Skip to content

কর্পোরেট জগত ও খট্টাঙ্গ পূরাণ: গল্পে গল্পে কর্পোরেট চিনি

  • by

কর্পোরেট জিনিসটা কী-আমি আজও তার সংজ্ঞা জানি না। আপনাদের জানা থাকলে জানাবেন। কর্পোরেট নিয়ে আমি ভুড়ি ভুড়ি কথা বলেছি। সব আজকাল মনেও নেই। তবে কর্পোরেট ও তার কর্তাদের খাসলত নিয়ে রঙ্গ-মশকরার ছলে কিছু সত্যি কথা আজ বলব। ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে পড়লে আপনি কিছুটা হলেও রস আস্বাদন করতে পারবেন।

বয়ে চলা কর্পোরেট কপোট্রনিক নগর সভ্যতায় ব্রান্ডিং, সেলফি, সেলফ মার্কেটিং এবং মেনটরিং এর ঝড় দেখে মাঝে মাঝে ভয় হয়। ভয় হয় পিছিয়ে পড়ার। ভয় হয় তলিয়ে যাবার।

স্বাভাবিক। আপনি যদি দেখেন, আপনার সব ইয়ার বন্ধু-বান্ধব ও সামাজিক প্রতিবেশীরা শনৈশনৈ গতিতে সমাজের সব পদ পোস্ট বাগিয়ে, একেকজন কেউকেটা হয়ে বসেছেন, তাতে আপনার গান্ধিজীর সমান সংযমও টলে যেতে বাধ্য।

তবে আপনার মতো হতভাগাদের জন্য সান্তনাও আছে। “আগে গেলে বাঘে খায়, পিছে গেলে সোনা পায়।” (যদিও বাঘ সবসময় পেছনেরটাগেই টারগেট করে।)

মস্করা বাদ। গল্পে গল্পে আজ কর্পোরেটের কিছু নোংরা বাস্তবতা ও ভেতরের খবর শুনুন। গল্পগুলো শোনা, বা অনেক আগে পঠিত, বিধায় গড়বড় থাকবে। তবে গল্পের ভাষাগত ও তথ্যগত মিলের চেয়ে এর মেসেজটাই বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। দেখুন তো, লেসনগুলো ধরতে পারেন কিনা। পারলে জানাবেন কমেন্টে।

গল্প-১: দেগে দেখা

গোপাল ভাঁড়ের ভাতিজার বিয়ের কথা চলছে।

কণেপক্ষ ছেলের ঘরবাড়ি দেখতে এসেছেন (পাত্রের চেহারা ও কেশের দৈর্ঘ বা আরবী পড়তে পারা যাচাই করা পাত্রী পক্ষের অধিকারে পড়ে না।)। পাত্র গন্ডমূর্খ। তো পাত্রের রূপ, বংশ, পসার দেখা শেষ। হঠাৎ করে একজন মুরব্বী অনধিকার জিজ্ঞেস করে বসেন, “তা বাবা তুমি লিখতে পড়তে পারো?”

”আজ্ঞে, দাগিয়ে দিলে পারি।” [হালকা করে মার্ক করে দিলে, তার ওপর দিয়ে হাত ঘোরানো।]

কণেপক্ষ তো উঠে হাঁটা ধরলেন পাত্রের জ্ঞানের বহর দেখে।

গোপাল পেছন হতে চিৎকার করে বলতে লাগল,

“দাগিয়ে দিয়ে দেখতি, ভাতিজা আমার কেমন দিগগজ। দাগিয়েই তো দেখাতে পারলি না।”

গল্প-২: জাল তুলে ফেল

গোপালের আরেকটি গল্প। (স্বভাবতই অনেক আগে পঠিত, বিধায় কিঞ্চিত গড়বড় থাকতে পারে।)

গোপালের পিশতুঁতো দাদা ভরদ্বাজ। বয়স হয়েছে ৪৩, তবু বিয়ে হয়নি। বিয়ে না হবার কারন, তার পিঠে বিশাল এক কুঁজ, যার ভারে সেও কুঁজো হয়ে হাঁটে। তো, একবার এক পাত্রীপক্ষ আসবে বরের বাড়িঘর দেখতে। ঠিক হল, সোফার পেছনে একটা গর্ত তৈরী করে ভরদ্বাজকে সেখানে বসিয়ে রেখে কুঁজ লুকোনো হবে।

তো, কণেপক্ষ এলো। পাত্রকে তার সাথের লোকজন মোটামুটি লুকিয়ে চুরিয়ে চালান করবার ব্যবস্থা করে ফেলল।

কণেপক্ষ মোটামুটি সিগন্যাল দিলেন, তারা সম্বন্ধ করবেন। গোপাল চিৎকার করে চাকরকে ডেকে বলতে লাগল, “ওরে, ন্যাপা, জলদি পুকুরে জাল ফেল। বড় মুরগাটাকে ধর…………” ইত্যাদি। কথা চলতে থাকল।

কিন্তু, হঠাৎ করেই কী এক রসিকতা বা বাদানুবাদে উদ্বেলিত হয়ে দাদা ভরদ্বাজ স্থান-কাল-পাত্র ভুলে আসরের মধ্যে লাফ দিয়ে উঠলেন আর তার কুঁজ প্রকাশিত হয়ে পড়ল। কণেপক্ষ প্রতারনা ধরে ফেললেন। তারা মুখ চাওয়াচাওয়ি করে পাত্রের বিষয়ে তাদের অসন্তোষ জানিয়ে তক্ষুণি বিদায় নিতে উদ্যত হল। গোপাল আবার চিৎকার করে চাকরকে ডাকতে লাগল, ”ওরে, ন্যাপা, জাল তুলে ফেল, তুলে ফেল।”

গল্প-৩: কর্পোরেট জগত ও খট্টাঙ্গ পূরাণ:

আরেকবার। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রকে জব্দ করার জন্য একবার মুর্শিদাবাদের নবাব তাকে একটা অদ্ভুৎ প্রশ্ন করে বসলেন যার কোনো মাথামুন্ডু নেই। প্রশ্নটা হল, “পৃথিবীর ভূত, ভবিষ্যত বলে দিতে হবে।” গোপাল রাজাকে আশ্বস্ত করল। তো গোপাল নির্দিষ্ট দিনে নবাবের দরবারে একটা বিশাল পুটলি করা জিনিস ঘাড়ে নিয়ে ঢুকল। লাল ও সবুজ শালু কাপড়ে মোড়ানো সেই পুটলী। তো নবাব তাকে একটা প্রশ্ন করেন, গোপাল সেই পুটলীর এক পরত শালু কাপড় সরায় আর প্রশ্নের একটা জবাব দেয়। এভাবে এক এক করে সে সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে বসল। নবাব তো মহাখুশি হয়ে তাকে প্রচুর ইনাম দিলেন। তো, সেখান থেকে ফিরলে রাজা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ওই পুটলীর ভেতরে কীভাবে প্রশ্নের উত্তর এলো। জবাবে গোপাল বলল, “আসলে ওটা ছিল খট্টাঙ্গ পূরান।”

সভায় কেউ, এমনকি রাজপন্ডিতও কখনো খট্টাঙ্গ পূরানের নাম শোনেননি। এটা কী জিনিস-তা জানতে চাইলে গোপাল সেই শালু কাপড় মোড়ানো বস্তু হতে আস্তে আস্তে সব কাপড় সরালো। শেষে দেখা গেল, মূলে একখানা খাটের ভাঙা পায়া। তাতেই কাপড় জড়ানো ছিল। “মহারাজ, আমার একখানা খাটের ভাঙা পায়ার সাথে কাপড় মুড়ে এই পূরাণ তৈরী। খাট+অঙ্গ=খট্টাঙ্গ পূরাণ। ” সারা দরবার হেসে কুটি কুটি। 

আজকাল উপরের দুটো গপ্প খুব বেশি মনে পড়ে। দাগিয়ে দেখাতে না পারায় (মানে অমূক মডেল, তমূক কী ওয়ার্ডস আর ব্রান্ডিং নামের ঢোল বাজাতে না পারায়), অনেক জ্ঞানী ও উপযুক্ত প্রোফেশনাল নামকাম কামাতে পারছেন না। তারা থাকছেন পাদপ্রদীপের আড়ালে। আর সেই সুযোগে অনেকেই দাগিয়ে বেড়াচ্ছেন। গুরু ও গরু-দুইই বনে যাচ্ছেন। আর অনেকে আবার ওই খট্টাঙ্গ পূরাণ হতে বিদ্যা হাসিল করে বেশ দুপয়সা ও দুআনা ব্রান্ডিং কামিয়ে নিচ্ছেন। কার ঘটে সত্যি সত্যি বিদ্যা কতটা আছে, সেটা আজকাল কেউ আর তলিয়ে দেখে না। ফেসবুকে কতটা দাপটের সাথে বিচরন-সেটাই আজকাল যোগ্যতার বড় পরিচায়ক।

#Jargon #KeyWords [জনাব Molla Mohammad Faruque Ahsan সাহেব বুদ্ধিজীবী হবার তরিকা নিয়ে এক ফেসবুক পোস্ট লিখেছিলেন, প্রাসঙ্গিক মনে হওয়ায় সেটি হুবহু তুলে দিলাম। ”বুদ্ধিজীবী হতে হলে যে শব্দগুলো ব্যবহার করতে হবে: হেবারমাস, লাকা, পাবলিক স্ফিয়ার, ন্যারেটিভ, স্টুয়ার্ট হল, মিজ-অ-সিন, আইডিয়ালিস্টিক, ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ইন্সটিটিউশনালাইজড, ডিসকোর্স;

জিজেক, ফুকো, নিৎশে, পোস্টমডার্নিস্টিক এপ্রোচ, ইন বিটুইন দ্যা লাইন, স্কুল অফ থটস, ইগালেটারিয়ান, টোটালিটারিয়ান, অর্থডক্স, এপলিটিকাল, হোমি ভাবা, নন্দনতাত্ত্বিক মতবাদ; স্ট্রম্যান, তালাল আসাদ, রেডহেরিং, নুয়ান্স, কনটেক্সট, অক্সিমোরোন, এপিস্টেমোলোজি, অন্টোলোজি, টিলিওলজি, হেজিমনি, নিওলিবারেল, বিউপনিবেশায়ন, পোস্ট কলোনিয়াল, বুদ্ধিবৃত্তিক এপ্রোচ, ইত্যাদি।”]

গল্প-৪: ডিজিটাল যুগের ঈশপ

যুগের সাথে সাথে নাকি সবকিছু বদলায়। ঈশপ যদি এই যুগে পয়দা হতেন তবে তার গল্পগুলো নিশ্চই অন্যরকম হত। না, শিরোনাম দেখে ভাববেন না আমি ঈশপকে নিয়ে বা তার গল্পের ডিজিটালাইজেশান নিয়ে গল্প ফেঁদে বসব। আমি শুধু পুরোনো গল্প নতুন কাসুন্দি দিয়ে পরিবেশন করব। তবে এই অংশটুকু সাধু ভাষায় রচিত, যেহেতু ঈশপ নিজেও সাধুদের জামানার।

একদা কোনো এক দেশে এক চোর বাস করিত। তাহার বংশ ছিল সৈয়দ।

কোনো একদিন সে কোথাও চুরি করিতেছিল। কী করিয়া জানি না, থানাওয়ালারা খবর পাইয়া কতিপয় পুলিশ সদস্যকে তথায় প্রেরণ করিল। পুলিশের দলে একজন ছিল পূর্বে তাহার বংশ ছিল নিচু। অন্য পুলিশেরা তথায় পৌছিয়া দেখিল যে, সৈয়দ সাহেব চুরি করিতেছেন। তাহারা বংশ মর্যাদার কারণে তাহাকে ধরিল না।

কিন্তু নিচু বংশীয় পুলিশ মহোদয় সততার মহান মন্ত্রে উজ্জিবীত হইয়া তাহার কলার চাপিয়া ধরিল। তাহাকে হিড়হিড় করিয়া টানিয়া থানায় হাজির করিল। সে ভাবিল এইবার তাহার এহেন কর্মে প্রীত হইয়া সরকার মহাশয় তাকে দারোগা করিয়া দিবে।

বিচার সভা বসিল চোরের বিচারার্থে। কিন্তু সবাইকে বেকুব বানাইয়া চোর মহাশয় তীব্রস্বরে কহিল,

“কেন সৈয়দ বংশের চোরকে নীচু জাতের পুলিশ ধরিল, কেন তাহাকে যথেষ্ট সম্মান সহকারে অ্যারেষ্ট করা হয় নাই, কেন তাহার কলার ধরা হইল, চুরি করার কালে তাহার মানবাধিকার রক্ষিত করিয়া তাকে ধরা হয় নাই” ইত্যাদি ইত্যাদি।

(অতঃপর বিচার সভা এই বলিয়া সমাপ্ত হইল যে, পরবর্তীকালে চোর ধরিবার কালে পুলিশ যেন বংশমর্যাদা রক্ষা করিয়া এবং চোরের মর্যাদাহানি না করিয়া, মানবাধিকার রক্ষা করিয়া তাকে সসম্মানে ধৃত করে।) ……….

জনগণ বেকুব হইল।

গল্প-৫: উল্টো যাত্রা

এই গল্পটি আমার এক বন্ধুর নিকট হতে তার চাক্ষুস অভিজ্ঞতা হতে ধার করা, একটু এডিট করে, এবং গুরুগম্ভীর বিষয় হওয়ায় এটাও সাধুতে বললাম।

পুরাকালে কোনো এক প্রতিষ্ঠানে একজন বিলাতি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দোর্দন্ড প্রতাপে কাজ করিতেন। তাহার অধীনে কিছু জুনিয়র কর্মী কাজ করিতেন।

জুনিয়র লোকজনের কর্মমূল্যায়ন করিয়া তাহাদের বেতন নির্ধারন করিয়া তাহার উচ্চপদস্থকে দিতেন। উচ্চপদস্থ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো জ্ঞান রাখিতেন না। কিন্তু নিজের অজ্ঞতাকে ঢাকিতে এক অভাবনীয় পন্থা অবলম্বন করিতেন।

তিনি তাহার জুনিয়র যাহাই সুপারিশ করিতেন, তাহা হইতে ৫০-১০০ টাকা কাটিয়া দিতেন। কিছুকাল যাইতেই তাহার এই চাতুর্য জুনিয়ররা ধরিয়া ফেলিলেন।

একদিন এক জুনিয়র কি করিল এক ব্যক্তির মূল্যায়নপত্রে ৫,০০০ সুপারিশ করিয়া তাহার উচ্চপদস্থকে দিল। তিনি যথারীতি আধাঘন্টা ভাব ধরিয়া, মাথায় কলম ঠুকিয়া, হুমহাম করিয়া, জুনিয়রের দিকে তাকাইয়া হতাশার দীর্ঘশ্বাস ছাড়িয়া, “তোমরা খি যে খরো……” করিতে করিতে ২০০ কাটিয়া তাহা ৪,৮০০ করিয়া দিলেন।

জুনিয়র বাহিরে গিয়া একই লোকের মূল্যায়ন আবার একটা কাগজে ৫,২০০ সুপারিশ লিখিয়া ’উচ্চপদস্থ’কে দিল। তিনি এই চাতুর্য ধরিবার পর্যায় হইতে অনেক উর্দ্ধের মানুষ ছিলেন।

বেকুবি ঢাকার চিরাচরিত পন্থাগুলি অবলম্বন করিয়া এবার কাটিয়া লিখিলেন ”৫,১০০”।

জুনিয়র তাহার পূর্বের ও পরের কাগজ দুটি কপি করিয়া (পয়েন্ট নেয়ার দুরাশায় ও উচ্চপদস্থের কেরেদ্দারী ধরাইয়া দিবার দুরাশায়) কাগজ দুটি লইয়া তৎক্ষনাৎ বড়বাবুর কক্ষে লইয়া গিয়া তাহাকে দেখাইয়া নালিশ ঠুকিল। ভাবিল এইবার আর তাহাকে পায় কে?

আপনারা কী ভাবিলেন? বড়বাবু কর্তৃক উচ্চপদস্থকে বিতাড়ন আর জুনিয়রকে প্রমোশন? মিসটেক করিলেন।

বড়বাবু জুনিয়রকে এই অযুহাতে ততক্ষনাৎ চাকরিচ্যুত করিলেন, এই অপরাধে, যে, নিজের কাজ বাদ দিয়া উচ্চপদস্থের খূুঁত ধরিতে তোমায় কে বলিয়াছিল?

গল্প-৬: শোনা গপ্পে নয়া শিক্ষা #IDon’tKnow

একবার পাশাপাশি দুটো প্রতিযোগী গ্রামে দু’জন মাস্টার এলো। একজন হাতুড়ে। খুব বেশি কিছু জানে না। তবে গ্রামের পলিটিকস ও গিরীঙ্গি ভালই জানে।

আরেক গ্রামের মাস্টার সত্যিকারে শিক্ষিত, বিএ পাশ। তবে গ্রামের কূটিল বিদ্যা তার নেই।

তো একবার দুই গ্রামের মাস্টারের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ-তা নিয়ে একটা বচসা উঠল। বচসা ও বিতর্ক এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেবার উপক্রম।

তো গ্রামের বিচক্ষন মানুষেরা রায় দিলেন, বরং, একদিন দুই মাস্টারের মধ্যে কুইজ ও বাহাস হবে। যে জিতবে, সেই বড় ও বিদ্বান।

তো ওই অশিক্ষিত ও কূটিল মাস্টার তো জানে, কী করে কাউকে ঘায়েল করতে হয়। কিন্তু শিক্ষিত ও যোগ্য মাস্টারতো তা জানে না।

সে নির্দিষ্ট সময়ে তার প্রশ্ন করল। (ধরে নিন, সেই প্রশ্ন ছিল-”বলুন তো, রুড গুলিতের মাথার চুলে কয়না বেণী ছিল?”

আগের হাতুড়ে মাস্টারের তা ভাগ্যক্রমে জানা থাকায় সে সহজেই উত্তর দিল। এবার শিক্ষিত মাস্টারের পালা।

তাকে ওই গেঁয়ো শিক্ষক জিজ্ঞেস করল, “I don’t know”এর অর্থ কী?

স্বাভাবিকভাবে বিএ পাশ মাস্টার সরল মনে উত্তর দিল, “আমি জানি না”।

ব্যাস, আর যায় কোথায়? মুহূর্তের মধ্যে ওই গ্রামের মানুষ চিৎকার করে উঠল। পারে না, পারে না, জানে না, জানে না।

ধূর্ত হাতুড়ের প্ল্যানমতো এই সুযোগে তার সাগরেদরা ঢোল, করতাল, ভুভুজেলা বাজিয়ে হইচই লাগিয়ে দিল। ব্যাস, এরপর ওই মাস্টার যতই ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষনের চেষ্টা করে তাতে কি আর কাজ হয়?

ফলাফল, অপমান মেনে তার গ্রাম ত্যাগ।

এই শোনা গপ্পের মাজেজা জানতে চান? যদি হজম করতে পারেন, তবে বলি।

কিছু বিশেষজ্ঞ ও বিশেষ অজ্ঞ প্রোফেশনাল যে করেই হোক, কিছু একটা করে খাচ্ছেন। নাম ভাঙিয়ে বা দাম ভাঙিয়ে। আমি ওঁদের বলি “Key & Lead” jargon বিশেষজ্ঞ। (সবাই না।) তাদের কাছে সত্যিকারের বিশেষজ্ঞরা খাবি খাচ্ছে রোজ। ওই মাস্টারের মতো। আর বলব না। মার খাবার সম্ভাবনা আছে।

গল্প-৭: কর্পোরেট কড়চা:

এবারের গল্পটি লিখেছেন জনাব এমরানুল হক।

একদা নবীন শিক্ষক জটিল এক বিষয় নিয়ে হাজির হলে প্রবীন গণিত শিক্ষকের কাছে। বিষয়টি ছিল- স্কুলে শহর থেকে বিশেষ অতিথিগণ পরিদর্শনে আসবেন। সংখ্যায় ৪ জন। 

তাদের জন্য উপহার কিনতে সভাপতি মহোদয় ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। ৩ জনের জন্য উপহার কেনা হয়েও গেছে।

এখন ৪র্থ জনের জন্য কত টাকার মধ্যে উপহার কিনবে, এই বিষয়টি নবীন শিক্ষক বুঝতে পারছেন না। বড্ড জটিল ও গোলমেলে হিসেব।

প্রবীন সহকারী প্রধান শিক্ষক বললেন, ৩ জনের কেনা হলে বাকিটুকুই তো ১ জনের বাজেট, এতে জটিলতার কি আছে?

নবীন বললেন, অনেক জটিল, আমায় লিখে বুঝিয়ে দিন। প্রবীন আবারো বললেন, বাছা ৪ জনের জন্য ৫ হাজার, ৩ জনের কিনে ফেলেছ, তো বাকিটুকু দিয়ে ১ জনকে কিনে দাও, ল্যাঠা চুকে গেল।

এই কথা শুনে নবীন চলে গেল। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে বললো, আমি হিসেব মিলাতে পারছি না। আপনি একটু খুলে বলুন তো? 

প্রবীন এবার খুলে বলতে চেষ্টা করলেন। বললেন ১ম জনের জন্য কত দিয়েছ? উত্তর ১৬০০ টাকা। ২য় জনের জন্য কত দিয়েছ? উত্তর ১৪০০ টাকা। ৩য় জনের জন্য কত দিয়েছ? উত্তর ১২০০ টাকা। তা বাছা, তোমার কাছে মোট কত ছিল? আজ্ঞে ৫০০০ টাকা।

তো ৫০০০ হাজার থেকে ৩ জনকে দিয়ে যা আছে তাই তো ৪র্থ জনের বাজেট!!! খুবই সহজ।। এবার যোগ-বিয়োগ করে নিজে -নিজে বের করে নাও।। হা হা হা।

এবার নবীন মুখ গোমড়া করে বললেন, দাদা একটু লিখে বুঝিয়ে দিন না, কি কঠিন করে বলছেন, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।

প্রবীণ কাতর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, এরচেয়ে সহজ করে কিভাবে বুঝাতে হয়, তা আমার জানা নেই বাপু, আমায় ক্ষমা কর।

নবীন চলে গেল। পরদিন পুরো স্কুল জানলো- প্রবীণ শুধু বয়সেই বেড়েছে, জ্ঞানে বাড়েনি। একটি সহজ বিষয় তিনি সহজ করে বুঝিয়ে দিতে পারেননি। আর যারা এক কাঠি সরেস, তারা জানলো, প্রবীণ ইচ্ছে করেই হিসেব শিখাননি। তিনি শুধু নামেই গণিত শিক্ষক, আদতে তিনি সরল অংকই জানেন না।

গল্প-৮: উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে

দবির ছবিরের সংগৃহিত এই গল্পটি বলতেন আমার একজন সাবেক সহকর্মী মি. ইকবাল।

দবির যদি ছবিরকে প্রহার করে তবে দবিরের দোষ নয়, দোষ হইল ছবির কেন পিঠ পাতিয়া দিল?

আম যদি বোটা হইতে ঝরিয়া পড়ে তবে আমের দোষ নয়, বোটা কেন তাহাকে ধরিয়া রাখিতে পারিল না সেটা তারই দোষ।

একা পথে তরুনীকে কোনো বখাটে টিজ করিলে বখাটের দোষ নয়, তরুনী কেন একা বাহির হইল, তাহারই সব দোষ।

গল্প-৯: নিরব গাঁধা

কোনো এক অফিসে হাবু নামক একজন অতি দক্ষ কর্মী ছিলেন। তিনি অন্য যেকোনো কর্মীর চেয়ে দ্রুত তার কাজ শেষ করে ফেলতে পারতেন। একদিন তার বস পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখেন হাবু বেলা দুইটার সময় তাকে দেয়া সমস্ত ফাইল শেষ করে বসে আছেন রিল্যাক্সে। হাবুকে তিনি জিজ্ঞেস করতে সে বলল তার কাজ প্রতিদিন অতি দ্রুত সে শেষ করে ফেলে নিখুঁতভাবে। সময়ের আগেই সে কাজ শেষ করে ফেলে বলে বাকি সময় রিল্যাক্সে থাকে। বস অত্যন্ত খুশি হয়ে……………….!!!!!!!! কী করলেন? ওয়েইট।

হাবুর পাশের ডেস্কে তার সমান পদবীর সহকর্মী গাবু কাজ করত। গাবু আবার দক্ষতার চেয়ে টাউটারিতে ওস্তাদ। সে কাজ তো করতে পারেই না উপরন্তু করার চেষ্টাও তার নেই। সে কি করে, সকালে এসে হাজিরা দিয়ে যায় নাস্তা, পান, বিড়ি খেতে। এরপর টেবিলে টেবিলে গিয়ে সবার হাড়ির খবর নেয়া, চোকলামী করা, মহিলা সহকর্মীদের সাথে আড্ডা দেয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। অতঃপর মোটামুটি বেলা হলে ফাইল নিয়ে বসে আস্তে আস্তে গদাই লস্করী চালে কাজ শুরু করে। তাও আবার পাতা উল্টাতে ন’মাস। এমনি করে তার টেবিলে কাজের পাহাড় জমে। তো একদিন হাবু গাবুর বস গাবুর টেবিলের পাশ দিয়ে যাবার সময় দেখেন বিকাল পাচটায়ও (ছুটির সময়) গাবুর টেবিলে গাদা গাদা ফাইল পেন্ডিং। আর সে ফাইলের স্তুপের পিছনে পড়ে আছে। গাবুকে জিজ্ঞেস করায় সে বলল কাজ শেষ করতে পারেনি, তাই স্তুপ। এই না অবস্থা দেখে বস রেগেমেগে……………………….! কী করলেন? না, আপনারা যা ভাবছেন তা না। হয়তো ভেবেছিলেন বস খুশি হয়ে হাবুকে বিরাট একটা পুরষ্কার ধরিয়ে দিলেন বা একটা প্রমোশান। আর রেগেমেগে গাবুকে লাগালেন এক রাম ধমক অথবা স্যালারি কেটে দিলেন? স্যরি। মিসটেক করলেন। ওসব সত্যযুগে হত। এখনতো কলিযুগ পার হয়ে ডিজিটাল যুগ। বস ভাবলেন যেহেতু হাবু দ্রুত কাজ করে ফেলে এবং তার হাতে ফ্রি টাইম থাকে তাই তিনি গাবুর কাছ হতে ফাইল নিয়ে হাবুকে দিলেন বাকি সময়ে করার জন্য। আর গাবুকে কি করলেন? যেহেতু গাবু সময়ের কাজ সময়ে করতে পারে না, তাই তিনি ভাবলেন গাবু হয়তো মানসিকভাবে ভাল নেই। তাই তার ফাইল কমিয়ে দিলেন এবং আপাতত গাবুর মানসিক উন্নতির জন্য অফিসের খরচে তাকে থাইল্যান্ডে পাতায়ায় চিত্ত বিনোদনে ট্যুরে পাঠালেন।

গল্প-১০:

একবার এক শিকারী বনের মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে একটি গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে শুয়ে পড়লেন। ক্লান্তিতে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন কিছুক্ষণের মধ্যেই। গাছের উপর দু’টি পাখি বসে ছিল। একটি কালো (মনের) একটি সাদা (মনের)। সাদা পাখিটি হঠাৎ খেয়াল করল গাছের পাতার ফাঁকা দিয়ে সূর্যের আলো শিকারীর মুখের উপর পড়ছে। শিকারীর ঘুমে ব্যাঘাত হচ্ছে। সে তার ডানা বিস্তার করে রোদ আড়াল করল যাতে শিকারী আরামে ঘুমাতে পারে। কিন্তু কালো পাখিটি শিকারীকে ঘুমাতে দেখে দুষ্ট বুদ্ধি আঁটল। সে  ডালের উপর হতে শিকারীর মুখের উপর মল ত্যাগ করে উড়ে গেল। শিকারীর ঘুম ভেঙে গেল। সে রেগে উপরে তাকিয়ে দেখল একটি সাদা পাখি ডানা মেলে ডালে বসে আছে। ক্রোধে উন্মত্ত অবস্থায় সে মনে করল সাদা পাখিটি তার মুখে মলত্যাগ করেছে। সে ধনুক নিয়ে সোজা সাদা পাখিটির বুকে  তীর ছুড়ল। সাদা পাখি সাথে সাথে  তীরবিদ্ধ হয়ে মারা গেল। মোরাল: কর্পোরেট জগতে প্রচুর নিরব কর্মী থাকে। তারা সারাদিন সারাবছর নিরবে নিভৃতে নিজের মতো করে নিজের দায়িত্ব পালন করে যায়, প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করে যায়। কেউ তাদের অবদান জানতেও পারে না। তারা নিজেদের প্রচার চায়ও না। কিন্তু কিছু কালো পাখির মতো সুযোগসন্ধানী কাজ বাদ দিয়ে সারাদিন লবিং, গ্রূপিং, গিরিঙ্গি, সুযোগ সন্ধান, এর ওর পেছনে লাগা বা লাগানোর ধান্দা করে যায়। তারা তো তাদের অপকর্ম করে পালায়। ধরা পরে সাদারা। তারা সারাদিন আন্তরিকভাবে কাজও করে আবার কালোদের অপকর্মের দায়ও বহন করে।

গল্প-১১:

একদা এক গ্রামে একটি ডোবার কাছে দু’টি হাঁস আর একটি কচ্ছপ বাস করত। এক গ্রীষ্মে প্রচন্ড গরমে ডোবাটি শুকিয়ে গেল। কচ্ছপের বাঁচা কঠিন হয়ে উঠল। সে তার দুই হাঁস বন্ধুর কাছে সহায়তা চাইল। হাঁস দু’টি একটি লাঠি আনল। কচ্ছপকে বলল লাঠিটি কামড়ে ধরে থাকতে। কচ্ছপ তাই করলে হাঁস দু’টি দু’দিক হতে লাঠিটি কামড়ে ধরে উড়াল দিল। কচ্ছপকে তারা উড়িয়ে দূরে কোথাও নিতে রওনা হল। তারা যখন আরেক গ্রামের উপর দিয়ে যাচ্ছিল তখন বাচ্চারা এই অভাবনীয় দৃশ্য দেখে অবাক হল। তারা চিৎকার করে করে বলতে লাগল, দেখ দেখ দু’টো হাঁস একটা কচ্ছপকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।  হঠাৎ বাচ্চাদের মধ্যে থেকে একজন বলল, কচ্ছপটা নিশ্চই খুব অলস, তাই হাঁসেরা তাকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই কথা শুনে কচ্ছপের খুব রাগ হল। তার প্রেস্টিজে ঘাঁ লাগল। সে রেগেমেগে বলতে গেল, “চুপ কর বেয়াদব। আমি মোটেই অলস না। আমি অনেক পরিশ্রম করি, অনেক কাজ করি। সারাদিন আমার প্রচুর ব্যস্ততা। আমি আমার পরিবার, সমাজ, প্রতিষ্ঠান ও দেশের জন্য ঘাম ঝরিয়ে পরিশ্রম করি…………” ইত্যাদি ইত্যাদি। তো সে এত কথা বলার আগেই লাঠি ছেড়ে মাটিতে পড়ে অক্কা পেল। তাই বলি, কথা একটু কম বলুন। কথা বলার জন্য, মনের চাপা কষ্ট প্রকাশের জন্য, প্রতিবাদ করার জন্য বুকটা ফেটে যাচ্ছে হয়তো। বহু না বলা কথা প্রকাশের জন্য মুখটা নিশপিশ করছে। তবু মুখটা কখনো কখনো নিজের স্বার্থেই বন্ধ রাখুন। সবসময় সত্য কথা বলতে নেই। কখনো কখনো চুপ থেকে নিজের দোষ মেনে নেয়াও আখেরে নিজের ভাল করে।

গল্প-১২:

একবার একজন ছাত্র তার ওস্তাদের কাছে জানতে চাইল, ওস্তাদ যেখানে পানি পাওয়া যায় সেখানে পবিত্রতার জন্যতো আমরা ওযু করব কিন্তু যেখানে পানি পাওয়া যাবেনা সেখানে? ওস্তাদ বললেন, সেখানে ধুলা বা পাথরের সহায়তায় তায়াম্মুম করবে। ছাত্র এবার জানতে চাইল, যেখানে পানিও নেই, ধুলাও নেই এমন কোথাও যদি যাই তবে কী করব? ওস্তাদ বললেন কাছে আয়। শাগরেদ কাছে যেতেই ওস্তাদ তাকে ঠাস করে এক চড় লাগালেন। ক্রোধের সাথে বললেন, “ব্যাটা ফাযিল, প্রথমে বল, যেখানে পানিও সেই ধুলোও নেই সেখানে তুই যাবি কোন কাজে?” আরেকটা গল্প বলি: আপনারা জানেন কিনা জানিনা। আমাদের পেনাল কোডে বৃটিষ আমলের একটা আইন এখনো শুনেছি বলবত আছে। কেউ যদি কোনো ঠেলাগাড়ির নিচে চাপা পড়ে তবে সেই আক্রান্ত ব্যক্তি উল্টো ঠেলাগাড়ির মালিককে জরিমানা দিতে বাধ্য থাকবেন। এই অদ্ভূৎ আইনের কারনটা নাকি ছিল এই চিন্তা করে যে, ঠেলাগাড়ির মতো ধীরগতির বাহনের নিচেও চাপা পড়তে পারে এমন বেকুব লোক শহরে কেন এসেছে তার গুনাগারি স্বরুপ। এই ২০১৭ সালের ইন্টারনেট, ডিজিটালাইজেশন আর স্মার্ট ফোনের কমিউনিকেশন সুপারম্যানশীপের যুগেও কেউ কেউ মাঝে মধ্যেই দেখি বিকাশে ধরা, অনলাইনে জিনিস কিনে ধরা, বাজারে জামাকাপড় কিনে ধরা, গুলিস্তানে সস্তায় মোবাইল কিনে ধরা, রাতে ভাগের সিএনজিতে চড়ে ধরা, ঈদে সহযাত্রীর কাছ হতে আচার খেয়ে ধরা ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। উপরের গল্পদুটোর প্রেক্ষিতে আমি মনে করি এই যুগেও যে মানুষ ইচ্ছা করে এমন বিপদে পড়ে তার অমন বিপদে পড়াই উচিৎ। বিপদে পড়ে বরং শিক্ষা হবে। এমনিতে হবে না।

গল্প-১৩:

একগ্রামে এক বিধবা তরুনী বাস করিত। উহার বাবা-মা, স্বামী, আত্মীয় পরিজন সবাই গত হইয়াছিলেন। তো গ্রামের সদাশয় (আসলে ধান্দাবাজ) মহানুভবেরা উহাকে গ্রামের এক কোণে পরিত্যক্ত স্থানে একটি কুড়েঘর তুলে দিল। সে সেখানে থাকে। কোনোমতে কায়ক্লেশে চাহিয়া চিন্তিয়া, লোকের বাড়িতে কাজ করিয়া জীবিকা নির্বাহ করে। গ্রামের অনেকেরই তাহার উপরে সদয় নজর কিংবা সুনজর! হঠাৎ একদিন গ্রামে ঢ়ি ঢ়ি পড়িয়া গেল। কেন? সেই বিধবাটি সন্তানসম্ভবা। সারাগ্রাম উত্তেজিত হইয়া উঠিল। কে এই সর্বনাশ সাধন করিল। অসহায় মেয়েটি! আহা! তো বিচারসভা বসিল। প্রকৃত অপরাধিকে ধরিবার যথেষ্ট চেষ্টা হইল (আসলে লুকাইবার)। স্বাভাবিকভাবে সভাশেষ হইল এই বলিয়া, “যেই করিয়াছে অত্যন্ত গর্হিত কাজ হইয়াছে।” যাই হউক, বিধবা তরুণীকে কিছু অর্থ প্রদান করা হইল খালাশ হইবার জন্য। মুরব্বিরা বারবার সতর্ক করিল সাবধান রহিতে। কেহ কিছু বলিলে মুরব্বিদের কহিতে। তো ৬ মাস ঘুরিতে না ঘুরিতে আবার বিধবা তরুনী সন্তানসম্ভবা। আবার সেই রই রই। ঢ়ি ঢ়ি পড়িল গ্রামময়। অপরাধীকে গ্রামময় খোঁজাখুঁজি হইল। বিচার সভা বসিল। আগের মতোই বিধবাকে বারবার সতর্ক করা হইল। তাহাকে কিছু টাকা দেয়া হইল খালাশ হইতে। মুরব্বীরা ব্যপক আহা উহু করিলেন। কলিযুগের চারিত্রিক অধঃপতন নিয়া হা হুতাশ করিলেন, মানুষের চরিত্র নিয়া হতাশায় মাথা নাড়িলেন……….. । মাস দুয়েক না ঘুরিতেই আবার…………। এইবার মুরব্বীরা কিছুটা নড়িয়া চড়িয়া বসিলেন। নাহ, বারবার তো সহ্য করা যায় না। আফটার অল গ্রামের সম্মানের বিষয়। তাছাড়া একজন অসহায় বিধবার উপর এমন অত্যাচার, অমানবিক নির্যাতন। তো বিশাল সভা বসিল। এইবার মুরব্বীরা একটু বিরক্ত। প্রধান মোড়ল এবার বিধবা সুন্দরী তরুনীকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আচ্ছা, তুইই বল। গ্রামে এত লোক থাকিতে তোর সাথেই কেন বারবার এমন হয়?”

”চাচা, কী করুম, আমি তো কাউরে না করতে পারি না।”…………………………..

আমার প্রিয় বন্ধুরা, জীবনে কখনো কখনো না বলতে শিখুন। সব আবদার, সব দাবী, সব অনুরোধ, সব আবেগী দৃষ্টিতেই হ্যা বলে দেবেন না। ”না” বলারও অভ্যাস করুন। আপনার জীবন সবার আগে আপনার নিজের। তারপর বাকি পৃথিবীর।

গল্প-১৪:

সেলসম্যান, অফিস ক্লার্ক ও ম্যানেজার দুপুরে খেতে যাচ্ছিলেন। পথে তাঁরা একটি পুরোনো প্রদীপ পেলেন। তাঁরা ওটাতে ঘষা দিতেই দৈত্য বের হয়ে এল। দৈত্য বলল, ‘আমি তোমাদের একটি করে ইচ্ছা পূরণ করব।’ ‘আমি আগে! আমি আগে!’ বললেন অফিস ক্লার্ক, ‘আমি বাহামা সমুদ্রপারে যেতে চাই, যেখানে অন্য কোনো ভাবনা থাকবে না, কাজ থাকবে না।’ ‘ফুঃ…!!’ তিনি চলে গেলেন। ‘এরপর আমি! এরপর আমি!’ বললেন সেলসম্যান, ‘আমি মায়ামি বিচে যেতে চাই, যেখানে শুধু আরাম করব।’ ‘ফুঃ…!!’ তিনিও চলে গেলেন। ‘এখন তোমার পালা’, দৈত্য ম্যানেজারকে বলল। ম্যানেজার বললেন, ‘আমি ওই দুজনকে আমার অফিসে দেখতে চাই।’ শিক্ষণীয়বিষয়: সব সময় বসকে আগে কথা বলতে দেবেন। তা না হলে নিজের কথার কোন মূল্য থাকবে না।

গল্প-১৫:

একটি ইগল গাছের ডালে বসে আরাম করছিল। এমন সময় একটি ছোট খরগোশ ইগলটিকে দেখে জিজ্ঞেস করল, ‘আমিও কি তোমার মতো কিছু না করে এভাবে বসে আরাম করতে পারি?’ ইগল উত্তর দিল, ‘অবশ্যই, কেন পারবে না।’ তারপর খরগোশটি মাটিতে এক জায়গায় বসে আরাম করতে থাকল। হঠাত্ একটি শিয়াল এসে হাজির, আর লাফ দিয়ে খরগোশকে ধরে খেয়ে ফেলল। শিক্ষণীয়বিষয়: যদি কোনো কাজ না করে বসে বসে আরাম করতে চান, তাহলে আপনাকে অনেক ওপরে থাকতে হবে।

গল্প-১৬:

একটি মুরগি ও একটি ষাঁড় আলাপ করছিল। ‘আমার খুব শখ ওই গাছের আগায় উঠব, কিন্তু আমার এত শক্তি নেই’, মুরগিটি আফসোস করল। উত্তরে ষাঁড়টি বলল, ‘আচ্ছা, তুমি আমার গোবর খেয়ে দেখতে পার, এতে অনেক পুষ্টি আছে।’ কথামতো মুরগি পেট পুরে গোবর খেয়ে নিল এবং আসলেই দেখল সে বেশ শক্তি পাচ্ছে। চেষ্টা করে সে গাছের নিচের শাখায় উঠে পড়ল। দ্বিতীয় দিন আবার খেল, সে তখন এর ওপরের শাখায় উঠে গেল। অবশেষে চার দিন পর মুরগিটি গাছের আগায় উঠতে সক্ষম হলো। কিন্তু খামারের মালিক যখন দেখলেন মুরগি গাছের আগায়, সঙ্গে সঙ্গে তিনি গুলি করে তাকে গাছ থেকে নামালেন। শিক্ষণীয়বিষয়: ফাঁকা বুলি (বুল শিট) হয়তো আপনাকে অনেক ওপরে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু আপনি বেশিক্ষণ ওখানে টিকে থাকতে পারবেন না।

গল্প-১৭:

একটি পাখি শীতের জন্য দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু এত ঠান্ডা ছিল যে পাখিটি শীতে জমে যাচ্ছিল এবং সে একটি বড় মাঠে এসে পড়ল। যখন সে মাঠে পড়ে ছিল, একটি গরু তার অবস্থা দেখে তাকে গোবর দিয়ে ঢেকে দিল। কিছুক্ষণ পর পাখিটি বেশ উষ্ণ অনুভব করল। যখন গোবরের গরমে সে খুব ঝরঝরে হয়ে উঠল, আনন্দে গান গেয়ে উঠল। এমন সময় একটি বিড়াল পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, পাখির গান শুনে খুঁজতে লাগল কোথা থেকে শব্দ আসে। একটু পরই সে গোবরের কাছে আসে এবং সঙ্গে সঙ্গে গোবর খুঁড়ে পাখিটিকে বের করে তার আহার সারে।

শিক্ষণীয়বিষয়:

১. যারা আপনার ওপর কাদা ছোড়ে, তারা সবাই-ই আপনার শত্রু নয়।

২. যারা আপনাকে পঙ্কিলতা থেকে বের করে আনে, তারা সবাই-ই আপনার বন্ধু নয়।

৩. এবং যখন আপনি গভীর পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত, তখন মুখ বেশি না খোলাই শ্রেয়।

আজকের মতো গল্প এখানে শেষ করছি। যাবার আগে কর্পোরেটের সবচেয়ে মজার রসিকতাটি জানিয়ে যাই।

কর্পোরেট আপনার সামনে সবসময় একটি মুলা ও চুলা ঝুলিয়ে রাখবে। মুলার লোভ আর চুলায় জ্বলার ভয় আপনাকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে কর্পোরেটের উদগ্র বিজনেস স্বার্থের পানে।

কর্পোরেট আপনাকে এমন একটি লোভনীয় মূলা (মানে মাইনে ও অন্যান্য আর কি) দেবে, যেটা দিয়ে আপনি তৃপ্ত স্ত্রী, বন্ধুমহল, আড্ডা, বিদেশ গমন, একটি চার চাকার যন্ত্রশকট, ছো্ট্ট মুরগীর খোপ-এসব নিয়ে সমাজের দশজনের একজন হয়ে নিজেকে হৃষ্ট পুরুষ হিসেবে সুখী করতে থাকবেন। শান্তি না থাকলেও, সেখানে সুখ আছে। এই আরামের লোভ ছাড়বার মতো সাহস আপনার হবে না। আবার কর্পোরেট আপনাকে এতটা বেশিও দেবে না, যা থেকে মোটা একটি অংশ বাঁচিয়ে অচীরেই আপনি কর্পোরেটকে যেকোনো সময় বিদায় বলার মতো ঘাড় মোটা করতে পারবেন। ফলাফল? কর্পোরেট সুখের চোরাবালিতে আজীবন ”দিন যায় কথা থাকে।” কর্পোরেট কখনো কর্পোরেটের দাসত্ব হতে বেরিয়ে যাবার সাহস করবার সুযোগ দেবে না। ফলাফল……………..রেখো মা দাসেরে মনে।

#corporateslavery #corporateexploitation #corporatedeceit #corporatehypocrisy #corporatemockery #showoffatitsbest #exhibitionism #TRPaholic #fameseeker #attentionseeker #selfbranding #selfpromotion #selfmarketing #personalbranding #socialmediadomination #socialmediamanipulation #socialmediadestruction #socialmediahype #socialmediaaholic #socialmediatrial #moralpolicing #punishment #reward #thief #police #efficiency #boss #performance #theft #eliteclass #Idontknow #cunning #clever #tricks #talenthack #gopal #withdrawal #wisdomvswittyness #predator #judgement #blame #misuse #exploitation # #reward #duck&tortoise #silence #chattering #absorption #blame #billygoat #bunny #ostadshagred #justification #wisdom #sayingNO #refusal #strongmentality #guts #beingbold #boss #officeculture #lesson #friendship #storytelling #moralstories #LifeLessons #MoralValues #SelfControl #Consequences #Ethics #SocialPressure #WorkplaceDynamics #SelfRespect #CriticalThinking #Caution #Deception #PersonalGrowth #DecisionMaking #Accountability #Resilience #BanglaStories #FolkTales #SocialCommentary #LearningFromMistakes #HumanBehavior

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *