এটি কোনো লেখা নয়, লেখার সংগ্রহশালা। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র করে লেখা বিভিন্ন এলেবেলে পোস্টের ভাগাড় এই লেখা। পড়তে পারেন, পড়ে মাথা এলোমেলো করতে পারেন। আবার, একদম না পড়ে মাথা ঠান্ডাও রাখতে পারেন। পছন্দ আপনার।
এলেবেলে-১: #modesty #generousity
”তোমার বোধ, বিনয়, মনুষ্যত্বের প্রবৃদ্ধি,যদি তোমার ব্যক্তিগত সমৃদ্ধি, growth ও অর্জনের উর্দ্ধগতির সমান না হয়, তাহলে, তুমি হয়তো বাড়ছ ঠিকই, তবে, মানব নয়, দানব হিসেবে।”–জনৈক পোড়খাওয়া হেডমাস্টার।
এলেবেলে-২: #Perceptualdestortion #preconceivednotion #Predominant #proguidedperception #predetermined #predefined #publicdemand #addictiontopopularity
ফেসবুকে একটা মজার ব্যাপার ঘটে। একজন নিয়মিত ও ভাল লেখকের একটি ভাল লেখা হয়তো তার নিয়মিত প্লাটফরমে প্রকাশের পরে খুবই সামান্য বা গতানুগতিক মাত্রায় রিচ পায়।
আমি নিজে দেখেছি, সেই লেখাটিই পাইরেসি করে আরেকজন চোর একটি সাহিত্য পেজে পোস্ট করেছে নিজের নামে। সেটি সহ আরো অন্তত ১০ টি অমন পেইজেই লেখাটি পোস্ট হয়েছে। প্রতিটাতেই হাজার হাজার রিচ। কমেন্টই হাজারের ওপর। কীভাবে কী?
যাহোক।
উন্মুক্ত মাধ্যমে তুমুল জনপ্রিয় লেখকও আছেন। চটি লেখকও আছেন। পাতি লেখক আছেন। প্রাজ্ঞ লেখকও আছেন। সবাইকে নিয়েই সামাজিক মাধ্যম। এ এক দারুন সাম্য। এখানে মেথরও আছেন, ব্রাহ্মনও আছেন, ইমাম সাবও আছেন, চোরও আছেন, গান্ধীজিও আছেন, আবার মুরাদ টাকলারাও সগৌরবে একই সাথে গলাগলি করে আছেন।
সেটা আমার মাথাব্যথা নয়।
আমার ফোকাস আজ অন্যখানে।
এই জনপ্রিয় লিখিয়েদের মধ্যে কিছু আছেন, যারা মানুষের মনের অবদমিত ক্রোধ, ক্ষোভ, অনুযোগ, আবেগ, বিদ্রোহ, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অসঙ্গতি নিয়ে বলেন বা লেখেন। অর্থাৎ, পাবলিক সেন্টিমেন্ট, পাবলিক চয়েজ ও পাবলিক ট্রেন্ডকে মাথায় রেখে অথবা বেজ করে তিনি/তারা বলেন বা লেখেন।
এই লেখা বা কথাগুলো বিপুল রিচ পায়। ভাইরাল হয়। লেখকও পান বিপুল রিচ ও জনপ্রিয়তা। দর্শকপ্রিয়তা।
এর বিপরীতে একটি ক্ষুদ্র বা অতি ক্ষুদ্র দল আছেন। যারা ভাইরাল, হাইপ, জনদাবী, জনপ্রিয়তা অথবা পাবলিক ডিমান্ড নিয়ে ভাবেন না, দেখেন না।
তারা বসন্তেও মাতেন না, বর্ষায়ও কাঁদেন না। তারা তাদের মনের খেয়াল খুশিমতো যখন যা মন চায়, যেমনটা মনে আসে, যেমনটা তার কলম বলে-তা নিয়ে লেখেন। অর্থাৎ নিজের মনের ইচ্ছেমতো কলম, ক্যামেরা বা তুলি চালান।
এঁদের রিচ বলতে গেলে নেই। তাদের জনপ্রিয়তা মাটিতে।
তোমাকে বেষ্টন করে থাকা মনুষ্য সমাজের মৌসুমি বাতাস যদি তোমাকে উদ্বেলিত করে, মৌসুমি ইস্যু যদি তোমাকে শিহরিত করে, তোমার কলম ও মুখ যদি মৌসুমি হাইপেই কেবল ছন্দ্য খোঁজে, তাহলে ধরে নিতে পারো, তুমি কোনো দার্শনিক নও, স্রেফ একজন সস্তা বুদ্ধিজীবী মাত্র।
আমি দুটো ট্রেন্ডের ভাল বা মন্দ কিছুই জাজ করছি না। দুটোরই আপেক্ষিক প্রেক্ষিত আছে।
আমি বলতে চাইছি, একজন দায়ীত্বশীল ও সুলেখকের কোনটা করা উচিত?
তার কি পাবলিক ডিমান্ড ও সেন্টিমেন্টকে বেজ করে ও মূল্য দিয়ে লেখা উচিত? সেটা কি অবলিগেশন টু সোশ্যাল সেন্সিবিলিটি?
নাকি লেখক, শিল্পী, বক্তার উচিত নিজের মনের মাধুরী ও ইচ্ছেমতো কনটেন্ট বানানো? সেটাই তার মৌলিক ও বিশুদ্ধ সৃষ্টিশীলতা?
আরেকটু র’ আকারে বললে, পাবলিক কী খায়-সেটা লেখা উচিত? পাবলিক কী চায়, পাবলিক কী বলতে চায়-সেটি নিয়ে কাজ করা কি শিল্পী, লেখকের দায়ীত্ব?
নাকি, শিল্পী, লেখক, বক্তার উচিত, তাদের নিজের মনের কথা শুনে সৃষ্টি করে যাওয়া? পাবলিককে বরং তাদের ডিরেক্ট করা উচিত?
প্রি-ডিজাইনড, প্রো-গাইডেড চিন্তা, কাজ, সৃষ্টির কথা কখনো শুনেছেন? একজন লেখক, সৃষ্টিশীল শিল্পী, নির্মাতা, প্রগতির কর্মী, বিপ্লবী-যে কেউই এই প্রি-ডিজাইনড ও প্রো-গাইডেড, তথা ফরমায়েসি সৃষ্টির চোরাকাঁটার ফাঁদে পড়তে পারেন।সেই ফাঁদের নাম ভয় ও লোভ। অর্থ, সুনাম, ভাবমূর্তি, স্বীকৃতি, ভক্তকূলের লোভ ও তাকে হারানোর ভয়-এগুলোই একজন সৃষ্টশীল ব্যক্তিকে শেষ করে দেবার জন্য যথেষ্ট।
এলেবেলে-৩: #questionning
প্রশ্ন করা-সম্ভবত জানবার, শিখবার, বুঝবার সবচেয়ে চমৎকার কার্যকর পন্থা। সঠিক প্রশ্নটি করতে জানা-সম্ভবত এটা বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের সর্বোত্তম ও সর্বাধিক কার্যকর পন্থা।
এলেবেলে-৪: #enmity #animosity
শত্রূদের থেকে সতর্ক থাকো। বন্ধুদের থেকে আরও বেশি সতর্ক থাকো। ফেসবুক বন্ধুদের থেকে তার চেয়েও বেশি সতর্ক থাকো।
আপনার ভিতরে কি এখনো অবাক হবার ক্ষমতা বিদ্যমান আছে? কী বললেন, আছে? বেশ, তাহলে আপনি একজন অতিমানব বনে গিয়েছেন। অবাক হবার ক্ষমতা যদি রহিত হয়ে থাকে, তাহলে আপনি এখনো একজন নিতান্তই ভেতো অথচ স্বাভাবিক বাঙাল মানুষ রয়ে গেছেন। যেই সমাজ ও দেশে মুহূর্তে মুহূর্তে মানুষের অকৃতজ্ঞতা, অনধিকার চর্চা, চোখ উল্টে ফেলা, গণমিথ্যা বলা, কমিটমেন্ট ভুলে যাওয়া আর অবিশ্বাস্য সব ঘটনা ঘটে চলে, সেখানে অবাক হবার ক্ষমতা জীবিত থাকা দ্রস্টব্য ঘটনাই বটে। খোদার বিশেষ নজর না থাকলে সেটা সম্ভব না।
এলেবেলে-৬: #utilizationofpower #powergame #applicationofpower
শক্তি ও ক্ষমতা অর্জন যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তারও চেয়ে অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল, সেই ক্ষমতা ও শক্তির প্রয়োগের প্রাজ্ঞতা। যা অনেকেরই হয় না। শক্তি আছে মানেই, সেটাকে যত্রতত্র প্রয়োগ করা প্রাজ্ঞতা নয়। আবার, ক্ষমতা থাকা সত্বেও সেটাকে মানবতার জন্য প্রয়োগ না করাও প্রাজ্ঞতা নয়। এবং; যত্রতত্র, নিজ ক্ষমতা ও প্রতিভাকে প্রকাশ করে ফেলাও বুদ্ধিমত্তার কাজ নয়। মাইন্ড ইট।
এলেবেলে-৭: #hypocrisy #compromise #beneficiary #opportunist
Are you a demon? Are you a corrupt? Are the angel dogs barking too much at you? Share them a bite, and they stop barking, rather start, কূঁই কূঁই।
এলেবেলে-৮: #tellingthetruth #arrogance #antisocial
”সদা সত্য কথা বলিবে”-এ রকম কিছু বেদবাক্য শৈশবে আমাদের কন্ঠ্যস্থ ও মস্তিষ্কস্থ করতে হত। মুশকীল হল, পৃথিবী সত্য কথা হজম বা গ্রাহ্য করার মতো যোগ্য নিজেই নয়। পৃথিবী হল মনপছন্দ কথার স্থান। আপনি গুটুর গুটুর করে কিংবা হাত কচলে কচলে মনের মতো কথা বলবেন। সাত খুন মাফ। যেই না আপনি সত্যি কথা বলবেন, আপনি বেয়াদব, ঘাড় ত্যাড়া, অসামাজিক, ত্যাদোড়,………………….অথবা ’তুমি বদলে গেছ।”
এলেবেলে-৯: #BDfootball #patronization #govtbackup #antique বা
চ্চা বয়সী (মেয়েগুলোর) একান্তই নিজ গরজ ও তেজে SAFF জিততে দেখেই যারা ”সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা একদিন বিশ্বকাপ জিতবে”-এই জিকির ও ঢেঁকুর তুলছেন, তারা একটু অবদমিত হোন। আমাদের এর চেয়েও ছোট বাচ্চারা একটা কাপ জিতেছিল। করোনার লকডাউনে কলকেসুন্দার সেই ১১ মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। দেশে অবশ্য বাল্য বিবাহ কমছে! বাচ্চারা ডানা ও গোথিয়া কাপ জেতার পরেও পৃষ্ঠপ্রদর্শন, স্যরি, পৃষ্ঠপোষকতা এসেছিল। ফলাফল, বিশ্ব রেংকিংয়ে ১৮০। বাচ্চারা যুব বিশ্বকাপ জিতল। পৃৃষ্টপোষকতা আসা শুরু হল। ফলাফল, পরপর ডজনখানেক সিরিজ ধবলধোলাই। জাফলং আবিষ্কার হল। প্রমো হল। পৃষ্ঠপোষকতা এলো। ফলাফল, জাফলং এখন পাথরের কোয়ারি। সবশেষ বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো সাইট হল। সরকারি পৃষ্ঠপ্রদর্শন এলো। ফলাফল, বিশ্ব ঐতিহ্য ও পুরাতাত্ত্বিক এই স্থাপনাকে এমন গাড়লের মতো প্লাস্টার আর ডিসটেম্পার করা হয়েছে, যে, এটা এখন জহুরি মহল্লার বড় জামে মসজিদ ছাড়া আর কিচ্ছু নাই। প্রত্নতত্ম দূর কি বাত। তাই বলি কী, নিজেরা হেঁচড়ে পেঁচড়ে যা পারে, তাতে সন্তুষ্ট থাকুন। পৃষ্ঠপোষকতা খুঁজে মরবেন না। পৃষ্ঠপোষকতা নামের কুমিরকে খাল কেটে ডেকে আনবেন না।
এলেবেলে-১০: #pinching #hurtingtheangel
একজন একক মানুষকে ঠিক কত ভাবে, কত দিক দিয়ে পীড়ন দেয়া সম্ভব, কত রকমারিভাবে একটাই মানুষকে বারবার পিষে ফেলা সম্ভব-তার উদাহরন বাংলার ঘরে ঘরে, পরিবারে, সমাজে একটু নজর করলেই পাওয়া যাবে। এখানে যে সামান্য একটু উদার, ভদ্র-তাকেই বারবার পিষে ফেলা হবে আরো আরো ভালমানুষী ও দায়ীত্ব পালনের দাবীতে। ঘুরে ফিরে তাকেই বেঁছে নেয়া হবে ঢিল ছুঁড়তে, মনের ক্ষেদ মেটাতে। তথাকথিত স্বজন, প্রিয়জন, বন্ধু, পরিবার, সমাজ-মায় রাষ্ট্র-কখনো একা, কখনো দলেবলে তাকে গণধোলাই দেবে। পনেরো আনার পরে ষোলতম আনার অপূর্ণতার জন্য। আর যখন মর্ত্যের অপদেবতাদের হাতে সময় থাকে না, তখন আকাশের দেবতারা সেই দায়ীত্বটা নিয়ে নেন। প্রকৃতি আর দেবতারাও এই একক মানুষদের নিয়ে নিষ্ঠূর খেলা খেলতে পছন্দ করেন। দুনিয়া আর সংসারের কলোসিয়ামে ছেড়ে দিয়ে নানামুখী পিড়নের কালো ষাড় ছেড়ে দেন তাকে পিষে দিতে। প্রকৃতিও মজা নেয়। এই সমাজ শক্তের ভক্ত, নরমের যম।
এলেবেলে-১১: #parenting #righttoquestion #questionning #watchdog #counterquestion #opposingadvice #deviationofgeneration #deviationofnation #deviationofcountry #nationaldestruction #destructivenation #socialdestruction #socialdeviation #socialdeterioration
পাড়া মহল্লায়, একই কমিউনিটিতে কারো অপত্য সন্তান যদি কোনো অন্যায় করে, তাহলে তার বাবা-মাকে সেটি জানাতে গেলে প্রায়শই শুনতে হয়, “তোমার তো নিজের পোলাপান নাই, তুমি বাঁজা মানুষ, পোলাপান মানুষ করার তুমি কী জানো?” মানে হল, ন্যায্যতা বা বাচ্চাদের ভুল নিয়ে কথা বলতে হলে আপনাকে অবশ্যই আগে বাবা-মা হয়ে নিতে হবে। নিজের ভুল বা অন্যায়কে যায়েজ করার নয়া স্টাইল এটা। মানে, আপনি একজন উকিলের ভুল, অন্যায় নিয়ে কথা বলতে চাইলে আগে উকিল হতে হবে। ড্রাইভারের ভুল ধরিয়ে দিতে পারবেন না, যদি আপনি ড্রাইভার না হোন। একই ফিলোসফি ও যুক্তিতে, আপনি দেশের অর্থনীতি নিয়ে কথা বলতে হলে আপনাকে চেতনাধারী ইকনোমিস্টই হতে হবে। অন্যথায়, আপনি কিছুতেই প্রশ্ন করতে পারবেন না, যে, কেন প্রকল্প ব্যায় বাড়ল বা বাড়ে। এই ইল-লজিকের গোড়াপত্তন বহু আগে। আমাদের গড়পড়তা সবার মধ্যে সেটার বীজ বুনে দেয়া হয়েছে শৈশবেই। আমরা কম-বেশি সবাইই কিন্তু এই ফিলসফিতে বিশ্বাস করি-চেতনে, বা অবচেতনে। আমাদেরকে এই ভুল লজিকের পাঠ দেয়া হয়েছে শৈশবে, যখন আমাদেরকে বাগধারা পড়ানো হত-”আদার ব্যাপারী জাহাজের খবর দিয়ে কাজ কী”। হ্যা, আদার ব্যাপারীও জাহাজের খবর রাখতেই পারে। আপনি যদি ডাক্তারের কাছে দোয়া আর হুজুরের কাছে দাওয়া চাইতে পারেন, আমি তাহলে কেন নই? ঠিক যেমন, ক্রিকেটের ক’ও না জানা আমি প্রশ্ন করতেই পারি, যে, ৯০০ কোটি টাকা জমা করা বেশি জরুরী, নাকি ৬৪ জেলায় ৬৪টি ক্রিকেট একাডেমি করা জরুরী। [সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অত্যন্ত দামী কথা মনে হওয়ায় আমি জনাব আব্দুল্লাহ মাহমুদের লেখার কিয়দাংশ মাঝে যোগ করলাম: ইউরোপ সহ পশ্চিমা বিশ্বে ওয়াইন এর স্বাদ পরিক্ষা করা একটি পেশা। নামী দামী বার রেস্টুরেন্টে এরা ওয়াইন খেয়ে পরীক্ষা করে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন, ওয়াইনটি কতটা ভাল ছিল তা নির্ধারণ করেন। তাদের মাসিক বেতন তিন চার লাখ টাকা। ওয়াইন প্রস্তুতকারক কোম্পানীগুলো আবার ভিন্ন মানের টেস্টার নিয়োগ করেন, তাদের বেতন মাসিক বিশ ত্রিশ লাখ টাকাও হয়। এরা কি জানেন ওয়াইন কিভাবে তৈরী করতে হয়? এরা নিজেরা কি ওয়াইন বানাতে পারেন? উত্তর হলো “না” এবার চিন্তা করুন ফ্রান্সে একজন টেস্টার, যে বড় কোম্পানিগুলোর ওয়াইন খেয়ে মতামত দেন, যার বেতন হয়ত পনের বিশ লাখ টাকা, সে ওয়াইন টেস্ট করে বললেন, নাহ ওয়াইনটি ভাল হয় নি। ওয়ানারীর মালিক বলল, পারলে এর চেয়ে ভাল বানিয়ে দেখান? — ডাস্টিন হফম্যান কিংবা টম হ্যাংকস এর ছবির সমালোচনা লিখেন এমন কিছু লোক যারা জীবনে কখনও অভিনয় করেন নি, কিন্তু অভিনয় বুঝেন। আমিতাভ বচ্চন কখনোই নাসিরউদ্দিন শাহ এর মুভির সমালোচনা লিখেন না। কারন তারা দুজনেই অভিনেতা, সমালোচক নন। তারা সমালোচনা লিখতে পারবেন না তা নয়, কিন্তু পেশাদার সমালোচকদের হাতেই দায়িত্ব দেয়া হয়। সে সব সমালোচক কে কেউ বলেনা, আসেন আমার মত অভিনয় করে দেখান। আমাদের দেশে ক্রিকেটারদের খেলার মুল্যায়ন করেন কখনও প্রাক্তন খেলোয়াড়রা, কখনও ক্রীড়া সাংবাদিকরা। সমালোচকদের মতামত যে সর্বদা সঠিক হয় তা না, কিন্তু তার নিজস্ব কিছু পর্যবেক্ষন অবশ্যই থাকে, তার সাথে কেউ এক মত হতেও পারে, নাও পারে। কিন্তু এর বাইরেও সাধারন দর্শকরা সমালোচনা করে। সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের সমালোচনাই বেশী। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, এরকম আম জনতার কি সমালোচনা করার অধিকার আছে? আমাদের ক্রিকেটাররা লাখ লাখ টাকা বেতন পান, অনেকের বাৎসরিক আয় কোটি টাকা। আমাদের ক্রিকেটাররা হেলিকপটারে যাতায়াত করে।
এসব টাকা কে দেয়? তাদের বেতন কিংবা বিজ্ঞাপন থেকে যে আয় করেন সে অর্থের যোগানদাতা কে? কোন মন্ত্রী কিংবা বিসিবির পরিচালক কি নিজের পকেট থেকে ক্রিকেটারদের বেতন দেন? সবই সাধারন জনগনের পয়সা প্রতক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে। আপনি আমাকে টাকা দেন না, সুতরাং আমাকে চার মেরে দেখাতে হবে না। আমি আপনাকে টাকা দেই, এজন্যই আপনি আমার আশা পূরণের চেস্টা করবেন।] প্রশ্ন করা ও প্রশ্ন তোলার অধিকার কখনো রহিত হয় না। প্রশ্ন করা ও প্রশ্ন করতে দেয়া-নিজের স্বার্থেই দরকার। এটি পৃথিবীর আদিমতম লজিকগুলোর একটি।
এলেবেলে-১২: #inferioritycomplex #class #generousity #modesty #networking
ল্যাংড়ারও তো কখনো কখনো চিৎ হয়ে শোয়ার শখ হতে পারে-তাই না? (যদিও অভি’র বক্তব্য হল, ওই শখ শুধু কুঁজোরই হতে পারবে। যাক, তাই সই।) সেই খাহেশ হতেই বিগত ৫৯ দিনে মোট প্রায় ১৪৯ জন বিজ্ঞ, বিখ্যাত ও উঁচু তবকার বড় মানুষকে ফেসবুক বা লিংকিতে কানেকশন রিকোঃ দিয়েছি। নিঃস্বার্থ নয়-স্বীকার করছি। ধান্দা ছিল। যদিও সেই ধান্দা মহত ধান্দাই মনে হয়েছে আমার কাছে। ধান্দা পূরণ হয়নি। ওই ১৪৯ জন স্বর্গের উচ্চ-গগন হতে নিচে তাকিয়ে অভাজনকে দেখেননি। ‘একসেপট’ করেননি। না, এটি কোনো অনুযোগ নয়। যারা এতটুকু পড়ে অনুযোগ ভেবে কড়া একটা উত্তর দিতে বসে গেছেন-তারা নিরস্ত হোন। এটি অনুযোগ নয়। ফেসবুক ফ্রেন্ড আর লিংকির কানেকশন-ওই একই। থোড়বড়িখাড়া>খাড়াবড়িথোড়। ফেসবুকের বন্ধুত্ব আপনার খাটিয়া ধরার মুমীনের সংখ্যা বাড়াবে না। লিংকির কানেকশন আপনার ইন্টারভিউ চান্স বাড়াবে না। ফলাফল লবডঙ্কাই। সুতরাং, ওই দুটোতে আপনি কার সাথে লদকালদকি করবেন আর করবেন না-সেটা আপনার ব্যক্তিগত রুচী। সমাজের হাবলঙ্গের বাজারে নিজেই মক্ষিরাণী হোন। মৌমাছি আসবে। কর্পোরেটের বাজারে নিজের ব্র্যান্ড নিজে হোন। এমপ্লয়ার আর কানেকশন পায়ে লুটাবে। কাউকে ফ্রেন্ড বানান আর কাউকে আনফ্রেন্ড-কারো কিছু বলার নেই। আপনার রাজ্যে আপনিই রাজা। কনডমের রাজা না, রিয়েল রাজা। আমি মনে করি, এই ভার্চুয়ালেও সবকিছু সীমিত ও নিজস্ব ঘরানায় থাকাটা সিদ্ধান্ত হিসেবে ভাল। যিনি আপনার ঘরানার নয়, তার সাথে গাটছড়া বাঁধার দরকারটা কী?
এলেবেলে-১৩: # #talent #talenthunt #enhancingmerit #promotingtalent
ট্যালেন্ট বা মেধা। এমন এক বস্তু, যা আসলে প্ল্যান আর প্রোগ্রাম করে ইচ্ছামতো বানানো যায় না, কেনা যায় না, সৃষ্টি করা যায় না, রূপান্তর করা যায় না। মেধা আসলে উৎপত্তি হয়। মেধার উন্মেষ হয়। মেধার সন্নিবেশ হয়। ট্যালেন্ট নিজে নিজেই জন্ম নেয়। মেধা বা ট্যালেন্ট এক সক্ষমতার নাম, যা আসলে অনেকগুলো প্রিরিকুইজিটের সম্মিলন ও সন্নিবেশ নিশ্চিত হলে, অনেকগুলো প্রক্রিয়া ও উদ্যোগের ফল হিসেবে দীর্ঘমেয়াদে বিকশিত হয়। শেকড় হতে শিখরে। মেধার উন্মেষ ঘটাবার কয়টা প্রক্রিয়া আমরা সৃষ্টি, বিকাশ ও বিস্তার করেছি? মেধাশূন্যতার ভয়াবহ অভিঘাত টের পান কি? আমি তো পাচ্ছি। না পেলে আপনি হয় বোকা, নয় তো অতি সরল বান্দা। হ্যা, অবশ্যই তাহলে আপনি সুখী মানব। ——————-+++
এলেবেলে-১৪: #complexion #white #black #inferioritycomplex
আপনি কি জানেন, পৃথিবীর বুকে উগান্ডা নামে একটি দেশ আছে, যার ৯৯% মানুষই হয় Inferiority complex, নয়তো anti-social personality disorder এ ভোগে? আচ্ছা, যাক, বাদ দিন ওসব। আসল কথায় আসি। ছবির মডেলরা Anyuak, পূর্ব আফ্রিকার Luo Nilotic ethnic group এর সদস্য, যার সদস্যভূক্ত আনুমানিক ৩ লক্ষ মানুষ। নিজের নিজের জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, রুচী ও ক্লাস নিয়ে অতি আত্মতৃপ্তিতে যারা ভোগেন, তাদেরকে একটা কথা খুব বলতে ইচ্ছে করে। আপনার সাদা চামড়াযুক্ত ক্লাসি পারর্সোনালিটি, যা নিয়ে আপনি অতি আহ্লাদিত, ডোলান টেরামপের দেশের লোকেরা সেটাকেই বলে, “বাদামী”। আপনাকে কে বলেছে, সাদা মানেই সব?
এলেবেলে-১৫: #trafficjam #traffic #roadsafety #roadrampage #crazytraffic #crazypeople
প্রিয় কবি জীবনানন্দকে মাঝে মাঝেই বলতে ইচ্ছে করে,
হে জীবনানন্দ, আপনি কার্তিকের নবান্নের দেশে আবার ফিরে আসতে চেয়েছিলেন।
তখন কি আপনি জানতেন, যে, এই ঢাকা ম্যাগাশহর, তার দুই কোটি বাঙাল, তাদের তিন কোটি গাড়ি আর এক বিঘত রাস্তা-সব মিলে মিশে রোজ বৃহস্পতিবারে কার্তিকের কুকুরের মতো হয়ে যায়?
আপনি কি এই কার্তিকের মদমত্ত নগরে আসতে চেয়েছিলেন?
এলেবেলে-১৬: #ungrateful #memoryloss #forgetting #selfcriticism
আমরা আমাদের সারা জীবন ভর, অন্য মানুষদের যত যত যত দোষ, ভুল, অন্যায় নিয়ে অভিযোগ, দোষকীর্তন করি,
তারই কতগুলো খোদ আমাদের নিজের মধ্যেই আছে-কখনো কি ভাবি?
সমাজের মানুষের অসহযোগীতা ও সহানুভুতিহীনতা নিয়ে ক্রমাগত গালাগাল করে যাওয়া মানুষটা নিজেই যখন মগডালে উঠে যায়, তখন, তার কানে সেই সমাজেরই আর্তের ডাক আর পৌছায় না।
বড় স্যারদের ইনবক্সে চাকরি চেয়ে রেসপন্স না পাওয়া, সাড়া না পেয়ে অভিশাপ দেয়া ছেলেটি নিজেই একদিন ইনবক্স আনচেকড ফেলে রাখবার মতো বড় হয়ে যায়।
জেফ বেজোসের সব সম্পদ কেড়ে নিয়ে গরীবকে বিলিয়ে দেবার দাবীতে সোচ্চার রবিনহুড মেয়েটাই একদিন জামাইয়ের কল্যানে পোরশে হাঁকায়, আর পোরশের মোটা কালো গ্লাসের ভেতরে শীতল নরম সীটে বসে সেই গরীবদের ভুলে যায়।
লিগ্যাসী, অরিজিন ও অবলিগেশন ভুলে যাওয়া নিয়ে যদি কোনোদিন নোবেল প্রতিযোগীতা হয়, তাহলে আমি একটা গীতাঞ্জলি লিখতে চাই।
মানুষ একটা দুই চাক্কার সাইকেল।
মানুষ নেহাতই অকৃতজ্ঞ রাসকেল।
কত জন ভুলে গেল।
কতজন ভুলে যাবে।
কেউ ভোলে, কেউ ভোলে না।
সবটুকু অতীত ভোলার নয়।
আমারও আছে কিছু দায়।
এলেবেলে-১৭: #beggingasprofession #donating #intension #poverty
রাস্তায় চলার সময় একজন ভিক্ষুক হাত বাড়ালে আমরা অনেক সময়ই গায়ে মাখি না। কখনো আবার গাড়ির কাচ নামিয়ে দুই দশ টাকা দিয়ে দিই। দিয়ে মনে করি, ব্যাটাকে অনেক ফেভার করলাম।
পথ চলতে ফুটপাতে একজন পঙ্গু ভিক্ষুক সুর করে ভিক্ষা চাইলে বেশিরভাগ সময়ই ভ্রূক্ষেপ করি না। কিন্তু যদি দিনটি হয় ফাইনাল ইন্টারভিউ কিংবা বিসিএস ভাইভা, দশ টাকা বের করে দিই। মহল্লায় কেউ মারা গেলো। সৎকারের সক্ষমতা কম। সবাই কিছু কিছু দান করি। অনেক সময়ই করি না।
কথা হল, আমাদের এই মানবিক দানের ভিতরে কোন নিয়ত কাজ করে?
কিংবা, এই সামাজিক কর্তব্যের ভিতরেও কি আমরা শ্রেনীবৈষম্য করি?
কীভাবে?
প্রথমেই ভাবুন, দানের মানসিক ইচ্ছা বা মকছুদের কোথাও কি এই নিয়তও মনে উঁকি মারে, যে, এই দান আপনি আমি জাগতিক বস্তুগত বা আত্মিক প্রাপ্তি কিংবা পারলৌকিক সুখ সমৃদ্ধি ক্রয়ের জন্য করছি?
কিংবা, একই দান কি আমি সব ধর্মের মানুষের জন্য করছি?
মনে করুন, কারো কাফনের কাপড় কিনতে আমি দান করলাম। চিন্তা করলাম, আহা, মৃতের সৎকার হচ্ছে না টাকার অভাবে। কিন্তু কারো দাহ হচ্ছে না পয়সার অভাবে (স্রেফ উদাহরন)। তখন কি আমি দান করি?
আরেকটু গভীরে যাই। কারো মেয়ের বিয়ের জন্য কিছু টাকা দান চাই। আপনি আমি সবাই মিলে কিছু কিছু দিয়ে কন্যাদায় উদ্ধার করে দিলাম।
এখন মনে করুন, মাস ছয়েক পরে, ওই মেয়েকে স্বামীর অত্যাচার হতে বাঁচাতে ডিভোর্স ও মামলা ফাইল করতে হবে। তখন কি টাকা দিই?
এলেবেলে-১৮: #envy #jealous #outcast #classstatus #classconflict #classdiscrimination
মন-তার অবস্থান বুকেই হোক বা মস্তিষ্কে, তাকে যদি দেখা যেত, তাহলে দেখা ও দেখানো যেত,
যে,
ঢাকার রাস্তার প্রতিটি মানুষ, হ্যা, প্রতিটি মানুষ তাদের পাশ দিয়ে চলতে থাকা প্রতিটি ব্যক্তিগত গাড়ি তথা ‘পেরাইভেড কার’ ওরফে ‘পেলাশটিক’ এর ওপর মনে মনে কী যে বিপুল ঘৃনা, বিদ্বেষ, ক্রোধ পোষণ করে। (অক্ষমের ইর্ষার দিকটা মার্জনাযোগ্য।)
প্রতিটি, হ্যা, প্রতিটি মানুষের মনের বিশ্বাস, পেরাইভেড গাড়ির প্রত্যেকটাই হারাম ও গরীব ঠকানো পয়সায় কেনা আর পেলাশটিকের মালিক (ও আরোহিরা) সব দানব।
এই বিপুল ঘৃনা তাদের মন হতে উপচে চোখের দৃষ্টিতেই দৃশ্যমান।
এলেবেলে-১৯: #hypocrisy #hypocritenation #west #democracy #ambiguity #humanity #humanrights #internationallaw #unitednations #state #government
কানাডা, আম্রিকা ও আরো আরো পশ্চিমা, উত্তরা, দক্ষিণা ভদ্দর ও উন্নত দ্যাশ সমূহের গণতন্ত্র, দানবাধিকার, সুশীল বাণী, উপদেশ ও নিদান শুনলে হাসব না
কাঁদব বুঝি না।
বাংলাদেশ হতে যাওয়া জৈনক ব্যক্তিকে ট্রুডোর খ্যানাডা তাদের দেশে ঢুকতে দেয় নাই। সুশীলতার দোহাই দিয়ে। তারা বঙ্গবন্ধুর খুনীকে ঠিকই রাষ্ট্রীয় মেহমান করে রেখেছে। এবং তাকে ফেরত দেবে না-বলে দিয়েছে।
হাসি পায়।
আম্রিকা দানবাধিকারের দোহাইতে বাংলাদেশের সরকারী কর্মকর্তাদের ওপর ব্যান দেয়। আবার মুদির ভাইকে নিয়ে চা ও খায়। গণতন্ত্রের দোহাইতে গণতন্ত্র মাহফিলে দাওয়াত দেয় না, ব্যান দেয়। আম্রিকার গণতান্ত্রীক চেহারা, দানবাধিকার নিয়ে তার নিজের চরিত্র দেখলে হাসি পায়।
দুনিয়ার যে কোনো কোণায় যে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও রাষ্ট্রকে যে কোনো ছুতায় হামলা ও নিহত করার অধিকার যাদের আছে বলে বিশ্বাস করে, ওসামা বিনকে যারা বিনা বিচারে খুন করে আরেক দেশে বিনানুমতিতে ঢুকে, যেই আম্রিকা তার দ্যাশে আশ্রিত বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফেরত দেয় না, সে আবার তাদের প্যানট খুলে নেয়া জুলিয়ানকে ঠিকই ধরিয়ে আনে।
তারা যখন গণতন্ত্র ও দানবাধিকার নিয়ে কথা বলে, হাসির দমকে পশ্চাতবায়ু নির্গত হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যখন ইরানের শীর্ষ জেনারেল সুলেমানীকে, কিংবা ইজরেল যখন ইরানী বিজ্ঞানীকে গোপন মিশনে হত্যা করার আদেশ দেয়, সেটার নাম আত্মরক্ষা ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের বৈশ্বিক দায়বোধের হালাল বাস্তবায়ন।
সৌদি আরবের বাদশাহ (হবু) যখন তার নিজের নাগরিককে হত্যা করার আদেশ দেয়, তার নাম মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেআইনী কাজ।
উভয় পক্ষকে আবার যে নিরবে চেটে শুধু খাশোগজির হত্যার তদন্ত ও বিচারের জন্য উদ্যোগ নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করে, তার নাম জাতিসংঘ।
তারা যখন গণতন্ত্র ও দানবাধিকার নিয়ে কথা বলে, হাসির দমকে পশ্চাতবায়ু নির্গত হয়ে যায়।
এসব দেখে দ্বিগুন উৎসাহে যে নিজের যত অকামের আরো নতুন ফন্দী আঁটে, তার নাম রাষ্ট্র।
রাষ্ট্র ও জনগণ নামক পাঁঠাকে বলি দিয়ে যে আবার কাঁঠাল খায়, তার নাম ‘স্যারক্যার’।
স্যারক্যারকে নিজ নিজ পশ্চাৎদেশে আবাদ করার অধিকার প্রদানের নাম ‘ভুট’, আর নেই ভুট যারা দেয়, তার নাম ‘জানেমান’।
‘ছারখার’ এর অকামে নিরুপায় হয়ে যখন জানেমানরা আবার রুখে দাড়ায়, সেটার নাম ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’।
রাষ্ট্রদ্রোহী জানেমানদের সাইজ করার জন্য আবার স্যারক্যার যখন কুত্তা লেলিয়ে দেয়, তার নাম সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ ও জানেমানদের সুরক্ষার দায়বোধ।
এভাবেই বিশ্ব হতে দ্যাশ-সর্বত্রই চক্রাকারে ধাবিত হয় আইন ও ন্যায়ের উত্থানরহিত ঝান্ডা।
কৃষ্ণ করলে লীলা,
কেষ্টা বেটা করলে লীলাখেলা।
এলেবেলে-২০: #humanity #humanrights #internationallaw #hypocrisy #hypocritenation #west #democracy
আম্রিকা তার নাগরিক অভিজিত রায়ের খুনিদের ধরিয়ে দেবার জন্য ৫০ লাখ ডলার বাউন্টি বা পুরষ্কার ঘোষণা করেছে।
আনন্দ সংবাদ।
আম্রিকা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ও সাজাপ্রাপ্ত খুনিকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়নি।
এটা শুধুই একটা সংবাদ।
অভিজিতদের আত্মাও হয়তো রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে, দেশে দেশে, স্বদেশে বিদেশে নানান দ্বিচারিতার সংবাদ দেখেও হাসে। কোনো যুগেই কোনো জাতি অভিজিতদের ধারন করবার যোগ্যতা ধারন করেনি।
এলেবেলে-২১: #poverty #middleclasslife #nakedlife #thuglife #alibi #uneven #evil #misdeed #compromise #demonstration #opposition #protestagainstevil #masspeople #marginalpeople #ordinarypeople
আপনারা কি বিশ্বাস করেন, দরিদ্র হবার ও প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দা হবার একটি ছাপ মানুষের চেহারায় বসে থাকে? বিশ্বাস করতেও পারেন, নাও পারেন। আবার আমাকে বর্ণবাদী বা শ্রেণীশত্রুও ভাবা যেতে পারে।
সেই ঝুঁকি মাথায় রেখেই বলছি, আমার কাছে কেন যেন মনে হয়, সেটা থাকে। দারিদ্রের কষাঘাতের একটি ছাপ চেহারায় লেগে থাকে। প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা হবার একটা ছাপ চেহারায় লেগে থাকে। অন্তত সহসা চোখে না পড়লেও একটু বুদ্ধিমানরা সেটা চট করে ধরে ফেলেন। অনেক ঘাঁইকিঁচিং করে, ফেয়ার অ্যান্ড আগলি মেখে হয়তো সেই দাগ, সেই ছাপ মুছে ফেলে চোস্ত শহুরে হয়ে ওঠা যায়।
তবে, আমি যেহেতু সেই ফেয়ার অ্যান্ড আগলি মাখিনি, তাই আমার চেহারায় দারিদ্র ও মফস্বলের ছাপ তীব্র। অনেক চেষ্টা করেও ভাষা, টোন, ডায়ালেক্ট, চোখের চাহনি, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ-সবকিছুতে সেই ছাপ স্পষ্ট। যতই নিজেকে ঘঁষামাঁজা করে করি না কেন, গেঁয়ো গন্ধ ও একটা গেঁয়ো লুক কিছুতেই লুকোতে পারি না। ছোটবেলায় টাকা বাঁচাতে নিউজপ্রিন্ট খাতার পেন্সিলের লেখা মুখে আরেকবার লিখেছিলাম বলে ক্লাসটিচার মিজ …..লী আমাকে ভর্ৎসনা করে তাচ্ছিল্য ভরে বলেছিলেন, “তোরা কি চিনির বয়ামের পিঁপড়ে চিপে চায়ের কাপে দিয়ে খাস?” (কী লজ্জা কী লজ্জা!) আজও আমার মনে পড়ে, দোকানের বাঁধাই করা খাতা বেশি দাম বলে আমরা ওই খাতায় কেবল স্কুলের হোমওয়ার্ক করতাম। বাসার রাফ খাতা হিসেবে আমরা নিউজপ্রিন্ট কিনে ভ্রমর ও সুতা দিয়ে সেলাই করে খাতা বানিয়ে নিতাম।
ডিজিটাল বাংলাদেশে বা স্মার্ট বাংলাদেশে আজ আমাদের অবস্থান যাই হোক না কেন, আজ প্রতিষ্ঠার ইঁদুর দৌড়ে রাজধানীর বুকে রুজি-রুটীর একরকম ধান্দা করে নিতে সক্ষম হলেও সবসময়ই মনে রাখি,
”একেনে তুকে মানাইছেনায় গো,
ইক্কেবারে মানাইছেনায়গো।”
‘কাঢা’ নগরে যে মহল্লায় থাকি, সেখানে রোজ সকালে একজন অন্ধ ও পঙ্গু ভিক্ষুক বড় রাস্তাটায় ভিক্ষায় বসে। রোজ সকাল ৭ টা হতে ৯ টা সে রাস্তাটার ধারে ভিক্ষা করে।
অন্ধ ও পঙ্গু।
আপাতঃ দৃষ্টিতে খুবই মানবিক ও ’গরীব মানুষ’ মথিত আবেগের বিষয়।
বেশ ক’জনকে দেখি তাকে নিয়মিতই ১০ টাকা/২০ টাকা দেন। সে বেশ ভালই ইনকাম করে। যেহেতু মহল্লার ভিক্ষুক, তাতে তাকে অনেকে চেনে, সে-ও অনেককে চেনে।
বাস্তবতা হল, এই ভিক্ষুক ব্যক্তিগত স্বভাবে, খাসলতে, লাইফস্টাইলে লর্ড। রাস্তার সবাইকে সে দৌড়ের ওপর রাখে। তার মেজাজে সবাই কাঁটা হয়ে চলে। সকালে সে আয়েশ করে বসে যখন সিগারেটে টান দেয়, (বিড়িটা আরেকজন জ্বালিয়ে দিয়ে যায়।), তখন তাকে সম্রাট শাহজাহানের ভাগিনা বলে ভুল হয়। ভাল কথা, সে কিন্তু, ডেকে ডেকে সুর করে ভিক্ষা চায় না। যায়গায় বসে থাকে। হিন্দী গানের কলি ভাজে। তার পাপার্ত মুরীদরা তার কোচরে টাকা দিয়ে যায়, দিয়ে নিজেদের পাপ স্খলন করে। তাকে দান করে ধন্য হয়।
আজ সকালে সে বড় রাস্তাটার প্রায় মাঝখানে এবং একটা টার্নিংয়ের একদম মুখে বসেছে। প্রায়ই সে এভাবে বসে। কেই ভয়ে টালায় না। তো বাইরের এলাকার একজন ড্রাইভার তার গাড়ি নিয়ে যাবার সময় মোড় ঘুরতে পারছে না। এবং, এমন একটা স্থানে সে বসা, যে, সামান্য ভুল হলে দুর্ঘটনা ঘটবে। ড্রাইভার তাকে কাঁচ নামিয়ে সামান্য অনুযোগ করেছেন। মি. গরীব তাকে যে কুৎসিত ও কঠোর ভাষায় ও টোনে শাসিয়েছে, তাতে তাকে দেশের পুলিশের আই.জি অথবা ছোটা শাকিল ভাবলেও ভাবা যাবে।
’গরীব মানুষ’-কথাটা বুগান্ডার খুব চালু একটা অ্যালিবি। আকাম হালাল করবার একটা মোক্ষম বাক্য। গরীব মানুষের বিড়ি খাবার স্বাধীনতা অবশ্যই আছে। রাস্তায় ভিক্ষা করবার অধিকার আছে। ভিক্ষা চেয়ে ঘ্যানঘ্যান না করে হিন্দী গানের কলি ভাজবার সুযোগও আছে। যেটা নেই, সেটা হল ‘মানবতা’ বিক্রী করা আর মানুষের অপরাধবোধ ও স্বর্গ কেনার আবেগকে পূঁজি করার অধিকার।
’গরীব মানুষ, ছোট মানুষ, মেয়ে মানুষ ও মুরব্বী মানুষ’-এই চার শ্রেনীর জন্য বাংলাদেশে সবখানে একরকম ইনডেমনিটি বিরাজ করে। দোষ করেছে, বিচার করবেন, জবাবদিহিতা চাইবেন, চারপাশ হতে সবাই চেপে ধরবে, “ভাই, গরীব মানুষ! ভাই ছোট মানুষ! ভাই বাপের বয়সী! ভাই মেয়ে মানুষ!” বাদ দ্যান, মাফ করে দ্যান।” রাস্তায় রিক্সাওয়ালা আপনার গাড়িকে পুরোপুরি তার দোষে এক্সেলের ঘষা দিয়ে ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি করে বসল। সামান্য কিছু বলবেন, আমজনতা, জাগ্রত জনতা, জেহাদি জনতা, গরীবের বন্ধু জনতা আপনাকে চেপে ধরবে, “ভাই, গরীব মানুষ, ওনার টায়ার সারানোর খরচ দিয়ে যান।”
-’গরীব মানুষ’ , ‘বয়স্ক মানুষ’ , ’মেয়ে মানুষ’-
এই তিনটি শব্দগুচ্ছ উগান্ডেশের সবথেকে বায়াজড ও অন্ধ অ্যালিবি।
অত্যন্ত একপেশে, অন্ধ বিশ্বাসের ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ হল এগুলো।
রাস্তায় চলমান গাড়িতে রিক্সা এসে অন্যায়ভাবে গুঁতো খেয়ে চাকা ভাঙল। রাস্তার জাগ্রত জনতা একজোট হয়ে গাড়িকে ও গাড়িওয়ালাকেই চোখ বুজে দোষী সাব্যস্ত করবে। আবার, যদি রিক্সার দোষ প্রমানও হয়, তার পরও দাবী করবে,
”ভাই, গরীব মানুষ, চাকা মেরামতের খরচটা দিয়ে যেতে হবে।”
না দিয়ে আপনি পার পাবেন না।
বয়স্ক কেউ অন্যায় করে ধরা পড়ল। হয়তো সে দুধওয়ালা, হয়তো রিক্সায় যেতে যেতে কারো ধবধবে সাদা জামায় পানের পিক ফেলেছে। ফেলে দিব্যি চলে যাচ্ছিল। ধাওয়া করে ধরলেন।
জাগ্রত জনতা একজোট হয়ে দাবী তুলবে,
”ভাই, বয়স্ক মানুষ, ছেড়ে দিন।”
সবচেয়ে কনফিউজিং ও মজার বিষয় হয়, যখন ওই তিন বর্গ হতে দুই বা তিন বর্গের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয় জটিল কিছু কনফ্লিকটিভ ঘটে।
যেমন ধরুন, রিক্সাভাড়া নিয়ে রিক্সাওয়ালা আর নারী যাত্রির ঝগড়া। রিক্সাওয়ালা নারীকে মুখে মুখে হেনস্থা করল। নারী যাত্রীও কম যায় না। সে জুতো মেরে বসল।
রাস্তার মজা নেবার জাগ্রত জনতা দুই ভাগ হয়ে যায়। একদল “গরীব মানুষ” সেন্টিমেন্টকে আকড়ে ধরে রিক্সাওয়ালার পক্ষ নিয়ে মহিলাকে সাইজ করতে নামবে।
(সত্যি বলতে, উগান্ডেশের ৮৯.৯৯% মানুষ এখনো মনে করে, যে, বেডি মানুষ রাস্তায় বেরোনোহারাম। এই দলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক, আমলা, খেলোয়াড়, ব্যবসায়ী, নারীকর্মী, মোল্লা, রিক্সাওয়ালা, দালাল, মাদকসেবী-সবই আছে। সেই দিক হতে তারা ঠিকই আছে। বেডি রাস্তায় কেন নামবে?)
আবার, আরেকদল, যারা “ভাই, থাক না, মেয়ে মানুষ” সেন্টিমেন্টের, তারা নারী যাত্রীর পক্ষ নিয়ে রিক্সাওয়ালা ও “গরীব মানুষ” সেন্টিদের ধাওয়া দেবে।
তবে, কোনো কারনে যদি রিক্সাওয়ালা বা নারী-কেউ একজন বয়স্ক হয়ে বসেন, বা দু’জনই হন, তাহলে ঘটনা আরো জটিল আকার ধারন করে। কারন, তখন, “বাদ দেন, বয়স্ক মানুষ” সেন্টিমেন্টও বিবেচনার দাবী তোলে। পাবলিক কোন দলে যাবে?
আরেক দলের (আমার মতো) রিফ্লেক্স কম। তারা ঠিক করে উঠতে পারে না, যে, তারা ’গরীব’ দলে যাবে? নাকি ‘বয়স্ক’, নাকি ‘বেডি’?
অর্থনৈতিক মানবিকতা নিয়ে আমিও প্রচুর লিখি। লিখেছি। লিখব। করোনা ও ইউক্রেনের অভিঘাতে আমরা আরও দুই দফা ফকির হয়েছি-তাও সত্য। মধ্যবিত্তের টানাপোড়েনে আমিও পুড়ি। তা নিয়ে প্রচুর লিখি। লিখব।
তবে, মুদ্রার বিপরীতে পরিহাস হল, এই মাত্র ২০-২৫ দিন পরেই আপনি, আমি দেখব, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, নিউমার্কেট এলাকার অভিজাত ও গরীবানা-সমস্ত জামাকাপড়ের দোকানগুলোতে হাশরের মাঠের ভীড়। ওই দৃশ্যও আমাকে কনফিউজ করে দেয়। দ্রব্যমূল্য নিয়ে, নতুন করে বেড়ে যাওয়া দারিদ্রের হার নিয়ে আমরা নিশ্চয়ই অভিঘাতপ্রাপ্ত। আবার, আমরা বাঙালীরা শবেবরাতের দিন এলাকার গরুর গোশের দোকানে কাতারে কাতারে হামলা করব-এটাও বাস্তব।
সকালে অফিসে আসার সময়ে আমতলির সিগন্যালে জনৈকা নেকাবধারী নারী আড়াই মাস আগে একদিন আমাদের যান্ত্রীক শকটের জানালায় টোকা মেরে বলেছিলেন, “স্যার, আমার বাবায় মহাখালি ক্যান্সার হাসপাতালে ক্যান্সারে মইরা গ্যাছে। লাশ বাড়ি নেতে পারতেছি না। গেরামে মাডি দিমু। গরীবের দাফনের লাইগা কিছু দিয়া যান।”
বরিশালের প্রত্যন্ত এক গ্রাম হতে উঠে আসা এই শহুরে নিম্নবিত্ত তার গা হতে গরীবানা ও গাঁয়ের আঁশটে গন্ধ ধুতে না পারলেও এতদিনে এই নগরের মেকি ও কৃত্রিমতায় পূর্ণ ভন্ডামী বুঝতে শিখে গিয়েছি। সেদিন আমার বুকটা একটু চিনচিন করলেও, বিবেক কিছুটা দংশন করলেও তাকে কাফন-দাফনে সাহায্য করে স্বর্গ কিনতে পারিনি। যদিও মফস্বলের গরীব আমাদের কাছে স্বর্গ এক পরম আরাধ্য বস্তু, আমাদের শেষ সান্তনা।
আজকে আড়াই মাস পরে, সেই আমতলি সিগন্যালেই আবারও সেই নেকাবি নারী জানালায় টুকটুক করে টোকা দিয়ে একই সুরে আবদার করেছেন, “স্যার, আমার বাবায় মহাখালি ক্যান্সার হাসপাতালে ক্যান্সারে মইরা গ্যাছে। লাশ বাড়ি নেতে পারতেছি না। গেরামে মাডি দিমু। গরীবের দাফনের লাইগা কিছু দিয়া যান।” আজকে আমার বুকের সেই বিবেকের দংশনজনিত চিনচিন বন্ধ হল।
অন্যায় করা অন্যায়।
অন্যায়কে মেনে নেয়া আরও বড় অন্যায়।
অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া ততোদিক অন্যায়।
কিন্তু দেশে এখন চলছে অন্যায়কে লেজিটিমেট বা হালালাইজ করার অন্যায়ের মড়ক।
অন্যায় করুন, ভুল করুন, দোষ করুন, অযোগ্যতা ধারন করুন, ব্যর্থ হোন এবং——-
কোনো অনুতাপ, ক্ষমাপ্রার্থনা, সংকোচবোধ বা নিদেনপক্ষে স্বীকারের তো বালাই নেই।
উল্টো, অন্যায় ও ভুলটিকেই ন্যায়, সঠিক, প্রত্যাশিত নর্মস তথা হালাল প্রমানের জন্য খোদ অন্যায়কারী বৃন্দে তো বটেই, চারপাশের পাবলিকও দাড়িয়ে যাবে।
একটা অন্যায় বা অন্যায্য কিছুর বিরুদ্ধে সামান্য গলা তুলবেন, তো,
আপনাকে চৌদ্দজন মিলে বোঝাবে,
ঘুষ খাওয়াটা কেন ঠিক আছে,
রাস্তায় ভুল দিক দিয়ে গমন কেন ঠিক আছে,
একজন নারী বা নরকে ধর্ষণ করা কেন ঠিক আছে,
রাস্তা দখল করা কেন ঠিক আছে,
ইংরেজি না পারলেও কেন দোষ নেই,
কভারমেইল ছাড়া চাকরির জন্য রিজুম পাঠিয়ে দায় সারলেও কেন ঠিক আছে,
বাসের জানালা দিয়ে পিচিক করে পানের পিক ফেলে একজন ইন্টারভিউ দিতে যাওয়া মানুষকে ভূত বানালেও কেন ঠিক আছে,
রিক্সা দিয়ে ইচ্ছে করে বাইকটার পেছনের লাইটটা ভেঙে দিয়েও কেন ঠিক আছে,
বাসের মধ্যে বুট দিয়ে কারো পা মাড়িয়ে দেবার পরও কেন সব ঠিক আছে। (পাবলিক বাসে নাকি কারো পা মাড়িয়ে আঙুল ভেঙে দেবার ঘটনা ঘটতেই পারে।)
‘গরীব মানুষ’- শব্দযুগল শুনতে মানবিক, কিন্তু এই শব্দযুগল এখন এখানে অন্যায়কে হালালাইজ করবার ও করাবার দারুন এ্যালিবাই।
ভ্যানের ফল বিক্রেতা পঁচা ফল দিল, ওজনে কম দিল, ধরা পড়ল, পাবলিক সাপোর্ট দেবে, ”থাক ভাই, বাদ দ্যান, গরীব মানুষ।”
অন্যায়কে হালালাইজেশনের সাফাই দেবার গণমড়ক চলছে। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে………………
না, রবীদার সাথে আমি সামান্য দ্বিমত। অন্যায় যে সহে, তারও চেয়ে আমার কাছে বড় পাপী মনে হয় তাকে, যে অন্যায়কে লেজিটিমেট করে। মানে, অন্যায়টাকেই বৈধতা দেয়।
আপনার ভিন্নমত থাকতেই পারে। তবে আমার মতে, দেশের পড়াশোনার সার্বিক গুনাগুন (জ্ঞান+বুদ্ধিমত্তা+বোধ) বহু আগেই গোল্লায় গিয়েছে। অন্তত এটুকু বলতে পারি, যে, একাডেমি হতেযা বের হচ্ছে তা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রির পানি গরম হচ্ছে না। যারা বিদেশী কর্মীদের রমরমা নিয়ে জেহাদ করেন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ হল, অদূর ভবিষ্যতে পিওন, চাপরাশি, ক্লিনার, মেসেঞ্জারও বিদেশ হতে আমদানি করতে হতে পারে। জব মার্কেট ও ইন্ডাস্ট্রি হল প্রবাহিত জলের মতো। সে যেখানে তার স্বার্থ, যেখানে কদর, সেখানেই যাবে। সে তার মতো করে পথ খুঁজে নেবে।
যা বলছিলাম, কিছু না জানাকেও হয়তো মেনে নেয়া যায়, কিন্তু, এখন শুরু হয়েছে না জানাকে হালালাইজ করবার আবদার। না পারাকে বৈধতা ও যৌক্তিক প্রমাণের বায়না। অবশ্য এই দৌড়ে শুধু ব্যক্তি নয়, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান-সবাইই আছেন।
ইংরেজিতে দুর্বল? নিজের নামও বানান করে লিখতে পারে না? আরেহ, ইংরেজি তো জ্ঞান না, স্রেফ একটা ভাষা। ইংরেজির জন্য কি বায়ান্ন এসেছিল?
প্রার্থী টেক ফ্রেন্ডলী না? আরেহ, এইসব ছাতামাতা জানার কী দরকার? এইগুলোই তো দেশটাকে খেলো।
প্রার্থী নেটওয়ার্ক ও সোশ্যালাইজেশনে জিরো? আরেহ, সারাদিন কাজ করে, পড়াশোনা করে এসব করবার সময় থাকে? আপনাদের যত বাহানা।
বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রেটিংয়ে নেই? আরেহ ধূর, ওসব রেটিং সব ভূয়া।
রাষ্ট্র দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে? আরেহ, ওগুলো সব পচ্চিমাদের পোরপাগ্যান্দা।
ছেলে পরীক্ষায় ফেইল করেছে? আরেহ, মাস্টাররা সব পাশশিয়ালটি করে।
মেয়ে বিয়ে না করে প্রেগন্যান্ট? আরেহ, আজকাল তো এটাই ট্রেন্ড, দেখেন না জরিমনি, রালিয়া খাট কী সুন্দর মা হয়েছে?
স্বামী পরকীয়া করে ধরা পড়েছে? আরেহ, পুরুষ মানুষ তো অমন একটু করবেই।
ব্যাংক লুট হয়ে গেছে? আরেহ, ওই ক’টা টাকা আমাদের ‘ছ্যাপেও’ লাগে না।
বারবার অযোগ্যতার জন্য চাকরি হচ্ছে না? আরেহ, এইছাড়গুলো সব বদ, কঠিন করে প্রশ্ন করে। সব নিজের শোমোন্দিরে চাকরি দেবার ধান্দা।
এলেবেলে-২২: #naming #title #winter #season #ওয়াজেরমৌসুম #celebrityspeakers #nationalsimble #preaching #association #uniting #rewarding #awards #recognition #crown #fake #paidreward
নামকরণ নিয়ে যদি কোনো নোবেল থাকত, বাংলাদেশের নোবেলপ্রাপ্তি কেউ ঠেকাতে পারত না।
সারাদেশব্যাপী বিভিন্ন স্থান ও স্থাপনার বিচিত্র সব নামের বাহার দেখলে ভিড়মী খেয়ে আপনার এই সত্য মেনে নিতে কোনো অসুবিধা হবে না।
নামের উদাহরনে আর গেলাম না। কিছু আছে, চুড়ান্ত অশ্লীল।
মানুষের নামের ক্ষেত্রেও আমরা কম যাই না। আমাদের প্রথাগত বাবা-মায়েরা সন্তানদের নাম রাখার ক্ষেত্রে আরবী ও সংস্কৃত শব্দের ওপর আস্থা রেখে থাকেন। আদর করে সন্তানের নাম রাখে মবরুকা। পাবলিক তাকে ডাকে মকবুল খাঁ।
যাহোক।
বাংলাদেশের সবকিছু একটি করে জাতীয় আছে। জাতীয় মাছ বাইম মাছ (তেলতেলার জন্য), জাতীয় খেলা কুস্তি, জাতীয় ফল জেএসসির ফলাফল, জাতীয় খাসলত পশ্চাৎদেশের মতো দ্বিভাজন, জাতীয় ফুল জনগন নামক Fool, জাতীয় গাছ বাঁশ ইত্যাদি।
হঠাৎ মনে হল, জাতীয় ঋতুতো নেই। যদিও আমার মনে হয়, শীত হল অঘোষিত জাতীয় ঋতু। দেশের যত বড় বড় ঘটনা আছে, সবগুলোর বৃৎপত্তি ঘটে এই শীতে। সরকার পতন হতে পুরুষের ক্ষণপতন-সবই এই শীতে।
ভেবে দেখেুন, এই শীতকে এমনকি আমরা ঈশ্বরকেও বাৎসরিক ভেট দেবার মৌসুম হিসেবে পরিণত করেছি। সারাবছর শুষ্কং কাষ্ঠং শেষে শীত আসলে মৌসুমী ধর্মবিশারদদের ওমর সানী মাহফিলের বান ডাকে। রাতব্যাপী, সপ্তাহব্যাপী চলে এই মৌসুমি বা ওমর সানি বক্তৃতামালা।
বক্তাদের ভাড়ার টাকাটার পরিমান ও অন্যান্য আদর আপ্যায়ন বেশ ইর্ষাযোগ্য। সাতক্ষিরার হেলিকপ্টার না, একেবারে সত্যিকারের জলজ্যান্ত হেলিকপ্টারে উড়িয়ে নিয়ে আসা হয় শীর্ষ বক্তাদের। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় “রাস্তা দখলকারী হকার্স সমিতি” আয়োজিত এমন এক বিপুল বপুর মাহফিলের পাশ দিয়ে যাবার সময় দেখলাম, এই পিক আওয়ারেও বক্তা হিসেবে মঞ্চে আসীন আছেন মাত্র একজন।
সামনে ৭ জন শ্রোতা। তার একজন আবার ডেকোরেটরের লোক। অদূরেই দেড় কিলোমিটারের ভিতরে আরও ৫ টি মেহফিল চলছে। মানুষ বিভ্রান্ত। কোনটা রেখে কোনটাতে তাশরিফ নেবেন।
না না, আপনি এখুনি ভেঙে পড়বেন না। আমাকে শাপশাপান্ত করতে বসবেন না। কারন চিত্রের বিপরীত দিকও আছে।
কর্পোরেট ও প্রোফেশনাল সেক্টরেও মৌসুমি বিতং আছে। শীত আসলেই বাংলাদেশের সব পেশাজীবি সংগঠনের ঘুম ভাঙে। যেই ঘুমের শুরু রোজার মাসে ইফতার পার্টি সারার পরে শুরু হয়। যাহোক। শীত আসলে ঘুম ভাঙে আর শুরু হয় বন ভোজন নাম দিয়ে শহুরে মচ্ছবের ভিতর দিয়ে হাইবারনেশন ভঙ্গের যাত্রা।
তবে সবচেয়ে আকর্ষক ঘটনা হল, মৌসুমী ধর্মপ্রচারের মতো করে কর্পোরেট ও প্রোফেশনাল সেক্টরের আমরা শীত আসলে নেমে পড়ি ভাড়ায়, মাগনায়, কিংবা একবেলা একপেটা ভরপুর খানার বিনিময়ে জ্ঞান বিতরনের ওমর সানি যজ্ঞে। শীত মৌসুম জুড়ে আয়োজিত অসংখ্য প্রোফেশনাল মাহফিলে ঘন্টাখানিক বা তারও কম সময়ের জন্য হালকার ওপরে পেশাগত জ্ঞান উগরে দিয়ে (যার অর্ধেক সময় যায় মাননীয়দের সম্ভাষনের পিছনে) কিংবা ঘাইকিচিং করে সাংবাৎসরিক পেশাগত বা জেষ্ঠ্যাগত দায় মিটিয়ে ঢেকুর তুলে আবার হাইবারনেশনের প্রস্তুতি নিই।
কাজের বিনিময়ে খাদ্য-এই অভিধাটি অত্যন্ত সূচারুরূপে বাস্তবায়ন হয়েছে আমরা, মানে আমার মতো ভাড়ায় খাটা প্রোফেশনাল মেন্টরদের জীবনে। গ্রীষ্মে কিংবা বর্ষায় এই মৌসুমি বা সানি মচ্ছবটা ঠিক জমে না।
কারন, বাংলাদেশের পেশাজীবি হতে চাওয়া বান্দারা মাগনা জ্ঞানও গেলে না। তায় আবার বর্ষায় ভিজে কিংবা রোদে পুড়ে জ্ঞান গিলতে যাওয়ার মতো গরীব দেশ আমরা আর নেই।
শীতকে তাই জাতীয় ঋতু হিসেবে ঘোষনা করা হোক।
[অসমাপ্ত রইল। জ্যাম ও রাস্তা দুটোই শেষ। এবার কারখানায় নেমে কাজে লাগতে হবে। ও হ্যা, একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছি। যেটা হল, “সবাই এক নয়।”]
এলেবেলে-২৩: #selfesteem #lovingself #selfwellbeing
এক ভদ্রলোকের ইন্টারভিউ নিচ্ছি। কথাপ্রসঙ্গে বললেন, “এক চাকরির টাকাতেই আমার বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান সবার জীবন চলে। আমাকে এটা দিয়েই যা করার করতে হবে। চাকরি নিয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত সেজন্যই নিতে পারি কম। “
উঠতি বা মধ্য সময়ে থাকা পেশাজীবিদের প্রায় শতভাগই দেশের প্রচলিত প্রথা অনুসরন করে নিজের থেকে বাবা-মা ও নিজ পরিবারের প্রয়োজনকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে চাকরি খোঁজেন, করেন, বদলান, বদলান না।
নিজ ক্যারিয়ারের ভবিষ্যতের থেকে ওগুলোই বেশি বিবেচনায় রাখতে বাধ্য আমরা। সেই স্নাতক ভর্তির সময় হতেই এই চাপের জন্ম।
দুঃখের বিষয় হল, এই চাপে অনেক সময়ই আমরা ক্যারিয়ারের জন্য সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে, ক্যারিয়ারে ইনভেস্ট করতে না পেরে ক্যারিয়ার ব্লকেজের শিকারও হই। তারপরও কিছু করার থাকে না।
কিন্তু পরিনত বয়সে যখন সবাই নিজ নিজ পথ বেঁছে নেয়, দাড়িয়ে যায় পুরো পরিবারের সবাই, তখন এই ব্যক্তিটি, এই সেই স্যাকরিফাইসিং ব্যক্তিটি আবিস্কার করেন, সবাই তারই ত্যাগের সাঁকো দিয়ে পাড় হয়ে উন্নত জীবনের বাসিন্দা। শুধু তার একার জীবনটা আজ চলছে পুরোনো প্রদীপের মতো।
অনেকই দেখেছি। আমি কাউকে স্বার্থপর হতে প্ররোচিত করছি না। তবে স্বার্থত্যাগকারী ও তার উপকারভোগীদের আরেকটু চিন্তাভাবনা করে নিতে বলছি।
সময় চিরকাল একরকম যায় না।
এলেবেলে-২৪: #training #trainingmania #trainingfun #trainingmockery
আমাদের যেকোনো টপিকে শুরু হওয়া টেরনিং কেন যেন ultimately
কী করিলে কী হইবে,
এবং,
তুমিও পারিবে-তে গিয়ে শেষ হয়।
টেরনিং হয়তো ছিল এ্যাডভান্সড এক্সেল এর ওপর, সেশন শেষে ‘ভাইয়া’র উত্তেজিত গরম টেরনিংয়ের তুবড়ি থামলে আর উত্তেজিত শ্রোতাদের জোস কিঞ্চিত কমলে দেখা যায়, পুরো সেশনে বক্তৃতা হয়েছে ড্রপ আউট হয়েও স্টিভ জবস হওয়া আর বড় লিডার হবার নানা চোরাগলির বয়ান নিয়ে।
গোটা প্রফেশনাল জগতটা মাথা দিয়ে পাহাড় ঠেলে সরানোর পেছনে পড়ে যাচ্ছে। সেই পাহাড়ের নাম মুটিভেশন ও ইনসপিরেশন।
ওদিকে,
জাতিকে মোটিভেট করতে গিয়ে আমাদের বোদ্ধা ও বিজ্ঞরা মোটিভেশনের কাটাটির ইকুইলিব্রিয়ামকে বিভ্রান্ত করে ফেলেছেন।
এক স্টিভ জব্বারস আর বিলিগোট স্যারকে সামনে রেখে তারা ‘একাডেমিক রেজাল্ট তথা cgpa ই সব নয়’ এটাকে কচলাতে কচলাতে ওভারডোজ করে বাচ্চা পোলাপানের মগজে কু-বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়েছেন ”CGPA কিছুই না।’
ফলাফল হচ্ছে ভয়াবহ। পড়বেন কিন্তু রেজাল্ট ম্যাটার করবে না, টুর্নামেন্টে যাবেন, জিততে হবে না, বিয়ে করবেন, বাচ্চা হতে হবে না, বাজেট ব্যয় করবেন, ব্রীজটা বাস্তবে বানাতে হবে না-কী চমৎকার!
এলেবেলে-২৫: #personalgain #goodorganization #PersonalDevelopment #SelfDevelopment #ReciprocalInterest #MutualInterest #UpskillingReskilling #ViceVersa #BigCompanySmallCompany
পারসোনাল ডেভেলপমেন্ট এবং অরগানাইজেশনাল ডেভেলপমেন্ট একটি রিসিপ্রোকাল বা মিউচুয়াল ইন্টারেস্টের বিষয়, মিউচুয়াল ইনভেস্টমেন্টের বিষয়। যা অনেক সময় আমরা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হই। ফলে ব্যক্তি মনে করে, প্রতিষ্ঠানের ভাল হলে আমার কী লাভ। আবার, প্রতিষ্ঠান ভাবে, মানুষজন গ্রুম করলে তো তারা ভাল জব নিয়ে চলে যাবে, আমার কী লাভ?
আচ্ছা, ধরুন, আপনার নিয়োগ করা, বা, আপনার বেতনে পোষা একজন বা অনেকজন কর্মী যদি আপনার, অথবা নিজের পয়সায়, সময়ে, এনার্জিতে ও রিসোর্সে আপস্কিলিং, রিস্কিলিং, পারসোনাল ব্র্যান্ডিং, পাবলিসিটি, প্রমোশনাল কাজ করে, তাতে কি আপনার মন খারাপ হওয়া উচিত? কেন দেবেন আপনার পয়সায় তার সুনাম বাড়াবার সুযোগ? বা, ব্যক্তিই বা কেন নিজের খেয়ে কোম্পানীর নাম বাড়াবেন? উত্তরটা পুরোটা পড়লে কিছুটা পেয়ে যাবেন।
পেশাজীবি জগতে একটি ডাইলেমা আছে, সেটা হল, একজন বুদ্ধিমান ও চুজি পেশাজীবির কী করা উচিত-সবসময় বিখ্যাত ও ভাল প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেয়া? নাকি অখ্যাত ও পশ্চাৎপদ প্রতিষ্ঠানে জব নেয়া? কোনটাতে তার লাভ বেশি?
আমি বলি, বিষয়টা আপেক্ষিক ও কমপারেটিভ চয়েজের বিষয়।
জগদ্বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে আপনার ও প্রতিষ্ঠানের সুনিশ্চিতভাবেই অনেক পারস্পরিক প্রাপ্তি আছে। বড় প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ভ্যালুর ট্যাগ আপনার গায়ে লাগবে। তাদের কালচার আপনাকে উন্নত করবে। আপনার কনফিডেন্স বাড়বে। বাজার দরতো বাড়বেই।
তবে, তুলনামূলক পছন্দ তত্ব অনুযায়ী, তুলনামূলকভাবে লো-প্রোফাইল বা অখ্যাত কিংবা ছোট প্রতিষ্ঠানে কাজ করার কিছু ভাল দিকও আছে। তার একটা হল কাজ ও এক্সপিরিমেন্টের অবারিত সুযোগ।
পেশাগত বহু বিষয় আপনি ছোট বা অখ্যাত প্রতিষ্ঠানে ইনিশিয়েট, এক্সপিরিমেন্ট ও এক্সপিরিয়েন্স করার সুযোগ পাবেন-যা বড়, বিখ্যাত ও জগদ্বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে কখনো পাবেন না। কারন, ওখানে আগে হতেই অনেক অ্যাডভান্সড কালচার ও সিস্টেম। ফলে নতুনত্ব কম, চ্যালেঞ্জ কম, বিশাল কমিউনেকেশন চ্যানেল যাতে হারিয়ে যেতে হয়, ব্যুরোক্রেটিক কালচার বেশি, এক্সপিরিমেন্টের স্কোপ কম, লাইফ কিছুটা বাড়তি কমফোর্টেবল বাট মনোটোনাস; মনোটোনি অব হ্যাপিনেস বলা যায়।
অথচ, ছোট ও পশ্চাৎপদ প্রতিষ্ঠানে হাজারটা চ্যালেঞ্জ, অসংখ্য এক্সপিরিমেন্ট করবার সুযোগ, সহজ যোগাযোগ চ্যানেল, ডিরেক্ট ডিসিশন, টারগেট বিশাল, লট অব থিংগস টু ডু। মানে নিজেকে রিচ করবার অনেক চান্স।
তবে হ্যা, আপনার সারাউন্ডিং এবং পিয়ার কোয়ালিটি ম্যাটারস। কাদের সাথে আপনি কাজ করেন-তাদের কোয়ালিটি আপনাকে প্রভাবিত করে। আপনি যদি নীলকন্ঠ্য না হন, তাহলে লো কালচার কোম্পানী ও তাদের পুওরলি গ্রুমড মানুষদের সঙ্গ ও কালচার আপনার ব্যক্তিগত কোয়ালিটি ডাউন করতে পারে। আপনার মধ্যে ফ্রাস্ট্রেশন এসে পড়তে পারে। পুওর কালচার ভাল করতে গিয়ে নিজের মধ্যে দূষণ ঢুকে গেল। উল্টো আবার, আপনার কোয়ালিটি ভাল না হলে একটা উন্নত প্রতিষ্ঠানের কালচার আবার আপনার দ্বারা ডাউন হতে পারে। ভাইস ভারসা।
প্রতিটি উন্নত প্রতিষ্ঠানই নিত্য নতুন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখে। একটি ভবিষ্যতমুখী প্রতিষ্ঠানে ইমপ্রোভাইজেশন ও ইনোভেশনের অংশে শেষ কথা বলে কিছু নেই। আর সেই যাত্রায় তাকে সঙ্গ দেয় তার মেধাবী কর্মীরা। সেই সাথে কর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার পারস্পরিক উৎকর্ষ সাধনে অবদান রাখার বিষয়টি রিসিপ্রোকাল।
একজন উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রফেশনাল এবং একটি উন্নততর প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার সম্পর্ক আগুন আর বারুদের মতো। পরস্পর পরস্পরকে জ্বলে উঠতে সাহায্য করে।
যোগ্য প্রফেশনালের উচিত উন্নততর প্রতিষ্ঠানে কাজ করা। কারন এই রাজযোটক হলে উভয়ে উভয়ের উৎকর্ষ ঘটায়। উভয়ে উভয়কে flourish করতে সাহায্য করে। তা না হলে, প্রতিষ্ঠান প্রফেশনালকে, নয়তো প্রফেশনাল প্রতিষ্ঠানকে ডুবায়।
ব্যক্তির রি-স্কিলিং ও আপ-স্কিলিং যেমন ব্যক্তির উপকার করে, তেমনি সেটা প্রতিষ্ঠানেরও উপকার করে। তাই এটাকে একটা মিউচুয়াল বা রিসিপ্রোকাল বেনেফিট ভাবুন। ব্যক্তি কর্মীর আপস্কিলিং ও রিস্কিলিংয়ের জন্য ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক-উভয় ইনভেস্টমেন্টই মিউচুয়াল বা রিসিপ্রোকাল। ব্যক্তির উন্নয়ন সে ব্যাগে করে বাসায় নিয়ে যায় না। সেটার প্রভাব ও স্ফূরনটা প্রতিষ্ঠানেই পড়ে।
আবার, ব্যক্তি যদি নিজ খরচে আপস্কিলিং করে, সেটাও যে কেবলই প্রতিষ্ঠানের কাজে আসে তা না। প্রতিষ্ঠানের উপকারে আসার পাশাপাশি তার নিজেরও লাভ। প্রতিষ্ঠানের হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রম, বা ব্যক্তির আত্মউন্নয়ন কার্যক্রম-সেটা যার ইনভেষ্টমেন্টেই হোক (সময়, শ্রম, মেধা ও টাকা), সেটার বেনেফিশিয়ারি বোথ সাইডস।
সেজন্য প্রোফেশনাল ও এন্টারপ্রাইজ-উভয়েরই মনে রাখা ভাল, যে, প্রাতিষ্ঠানিক ডেভেলপমেন্ট বা গ্রুমিং স্কিম আর পারসোনাল ডেভেলপমেন্ট ও আপগ্রেডেশন স্কিম-উভয় ক্ষেত্রেই উভয়ের আরও লিবারেল, সচেতন, সেনসিবল ও আধুনিকমনষ্ক হওয়া উচিত। কারন, করলে লাভ উভয়ের, না করলে ক্ষতিও উভয়ের।
ব্যক্তিগত সময়ে নিজের বা কোম্পানীর পয়সায় ট্রেনিং কেন করব, করলে আমার কী লাভ-যারা ভাবেন, তারা মনে রাখবেন, পরের জন্য মেহেদী বাটলে নিজের হাতও রাঙা হয়।
আর, কোম্পানীকে ভাবতে হবে, কর্মীকে পয়সা খরচ করে ট্রেনিং করালে কোম্পানীরই কাজে দেবে। কারন-
এক, বাজারে রেডি হ্যান্ড কমে আসছে।
দুই, রানিং লোকের আপস্কিলিং ও রিস্কিলিং না করিয়ে পয়সা বাঁচাতে চাইলে ঘরের লোক অকেজো হয়ে যাবে। তখন তারই ক্ষতি। আর নতুন মানুষ আনার খরচ বিদ্যমানদের ট্রেইন করবার খরচের চেয়ে অনেক বেশি। প্রোডাকশন লস তো আছেই।
তিন, ঘরের লোককে শেখানোর দায় এমনিতেই আপনার আছে।
Same for personal branding
আপনার কর্মী ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে ব্যক্তিগত বা অফিস সময়ে প্রফেশনাল সভা, সমিতি, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ওয়েবিনারসহ নানারকম ব্র্যান্ডিং কাজে জড়িত হলে তাতে আপনার অ্যাবসলুট ক্ষতি না। লাভও আছে। অপেক্ষাটা কেবল আপনার লাভ-ক্ষতি কষায়। অপরচুনিটি লস ও অপরচুনিটি কসটটা হিসেব করুন।
ব্যক্তির পারসোনাল ব্র্যান্ডিং আপনার প্রতিষ্ঠানকেও ব্র্যান্ডেড করে। লোকে বলে, “অমুক ভাই তো তমুক প্রতিষ্ঠানে আছে। নিশ্চয়ই প্রতিষ্ঠানটা ভাল।” যেজন্য সবাই ব্র্যান্ড অ্যামবাসেডর নিয়োগ করে। মেসি বা শাহরুখ খান যদি আপনার পান দোকানে চাকরি নেন, কার লাভ বেশি?
আবার, নিজের খেয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং করলেও নিজের লাভ আছে। লোকে বলে, “অমূক তো তমূক ব্র্যান্ডেড প্রতিষ্ঠানে আছেন। নিশ্চয়ই তিনি অনেক ভাল।” আপনি যদি কোনো কারনে অ্যামাজন, অ্যালফাবেট, মেটা বা কসটকোতে একটা জবে ঢোকেন মাত্র তিন মাসের জন্য-কার লাভ বেশি বলুন তো? বা, যদি শাহরুখ বা টম ক্রুজ বা জাতিসংঘ মহাসচিবের পিএস হন ১ বছরের কনট্রাক্টে? আপনার গায়ে তাদের রং কিছুটা লাগবে কি?
এলেবেলে-২৬: #opportunist #laborlaw #businessaholic
একজন ’গারমেনশ’ এইছারেডমিন ষাড় মৃত্যুর আগে ওয়াসিয়াত করে গেলেন,
তিনি মরলে যাতে তার মরদেহের সাথে একখানা ল্যাবার-ল এর কিতাব দিয়ে দেয়া হয়।
ল্যাবার-ল ভক্তরা সেই মোতাবেক তার কবরে একখানা ১৫০ টাকা দামের ল্যাবার-ল কিতাব দিয়ে দিল।
কিছুদিন পরে ল্যাবার ল’তে এমেন্ডমেন্ট হল। সেই ষাড় তার ভক্তদের স্বপ্নে দেখা দিয়ে সেই এমেন্ডমেন্টের কপিও কবরে পাঠাতে বললেন।
ভক্তরা এবার পড়ল বিপদে।
এমেন্ডমেন্টের কিতাব কীভাবে কবরে দেবে?
যাহোক, তারা একটা কপি কিনে নিয়ে কবরে গেল।
কবরের মাটি সরিয়ে কবর উন্মুক্ত করা হল।
উন্মুক্ত করে তো অবাক। চোখ ছানাবড়া।
উপস্থিত ল্যাবার-ল ভক্ত বাহিনী দেখল,
কবরের মধ্যে ওই ষাড় আশপাশের কবরের দায়ীত্বে থাকা কর্মী, মানে মুনকীর,
নাকির,
অন্যান্য আজাব ও আরামের দেবদূতদের জড়ো করে
তাদেরকে ল্যাবার-ল এর ওপর প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
ভক্তদের দেখেই বললেন, কী করি বলো, ওরাও তো লেবার। ওদেরও তো ল জানা দরকার।
এখন একটা গ্রুপফি তুলে দাও তো চটপট।
আজই ’অল পরলোক লেবার ইউনিয়ন পেজে’ আপলোড করব।
ভক্তরা জয়ধ্বনী তুললেন, ”লেবার ল অমর হোক।”
ধান্দাবাজরা স্বর্গে গেলেও ধান্দা বের করে ফেলতে পারে। ল্যাবার ল’ ভক্তদের ল্যাবার পেইনও যেকোনো স্থানে উঠে বসতে পারে।
মজার বিষয় হল, ওই ধনন্তরী আইনখানার নাম ‘ল্যাবার ল’ না।
ওটার নাম ‘Bangladesh Labor Act 2006’
এলেবেলে-২৭: #customership #customercare #service
ব্যাবসা পাবার জন্য বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভব অসম্ভব সব করে। দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। কিন্তু, গণহারে সবার অনাগ্রহ শুধু তিনটা জিনিসে-
দাম>কোয়ালিটি>কাস্টমার সার্ভিস।
এই তিনটা নিয়ে আগ্রহের স্থান শূন্যের কোটায়।
মিরপুরে বিগত তিন বছরে খাদ্য ব্যবসার বিষ্ফোরন হয়েছে। দুই নম্বর আর ছয় নম্বরের একটা বাসার নিচতলাও বোধহয় আর বাকি নেই।
নয়নাভিরাম সব ডেকোরেশন দিয়ে দোকানগুলোকে যেভাবে সাজানো হয়েছে, দেখলে মনে হয় রোম বা কায়রোতে এসে পড়লাম।
কিন্তু, মূল ফাঁকিটা সেই একই।
দাম, কোয়ালিটি ও কাস্টমার সার্ভিস-থোড়বড়িখাড়া ও খাড়াবড়িথোড়।
একজন কাছের মানুষের অসুস্থতায় গতকাল একটি হাসপাতালে গিয়েছি। বেশ নাম করা। খুব স্বাভাবিকভাবে প্রতিটি ডেস্কে, কাউন্টারে লাখ খানিক মানুষ। হাসপাতালের সর্বত্র ভীড়ের চাপে কেয়ামতের মতো অবস্থা। যাহোক। আজ সেটি ফোকাস নয়।
কাউন্টারগুলোতে নারী ও পুরুষ-উভয়ই কাজ করছেন। এনাদের ভেতরে বেশ কিছু আছেন বয়সের ভারে ন্যুজ। শুধুমাত্র আইনগতভাবে এখনও অবসরের বয়স কিছুটা বাকি আছে বিধায় জবে আছেন। তবে শরীর ও মন তো আর আইনের পৃষ্ঠা মেনে চলে না। তাদের প্রায় সবাই অলমোস্ট আনফিট। সবদিক হতে। পাশাপাশি কাজ করছেন ইয়ং নারী পুরুষেরা। তাদের অবয়ব ও বডি ল্যাংগুয়েজ, জেশচার, পশচারই বলে দেয় যে হায়ার করবার সময়ে ন্যুনতম যোগ্যতা ও কোয়ালিফাই করবার চাপ তাদের ছিল না। চাকরি দেবার জন্য যেসব অতি উচ্চমার্গীয় পদ্ধতির কথা আমি পক পক করে বলি, তার ধারে কাছ দিয়েও তাদের যেতে হয়নি। কী পদ্ধতিতে তারা ঢুকেছেন সেটা বলাই বাহুল্য।
এখন এই বয়স্ক ও তরুণ-উভয় শ্রেনী শারিরীক, মানসিক ও যোগ্যতা-সব দিক হতে ওঁচা। তাদের সেবার গতি, মান, পদ্ধতি ভয়াবহ। সেই সাথে আছে হাসপাতালের সিস্টেমের ন্যুনতম আপগ্রেডেশন না থাকা আর ভীড়ের চাপ। আমি কিছুক্ষণ দাড়িয়ে দাড়িয়ে তাদের কাজের পদ্ধতি ও ধরণ দেখলাম। গায়ের ভেতরে কিড়মিড় করতে থাকল। কারন, তাদের কাজের প্রক্রিয়া, পদ্ধতি ৩৬০ ডিগ্রী আপগ্রেড করার স্কোপ আছে। কেউ করবে না। তারাও আগ্রহী না। হাসপাতালও সিস্টেম ইন্সটলেশনে আগ্রহী না। চলছে গাড়ি ধাক্কাগাড়ি। মানুষের কষ্টের শেষ নেই। চিকিৎসা নিতে এসে মানুষ আরও অসুস্থ হচ্ছে। অথচ, আমার মনে হল, এই মানুষগুলোকে যদি ন্যুনতম যোগ্যতা যাচাই করে নেয়া হত, প্রশিক্ষণ দেয়া হত, সিস্টেম চালু হত, টেকনোলজি ব্যবহার হত, তদুপরি, পারফর্মেন্স ইভ্যালুয়েশন থাকত, তাহলে অবস্থা পাল্টে যেত। রোগীদের সাথে তাদের ব্যবহার নিয়ে আর না-ই বা বললাম।
না, আমি বিষয়টির সামাজিক ও রাজনৈতিক আসপেক্ট নিয়ে বলছি না। আমি পেশাজীবি। আমার ফোকাস পেশাগত দিকে। এই বিশাল সেবাদাতা গোষ্ঠীর হায়ারিং করতে কোনো কমপিটেন্সি যাচাই নেই। স্রেফ পলিটিক্যাল অথবা টাকার বিনিময়ে অনবোর্ডিং। তাদের কাছে এটা স্রেফ একটা জব। অথচ, আমরা কর্পোরেটে কমপিটেন্সি ম্যপিং ও অ্যাসেসমেন্ট নিয়ে নতুন নতুন পন্থা বের করতে মাথা ফাটিয়ে ফেলছি।
ভাববেন না শুধু সরকারিতে এই অবস্থা। বেসরকারী হাসপাতালেও আমি খুব একটা আহামরি কিছু দেখি না।
এলেবেলে-২৮: #developmentaholic #facedevelopment #nationaldestruction #socialdestruction #socialdeviation #destructivenation #destructivedevelopment
উন্নয়নের শরাব পানে মদমত্ত এই জাতির সর্বগ্রাসী ক্ষুধা ও বিধ্বংসী অস্থিরতা একদিন হয়তো পুরো পৃথিবীটাকেই গিলে খেয়ে নেবে।
না খেতে পেলেও এদের এই অস্থিরতা পুরো সৌরজগতের পারস্পরিক মাধ্যাকর্ষণজনিত ভারসাম্যকেও নাড়িয়ে দেবে।
বড়লোকস হবার রাক্ষুসে ক্ষুধা ঘরে ঘরে রাক্ষসের জন্ম দিচ্ছে। গিলে খাচ্ছে সব। ফুটপাত হতে সংস্কৃতি, ময়লার ব্যবস্থাপনা হতে চেতনা-সব, সব কিছু।
এলেবেলে-২৯: #aesthetism #classic #beautification #interriordesigning #artwork #masterstroke #creativity #appropriateness #situationanalysis #gooddecision #instantdecision #situationdemand #appropriateresource
বাংলাদেশে প্রায়ই দেখবেন, বড় রাস্তা তৈরী হয়েছে, বা মেরামত হয়েছে। ঝা চকচকে। কিন্তু, রাস্তার একদম মাঝখানে একটা খাম্বা আগের মতোই রয়ে গেছে। নেপথ্যে ক্যাপশন, কনট্রাকটরের কাজ রাস্তা বানানো, সে বানিয়ে দিয়ে গেছে। ইলেকট্রিসিটির অফিসের এই প্রোজেক্টে কাজ নেই, তারা কিছু করে নাই। আর তারা জানলেও তাদের ঠেকা পড়ে নাই নিজে যেচে এসে খাম্বা সরাবে। তাছাড়া, খাম্বাসহ রাস্তা হলে পরে সেই খাম্বা সরাবার আলাদা প্রোজেক্ট আসার ব্যাপার আছে, খাম্বা সরাতে রাস্তা কাটা পড়লে আবার রাস্তা বানাবার অফিসেরও নতুন করে প্রোজেক্ট পাবার (তথা পয়সার ঝনঝনানির বিষয় আছে।)
স্বপ্নহীন, উদ্যমহীন, ফ্রাস্ট্রেটেড মানুষ-সেটা বিভিন্ন জবে, বিশেষত সিনিয়র লিডিং পজিশনে হায়ার করা নিয়ে আমি প্রচুর প্যাঁচাল কেন পাড়ি তার একটা উদাহরণ দেখাবো। বিশেষত ডিমরালাইজড বা ডিমোটিভেটেড মানুষকে যে আমি অ্যাটোম বম্ব বলি, সেটার একটা আঁচ করতে পারেন ছবি হতে।
একটা রেনোভেশন ওয়ার্কের উদাহরণ এটা। পুরোনোটা বদলে নতুন কিছু একটা প্রতিস্থাপনের ঘটনা এটা। যার কাজটা করার কথা, সে সেটা করে দিয়ে গেছে। টপ গাই, যার কাজটা তদারকি করার কথা, সে কাজ শেষের পরে নিজে এসে দেখে যায়নি, কাজটা ঠিক কীরকম হয়েছে। কারন, তার অত উৎসাহ নেই। তাছাড়া, এত তুচ্ছ কাজে তিনি মাথা দেবেন কেন, তার দশটা অফিসার থাকতে?
আবার, প্রতিদিন যেসব নিম্নবর্গের মানুষ এখানে মেইনটেইন করবার দায়ীত্বে থাকে, সে এটা দেখে নাই, বা, দেখলে অসঙ্গতিটা ধরতে পারে নাই, বা, পারলেও গা করে নাই।
আর, এই দুই ডিমরালাইজড গ্রুপের অত্যাচারে মরালিটি ডাউন হওয়া সাধারন জনতাও দেখেও কাউকে রিপোর্ট করে নাই। ফলাফল তো দেখছেন।
এটা স্রেফ একটা উদাহরণ মাত্র। কথা যখন বললামই, তখন পুরোনো আরেককটা কানেকশনও রিপিট করি।
ধরুন, আপনার অফিস রুমে বসার যায়গাটার পাশেই একটি ছোট্ট স্পেস আছে। একদিন মনে হল, ওই যায়গাটায় একটি কাঠের সাইড টেবিল বা ক্যাবিনেট দিলে সুন্দরও হবে, দরকারও সমাধা হবে।
কাঠমিস্ত্রীকে ডেকে বলুন। সে আপনাকে রাতারাতি একটা সাইড র্যাক বানিয়ে জায়গা ফিল দেবে। সেখানে আপনার ঘটিবাটিও রাখতে পারবেন। পারপাস সার্ভড।
কিন্তু একই মনোবাসনা একজন ইনটেরিয়র ডিজাইনারকে বলুন। সে আপনার সাইড টেবিলের দরকার তো পূরন করবেই, সেই সাথে কারিকুরি যোগ করে সে ওই ক্যাবিনেটের ভেতর দিয়ে আপনার কক্ষে একটা সৌন্দর্যও যোগ করবে। একে বলে মাস্টারস্ট্রোক বা ক্লাসিক জব।
যার যেটা কাজ, সেটা তাকে দিন। এবং, সম্ভব হলে, সব সিদ্ধান্তে বা সব দরকারে একাডেমিক বা ক্লাসিক ওয়ার্কারদের নিতে চেষ্টা করুন। হাতুড়ে বা প্রাকটিশনার আপনার পেটের বেদনার চিকিৎসা করে ব্যথা কমিয়ে দিতে পারবে ঠিকই, কিন্তু এপেনডিক্স সার্জারি করতে পারবে না।
নিজে নিজে শিখে তবলা বাদক হতে পারবেন, ”বন্ধুর বাঁশি বাজে রে, আমার কানে কানে”-গানের সুর বাঁশিতে বা তবলায় তুলে দর্শকের বাহবা পাবেন। কিন্তু কখনো ধ্রূপদি বাদক হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়া বা রাজেন্দ্রপ্রসাদ হতে পারবেন না। (যদি না আপনি রবীন্দ্রনাথ কিংবা মোজার্টের উত্তরপুরুষ না হোন। তবে মুশকীল হল, একজন স্বশিক্ষিত আলভা এডিসন কিংবা কাজি নজরুল গন্ডায় গন্ডায় পয়দা হন না।)
কপি-পেস্ট কিংবা “ছায়া অবলম্বন” করে চটির লেখক, কিংবা বড়জোর ফেসবুক লেখক হওয়া সম্ভব। কিন্তু, একজন হুমায়ুন আহমেদ কিংবা শামসুর রাহমান হওয়ার জন্য গ্রামার দরকার, সবক দরকার, রেয়াজ দরকার, মহড়া দরকার, একাডেমি বা ওস্তারেদ সঙ্গ দরকার, আরও আরও অনেক কিছু দরকার।
তবে, খেয়াল রাখতে হবে, পরিস্থিতি কী চাইছে, কিংবা, পরিস্থিতির চাহিদা কী। ঘরে আগুন লেগেছে। তখন যদি আবার আপনি মনে করে, এই কাজে তো ফায়ার সার্ভিসই সবচেয়ে ওস্তাদ। তাদের আসা অব্দি অপেক্ষা করি। যা করার ওরাই সুন্দর করে করবে। তাহলে সব শেষ।
ওদের আসতে দিন। কিন্তু, তারা আসতে আসতে হাতের কাছে পানি বা বালু যা আছে, তাই নিয়ে আগে নিজেই চেষ্টা শুরু করে দিন।
এলেবেলে-৩০: #seminar #workshop #meeting #result #humanity
রঙিন তরল ও অনুজ্বল মানবতা:
একবার একখানা মানবতাবাদী কর্মশালায় গিয়াছিলাম। নিশ্চই প্রচুর পূণ্য কামাই হইয়াছে। আফটার অল মানবতার জন্য করা।
তবে ফাউ হিসেবে একখানা দামী স্যুট খরিদ করার খাহেশও মনে গাঁথিয়া লইয়া ঘরে ফিরিয়াছি।
কারন তথায় দেখিলাম, কমপ্লিট স্যুট না পড়িলে মানবতার সেবা করা যায় না।
৩ ঘন্টার সেমিনার হইল, এত সঙক্ষিপ্ত সময়ে দুইবার পিশাব করিবার বিরতি, চারদফা চা-সেনাকস বিরতি, ফুটু শুটিঙ হইল। সেমিনার শেষে বুফে সিস্টেমে মানবাধিকার রক্ষার মহান রথিমহারথীরা ভুড়িভোজে তৃপ্ত হইলেন। ঢেকুর তুলিতে তুলিতে পরবর্তি দেশোদ্ধারকারী সভার দিন তারিখ নির্ধারিত করিয়া সভাত্যাগ করিল।
আমি দেশ ও মানবের অধিকারকে কোনখানে দেখিতে পাইলাম না। মানবতার সওদা ইদানিঙ বেশ খুব বিক্রী হইতেছে।
কর্পোরেটদের একটা অত্যাবশ্যকীয় অনুসঙ্গ হইল সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম। এই হাস্যকর ও বিরক্তিকর ইভেন্টগুলোর একটি বড় অংশ আয়োজিত হয় রাত্রি বেলা।
দিনে রাতে যখনি হউক, তাহার সাথে লাঞ্চ বা ডিনার যোগ থাকে। ওই সেমিনার, সিম্পোজিয়ামগুলোর বেশিরভাগই একদল মানুষের টাকা কামাইবার ও সময় কাটাইবার মচ্ছব।
আরেকবার ফাইভ স্টার হোটেলের একখানা লেট নাইট সেমিনারে গিয়াছিলাম। রাত ১০ ঘটিকা বাজে। আমি উপস্থিত নারী ও পুরুষ কাহাকেও দেখিলাম না সামান্যতম উশখুশ করিতে।
বাড়ি ফিরিবার কোনো তাড়া আমি তাহাদের মধ্যে দেখিলাম না। কর্পোরেট আমাদের এমনই অভ্যস্ত করিয়া লইয়াছে।
আর উপস্থিত বোদ্ধাদের একটা বড় অংশই মোবাইলে ফেসবুকে ব্যস্ত রহেন সেমিনার চলিবার কালে। শুনিয়াছি, উঁচু স্তরের কোনো কোনো মানবতা রক্ষাকারী সেমিনারের বিশেষ মানবতাকর্মীদের জন্য মানবতার সেবা শেষে রঙিন মদিরারও ব্যবস্থা থাকে।
সেমিনার করিবার সহিত দেশ উদ্ধারের কী সম্পর্ক-উহা আজিও আমি বাহির করিতে পারি নাই।
সেমিনার ওয়ার্কশপ ঠিক কোন প্রকারে আমাদের কোনো কাজে আসে তাহা আজিও জানি না।
আপনারা জানেন কি?
#scatteredthoughts #combo #স্টাটাসকথন #এলেবেলে