একবার একটি বিদেশী সাহিত্যের (নেকলেস-গি দ্য মোপাঁসা) বাংলা অনুবাদ পড়ছিলাম।
গল্পের নায়িকা মফিলদে। একজন গরীব অথচ রুপসী নারী। তার স্বামী একজন স্বল্পবিত্ত হপ্তা খাটা মানুষ।
হঠাৎ একদিন কোনো এক জাকজমকপূর্ন পার্টিতে যাবার দাওয়াত পায় মফিলদে ও তার স্বামী। নিজের জৌলুসহীন পোষাকের দীনতা পুষিয়ে নিতে মফিলদে তার বন্ধুর কাছ থেকে বহুমূল্য ও আকর্ষনীয় একসেট স্বর্ণ নির্মিত নেকলেস ধার করে অনুষ্ঠানে পরে যায়।
অনুষ্ঠানে তার রূপ ও সাজের প্রচুর প্রশংসায় সে একই সাথে বিগলিত আবার ইতস্তত হয়। গোল বাঁধে যখন বাসায় ফিরে হঠাৎ করেই দু’জনে আবিষ্কার করে, যে, মফিলদের গলার হার নেই।
সারা বাড়ি খুঁজেও পাওয়া যায় না। গোপনে অনুষ্ঠানস্থলেও অনুসন্ধান চালানোর পরেও ফলাফল শুন্য। মফিলদে ও তার স্বামী পড়ে অথৈ বিপদে।
এদিকে বান্ধবীকেও হারটা ফেরত দিতে হবে। অতঃপর…………………..এই দুখী দম্পতি সাধ্যাতীত অর্থ ঋন করে জুয়েলার হতে একই রকম আরেকটি স্বর্ণহার কিনে তার বান্ধবীকে দিয়ে আসে। বান্ধবী ধরতে পারে নি, হারটি ভিন্ন আরেকটি।
মফিলদের আপাত স্বস্তি।কিন্তু সেই বিপুল অঙ্কের ধার শোধ করতে গিয়ে মফিলদে আর তার স্বামী পরবর্তি বেশ কিছু বছর অমানুষিক পরিশ্রম ও কৃচ্ছতা সাধন করে। তার ফল হিসেবে দু’জনে অতি শীঘ্রই স্বাস্থ্যহানির মুখোমুখি হয় আর বুড়িয়ে যায়।
মফিলদে তার রূপ হারিয়ে একজন রুক্ষ নারীতে পরিনত।
এমন সময় একদিন মফিলদের সেই বন্ধুর সাথে তাদের বাজারে দেখা। মফিলদের ভগ্ন স্বাস্থ্য আর বুড়োটে রূপ দেখে তাকে এর কারন জিজ্ঞেস করে বান্ধবী।
মফিলদে তাকে সব খুলে বলে আর অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে তাদের কীভাবে অমানুষিক শ্রম ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাতে হয়েছে-তাও বলে।
মফিলদের বান্ধবী তখন বলে, “হায় মফিলদে, কী করেছ তুমি? আমার নেকলেসটা তো ছিল নকল। ইমিটেশন। খুবই সস্তা। ইশ! একটি বার তুমি যদি তখনই আমাকে বলতে!”
গল্পটি একটি বিশেষ থীমে ও প্রেক্ষাপটে বলা। কথা বলার মূল্য যদিও খুব কম। কিন্তু আমরা সময় মতো কথা না বলে অসময়ে তার চেয়ে অনেক গুন বেশি মূল্য চুকাই।
অথচ সময়মতো একটু মন খুলে কথা বলে নিলে, একটু স্বচ্ছতা বজায় রাখলে, একটু ওপেন হলে হয়তো অনেক কিছুই অন্যরকম হত।
#mofildey #talking #conversation #dialogue #interact #beingopen