Skip to content

এশটাটাশ সমগ্র-৪: সমাজের কোষ্ঠ্য ও কাঠিন্য নিয়ে টুকরো টাকরা

  • by

এটি কোনো লেখা নয়, লেখার সংগ্রহশালা। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র করে লেখা বিভিন্ন এলেবেলে পোস্টের ভাগাড় এই লেখা। পড়তে পারেন, পড়ে মাথা এলোমেলো করতে পারেন। আবার, একদম না পড়ে মাথা ঠান্ডাও রাখতে পারেন। পছন্দ আপনার।

এলেবেলে-১: #hooliganism #criminalization

দুর্বৃত্তায়ন জিনিসটাকে বাঙালরা রীতিমতো একটি শিল্পে রূপ দিয়ে ফেলেছে।রাস্তার পরিত্যাক্ত বোতল কুড়ায়-এমন প্রান্তিক একজন মানুষও এই দুর্বৃত্তায়নের যোগ্য শিল্পী।বিশ্বাস না হলে, সামান্য টোকা দিয়েই দেখুন।পরনের লুঙ্গী নিয়ে ফিরতে পারবেন না।

এলেবেলে-২: #divinelie #sacredlie

ফেসবুক নীতিগদ্য’র জন্য যদি কোনো নোবেল থাকত, সেটি নির্ঘাত মহামতি মিসাইল কালাম, জৈনক কুয়েতি লেখক আর নাহলে জৈনক কৃষক সন্তান আতিউর স্যার পেতেন (With due respect to those personalities) ।ওনাদের নাম করে যে পরিমান নীতিগদ্য ফেসবুকে আছে, সেগুলো ওনারা নিজেরাও জানেন কিনা কে জানে? কে লিখেছেন, কেন লিখেছেন, আদৌ লিখেছেন বা বলেছেন কিনা জানার কোনো বালাই নেই। একজনের দেয়ালে পেলাম, ব্যাস, “হাগারে হাগারে শিয়ার” করতে শুরু করলাম। এই স্রোতধারায় এখন জাপান নিয়ে একটা স্তুতিকাব্য Top rank এ আছে।

এলেবেলে-৩:

জবান, মেজাজ আর বায়ু-কখনো এই তিনের নিয়ন্ত্রণ হারাবেন না। হারালে এরাই আপনাকে ডুবাবে।

এলেবেলে-৪: #Intolerance #freedomofspeech #freedomofopinion #personalfreedom #liberty #criticism

বেশ কিছু বছর আগে। ফেসবুকের কোনো একটি শিল্প সাহিত্য ভিত্তিক গ্রূপে একজন মোটামুটি জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব’র পরিবেশিত একটি শিল্পকর্মের ওপর নিজস্ব মতামত ও পর্যালোচনা লিখেছিলাম। ব্যক্তিত্ব নিজে তাকে সহজভাবেই নিয়েছেন। চমৎকার করে প্রতিউত্তরও করেছিলেন। বাঁধ সাধলেন তার ভক্তরা।তারা আমাকে মোটামুটি তুলোধুনো না করলেও কিমাধুনো করলেন। আমার শিল্পবোধ নিয়ে কটাক্ষ করলেন। ওই গান অমন নাঁকি সুরেই গাইতে হয়-তেমন শাস্ত্রীয় জ্ঞান দিলেন। আমি অতবড় একজন শিল্পীর সমালোচনা করার মতো কোন ‘C B আব্দুল্লা’ সেই প্রশ্ন করলেন। কয়েকজন বহুল পরিচীত ‘চ্যাতনা’ বড়ি নিয়ে এলেন। উদীয়মান শিল্প সমালোচক হবার খাহেশ আমার সেদিন মাঠে নয়, ঘাটে মারা গেল।

সম্ভবত এই বিষয়ে খুব বেশি মানুষের দ্বিমত নেই, যে, আমরা বাঙালিরা একটি অত্যন্ত অসহিষ্ণু, অস্থির এবং একমুখিতা প্রিয় জাতি। দ্বিমত বা ভিন্নমত আমরা প্রায় কেউই সহ্য করতে পারি না। আশপাশের সবাইকে নিজের চিন্তার মিনিয়েচার প্রটোটাইপ দেখবার বাসনা পোষণ করি হৃদয়ে। বৈচিত্র আমাদের ধাতে নেই। যদিও আমরা ১০০% মানুষই গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা করতে করতে মুখে রক্ত তুলে ফেলি।

আমাদের এই চরিত্রের ছাপ আমাদের সব কাজে কর্মে পড়ে। ছাপ পড়ে আমাদের সোশ্যাল হ্যান্ডেলের বিচরন ও ফুটপ্রিন্টে।

ভেতরে ভেতরে মানুষ যদি পরমত অসহিষ্ণু হয়, সোশ্যাল প্লাটফরমেও তার ব্যতিক্রম হয় না।

সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুক ও লিংকডইনে আমার বিচরন সুদীর্ঘ না হলেও স্বল্পকালীনও নয়।

এই সময়কালে প্রচুর লিবারেল ও ধৈর্যবান মানুষের সাথে যেমন ইনটারেকশন হয়েছে, তেমনি ’আই কেম অ্যাক্রস নাম্বার অব পিপল’, যারা অন্যের মতামতকে তীব্রভাবে আক্রমনে অভ্যস্ত। এই হিংসাত্মক ও অসহিষ্ণু মনোভাবের অভব্য ব্যক্তিদের অভদ্র, অপেশাদার এবং কিছু ক্ষেত্রে নোংরা বাক হামলার শিকার বহুবার হয়েছি। এদের এই চরিত্র ফেসবুকেও আছে, লিংকডইনেও আছে, আছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের চৌহদ্দিতেও। একটা বড় সংখ্যক সময়ই সেই হামলাকারীরা ছিলেন বড় বড় ষাঁড়রা। জনপ্রিয় স্যারেরা।

একসময় ভাবতাম, ফেসবুক হল বাঙালির অবদমিত কাম ও অপূর্ণতার ফ্রাস্ট্রেশন প্রকাশের ডাস্টবিন, বিধায় সেখানে মানুষ ওসব করে। একটা পর্যায়ে দেখলাম, লিংকডইনেও তারা কম যায় না। আমাকে প্রায় ২৫ টা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে নিয়েছেন অনেকে। সেই গ্রুপগুলোতেও পরমতের ওপর তীব্র হামলাও সমানে চলে।

আসলে দিন শেষে একটা জিনিস প্রমানিত, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। বাঙালি পুরুষ (ও নারী) মাত্রই ব্যাটাগিরী দেখাবার ভক্ত। কাউকে কষে গালি দেয়া অথবা কাউকে অসভ্য অ্যাপ্রোচে অপমান করাকে বাঙালি ব্যাটাগিরী মনে করে। এদের এই অসভ্যতার আবার বড় রকম ভক্ত শ্রেনীও আছে।  

গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে হেঁদিয়ে মরা বঙ্গজনতার ব্যক্তিগত চৌহদ্দিতে গণতন্ত্র চর্চার অভিজ্ঞতা এমনই। ঠিক একই রকম চরিত্র তাদের ব্যক্তিগত চৌহদ্দিতে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ চর্চার। ”আমার ধারণা, বাঙালি কখনো স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে নি। সে সবসময় ‘নিজে স্বৈরাচার হওয়ার অধিকার’ নিশ্চিত করতে চেয়েছে।”-মহিউদ্দিন মোহাম্মদ। তার আরেকটি দারুন স্টেটমেন্ট বলি- “অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, আপনি কেমন বাকস্বাধীনতা চান? তাদের জন্য উত্তর হলো: দেখুন, ফ্রান্সের আইনে শূকরের নাম নেপোলিয়ন রাখা যায় না। শূকরকে আপনি নিউটন ডাকতে পারবেন, গান্ধী ডাকতে পারবেন, কিন্তু নেপোলিয়ন ডাকতে পারবেন না। আমি চাই এমন বাক্‌স্বাধীনতা, যেটি আমাকে প্যারিসে বসেও একটি শূকরের ছবি আঁকতে দেবে, এবং তার নাম রাখতে দেবে নেপোলিয়ন।”

এলেবেলে-৫: #hypocrisy #pretending

আপনি কাউকে তীব্র ক্ষোধ হেতু কুৎসিততম ভাষায় একটা গালি দিলেন। আর সে প্রতিউত্তর না করে উল্টো হাসি হাসি মুখে আপনার সাথে মিঠে মিঠে ভাষায় ম্রিয়মান সুরে বলল, “ভাই, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।”তাহলে বাইবেলের মতো ভেবে নেবেন না, যে, তিনি কোয়ান্টাম জাতক কিংবা একজন মহামতি কার্লাইল অথবা লিও তলস্তয়ের What Men live by এর চরিত্র মিখাইল।তিনি আসলে ধান্দাবাজ। ভবিষ্যতে আপনার কাছে তার কোনো স্বার্থ আসতে পারে-সেই আশায় এই মিঠে উত্তর। এই ধান্দাবাজ স্বার্থপররা প্রয়াত হুমায়ুন স্যারের ভাষায় হল ‘মিচকে শয়তান’।

এলেবেলে-৬: #classoffacebookfriend

আপনি যাদের পছন্দ করেন না, যারা আপনার মানসিকতার সাথে যায় না, যাদের আপনি বেওকুফ, সস্তা, শত্রু, সমালোচক, low class বলে ভাবেন, তাদের কেন আপনি আপনার Facebook friend হিসেবে রাখবেন?রাখবেন, কারন, আপনার-বিনোদন দরকার আছে।বৈচিত্র্য দরকার আছে।ভিন্নপথ জানার দরকার আছে।Experiment দরকার আছে। selfieর দরকার আছে।রাগবার দরকার আছে। নিজে বড় হয়েছেন সেটা জানান দেবার শ্রোতা দরকার আছে।মাঝে মাঝে নিজেকে বিপদগ্রস্থ করার দরকার আছে।এগুলোকে পাবার জন্য সবরকম প্রজাতির Facebook friend আপনার দরকার।আর তাই, কারো Friend listlistএ আছেন মানেই আপনাকে তিনি বন্ধু ভাবেন-তা না ভেবে ওপরের দরকারেও রেখে থাকতে পারেন-তা মনে রাখুন।

এলেবেলে-৭:

প্রাচীন একজন মনীষী বলে গিয়েছেন, “কখনো ভাগে চিংড়ি মাছ কিনবে না। এবং,কখনো তোমার চিংড়িটা কিনবার সিদ্ধান্ত  অন্য কারো বিবেচনার ভরসায় ছেড়ো না।”

এলেবেলে-৮:

কিছু কিছু মানুষ ‘বড়’ হয় শুধুমাত্র অন্যকে বলবার জন্য, যে, সে ‘বড়’ হয়েছে।

এলেবেলে-৯:

উপলব্ধি- জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। অনেক কিছু হারানোর বিনিময়ে মেলে। তবুও তার মূল্য অনেক। একে অর্জনের কোনো বয়সসীমা নেই।

এলেবেলে-১০:

ভালোমানুষি, বিনয় ও ধর্মবেশ-একটি বড় সংখ্যক সময়ই যতটা না সত্য, তার চেয়ে ঢাল বা ছদ্মবেশ হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়।

এলেবেলে-১১: #overmodest #overdisciplined #disgustinly

কিছু মানুষ এতটাই বিশ্রী রকম ও বিরক্তিকর পর্যায়ের গোছানো ও পরিপাটি, যে, এঁদের Cupboard এ সবসময় এক জোড়া সাদা পাজামা পাঞ্জাবীও ধুয়ে পাট করা থাকে। যাতে কেউ মরলে সেখানে Proper dress up এ যেতে পারে। এঁদের আপনি কখনো অগোছালো বা Casual look এ দেখতে পাবেন না। কখনো খোঁচা খোঁচা দাড়িতে তারা কাউকে সাক্ষাৎ দেবেন না। পকেটে মনে করে wet Tissue রাখতে তাদের ভুল হয় না।

এলেবেলে-১২:

ফেসবুকে যত বড় হৃদয় বিদারক শোকের পোস্টই দিন না কেন, আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, যে, আপনি আসলে ততটা শোকগ্রস্থ নন, যতটা আপনি নিজেকে ভাবছেন, বা, ……..দেখাচ্ছেন। একটি ফেসবুক পোস্ট দেবার মতো অবস্থায় থাকা মানে, আপনি মোটামুটি বরাবরই আছেন।

এলেবেলে-১৩: #elitefriends #poorfriends #celebrityaholic #stardom #stardust #obscure  #lowercast #outcast #classstatus #classconflict #classdiscrimination #CorporateCult #CultClassic

আপনি কি মনে করেন, বা, বিশ্বাস করেন, যে, বঙ্গীয় কর্পোরেট Arena তে কাল্ট, ব্রাহ্মন, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শুদ্র ক্লাসিফিকেশন আছে?

মানুষের কথা বলছি না। কর্পোরেটের ক্লাস বলছি।

হ্যা, ট্যানারিতে কাজ করলে গায়ে চামড়ার গন্ধ, আর আতরের শপে কাজ করলে মানুষটার গায়েও তো গন্ধ থাকবে। তা বটে।

Elitism এবং Aristocracy সব যুগেই ছিল। Social Media’র যুগে এসেও তার জয়জয়কার। প্রচুর Social Media Mughal Elite আছেন, সাধারন্যে সাক্ষাৎ দেন না, ধরা দেন না। নিম্নবর্গের সাথে মেশেন না। উঁচু জাত-নিচু জাত সযত্নে বজায় রেখে থাকেন। আপনার #Network #নেটওয়ার্ক ও বন্ধুবান্ধব তালিকাটি ’বড়লোক্স’দের (এলিট অর্থে) সাথে করবেন, নাকি ’ছোটলোক্স’দের সাথে-এই প্রশ্ন যদি যে কাউকে করেন, তাহলে আপনাকে যে কেউই বলবেন, বড় হাস্তিদের সাথেই না সম্পর্ক করবেন। ছোটদের সাথে কেন করবেন? আপনার একটা প্রেস্টিজ আছে না? মানুষ দিন দিন ওপরে না যায়, নিচে কোন পাগলে যায়?

আমি আপনাকে দুটো চিত্র বলি। তারপর আপনি সিদ্ধান্ত নিন:-

বড়লোকস (ঠাকুর, সেলেব্রিটি, ভাইয়া, আপ্পি বা পু, এলিট ও অ্যারিস্টোক্রাট অর্থে)দের সাথে গাঁটছড়া:

লাভ: “আমি অমূক ভাইয়ার ফ্রেন্ডলিস্টে আছি” এতটুকু স্টাটাস দেবার সুযোগ। আর কিছু না। যাস্ট কিচ্ছু না।

লস: পুরোটাই। কখনো, কোনোদিন কোনো দরকারে, বিপদে সাহায্য পাবেন না। বরং সেটা আরও বাড়বে। কারন, বড় বড় মানুষদের সাথে ওঠাবসা-এইটা দেখে (ও দেখিয়ে) মধ্যম বা ছোটলোকরাও তখন আপনাকে সাহায্য করবে না।

’বড়’ র সাহচর্য কে না চায়? ‘বড়’ মানুষের, ‘বড়’ সত্তার, ‘বড়’ অস্তিত্বের সংস্পর্শ, আনুকুল্য, বন্ধুত্ব সবার আরাধ্য।

তবে আমার প্রাচীন চিন্তার মা বলেন, ডিঙ্গী নিয়ে কখনো জাহাজের গায়ে জোট বেঁধো না।

শুনতে অস্বস্তি হলেও কিছু সত্য মনে রাখলে অন্তত মনের শান্তি বজায় থাকে। বড় জাহাজের সাথে জোট বাঁধলে নিজেকে বলশালী লাগতে পারে। আফটার অল, শক্তিমানের সঙ্গ ক্ষুদ্রকেও স্পর্ধায় নাচায়।

তবে, ডিঙ্গী হয়ে বড় জাহাজের সাথে টো করলে বিপদও আছে। জাহাজের টার্বুল্যান্স সহ্য করতে হয়। এবং, সেই টার্বুল্যান্সেই ডিঙ্গীর সলিল সমাধি ঘটে।

নিজের জাত ভুলে তাই অভিজাত, বংশীয়, ব্রাহ্মন গোত্রীয় কর্পোরেটদের সাথে মোয়ামালাত গড়ে তুলবার সময় তাই সতর্ক হোন। এলিটদের টার্বুল্যান্স যতটা নিতে পারবেন-ততটাই এগোন।

ছোটলোকস (Low TRP, নমোঃশুদ্র, অস্পৃশ্য সেক্টরের কর্মী, অখ্যাত ভাই অর্থে) দের সাথে গাঁটছড়া:

লাভ: এঁরা আপনার সামান্যতম সাহায্যে বা কাজে/কাছে আসবার সুযোগ পেয়ে বর্তে যাবে। জান দিয়ে দেবে।

লস: “এঁহ, আপনি ছোটলোকদের সাথে মেশেন?”-বড়লোক ঠাকুর বা ঠাকুরাইনদের হঠাৎ হঠাৎ এমন নাক সিঁটকোনো শুনতে হতে পারে। ব্যাপার না। পেটে খেলে পিঠে সয়। পিঠা খেলেও পেটে সয়।

এলেবেলে-১৪:

জীবনের ১৭ বছর একাডেমিতে আর আরও অনেকগুলো বছর পেশায় কাটিয়ে দেবার অন্তে যদি জীবন, জগত ও সময় নিয়ে তোমার একটি নিজস্ব সুস্পষ্ট দর্শন গড়ে না ওঠে, তাহলে সময়টা নেহাতই অকাজে নষ্ট করে ফেলেছ বৎস্য।

এলেবেলে-১৫: #Selfbranding

সেলফ ব্র্যান্ডিং নিয়ে নানা জনে নানা রকম হাস্য পরিহাস করলেও একটি রুঢ় বাস্তবতার কথা বলি। আপনি যদি অতি উচ্চ মানসম্পন্ন, অতি যোগ্যতম ব্যক্তিও হয়ে থাকেন, তবুও নিজেকে বাজারে (পজিটিভলী) পরিচিত করার প্রয়োজন রয়ে যাবে। ধরুন, একজন জহুরির দামী জহরত দরকার। কিন্তু আফ্রিকার কিলিমানজারো পর্বতের ৩ হাজার মিটার নিচে নিরবে, গোপনে, চুপচাপ পড়ে থাকা মহামূল্য কোহিনূরের খোঁজ সে কী করে পাবে? আপনি এক দুর্লভ কোহিনূর, সেটা জহুরিদের জানতে দিন।

এলেবেলে-১৬: #brandingatitsbest

ব্র্যান্ডিং কাহাকে বলে? যেই সুসংহত ও সঙ্ঘবদ্ধ প্রচার, প্রচারনা, প্ররোচনা, প্রলুব্ধকরণ, অতিশায়ন, ভ্রান্তিকরণের যুগপৎ আছরে রাজপথে নিপতিত পরিত্যক্ত সারমেয় পুরিষ ‘স্তুপ’ তোমার নিকট ড্রাই কোন আইসক্রীমের ‘স্কুপ’ বলিয়া প্রতীয়মান হইবে, উহাকেই ব্র্যান্ডিং বলে। ঠিকঠাক ব্র্যান্ডিং করতে জানলে পথকুকুরদের পুরিষও হটকেক হিসেবে বিক্রী হয়। কথাটা মাথায় রাখতে পারেন।

এলেবেলে-১৭: #TRPaholic #socialhype #fameseeker #attentionseeker #celebrity

সাধনার চেয়ে প্রচারনা যখন বেশি প্রাধান্য পায়,সাধক পরিচয়ের চেয়ে তারকা বা Celebrity পরিচয় যখন বেশি কাঙ্খিত, জ্ঞান ও বোধের চেয়ে ডিগ্রী যেখানে বেশি মূল্যবান, সেখানে পদে পদে পঁচনের গন্ধ পাবেন-সেটাই তো স্বাভাবিক। এমন এলডোরাডোতে গায়ক গান গায় celeb হতে,লেখক লেখেন celeb হতে,মোল্লা ওয়াজ করেন celeb হতে,প্রেমিক প্রেমিকাকে বেলির মালা পরান celeb হতে,ন্যাপি পরা শিশুও কাঁদে নজর কাড়তে। বিকাশের থেকে প্রকাশের তাড়না যখন বেশি হয়, তখন তো মেধার সানডে মানডে ক্লোজ হতে বাধ্য।

এলেবেলে-১৮:

সেই দিন খুব দূরে নয়, যেদিন বাংলার এককালের অবলা নারীরা ফেসবুক Live এ এটোমিক ওয়্যারহেড, এপাচি হেলিকপ্টার sell করবেন। Paid Vloger হিসেবে অন্যের কলা মূলা বেঁচে দেবার শিল্পের GDP value শীগগীরই গার্মেন্টসকে ছাড়িয়ে যাবে।

এলেবেলে-১৯:

তিনটি ক্ষুদ্র তথ্য দিয়ে দিন শুরু করি।১। নারী মুক্তি ও আধুনিকতার সর্বোচ্চতম বঙ্গজঊন্মেষ দেখতে চাইলে সন্ধ্যার পরে লাভক্ষতি রোডে ‘আপেশ হোডেল’ এর সামনে এসে ১৫ মিনিট কাটান। চোখ জুড়িয়ে যাবে। ২। নতুন চাকরি প্রাপ্তি ও নতুন কর্পোরেটে দাসখত দান উপলক্ষে শুভেচ্ছার বন্যায় কাউকে ভাসানোর তিন মাস পরে, ওই লোক ঠিকমতো প্রতিমাসে বেতন পাচ্ছে কিনা-সেই খোঁজটাও নেবেন দয়া করে।৩। আপনাকে ফেসবুকে জানানো প্রতিটি লাইক ও সাবাসির পেছনে অন্যতম বড় মোটিভেশান হল, “জানাই। তাইলে হ্যায়ও আমারে জানাইবো।”

এলেবেলে-২০:

সম্ভবত পৃথিবীর তাবৎ স্ত্রীর বা মেয়ে সঙ্গীর সার্বজনীন ধারনা, তার স্বামী বা ছেলে পার্টনারটি নেহাতই বোগদা ও ভোলাভালা। সে না থাকলে এই বেটা ভেসেই যেত। সবাই তাকে ভাঙিয়ে খেতো। তা সেই স্বামীটি যতই পুতিন কিংবা ডোনাল্ড ট্রাম্পও হোক না কেন। প্রশ্ন হল, পৃথিবীর তাবৎ স্বামী বা পুরুষ পার্টনাররা তাদের স্ত্রীরত্নটিকে কী ভাবেন?ওহ, বলতে ভুলে গিয়েছি, এটিকে সারকাজম মনে করা যাবে।

এলেবেলে-২১:

আপনি যখনই কোনো নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করার Post দেবেন, তখন আপনাকে জানানো ঝাঁকে ঝাঁক লাখে লাখ শুভেচ্ছা বার্তার বন্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কোন তরফের-জানেন? Corporate SIM বিক্রেতা। কয়েকদিনের মধ্যেই শিম বিক্রির approach আসবে। হোটেল সেবাদাতা। রুম লাগবে কিনা। পানি সরবরাহকারী। অফিস লাঞ্চ সরবরাহকারী। টোনার যোগানদাতা।প্রিন্টিং যোগানদাতা। ইন্সুরেন্স সেবাদাতা। মেশিনারী যোগানদাতা। ব্যাংক সেবাদাতা। মাগনা ক্রেডিট কার্ড যোগানদাতা। হাজারো অন্যান্য যোগানদাতা। যখনই এটা পরিষ্কার হয়ে যাবে, ওইসব ধান্দার একটিতেও আপনার করার কিছু নেই, বা করবেন না। ইনবক্সে তখন ঠাডা পড়ে।

এলেবেলে-২২:

আপনার জীবনের যা যা ভাল ও মন্দ-সবগুলোর দায় ও Credit আপনার না। অন্যেরও আছে কিছু দায়।এই যেমন, আমি অনাসক্ত ও ধীর। এর দায় আমার একার না। অন্যদেরও আছে। অন্যদের খাসলতের গভীর পাঠ ও অভিজ্ঞতাই আমাকে অনাসক্ত ও ধীর করে দিয়েছে। একেকজন ধুমকেতুর মতো হন্তদন্ত হয়ে আসেন, উল্কার মতো কিছু নিয়ে মাতেন, ভাই, এই করেন, সেইইই করেন, আপনাকে নিয়ে এই করব, সেইইইই করব;  অতঃপর যখন আমি মাতি, তখন আর তারা উৎসাহ পান না। তখন আমি তাদের পেছনে দৌড়াই, কই ভাই, গোলডা কি দিবেন?এমন হতে হতে, কেউ যদি এসে বলে, দ্রূত ভাগুন, একটু পরেই এই আকাশটা ভেঙে পড়বে, তারপরও আমি ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করে দেখি, সত্যিই ভেঙে পড়ে কিনা। এবং, সত্যি সত্যিই, আকাশটা কখনোই ভেঙে পড়েনি।-

এলেবেলে-২৩:

ভাবতে শেখা, ভাববার সক্ষমতা থাকা, ভাবনার মানসিকতা- গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগ্যতা। ঠিক একইভাবে শুনতে শেখা, শুনবার মতো আগ্রহ থাকা এবং ভাল শ্রোতা হওয়াও একধরনের যোগ্যতার বিষয়। একটি বড় সংখ্যক মানুষের এই দুটি থাকে না।

এলেবেলে-২৪: #slavesasGods

Uganda পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যেখানে জনগন তাদের পকেটের কষ্টার্জিত কড়ি দিয়ে বেতনভূক্ত প্রভূ নিয়োগ করে। নিয়োগের সময় সেই প্রভূরা ঐকান্তিক সেবার শপথ নেয়। চাকরি হয়ে গেলে সেই বেতনভূক প্রভূরাই সাথে সাথে দানব বনে যায়। আর বেতনদাতা হয়ে যায় নেহাতই মেষছানা, যাকে চোখের গরমেই ভস্ম করে দেয়া যায়। কালেভদ্রে তারই অন্নদাতা প্রভূ কখনো প্রাপ্য সেবা বা সম্মানটুকু পরম বিনয়ের সাথে করজোরে চাইতে গেলে তাকেই হাইকোর্ট দেখায়।এ বড় আজব উগান্ডা।

এলেবেলে-২৫:বজ্র আঁটুনি, ফস্কো গেড়ো-Great boast, small roast-শূন্য কলসী বাজে বেশি-অসারের তর্জন গর্জন সার-যত গর্জে তত বর্ষে না-কামড়াইনা কুত্তা ভোহে কম-এই প্রবাদ বাক্যের সত্যতার তীর্থ বাংলাদেশ ও তার ……..শাজীবি [আসলে কর্পোরেট দাস] জগত। অবস্থা এমনও দাড়ায়, যে, বাসর রাতের পরের দিনই বর দাবী করছে, আমাকে কনগ্রেগেশন জানান। আমি বাবা হতে চলেছি। এ্যাকশন রিএ্যাকশন রিটার্ন এচিভমেন্ট সাকসেস–প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন জিনিস-সেটার ভেদ ঘুঁচে যাচ্ছে কনগ্রেগেশনের বন্যায়। ’ডটেড’ যায়গায় যেকোনো অক্ষর মনমতো বসিয়ে নিন।

এলেবেলে-২৬: #sorry&thanks #sayingsorry

আমরা বাঙালরা ’দুঃখিত’ আর ’ধন্যবাদ’ কথা দুটো জিহবা দিয়ে উচ্চারন করতে পারি না। তাই ও দুটোর কাজ সারি অন্য পন্থায়। যেমন? ধন্যবাদ–থাক থাক, কী দরকার ছিল, এসব আবার কেন করতে গেলেন?কী যে লজ্জায় ফেললেন?তুমি আবার এসব করতে গেলে কেন?ইত্যাদি। ইত্যাদি।যার অর্থ হল ‘ধন্যবাদ’।খেয়াল করে দেখুন, এত্ত কথা খরচ করব, তবু ৪ অক্ষরের ১টি শব্দ উচ্চারন করব না। কারনটা নিজস্বতা না। কারনটা গোঁয়ার্তুমি। আর খেয়াল করে দেখুন, প্রত্যেকটি বিকল্পই কিন্তু নেতিবাচক। উল্টো উপকারীকে কটাক্ষ করা হয়েছে। ’স্যরি’ বা ’দুঃখিত’ এর অবস্থা আরও খারাপ। বিকল্প হিসেবে বাঙাল যা বলবে,হইছে হইছে।তাতে কী হইছে।বুঝতে পারি নাই।ঘ্যোৎ বা ফ্যোৎ শব্দ। এতবার কইতে অইব না।ব্যপারডা ভুইলা যান।বাসে উঠলে ধাক্কা লাগবেই।আমারে চিনেন?ওই, তোর বাড়ি কই?ইত্যাদি। এহেন বঙ্গদেশে এই বাস্তবতার বিপরীতে ইদানিং এর চেয়েও কঠিন শব্দ ’মাশাল্লা’ আর ’আলামদুলিল্লা’র খুব ব্যবহার হচ্ছে দেখে আমি একটু হোঁচট খেলাম। যেই বাঙারের মুখে ধন্যবাদ আসে না, তার মুখে এত ঘন ঘন ’মাশাল্লা’ আর আলামদুলিল্লা’র তুফান!!ব্যপারটা যতটা না ধর্মীয়, তার অনেক বেশী কৌতূহলোদ্দীপক। কারন হল তার স্থান, কাল, পাত্র।যেমন?লাইভে অন্তর্বাস বিক্রী চলছে। রাতে কেমন অন্তর্বাস পরে স্বামীর কাছে যাবে, তার নমুনা দেখিয়ে পশ্চাতের নেকাবি বলছেন, এটা পরলে মাশাল্লা ভাইয়ারা মুগ্ধ হবে।পাড়ায় ডিজে হবে। আয়োজকের পোস্ট, আলামদুলিল্লা, ডিজের প্রস্তুতি সম্পন্ন করলাম।অনলাইন ভ্লগার, যারা অন্যের হয়ে খ্যাপ দেন, মানে অন্য কোনো Seller এর হয়ে ভাড়ায় লাইভে খাটেন, তারা তো প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একবার করে মাশাল্লা, আলামদুলিল্লা’র বন্যা বইয়ে দেন। দর্শকরাও এক কাঠি সরেস। আটা, ময়দা, সুজিতে সজ্জিত আপ্পিকে মুহুর্মূহু কমেন্ট পাঠান, ’আপ্পি, মাশাল্লা, তোমাকে সেইইইইইই লাগতেচে”। পাড়ার পথশিশুলীগের (পথশিশুদলও পড়া চলবে) সভাপতিও দেখি সেদিন পোস্ট দিয়েছেন, ”মাশাল্লা, ফ্রান্স, আমার নতুন গফটা কিউট না?”

এলেবেলে-২৭: #overrespect #overhonor

৩০৫০ সালে উগান্ডায় একটি টকশো। সমন্বয়ক একজন যান্ত্রীক অবয়বের নারী। আলোচক হিসেবে আছেন একজন জেষ্ঠ্য সাংবাদিক (আসলে সংবাদমাধ্যম কর্তা), আছেন একজন অধ্যাপক (যিনি বছর গেলে প্রমোশন নীতিতে পদাধিকারী, আছেন একজন সুশীল নারী (ব্যক্তি জীবনে পরাজিত কিন্তু সমাজ উদ্ধারে রত), আছেন একজন উচ্চপদস্থ রাজকীয় চাকর (আদর করে অফিসার ডাকা হয়), আছেন একজন মন্ত্রী (যা হবার জন্য কোনো যোগ্যতা অফিশিয়ালী কাম্য নয়)। উপস্থাপক ও সমন্বয়ক প্রতিজন আলোচককে নাম ধরে প্রমিত নিয়মে এ্যাড্রেস করছেন, ”জনাব অমুক, আপনি বলুন।””Mr. হাবিবে পিল্লাত, আপনি বলুন।””ঘষেটি বেগমের কাছে আমার প্রশ্ন………?” ইত্যাদি ইত্যাদি। শুধু যখনই পুরো অনুষ্ঠানে তিনি মন্ত্রীকে এড্রেস করে কিছু বলছেন, বা, তাকে কোট করছেন, তখুনি, ’মাননীয় মন্ত্রী, মাননীয় মন্ত্রী, মাননীয় মন্ত্রী” টাইটেলটা সযত্নে মেইনটেইন করছেন। আর উপস্থিত ওই রাজকীয় দাস কর্তা যখনি মন্ত্রীকে এড্রেস করছেন, তখুনি, ”মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়” করে যাচ্ছেন। উগান্ডায় ৩০৫০ সালে এরকম চর্চাকে বলা হবে “বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্র”।

এলেবেলে-২৮:

কেউ বলেছিল, “আন্তর্জাতিক মানের রিজুমী বানাও, তাহলে চাকরি পাবে।”কেউ বলেছিল, “একটা একসেল শেখো। চাকরি পাবে।” কেউ বলেছিল, “একটা পিজিডি করো। চাকরি পাবে।” কেউ বলেছিল, “আরেকটা এম.বি.এ করো। চাকরি পাবে।” কেউ বলেছিল, “আমাদের গ্রূপে যোগ দাও। চাকরি পাবে।” কেউ বলেছিল, “আমার পোস্টে লাইক/কমেন্ট দিও। চাকরি পাবে।” কেউ বলেছিল, “আমাদের কোরামে যোগ দাও। চাকরি পাবে।” নেকাব্বর কিছুই বলেনি। নেকাব্বর আজও বেকার। সে আজও কিছুই বলে না।

#scatteredthoughts #combo #স্টাটাসকথন #এলেবেলে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *