে শুয়ে জিরোচ্ছে।

আমাদের পেটুক মশায় উর্দ্ধমূখী হয়ে চলতে গিয়ে সেই বলদের দড়িতে পা বাঁধিয়ে দরাম করে পড়ল তার পেটের ওপর। পেটুক চক্ষু উর্দ্ধপানে রেখেই হাতিয়ে দেখার চেষ্টা করল, কোথায় সে পড়ল সেটা জানতে। বুড়ো বলদটার বিশাল ভূড়ির ওপর তার হাতটা পড়ল।

কতক্ষণ হাতিয়ে দেখে পেটুক সক্ষেদে বলে উঠল, “ওহ হো হো, দাদা, তাহলে আপনাকে দেকচি উঠোনে নয়, একবারে ভেতর বাড়িতে বসিয়ে নেমন্তন্ন খাইয়েছে। তাইতে পেটটা এমন বেজায় বড়।”

এই গল্পের মাজেজা খুব স্পষ্ট।

নিজে গাঁধা, সবাইকেই ভাবে গাঁধা। নিজে চোর, সবাইকেই ভাবে চোর। নিজে লুচ্চা, সবাইকেই ভাবে লুচ্চা। নিজে সস্তা, সবাইকেই ভাবে সস্তা। নিজে গাড়ল, সবাইকেই ভাবে গাড়ল।

আমরা বাঙালীরা প্রচন্ড রকম জাজমেন্টাল আর ইনটেলেকচুয়াল সুপ্রিমেসির জাতক।

চোখের দেখাতেই কাউকে রাজা উজির বানিয়ে ফেলি। কোনো বিষয়ের তলানীতে যাবার প্রবণতা খুব কম।

আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থে একটি কথা আছে, “নিশ্চই অনুমান সবচেয়ে বড় মিথ্যা।” সবচেয়ে ভাল হয়, অন্য একজন কী করছেন বা করছেন না, কেমন করছেন-ভাল না মন্দ-এই ভাবনাটাই না ভাবা। নিজের কাজ ও তার ভাল-মন্দ নিয়ে ভাবুন।

এবার আসুন ইশারার প্রশ্নে। আমি আপনাদের ইশারা সংক্রান্ত দু’টি গল্প বলছি। এরপরও যদি মনে হয় আকলমান্দকে লিয়ে ইশারাই কাফি তো গুড। বলা বাহুল্য গল্প দু’টি সংগৃহিত।

গল্প-১: এক বাইকার রাস্তায় বাইক চালিয়ে যাচ্ছেন। হঠাৎ সার্জেন্টের সমন। থামালেন। সার্জেন্ট তন্নতন্ন করে খুঁজে অবশেষে আবিষ্কার করলেন হেলমেটের কাঁচ ঘোলা। ব্যাস, বিশাল অঙ্ক জরিমানা।

বাইকার তাকে চোখের ইশারা করলেন। সার্জেন্ট বললেন,”ওইযে দূরে পান দোকানদার আছে ওর কাছে ৫০০ টাকা রেখে চলে যান। বাইকার তো টাউট দ্যা গ্রেট। সে দোকানদারের কাছে গিয়ে বলল, মামা, ওইযে সার্জেন্ট দেখছেন দাড়িয়ে আছে, উনি বলছেন আমাকে ৫০০ টাকা দিতে। তাড়াতাড়ি করেন।

দোকানদারতো এমন লেনদেনে অভ্যস্ত। তবুও একটু দোনোমোনো করে তিনি দূর হতে সার্জেন্টকে ডাক দিয়ে হাত তুলে পাঁচ আঙুল দেখিয়ে ইশারা করলেন, “স্যার উঁ উঁ” মানে ৫০০ দেব? সার্জেন্ট তাড়াতাড়ি হাত তুলে ইশারা করল, “উঁ উঁ। বাইকার ৫০০ নিয়ে চম্পট।

কিছুক্ষণ পর সুবিধামতো সময়ে সার্জেন্ট দোকানদারের কাছে এলেন টাকা নিতে।অতঃপর কি হল বুঝতেই পারছেন?

গল্প-২: জনৈক রাজা রাতে এক স্বপ্ন দেখে সকালে উঠে ঘোষনা করলেন, যে আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে পারবে তাকে অর্ধেক রাজত্ব ও রাজকন্যার সাথে বিয়ে দেব। ভুল বললে গর্দান কচ করে কেটে নেয়া হবে।

তো নানা দেশ হতে লোভে পড়ে লোক আসে, স্বপ্নের তাবির বলে, ভুল হয় আর গর্দান কাটা যায়। এমনি করে একদিন এক পাগল এলো সে দেশে। সে দেখে দলে দলে লোক রাজার দরবারে যায়, আর একটু পর তারা মুন্ডুহীন হয়ে বিয়ারিং চিঠির মতো বের হয়।

সে লোকজনকে জিজ্ঞেস করে সত্যিটা জানল। সেও ভাবল ভাগ্য পরীক্ষা করবে। সে রাজাকে প্রস্তাব করল। তবে শর্ত হল কথাবার্তা হবে ইশারাতে। রাজা রাজি হলেন।

রাজা তাকে প্রথমে এক আঙুল দেখালেন। পাগল মাথা নেড়ে তাকে দুই আঙুল দেখাল।

রাজার মুখ একটু উজ্জল হল। তিনি এবার তিন আঙুল দেখালেন। পাগল প্রবলবেগে না সূচকভাবে মাথা দু’পাশে নেড়ে তার বুড়ো আঙুল রাজাকে দেখাল। রাজাতো খুশিতে ডগোমগো হয়ে ঘোষণা করলেন পাগল পেড়েছে তার সপ্নের তাবির করতে। ব্যাস, রাজত্ব, রাজকন্যা জিতে নিল পাগল। সে চলে গেল।

রাজার সভাসদরা রাজাকে জিজ্ঞেস করল ইশারায়তাদের মধ্যে কি কথা হল।

রাজা বললেন, আমি তাকে এক আঙুল দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, এক ঈশ্বর সত্যি, বাকি সব মিথ্যা। সে দু আঙুল দেখাল। তার মানে হল, না, আরো একদল সত্যি আছে-দেবতা।

আমি এরপর তিন আঙুল তুলে জিজ্ঞেস করলাম তৃতীয় কেউ আছে? সে বুড়ো আঙুল নাচিয়ে বলল যে, না, আর কেউ নেই। ব্যাস মিলে গেল আমার স্বপ্ন।

সভাসদরা এত সামান্য একটা বিষয় ধরতে না পেরে রাজত্ব, রাজকন্যা হাতে পেয়েও হারিয়ে ফেলল ভেবে বেহুশ হয়ে গেল। এরপর সভাসদরা পাগলের বাড়ি গেল। তাকে জিজ্ঞেস করল, রাজা তাকে কি ইশারা করল আর সে কী উত্তর ইশারায় দিল।

পাগল বলল, আমার কোর্তার এক পকেটে একটা বিড়ি ছিল। রাজা যখন এক আঙুল দেখাল ভাবলাম তিনি আমার বিড়িটা নিতে চান। আমি ভাবলাম বিড়ি যদি দিয়ে দিই তাহলে অন্য পকেটে তো একটা ম্যাচও আছে। সেটা আর রেখে কী করব?

তাই দুই আঙুল দেখালাম মানে হল, না, একটা না, বিড়ি ও ম্যাচ-দুটো জিনিসই দেব।

রাজা এরপর তিন আঙুল দেখালে আমি ভাবলাম, ব্যাটা লোভী। আমার হাতের তিন আইক্কাওয়ালা কঞ্চির লাঠিটাও নিতে চায়। আমি ভাবলাম, আমার লাঠিটা দিয়া দিলে আমি মানুষকে ধাওয়া দেব কী দিয়ে? নাহ, ওটা দেয়া যাবে না। তাই বুড়ো আঙুল নাচিয়ে রাজাকে কাঁচকলা দেখালাম।

সভাসদরা এবার হার্টফেল হয়ে গেলেন। গল্প শেষ।

এখনও আপনার মনে হচ্ছে আকলমান্দ কি লিয়ে ইশারাই কাফি?

[নিচের নতুন অংশটুকু পেলাম জনাব Tarek Khan এর দেয়ালে। চমৎকার বাক্যসমূহ। বাক্যসমূহ সত্য নাকি মিথ্যা, তা রূপক বর্ননায় জরুরী নয়।]

কে করে কার বিচার?

‘যীশু, এই যে মেয়েটিকে দেখছেন, ব্যাভিচার করার সময় হাতে-নাতে ধরা পড়েছে সে।’

মাথা নিচু করে বসে ছিলেন যীশু। সেভাবেই রইলেন। ঠোঁট দুটো মৃদু নড়ে উঠল তার,

‘তাই?’

মেয়েটিকে ধরে নিয়ে আসা ইহুদি নেতাদের একজন বললেন,

‘জি। আর এটা শুনে আমাদের মোশি বলেছেন,

এই অপরাধের জন্য পাথর মেরে হত্যা করা হোক তাকে।’

নেতাটি একটু থামলেন, ‘তা, আপনি কী বলেন, যীশু?’

যীশু আগের মতোই রইলেন।

কিন্তু ওই একই প্রশ্নটা বারবার করছিলেন তারা।

মাথাটা আরো নিচু করে ফেললেন তিনি, আঙুল দিয়ে কী যেন লিখতে লাগলেন মাটিতে।

ইহুদি নেতা প্রশ্নটি করতে যাচ্ছিলেন আবার।

হাত দিয়ে ইশারা করে তাকে থামিয়ে দিলেন যীশু। মুখটা সামান্য উঁচু করে বললেন,

‘ঠিক আছে। তোমাদের মধ্যে যে নিষ্পাপ, সেই প্রথম পাথর মারুক মেয়েটিকে।’

কথা শেষ করে মাথা নিচু কর ফেললেন আবার যীশু, লিখতে লাগলেন মাটিতে।

কিছুক্ষণ পর যখন মাথা উঁচু করলেন, দেখলেন— একজনও নেই, কেবল মেয়েটি দাঁড়িয়ে, একা।

যীশু মাটিতে আঙুল বুলাতে বুলাতে বললেন,

‘তুমি যাও, আর কখনো এমন করো না।’

কবি কহেন,

সাহস কিংবা চান্সের অভাবে

সৎ ও চরিত্রবাণ,

সুশীল সাধুজন,

বাই চান্স ধরা পড়া,

কূ-শীলকে নিয়ে,

সু-শীল পোস্ট ফরমান।

কখনো কখনো আমরা জেনে শুনেই, এমনকি স্রেফ আত্মতৃপ্তির জন্যও জাজমেন্টাল হই। যদিও এই বিশ্ব ভূবনের স্রষ্টা শেষ বিচারের জাজমেন্ট ডে তে তার নিযুক্ত কিরামান কাতিবিনের সংকলিত নির্ভুল ও নিখূঁত আমলনামা থাকা স্বত্বেও বান্দাকে একবার আত্মব্যাখ্যার সুযোগ দেবেন।

কিন্তু তার বান্দারা হয়তো নিজেকে ঈশ্বরের চেয়েও যোগ্য বিচারক ভাবতে চায়। ফলে, চোখের দেখায় কিংবা একপাক্ষিক বক্তব্যের ভিত্তিতেই যাকে মনে চায় রায় দিয়ে দেন। অবশ্য এই দেশে টেম্পুর হেলপারও টেসলার মালিকের অটোমোবাইল জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলে, ভাড়ায় খাটা খ্যাপ গাতকও জন ডেনভারের কান্ট্রি রোড গানের সূর-তাল-লয় নিয়ে ট্রল করে। সে কথা আলাদা। আমার সহকর্মীদের আমি প্রায়ই একটি কথা বলি, ”আপনারা আমাকে Deluded ও Derailed করতে পারবেন না। এবং, আমি চোখের জলে গলি না।”

মজা করে বললেও, কথাটা অনেকখানি সত্য।

চোখের জল দেখে গলে যাবার ও আমার সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হবার বিষয়ে আমি খুবই সতর্ক ও কঠোর। তবে এই কঠোরতা জন্মগত না।

৩ হতে ৪টি ঘটনা হতে শিখে আমি এই কঠোর হবার ব্রত নিয়েছি।

৩ জনই চোখের জল দিয়ে নিজেদের সাধু ও নিপিড়ীত দেখানোর চেষ্টা করেছিল। সে যে সে চোখের জল নয়। একদম মাসুম ও মজলুমের চোখের জলের অভিনয়। আমি কিছুক্ষণের জন্য হলেও প্রভাবিত ও বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। আপনিও হতেন, এতটাই নিখূঁত ছিল সে চোখের জল।

পরবর্তিতে আমি অনেক মূল্য চুকিয়ে উপলব্ধি করেছি, ওই তিনজনের তিনজনই অপরাধী, অভিনেতা এবং ভেকধারী। তাদের ওপর হওয়া অন্যায়ের যোগ্য দাবীদার ছিলেন তারা।

সবশেষ আজকে একজনের চোখের জলের ইতিহাস ও গোঁমর ফাঁস হল। অনেক দেরী হল, তবে হল। ব্যস। এই শেষ।

চোখের জলে ভেজার পর্ব শেষ আমার। আর গলব না।

জবে রেফার করে নাক ও মাথা কাটা যাবার ইতিহাসগুলোর কথা আর বললাম না।

#judgementalpeople ##judgementalattitude #CognitiveBias #ConfirmationBias #inferioritycomplex #SuperiorityComplex #SupremacySyndrome #virginity #hypothesis #Indicative #freaks #prejudice

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *