Skip to content

এশটাটাশ সমগ্র-৫:সমাজের কোষ্ঠ্য ও কাঠিন্য নিয়ে টুকরো টাকরা

  • by

এটি কোনো লেখা নয়, লেখার সংগ্রহশালা। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র করে লেখা বিভিন্ন এলেবেলে পোস্টের ভাগাড় এই লেখা। পড়তে পারেন, পড়ে মাথা এলোমেলো করতে পারেন। আবার, একদম না পড়ে মাথা ঠান্ডাও রাখতে পারেন। পছন্দ আপনার।

এলেবেলে-১: #Crosslinking

এইচআর প্রফেশনালদের ভিতরে এই বিদ্যাটি থাকাটা খুব দরকার। ইন্টারভিউয়ার বা বস হিসেবেও এই যোগ্যতা দরকার। এই বিদ্যা বা ক্ষমতা একজন সিদ্ধান্ত প্রণেতা বা নেতাকে অসংখ্য বিচ্ছিন্ন Linkকে জোড়া দিয়ে সঠিক ও তরিৎ সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। সাহায্য করে মেধা বা মেধাহীনতা-উভয়কে সমন্বয় করতে। এই বিদ্যার কোনো নির্ধারিত ব্যকরণ ও স্বরলিপি নেই। এই বিদ্যা একেবারেই ব্যক্তিগত অর্জন।

এলেবেলে-২: #escape #urbanlife #lifeinmetro #township #holiday 

এক একটা ব্রিজিং হলিডের উপলক্ষ্য আসে, আর এই উন্মাদ শহরের মানুষগুলো শহর ছেড়ে পালানোর উন্মত্ত নেশায় রাস্তায় নামে। কুরুক্ষেত্র জয় করে সকালে আড়াই ঘন্টা বসে অফিস গিয়েছি। ঠিক এই মুহূর্তে পথে আছি। রাস্তায় রাস্তায় শহর ছেড়ে পলায়নদ্দত মানুষের হতচকিত ও ভীতচকিত অবয়ব। চোখেমুখে উন্মত্ত ব্যস্ততা। কোথায় পালাতে চায় এরা? কী হতে পালায়? আমারই বা একা কেন কোনো তাড়া নেই? ব্যস্ততা প্রত্যেক পেশাজীবির লালিত আরাধ্য স্বপ্ন। সবাই চায় ব্যস্ত একজন প্রফেশনাল হতে। বেকার কেউ থাকতে চায় না।

তবে ব্যস্ততা যদি এমন হয়, যে, সকাল নয়টা হতে বিকেল ছয়টা, মানে মোট নয় ঘন্টায় আপনি মাত্র একবার **‘পেচ্ছাপ’ করার চান্স পেলেন, তখন আপনার নাসিম আলি (সোলস) ভাইকে মনে পড়বে, নাকি কিডনি হাসপাতালের দরোজাটাকে, আমার জানা নেই। 

৩-৪ তারিখে যেমন শীত ধপাস করে নামল, ব্যস্ততাও যেন ঝুপ করে নেমে পড়ল। দেখার মতো ব্যস্ততা। বছরের শুরুর ভাবনা একরকম। আর দুই হপ্তাহ যেতেই পুরো চিত্র অন্যরকম। বহু বছর ধরে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলা বিদ্যুৎ ইদানিং সেন্টার ব্যাক। নিচে নেমে খেলছি। যদিও নিজেকে নিচে নামাবো না কখনো।

বা, কাউকে অথবা কারো কাজকে আমায় নিচে নামাবার ওজর হতে দেব না। I won’t let me down.

ব্যস্ততা আমার পছন্দ নয়। আমার রিফ্লেক্স কম, কাবেলিয়াত কম। তাই ব্যস্ত থাকলে কাজে ব্যঘাত হয়, চিন্তা নষ্ট হয়। ঠিক যেমন তাড়াহুড়া আমার অপছন্দ।

ব্যস্ততা তাড়াতে লালের আশ্রয় নিই। লাল পছন্দের রং। আবার কালোও। লাল সাহস দেয়। কালো দেয় আমাকে স্মরন। আমার অতীতের মানুষদের স্মরন। অতীতের আমাকে স্মরন।

আপনার পছন্দের রং কী? ভেবে বলবেন।

আমরা আমাদের নিজেদের অনেক কিছুই মনে করি যে, ভাল জানি। আসলে ভুল জানি। আমি এটা খুব এনজয় করি, যে, অনেকে আমাকে জানেন দেওতা। তারা ভুল। আবার, অনেকে ভাবেন আমি দানবাসূর। তারাও ভুল। মানুষের এই ভুল জানা আমি এনজয় করি।

ভুল জানা অপরাধ নয়। ভুল করাও নয়।

অপরাধ হল, ভুল হতে পারে-এটা ভাবতে না পারা। এটা মানতে না পারা। চারপাশে এমন মানুষের সংখ্যা অসংখ্য।

এলেবেলে-৩: #জ্যামজেলিজ্যামঠেলি #transformation #university #খোলসবদল 

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যাকে আর্মড ক্যাডার হিসেবে চিনতেন,   বিশ্ববিদ্যালয় শেষে এলামনি হিসেবে তাকে পাশের চেয়ারে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে দেখে কতটা প্রীত হন? মিলন মেলার মিলনের অনুভূতি কি তখন তেতো লাগে?  হ্যাপি ১০০ বছর মিলন মেলা। এই মিলনে জনসংখ্যা বাড়ে না। শহীদ কাদরি সাহেবকে সামান্য বদলে মারজুক রাসেল বলেছিলেন, ”প্রেমিক মিলবে, প্রেমিকার সাথে ঠিকই। কিন্তু, বাচ্চা হবে না। হবে না, হবে না, হবে না।” দু’টাকা সিঙারার পিঠস্থানের হ্যাপি ১০০ বছর মিলন মেলা। এই মিলনে জনসংখ্যা বাড়ে না।

এলেবেলে-৪: #hypocrisy #selfish #ungratefulness

এক মাঘে শীত যায় না-এই সত্যটাকে স্মরনে রাখার জন্য হলেও কিছু মানুষের মাঝে মধ্যেই চাকরি চলে যাওয়া উচিত। (আমার কথা না, নূরা পাগলার।) *** প্রতিষ্ঠানের Top position গুলোতে কাউকে hire করার সময় অন্যান্য সব যাচাই প্রক্রিয়ার পরেও বাড়তি হিসেবে প্রার্থীদের মানসিকতা, মনোঃস্তাত্বিক গঠন ও concept-এগুলো যাচাই করে নেয়া উচিত।  কারন, ওই position এ ওগুলো খুব matter করে। (এটাও আমার কথা না, এটা বলেছেন নূরার ভায়রা ভাই।)

এলেবেলে-৫: #training #trainingmania #trainingfun #trainingmockery #trending 

বাংলার আকাশে বাতাসে ১ বছরে যতগুলো ছোট বড় Training program হয়, তার ৯৯.৯% এরই topic হল Communication skill  Leadership skill তারপরও এদেশের ক্রিকেট টীমের ক্যাপ্টেন পাওয়া যায় না। আর কমিউনিকেশনের স্কীলের ঠেলায় কাউকে মেইল করলে পাঁয়ে হেটে বাসায় গিয়ে বলে আসতে হয়, “ভাইয়া, মেইল করেছি। দেইখেন।”

এলেবেলে-৬: #right&wrong #telliingthetruth #beingbold 

সঠিক, উচিত ও করণীয়’র অনাহুত পরামর্শ দিতে গিয়ে স্বঘোষিত Fan দের যেসব ‘হলেও হতে পারত’ স্তবক, Key note ‘ইশপিকার’, আর Invitation miss করে ফেলেছি-সেগুলোর দুঃখে আজও হাত কামড়াই। একজন একটা ইন্টারভিউ করে দিতে বললেন। করে দিলাম, তবে প্রশ্ন আর স্কোরিং আরো উন্নত করতে কিছু উপদেশ দিলাম। ব্যাস, ভাত উঠে গেল।একজন ইন্টারভিউ ছাপাবে। সব হালকা ও তোষামোদি প্রশ্ন। প্রফেশনাল প্রশ্ন নিয়ে ফেরত আসতে বললাম। আর কখনো চেহারা দেখাতে পারলাম না।একজন টেরনিং নিতে ডাকলেন। বললাম একটা কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান করে তারপর করুন। দুদিন পরেই দেখি তারা নতুন নাগরকে ম্যানেজ করে ফেলেছেন। বাজার চাইলে মুখ বন্ধ রাখুন।

এলেবেলে-৭: #gratefulness #thankfulness #socialrecognition #socialobligation  

আপনাকে মানুষ বিভিন্ন দিবসে মেসেঞ্জারে হাজার হাজার মেসেজ পাঠিয়ে বিরক্ত করে? রোজ সাত সকালে কারো Good morning মেসেজের টুঙঙ শব্দে আপনার বিরক্ত লাগে?  চাকরিপ্রার্থীদের মেসেজে আপনি জেরবার? সারাক্ষন বিরক্তিতে নাক কুঁচকাচ্ছেন? শোকর করুন খোদার কাছে। যে, তিনি আপনাকে মানুষের এতটুকু হলেও এটেনশনে রেখেছেন, যে, মানুষ এখনো ভরসা করে আপনাকে approach করে। বিশেষ দিনে আপনাকে একটা মেসেজ ফরোয়ার্ড করার মতো কাছের মনে করে।

এলেবেলে-৮: #impudent #ArroganceRebel

একটা বেয়াদবে পরিপূর্ণ দেশ, যেখানে রাস্তায় চলতে চলতে কাউকে ধাক্কা মারা, কারো পা জুতায় মাড়িয়ে দেয়া, কাউকে উস্টা দেয়া, কারো গাড়ির ১৩টা বাজিয়ে দ্রূত ছোটা এবং অতঃপর Sorry বলতেও রাজি না থাকাকে বীরত্ব হিসেবে মনে করা হয়। দেশটির নাম ভেরেন্ডাল্যান্ড। বিপ্লবীদের আজীবনই মানুষ ‘বেয়াদব’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, বেয়াদবরা আজীবনই নিজেকে ‘বিপ্লবী’ হিসেবে দাবী করে এসেছে।

এলেবেলে-৯: #littleangel #godofsmallthings 

আপনি যদি কোনো মানুষের সহায়তা প্রত্যাশা করেন বা দরকার মনে করেন, তাহলে ছোটদের কাছে যান, সাধারনের কাছে যান। তারকা, গুরু, মহামানবদের কাছে গিয়ে লাভ নেই। মানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে কিছু করলে ওই ছোটলোকরাই করবে। ব্রাহ্মন ঠাকুররা এসব ছোটলোকদের ডাকে নড়ে বসেন না। কিংবা, বলা চলে, সবার ডাকে নড়ে গেলে সে ব্রাহ্মন হতে পারত না। তাই সত্যিই কিছু করতে হলে ছোটজাতের কাছে যান।

এলেবেলে-১০: #distrust #breakoftrust #cheating #fraud

বিশ্বাসভঙ্গ, মোহভঙ্গ, অকৃতজ্ঞতা আর প্রতিশ্রুতির বরখেলাপের এত এত চাক্ষুস অভিজ্ঞতা জমে আছে, যে, কেউ এখন জোর দিয়ে যদি বলে, “কথার এদিক ওদিক হবে না”, কিংবা, “আপনার ঋন জীবনেও শোধ করতে পারব না” অথবা, “আপনি একদম চিন্তা করবেন না”, তখন চিন্তা আরো বেড়ে যায়।

এলেবেলে-১১: #potential #possibility #prospect

এই সত্যটি প্রায় অবিসংবাদিত, যে, প্রতিটি মানুষের ভিতরেই একটি সম্ভাবনা আছে। প্রতিটি মানুষের ভিতরেই আছে কিছু না কিছু করবার সক্ষমতা। বিচারক, ইন্টারভিউয়ার, এমপ্লয়ার, এসেজর হিসেবে আমরা যখন কোনো মানুষকে যাচাই করতে বসি, তখন হয়তো আমরা একটি সীমারেখা ও এস.ও.পি মেনে, কিছু বাঁধা নর্মস অনুসরন করে মানুষকে ফিট বা আনফিট হিসেবে প্রতিপন্ন করি ঠিকই। এর বাইরে যাবার সুযোগও কর্পোরেটে খুব কম। তবে, একটি আক্ষেপ এর মধ্যেও ধ্বনিত হবে। সেটি হল, এসেজর হিসেবে সামনে বসা ওই মানুষগুলোর লুক্কায়িত সম্ভাবনা ও সক্ষমতাকে আবিষ্কার করতে পারা এবং আউট অব বক্স গিয়ে সেই সক্ষমতাকে কাজে লাগাবার বা ফ্লারিশ করবার সুযোগ তৈরী করে দেবার ব্যর্থতা সবসময়ই একটি কালো ডট মার্ক হয়ে থাকবে।

এলেবেলে-১২: #knowingtalent #definitionoftalent 

দুনিয়াতে ট্যালেন্ট বলতে কিছু অবশ্যই আছে। আর আছে বলেই, আর্ট একাডেমিতে বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ দিয়েও একজন ভ্যান গগ সৃষ্টি করা যায় না। সেজন্যই হারভার্ড আর অক্সফোর্ড হতে প্রতি বছর একজন করে আইনস্টাইন জন্ম নেন না। ট্যালেন্ট আসলে কী? কেউ বলেন, ট্যালেন্ট বলে কিছু নেই। পরিশ্রম, প্রচেষ্টা আর অধ্যবসায়ই সব। আমরা ট্যালেন্ট ও মগজের মধ্যে কনফিউজ করে ফেলি। আমার ভোঁতা বুদ্ধি বলে, ট্যালেন্ট আর বুদ্ধিমত্তাও এক জিনিস নয়। অশিক্ষিত আমার মতে, ট্যালেন্ট অনেকগুলো এ্যাবিলিটির সম্মিলিত রূপ। বিস্তারিত না বলে শুধু অল্প কথায় বললে, জেনেটিক উত্তরাধিকার, সৃষ্টিশীলতা, পজিটিভ মানসিকতা, প্রবল ইচ্ছাশক্তি, স্থীর ফোকাস, অদম্য প্রচেষ্টার দৃঢ় মনোবল, জ্ঞান, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, পরিবেশের প্রভাব ও অভিজ্ঞতা- এই সব কিছু মিলে একজন মানুষের ভেতরে যে ব্যতিক্রমী এ্যাবিলিটি তৈরী হয়, সেটাকে আমি ট্যালেন্ট মনে করি। আপনি কী মনে করেন? ঠিক বলেছি?

 এলেবেলে-১৩: #deserve #earning #destiny #brainchild #thoughtchild #consequence

অদৃষ্টরে শুধালাম চিরদিন পিছে,

অমোঘ নিষ্ঠূর বলে কে মোরে ঠেলিছে?

সে কহিল, ফিরে দেখ, দেখিলাম আমি,

সম্মুখে ঠেলিছে মোরে পশ্চাতের আমি। 

যেভাবেই দেখুন না কেন; আপনি আপনার চিন্তার সন্তান।

আপনি আজ যা, তার জন্য আপনার ভাগ্য দায়ী, সমাজ দায়ী-অনেক কথাই বলতে পারেন। তবে সত্য হল, আপনি যা, তার জন্য দায়ী আপনার চিন্তা।

আপনার চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির ব্যপ্তি ও গুনাগুনই আপনাকে আপনি হিসেবে গড়ে দেয়।

চিন্তাকে বদলাতে না পারলে আপনি যা আছেন-তা ই থেকে যাবেন। চোর যে চোর-সেটা তো তার চোরামি চিন্তার কারনেই।

একজন অফিসারের উদাহরন দিই। অন্য কারো একজনের লেখা হুবহু কপি/পেস্ট করে নিজ দেয়ালে পোস্ট করেছেন। যেহেতু সামান্য আয়াস দিয়ে ‘কালেকটেড’-এই কথাটুকু লেখার কষ্টও করেননি, তাতে ধরে নেয়া যায়, যে,

১. কালেকটেড যে লিখতে হয়-সেটুকু চিন্তাও তার নেই। অথবা,

২. লেখাটিকে কার্যত নিজের লেখা হিসেবে চালাবার খুব স্থুল একটা চেষ্টা।

তো, তার ওই পোস্টের নিচে গিয়ে খুব ভদ্র ও সুন্দরভাবে লিখলাম, যে, লেখাটার মূল লেখকের নামটা উল্লেখ করে দিতে। আরও অন্তত ১০ জন মন্তব্য করেছেন। মাসখানিক আগের পোস্ট।

একজন মন্তব্যকারীরও তিনি উত্তর দেন নাই। নট এ সিঙ্গেল ওয়ান। একটু ঘুরে দেখলাম তার প্রোফাইল। না, তিনি আদতে মন্তব্যের উত্তর দেনই না।

এখন, মন্তব্যের উত্তর না দেয়া অপরাধ? না।

আমার ক্যাচ সেটা না। ক্যাচ হল, এই যে, একজন জুনিয়ার কর্মী (তিনি সাধারনত এতটা এনগেজড থাকবার কথা না অর্থে) মন্তব্যের উত্তর দেবার সময় পান না এক মাসেও। অথবা, উত্তর যে দিতে হয়, সেটাও ভাবেন না বা জানেন না। এই চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি তাকে আজীবন তার এখনকার মানুষটাই বানিয়ে রাখবে।

মানুষটা মানে পদ, পদবী, স্ট্যাটাস না। মানুষ মানে একান্তই নিজের ভেতরে মানুষটা।

তুমি মানো আর না মানো, জানো আর না জানো, তোমার সাথে যা কিছু ঘটে, তুমি যা কিছুর সংস্পর্শে আসো, তোমার ভাগ্যে যা লটকে থাকে, যার জন্য তুমি যারপরনাই পেরেশান, উচ্চকিত, তার প্রায় সবটাই তোমার দুই হাতের কামাই। তার প্রায় সবটাই তোমার নিজের কাজের প্রতিফল।

নিজের কোনো দুর্ভাগ্য, হতাশা ও দুঃখের জন্য স্বর্গ ও মর্ত্যের সকল মানব, দানব, দেবতাদের দোষারোপ করে, অভিশাপ দিয়ে ও রোষে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দেবার আগে একবার একটু ছোট করে ভেবে নিও, যে, ওই দুর্ভাগ্য, হতাশা আর দুঃখের পেছনে তোমার দায়টা কোথায়? অধিকাংশ সময়ই তোমার দুর্ভাগ্যবোধ, যার জন্য তুমি কষ্ট পাও, তার মুখোমুখি হলে আগে নিজেকে বলো, You deserve it. আর আপনারাও অন্যের আপাতঃ দুর্দশা দেখেই আর্দ্র হয়ে উঠবেন না।

একজন ধর্মীয় বুজুর্গ (প্রকৃত পরিচয় মনে করতে পারছি না) বলেছিলেন, ”তোমাকে যদি কেউ এসে বলে অমুক আমার একটি চোখ গেলে দিয়েছে, সাথে সাথে তার কথার উপর ভর করে রিএ্যাক্ট করো না। হতে পারে, সে নিজে হয়তো ওই লোকের দুটি চোখই আগে গেলে দিয়েছিল।” প্রোপারলি বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান করলে অনেক সময়ই দেখা যাবে, কথিত বা অভিনয়রত ভিকটিমই আসলে ক্রিমিনাল ছিল আর কথিত ক্রিমিনালই হলে ভিকটিম। এই সেদিনও এক মহাহারামজাদার হারামিপনার স্বরুপ উন্মোচিত হল, যে শুধু অভিযোগ করত, ভাগ্য তাকে বারবার প্রতারনা করেছে, তার বসেরা তার সাথে অবিচার করেছে। আমরাও তেমনটা মনে করতাম। ফাইনালি আবিস্কার করলাম, সবটাই সে ডিজার্ভ করে।

আমার সহকর্মীদের আমি প্রায়ই একটি কথা বলি, ”আপনারা আমাকে Deluded ও Derailed করতে পারবেন না। এবং, আমি চোখের জলে গলি না।” মজা করে বললেও, কথাটা অনেকখানি সত্য। চোখের জল দেখে গলে যাবার ও আমার সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হবার বিষয়ে আমি খুবই সতর্ক ও কঠোর। তবে এই কঠোরতা জন্মগত না।

৩ হতে ৪টি ঘটনা হতে শিখে আমি এই কঠোর হবার ব্রত নিয়েছি। ৩ জনই চোখের জল দিয়ে নিজেদের সাধু ও নিপিড়ীত দেখানোর চেষ্টা করেছিল। সে যে সে চোখের জল নয়। একদম মাসুম ও মজলুমের চোখের জলের অভিনয়। আমি কিছুক্ষণের জন্য হলেও প্রভাবিত ও বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। আপনিও হতেন, এতটাই নিখূঁত ছিল সে চোখের জল। পরবর্তিতে আমি অনেক মূল্য চুকিয়ে উপলব্ধি করেছি, ওই তিনজনের তিনজনই অপরাধী, অভিনেতা এবং ভেকধারী। তাদের ওপর হওয়া অন্যায়ের যোগ্য দাবীদার ছিলেন তারা।

সবশেষ আজকে একজনের চোখের জলের ইতিহাস ও গোঁমর ফাঁস হল। অনেক দেরী হল, তবে হল। ব্যস। এই শেষ। চোখের জলে ভেজার পর্ব শেষ আমার। আর গলব না। জবে রেফার করে নাক ও মাথা কাটা যাবার ইতিহাসগুলোর কথা আর বললাম না।

এলেবেলে-১৪: #judgement #talentevaluation #interviewerquality #assessment #talentacquisition #trickyquestions

আপনার প্রতিষ্ঠানে চাকরির Interview দিতে আসা job expectant দের যোগ্যতা, এবং প্রতিষ্ঠানের ভিতরে থাকা কর্মীদের Performance বিচার করবার আগে, যাচাই করে নিন, যে, আপনার Interviewer ও Departmental Assessor দের নিজেদের সেই Judgement করার ক্ষমতা আদৌ আছে কিনা। ভাল ইন্টারভিউ কী করে দিতে হয়-তার হাজারও  উপায়, সবক, ওয়াজ অসংখ্য মাধ্যমে পাবেন। কিন্তু, ভাল ইন্টারভিউ কী করে নিতে হয়-সেই সবক প্রায় কখনো আপনার চোখে পড়বে না। অথচ, একটি সফল ট্যালেন্ট অ্যাকুইজিশনের জন্য ওটাও অত্যন্ত জরুরী। এই বিষয়ে বিস্তারিত আগেও লিখেছি। নতুন করে উপন্যাস লিখব না।

’যোগ্যতা’ এবং ’উপযুক্ততা’ দুটো ভিন্ন বিষয়। মনে গেঁথে নিন।

চাকরির ইন্টারভিউ দেবার পরে যাদেরকে নেয়া হয় তাদেরকে ’যোগ্য’, আর, যাদের নেয়া হয় না, তাদের ‘অযোগ্য’ বলা বন্ধ করার সময় হয়েছে। #Compatibility

যাদের নেয়া হয়নি, তাদের বড়জোর ‘অনুপযুক্ত’ বলা চলে, যারা আপনার প্রতিষ্ঠানের ভিশন ও রিকয়ারমেন্টের বিপরীতে আনম্যাচড, নন-কমপ্যাটিবল। তার মানে এটা নয়, যে, তিনি অযোগ্য। তাকে বড়জোর আপনার জন্য অনুপযুক্ত বলা চলে। দেখবেন, আপনার রিজেক্ট করা ক্যানডিডেটই অন্য কোনো এক অফিসে একদিন ফাটিয়ে দিচ্ছেন।

কেন বলছি?

আপনার প্রতিষ্ঠানের যিনি রিক্রূটার, যিনি তুখোড় ইন্টারভিউয়ার, যিনি বিপুল বিক্রমে সিলেকটর, যার সামনে ক্যানডিডেটরা ভয়ে হয়তো প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলে, তিনিই যখন আরেক প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিতে যান, তার নিজের প্যান্ট ভিজে যাবার দশা হয়। এই তুখোর যোগ্য রিক্রূটারও তার ৯টা ইন্টারভিউতে সফলতা পান না। ১০ নম্বরটা হয়তো হুক হয়ে যায়। ওই ৯টা কোম্পানী আবার তার ইন্টারভিউ দিয়ে চলে আসার পরে ইন্টারভিউ বোর্ডে বসে বসে হতাশায় মাথা নাড়ে, “যাচ্ছেতাই ক্যানডিডেট” বলে মন্তব্য করে। দুই দিন বাদে ক্যানডিডেট “আপনি অযোগ্য” মর্মে একখানা ফিডব্যাক মেইল পান।

তাই বলি কি, চাকরির বিজ্ঞাপনে ‘যোগ্য’ লোক চাই, আর ইন্টারভিউতে ’অযোগ্য’ পরিগণিত করা বন্ধ করি। বরং, যে এসেছে, তার ফিচার আর আমার চাওয়া ম্যাচ করেনি, মানে তিনি ইন-এপ্রোপ্রিয়েট পারসন ফর আওয়ার কোম্পানী-এমনটা ভাবুন।

অনেক ইন্টারভিউয়ার অথবা এমপ্লয়ারের HR ভাইবাতে ট্রিকি প্রশ্ন করতে ‍খুব পছন্দ করেন এবং তাতে এক্সপার্ট বলেও দাবী করেন। ট্রিকি প্রশ্ন করা নিয়ে বেশ হৃষ্টতাও অনুভব করেন। প্রশ্ন হল, ভাইবা কি চাকরি প্রত্যাশীর ট্রিকস বোঝা ও মোকাবেলার ক্ষমতা পরীক্ষার যায়গা? নাকি তার মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, চিন্তা, চেতনা, বিশ্বাস, ভাবনা, পরিকল্পনা, সৃষ্টিশীলতা যাঁচাইয়ের স্থান? ভাল ইন্টারভিউ মানেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর টাস টাস করে দেয়া নয়। ভাইবাতে কী উত্তর দিল, তার চেয়ে প্রাধান্য দিন কীভাবে উত্তর দিল-তার ওপর। ইন্টারভিউ চোর পুলিশ খেলার টেবিল না। প্রার্থীকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার দুর্বলতা কী। তিনি তার দুর্বলতা বললে তাকে নেবেন না, কারন সে দুর্বল। আবার যদি সবলতাকে দুর্বলতার রং মাখিয়ে প্রকাশ করেন, তাহলে আপনি খুশি। অথচ তিনি মিথ্যা কথা বলছেন। যা মীন করেন না, সেটা জানতে চাওয়ার দরকারটা কী? আবার, যা শুনতে চান না, তা জানতে চাওয়ার দরকার কী? জিজ্ঞেস করলেন, চাকরিটা কেন ছাড়তে চাইছেন। অথচ, তিনি যদি সত্যি কথা বলেন, যে, আমার বস লম্পট, আপনি তাকে জবটা দেবেন না। তাহলে কী চাইছেন, তিনি বানিয়ে বানিয়ে কল্পকাহিনী বানিয়ে আপনাকে বলুক?

মোদ্দা কথা হল, যথাযথভাবে ও স্মার্টলি ইন্টারভিউ কনডাক্ট করবার ক্ষেত্রেও আমাদের এখানে অনেক বড় শূন্যতা রয়েছে। চাকরি প্রত্যাশীর মেধা ও সম্ভাবনাকে উন্মোচিত করবার মতো কাবেলিয়াত অনেক ইন্টারভিউয়ারেরই থাকে না। ফলাফল, “দ্যাশে ম্যাদাবী ও যোইগ্য লোক নাই।” ইন্টারভিউয়ার দেখেছি, বিরক্ত। ইন্টারভিউয়ার দেখেছি, অনিচ্ছুক। ইন্টারভিউয়ার দেখেছি, আনকালচারড। ইন্টারভিউয়ার দেখেছি, অজ্ঞ। ইন্টারভিউয়ার দেখেছি, কী করে যোগ্যতা যাচাই করতে হয়-তা নিজেরই জানা নেই। কী খুঁজছেন, সেটাও জানেন না।

একই দশা পারফরম্যান্স ইভ্যালুয়েশনে। পারফরম্যান্স কী, পারফরম্যান্স কোনগুলো এবং, কীভাবে পারফরম্যান্স যাচাই করতে হয়-তা না জেনে বসে থাকে, কিন্তু, দিন শেষে রায় দিয়ে দেবে-”Sakib kela pare na.” দু’রকম এপ্রোচ নিয়ে ইন্টারভিউ করা যায়-

এক; আমি, অর্থাৎ এমপ্লয়ামেন্ট সেলার, আমার যা চাই বা যা খুঁজছি, তা চাকরি প্রত্যাশী বা এমপ্লয়াবিলিটি সেলারের কাছে আছে কিনা-সেটা বোঝার চেষ্টা।

দুই, চাকরি প্রত্যাশী বা এমপ্লয়াবিলিটি সেলার যা বিক্রী করতে নিয়ে এসেছেন, সেটি আমার দরকার কিনা, কিংবা, আমার সরাসরি কাজে না লাগলেও তাকে ট্রান্সফরম করে আমার কাজের উপযোগী বানানো সম্ভব কিনা, অথবা, দরকার না থাকলেও, ভবিষ্যতের বিবেচনায় কিনে রাখা উচিত কিনা। হ্যা, এমপ্লয়মেন্ট ও এমপ্লয়াবিলিটিকে আমি বিকিকিনিই বলে থাকি। জব সিকার বা এ্যাপ্লিক্যান্ট টাকা, ডিগনিটি, রিকগনিশন-এসবের বিনিময়ে এমপ্লয়াবিলিটি  বিক্রী করতে আসেন। আর এমপ্লয়ার টাকা দিয়ে এমপ্লয়াবিলিটি, পোটেনশিয়াল, ক্রিয়েটিভিটি কেনেন।

এমনিতে “ভাত ছড়ালে কাকের অভাব নেই”-এই এপ্রোচ নিয়ে যে এইচ.আর কাজ করে, যে ইন্টারভিউয়ার ইন্টারভিউ নামক সওয়াব-জবাবে বসেন, দিন শেষে তিনি বা তারা কাক হয়তো ঠিকই পান, কোকিল কখনো পান না।

এলেবেলে-১৫: #একলাচলোরে #wisdom #explanation

কোনো কিছুকে তুমি কোন দৃষ্টিতে দেখো, কোন আঙ্গিকে ভাবো, কীভাবে ও কতটা যথাযথভাবে সেটিকে বিবৃত ও ব্যখ্যা করতে পারো-সেটিই তোমার প্রজ্ঞার পরিচয় নির্দেশ করে। 

এলেবেলে-১৬: #thankful #respectful #blessingsofgod #generous

যদিও স্বাভাবিক অবস্থায় এটা করতে হয় না, কিন্তু, বিশেষ Situation হওয়ায়, প্রতিদিনই কিছু কিছু ইন্টারভিউ (যেটাকে আমি JCE বলি) নিজে করছি। মাত্রই একটা শেষ করলাম।  যারা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, তাদের মধ্যে যারা ক্যারিয়ারে একটু জুনিয়র, তাদের কারো সাথে ইন্টারভিউতে দেখা হয়ে গেলে বা অন্য যেকোনো কারনে সরাসরি কথা/মেসেজ বিনিময় হলে তারা অত্যন্ত অত্যন্ত বিনীত ও কুন্ঠিত হয়ে কথা বলেন। (এটা দেখে আমার অতি আপ্লুত হবার কথা, যেহেতু জনপ্রিয়তা, আনুগত্য, প্রশংসা, স্বীকৃতি ও হুজুর হুজুর ডাক সবারই প্রিয়।) কিন্তু আপ্লুত হতে পারছি না। তো, একবার একজনকে জিজ্ঞেসই করলাম, “আপনি এত কুন্ঠিত ও জড়োসড়ো হয়ে কথা বলছেন কেন?”

তিনি আমাকে যা জানালেন, তার সারমর্ম হল, আমাদের ফেসবুক/লিংকডইন এর বিশাল ও মহান প্রোফাইল দেখে তারা আমাদের মহামতি মহাপুরুষের পর্যায়ে ভেবে পরম ভক্তি সহকারে মনে মনে কার্যত পূজা করে থাকেন। আর এহেন মহিরুহ ব্যক্তির সাথে কথা বলে ধন্য হতে গেলে তার সাথে বিনয়ে ও সংকোচে নুয়ে পড়ে অতি অতি মিহি ও শ্রদ্ধাবনত স্বরে কথা বলাই তো উচিত-অন্তত তিনি  বা তারা তেমনটাই ভাবেন। শরমে বাঁচি না। এসব শুনলে মনে মনে গোপনে পুলকিত হলে দোষ নেই। তবে ভাইয়েরা ও স্যারেরা আমার, কর্পোরেটে বা যেকোনো স্থানে কোন চেয়ারে বসে আছেন, কত জন ফ্যান ফলোয়ার, কত বড় হাস্তি, সেটা নিজের কাছে রাখুন। যারা আপনাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা দেখায়, সেটাকে স্রষ্টার রহমত ভাবুন। সেটাকে পাল্টা সম্মান দেখান। বড় চেয়ারে আসীন হয়ে ফ্রেশার, জুনিয়র, চাকরিপ্রার্থী, পরামর্শপ্রার্থী, সাহায্যপ্রার্থীদের দুই মিনিট সময় দিয়ে, দুটো কথা বলে, একটু সাক্ষাৎ দিয়ে, দুটো উপকার করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে বরং ধন্য মনে করুন। উল্টো মনে করবেন না, যে, আপনি ওইসব কৃপাধন্য মানুষকে উদ্ধার করে ফেলেছেন এবং, কাউকে দুই মিনিট সময় দিয়ে আপনি বিশাআআআআআল কোনো করুণা ও মহত্তম কাজ করে ফেলেছেন। প্রফেশনাল হিসেবে এসব করা আপনার দায়ীত্ব মাত্র। এর বেশি কিছু না। বরং স্রষ্টা যে আপনাকে ওই স্টাটাস দিয়েছেন, সেটার জন্য এসব মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন।[হ্যা, এই স্টাটাস পড়ে আবার বিপরীতে থাকা মানুষেরা আস্কারা পাবার সুযোগ নেই। সিনিয়র ও মেনটরদের যথাযথ সম্মান অবশ্যই করুন। বিনয়াবনত অবশ্যই হোন। তাদের সময়ের গুরুত্ব বুঝে তাদের সাথে চলুন। আমার এই লেখা পড়ে তাদেরকে আলুপটল ভাববার কোনো কারন নেই। সেটা আবার আপনাদের দায়ীত্ব।]

এলেবেলে-১৭: #forties #agefactor #changeinbeliefs

চল্লিশ খুব খুব খুব প্রনিধানযোগ্য একটি বয়স। চল্লিশ পার হচ্ছি। প্রতিদিনই নতুন নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন জানা, নতুন করে জানা, পুরোনো অনেক কিছুতে পরিবর্তন দেখছি। পুরোনো প্রথিত ও প্রমানিত বিশ্বাস, দৃষ্টিকে বদলে যেতে দেখছি। পুরোনো বাঁধন আলগা হতে দেখছি, পুরোনো সম্পর্ককে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছি। মনে হচ্ছে, চালশেতে এসে জীবনটা প্রতি পলে পলে নতুন রূপ নিচ্ছে। কবে থামবে এই মহাযাত্রা? দিন বদলের হাওয়া।

এলেবেলে-১৮: #success #fullfilment #meaningfulness

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাইয়্যীদ এর একটি উক্তি আমার খুব প্রিয়-”আমরা সবাই সফলতার পেছনে দৌড়াই, কিন্তু, কেউ স্বার্থকতার পেছনে দৌড়াই না।”

অর্জন, সফলতা ও স্বার্থকতার মধ্যে ব্যবধান বিস্তর। আপনার সব অর্জনই সফলতা নয়। সব সফলতা স্বার্থকতা তো অবশ্যই নয়। ভাববার বিষয় হল, আপনি কোনটি চান? কোনটি আপনার আসল লক্ষ্য? আপনার যেই অর্জন শুধুমাত্র আপনাকেই উপকৃত করে-সেটি নেহাতই আপনার অর্জন, সেটি সফলতা নয়। আপনার যেই সফলতা কেবল আপনারই, অন্য বৃহত্তর জগত, মানবের জীবনকে যদি তা সমৃদ্ধ না করে, তাহলে সেটিকে আমি সফলতা মনে করি না। স্বার্থকতা তো অবশ্যই নয়।

আমার কাছে সফলতা ও অর্থপূর্ণ জীবন আসলে কী?

আমি জীবনে যখন যা হতে চেয়েছি, হা হতে পারা; যেমনটা হতে চেয়েছি ঠিক তেমনটা হতে পারা; নিজেকে যেমনটা দেখতে চেয়েছি-ঠিক তেমনটা দেখতে পাওয়াই সফলতা।

আর, আমি আমার জীবনকে, নিজেকে যেমন সফল দেখতে চেয়েছি, অন্যের জন্যও সেটা চাইতে পারা আর অন্যের কাছে তেমনটার স্বীকৃতি পাওয়া হল স্বার্থকতা।

থ্যাংকস গড, তিনি অনেকের আরাধ্য জীবন আমাকে দেন নাই। তিনি আমাকে আমার বোধের জীবনটা দিয়েছেন।

এলেবেলে-১৯: #lookingintomind

ভাগ্যিস মানুষকে মানুষের মনের ভেতরটা দেখার ক্ষমতা দেয়া হয়নি। সেটা থাকলে মানুষ প্রতিনিয়ত তার প্রিয় মানুষগুলোর অভিনয় জানতে পেরে একটু একটু করে রোজ মরত।

এলেবেলে-২০: #bookfair #writingbook

বই লেখা ও বই মেলায় যাওয়া এখন Trend । কোটি কোটি ঢাকাবাসী বইমেলায় যান। পরিহাস হল, বইমেলার বইয়ের মোট বিক্রীর চেয়ে মেলার মুরগী ও ফুচকার দোকানদারদের মোট বিক্রী তিনগুন। এই গবেষণা পরিসংখ্যান সত্য না মিথ্যা-সেই তর্ক বেহুদা। জানেনই তো, মিথ্যা ৩ প্রকার-মিথ্যা, ডাহা মিথ্যা আর পরিসংখ্যান।

এলেবেলে-২১: #GenerationZ #GenZ #millennialgeneration #generationgap #clashofgeneration #deviationofgeneration #nationaldestruction #socialdestruction #socialdeviation #destructivenation

আমাদের কৃষ্ণকেশী ও পক্ককেশী প্রজন্মটাকে তো মাঝপথে পঁচিয়ে দেয়া শেষ। শেষ আশা ছিল যারা, সেই শিশু, কিশোর আর উঠতি যুবক প্রজন্মটাকে অত্যন্ত সুচারুভাবে, পরিকল্পিতভাবে, হাসতে হাসতে Spoil করে দেবার Mission টি প্রায় সফল। চলতি পথে দেখা হওয়া শিশু, কিশোর ও সদ্য বালেগ যুবকদের সংস্পর্শে আসলে এখন রীতিমতো ভয় করে। আপনি যদি একটু গভীর দৃষ্টি দিয়ে তাকান, একটু কানটা পাতেন, অধঃপতনের মাত্রাটা খুব সহজেই অনুভব করতে পারবেন। সবাই বলবে, সরকার এজন্য দায়ী। আমি বলব, আমরাই সেই সরকার। ফেসবুক, মোবাইল ইন্টারনেট আর স্মার্টফোন-এই তিনটি যে আমাদের দেশের বাচ্চা, তরুণ, মধ্যবয়স্ক, এমনকি বৃদ্ধদেরও সর্বনাশ ডেকে এনেছে-তা নিয়ে দ্বিধা আছে হয়তো খুব কম মানুষেরই।

সেটিকে যদি একটু ন্যারো ডাউন করার চেষ্টা করি; বলুনতো,

এই তিন বস্তু সবচেয়ে বেশি অধঃপতন বা সর্বনাশ করেছে কোন শ্রেণীটার?

ক. শিশুদের?

খ. টিন এজারদের?

গ. ছেলেদের?

ঘ. মেয়েদের?

ঙ. বৃদ্ধদের?

মাত্রই আজ ২২ নভেম্বর লিংকডইনে জনাব রেহান আসিফ সাহেবের একটি লেখা পড়ছিলাম। বেশ আগ্রহোদ্দীপক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর ফোকাস করেছেন উনি। দস্তুরমতো আমার মন্তব্যও সেখানে করেছি। বিষয়টি আমারও আগ্রহের বিধায় ওনার লেখার সবথেকে ফোকাসড অংশটুকু নিয়ে আমি এই আলোচনাটুকু করছি। পুরো লেখার প্রতিক্রিয়া নয় এটি।

আমার নজর ও চিন্তা হল এখনকার জেনারেশনকে নিয়ে। ধরুন, আমি এখন যারা ১৩ হতে ২৫ এর মানুষ, তাদের নিয়ে কথা বলছি। এঁদের টেইল এন্ডের ছোট একটি অংশ কর্পোরেটে এসে পড়েছেন। ফ্রন্টিয়াররা এখনো একাডেমিতে, অথবা, নানা ময়দানে।

রেহান সাহেবের ইঙ্গিত ছিল খুব পজেটিভ। তিনি মনে করেন, ইন জেনারেল (অল্প বিস্তর ব্যতিক্রম ব্যতিত) এই জেনারেশন (বিশেষত যারা প্রফেশনে ঢুকে পড়েছেন), তাদের প্যটার্ন হল এমন-

[people are leaving job because they don’t find meaning and purpose on their jobs . I know people who left their jobs because their guiding principles are not align with their organization’s practices .Millennials and Gen Z are looking for meaning and purpose in their jobs and they are not stuck in the jobs.]

ওনার এই স্টেটমেন্ট একদল অত্যন্ত উঁচুমানের চিন্তার মানুষের উপস্থিতির জানান দেয়।

এর বিপরীতে আমি দুটি ছবি যুক্ত করলাম। যা এই বিশ্বাসের একদমই ১৮০ ডিগ্রী বিপরীত। এর একটি স্রেফ ট্রল হলেও একদম বে-নজির নয়। আরেকটি হালসময়ের নিউজ।

এখন, আপনার কথা শুনি। আপনি কী ভাবেন, বা বিশ্বাস করেন?

এখনকার জেন-জেড (বা ওয়াই) অথবা ১৩-২৫ এর জেনারেশন আসলে কেমন? ইন জেনারেল বলেছি। অ্যাজ এ হোল।

১. তারা কি প্রচন্ড রকম মেধাবী, পরিশ্রমী, আন্তরিক, কমিটেড, ডেডিকেটেড, প্যশনেট, ফোকাসড, রেসপনসিবল, প্যট্রিয়ট ও সেনসিবল একটি জেনারেশন হয়ে বেড়ে উঠেছে বা উঠছে?

২. নাকি তার সম্পূর্ণ বিপরীত একটি উচ্ছনে যাওয়া প্রজন্ম হিসেবে এগোচ্ছে?

কর্পোরেট বাজারে রেপিডলি একটি জমিদার প্রজন্ম গ্রো করছে।

না, এরা বয়সের প্রজন্ম না। এরা স্বভাব, খাসলতের জমিদার প্রজন্ম।

এই জমিদার প্রজন্মের সকাল ১১ টার আগে ঘুম ভাঙে না। অফিস গোয়িং হলে সকাল ১০ টায় অফিসে আসতে না আসতেই টায়ার্ড হবার সময় হয়ে যায়। সকালে ইন্টারভিউ আছে-তা মনে থাকে না। মনে থাকলেও আবার, সকাল ১২ টায় যদি মনে হয়, নাহ, গা টা ম্যাজো ম্যাজো করছে, তাহলে আর ইন্টারভিউতে আসবে না। যে সাবজেক্টে পি.এইচ.ডিতে বিবিএ করেছে, তার একটা ডেফিনিশন জিজ্ঞেস করলে নায়িকা শাবনুরের মতো ঠোঁট কামড়ায়।

মুড সুইং হবে দিনে সতেরোবার। দুই দু গুনে চার শিখতে গেলেই হাপিয়ে ওঠে। তিন দু গুনে ছয় শিখবার আগেই দুইয়েরটা ভুলে যায়। একটা কাগজ ফটোকপি করতে গেলেও হাই ওঠে। “এই কলমটি হয় আমার”-এটা ট্রান্সলেট করতে দিলেও ব্লাইন্ড লুকে তাকায়। কাউকে ফোনে একটা কমিউনিকেশন করতে দিলে আবার বেস্টির সাথে প্রযোজ্য ভাষায় মেরে দেয়। “এইরকম একটা হাস্যকর ভুল কীভাবে করলেন?”-প্রশ্ন করলেও তারা চাকরি করার স্পৃহা হারিয়ে ফেলে।  বরইয়ের আচার ভাগ নিয়েও সহকর্মীর সাথে মারামারি হয়। কাজ ভাগ করে দিলে আবার উদারভাবে সবটা সহকর্মীর কাঁধে দিয়ে দেয়। বৃষ্টি হলেই মন টি.এস.সিতে চলে যায়। কড়া লিকারের চা না হলে অফিস প্যাকআপ করে দেয়।

এত কিছুর পরে আবার মাস শেষে অন্তত পঞ্চাশ হাজার টাকা না হলে হাত খরচই তো ওঠে না। সেটাও বিপদ।

আবারও বলছি, এটা তথাকথিত জেন-জেড বা বয়সের প্রজন্ম ইস্যু না। এটা খাসলতের প্রজন্ম। এই প্রজন্ম নিয়ে ব্যবসা, অফিস, কর্পোরেট কীভাবে অপারেট করবেন-ভাবতে থাকুন।

এলেবেলে-২২: #demoralization #wealthvseducation #education #exploitation

মানুষকে নিজের শক্তি, সক্ষমতা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে Demoralized করে  একদম পঙ্গু করে দেবার একটা মোক্ষম দেশ আমরা। আর আমাদের সমাজ। তথাকথিত ’শিক্ষাদীক্ষা’ মানে ডিগ্রী বা সার্টিফিকেট না থাকলে ভাল চাকরি হবে না, ভাল আয় রোজগার আশা করা যাবে না, জীবনে দাড়ানোর চিন্তাও করা যাবে না-এই অতি অতি ভুল বিশ্বাস মানুষের ভেতরে ঢুকিয়ে দেবার মতো বদমায়েশীটা কে করেছে? লেখাপড়া করে যে, গাড়িঘোড়ায় চড়ে সে-এই কাব্যকথার ভুল ব্যখ্যা আমাদের মাথায়  কে ঢুকিয়ে দিয়েছে? কে মানুষকে শিক্ষার লক্ষ্য ও মূলনীতি সম্পর্কে এমন ভুল ধারনা দিয়েছে? শিক্ষিত (মানে সার্টিফিকেটধারী) মানুষ বেশি ইনকাম করবে আর অশিক্ষিত মানুষ আজীবন তাদের গোলামী করবে, নিচু কাজ করবে, দাসানুদাস হয়ে থাকবে-শিক্ষার কী নিদারুন অপমান এই বিশ্বাস!শিক্ষার কাজ কি টাকা আয়ের কাবেলিয়াত দান?

এলেবেলে-২৩: #cenema #film #movie #creativity #mediadomination #mediamanipulation #mediadestruction #mediahype #mediaaholic #mediatrial

অতি করিৎকর্মা শিল্পবোদ্ধাদের হাতে পড়িয়া ১৩.৫ মাস পরে ২০২০ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার ঘোষিত হইল কল্যই। যাহা ও যাহারা স্যারা হইয়াছেন, তাহাদের মান ও গুন আর না বলি।  দর্শক সংখ্যা যদি শিল্পকর্মের বিচার্য বিষয় না হইয়া থাকে, তাহা হইলে ঠিকই আছে। দিতে হইবে, তাই দেওয়া হইতেছে। কথা সেইখানা নহে। কথা অন্যখানে। একটি দ্যাশের চলচ্চিত্র, নাটক, সাহিত্য, চারুকলা, শিক্ষা কার্যক্রম-ইঁহারাই একটি দ্যাশ ও সভ্যতা বিনির্মাণ ও জন্মদান করিয়া থাকেন। শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষক-এঁরাই যুগে যুগে এক একটি জাতির জন্ম দিয়াছেন, সভ্যতা নির্মাণ করিয়াছেন। যুগ ও সময়ের ধারা ঠিক করিয়া দিয়াছেন। এক একটি জাতি ও রাষ্ট্রের চরিত্র ও গতিপ্রকৃতি ঠিক করিয়া দ্যান ইঁহারাই। কথা হইল, আমাদের হালের শিল্পী, সাহিত্যিক, নির্মাতা মহোদয়বৃন্দ কী নির্মাণ করিতেছেন? তাহারা কী কী পয়দা করিতেছেন? নাটক আর চলচ্চিত্র তো এখন পয়দাই হয় কাহারো বেতন যোগাইতে আর চানাচুর বিক্রেতাদের বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ফিলার হিসাবে কনটেন্ট বানাইতে। রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, আমজনতা চোর চোট্টা হইবেক-তাহাও কতকটা মানিয়া লওয়া যায়। কিন্তু, যেই দ্যাশে শিল্পের সাধক, শিল্পী, চারু স্রষ্টা, সাহিত্যিকরা গণহারে চোর চোট্টা হইয়া পড়েন, সেই দ্যাশের কপালে ভালাই নজরে আসে না। আর নিজের বিচার নিজে করিলে স্বর্ণযুগের কথাও আসিয়া পড়ে। আমাদের তথাকথিত স্বর্ণযুগে আমরা যেইসব মহাকর্ম চলচ্চিত্র নির্মাণ করিয়াছি, যাহা আমাদের যক্ষের ধনের মতো, সত্যিকারের বিচারে তাহারা কি সত্য সত্যই কালোত্তীর্ণ? নাকি নেহাতই আত্মতুষ্টির হররা? বহুকাল আগে কহিয়াছিলাম, যেই দ্যাশে সাধনা আর সৃষ্টির আনন্দের চাইতে সেলেব্রিটি আর তারকা হওয়াই শিল্পচর্চার মুখ্য নিয়ত হইয়া দাড়ায়, সেই দ্যাশে আর যাহাই হউক, চারুশিল্প থাকে না। যাহা থাকে, তাহার নাম ‘হস্তশিল্প’। 

এলেবেলে-২৪: #cenema #film #movie #creativity #mediadomination #mediamanipulation #mediadestruction #mediahype #mediaaholic #mediatrial

২০২০ সালে বঙাল দ্যাশে প্রস্তুতকৃত চলচ্চিত্রসমূহের স্যারা চলচ্চিত্র বিচার শ্যাষে পুরুষকার ঘোষিত হইয়াছে গতকাল, ১৩.৫ মাস পরে। ইহা আবার হস্তগত হইবে আরো ৬ মাস পরে।  রাজকীয় কত্তাদের এহেন করিৎকর্মা বিচারকার্য দেখিলে কিছু সুখানুভূতি হৃদয়ে জাগ্রত হইতেছে- ১. শিল্পাশেঠী সমিতির নির্বাচনের উত্তেজনা আর নাটঙ্কি যথার্থই আছে। বস্তুত আমাদের চলচ্চিত্র হইলুড বা বইলুডের হইতেও বিশাল ও জনপ্রিয় হইয়া উঠিয়াছে। তাহার নির্বাচন তো ধামাকা হইবেই।  ২. রাজকীয় কত্তারা কান ও অশকার হইতেও অধিক চুলচেরা বিশ্লেষণ করিয়া থাকেন। তাহা ছাড়াও, দ্যাশে হাগার হাগার উচ্চমার্গীয় চলচ্চিত্র ভূড়ি ভূড়ি নিশ্চয় নির্মীত হয়, তাহা না হইলে এত সময় লাগিত না। ৩. দ্যাশে শিল্পের গুনগত মান যাঁচাই নিজেই একখানা শিল্প হইয়া উঠিতেছে। ৪. আমাদের চলচ্চিত্র, নাটক, সাহিত্য, চারুকলার চর্চা সেই রেনেসাঁ যুগে চলিয়া গিয়াছে। ৫. আমাদের রাজকীয় কত্তাদের ব্যস্ততা বাড়িয়াছে। তাহারা কর্ম করিয়া কুলাইয়া উঠিতে পারিতেছেন না। আফটার অল, বালিশ, কাঁথা, কনডম কিনিতে তাহারা বিদ্যাশ যাইয়াই তো কুলাইতে পারিতেছেন না। উন্নয়ন বাড়িলে কেনাকাটা তো বাড়িবেই। অথবা বলা চলে, কেনাকাটা বাড়িলেই না উন্নয়ন বাড়িবে। এবার একখানা সরল পেশনো করিয়া রাখি। হৃদয় হইতে কহিবেন। বিগত ২০ বর্ষ, মানে দুই দশকে বঙাল দ্যাশে নির্মীত কোনো চলচ্চিত্রকে আপনি কালোত্তীর্ণ না হউক, অন্তত প্রেক্ষাগৃহের টিকিটের পয়সা উসূল হইয়াছে-এমন কাতারে ফেলিবার মতো পাইয়াছেন কি? পাইলে নামখানা ব্যক্ত করুন।অতি করিৎকর্মা শিল্পবোদ্ধাদের হাতে পড়িয়া ১৩.৫ মাস পরে ২০২০ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার ঘোষিত হইল কল্যই। যাহা ও যাহারা স্যারা হইয়াছেন, তাহাদের মান ও গুন আর না বলি। দর্শক সংখ্যা যদি শিল্পকর্মের বিচার্য বিষয় না হইয়া থাকে, তাহা হইলে ঠিকই আছে। দিতে হইবে, তাই দেওয়া হইতেছে। কথা সেইখানা নহে। কথা অন্যখানে। একটি দ্যাশের চলচ্চিত্র, নাটক, সাহিত্য, চারুকলা, শিক্ষা কার্যক্রম-ইঁহারাই একটি দ্যাশ ও সভ্যতা বিনির্মাণ ও জন্মদান করিয়া থাকেন। শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষক-এঁরাই যুগে যুগে এক একটি জাতির জন্ম দিয়াছেন, সভ্যতা নির্মাণ করিয়াছেন। যুগ ও সময়ের ধারা ঠিক করিয়া দিয়াছেন। এক একটি জাতি ও রাষ্ট্রের চরিত্র ও গতিপ্রকৃতি ঠিক করিয়া দ্যান ইঁহারাই। কথা হইল, আমাদের হালের শিল্পী, সাহিত্যিক, নির্মাতা মহোদয়বৃন্দ কী নির্মাণ করিতেছেন? তাহারা কী কী পয়দা করিতেছেন? নাটক আর চলচ্চিত্র তো এখন পয়দাই হয় কাহারো বেতন যোগাইতে আর চানাচুর বিক্রেতাদের বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ফিলার হিসাবে কনটেন্ট বানাইতে। রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, আমজনতা চোর চোট্টা হইবেক-তাহাও কতকটা মানিয়া লওয়া যায়। কিন্তু, যেই দ্যাশে শিল্পের সাধক, শিল্পী, চারু স্রষ্টা, সাহিত্যিকরা গণহারে চোর চোট্টা হইয়া পড়েন, সেই দ্যাশের কপালে ভালাই নজরে আসে না। আর নিজের বিচার নিজে করিলে স্বর্ণযুগের কথাও আসিয়া পড়ে। আমাদের তথাকথিত স্বর্ণযুগে আমরা যেইসব মহাকর্ম চলচ্চিত্র নির্মাণ করিয়াছি, যাহা আমাদের যক্ষের ধনের মতো, সত্যিকারের বিচারে তাহারা কি সত্য সত্যই কালোত্তীর্ণ? নাকি নেহাতই আত্মতুষ্টির হররা? বহুকাল আগে কহিয়াছিলাম, যেই দ্যাশে সাধনা আর সৃষ্টির আনন্দের চাইতে সেলেব্রিটি আর তারকা হওয়াই শিল্পচর্চার মুখ্য নিয়ত হইয়া দাড়ায়, সেই দ্যাশে আর যাহাই হউক, চারুশিল্প থাকে না।  যাহা থাকে, তাহার নাম ‘হস্তশিল্প’।

এলেবেলে-২৫: #sanitarypad #hiegene #primitivesociety #feminism #powerofsocialmedia #socialmediadomination #socialmediamanipulation #socialmediadestruction #socialmediahype #socialmediaaholic #socialmediatrial #moralpolicing

ফেসবুকের যে এত ক্ষমতা, তা জানতাম না। ফেসবুকে জনৈক অভাজনের কিছু পোস্ট করারও যে এত ক্ষমতা আর মানুষ তাকে এত ভয় পায়-তাও জানা ছিল না। নিচের পোস্টটি গতকাল করেছিলাম। ক্ষমতাবান, লুটেরা, মাড়োয়ারী ও প্রতিক্রীয়াশীলদের একটা দল সম্ভবত তাকে খেয়ে দিয়েছে। বুঝলাম না, মানুষ এত ভয় পায় কেন? ফেসবুক পোস্ট না হয় খেয়ে দিলেন (যদি খেয়ে থাকেন আর কি)। মাথায় থাকা পোঁকাগুলোকে কীভাবে খাবেন? মাথার স্মৃতিকে কীভাবে খাবেন? আপনারা কি মনে করেন না, যে, আমরা রি-ক্রিয়েট করতে পারি? তবে আপনাদের তো ভয় পাই ঠিকই, যতই মুখে তর্জন গর্জন করি না কেন। পেটে লাত্থি পড়ার ভয় তো নিশ্চয়ই পাই। আর আমিও হয়তো একটু বেশি বেশি রুক্ষ ছিলাম গতকাল। তাই আজ একটু ‘ইডিট’ করে দিলাম। মাননীয় মহামান্য রাজন্য বাহাদুর, এই পণ্যটি কোনো যৌনসামগ্রী নয়, কোনো বিলাসপণ্যও নয়! এটি এক অর্থে একটি জীবনরক্ষাকারী অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক অধিকার পণ্য। আরো অনেক অনেক মৌলিক অধিকার পণ্যের মতোই। আমাদের আনুমানিক ১৯ কোটি মানুষের মধ্যে আনুমানিক সাড়ে ৯ কোটি নারী। তাদের মধ্যে সামান্য কিছু মানুষ বাদে বাকিরা এর ভোক্তা হবার মতো বয়সী। তাদের জীবনকে ক্যান্সারসহ অন্যান্য আরো কিছু মারাত্মক কিছু ঝুঁকি হতে বাঁচানোর দায় রাষ্ট্র কেন নেবে না? যখন রাষ্ট্রকে নাগরিক উপহার দেবার একচেটিয়া ভুক্তভোগী যোগানদাতা নারী? কেন এই পণ্যে সাবসিডি দেয়া হবে না? কেন আরও আরও পথ খুঁজে আরো ইকোনমি রেটে একে জনমানুষের হাতে পৌছানো যাবে না? রপ্তানি করে পয়সা আয় করলে তো সাবসিডি দেন। রাষ্ট্রের নাগরিক জন্ম দেবার একমাত্র ঝুঁকিগ্রহনকারী নারীর নিরাপদ প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য তাহলে কেন সাবসিডি বা ফ্রি নয়? অনেকে বলেছেন, আরো তো জীবনরক্ষাকারী পণ্য আছে। সেগুলোর কথা তো বলছি না। না ভাই, একই যাত্রায় দুই মেয়ের বিয়ে বা এক হাজামে দুই ছেলের খৎনা হতে পারে। তার মানে এই না, যে, একই পোস্টে জগতের সব অসঙ্গতি নিয়ে বলতেই হবে। তদুপরি, জীবন রক্ষাকারী বাকি পণ্যের সম্ভাব্য গ্রাহক এত বিশাল না। যেটা এটার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেন নেতা, কেন ত্যানা? মাননীয় পুরুষ বাহাদুরেরা, এটি কোনো যৌনখেলনা বা সামগ্রী নয়। তবু দোকানে প্যাড কিনতে গেলে কেন কাউকে লজ্জায় মরে যেতে হবে? কেন সৃষ্টির গর্বযোগ্য ক্ষমতা পাবার জন্য উল্টো প্যাড কেনার লজ্জায় ঘরের কোণে পুরোনো ত্যানায়  রোদন করতে হবে? দোকানে প্যারাসিটামল কিনতে গেলে কি কাউকে ইতস্তত করতে হয়? নাকি কারো দিকে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে থাকা হয়?  তাহলে প্যাড কিনবার জন্য অদৃশ্য ট্যাবু কেন বানিয়ে রেখেছি আমরা? মাননীয় বটিকা ও বড়ি উৎপাদক,  বা মহান অন্যান্য কর্পোরেট মহোদয়বৃন্দ, সিএসআরের নামে নানা ঘাঁইকিঁচিং তো আমরা করি। সত্যি করি, মিথ্যা করি। বিনামূল্যে না হোক, ১০ টাকায় বা ২০ টাকায় কিংবা ৫০ টাকায় ১ প্যাকেট প্যাড উৎপাদান বা বিক্রী করে কি একটু সিএসআর করা সম্ভব? মানছি, আপনাদের একক দায় না। ব্যবসা ব্যবসাই। সেই ব্যবসা রক্ষা করেই কি এই মরার দেশের জন্য আর কিছু করা সম্ভব? অন্তত, ৯.৫ কোটি হতে ২ কোটি অসংশ্লিষ্টকে বাদ ধরে বাকি ৭.৫ কোটি নারী, প্রতি মাসে ১টি প্যাকেট করে বছরে ১২ প্যাকেট, তার মানে, ৭.৫ কোটি X ১২ প্যাকেট, মানে বছরে ৯০ কোটি প্যাকেটের সম্ভাব্য গ্রাহক। সেই বিবেচনায়ও কি আরেকটু মানবিক করা সম্ভব না? প্যাড নির্মাণের উপাদান কি স্থানীয় যে কোনো কাঁচামাল ব্যবহার করে সোর্স করা সম্ভব কিনা-অন্তত সেই খাতে গবেষণায় বিনিয়োগ করেও কি উপকার করা সম্ভব না? আপনি না হয় গবেষণায় অর্থ বা মেধা দিলেন। অন্যরা সেই আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে বাকিটা করল? আমি এত ইমোশনাল কেন হলাম? না, আপনি নিশ্চিত থাকুন, নজর কাড়তে না। বিখ্যাত হবার খাহেশ আমার নেই। নোবেল প্রাপ্তিরও না।  এই বিষয়টা নিয়ে লেখালিখি অনেকদিন ধরেই পড়ছি, ভাবছি। হঠাৎ মনে ঘাঁ লাগল। মনে হল-সত্যিই তো, আমি আমার জন্মদাত্রী, আমার সন্তানের জন্মদাত্রী, আমার ভগ্নী, আমার বন্ধুকে সেই অনাদি কাল হতে কেন নোংরা পরিত্যাক্ত বস্তু ব্যবহার করে আমাকে, আমার সন্তানকে জন্ম দেবার ক্ষমতা বহাল রাখার দায় কন্টিনিউ করতে তাদের বাধ্য হতে দেখে এসেও মেনে নিয়েছি? কেন নেব? আমি হয়তো এফোর্ড করতে পারি। কিন্তু বাকিরা?

#scatteredthoughts #combo #স্টাটাসকথন #এলেবেলে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *