Skip to content

এশটাটাশ সমগ্র-৬: সমাজের কোষ্ঠ্য ও কাঠিন্য নিয়ে টুকরো টাকরা

  • by

এটাকে ফাঁকিজুকিও ধরতে পারেন। আবার, লিখিয়ের মনের খেয়ালও। এই এলেবেলে টাইপের ছোট ছোট লেখার ঝাঁক আসলে বড় লেখার উপজাত অথবা জঠরসঙ্গী। মানে, বড় বড় কাঙ্খিত লেখারা কয়লার মাঝে হিরার মতো মিশে থাকে। হিরা তুলে আনতে হলে কয়লাও ঘাঁটতে হয়। আবার ধরুন, চায়ের বাগানে কিছু ছায়াদার অন্য গাছও রাখতে হয়। এই এলেবেলেরা সেই ভূমিকাতেই থাকে। এসব লেখা লিখতে লিখতেই ভাবনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা এসে পড়ে। তবে, উৎস ও ইতিহাস যা-ই হোক, এই এলেবেলেরা একেকজন একেকটা ধানি মরিচ। প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজস্ব একটি গভীর সাজেশন। দেখুন তো ধরা যায় কিনা সেই ইঙ্গিত।

এক; #publicfigure #publicsentiment #publicproperty

সামাজিক মাধ্যমে বিরাজ করলে এবং মানুষের সাথে ব্যাপক যোগাযোগ/খায়খাতির থাকলেই যেমন কেউ Public Figure হয়ে যান না। তেমনি, সামাজিক মাধ্যমে বিরাজ করলেই, আমাদের নাগাল ও স্পর্শের ভিতরে থাকলেই, বিনীত স্বভাবের হলেই তিনি Public property ও বনে যান না। আপনার সব ফেসবুক Friend অথবা ফেসবুক/লিংকডইনের বিরাজমান ব্যক্তিরা কেউই Public property নন। সুতরাং, তাদের সাথে আপনার মোয়ামালাতে পেশাদারীত্ব ও দায়ীত্বশীলতা বজায় রাখুন।

দুই; #classconciousness

আপনি শুধুমাত্র বব মার্লের গান শোনেন, পন্ডিত রবিশংকর ব্যতিত অন্য কারো সেতার বাদন আপনি কান দিয়ে শোনেন না, আপনি কেবলমাত্র রাহুল দেব, কিংবা জগজিৎ সিং অথবা রবীন্দ্রনাথের ধ্রূপদী গানই শোনেন; এবং, এসবের সুবাদে আপনি যদি মনে করেন, যে, আপনি একজন প্রকান্ড সংগীতজ্ঞ, এবং, সঙ্গীত নিয়ে আপনার ভাবনাই চুড়ান্ত, তাহলে ভুল ভাবছেন। আপনি হয়তো নিজেকে নিজে ক্লাসি তকমা দিতেই পারেন। ছোটজাতের লালন, ভজন, কীর্তন, মমতাজ, ডলি বা বেত্তমিজ হাবিব-হৃদয়ের গান আপনি শোনেন না। বিশুদ্ধতম স্বরলিপি আপনার ধ্যানজ্ঞান। তার মানেই আপনি, হ্যা, আপনি এক ও একমাত্র সঙ্গীতবোদ্ধা, আর বাকিরা সব ধইঞ্চা-ভাবলে ভুল ভাববেন। মেথর-মুচির কাছেও আপনার এমন কিছু শেখার সুযোগ আছে, যা আপনাকে হারভার্ডের ডক্টররাও শেখাতে না ও পারে। উঠতে বসতে, মানুষকে নিয়ে ট্রল আর “যত্তসব বেকুবের কাজ” বলে নাক সিঁটকোনোটা এবার তাহলে বদলান।

তিন; #outcast #classstatus #classconflict #classdiscrimination #Halo Effect

তালুকদার বংশ বা রায় বাহাদুর বংশের প্রতি মানসিক আনুগত্য, মানসিক দাসত্ব তথা, বংশপ্রীতি তো আমাদের নতুন নয়। অমুক বংশের পোলা বা মাইয়া-মানেই বংশীয় ভাল পোলা-মাইয়া। বিয়ের বাজারে ব্যাপক কাটতি। বাঙালীর জীবনে ও সমাজে খানদান, তকমা, হিস্ট্রী, রিভিউ, ’লিগ্যাসী-এসবের প্রচন্ড কদর। অমুক বুয়েটে পড়েছে-সে নিশ্চয়ই প্রচন্ড মেধাবী হবে। অমুক আর্মিতে ছিল-সে নিশ্চয়ই খুব ডিসিপ্লিন্ড হবে। অমুক থাইল্যান্ডে থাকে-সে তো নিশ্চয়ই চরিত্রহীন হবে। অমুক ওয়ালটন ফোন ব্যবহার করে-সে তো নিশ্চয়ই কৃপণ হবে। অমুক ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ এর কাছে গান শিখেছে-সে তো নিশ্চয়ই সংগীতজ্ঞ হবে। অমুক হারভার্ড হতে ডক্টরেট পেয়েছে-সে তো নিশ্চয়ই খুব উঁচু দরের স্কলার হবে। অমুক মুভি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে-ওই মুভিটাতো নিশ্চয়ই উঁচু মার্গের হবে। অমুক খবরটা সংবাদপত্রে ছেপেছে-ওই খবরটা নিশ্চিতভাবেই সত্য হবে। এই সূত্র ধরে আমরা বায়াসে আক্রান্ত হই। বায়াস মুক্ত হোন।

চার; #advicesforlife #reallifeadvices

এই উপদেশমালাটি আমার একদল কনিষ্ঠ্য সহকর্মীকে ঠাট্টাচ্ছলে দিয়েছিলাম। পরে দেখলাম, কথাগুলো আমাদের বাস্তব জীবনে বেশ ভালভাবেই বসে যাবে। কথামৃতগুলো হল-কখনো মামাতো বোনকে বিয়ে করো না। পারতপক্ষে ছাত্রী/শিক্ষকের সাথে প্রেম করো না। বউয়ের কাছে থেকে টাকা ধার করো না। প্রিয়জনকে টাকা ধার দিও না।  ভাগে চিংড়ি মাছ কিনো না। ভাইয়ের জমির পাশে জমি কিনো না। এই আউলা বাণীর শানে নজরুল জানতে চেয়ে বিব্রত করবেন না। অভিজ্ঞতা আমাকে এই শিক্ষা দিয়েছে।

পাঁচ; #buyingahuman #saleable #charecterless #provoking

বাঙালীকে কেনার জন্য অব্যর্থ টোপ কী? খুব সহজ: নারী, শুরা, জুয়া, কড়ি আর খাওন। এই দিয়ে আগের দিনে মানুষ শত্রুকে ঘায়েল করত। ফাঁদে ফেলত। সিনেমাতে আমরা দেখতাম, নায়িকা বা সাইড ভিলেনকে টোপ দিয়ে অকুস্থলে নিয়ে আসত। এখনও এমনকি জেমস বন্ডের মুভিতেও খোদ 007 এর মনোরঞ্জনের জন্য একজন জিরো ফিগার থাকবেনই। বাদ দিন জেমস। সে তো বিলাতি। বাঙালীর কী হবে? বাঙালীকে আপনি এক পেট খেতে দিন। দেখবেন ডিল পাকা।

’দুশ্চরিত্র’ বাঙাল (বা আবাঙাল) আদম সন্তানদের একটি ট্রিকস বলি।

এরা আপনাকে ঠাট্টাচ্ছলে, সামান্য রহস্য সহকারে, ত্যড়ছা ও অস্পষ্ট অথচ ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় এপ্রোচ/প্রপোজ করবে।

যেমন ধরুন, “রোজই কি জামাই’র সাথে বাসায় ফিরতে হবে! আজ না হয় আমিই দিয়ে আসলাম?” বলে চোখ নাচিয়ে ঠোটের কোণে একটা হাসি ফুটিয়ে তুলবে।

এটা হল কুমতলব ও কুপ্রস্তাবকে ছদ্মবেশ পরিয়ে আপনাকে বিভ্রান্ত করা।

কিছু বললাম, আবার বললাম না।

যদি আপনি টোপটা গেলেন, তাহলে তো গিললেনই, মকছুদ উসুল।

আর যদি আপনি রশিটা না ধরেন, টোপ না গেলেন, রেগে যান, তাহলে বলবে, ”আরেহ, আমি তো ফান করছিলাম।”

**দুশ্চরিত্র একটি আপেক্ষিক ধারনা মাত্র।

ছয়; #feminism #fightingwithwife #happymarriedlife

ঘরের স্ত্রীর সাথে পারতপক্ষে প্রতিযোগীতায় নামবেন না। জিতুন বা হারুন-উভয় ক্ষেত্রে লস আপনার। কেমন? আপনি হারলে তো লস হলই। আর বেশিরভাগ সময় আপনিই হারবেন, কারন, তেনারা হারতে রাজিই নন। তদুপরি, তিনি হেরে থাকলেও সেটি কোনোদিনই এপারেন্টলি স্বীকার করবেন না। এবার বলি জিতের হার।  আপনি জিতলে বউ হারবে। তার মানে, আপনার বউ কোনো কিছুতে হেরে গেল। আপনার বউ হারলে তো স্বামী হিসেবে আপনারই ডিসক্রেডিট, তাই না। বাংলাদেশের বাঙাল গোষ্ঠী নিজের নিজের স্ত্রীকে একধরনের property অথবা possession ভাবতে ভালোবাসে। তারা কথা বলার সময় এমনভাবে “আমার বউ” উচ্চারন করে, যেন, বউ হল তার ওয়ালেট, বা বাইকের মতো কিছু। ‘আমার বউ’। সুতরাং এহেন বউয়ের হার হলে সেটা তো সেই পুরুষেরই লজ্জা-তাই না। রেসে আপনার ঘোড়া হারলে আপনার হার যেমন-তেমনই। তাহলে জিতুন হারুন-দুই ক্ষেত্রেই তো আপনার লস। তদুপরি, তিনি হারলে আপনার সাধের গুড়ো মাছের তরকারীতে ঝালের চোটে মুখই দিতে পারবেন না। নতুন দেশি ধনিয়া পাতায় রান্না করা ডালে লবণ তিতকুটে পাবেন। লস কার আসলে? বউদের সাথে জিততে যাবেন না। নারীর ষোলো কলার তিন কলাতেই আপনি ঘায়েল হয়ে যাবেন। একইভাবে, ঘরের বউ যদি কস্মিনকালেও বলে, “ওগো, আমি ও তো মানুষ। আমার বুলটুল হলে একটু ধরিয়ে দিও।” নাচতে নাচতে ওই কাজ করতে যাবেন না। কারন, ওটা আসলে একটা ফাঁদ। আর যদি বউয়ের হতে টাকা ধার করেন, তাহলে জীবনেও সেই টাকা শোধ করে শেষ করতে পারবেন না। আমাকে আমার বউ মাঝে মধ্যে জিজ্ঞেস করে, একটা ঝাড়ু লাগবে, কিরকম ঝাড়ু কিনুম? লম্বা বেগুন কিনব নাকি তাল বেগুন? গামছা ছিড়া গেছে কিনুম? বউরা যখন এত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ে অনুমতি চায় তখন পুরুষ হিসেবে সুখে আমার আপ্লুত হবার কথা।কিন্তু দুঃখের বিষয় হল খুশি হতে পারি না। নারী দিবসে অনেক সুখকর ও সুশীল বাণী প্রদান হবে আজকে। বাণী প্রদানকারী সুশীল নারী ও পুরুষ বুদ্ধিজীবিরা অনেক পালিশ পালিশ বাণী দেবেন আজ। যদিও এইসব পুরুষেরা:আজ সকালেও বাসা থেকে বেরোবার সময় রাতে কি রান্না হবে, নারী দিবস উপলক্ষ্যে যে গরু রান্না হচ্ছে তাতে কতটুকরা আলু থাকবে, আলুর টুকরার সাইজ কি হবে, স্ত্রী কোন সেমিনারে যাবে বা যাবে না, অফিসে কাকে কাকে দিবসের মেসেজ দেবে বা দেবে না,কোন ব্লাউজ পড়ে সেমিনারে যাবে; কিংবা ভন্ড নারীরা:স্বামী কোন জামাটা পড়বে,  স্বামী রাতে কত পেগ গিলবে বা গিলবে না, কোন কোন নারীকে শুভেচ্ছা জানাবে বা জানাবে না, নারী দিবসের সেমিনারে কার কার সাথে ঢলাঢলি করবে না, কার দিকে তাকাবে না, সেমিনারে কী বলবে কী বলবে না-সব বিষয়ে যার যার বাসার নর বা নারীকে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বের হয়েছেন। আবার কয় নারী দিবস।

সাত; #emotionalintelligence #typeofintelligence

জানেন কি? বিগত শতাব্দীতে যেটা বঙ্গদেশে ছেলেদের ক্ষেত্রে ভং আর মেয়েদের ক্ষেত্রে ছেনালীপনা বলে পরিচীত ছিল, সেটাই আজকে Emotional Intelligence নামে বিখ্যাত? আর সেটা বেঁচেই আমরা আজকাল খাই? আমরা কেউ আমাদের নিজেদের মনেরই খবর রাখি না। নিজের ইমোশনকে নিজেই লাগাম পড়াতে পারি না। অথচ আমরা সভা-সমিতিতে Emotional Intelligence নিয়ে লার্নিং শো করাই।

অবশ্য এই দেশে একদিন ঘুষ খাওয়াকে হারাম ভাবলেও এখন সেটাকে স্মার্টনেস ভাবা হয়। সুদকে ধর্মীয় লেবাস পরিয়ে চমৎকার বিক্রী করা হয়। এদেশে এখন ডিজাইনার বোরকা পাওয়া যায়, যেটা পরলে মনে হবে, দেখলাম, শুনলাম, কিছুই বুঝলাম না। মজার বিষয় হল, দুপুর বারোটার আগে ঘুম ভাঙে না যে চ্যাঙরা ট্রেইনারের, তিনিও সেশন নেন-টাইম ম্যানেজমেন্ট।

বুদ্ধিমত্তা বা Intelligence এর রকমফের নিয়ে লিখেছিলেন জনাব Didarul Alam: “According to Psychologists, there are four types of Intelligence or, we can call it cognitive ability:

1) Intelligence Quotient (IQ)

2) Emotional Quotient (EQ)

3) Social Quotient (SQ)

4) Adversity Quotient (AQ)

1. Intelligence Quotient (IQ):

this is the measure of your level of comprehension. You need IQ to solve maths, memorize things, and recall lessons.

2. Emotional Quotient (EQ):

this is the measure of your ability to maintain peace with others, keep to time, be responsible, be honest, respect boundaries, be humble, genuine and considerate.

3. Social Quotient (SQ):

this is the measure of your ability to build a network of friends and maintain it over a long period of time.

People that have higher EQ and SQ tend to go further in life than those with a high IQ but low EQ and SQ. Most schools capitalize on improving IQ levels while EQ and SQ are played down.

A man of high IQ can end up being employed by a man of high EQ and SQ even though he has an average IQ.

Your EQ represents your Character, while your SQ represents your Charisma. Give in to habits that will improve these three Qs, especially your EQ and SQ.

Now there is a 4th one, a new paradigm:

4. The Adversity Quotient (AQ):

The measure of your ability to go through a rough patch in life, and come out of it without losing your mind.

When faced with troubles, AQ determines who will give up, who will abandon their family, and who will consider suicide.

Parents please expose your children to other areas of life than just Academics. They should adore manual labour (never use work as a form of punishment), Sports and Arts.

Develop their IQ, as well as their EQ, SQ and AQ. They should become multifaceted human beings able to do things independently of their parents.

Finally, do not prepare the road for your children. Prepare your children for the road.”

জনাব দিদারুল আলমের লেখার বাইরে বুদ্ধিমত্তা বা বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার প্রকারভেদ নিয়ে ChatGPT’র সৃষ্ট মতামতও জানুন: –

There are several theories of intelligence, and the types of intelligence can vary depending on the theory. However, here are some of the most commonly recognized types of intelligence:

Logical-mathematical intelligence: This type of intelligence involves the ability to reason, think abstractly, and solve problems using logic and mathematical operations.

Linguistic intelligence: This type of intelligence involves the ability to use language effectively, both verbally and in writing. People with strong linguistic intelligence often have a talent for learning languages and expressing themselves clearly.

Spatial intelligence: This type of intelligence involves the ability to think in three dimensions and visualize spatial relationships. People with strong spatial intelligence often have a talent for design, architecture, and visual arts.

Bodily-kinesthetic intelligence: This type of intelligence involves the ability to control and coordinate one’s movements, as well as to manipulate objects skillfully. People with strong bodily-kinesthetic intelligence often excel in sports, dance, and other physical activities.

Musical intelligence: This type of intelligence involves the ability to perceive and create rhythm, melody, and harmony. People with strong musical intelligence often have a talent for playing instruments, singing, and composing music.

Interpersonal intelligence: This type of intelligence involves the ability to understand and interact effectively with others. People with strong interpersonal intelligence often excel in fields such as counseling, teaching, and leadership.

Intrapersonal intelligence: This type of intelligence involves self-awareness, self-reflection, and an understanding of one’s own emotions and thoughts. People with strong intrapersonal intelligence often have a talent for introspection, meditation, and self-analysis.

Naturalistic intelligence: This type of intelligence involves the ability to understand and work with the natural world, including plants, animals, and other natural phenomena. People with strong naturalistic intelligence often have a talent for gardening, farming, and environmental science.

Cultural intelligence:

Spiritual intelligence:

বলে রাখা ভাল, গড়পড়তা আমরা IQ বললেই বুদ্ধিমত্তা বুঝে থাকি, অনেকে আবার বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের প্রশ্নগুলোকে বলেন IQ বা intelligence question বলেন। আদতে কথাটি হল intelligence Quotient বা ইনটেলিজেন্স কোঅশেন্ট, যা দিয়ে প্রশ্নকে বোঝায় না, বোঝায় বুদ্ধিমত্তার মাত্রাকে।

“Never confuse education with intelligence, you can have a PhD and still be an idiot”

-Richard Feynman, a renowned physicist.

আট; #reviewpower

কারো কাছে রিভিউ, বুদ্ধি অথবা জাজমেন্ট চাইবার আগে বা, কারো রিভিউকে পাত্তা দেবার আগে নিজে নিশ্চিত হয়ে নিন, যে, ওই ব্যক্তির রিভিউ দেবার মতো যোগ্যতা আদৌ আছে কিনা।

বাসার কাজের মেয়েকে যদি জিজ্ঞেস করেন, “বল তো, রাশিয়ার কি ইউক্রেনে হামলা করা ঠিক হইছে?”-তাহলে বিশ্লেষণটা কোন মাত্রায় পাবেন-সেটা ভেবে নিন।

রিভিউ যদি দরকারই পড়ে, যদি সেটি নেয়া হয়, আর, যদি সেটাকে বেস করে কিছু সিদ্ধান্ত নেবার বিষয় থাকে, তাহলে খুব সতর্কতার সাথে, সবার আগে বিচার বিশ্লেষণ করা উচিত, যে, রিভিউটা কার কাছ হতে নেয়া হচ্ছে।

মাতালের কাছে যদি জানতে চান, “ওয়াইন খেতে কেমন?”

সুদের মহাজনের কাছে যদি জানতে চান, “সুদ কি হারাম?”

মেসির কাছে যদি জানতে চান, আর্জেন্টিনা সেরা, নাকি ব্রাজিল?

দশ বছরের শিশুর কাছে যদি জিজ্ঞেস করেন, “বাবাজি, করল্লা কি সুস্বাদু খাবার?”

মোল্লার কাছে যদি শুধান, “মিলাদ কি বেদাত?”

পাড়ার মন্তাজ পাগলাকে যদি প্রশ্ন করেন, “আচ্ছা, বলতো, অফহোয়াইট শার্টের সাথে ব্লু শার্ট নাকি ক্রিম কালার শার্ট বেশি মানাবে?”

হালের কোনো নাট্যকারকে যদি আশির দশকের টিভি নাটকের বিপরীতে বর্তমানের নাটকের মান নিয়ে রিভিউ চান।

কিংবা, কার্ল মার্কসের কাছে যদি আমেরিকান পুঁজিবাদী অর্থনীতির ইথিকস নিয়ে জানতে চান, তাহলে আপনার প্রাপ্ত রিভিউ বা বিশ্লেষনের অন্তর্গত গুনাগুন নিয়ে বেশি ভাবা দরকার পড়ে না। রিভিউ নেয়া ভাল। তবে, রিভিউটা কার হতে নিচ্ছেন, সেটা ম্যাটার করে। বাঙালির রিভিউ জগতের সবচেয়ে বায়াসড রিভিউ। আর, সবচেয়ে মারাত্মক রিভিউ হল ফুড ব্লগারদের রিভিউ।

এমনিতে, বাঙালীর রিভিউ ক্ষমতার ধরন হল, কাউকে যদি জিজ্ঞেস করেন, অমুক যায়গাটা কতদূর? সে অবলিলায় বলে দেবে, ওই তো, ওই দেখা যায়। বাস্তবে দেখবেন, স্থানটা দশ মাইল দূরে। এরকম ধরা জীবনে বহুবার খেয়েছি। ফুড ব্লগারদের রিভিউতে মজে কোথাও খেতে গেলে টাকা গচ্চা যাবার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন। এমনিতে, কুল, ডুড, টিকটক প্রজন্মের কাছে আপনি তো মানুষই নন, আপনি, আমি হলাম গায়েজ। তো, এই গাইদের জন্য তারা ভুড়ি ভুড়ি দায়ীত্বশীল রিভিউ অনলাইনে আপ করে রেখেছেন-ভাবলে ধরা খাবেন।

আবার, ভাবলেন, ঠিক আছে, আমি সবসময় জ্ঞানী, বিজ্ঞ, অভিজ্ঞ, পক্ক কেশ মানুষদের হতে রিভিউ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব। তারপরও বিপদ আছে। বাঙালির মতো বায়াস জাতি খুব কম আছে। মজার বিষয়, যে যত বায়াসড, সে নিজেকে ততটাই নিরপেক্ষ দাবী করবে। আর জানেন তো, বাঙালিকে এক গাল পান খাওয়ালেই লেবুর স্বাদ মিঠে লাগতে শুরু করবে। তদুপরি, নিজের জানা ও ভাবনাকে গঠনমূলক ও ক্লাসিফায়েডভাবে বিবৃত করতে সবাই সমান পারঙ্গম না।

আবার, রিভিউ দিতে হয়তো সক্ষম, কিন্তু, আপনি রিভিউটা নিচ্ছেন কীভাবে, আর, সেটাকে কীভাবে একসট্র্যাকট করছেন, সেটারও ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করবে। ধরুন, আপনি একজন প্রাচীন ব্যক্তিকে যদি সবচেয়ে সেরা গায়ক কে, নায়ক কে-সেই রিভিউ দিতে বলেন, বা, ধরুন, তাকে টিকটক হৃদয় সম্পর্কে রিভিউ দিতে বলেন, আবার, ওদিকে GenZ এর কাউকে জিজ্ঞেস করলেন, দেশের সবচেয়ে বড় নায়ক কে, এই মুহূর্তের ন্যাশনাল হিরো কে-তা নিয়ে; উভয় ক্ষেত্রেই যে রিভিউ পাবেন, সেটা হাইলে বায়াসড। ধরুন, মদ সম্পর্কে যদি আপনি একজন বার টেন্ডারের কাছে জিজ্ঞেস করেন, তার রিভিউ আর, যদি একজন মোল্লাকে জিজ্ঞেস করেন, তার রিভিউ-দুটোই যার যার স্থানে শক্ত রিভিউ, কিন্তু, আপনি যদি একজনের রিভিউকে বেজ ধরে আপনার সিদ্ধান্ত পাকা করেন, সেটা ভুল হবে। কারন, প্রতিটি রিভিউই যার যার মতো। আপনি যদি একটাকে গ্রহন করেন, সেটা হবে খোলাখুলিভাবে বায়াজড। জরিপ ও রিভিউয়ের ক্ষেত্রে স্যাম্পল সিলেকশন ক্রূশিয়াল।

জ্ঞানী হওয়া আর জ্ঞান বিতরণ করতে পারা এক বিদ্যা নয়। ঠিক যেমন গ্রেট প্লেয়ার হওয়া মানেই গ্রেট কোচ নয়, শচীন যেমন গ্রেট ক্যাপ্টেন কখনোই হতে পারেননি। অধিকন্তু, বাংলাদেশে আপনি আপনার রিভিউ কলে ঠিক কী বোঝাতে বা বুঝতে চাইছেন, একটি বড় সংখ্যক ক্ষেত্রে রিভিউ দাতা সেটা না বুঝেই রিভিউ দিয়ে দেন। আপনার জানার আগ্রহের কনটেক্সট নির্ভুলভাবে রিভিউ দানকারীকে বোঝাতে পারাও সঠিক রিভিউ পাবার একটি করণীয়।

একবার এক ভদ্রমহিলা অফিসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজে মেসেজ দিয়েছেন, “……কুম্বানি আগের থোন অনেক বেশি খারাব অয়া গ্যাচে।”

অসীম ধৈর্য নিয়ে তার মেসেজ পড়লাম, পাঠোদ্ধার করলাম। তারপর তার কাছে তার অভিযোগের বিস্তারিত জানতে চেয়ে উত্তর দিলাম। তাকে অভয় দিলাম।

দুই দিন তার প্রতিউত্তর দেখার জন্য বারবার ইনবক্স দেখলাম। তৃতীয় দিন তার উত্তর এলো,

”কুম্বানি এহন পরতেক বছর অর্কার পিকনিক করে না। হগল কুম্পানি করে।”

ব্যাস, এই হল তার অভিযোগ। পিকনিক করে না-এই জন্যই কোম্পানি খারাপ হয়ে গেছে। (মজার বিষয়, কোম্পানির ইতিহাসে পিকনিক হয়েছেই মোট ২-৩ বার, যার সবশেষটা হয়েছে মাত্রই গত বছর।)

একইভাবে, অন্য কারো কাছে কারো ব্যাপারে ভাল বা মন্দ মতামত শুনলে দশবার ভেবে নেবেন। কারন, বাঙালির বুদ্ধিমত্তা ও বিবেচনা বোধের ইতিহাস বলে, যে, এমনকি কেউ চুলে লাল রং করেছে, অথবা, কেউ চুল খাটো করে রেখেছে-শুধুমাত্র এতটুকুর কারনেই কেউ তাকে অবলিলায় সনদ দিয়ে বসতে পারে,

”আরে, ব্যাটা বিরাট চোর। ফালতু একটা।”

আপনি জানেন কি, পরের মুখে তামুক খাওয়া একটি উগান্ডান জাতীয় চরিত্র?

আমরা প্রায়ই পরের মুখে তামুক খাই। তামুক খেতেও মন চায়, কিন্তু মুখে গন্ধ হবে-সেই ভয়ে অন্যের মুখে খাই। আবার, আমরা অন্যের মতামতকেই নিজের মতামত, অন্যের কাছে পাওয়া তথ্যকেই নিজের তথ্য হিসেবে চালিয়ে দিই।

অন্যের রিভিউকেই নিজের রিভিউ ধরে নিয়ে নিজেদের মতামত ও সিদ্ধান্ত দাড়া করিয়ে ফেলি। অন্যের কথাকে নিজের কথা বলে চালাই। এবং, সবচেয়ে মারাত্মক হল, নিজেই আবার সেটাকে বিশ্বাসও করি।

কারো কাছে জিজ্ঞেস করুন, ভাই, অমুক সাবানটা কেমন? ওই লোক কালবিলম্ব না করে বলে দেবে, “জঘন্য”। কারন, হয়তো, তার বউ তাকে একবার বলেছিল, ওই সাবানটা জঘন্য। যদি বলেন, আপনি শিওর? সে বলবে, ”শিওর শিওর। আমি নিজে দেখছি।”

একইভাবে, মানুষ বিচার করে ফেলে, অমুক জিনিসটা জাস্ট মারভেল, তমুক লোকটা তুখোড়। সিম্পল ম্যাথ। সবই পরের কথায়।

আবার, এই উগান্ডাবাসীকে শুধু জিজ্ঞেস করবেন, ভাই, অমুক কোম্পানীটা কি ঢাকায় নাকি চট্টগ্রাম?

সে শুরু করবে-”ভাই, ওই কোম্পানীতে যাবেন না। ওটা অমুক নেতার বানানো। ওদের বিল্ডিংটা জঘন্য লাল রঙের। ওখানে সময়মতো বেতন দেয় না। ওখানে সেমাইয়ের প্যাকেট দেয় না। ওখানে নাইট ডিউটি করতে হয়। ওখানে প্রত্যেক বছর আনরেস্ট হয়। ওরা গ্রীন ফ্যাক্টরী হলেও বাগানে একটা গাছও নেই। ওই কোম্পানী পিকনিক করতে নেয় না। …………………………………………………… এই সবের অনেক অনেক পরে…………………………..ওহ, ভাই, ওটা ঢাকায়।”

আর সুখের বিষয়, এই পুরো রিভিউটাই তার অন্যের কাছে শোনা। কিন্তু, বলবে এত কনফিডেন্টলী, যে, আপনার মনে হবে, তিনি নিজে থ্রিডি চশমায় সব দেখে এসেছেন।

নয়; #waytolearn #howtolearn #learningeveryday

আমার কনিষ্ঠ Teammateদের  একবার আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা এই Team এ থেকে প্রত্যাশিত Norm এর বিপরীতে নিজেদের পেশাগত বা ব্যক্তিগত সমৃদ্ধির জন্য Learning বা শেখার সুযোগ কতটা পান? সেটা কি যথেষ্ট? কীভাবে শেখেন আপনারা? স্বাভাবিকভাবেই তারা তাদের ধারনা ব্যক্ত করেছে। শেখার চেষ্টা আমাদের অনেকের মধ্যেই আছে। কিন্তু, জানা থাকা দরকার, শিখবার সঠিক পথটা আসলে কী? অনেকে বলে, ঠেকে শেখে। অনেকে বলে দেখে। আমার পাঠকদের জন্য আমার ভাবনাটা শেয়ার করলাম: ১. জটিল, গভীর, যথাযথ ও উপযুক্ত (Accurate, Appropriate, Perfect) প্রশ্ন করা (এটা আমার সবচেয়ে পছন্দের রাস্তা।) ২. সূক্ষ্ণভাবে দেখা ও ভাবা। ৩. মনোযোগ ও আগ্রহ নিয়ে শোনা।  ৪. অভিজ্ঞতা বিনিময়।  ৫. হাতে কলমে করা, ভুল করা ও শেখা।  ৬. এক্সপিরিমেন্ট করা।  ৭. কল্পনা ও সৃষ্টিশীল চিন্তা।  ৮. সবরকম কিছু পড়া।  ৯. হিউম্যান ইন্সটিংকট ও স্পনটেনিয়াস ইনহেরিটেন্স ১০. বয়স হওয়া। ১১. আগের শেখা জ্ঞান, তথ্য, অভিজ্ঞতার বিক্রিয়া ও ফিউশন।

দশ; #usp  #sellyourself #employability

এই বিষয়টা রসকসহীন HR ভাবনার আওতাধীন হলেও অন্যদের কাজে লাগতেও পারে। এমনকি ব্যক্তি ও তার সমাজ জীবনেও এই ভাবনাটির খোরাক আছে। বস্তুত নিজেকে সবাইই বিক্রী করতে চায়। নিজের যোগ্যতা ও সক্ষমতাকে-যদি আরও স্পষ্ট করে বলি। বিক্রয় পেশায় USP বা Unique Selling Proposition নামে একটি কনসেপট আছে। মানে, কোনো বস্তু বা বিষয়ের বিক্রয়যোগ্যতার সবথেকে শীর্ষ ও লাগসই যুক্তিগুলো। আমার বিশ্বাস ও জ্ঞান বলে, জব মার্কেট হতে কর্মী হায়ার করা ও তার বিপরীতে সম্ভাব্য চাকরি প্রত্যাশীদের চাকরিদাতাদের কাছে নিজের নিয়োগযোগ্যতাকে উপস্থাপনের উদ্যোগ-এই কাজটিও এক ধরনের বায়িং ও সেলিং। শুনতে একটু অন্যরকম শোনালেও ব্যাপারটা আমার দৃষ্টিতে তেমনই। চাকরির বাজারে, ইন্টারভিউ বোর্ড এ এমপ্লয়ার ও জব সিকার আসলে পরস্পর পরস্পরকে বেঁচাকেনাই করেন। একদিকে মেধা, ইফোর্ট, স্কীল, টাইম ও স্পিরিট-এটা বিক্রী করেন জব সিকার। অন্যদিকে এমপ্লয়ার ব্র্যান্ড আর ফ্যাসিলিটি সেল করেন এমপ্লয়ার। হ্যা, এমপ্লয়ারেরও নিজেকে সেল করবার দায় আছে। দেশের সেরা মেধাদের কাছে, তার টারগেট ট্যালেন্টদের কাছে নিজেকে সেল করার দরকার পরে এমপ্লয়ারেরও। তারই নিজের স্বার্থে। এক কথায় এমপ্লয়াবিলিটি ও এমপ্লয়ারশিপ সেলিং বা বায়িং। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমপ্লয়ারের সেল অবলিগেশনের বিষয়টাও একদম বাস্তব। এই মুহূর্তে হয়তো সিংহভাগ ক্ষেত্রেই এমপ্লয়মেন্ট সিকার ও এমপ্লয়ারের মধ্যে ইকুইলিব্রিয়ামটা এমপ্লয়ারের দিকে ভারী। তাদের সুপ্রিমেসি বেশি, কারন এমপ্লয়ী সংখ্যায় বেশি আর এমপ্লয়মেন্ট সীমিত। সাপ্লাই যার বেশি, তার সুপ্রিমেসি কম থাকবে-সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, যদি ধরুন ইকুইলিব্রিয়ামটা উল্টে যায়? যেমন ধরুন, আইপিএল বা ইউরোপের ফুটবলে ক্লাবগুলোতে দলবদল? সেখানে স্টার প্লেয়ার অসংখ্য না। বিধায় ক্লাবগুলো মেসি, রোনালদো বা জাভিদের দরোজায় হত্যে দিয়ে পড়ে থাকে-তাদেরকে টীমে পাবার জন্য। সেখানে এমপ্লয়ার নিজেকে এমপ্লয়ীর কাছে সেল করতে ব্যস্ত। বোঝা গেল?আমি তাই চাকরির সাক্ষাতকারে ব্যক্তির ওই USP সম্পর্কে প্রশ্ন করি। অর্থাৎ, একজন এমপ্লয়মেন্ট সিকার ও এমপ্লয়েবিলিটি সেলার হিসেবে আপনার কী কী প্রপোজিশন আছে। মানে, আপনি কী সেল করার জন্য এসেছেন? সোজা কথায়, আপনার ঝুলিতে কী কী আছে বিক্রী করার মতো আর সেটা কেন আমাদের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে, আপনার প্রোডাক্ট কেন আমার নেয়া উচিত-সেটা বলুন।  আপনি কি জানেন, আপনার USP কী? আপনার সবথেকে বড় শক্তির যায়গা আর দুর্বলতার জায়গাটিকে কি আপনি চেনেন?

Employability features/considerations/considerable/deliverables:

1. Core competencies

a. knowledge, thought process, judgement b. skills/qualifications c. abilities/capabilities/capacities d. behavioral qualities/attributes/aptitudes/values & beliefs

2. Productivity

3. Value proposition

4. Sustainability & cost effectiveness

5. Personality & leadership

6. Track record, success history & experience

এগারো; #intellectualsupremacy #domination

ইনটেলেকচুয়াল সুপ্রিমেসি এবং ডোমিনেশন আমাদের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট।  অন্যের চিন্তা, বিশ্বাস, কথা ও জ্ঞানকে নিজের তুলনায় নেহাতই তুচ্ছ ও নিম্নবর্গীয় বিবেচনা করবার এবং তাকে Inferior দেখাবার উদগ্র বাসনা আমাদের সবার মনে। যে কাউকে কথায় হারিয়ে দেবার তীব্র ক্ষুধা আমাদের মধ্যে প্রকট। এই সিনড্রোম  আমাদের মনে  পরম গোপনে সুপ্ত থাকে। নিজেরাও হয়তো তার খবর রাখি না। ঘোপেঘাপে সেই খাসলত প্রকাশ হয়েই যায়।

নিজের সংগ্রামী জীবন ও সফলতার গল্প বয়ানের নিরীহ ছুরতেও তার নিরব অনুরনন থাকে। কেউ বোঝে, কেউ বোঝে না। এমনকি জগতের বিশুদ্ধতম নিঃস্বার্থ কাজটিরও একটি স্বার্থ আছে, সেটি হল, নিঃস্বার্থ স্বীকৃতির সুপ্ত লোভ। নিজের সংগ্রামী অতীত বা শৈশবের দারিদ্রের গল্প শোনানোও এক ধরণের নেশা বা অবসেশন। 

ইনটেলেকচুয়াল সুপ্রিমেসি এবং ইনফেরিয়রিটি কমপ্লেক্স-একটি বঙ্গীয় মহা-মড়কের নাম। ইনটেলেকচুয়াল ডেলিকেসির অবনমনও এক বাস্তবতা।

আপনি মানতে না পারলেও সত্য, যে, ২০২৩ সালের ‘স্মার্ট’ বঙ্গভূমে জার, সম্রাট, কিং, জমিদার, তালুকদার, রাজা, নবাবরা দিব্যি বেঁচে আছে।

তবে, আমাদের মনের মধ্যে। মানে, ‘ভাবনায়’ ও ‘ভাবনেয়’ রাজা।

এই নবাব মন এখনো আশা করে, আমার প্রজা ও গোলামরা আমার সামনে নত হোক, কুর্নিশ করুক, অস্টপ্রহর সালাম দিয়ে মুখে ফেনা তুলুক, আমার স্তব করুক, আমার নামে জয়ধ্বনি দিক, আমার সামনে ‘নতমস্তক পশ্চাৎহস্তক’ হয়ে দন্ডায়মান থাকুক।

তাইতো এক প্রাচীন বৃদ্ধ দরবেশঠাকুর কবি বলেছিলেন, আমরা সবাই রাজা।

ইনফেরিওরিটি ইভলভড সুপ্রিমেসি কমপ্লেক্স আমাদের জাতীয় রোগ।

একটা সময় আছিল, অভিজাতরা বাঘ, হরিণ, হাতি, লাঠিয়াল, বাঈজী পুষিতেন। সময় বদলাইয়াছে। এখন অভিজাতরা প্রগতিশীলতা, উদারতাবাদ, সুশীলতা আর POWER পুষিয়া থাকেন। 

বারো; #popularmajority #majoritypressure #personalchoice

রুচি, Fashion, style, class, norm, সবই হল মেজরিটি সিনড্রম। মেজরিটি যা করে, সেটাকেই আমরা অবচেতনে কাঙ্খিত মানদন্ড হিসেবে মনকে program করে দিই। মেজরিটির সাথে না মিললেই, “এহ, ব্যাটা ক্ষ্যাত।” আচ্ছা, কেমন হবে বলুন তো? যদি একদিন ঘুম ভেঙে দেখি আমাদের সবার টেস্ট ও রুচির প্যারামিটারটা উল্টে গেছে?  ধরুন, তেতুল পরম মিষ্ট আর রসগোল্লা তেতো বা টক লাগা ধরল? অথবা, সব মানুষ লবণ খেতে দারুন ভালোবাসা শুরু করে দিল, আর চিনি দিলে ওয়াক করে থুহ? কিংবা, ধরুন, রুচির বদলের ফলে, শ্রদ্ধেয় রাণু মন্ডলের গান সবার কাছে লতা মাঙ্গেশকারের মতো লাগা ধরল, আর প্রয়াত লতা-জির গান কাকের কর্কশ ধ্বনির মতো?  সেদিন কী হবে?  মিজ ঐশ্বর্য রাই বাজার হারাবেন, সেনেগাল বা ইথিওপিয়ার কৃষ্ণসুন্দরীরা বাজার মাতাবেন? সেদিন হতে কি মানুষ গোলাপ ফুলকে ঘৃনা করবে? বনের ঘেঁটুফুল দিয়ে অতিথীকে বরণ করা হবে? লাসভেগাসে কি সেদিন বিশ্বদ ইজতেমার আয়োজন হবে? নাকি তাজমহলের গেটে আনাজ কঁচুর দোকান?  না, বেশি কিছু না। অন্তত আপনি যা ভাবছেন-তেমন কিছু না। সেদিনও সূর্য পশ্চিম দিকেই উঠবে। পূবে অস্ত যাবে। সেদিন লিচু লেখার বানান ৯চু হয়ে যাবে না। সেদিন পানিতে আগুন ধরবে না, পেট্রোল দিয়ে আগুন নেভানো হবে না। নারীরা সব হিসেবী আর পুরুষরা চরম বেহিসেবী খরুচে হয়ে যাবে না।  এই রে, কী পাল্টাউল্টো! ইয়ে, আপনি আসলে কী ভেবেছিলেন-সেটা শুনি। নিশ্চয় ভাবেননি, সেদিন মানুষ গোবরের মজাদার চাটনি দিয়ে কচুর লতির ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাওয়া শুরু করবে?

তেরো; #idea #valueaddition #marginalimportance #obsessionwithmnc #relevantexperience #relevantsubject #relevantjob #relevance #jobmatch #culturalfit #MNCMania #ObsessionWithMNC

বাংলাদেশে ’MNC’ একটি over rated concept ইনফেরিওরিটি সিনড্রোমে ভোগা এই জাতির একটি বিরাট সংখ্যক মানুষ যখন কোনো ’MNC’ তে চাকরি করেন, তখন, ”কী করেন?”-জিজ্ঞেস করলে সাথে সাথে উত্তর, ”ভাইয়া, আমি একটা ’MNC’তে আছি।” কোন কোম্পানীতে-সেটা আরও একবার প্রশ্ন করে জেনে নিতে হয়।

মানে, কোম্পানীর নামের চেয়ে ’MNC’ই তার বড় পরিচয়। অনেকটা বিসিএস ক্যাডার নিয়ে এ জাতির ‘মেধাবী’ প্রজন্মের অবসেশনের মতো। কিন্তু, যদি কেউ গারমেন্টসে চাকরি করে (স্রেফ উদাহরন বলছি), তাহলে তাকে একই প্রশ্ন করুন, তার উত্তর, ”জ্বি, ভাইয়া, আমি প্রাইভেট জব করি।”

কোথায়?

”জ্বি, মানে, RMG ইন্ডাস্ট্রিতে।” কোথায়, কোম্পানীর নাম কী?

”জ্বি, ……………….রামরহিম বস্ত্রালয়।”

একই কথা প্রযোজ্য ফেসবুক আর লিংকিতে TRP কম-এমন সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই। ’MNC’ ও বিসিএস নিয়ে তীব্র অবসেশনে ভোগা এই জাতিকে এবার যদি আমি জানাই, যে, বাংলাদেশে এখন বেশ কয়েকটি ’MNC’ গারমেন্টস কোম্পানী আছে। সেখানে যদি কাজ করেন, তাহলে তখন আপনি কি বলবেন? আর এই তথ্যটা দিয়ে আমি আরও বললাম, যে, এখন কিন্তু দেশে গারমেন্টস ভারশনের MNC চলে এসেছে।

ঠিক যেমন, এখানে ১ সদস্য বিশিষ্ট কোম্পানীর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মানে CEO বহু আগেই প্রচলন হয়ে গেছে। এই দেশের বিরাট সংখ্যক ‘প্রজন্মের’ ধারনা, ’MNC’ মানেই হল ’পৃথিবীতে এক টুকরো স্বর্গ।”

ওয়েল, ’MNC’তেও কখনো যাইনি, স্বর্গেও না, তাই বলতে পারছি না, ’MNC’ স্বর্গ কিনা। তবে, আমার ভাত খাওয়া ব্রেইন আমাকে এটা শিখিয়েছে, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। আর মুল্টিন্যাশনালরা যে দেশে যায়, সেই দেশের শুধু সংস্কৃতিটাই ধারন করে না, সেখানকার খাসলতও কপি করে। একই MNC লাস ভেগাস গেলে নাইট ক্লাবে যায়, আর ভারতবর্ষে গেলে জগন্নাথের মন্দীরে পেন্নাম দেয়।

মানে, ঘুরে ফিরে, তোমার মেঝ খালাই আমার কাছে বড় খালা, কারন তোমার বড় খালা আমার মা।

পরশুদিন একজন MNCয়ান ফোন দিয়েছেন। যা বললেন, তার সারমর্ম হল, “দাদা, যা কিচু দিচ্চে, তার বদলায় একদম ধইরে ধইরে মারিচ্চে।”  এবার আপনি বুঝে নিন। স্টার, MNC, (কিং)কংলোমারেট, ‘সুনামধন্য’ ও ‘জায়ান্ট’ অরগানাইজেশনে কাজ করা আমাদের সবার অধরা স্বপ্ন। আমারও।

তবে, এরকম স্টার, MNC, (কিং)কংলোমারেট, ‘সুনামধন্য’ ও ‘জায়ান্ট’ অরগানাইজেশন নিয়ে আমাদের মধ্যে একধরনের অবসেশন থাকে।

স্টার, MNC, (কিং)কংলোমারেট, ‘সুনামধন্য’ ও ‘জায়ান্ট’ অরগানাইজেশনরা বাই ডিফল্ট স্বর্গীয় ফল্গুধারায় আমোদিত, সেখানে কেবলই সুখ আর সুখ, সেখানে পা রাখতে পারলেই ’দিব্যান লোকান গচ্ছাতু’ মানে নির্বান প্রাপ্তি নিশ্চিত-এরকম একটা মনসুখ আমাদের মানস জগতে নিয়ে আমরা বড় হই।

এই পর্যন্ত সব ঠিক আছে। স্বপ্ন দেখতে নেই মানা। বাংলাদেশে কেবল একটা জিনিসই মানা-কথা বলা। কেউ চায় না আপনি কথা বলুন। কথা বললেই চাকরি নেই।

তো, ঠিক নেই তাহলে কোনটা? ঠিক নেই স্টার, MNC, (কিং)কংলোমারেট, ‘সুনামধন্য’ ও ‘জায়ান্ট’ অরগানাইজেশনে চাকরি করে আসলেই সে বিশাআআআআল তালেবর ও যোগ্যতার নক্ষত্র-এই অবসেশন পোষন করা আর আসামাত্র হরিবোল হরিবোল করে বিনা বাক্য ব্যয়ে, বিনা পরীক্ষায় তাকে ঘরে তুলে নেয়া।

বিগত ৯০ দিনে আমি ওই স্টার, MNC, (কিং)কংলোমারেট, ‘সুনামধন্য’ ও ‘জায়ান্ট’ অরগানাইজেশনের অন্তত প্রনিধানযোগ্য সংখ্যার কিছু মানুষকে ঘটনাক্রমে বাজিয়ে দেখার বিরল সুযোগ পেয়েছিলাম। অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তি হরিবোল বা হরাইবোল।

’মুল্টিন্যাশনাল’ এ চাকরির ডাক পাওয়া ও চাকরি নিশ্চিত করবার নিবিড় কোচিং বা ট্রেনিং দেবার অফার করছে-এমন বেশ ক’টা পেইজের বিজ্ঞাপন পরপর নজরে পড়ল। যেটা আগে কেবল বি.চি.এচ এর কোচিংয়েই বেশি দেখা যেত।

তার মানে হল ‘মুল্টিন্যাশনালে’র জব সার্চ ও জব পারসুয়েশন এখন একটা একক, আলাদা ও বিশেষ তাৎপর্য অর্জন করেছে। একটা ফেনোমেনাল সাবজেক্ট অবশ্যই।

হোক, চাকরি মানেই মেধা অথবা শ্রম দাসত্ব। সেটা যেখানে মিলবে, মানুষ সেখানে যাবেই।

আমি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছি, এটা দেখার জন্য, কবে ‘গারমেন্টে’র জবের জন্য ওরকম পেইজের ব্যবসা শুরু হয়।

এমনিতে আমাদের উগান্ডেশের জামজনতা প্রচন্ড জাজমেন্টাল, বায়াসড, হাইপড ও পপুলিজমের মুরীদ।

আমরা যা’ই দেখি আর শুনি-সেটাকে দৃঢ় ন্যারেটিভে পরিণত করি। তো, আমাদের কমিউনিটিতে ‘বিচিএচ’ এর যেমন একটা গদগদ ভক্তি আছে, তোয়াজ আছে, বেশ অনেক বছর ধরে ‘মুল্টিন্যাশনালে’রও তেমন একটা ক্রেইজ তৈরী হয়েছে।

মানুষ চোখ বুজে ধরে নেয়, ‘মুল্টিন্যাশনাল’-মানেই দিগগজ।

ওয়েল, ওই ‘মানেই’ জিনিসটাই ভুল। মনে রাখবেন স্বর্গেও আগুন থাকবে। আবার, নরকেও বরফ থাকবে। হারভার্ডেও ব্যাক বেঞ্চার থাকে। আমেরিকার প্রেসিডেন্টও ‘হাগু’ করে।

মাত্র কিছুদিন আগেও একজন ‘মুল্টিন্যাশনালিয়ান’ কে ইন্টারভিউতে ডাকার দুঃসাহস ও অভাবিত সুযোগ ঘটেছিল। অনলাইনে। প্রথম দফারটা আগের দিনই ফোনে ক্যানসেল করলেন। দ্বিতীয় দফায় আবার শিডিউল হল। এবার তিনি গায়েব। ইন্টারভিউয়ার ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ক্ষান্ত দিলেন। তাকে দুটি ভিন্ন সময়ে মোট ৪ বার ফোন করা হল। ধরলেন না।

তার রেফারিকে বলা হল। তিনি রাতে নক দিলেন। খবর হল না।

পরদিন তার খবর মিলল। পারিবারিক এমার্জেন্সির জন্য তিনি জয়েন করেননি। তবে কষ্ট করে সেটা ইন্টারভিউয়ার এইচ.আরকে জানানওনি।

তিনি কি অযোগ্য? না, ডিরেক্টলি নট। যোগ্যতা না থাকলে মুল্টিন্যাশনালে ঢুকতে পারতেন? তাহলে?

দায়ীত্বশীলতা, সেনসেবিলিটি, সিরিয়াসনেস, প্রফেশনালিজম-এই ৪টিতে তার ঘাটতি আছে। যদি ওগুলো আপনার দরকার থাকে, তার মধ্যে পাবেন না। ওই যে বলেছিলাম, ‘মানেই’ লাইনে যদি চিন্তা করেন, তাহলে ভুল করবেন।

সুতরাং ক্যানডিডেট বাছাই ও এমপ্লয়মেন্ট ডিসিশন নিতে ‘মুল্টিন্যাশনাল’ বায়াসে ভুগবেন না। চোখের সুরমা মুছুন। বাজিয়ে দেখে নিন। আমাকে মুল্টি হেটার ভাববেন না। আমি কারোরই হেটার নই। আর, দয়া করে একটা প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দিগগজদের মতো বলবেন না, “আগে চান্স পেয়ে দেখান।”

তৃতীয় বিশ্বকে এবং তৃতীয় লেভেলের ‘কুম্পানী’কে সভ্যতা ও কর্পোরেট কালচার শেখানো প্রথম বিশ্বের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলোর থলের বিড়াল হঠাৎ হঠাৎ বের হয়ে পড়লে একটু একটু কিংকর্তব্যবিমূঢ় লাগে।

আমাদের দেশে আমরা অহরহই বড় বড় ’মুল্টিন্যাশনালের’ নামকে আমাদের আইডল ও উন্নতির অ্যাভাটার হিসেবে তেলাওয়াত/রেওয়ায়েত করে থাকি। বাস্তবতা হল, সাহেবরাও কম যান না। খালি ধামাচাপা দেবার ধূর্ততা ও ক্ষমতায় তারা পটু।

তাই, থার্ড ওয়ারলডের থার্ড লেয়ার/ক্লাস কোম্পানীতে ওনাদের নিযুক্ত পরীক্ষকরা এসে রায় দিয়ে যান, এই গারমেন্টে পি.এম তার ওয়ার্কারকে অ্যাবিউজ করেছে। পি.এম শেষ, কোম্পানী শেষ।

আবার, ওই অডিটরের প্যারেন্ট কোম্পানী, বা, সুগার কাজিন কোম্পানী, তথা প্রথম বিশ্বের প্রথম সারির কোম্পানীতে সি.ই.ও তার হেড অব এইচ.আরের সাথে ইটিশপিটিশ করে ধরা পড়লেও সেটা যাস্ট একটা আনএথিক্যল রিলেশনশিপ মাত্র। ওখানে অ্যাবিউজ হয় না। থার্ড ওয়ারলডে বস-শ্রমিক প্রেম করলে হয় অ্যাবিউজ। ফার্স্ট ওয়ারলডে সি.ই.ও-হেডাপেইচার পরকীয় করলে হয় ’এক্সট্রাকারিকুলার রিলেশনশিপ।’

তাই বলি কি, অফিসের লনে গ্রীক ভাইস্কর্য ও অ্যাকুইরিয়ামে রঙিন মৎস বিচরন করে-এসব দেখেই প্রেমে পড়ে যাবেন না। মক্কা থেকে এলেই হাজী না। চাকরি প্রত্যাশী হোন কিংবা চাকরিদাতা-যেই হোন, একটু বাজিয়ে নিন। জুব্বা দেখেই পকেটে ঢুকবেন না। বা, গোঁফ দেখেই শিকারী বেড়াল ভেবে ওয়াইল্ড কার্ড দেবেন না। খেলিয়ে, তড়পিয়ে তারপর বরশিতে গেঁথে তাকে ঘরে তুলুন।

Pharma company তাদের HR কর্মী নেবে কেবলমাত্র ফার্মা ব্যাকগ্রাউন্ড হলেই, অথচ তার এইচ.আর কর্মী হাঁটে-মাঠে মায়াবড়ি বেচবে না।

FMCG কোম্পানীর এইচ.আর নাখালপাড়ায় বিস্কুট, চানাচুর, বিড়ি, পাউরুটি কিংবা লেইসফিতার বিল রিসিট কাটতে যাবে না। অথচ, তাদের এইচ.আর ক্যানডিডেট হতে হবে সাবেক কোনো FMCG

সিমেন্ট কোম্পানীর এইচ.আর জীবনেও ফ্লাইঅ্যাশ আর ক্লিংকারের সুষম মিশ্রন কী করে বানাতে হয়-সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হবে না। অথচ, একটা সিমেন্ট কোম্পানী, এমনকি, রেডিমিক্স কংক্রিট বিক্রেতা কোম্পানীও তাদের এইচ.আর নেবার জন্য সাবেক সিমেন্ট কোম্পানী হবার বাধ্যবাধকতা ফলো করে।

এর বাইরে নয় RMGও।

হেড হান্টিং তথা ট্যালেন্ট অ্যাকুইজিশনে যিনি বা যারা একদম টপ সিলেকটর বা ডিসিশন মেকার হিসেবে থাকেন, তাদের সুচিন্তা ও সুষ্ঠূ চিন্তার সক্ষমতা প্রতিষ্ঠানে ট্যালেন্ট পাবার জন্য খুব ভাইটাল।

একটা টাটকা অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি।

এমপ্লয়ার নিজেই যদি না জানেন, যে, তিনি ঠিক কী চাইছেন-তাহলে প্রার্থীদেরতো সমূহ ক্ষতি হবেই। প্রতিষ্ঠানেরও ক্ষতি অনেক। সময়, এনার্জি, রেপুটেশন তথা টাকার লস।

খুব সূক্ষ্ণ একটি ভুল দেখাই।

প্রতিষ্ঠানের দরকার যদি হয় এমন-একজন ক্যানডিডেট, যিনি মাটি কাটা শিল্পের মাঠ পর্যায়ে ৫ বছর কাজ করা হতে হবে; আর তারা একজন ক্যানডিডেটকে ডাকলেনও অমন ধারার, তার রেজুমে দেখে। তার রেজুমে বলছে, তিনি মেসার্স যাদু মিয়া অ্যান্ড সনস এ ৬ বছর পদ্মার চড়ে মাটি কাটার প্রজেক্টে চিফ আর্থ কাটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রার্থীকে ইন্টারভিউতে জিজ্ঞেস করায় তিনিও তা কনফার্ম করলেন। তাকে মাটি ও মাটি কাটার বিদ্যা নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করা হল না। করলেও সেটা খুব ভাসাভাসা। তার ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশনেও দেখা গেল, হ্যা, পদ্মার চড়ে ৬ বছর মাটি কাটার চাকরি করে তার চামড়া কুঁচকে গেছে।

প্রার্থীকে নিয়োগ করা হল। বাস্তবে দেখা গেল, তিনি মাটি কাটতে জানেন না।

কেন?

তিনি চিফ আর্থ কাটার ছিলেন ঠিকই। কিন্তু, তিনি কখনো মাঠে কাজ করেননি। ফিল্ডে যাননি। মাটি কাটেননি। মাটি কাটা তদারক করেননি। তিনি চাকরিস্থলে থাকতেন ঠিকই, তবে সেখানেই একটা টঙ দোকান দিয়ে পদমা ব্রিজের কনসট্রাকশনের মানুষদের কাছে পান বিড়ি বেচতেন।

চাকরি তো আছেই। সাথে ব্যাবসাটাও তুঙ্গে। এত রুট লেভেলে কে তদারকিতে যায়, যে সে আদৌ মাটি কাটে কিনা, বা, কাটার কাজ তদারক করে কিনা। কাজির গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই। 

এই যে, আমরা একজন অভিজ্ঞ মানুষকে হায়ার করলাম, তার সেই অভিজ্ঞতা কি মিনিংফুল বা এফেকটিভ? আসলেই কি আমরা অভিজ্ঞতা চাই, নাকি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অর্জিত দক্ষতা ও এক্সপোজার চাই?

যদি সেটা চাই, তাহলে আমরা কেন তার বাস্তব দক্ষতা, সক্ষমতা, জ্ঞান দেখে তাকে হায়ার করি না? কেন আমরা ‘সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা’র পেছনে পড়ে থাকি? কেন এই সারফেস গ্লামার প্রীতি? বিস্কুটের কোম্পানীর সেলস ম্যানেজার হতে কেন বিস্কুট মেকার কোম্পানীতে ১০ বছর চিফ বিস্কুট সেলার হিসেবে অভিজ্ঞতা মাস্ট হবে? আর সেটা হলেই কেন জব হয়ে যাবে?

কেন শুধুমাত্র ’সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা’ কারো ক্যানডিডেচার লেজিটিমেশনে অথবা এমপ্লয়্যাবিলিটি ডিটারমিনেশনের কোর ফ্যাক্টর হবে? কেন অতি অবশ্যই ‘রেলেভ্যান্ট হার্ড ও টেকনিক্যাল স্কিল’ সবচেয়ে ভাইটাল কনসিডারেবল হিসেবে গণ্য হবে না আমাদের হায়ারিং স্ট্র্যাটেজিতে?

আটা মেকার কোম্পানীর এইচ.আর অফিসার হিসেবে ব্রিক মেকার কোম্পানীর এইচ.আর অফিসার কেন যোগ্যতার পরীক্ষাটাও দিতে ডাক পাবে না? কেন শুধুমাত্র ‘কালচারাল ফিট’ অথবা ‘প্রোডাক্ট ওরিয়েন্টেশন’ হবে ডাক পাবার একমাত্র চাবিকাঠি? কালচারাল ফিটনেসই কি একমাত্র হায়ারিং ফ্যক্টর? যদি আরও ৯ টা ফ্যক্টর থেকে থাকে, তাহলে একটা ফ্যক্টরের কমতি থাকলে তাকে হায়ার করা যাবে না কেন? সর্বগুনে গুনান্বিত হারকিউলিস কি সত্যিই হয়?

আমাদের হায়ারিং ড্রাইভে মোট ৯টি কী ফ্যাক্টরকে কমপিটেন্সির নির্ধারক হিসেবে প্রয়োগ করি। তার মধ্যে সবচেয়ে ভাইটাল হল ট্যালেন্ট ও কমপিটেন্সি, যাকে আমরা ৪টি ধাপে ভাগ করি-

১. হার্ড স্কিল-ক. কমোন হার্ড স্কিল খ. জব স্পেসিফিক হার্ড/টেকনিক্যাল স্কিল

২. সফট স্কিল (পজিশন ওয়াইজ ভিন্ন ভিন্ন)

৩. নলেজ (নলেজ বলতে আমরা কী মিন করব-সেটাও ডিফাইন করা থাকে) ৪. পারসোনালিটি, বিহ্যাভিওরাল ও কালচারাল ফিটনেস (সবগুলো প্রি-ডিফাইনড)

বাংলাদেশের ছোট বাজারে অন্তত ২০-২৫ টা স্বীকৃত বা প্রতিষ্ঠিত বিজনেস কাম জব সেক্টর রয়েছে।

এই সেক্টরগুলোতে খুব সীমিত কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ইন্টার-সেক্টরাল ট্যালেন্ট হায়ারিং অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ এর ঘটনা খুবই বিরল।

যদিও সেক্টরাল রেলেভ্যান্সের বাইরেও কালচারাল, প্রফেশনাল স্পেশালাইজেশন, প্রডাক্ট রেঞ্জ, বিজনেস ন্যাচার-এসব রেলেভ্যান্সও ফোকাস পায় ক্রস সেক্টরাল বা ক্রস কোম্পানী হায়ারিংয়ে।

আমার এক বন্ধু। বড় একটি ফার্মে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।সারাদিন ওকে দেখতাম ফেসবুকে। একদম সারাক্ষণ, বিরতীহীন।আপাতঃ চোখে মনে হয় ভাদাইমা ও ফাঁকিবাজ। তো একদিন ওকে আমি জিজ্ঞেস করি তুমি এত উঁচু পদে চাকরী কর, এত বেতন আর সারাদিন কাজ না করে ফেসবুকিং কর, এটা কেমন করে তোমার কোম্পানী হজম করে।সে বলল, আমার চাকরিটাই হল ফুলটাইম ফেসবুকে ডুবে থাকা। কেন?………বলছি তবে তার আগে…….. অনেকেই হা পিত্যেষ করেন অমুক সারাদিন ডেস্কে বসে থাকে, কাজ করে না, এসি রুমে বসে আড্ডা মারে, ওর বেতন এত বেশি আর আমি সারাদিন খেটে মরি আমার বেতন কম…………….এবার বলি।

বন্ধুটি সারাদিন ফেসবুকে ডুবে থাকে।ফেসবুকের অ্যানালিসিস করে মাস গেলে সে কোম্পানীকে একটি প্রোডাকশন আইডিয়া দেয়।সেই আইডিয়া কাজে লাগিয়ে কোম্পানী কোটি কোটি টাকার প্রোডাক্ট বানিয়ে বিজনেস করে।গায়ে গতরে খাটার জন্য নয়, আমার বন্ধুকে নেয়া হয়েছে কোম্পানীর কাছে আইডিয়া বেঁচবার জন্য।তাই ফিজিক্যাল লেবার বা ক্ল্যারিক্যাল কাজের চেয়ে নিজেকে একজন আইডিয়া সেলারের ভূমিকায় নিয়ে যাবার প্রতি বেশি এফোর্ট দিন।আর অমুককে বসে থাকার জন্য এত বেতন দেয়া হয় কেন-এই ক্ষোভ আপাতত শিকেয় তুলে রাখুন।বন্ধুর বেতন প্রায় লাখ চারেক।

বাজার হতে একটি জাম্বো সাইজ ব্রয়লার বা কক-মুরগী কিনলেন। বাসায় এনে জবাই করে প্রসেস করবার সময় তার পেটে ৩ হালি আধাডিম পেলেন। খুশিতে বাকবাকুম। মুরগীর সাথে রেডিমেড ডিম ফ্রি।

আরেকদিন বাজার হতে ৫ মণি এক ষাঁড় কিনলেন। বাসায় এনে পরের দিন জবাই করবার পরে তার পেটে জমজ এঁড়ে বাছুর পেলেন। জ্যান্ত। হাম্বা হাম্বা করছে। আপনি ততোধিক খুশি। ষাঁড়ের সাথে জোড়া বাছুর ফ্রি।

তারপর আবার আরেক দিন। বাজার হতে একটা ছোট্ট বকনা বাছুর কিনলেন। ৭ মাস বয়স। ঘরে এনে রাখার পরের দিনই দেখলেন সেই বাছুর রোজ ৪ কেজি করে দুধ দেয়া শুরু করেছে। আপনাকে আর কে পায়?

এরকম রেডিমেড সার্ভিস, সারপ্রাইজ সার্ভিস, আশাতীত সার্ভিস, অথবা, চাবি আঁটা পুতুলের মতো ইনস্ট্যন্ট রিটার্ন ও সার্ভিসের খোঁজে থাকে কেহ কেহ। তাদের লক্ষ্য ও চিন্তা হল, ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে ’এইষাঁড়’ হায়ার করবার সাথে সাথে পরদিন হতেই কোম্পানীর চেহারা বদলে যাবে। সব লোক চিনো প্যন্ট আর শার্ট ইন করে অফিসে সাড়ে আটটায় পৌছে যাবে। প্রত্যেক ওয়ার্কার তিনগুন প্রোডাকশন দেবে। মার্কেটিং সেদিনই তিনগুন বাজার দখল করবে। সেলস আকাশে উঠে যাবে। সেই এইষাঁড় পে-রোল পারবে, অ্যডমিন পারবে, লাঠালাঠি ও রাজনীতিও পারবে। আবার, একদিন দেখা যাবে, সে মাঝে মাঝে নাচতেও পারে। খুশিই খুশি।

কিনে ঘরে আনার সাথে সাথে ইনসট্যান্ট ডেলিভারী দিতে পারবে-ব্রয়লারের ক্ষেত্রে এমন হলেও হয়তো হতে পারে। এরকম রেডিমেড এইষাঁড় জগতে নেই। কিন্তু, তাতে আপনার কী?

আপনি চাইবেন একদম আপনার ঘরেরটার মতো করে আরেকটা এইষাঁড় বাজার হতে কিনতে। যে ঘরে আনার পরদিনই ডিম দেবে। সেজন্যই কমপিটেন্সির কমপ্যটিবিলিটির বদলে কালচার, সেক্টরাল ওরিয়েন্টেশন, প্রোডাক্ট ভ্যরিয়েশন হয়ে যায় লোক ডাকার মূখ্য ক্রাইটেরিয়ন।

আমার বাপের আমলে একটু আধটু কথা বলতে পারে আর সামান্য দক্ষতা আছে-এমন কেউ শহরে আসলে তাকে লুফে নিত এমপ্লয়ার। পদ, পদবী, বেতন পরে দেখা হত।

তারপর এলো আমাদের টাই বাঁধা এইচ.আরের যুগ। এই যুগে হ্যানত্যান কত কত ফ্যক্টর। এই সার্টিফিকেট, সেই ইন্টারভিউ, ওই কমপিটেন্স, সেই স্কিল, হ্যান, ত্যান, ফ্যান-সবকিছুর ঘুটা দিয়ে তারপর চাকরি।

ইদানিং চলছে রেলেভ্যন্স আর কালচারের যুগ। এখন প্রার্থীদের কেবল সংশ্লিষ্ট বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেই হবে না। সংশ্লিষ্ট সেক্টরে অভিজ্ঞতা থাকলেও যথেষ্ট না। থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রোডাক্ট রেঞ্জ এবং স্বদেশী/বিদেশী ট্যাগের রেলেভ্যান্সও।

খুব শীগগীরই বাংলাদেশে সুপার রেলেভ্যন্স এর যুগ আসছে, যখন চাকরি প্রার্থীকে কেবল সংশ্লিষ্ট বিভাগ, সেক্টর, প্রোডাক্ট রেঞ্জ ও সংশ্লিষ্ট স্বলাতি/বিলাতি কালষাঁড়াল রেলেভ্যান্স হলেও পাত্তা দেয়া হবে না। তার আরও থাকতে হবে (শর্ত দেয়া হবে)-

-সংশ্লিষ্ট অফিস এরিয়াতে, মানে গুলশান/বনানীর অফিসে চাকরির অভিজ্ঞতা;

-সংশ্লিষ্ট খাচ্চর বসের মতো বসের সাথে আগে টিকে থাকার অভিজ্ঞতার সনদ;

-সংশ্লিষ্ট অফিসের মতো আইকনিক অফিসে চাকরির অভিজ্ঞতা;

-সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর কাস্টমারদের মতো কাস্টমার আগে ডিল করবার অভিজ্ঞতা;

-নাইট আউট/লং ড্রাইভ/কিটি পার্টি/ডিনার অফিসের অভিজ্ঞতা;

আসছে। আসছে। আসছে।

যা বলছিলাম, এই যে, এক সেক্টরে অন্য সেক্টরের মানুষ হায়ার না করবার মোটামুটি জেনারেলাইজড ও বহুল চর্চিত একটি প্রথা, মোটা দাগে তার আবার একটা ডিমার্কেশন করা যায়-RMG ও Non-RMG এই দুই সেগমেন্টের মধ্যে ইন্টার সেক্টরাল এক্সচেঞ্জ খুবই বিরল।

এই চর্চা ও প্রথার নানা কারন রয়েছে। কিছু ভ্যালিড, কিছু আজগুবি। কিছুটা খুশিতে-ঠেলায়-ঘোরতে।

কথা হল, সব প্রফেশনে সংশ্লিষ্ট ধরনের বিজনেস বা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করবার অভিজ্ঞতা একদমই জরুরী না। বিষয়টা থাকলে ভাল, না থাকলেও ক্ষতি নেই। এইচ.আর প্রফেশনে সবরকম শিল্প, সবরকম বিজনেসেই একই চরিত্র, একই কাজের প্যাটার্ন, একই স্কিল, একই নলেজ দরকার পড়ে। এমন না, যে, ট্যানারির এইচ.আর আর পোলট্রির এইচ.আর ভিন্ন ভিন্ন। তাহলে রেলেভ্যান্সের ফাঁদে ফেলা কেন? আর, এই যে সুপার রেলেভ্যন্স খোঁজা, সেটা যে ট্যালেন্টদেরকে একটা খাঁচায় বন্দী করে দিচ্ছে, তাদের প্রফেশনাল টেরিটরিকে কনফাইন করে তাদের ক্ষতি করছে-তার দায় কে নেবে?

অথচ, আমাদের অপরিপক্ক ইন্ডাস্ট্রি, এমপ্লয়ার ফ্যাটারনিটি আর তাদের ততোধিক চালাক এইচ.আর ‘রেলেভ্যন্স’কে এমন একটা হাস্যকর লেভেলে নিয়ে গেছে, যে, চায়ের দোকানে এইচ.আর নিতে হলেও এখন বলছে, প্রার্থীকে আগের ৫ বছর চায়ের টঙে এইচ.আরি করে আসতে হবে।

বুঝলাম, কালচারাল অ্যাকিউমেন ম্যাটারস। কিন্তু, সেটা কতটা ওজন ধারন করে? আপনাদের আচরন বলছে, আপনাদের কাছে ওটাই সব। একজন এইচ.আর ম্যানেজার বা জি.এম এর জন্য সংশ্লিষ্ট বিজনেসে দীর্ঘ ওরিয়েন্টেশন থাকলে আপনারা কী এমন বেনেফিট পাবেন? না থাকলে আপনাদের কী আসবে যাবে-আদৌ সেটা আপনারা জানেন? নাকি বিষয়টা স্রেফ আভিজাত্য আর ঘাউরামি? বাংলাদেশের মানুষ পড়ালেখা করে কোয়ান্টাম মেকানিক্সে, কিন্তু বিশ্বাস করে কবিরাজের ঝাড়ফূঁকে। এঁরা SHRM/AIHR হতে বড় এইচ.আর ডিগ্রী নেবে, কিন্তু, এইচ.আরের পলিসি বানাবে ‍দুনিয়া ডিগ্রী কলেজের বিদ্যা ফলো করে।

[আজকাল কিছু বলতে ভয় করে। মানুষ বুঝুক বা না বুঝুক, পশ্চাৎদেশে বাঁধিয়ে ঠেলা শুরু করে। পোস্ট বাদ দিয়ে ঘোস্ট নিয়ে মন্তব্য শুরু করে। তাই বলছি, এই পোস্টে ’মুল্টিন্যাশনাল’দের সমালোচনা করে কিছু বলা হয়নি। তাদের সমালোচনা আমার লক্ষ্য নয়, আমাদের অবসেশন ও ওভাররেটিং হল এই লেখার থীম।]

চৌদ্দ; #confused #misguided #mislead #spellbound #saleable

আপনার চোখে পড়েছে কিনা জানি না। পশ্চিমা এক দেশের একজন ব্যক্তি তার নিজের যত্ন করে সৃজিত Fart প্যাকেটে ভরে বিক্রী করেন আর তার এই ব্যবসার বাজার কোটি কোটি টাকার। সবই যে বিক্রী হয়-তার জন্য এর চেয়ে বেশি উদাহরন বোধহয় আর লাগে না। তো, তার এই বস্তু হটকেকের মতো বিক্রী হবার পেছনে রহস্য কী? অনেক চলকই আছে। তার একট হল বিভ্রান্তি। ক্রেতা ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করার ক্ষমতা তার আছে আর সেটার ব্যবহার তিনি কার্যকরভাবে করেন। (তার এই পণ্যের ব্যবসা নিয়ে আমি কোনো বক্র কটাক্ষ করছি না। যার মনে চায় যা বিক্রী ও কেনাকাটা করুক, আমার কী? ব্যক্তস্বাধীনতা)তো, আমাদের বিভ্রান্ত করে এমনই হাজারো যাদুকর প্রতিদিন আমাদের কাছে নানান উপাচার হররোজ বিক্রী করে। কখনো সেই পণ্য বা উপাচার হয় চাক্ষুস কোনো ‘জিনিস’। কখনো সে হয় নেহাতই হাওয়া। মানে, বায়বীয় কোনো ‘জিনিস’। এই বায়বীয় জিনিস সামনে আসতে পারে তত্ব, তথ্য, সুর, সত্য, কথা, গাঁথা, শিক্ষা, দীক্ষার সেকেল নিয়ে। যুগে যুগে নানা হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা আসে। তারা আমাদের চোখে ও মনে বিভ্রান্তি মলম দিয়ে আমাদের বিভ্রান্ত করে। তারপরে তাদের ঝোলার মধ্য হতে বের করে তাদের মোক্ষম ’জিনিস’। আসলে যেটা বেচার জন্যই তার এত মলমমালিশ। বিভ্রান্ত জনগোষ্ঠীকে আরো বিভ্রান্ত করে বেচে দিয়ে যায় তার ‘জিনিস’। সেই জিনিস হতে পারে যেকোনো কিছু। স্বর্গ হতে শুরু করে গণতন্ত্র, সভ্যতা, রাষ্ট্র, স্বাধীনতা, মুক্তি, সুখ, উন্নয়ন, মানবতা-কী নেই যাদুকরদের ঝোলায়? বিভ্রান্ত ও বুঁদ জনতার সামনে সে তার লোমশ হাত ঝোলায় ঢুকিয়ে তার জিনিস বের করে, তারপর আলগোছে দুলিয়ে দুলিয়ে জনতাকে প্রলুব্ধ করে, ”দেখো, দেখো, আমার কাছে ’জিনিস’ (স্বর্গ, গণতন্ত্র, সভ্যতা, রাষ্ট্র, স্বাধীনতা, মুক্তি, সুখ, উন্নয়ন, মানবতা) আছে। লাগবে? লাগবে?” আলখাল্লাধারী যাদুকর চড়া দামে বেঁচে দেয় বুভুক্ষু বিভ্রান্তের কাছে। মানুষ তখন তার টাকা, শ্রম, জীবন, বোধ, বিবেক, বিবেচনা, শিক্ষা, রক্ত, চোখের পানি অথবা প্রিয়জনের বিনিময় মূল্যে কিনে নেয় কাঙ্খিত সেই সূধা।বিভ্রান্ত মানবদের কাছে সবই বিকিয়ে যায়। বিভ্রান্ত মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে গোগ্রাসে গেলে সেই যাদুকরী মায়া। নিজের সবটা সত্তাকে যাদুকরের হাতে তুলে দিয়ে তারা বুভুক্ষুর মতো কেনে সেই মায়া পণ্য। বিভ্রান্ত।

পনের; #culture #heritage #boishakh #freedomofspeech #freedomofopinion #personalfreedom #liberty #Heritage #Legacy #Bangali #nationalism #Pohelaboishakh #newyearcelebration #religiousfanatism #extremeism

মঙ্গলে আপত্তি? নাকি জ্বালা অন্যত্র?:

মূল সমস্যাটা যদি সত্যিই কেবলমাত্র ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’টুকুই হত, তাহলে এই সামান্য সমস্যা বহু আগেই সমাধান হয়ে যেত। সমাধা হয়ে জাতি, ধর্ম, বর্ণ-নির্বিশেষে সেই কবেই একাকার হয়ে যেত।

ফলত, তাতে করে, আমাদের ভেতরে এই ‘ওঁরা’ ও ‘আমরা’টা জন্ম নিত না।

একান্ত চেনা ও প্রিয় বন্ধুটা হঠাৎ করেই তার এতদিনের ‘বিধর্মী’ বন্ধুটাকে বিজাতীয় ট্যাগ দিয়ে আঘাতটা আর করে বসত না।

কিন্তু মূল আপত্তিটা তো সেখানে আসলে না।

তাহলে সমস্যাটা কী নিয়ে?

মূলতম সমস্যা বলার আগে অমূল আরও কয়েকটা বলে নিই।

তাদের অন্যতম আপত্তি ও সমস্যা-

রবীন্দ্রনাথে

গানে

নাচে

কবিতায়

সুরে

নাটকে

ভোটে

অসাম্প্রদায়িকতায়

প্রেমে

কো-এডুকেশনে

বিজ্ঞানে

কর্মজীবি নারীতে

গণতন্ত্রে

সেক্যুলারিজমে

আম্লীগে

ধর্মের মানবিক নির্দেশনায়

ধর্মের বিশুদ্ধ জ্ঞানে

বৈশাখে

বৈসাবিতে

সাকরাইনে

পান্তায়

ইলিশে

বেবোরকায়।

তাদের আসল সমস্যা:

১. মুক্তিযুদ্ধে

২. তারা “বাঙালি নাকি মু…ল…ন”-সেই আত্মপরিচয়ের অন্তর্দ্বন্দ্ব।

৩. মু……ল….ন হলেও ‘পূর্ণাঙ্গ’ভাবে সেটি মানায় আপত্তি।

৪. অস্তিত্ব সংকটের ভয় (ওঁরা সব দখল করে নেয় কিনা)।

৫. বিগত ৫ হাজার বছরে তিনটি প্রধান ধর্মবিশ্বাসের মানুষের হাতে বৃহত্তর বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল, দখল-পাল্টাদখলের ক্ষত ও প্রতিশোধ স্পৃহাজনিত হিংসা।

৬. ধান্দা ও ধান্দাবাজির শিষ্যত্ব

যে কোনো কিছুর ধারক বাহক হবার জন্য একাডেমিকস একটা বড় ফ্যাক্টর। তবে মাস্ট নয়।ব্যক্তি স্বাধীনতা সভ্যতা গড়ে উঠবার, বিবর্তনের অন্যতম প্রধান ডেলিভারেবলস। তাকে অস্বীকার করবার প্রবণতা নতুন করে পশ্চাতগমনের শামিল।

প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ ও কোরবাণী এলেই দেশে কিছু স্ববিরোধী গোষ্ঠীর ম্যাৎকার শুরু হয়। পহেলা বৈশাখের যাবতীয় আচার বা উদযাপন নিয়েই এদের আপত্তি। তবে সবচেয়ে মোক্ষম অস্ত্র হল মঙ্গল শোভাযাত্রাকে টার্গেট করা। কারন, ওটাকে ধর্মের বিপরীতে দাড়া করবার চেষ্টায় কষ্ট কম, সাফল্য’র সম্ভাবনা বেশি। পহেলা বৈশাখের আচার-অনুষ্ঠান (যাবতীয়) এর বিরোধীতাকারীরা দুই ভাগ-একদল স্পষ্টতই নব্য ধর্মীয় উৎকর্ষ ও বেনামাজি অসৎ ধার্মীক। এরা ফেসবুক মোল্লাদের কাছে দ্বীন শিখে ধর্ম ধর্ম করে ম্যাৎকার করে। আরেকটা দল আছে। তাদের বিরোধীতার অস্ত্র হল “সাংস্কৃতিক আগ্রাসন”। এরাও সৎ নন। কারন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন নিয়ে তারা সত্যিই ভাবিত নন। তারা শুধু বৈশাখের আচারগুলোতেই নিমগ্ন। নিজেরা হাজারটা আরও আগ্রাসনের সেনানী ও লাভার হলেও তাদের আপত্তি শুধু এই একটা বিষয়ে। ঠিক যেমন, কোরবাণী এলে কিছু মানুষ পশুপ্রেমি হয়ে যায়। সারাবছর সমানে হ্যামবার্গার ও চিকেন ফ্রাই খেলেও এই সময়ে তারা পশুপ্রেমি। এদের স্টান্সটাও ভন্ডামী।আপনার কোনো কিছু ভাল না লাগতেই পারে। আপনি সিগারেট খান না। তাই বলে যারা খায়, তাদের সব হারামজাদা বলে গাল দিতে পারেন না। আপনি বিয়ার খান, তাই বলে সব কোক পানকারীকে বেকুব বলতে পারেন না। এটাই ব্যক্তি স্বাধীনতা। স্বাধীনতার খুব চমৎকার একটা সংজ্ঞা আছে। আমি ওটা প্রিন্ট করে সামনে লটকে রাখি।

স্বাধীনতা হল-একজন ব্যক্তি মানুষের একান্ত নিজস্ব ইচ্ছা, অনুভূতি, বোধ, বিবেচনা, চয়েজ, টেস্ট, চাহিদা অনুযায়ী নিজের ডিসকোর্স নির্ধারনের এবং নিজের ইচ্ছাকে বাস্তবায়নের ও উপভোগ করবার এ্যাবসলুট ও এক্সক্লুসিভ অধিকার;যেই উপভোগ ও প্রতিপালন অন্য একজন ব্যক্তি মানুষ বা মানুষদের একই রকম অধিকার উপভোগে বাধা হয়ে দাড়ায় না।

আশা করছি বোঝাতে পেরেছি।কুকুর, বিড়াল, পেঁচার প্রপস নিয়ে রাস্তায় কতক্ষণ রোদের মধ্যে ভাজা ভাজা হওয়াকে আপনার ফালতু মনে হতেই পারে। আবার, কারো কাছে সেই অর্থহীন কাজকেই পরম শান্তির মনে হতে পারে। এই যে, আপনি তার কাজটা করেন না-তিনি কি আপনাকে কখনো বলেছেন, আপনি বেকুব, এমন মজার জিনিস এনজয় করছেন না। বা, আপনি অপদার্থ? বলছেন না। কিন্তু, আপনি ঠিকই তার কাজকে সারাক্ষণ অপদার্থের কাজ বলে গালি দিচ্ছেন। এটা ব্যক্তি স্বাধীনতার লঙ্ঘন। বিশেষত, একটা কাজ যখন বিশাল একটা জনগোষ্ঠী পালন করে, তাদের সেই কাজকে আপনি চট করেই ফালতু, ধর্মহীনতা, পাগলের কাজ বলে ট্রল করতে পারেন না। অন্যের মতামত, চয়েজ, টেস্ট, বিবেচনা ও সিলেকশনকে পারস্পরিক সম্মান দেবার শিক্ষা সভ্যতা আমাদের শিখিয়েছে। এরকম অনেক মৌলিক বিষয়ের ওপরই সভ্যতা দাড়িয়ে আছে।

ষোলো; #preching #randompeople #intentionalpreching #pretending #disguise

ফেসবুকের গবেষনা ও লেখালিখিকে গোণায় নিতে পারলে বঙ্গীয় ফেসবুকাশে জাগ্রত জনতার প্রসবিত ভূড়ি ভূড়ি জ্ঞানগর্ভ(পাত) আর্টিকেল ও জাগ্রত বিপ্লবী জ্বালাময়ী পোস্টসমূহের বদৌলতে বঙ্গীয় ফেসবুকাকাশ বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয় রেটিংয়ে ১ নম্বরে থাকতে পারত।

শিক্ষা, পড়াশোনা ও গবেষনা ছাড়াই এখানে যে পরিমান আকাশকুসুম ফ্লেভারড গবেষনাকর্ম প্রতিদিন প্রচারিত হয়, খোদ আইনস্টাইন এ যুগে জন্মালে সেখানে ব্রাত্য হয়ে রইতেন।

এই বঙ্গীয় ফেসবিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষনা ও আর্টিকেলের কোনো সীমা ও সীমাবদ্ধতা নেই। এখানে কী নিয়ে গবেষনা নেই?

LGBTQ বিশেষজ্ঞ এখানে অগুনতি। মওলানা রুমী, গাজ্জালী অথবা ইকবালের থেকেও কোটি গুন বড় ধর্মীয় জাল্লামা এখানে গন্ডায় গন্ডায়।

ইতিহাসের ‘তথাকথিত’ জনক হেরোডেটাস এই ফেসবিদ্যালয়ে এলে ’কেন্দে’ দিতেন নিজের মূর্খতার জন্য। ইতিহাসের নিখাঁদ ও নিখূঁত বয়ান এখানে বেশুমার।

আরব দেশগুলোর, এমনকি মিশরের আল আযহারের গ্র্যান্ড মুফতিরাও বঙ্গীয় ফেসবিশ্ববিদ্যালয়ের মুফতিদের জ্ঞানগর্ভ(পাত) বয়ান, ফতোয়া, তাফসীরের কাছে নেহাত শিশু।

উড্রো উইলসন, অ্যারিস্টোটল অথবা আব্রাহাম লিংকন রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও গণতন্ত্র নিয়ে নতুন করে পাঠশালায় ভর্তি হতে চাইতেন, যদি আমাদের ফেসবুকাকাশের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের সামনে পড়তেন।

ওহ, মনে রাখবেন, বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, আমাদের বঙ্গীয় ফেসবুগান্ডায় কিন্তু সবাই মাদার ত্যাড়া(সা)’র মতো মহান মানবতাবাদী, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মাতৃভক্ত, মোজার্টের মতো সুরের মায়েস্ত্রোও বটেন।

সকাল-বিকাল যখনি ফেসবুক খুলি, তখনই confused হয়ে যাই। আমি কি পৃথিবীতে আছি, নাকি মরে স্বর্গে চলে এলাম! কারন যতদূর চোখ যায়, শুধু সাধু, সন্নাসী, মাওলানা, পাদ্রী, পুরোহিত, দরবেশ, সুফি আর পুতঃপবিত্র সব মানুষের পবিত্র সব পোস্ট চারপাশে। চমৎকার, পবিত্র, বিশুদ্ধ সব ধর্মবাণীর পোস্ট!  পৃথিবীতে তো সেটা সম্ভব না। তাহলে নিশ্চয়ই পূণ্যবানদের স্বর্গে চলে এসেছি।

ময়ুরকে কাছে থেকে দেখেছেন? দেখতে এত সুন্দর, আকর্ষনীয়, মোহনীয়। কিন্তু, মোহ ভাঙবে, যখনি ময়ুর ডেকে ওঠে।

এত সুশ্রী ময়ুরের কন্ঠ্য অত্যন্ত কর্কশ এবং রুক্ষ।

অনলাইনে, সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা আমাদের সবরকম প্রেজেন্সকে ময়ুরের মতো সাজিয়ে রাখি। মানুষ আকৃষ্ট হয়। আমরা সুন্দর সুন্দর পোস্ট দিই, চমৎকার কথা লিখি, সুশীল বাক্য ও কনটেন্টে সাজাই আমাদের দেয়াল। সুললিত বাক্যচয়নে কমেন্ট করি।  মানবিকতার নহর বয় আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতিতে। মানুষ ভাবে আমরা ময়ুর। ময়ুরের মতো মোহনীয়, আদৃত, সুন্দর ও প্রশংসিত থাকে আমাদের প্রোফাইল। আমাদের নিয়ে মানুষের মনে পজিটিভ প্রত্যাশা জন্ম নেয়।

কিন্তু, সেই মোহ ভঙ্গ হয়, যখনই আমাদের কন্ঠ্য ও পর্দার পেছনের চরিত্র প্রকাশ পায়। অনলাইন হতে অফলাইনে যখন আমাদের সাথে মানুষের ইনটার‌্যকশন হয়, কথা হয়, আলাপ হয়, কাজের আলোচনা হয়, আমাদের কেউ অ্যাপ্রোচ করে, কারো সাথে আমাদের কিছু বিনিময় হয়, তখনই আমাদের চরিত্র প্রকাশ পায়।

প্রথমেই আমাদের লুকোনো কেনাইন দাঁত আর কাঠ কন্ঠ্য প্রকাশ পায়। কন্ঠস্বর বদলে যায়। আমরা ভেতর ভেতরে যে ময়ুরের মতো কর্কশ-সেটা বের হয়ে যায়। আন্তরিকতার ছিঁটেফোঁটাও অবশিষ্ট থাকে না কন্ঠ্যে। যেন জগতের সব মানুষ আমার কৃপাপ্রার্থী। যেন আমি কোনো দেবতা। ফোনেই যেন আমার রত্নভান্ডার লুট করে ফেলবে কেউ-সেই ভয়ে কন্ঠ্যে যতটা সম্ভব সিরিষ কাগজ ঘষে যন্ত্রের ভাষায় কথা বলা দিয়ে শুরু হয়। চেনা মহামানবটাকে গলার মধুর বচনে আর চেনা যায় না।

তারপর তার মূল চরিত্রে গেলে আর কথাই নেই। অনলাইনের মহামানবখানা তার নখদন্ত্য প্রকাশ করেন সুযোগ মতো। সুন্দরী ময়ুর অথবা ময়ুরীর কাঠ কন্ঠ্যের মতো তাদের অন্তরের লুচ্চামি, স্বার্থপরতা, হিংসুক মনোভাব, অসততা, অসহযোগী চরিত্র, ধান্দাবাজি ক্রমশ দৃশ্যমান হয়ে পড়ে। অ্যাপ্রোচার মেয়ে হলে তো আর কথাই নেই।

অনলাইনের দেওতা অফলাইনে আজাজিলের ভ্রাতা।

এক গবেষনায় দেখা গেছে, অতৃপ্তকাম, লুপ্তকাম ও প্রত্যাখ্যাতকাম মানুষগুলোই ফেসবুকের মতো উন্মুক্ত মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি মর্মবাণী ও ধর্মবাণীর চর্চা ও আরোপের মতো অত্যাচার বেশি করে থাকে। তা সে নিজে ব্যক্তিগতভাবে যেমন মানুষই হয়ে থাকুক। (কজ এন ইফেক্ট গবেষণা। গবেষনায় গণ-মুক্তি হারবাল ঔষধালয়)**২:৩০ ঘন্টা জ্যামে বসে থেকে এই তীব্র সত্য কথাটা আজ আর না লিখে পারলাম না।

সতের; #communalharmony #communalclash

শুনতে যেমনই লাগুক, আপনার ভাল লাগুক বা না লাগুক, আপনি মানুন বা না মানুন, বিশ্বাস হোক বা না হোক, জুপিটারের দেশ ’উগান্ডা’তে ‘স্ব-সংজ্ঞায়িত’ ধর্মবোধ ভারসাস ‘আত্ম-চিত্রিত’ মুক্তচিন্তা কেন্দ্রীক একটা বিভেদ রেখা খুব প্রচ্ছন্ন বা প্রস্ফূটরূপে ধীরে ধীরে প্রতীয়মান হচ্ছে ও তার নিজস্ব রূপ, আকার নিচ্ছে। গোটা উগান্ডা সমাজ এই দল আর ওই দলে ভাগ হয়ে উগান্ডার জনপ্রিয় অঞ্চল পান্তাবাড়িয়ার মতো করে অন ও অফ লাইনে রক্তক্ষয়ী খুনোখুনির জন্য প্রায় উদ্যত। রাষ্ট্র যখন তিন কুড়ি বছরেও নিজের জাতীয় চরিত্রের স্বরূপ নির্ধারন ও পোক্ত করে উঠতে পারে না, তখন উগান্ডার অপগন্ডরা তো সব নিজে নিজেই রাষ্ট্রের স্বঘোষিত দন্ডমুন্ডের পান্ডা হয়ে উঠবেই। মজার বিষয় হল, উগান্ডান অপগন্ড ও পান্ডারা নিজেদের অসাম্প্রদায়ীক হিসেবে পরিচয় দিতে খুব ভালোবাসে।অবস্থাদৃষ্টে সারাদিনের ফেসবুক কড়চা দেখে মনে হচ্ছে, ২০৪১ সাল নাগাদ উগান্ডা দেশে বাংলা নববর্ষ পালন করা যাবে কি যাবে না-তা নিয়ে গণভোট আয়োজন করতে হতে পারে। ২০৯১ সাল নাগাদ, নববর্ষ পালনের অধিকার পাবার জন্য আদালতে রীট করার দরকার দেখা দিতে পারে।

আঠারো; #admiration #flattering

হঠাৎ করে যদি দেখেন, আপনার খুব প্রশংসা হচ্ছে বা কেউ করছে, সতর্ক হোন। আর, হঠাৎ করে যদি দেখেন, অন্য একজন কারো খুব প্রশংসা করছেন, তাহলে আরও সতর্ক হোন। প্রশংসাকারীর হতে। তার প্রশংসার পাত্র হতেও।দাসত্ব আমাদের রক্তে মিশে আছে। সারমেয় স্বভাব আমাদের সত্বায় গভীরে প্র্রোথিত। তাই প্রশংসার আর্দ্র বাণী অধিকাংশ সময়ই দাসত্বসুলভ আনুগত্য আর সারমেয়’র হাড্ডি প্রাপ্তির মতো কৃতজ্ঞতা হতে উৎসারিত হয়। বিশেষত সে যদি অন্নদাতা হয়ে থাকে। #criticism একবার এক প্রবল প্রতাপান্বিত রাজা তার সভাসদ সহকারে নৌবিহারে বেড়িয়েছেন। তো রাজা একটা দামী বোটে চড়েছেন একা আর তার বাকি সভাসদরা আরেকটা নৌকায়। যখন মাঝ নদীতে নৌকা পৌছাল তখন খোলা বাতাসে রাজার মন খুব ফুরফুরে। আনন্দে তার গান গাইতে ইচ্ছে হোল। তিনি জোরে পা ঠুকে ঠুকে গান গাইতে লাগলেন। এতে করে সমস্যা হল পুরোনো একটা পঁচা কাঠ পায়ের আঘাতে ভেঙে নৌকায় পানি উঠতে লাগল। রাজা মশাই তার সভাসদদের জিজ্ঞাসা করলেন, নৌভ্রমন কেমন হচ্ছে? তো সভাসদরা ভাবলেন, রাজার নৌকা ফুটো আর তাতে পানি উঠছে এই সমালোচনা কিভাবে করি? রাজা মশাইয়ের নৌকার সমালোচনা তো করা যাবেনা। সবাই বলতে লাগল বেশ বেশ বেশ! রাজা আরো জোরে আনন্দে পা ঠোঁকেন। কিছুক্ষন পর পানিতে সলিল সমাধি হল রাজার। সভাসদরা যদি একটু সাহস করে সত্যিটা বলতেন তবে রাজাকে আর মরতে হয়না। তাই মনে রাখবেন যারা আপনার একচেটিয়া প্রশংসা করে তারা সবাই আপনার শুভাকাঙ্খি না। আর যারা পয়েন্ট হারাবার ভয় থাকা স্বত্ত্বেও আপনার গঠনমুলক সমালোচনা করে তারা সবাই শত্রূ না। ভুলকে ভুল, সাদাকে সাদা, কালোকে কালো, সুন্দরকে সুন্দর বলার সৎ সাহস অর্জন করুন। সমালোচনা বা পর্যালোচনা-যেটাই বলি সেটাকে ধন্যবাদের সাথে গ্রহন করতে শিখুন। সেটা যার ক্ষেত্রেই হোক আর তার পরিণতি যাই হোক।

উনিশ; #talent #excellence

মেধা, বুদ্ধিবৃত্তিক উন্মেষ, মনোঃস্তাত্বিক পরিপক্কতা, বোধ, মনুষ্যত্ব বা মানবিক উৎকর্ষ, শিক্ষা। এই বিষয়গুলো কোনো ক্লাসরুম বিদ্যা নয়। ল্যাবরেটরী স্পেসিজও নয়। এগুলো ইনকিউবেটরে পয়দা করা যায় না। এগুলো হয়ে যায়। হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। শানিত হয়। সমৃদ্ধ হয়। একে ক্লাসরুমে পয়দা করা যায় না ঠিকই। কিন্তু, একে পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রীতভাবে ধ্বংস ঠিকই করা যায়। যেটা আমরা করছি। পদে পদে তার প্রমাণ।

বিশ; #idol #mentorship

ফেসবুকে দেখে দেখে যদি কাউকে মনে মনে দেবতার আসনে বসাও, তাহলে তার চরণে হত্যে দিয়ে মরার আগে একবার অন্তত তার সাথে চাক্ষুস দেখা করো। সশরীরে সাক্ষাত ধন্য হবার চেষ্টা করো। দেবতার স্বরূপ অনেকটা প্রস্ফূট হয়ে যাবে। তোমার চোখে থাকা মুগ্ধতার রঙীন অন্ধ কাজলও অনেকটা ধুয়ে মুছে যাবে। কাউকে যদি মনে মনে, নিজে নিজেই, নিজের হৃদয় সিংহাসনে দেবতার আসনে বসান, তার দায় তো সেই অপদেবতার নয়।দেবতা কক্ষচ্যুত হয়েছে-এই আত্মব্যাখ্যা তৈরি করে যদি নিজে নিজেই সেই দেবতাকে অপদেবতার অপবাদ দেন, সেই দায়ও তো দেবতার না। (বাণীতে: জনৈক পোড়খাওয়া ফেসবুক ফ্যান) আমরা আমাদের নিজেদের অনেক কিছুই মনে করি যে, ভাল জানি। আসলে ভুল জানি। আমি এটা খুব এনজয় করি, যে, অনেকে আমাকে জানেন দেওতা। তারা ভুল। আবার, অনেকে ভাবেন আমি দানবাসূর। তারাও ভুল। মানুষের এই ভুল জানা আমি এনজয় করি।

ভুল জানা অপরাধ নয়। ভুল করাও নয়।

অপরাধ হল, ভুল হতে পারে-এটা ভাবতে না পারা। এটা মানতে না পারা। চারপাশে এমন মানুষের সংখ্যা অসংখ্য।

একুশ; #idol #image

ব্যক্তিত্ব, ধনসম্পদ বা রূপের ছটায় যার ধারেকাছে ভীড়তে আপনি ইতস্তত করেন, বাইরাম বাইরাম করেন, সাহস করে খালি তার পরিধানের চাদরখানা ধরে টান দিয়েই দেখুন। ব্যাটা আসলেই বাঘ, নাকি বাঘের ছাল পরা বিড়াল-মুহূর্তেই প্রকাশ হয়ে যাবে। (বাণীতে জনৈক অভিজ্ঞ বিড়ালের মাসী)

বাইশ; #selfishness #growthoflife #changeinlife #uprisinginlife

মানব জীবন তার পুরো সময়কালে অনেকগুলো স্তর অতিক্রম করে। জীবনে ওপরে ওঠার অনেকগুলো ধাপ আছে। প্রতিটি ধাপ হতে পরেরটাতে যাবার সময় আগের ধাপের সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের যে প্রলেপ বা খোলসটা আছে-সেটা ঝেড়ে ফেলো। পরের ধাপে কখনো আগের ধাপের সেই সহযাত্রীদের নিয়ে যেও না। নতুন সহযাত্রী নিয়ে নতুন ধাপে শুরু করো।  (বাণীটা যার, তার নাম বললে ইউক্রেন যুদ্ধ থেমে যাবে না। তাই শুনে কাজ নেই।)

তেইশ; #parenthood #humanity

আপনার সন্তান, যারা আপনার কলিজা, যাদের মানুষ করা নিয়ে আপনি গর্বিত, আপনি কেবল একটা ব্লাফ ঘোষনা দিন, যে, আপনার সব এসেট আপনি আপনার সবচেয়ে ছোট সন্তানকে দিয়ে যাবেন, তারপর দেখুন, তারা কতটা মানুষ, কতটা দানুষ![অনেকে দেখলাম, সব সম্পদ ছোট ছেলেকে দিয়ে দেবার মতো উদাহরনটিকে ধরতে না পেরে বিষয়টি অন্যখাতে নিয়ে ভাবছেন। ওকে, উদাহরনটাকে বদলে নিন। আপনার সব সম্পদ সন্তানদের না দিয়ে সবটাই একটা ওলড হোমে দান করে দিন। এবার দেখুন।]

চব্বিশ; #privacy #personalfreedom

Privacy ও Personal choice নিয়ে আজন্ম অজ্ঞ ও উদাসীন এক জাতি আছে। এদের জন্ম হতে মৃত্যু তক কেউ এই জিনিস শেখায় না। এই জাতটা জানে না, জানতেও রাজি না, জানলেও মানে না, যে, এমনকি দাম্পত্যের যৌথবাসের মধ্যেও Privacy, space থাকা জরুরি।

পঁচিশ; #selfdefence #debate #logicpower

এই দেশে এমনকি গো.য়াজমেরও নিজের অন্যায়ের সপক্ষে দেবার মতো একটি যুক্তি আছে। সেই যুক্তির ঢাল নিয়ে নিজেকে নিজের কাছে, নিজেকে অন্যের কাছে সাদা রাখার চেষ্টা করে। এ বড় মজা। অন্যায়ও করবে, আমার মানুষের কাছে সাদাও থাকতে হবে। অন্যায়কারীর সবসময়ই দেবার মতো একটি যুক্তি তৈরী থাকে। খলের, অভাব হয় না ছলের।

ছাব্বিশ; #ignorance #wisdom

তোমার অজ্ঞতা প্রকাশ হয়ে না যায়- সে ব্যাপারে সতর্ক হও। আর তোমার জ্ঞান প্রকাশের ক্ষেত্রে তার চেয়ে দশগুন সতর্ক হও। অজ্ঞ’র মতো করে জ্ঞান প্রকাশ করা আরেক অজ্ঞতা। প্রচুর জ্ঞানী মানুষ নিজের ভেতরে থাকা জ্ঞানের চাপ আর গরম নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, এবং, সেটা প্রকাশের ক্ষেত্রেও কোনো নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না।

#scatteredthoughts #combo #MNCMania #ObsessionWithMNC #স্টাটাসকথন #এলেবেলে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *