Skip to content

এশটাটাশ সমগ্র-২: সমাজের কোষ্ঠ্য ও কাঠিন্য নিয়ে টুকরো টাকরা

  • by

আমার গিন্নী বলেছে, করোনা ভাইরাসের প্যানডেমিক আসার পরে আমার নাকি মাথায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। সমস্যাটা কী-সেটা স্পষ্ট না। প্যানিকে মানুষের হয় প্যানিক অ্যারেস্ট। আমার বোধহয় হয়েছে হাইপার প্রোডাকশন। বাসায় বসে বসে আর তো কাজ নেই। তাই সারাক্ষণ মোবাইলের কী-প্যাডে ঘ্যাস ঘ্যাস করে লিখে গেছি। কী লিখেছি তার নেই কোনো মাথামুন্ডূ। লেখাগুলোতে যারা বিভিন্ন রকম মন্তব্য করেছেন, তাদের কারোর মন্তব্যের উত্তর দিতে পারিনি। সেজন্য আন্তরিকভাবে লজ্জিত। আসলে মন ও মেজাজ অনুকূলে নেই। বিধায় উত্তর দেবার মতো শক্তি যোগাড় করে উঠতে পারিনি। এলেবেলে সবগুলো লেখাকে একটা সূতো দিয়ে গেঁথে দিলাম। চাইলে আবার পড়তে পারেন। না চাইলে পড়বেন না। তবুও দয়া করে বাজারে বা মোড়ের চায়ের দোকানে অযথা গিয়ে নিজেকে ও দেশকে ভালনারেবল করবেন না।

এলেবেলে-১: #coronainfectiontrend

একদম সলিড দেশী করোনার জেনোম বিশ্লেষণ এবং এদেশে সংক্রমণের ধরন ও সংখ্যাতত্ব নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞই মতামত দিচ্ছেন। আমি অর্বাচীন যেটা দেখছি, তা হল, প্রথমদিন সনাক্ত হচ্ছে ধরুন ২০০। তারপর দিন সেটা ২২৫, তার পর দিন সেটা ২১০-এটা দেখেই আপনি আশার আলো দেখলেন, তার পর দিন সেটা ৩০১। মানে ৩ বা ৪ দিনের একটা সার্কেলে সংখ্যাটা পরের শতকের ঘরে যায়। আবার ধরুন, গত ৭ দিনে,প্রথমে ৪৯৭, তার পর দিন ৫৪৯, তার পর দিন ৬৪১, আজকে ৫২৪। এটা দেখে আপনি আশান্বিত হতে শুরু করলেন। কাল হয়তো দেখলেন-সংখ্যাটা ৭০০। এভাবে প্রতি ৩-৫ দিনে সনাক্তের শতক বা ভিত্তি ঘর হবে ৮ শত, ৯ শত, ১০ শত, ১১ শত। ধীরে, ধীরে, তবে ক্রমবর্ধমান। কমার লক্ষণ নেই। ধীরে হলেও এটা বিপজ্জনক। কারন, তখন দীর্ঘায়িত হবে সমস্যা।ঠিক যেমন এর বিপরীতে আমাদের করোনা প্রতিরোধ প্রস্তুতি হল ক্রমহাসমান ও ক্রম ঢিলায়মান। রোজার প্রথম দিনে মসজিদে মাগরিবে মুসল্লী হয় ১০০ জন, কাতার উপচে রাস্তায় চলে যায়। পরের দিন ৯৯, তার পরের দিন ৯০, তার পরের দিন ৮৫, তার পরের দিন ৮০। ১৫ রোজার পরে ইমাম আর মোয়াজ্জিন ছাড়া নামাজি নাই। আমাদের করোনার শুরুতে ব্যপক হম্বি তম্বি। আর নিম্ন সংক্রমনের সময় কঠোর ব্যবস্থা। করোনার সংখ্যা ও আক্রমন হার যত বাড়ছে, ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরোধ ততই শিথীল হচ্ছে।

এলেবেলে-২: #covid19recovery

করোনা পরীক্ষা করিয়ে যারা পজিটিভ হচ্ছেন, তারা তো টোটাল ডিটেকটেড সংখ্যার সাথে আছেন। যেটা এখন ৭০০০+-।কিন্তু এদের ভিতর যারা বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের আর কোনো হদিস নেই। তারা সুস্থ হলেন, না কি……………, কবে হলেন-তার হদিস কত্তিপক্ক রাখে কিনা জানি না। প্রতিদিন জানানো সুস্থ ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানে এদের হিসেব যোগ হচ্ছে বলে মনে হয় না। কারন, যেখানে প্রথমবার টেস্ট করতেই হাইকোর্ট দেখে ফেলছে, সেখানে ভাগ্যক্রমে কেউ বাসায় সুস্থ হয়ে গেলে বা সুস্থবোধ করলে, হাসপাতালের সুস্থ রোগীর যেমন পরপর দু’বার টেস্ট হয় এবং নেগেটিভ আসলে তারপরই তাকে সুস্থ বলা হয়, ঘরে থাকা রোগীর সেই টেস্ট যে হয় না-সেটা বোধহয় বলার অপেক্ষা রাখে না।যাহোক, বেশ কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনায় যেটা দেখলাম, রোগীরা ’অফিশিয়ালী’ পজিটিভ ঘোষনার দুই তিন দিনের মধ্যেই মারা গেছেন। এ থেকে দুটি প্রশ্ন জাগছে-তারা হয় বহুদিন আগে হতেই আক্রান্ত। টেস্ট করাতে ও তার রেজাল্ট পেতে দেরী হচ্ছে। সেই সময়ে তাদের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ছে।অথবা; আমাদের মৃতদের একটি বড় অংশ করোনার সরাসরি আঘাত যেগুলো (শ্বাসকষ্ট, অর্গান ফেইলিয়ার) সেগুলোতে মারা যাচ্ছেন না। তাদের একটি অংশ সম্ভবত মিসম্যানেজমেন্ট এর বলি হচ্ছেন।অথবা; আতঙ্কে স্ট্রোক বা হার্ট ফেইলিয়ার হয়ে তাৎক্ষণিক মারা যাচ্ছেন। আজকে যে দু’জন পুলিশ ভাইয়ের মৃত্যুর হৃদয়বিদারক খবর পেলাম, তারা সনাক্ত হবার মাত্র তিন দিনের ভিতর মারা গেলেন। আমাদের দেশের পুলিশ সদস্যদের সহ্য ক্ষমতা বাংলাদেশের যে কোনো মানুষ হতে বেশি। তাদের এতটা দ্রূত হার মানার কথা নয়।হ্যা, তবে, এটা ঠিক, সহ্য ক্ষমতা আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভিন্ন জিনিস।

এলেবেলে-৩: #wastageofmoney

১৬ কোটি টাকা গচ্চা দিয়ে নির্মিত মহা ধন্বন্তরি বাচ্চাদের স্কুলের ভিডিও টিউটোরিয়াল ভার্চুয়াল ক্লাসে শিক্ষিকার যোগ অংক ভুল হওয়ায় যারা আহত নিহত, তারা আরেকটা জাতীয় অংক করুন।মনে করুন আজকের হিসেব। বাংলাদেশে এযাবৎ মোট আক্রান্ত ৭০০০+-এ যাবৎ সুস্থ হয়ে “বাড়ি গেছে” ১৪০।এ যাবৎ মারা গেছেন ১৫০।মানে, ক্লোজড কেস ২৯০।বাকি থাকল আনরিজলভড ওপেন কেস ৬৭১০ জন।ধরুন আজকের পর আর যদি কেউ নতুন আক্রান্ত না হন, কেউ মারা নাও যান, তারপরও এই ৬৭১০ এর আনরিজলভড হিসেবটা সামনে সুস্থ লোকদের সংখ্যা যোগ করলে কোনোদিনও ৬৭১০ মিলবে না।কারন? সুস্থ ও মৃতের সংখ্যা কেবল হাসপাতালে ভর্তি রোগির হিসেবে করা হচ্ছে। যারা বাড়িতে থেকে চিকিৎসা করাচ্ছে, তাদের সুস্থ হবার বা মারা যাবার হিসেব কত্তিপক্কের কাছে নেই। মানে প্রতিদিন যে সুস্থ হবার বা মারা যাবার সংখ্যা বলা হচ্ছে, তার সাথে যোগ হচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশে কখনোই আক্রান্ত ও সলভড কেস সমান হবে না। মনে হবে, মাঝখান হতে হাজার হাজার লোক কই গেল? উগান্ডায়? তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যবস্থাপনার কি চমৎকার সক্ষমতা! এই দেশে পরিসংখ্যানের জন্য আস্ত কত্তিপক্ক আছে, তথ্য কমিশন আছে, সেখানে ভুরি ভুরি মেধাবী MP3 মুখস্তকারি রাজকর্মচারিও আছে।

এলেবেলে-৪: #fightingcovid19

সাবাস বাংলাদেশ! পৃথিবী অবাক ‘ভেচকিয়ে’ রয়। জ্বলে পুড়ে করোনায় ছারখার (হবে) তবু জিলাপি মিস করা নয়। বাংলাদেশকে নিয়ে প্রশংসার বন্যায় ভেসে যাচ্ছে উহান, ইউরোপ, আমেরিকা। সেই বন্যায় আবার তিনশো জনের পরনের হাফপ্যান্ট ভেসে গেছে। লুঙ্গি হারিয়েছে কয়েক হাজার। কেন? কেন? কেন? করোনা আক্রান্ত ২১০ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ পৃথিবীর সেই একমাত্র, একমাত্র বিরল দেশ, যেখানে সংক্রমনের চরম উর্দ্ধগতির সময়ে স্রেফ এক শিঙ্গারাপুরি বাবার দ্বৈব ভবিষ্যদ্বাণী শুনেই লকডাউন তুলে নিয়ে বাজার, কারখানা, হোটেল, গলির ক্রীকেট, ইফতারি বাজার, বিয়ে শাদি, পরনের শাড়ি জাইঙ্গা সব খুলে দেবার তুমুল সাহস দেখিয়েছে, অথচ যেই পরিমান সংক্রমন হারের সময় এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পর্যন্ত ভয়ে নিজের জাইঙ্গা ৩০ দিনেও খোলেনি, প্রেসিডেন্ট কিং জন হুন ভয়ে এমন আইসোলেশনে গেছিল, যে, গোটা দুনিয়াও জানে না, সে কই। সুদূর তিন কোটি আলোকবর্ষ দূরের গ্রহ উগান্ডার এলিয়েনরাও বাঙালির এই সাহস দেখে ঘাবড়ে গেছে। প্রতিবেশি ও স্বামী রাষ্ট্র ভারতের জৈনক চায়ে ওয়ালা গেড়ুয়া বাবুও তার স্ত্রী রাষ্ট্রের এই ঔদ্ধত্য দেখে লজ্জা পেয়ে লকডাউন তুলে দিতে গিয়ে ভুলে বাড়িয়ে দিয়েছেন।

এলেবেলে-৫: #covid19iftar

‘ইফতার’- এই নামের কোনো খাদ্যবস্তু কোনো দেশে নেই। তবুও এই বঙ্গদেশে হাটে বাজারে ‘ইফতার’ নামক খাবার বিক্রি হয়।মানুষ বুভুক্ষুর মতো ‘ইফতার’ খানা কেনে, গেলে। মিডিয়া গরম হয় ইফতার নিয়ে।যদিও ‘ইফতার’ কোনো noun নয়, এটি একটি verb। ইফতার ‘খাওয়া’ যায় না, ‘করা’ হয়। প্রকৃত অর্থে, এক গ্লাস  পানিও হতে পারে ইফতার করার উপকরণ। যদিও বাঙালরা টেবিল ভর্তি না থাকাকে পাপ মনে করে। যাহোক, ইফতার খাওয়ার বিলাসের দরোজা আবার খুলেছে। আসুন, বিকেলে বের হই, লকডাউন দেখি, সাথে ইফতারের খাবার ও প্যাকেটের সাথে দলা দলা করোনা নিয়ে বাসায় ফিরি। ঘরের বয়োজেষ্ঠদের সেই করোনায় মাখানো খাবার দিয়ে দ্রূত মেরে ফেলি।

এলেবেলে-৬: #covid19mockery

বরিশালের গ্রামদেশে অতি বোকা লোককে ডাকা হয় ‘চদু’ বা ‘বোগদা’ নামে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, হয় এদেশের কত্তিপক্ক করোনাকে চদু মনে করেছে। সেজন্য করোনার সাথে টিলো এক্সপ্রেস শুরু করেছে। সেজন্যই লকডাউন, আইসোলেশন, হোম কেরেন্টিন, সান্ধ্য আইন, ইফতার পার্টি, গর্ভনিরোধ (সঙ্গ নিরোধ আরকি)-নিয়ে দুষ্টু দুষ্টু খেলা।আমাদের আম বা জাম জনতাকেও মনে হয় বোগদা ভেবেছে। কি সুন্দর সংক্রমন সমানে বৃদ্ধির মধ্যেও সিঙ্গাপুর লিটন দেওয়ানের মতো ভবিষ্যতবাণী দিল। ফোর্বস ম্যাগাজিন দিল ডক্টরেট। বাহ। বোগদারা, আজও মরবি, কালও মরবি। তার চেয়ে বরং পেট খুলে ইফতার খা। অন্তত কিছু তো পুষিয়ে যাক।

এলেবেলে-৭: #stimulous

মাননীয় রাজন্যঃ দেশকে উদ্ধার করতে যেসব রাজকীয় কর্মচারি মাঠে কর্মরত, তাদের শুধু করোনা রোগটি হলেই নাকি ১০ লাখ টাকা পাবে। মারা গেলে ৫০ লাখ। যদিও সেটা আমারই ট্যাক্সের টাকায়। তা আমি শিল্প দাস। দাস হিসেবে রাজকীয় কর্মচারিদের জন্য আমিতো ট্যাক্স।দিতে বাধ্যই। দুঃখ নাই। দেশের রপ্তানী বাজার রক্ষার জন্য সারাদেশে চলমান লকডাউনের মধ্যেও কর্মস্থলে যাচ্ছি।  আমার অসুখ হলে ১০ লাখ লাগবে না, হাসপাতালে সীটও লাগবে না, মরলে ৫০ লাখ লাগবে না। অন্তত লাশটা বাপের কবরের পাশে দাফনের দায়ীত্বটা নিন।

এলেবেলে-৮: #thesis

আগামী ১০০ বছর তক পৃথিবীর সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি থিসিস এবং FBI ও মোসাদের আগ্রাসী অনুসন্ধানের হট টপিক হতে যাচ্ছে নিশ্চিতভাবে তিনটি,

১.”What was the national strategy of Bangladesh to defend Coronavirus pandemic 

২. “How could a nation become so suicidal to got erased from the world map just for the lust of fresh vegetable buying, going market and having malai cha?” 

৩. The divine difference and correlation between দুর্নীতিগ্রস্থ নর্দমার কিট and করোনার দেশি কিট।

এলেবেলে-৯:

তা রাজকীয় বিজ্ঞানী সকল, গণস্বাস্থ্য দিনরাত এক করে কীটটা আবিষ্কারের মূল অসাধ্যটা তো করেই দিয়েছে। আপনাদের রাজকীয় বিজ্ঞানীরা না হয় এবার একটু নিজ দায়ীত্বে প্রোটোকলের আমলাতান্ত্রীকতাটা নিজের দায়ীত্বে করে নিন। প্রোটোকল আগে? নাকি মানুষের জীবন? নাকি, বিজ্ঞানী হয়ে নিজেরা নাক ডলা খেয়েছেন, সেটা স্বীকার করতে শরম হচ্ছে? শরম কীসের দাদা? রাজকীয় ক্যাডারদের শরম থাকতে নেই।জাফরুল্লাহ সাহেবের জন্য করুণা। ভদ্রলোক ইউনুস সাহেবকে দেখেও শিখল না।

এলেবেলে-১০:

আসুন, হে ভদ্রসমাজ! আসুন ঈশ্বরের আশির্বান্বিত ভদ্রপল্লীর বাবুগণ! আসুন, আমরা সদলবলে মিলিত হই। অসময়ের বৃষ্টিতে অর্থদাপটের ওম উপভোগ করতে করতে,আসুন, আমরা ছোটলোকদের গণমৃত্যুর উৎসব অবলোকন করি। সেইসব ছোটলোক, যারা পেটের টানে, অসভ্যের মতো পথে নেমেছিল। সেইসব ছোটলোক, যারা নয়াযুগের দাসবৃত্তিকে মেনে নিয়েছিল নতমস্তকে। আজ তাদের শবযাত্রা দর্শন করি, আসুন।আসুন হে ভদ্রলোক সমাজ।

এলেবেলে-১১: #disobeyingprotocol #undisciplinednation

সামাজিক জীবনে অত্যন্ত বিশৃঙ্খল, বিচ্ছিন্ন ও মতাদর্শহীন আমরা। আমাদের লাইনে আনা বোধকরি কিং জং উনের পক্ষেও সম্ভব হত না। রাস্তায় থু থু ফেলাকে আমরা পুরুষত্বের অংশ মনে করি। যাহোক, করোনার ব্যপক প্রচারনার ফলে দেশে কী এমন পরিবর্তন এসেছে জানি না। রাস্তায় পানের পিক আর হলুদ শ্লেষ্মামিশ্রিত থু থু মাড়িয়ে বাজার করে এলাম আজও। পুলিশ এসে বাজার একমুখী করে দিয়ে গেছে। আজকে গেলাম। নোটিশ ছিড়ে ঝুলছে। মানুষ বারোয়ারীভাবেই ঘুরছে। কেউ এক মুঠো শাক, কেউ আধাকেজি মুড়ি, কেউ একটা ইলিশ মাছ কিনতে বাজারে এসেছে। আফটার অল টাটকা খেতে হবে তো। আমার একাধিক পরিচীত মানুষ আছেন, যারা আরেকজনের মুখের একদম সামনে দাড়িয়ে কথা বলতে অভ্যস্ত। আমি যতই দূরে সরি, ততই কাছে আসে। আমাদের বাসার কেয়ারটেকার ও দারোয়ান। কোনো দরকারী কাজে দাড়িয়ে কথা বলতে গেলেই তিনফুট দূর হতে মুখের সামনে চলে আসার উপক্রম করে। তাড়াতাড়ি বেয়াদবের মতো বলি, ”দূরে দাড়ান”।  দোকানে, বাজারে একটি দোকানে কেউ কেনাকাটা করার সময়ে আরেকজন লাইনে না দাড়িয়ে সামনের লোকটা বগলের তলা দিয়ে উঁকি দেবেই। ফুচকা বানাতে বানাতে ডান হাতে বাম হাতে পশ্চাতদেশ চূলকে আবার সেই হাতেই ফুচকা বানাবেই। করোনা চলে গেলেও এই খাসলতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। অচীরেই, হয়তো খুব বেশি হলে আর দিন দশেক লকডাউন বিলাসিতা আমরা চালিয়ে যেতে পারব। তারপরেই একটা অবশ্যম্ভাবি ডিলেমায় পতিত হবে গোটা জাতি-লকডাউন নাকি পেটের ভাত।

এলেবেলে-১২: #religiousfanatism #extremeism

পশ্চাৎদেশের মতো চিরবিভক্ত এবং; মত ও দর্শনে শতধাবিভক্ত এই বাঙাল জাতির ধর্মীয় গুরুগন বৃটিষ শাসনামলে তাদের প্রবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থা ও শাসনব্যবস্থাকে গোমরাহি তথা এককথায় মুসলমানদের জন্য হারাম আখ্যা দেয়। দীর্ঘ একটি কাল মুসলমানরা জাত্যভিমান এবং এই ফতোয়ার অনুসারী হয়ে শিক্ষা, শাসনযন্ত্র, রাষ্ট্রব্যবস্থা-সবকিছু হতে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে। প্রেক্ষাপট ও সত্য যাই হোক, পরিণতিতে তারা উপমহাদেশের সকল জাতিগোষ্ঠীর থেকে সবদিক হতে পিছিয়ে যায়। বাংলাদেশে স্বাধীন হবার পুরো সংগ্রামের সময়কাল ১৯৪৭ হতে ১৯৭১-এই সময়েও আমাদের ধর্মীয় গুরুদের একটি বড় অংশ ধর্মের সেবক ও প্রতিভূ বিবেচনায় পশ্চিম পাকিস্তানের শাসককূলকে অন্ধের মতো সমর্থন দিয়ে গেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামকেও তারা দেশদ্রোহীতা ও ধর্মদ্রোহীতার লেবেল লাগিয়ে তার বিরোধিতা করেছেন। সবাই নয় অবশ্যই, কিন্তু অবশ্যই আবার একটি বড় অংশ। যদিও সক্রীয়ভাবে পাক জান্তাকে সাহায্য করা শর্শীনার তথাকথিত পীরসাব পরবর্তিতে স্বাধীনতা পদকও পেয়েছেন। যেটা সম্ভবত লেজেহুমু’র কান্ড।

তবে দেশ স্বাধীন হলেও তাদের একটি বিরাট অংশ বাংলাদেশ এবং এর রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, দর্শন, রাষ্ট্রীয় নীতি এসব মেনে নেননি। স্বীকৃতি দেননি। এবং কখনোই তাকে সাহায্য ও সমর্থন করেননি। এদেরসহ একাত্তর সালের পরাজিত পাক জান্তার এদেশীয় এজেন্ট নিমকহারামদের একটি বিশাল গোষ্ঠী বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় নীতির বিপক্ষে একটি খেলাফত প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর ছিল, আছে। এদের মধ্যে দুটো ধারা-জামাত ও সমমনাদের সহিংস ও সশস্ত্র খেলাফতকামীরা, আর আরেকটি ধারায় আপাত নিরব কিন্তু খেলাফত প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদেখা তুলনামূলক দুর্বল কিন্তু সংখ্যায় বড় একাধিক গ্রূপ। ধান্দাবাজ এই গোষ্ঠীগুলোর যদিও সত্যিকারের নিয়ত খেলাফত নয়, তাদের এজেন্ডা ভিন্ন। কিন্তু বাংলাদেশের সহজ সরল ও অশিক্ষিত অথচ ধর্মীয় ফ্যানাটিক জনগোষ্ঠীর সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করে নিজস্ব স্বার্থ ও লক্ষ্য হাসিলের নানামুখী প্রচেষ্টা এই দেশে ছিল ও থাকবে।

তবে মজার বিষয় হল, এই দুই ধারার পান্ডারাই শুরুতে বাংলাদেশের সেক্যুলার সংবিধান, গণতন্ত্র, সংসদ, ভোট, পশ্চিমা শিক্ষাব্যবস্থার আদল, নারী প্রধানমন্ত্রী, নারী নেতৃত্ব এসব প্রচলিত সিস্টেমকে হারাম ও গোমরাহি আখ্যা দিলেও সময়ের হেরফেরে তারা সবাইই আস্তে ধীরে ওই রাস্তায় হেঁটেছেন। রাজনৈতিক দল গড়েছেন, নারীর নেতৃত্বে আন্দোলন, সরকার সবই মেনেছেন, ক্ষমতার হালুয়া রুটীর ভাগ নিয়েছেন, সংসদে গেছেন, আজকাল টিভি, ফেসবুক, ইউটিউবেও সরব হয়েছেন। অর্থাৎ, তারা লাইনে এসেছেন।

মূলত ইসলামকে ঢাল বানিয়ে ও খেলাফতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মিথ্যা মুখোশ দেখিয়ে এই গোষ্ঠীরা এদেশের প্রান্তিক ও তথাকথিত শহুরে শিক্ষিত-উভয় গ্রূপকেই হাত করেছেন। দলে নিয়েছেন। নানা কারনে ও বাস্তবতায় এই উভয় গোষ্ঠী এই ধান্দাবাজদের কথায় কথায় রাষ্ট্রের সবরকম নীতি ও সিস্টেমের বিরোধিতা করাকে একরকম জেহাদ মনে করে। আমাদের হাস্যকর জগাখিচুড়ী শিক্ষাব্যবস্থা ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এটাকে আরও বেগবান করে। ফলে, দেশের সরকার মসজিদে জামাত সংক্ষিপ্ত করার আদেশ দিলে এরা বাসার ছাদে জামাতকে ডাইভার্ট করার ফতোয়া দেয়, আরেকদল গার্মেন্টস খোলা-এটাকে অযুহাত দাড় করায়। আর তাদের অন্ধ অনুসারীরা মসজিদে ১০ জনের হিস্যা হতে কোপাকুপি করে। অবশ্য এই কোপাকুপি ধর্ম মানার জায়গা হতে নয়, শক্তিমত্তার উদগ্র বাসনা হতে সৃষ্ট।

এই গোষ্ঠীই আবার ধান কাটা নিয়ে কোপাকুপি করে, এই গোষ্ঠীই আবার এলাকায় করোনার হাসপাতাল করতে বাঁধা দেয়। এই উগ্র গোষ্ঠীই আবার করোনা আক্রান্ত মা’কে জঙ্গলে ফেলে যায়। যাহোক, রাজনীতি ও এই জটিল খেলাফতি মারপ্যাঁচ আমার বোধগম্যতার বাইরে। রাজনীতি ও ধর্মীয় বিদ্যা আমার জ্ঞানের বাইরে। আমার চিন্তাটা অন্যখানে। সেটা হল-সদ্যমৃত একজন খেলাফত মজলিস পান্ডা ও তার অন্তিম প্রার্থনার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সমস্ত নিয়ম, আইন, প্রথা ও এশটাবলিশমেন্টকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ঔদ্ধত্য। যদি ভেবে থাকেন, ওই দিন স্রেফ কাকতালীয়ভাবে ও অনিচ্ছাকৃতভাবে লাখ দুয়েক লোক জমে গিয়েছিল, তাহলে ভুল করবেন। লকডাউনের মধ্যে ওই দুই লাখ লোক সরাইল ও আশপাশের অনেক জেলা হতে জমায়েত হয়। আর আয়োজকরা আগে হতেই তার সমস্ত এন্তেজাম করে রাখেন।

বিষয়টা হঠাৎ ঘটে যাওয়া কিছু না। সুপরিকল্পিত আয়োজন। যাহোক, তদন্ত কমিটি হয়েছে। অতীতের কয়েক লক্ষ তদন্ত কমিটির মতো তারাও একসময় হাইবারনেট হয়ে যাবেন। তবে এই গোষ্ঠীগুলো ঠিক কবে হতে এবং কোন যাদুতে নিজেদের তাত্বিক গুরুদের জারিকৃত ফতোয়া অনুযায়ী হারাম সংসদীয় ও গণতন্ত্র নির্ভর ও মূলত নারী নেতৃত্ব নির্ভর রাজনীতিকে হালাল ভেবে নিল, সেটাই এক রহস্য। একসময়ে হারাম ঘোষিত সংসদীয় রাজনীতি ও ভোটকেন্দ্রীক ব্যবস্থা ঠিক কোন যাদুতে এই দলগুলোর কাছে হালাল হয়ে গেল আর তারা সেই এককালের হারাম কাজে অংশ নিয়ে ঠিক কতটা বিশুদ্ধ ধর্মীয় গুরু আর আছেন-সেটাই আমার জানার ইচ্ছা। সংসদীয় রাজনীতির লেজুর হয়ে যাবার পরে তারা আর বিশুদ্ধ ও বুজুর্গ ধর্মীয় গুরু আছেন কিনা, তারা আর আমাদের সেই অতীতের মতো জানাজা, জামাত, মিলাদ, জেয়াফত আর মান্নতের মহান হুজুর আছেন কিনা-তা ভাববার বিষয়।

এলেবেলে-১৩:

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী: যারা মরতে চায়, তাদের মরতে দিন। তারা বাইরে যা মনে চায় করুক। এই দলেই লোক বেশি। এদের জন্য কিচ্ছু না করলেও চলবে। চাইলেও করতে পারবেন না। এরা আপনাকে ফেল করাবেই। যাস্ট, লকডাউন তুলে এদের বাইরে যথেচ্ছা ঘুরতে দিন। পরের ২৮ দিনে এরা মরে সাফ হয়ে যাবে। ঝামেলা শেষ। যে নিজে মরতে চায়, তাকে আপনি বাঁচাবেন কী করে?তার চেয়ে বরং, আমরা যারা একটু বাঁচতে চাই, আমাদের সংখ্যা অনেক কম। আমাদের বাঁচার সুযোগ করে দিন। আমরা ঘরে ছিটকীনি দিয়ে বসে থাকছি। কষ্ট হচ্ছে। সবকিছু কমপ্রোমাইজ করছি। আমাদের শুধু বাইরে যাতে যেতে না হয়, তার জন্য সপ্তাহ শেষে সামান্য একটু খুদ পানি সরবরাহ করুন। এটা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় করা সম্ভব। কারন আমরা দলে খুব সামান্য।

এলেবেলে-১৪: #suddenliberal #unusual #abnormal #seasonalgoodmanship

করোনার দুর্যোগ এসে বাংলাদেশের একটাই পজিটিভ প্রাপ্তি ঘটেছে। বাংলাদেশে হঠাৎ করে খুব লিবারেল ও কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ভয়ানক ক্রাইমের সাথে তুলনীয় হোম কোয়ারিন্টিন না মানা। অথচ সেটা যারা করেছে, তাদের সামান্য বকে দেয়া ছাড়া কিছুই করা হয়নি। যেসব রোগী তথ্য গোপন করে হাসপাতালকে লক ডাউন করাচ্ছে, তাদের কিছু বলা হয়নি। রেড জোন হতে যারা গোপনে সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে রোগ, তাদের কিছু না বলে জাস্ট আবার সেই ‘হোম কেরেন্টিন’ প্রেসক্রিপশন। যারা এই অবস্থায়ও ত্রাণ চুরি করছে, তাদের একজনকেও ক্রসফায়ারে দেয়া হয়নি। ৯০ দিন ধরে ’প্রস্তুত’ থাকার পরও আজ যেখানে হোটেলবাস, ডাক্তারের খাবার, মাস্ক নিয়ে মামদোবাজি হচ্ছে, ভেন্টিলেটর চাইলে ঘরের ঘুলঘুলিতে দেখিয়ে গুনে দেয়া হচ্ছে-সেসব মালখেকো কর্মচারীদের কাউকে এখনো আমাদের লন্ডন প্রবাসী ‘হইলেও হইতে পারত ট্রূডো’র মতো ডিম থেরাপী দেয়া হয়নি। এত্ত এত্ত সহনশীলতা কল্যাণ রাষ্ট্র ছাড়া হত? লিবারেল যে হয়ে গেছে, সেটা ম্যাডাম আপোষহীন জিয়ার প্যারোল মুক্তির খবরেই বুঝেছিলাম। আমার চোখে ভাসে, রেললাইনের ওপর দিয়ে ডাক্তার বদু সাব আর তার লায়ক লায়ক চেহারার রাজপূত্রের লুুঙ্গী কাছা মেরে অসহায় দৌড়ের করুণ চিত্রটির ছোলোমোশন। আর ভাবি, আহা, এখন হলে ওই ঘটনা ঘটতই না। বরং ডাক্তার সাবরে সুন্দর করে বসিয়ে বেলের শরবত খাওয়ানো হত। শত হলেও লিবারেল দেশ। ভাইলোগ, পায়ে ধরি, পুলিশ আর সেনাবাহিনীকে আর “সচেতনতা”র কাজে না লাগিয়ে দয়া করে হস্তের বেত্রখানি ব্যবহার করতে দিন। বাজারগুলো দয়া করে বড় মাঠে নিন। ভাসমান ও দিন আনি দিন খাইদের ডিজিটাল ডাটাবেস ধরে ক্যাশ দিন।

এলেবেলে-১৫: #lockdownmockery

যেই হাস্যকর চরিত্রের লকডাউন নামের তামাশা চলছে, তাতে কোনোদিনও লকডাউন তুলে নেবার মতো অবস্থা আসা সম্ভব বলে মনে হয় না। ফলে রোগ চলমানই থাকবে। লকডাউনও চলবে। আমরা তো আর উহান না। বলি কি, লকডাউন টাউন বাদ দিন। আমরা ওগুলোর কাবেল না। সব খুলে দিয়ে মানুষকে যথেচ্ছা চলতে দিন। তাতে লকডাউন অবস্থায় মোট সংক্রমন বা মৃত্যু যা হত তার সাথে বিনা লকডাউনে আক্রান্ত বা মৃতের সংখ্যায় কোনো ব্যবধান হবে না। তবে লাভের মধ্যে এতটা হবে, কেবল, সময় রক্ষা। যা হওয়ার দুই সপ্তায় শেষ। ফলে দীর্ঘদিন সবকিছু বন্ধ থাকাজনিত ক্ষতিটা অন্তত কমে যাবে। মন্দের ভাল।দেশে একটা পঁচা গপ্প প্রচলিত আছে। সুন্দরবনে গাছের একটা পাতা পানিতে পড়লে কুমির হয়ে যায়। আর মাটিতে পড়লে নাকি বাঘ হয়ে যায়। তো এক ত্যাদোড় ছাত্র প্রশ্ন করে বসে, তা বস, যদি অর্ধেক মাটিতে আর অর্ধেক পানিতে পড়ে, তাইলে? উত্তরে বস যেই গালিটা দিয়েছিল, সেটা চুড়ান্ত অশ্লীল বলে আর বললাম না। করোনাকে আমরা চীনের মতো করে মোকাবেলা করতে পারব না। লকডাউন আমরা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারব না। চিকিৎসার ব্যবস্থা দেখলে হাসতে ভুলে যাবেন। সুতরাং, একটা লাখ টাকার প্রশ্ন হল, এই দেশের কি করা উচিত? লক সত্যি সত্যি ডাউন করে, মানে সব খুলে দিয়ে বৃষ্টির মতো করোনাকে অঝোরে নামতে দেয়া? সেটা দিলে একটা গজব আসবে। সেটা না করে সবকিছু লকডাউন করে রাখব? আরও কতদিন? ৯০ দিন? তাতে হয়তো করোনা মরবে। কিন্তু সেই ৯০ দিনে আমাদের অর্থনীতি ও সার্বিক গণজীবন শেষ। আমরা ওমনেও মরব। এখন বলেন তো, কোনটা করা যায়?

এলেবেলে-১৬: #overliberal

আমি ঠিক জানি না, কেন ও কবে হতে বঙ্গদেশ এত্ত এত্ত লিবারেল হয়ে গেল? ঘাস খেতে বেরোনো পাবলিক পুলিশ আর্মির জান কালি করে দেয়া সত্ত্বেও একটি ফুলের টোকাও দিচ্ছে না। তা না দিক।এই যে, যারা লকডাউনের মধ্যেও রেড জোন হতে গোপনে অন্য জেলায় গিয়ে করোনা ছড়াচ্ছে, তাদেরও কিছু করা হচ্ছে না। না হোক।কিন্তু যেই হারামির বাচ্চারা ইচ্ছা করে করোনার হিস্ট্রি গোপন করে একটার পর একটা হাসপাতাল ও ডাক্তারদের আক্রান্ত আর লকডাউন করাচ্ছে, তাদেরও কেন জামাই আদর করা হচ্ছে জানি না।

এলেবেলে-১৭: #governmentjob

সরকারি চাকরি ও পদে থাকলে মানুষকে কী কী বিসর্জন দিতে হয়, আর কত অসহায় পর্যায়ে নিজের যোগ্যতার অবনমন ঘটে, সেটা একটা ক্রাইসিস আসলেই বোঝা যায়। বেলা আড়াইটার ব্রিফিং শুরু হলে আমি আক্রান্তের উচ্চহার নিয়ে যতটা ভয়ে থাকি, তার চেয়ে বেশি ভয়ে থাকি, ব্রিফকেস, মানে উপস্থাপকরা তোতলানো ও লেজেগোবরে করতে করতে কখন আটকে যায়, তা নিয়ে। যে দেশে ফারসি সাহিত্যে এমএ পড়ে ডাক্তারদের উপর ছড়ি ঘোরাবার নাটের গুরু এডমিন ক্যাডার হওয়া যায়, ভেটিরিনারি সায়েন্স পড়ে পানি কর্মকর্তা হওয়া যায়, বাংলায় এমএ করে পাবলিককে কানে ধরানোর অফিসার-মানে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট বনে যায়, কিংবা সামাজিক বিজ্ঞান পড়ে স্ট্যাটিসটিক্যাল বিভাগের কর্মকর্তা হয়, পপুলেশন সায়েন্স পড়ে হয়তো পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা হলিটিক্যাল সায়েন্স পড়ে আইসিটি সচিব হওয়া যায়, সেখানে এমনটা হওয়া বিচিত্র নয়। তাও আবার টপ লেভেলের পদ বন্টন হয় আনুগত্য, রাজনৈতিক বিবেচনা ও টাকার জোরে। তখন তো আপনারা দেশের স্বাস্থ্যখাতের বস হিসেবে এন্থনি ফাউচিকে আশা করতে পারেন না।তা, উগান্ডা দেশে এই মহাবিপদের মধ্যেও সংক্রমন, মৃত্যু, অর্থনীতির ধ্বস এসবের ডাটা মুখস্ত করে যারা ২০০০ তম বিচিএসের জন্য গুটগুট করে রেডি হচ্ছেন, তাদের জন্য প্রস্তুতির একটা প্রশ্ন আগাম দিই। ঐকিক নিয়মের একটা অংক আসতে পারে।বলুন তো, যদি উগান্ডাতে গড়ে প্রতি ২ দিনে ১টি করে হাসপাতাল ও তার সব ডাক্তার নার্স একেকটি উগান্ডান জানোয়ার রোগী কর্তৃক রোগের তথ্য গোপনজনিত প্রকোপে লকডাউন হতে থাকে, তবে, উগান্ডার মোট হাজার পঞ্চাশেক ডাক্তার, নার্স ও হাজার পাঁচেক হাসপাতাল পুরোপুরি লকডাউন হয়ে করোনা চিকিৎসা লাটে উঠতে কতদিন লাগবে?(জেনারেলাইজ করবেন না। সবাই এক না।)

এলেবেলে-১৮: #discriminationincovid19

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য প্রথম ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষনা করেন, তখন কিন্তু কোনো শ্রেনীবিভেদ করে দেননি। সেটা ছিল একটি সার্বিক উদ্যোগ। আমাদের সরকারি আমলাদের হাতে যখনি ফাইল গেল, তারা তাদের উর্বর মস্তিষ্ক আলোড়ন করে এর মধ্যে ‘কর্মকর্তা’ নামক একখান খিঁচ আবিষ্কার করে জুড়ে দিলেন। এরা প্রধানমন্ত্রী, এমনকি জাতির জনকের থেকেও বাংলাদেশকে বেশি ভালোবাসতে চায়।এই তথাকথিত কর্মকর্তা তত্ব নিয়েই ইনসেনটিভ প্রোসেস হচ্ছে এবং হয়তো প্রায় বাস্তবায়নও হয়ে গেছে। কোথাও সামান্য টুঁ শব্দ হল না। বাহ। আমার এইচআর অফিসার, টাইমকিপার, এডমিন ম্যানেজার তবে না খেয়ে থাক। খেয়াল করে দেখুন, ৮৭ হাজার কোটি টাকার বাদবাকি ইনসেনটিভ প্যাকেজগুলোতে কিন্তু কোনো শ্রেনীকরণ করা হয়নি। রিক্সাওলাও পাবে, তার চেয়ে সচ্ছল সিএনজিওলাও পাবে, দোকানদার পাবে, ছোট ব্যবসা পাবে। শুধুমাত্র রপ্তানিমুখী শিল্পের ওই ৫ হাজার কোটি হতে কেবল শ্রমিক পাবে। কর্মকর্তা পাবে না। যদিও সবেধন নিলমনি লেবার ল তে কর্মকর্তা নামক বস্তুর স্বরূপ লইয়া দেশের তাবৎ বোদ্ধা, এমনকি আদালতেরই দ্বিমত রহিয়াছে। প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে তারা এটা করেছেন বলে বিশ্বাস হয় না। এই খারাপের মধ্যেও একটা ভবিষ্যত ধান্দার রাস্তা বলে দিই। করোনার কেয়ামত চলে গেলে আমাদের টেরনিং এর ভক্তকূল ও গুরুকূল নতুন দুইটা টপিক খুব হটকেকের মতো বেঁচতে পারবেন-লে অফ এবং কর্মকর্তা সংক্রান্ত টেরনিং। এই যে দেখেন, এই লেখা পড়ামাত্রই কেউ কেউ এখনি ভেন্যু আগাম।বুক করতে বসে যাবে। কেউ আবার, যে কিনা ঘুমাতে যাবার সময় এই লেখাটা পড়েছে, সেও ঘুম বাদ দিয়ে এখনি অনলাইন টেরনিঙের ইভেন্ট  বানাতে বসে যাবে।**ইয়ে, সবাই এক নয় 

এলেবেলে-১৯:

শারিরিক দূরত্ব মেইনটেইনড না হওয়ায় ওএমএস সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একসাথে সকল বেসরকারী ত্রান কার্যক্রমকে একটা শিক্ষা দিন। এদের বড় অংশই মানুষকে ত্রাণ দিয়ে ক্ষুধায় মৃত্যু হতে বাঁচিয়ে করোনায় মৃত্যুর পথ সুগম করে দিচ্ছে।

এলেবেলে-২০:

করোনা চিকিৎসায় নয়ছয়ের তদন্তহীন অভিযোগে ৬ ডাক্তারকে অতিদ্রূত সাসপেন্ড করা হয়েছে। জানার খুব ইচ্ছা হয়, বিগত ৯০ টি দিন প্রস্তুত আছি বলে বলে যেসব আমলা ও রাজনীতিক আপাতত ৪২ জন ও সম্ভাব্য আরো অনেককে খুন করার যে বন্দোবস্ত করলেন, তাদেরকে সাসপেন্ড করা না হোক, অন্তত মৃদু বকে দেয়া হবে কিনা। এই অতি উৎসাহী ও করিৎকর্মারা ডাক্তারদের ঘাড়ে কাঁঠাল ভাঙার একটা সুযোগ নেবার তালে আছে। প্রধানমন্ত্রীর যাবতীয় আন্তরিকতা ও উদ্যোগকে এরাই শেষ করবে।

এলেবেলে-২১: #deservingdisaster #Bangladeshdeserves

পৃথিবীর জন্য তো বটেই, বিশেষভাবে বাংলাদেশের জন্য এমন একটি ‘সময়’ আসলেই কিছু কিছু কারনে দরকার ছিল। অন্যভাবে নেবেন না। এর মানে এই নয়, যে, করোনার মতো একটি মহাবিপদকে জাস্টিফাই করা হচ্ছে। না, কক্সবাজারের বীচে ডলফিন, ঢাকার আইল্যান্ডের গাছের কচিপাতা, রাত দশটায় ব্যালকনিতে নির্মল বসন্ত বাতাস, সকালে পাখির ডাকে ঘুম ভাঙা কিংবা অফুরন্ত অফিস ছুটি ও ফ্যামেলির কাছে আমাদের ফেরত আসা-এর কোনোটিকে পাবার বিনিময়েই আমি করোনার মতো দানবীয় বিপদকে ডেকে আনার একদমই সমর্থক নই। আমি বিশ্বব্যাপী দেড় লক্ষ লোকের জীবনের বিনিময়ে বীচে লাল কাকড়ার সৌন্দর্য চাই না। আর সত্যিকার অর্থে বলুন তো, যেই স্থবির হয়ে থাকা অর্থনীতি ও মানবিক সভ্যতার সকল নিয়মিত কর্মযজ্ঞ, যাকে আমরা মনে করে থাকি, প্রকৃতি, পরিবেশ, প্রতিবেশ, সুস্থ জীবন-এসবের অন্তরায়, যা করোনায় স্থবির হয়ে থাকায় আমরা এখন উপভোগ করতে পারছি, এমনই বেশি, যে, নাখালপাড়ার চিলেকোঠা হতে কাঞ্জনজঙ্ঘা দেখছি, না, পুরোপুরি না হলেও, ওই বিশ্বব্যবস্থা এবং মানবিক সভ্যতা অনেকটাই অনতিক্রম্য বা মাস্ট। একে পাশ কাটানোর বা এর বিকল্প খুব কমই আছে। ইংরেজিতে যাকে বলে ইনএভিটেবল। ব্যাখ্যা দিলে অনেক লম্বা হবে। শুধু বলতে পারি, এই বিশ্বব্যবস্থা একটা চেইনড রিঅ্যাকটরের মতো। একে হয় পুরোটা থামানো যাবে, থামিয়ে সেই আদিম যুগে ফেরত যেতে হবে। অন্যথায় এই চেইনড রিঅ্যাকটরকে পূর্ণক্ষমতায় চালাতে হবে। মাঝামাঝি থাকার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। দুনিয়ার কোনো দেশই কি তা করতে পেরেছে? মনে তো হয় না। যেটা বলতে চাচ্ছিলাম, আমাদের জন্য এই ধাক্কাটা অনেক কারনেই দরকার ছিল। আমাদের সত্যিকারের সার্বিক সক্ষমতাটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার জন্য। আমাদের ‘দৃশ্যমানতার’ উন্নয়নের বিপরীতে ’সাসটেইনেবিলিটি’ জিনিসটাকে একটু হৃদয়ঙ্গম করানোর জন্য। আমাদের সর্বগ্রাসী অধঃপতনকে কিছুদিনের জন্য থমকে দেবার জন্যে। আমাদের জাতীয় ঐক্য নামে যে একদমই কিছু নেই-সেটা অনুধাবনের জন্যে। আমাদের সত্যিকারের প্রায়োরিটি কী হওয়া উচিত-সেটা বোঝার জন্যে। সম্প্রিতি ও সৌহার্দ্যের জন্য সুবিখ্যাত এই দেশের আপামর জনগোষ্ঠী যে আসলে কোন চরিত্রের-সেটা প্রতিভাত করতে। পারিবারিক ও সামাজিক স্নেহ, মমতা, সেবাপ্রবণতা, অন্যের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য অযথাই ওভাররেটেড এই দেশের মানুষের ভেতরের সত্যিকারের চরিত্রটাকে উন্মুক্ত করতে। সর্বোপরি, আমরা যে একটা প্রচন্ড দ্বিচারী জাতি-সেটাকে প্রকট করে তুলতে। বাংলাদেশ ১৭ কোটি জনতার একটি ভূমি। সত্যিকার অর্থে এদেশের এই ১৭ কোটি মানুষের মতো এতটা বিচ্ছিন্নতাবোধ, জাতীয় ঐক্যবিহীন, এতটা ভঙ্গুর বিশ্বাসবোধ, এতটা স্ক্যাটার্ড ফিলসফির, এতটা প্রান্তিকতা ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্রে ঠাসা একটি দেশের জন্য এই করোনা একটা আলোকবর্তিকা বয়ে এনে থাকলেও থাকতে পারে। দুনিয়ার আর কোনো দেশেই বোধহয় এমন বাঁধনমুক্ত, ইনডিসিপ্লিনড এবং যাকে বলে ‘খোদার ষাড়’ মার্কা জনজীবন ও গণসমাজ বোধহয় আর নেই। ভাল মন্দ মিলিয়েই মানুষ ও দেশ। কিন্তু, দুনিয়ার সব দেশে একটা জিনিস খুব কমোন-ডিসিপ্লিন। ইতালির মাফিয়ারাও একটা রাষ্ট্রীয় ডিসিপ্লিন মেনে চলে। এই দেশে একজন রিক্সাওয়ালাও একজন সার্জেন্টকে ট্রাফিক আইন শেখায়। সব দেশের মানুষের মধ্যেই নানা দোষ গুন থাকবেই। যেমন-চীনারা বান্দর মেরে খাবে, ভারতীয়রা গোমূত্র খাবে। কিন্তু বাঙালদের সমস্যা হল, আমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন। সমাজে থেকেও আমরা অ্যাবসলুটলি মুক্ত এবং বাঁধাহীন। রাষ্ট্রীয় জীবনের হিসেবেও আমরা একটা স্ক্যাটার্ড ও আইসোলেটেড। বলতে চাচ্ছি, রাষ্ট্রের নাগরিকদের যে ন্যুনতম ডিসিপ্লিন ও মেথডিক্যাল সিভিল লাইফ মেনে চলতে হয়, তার ন্যুনতম চিহ্ন দেখা কঠিন। চট করে ভাবুন তো, জাপানীরা কখনো রাস্তায় থুথু ফেলে না, চীনারা কাজে ফাঁকি দেয় না, আমেরিকানরা লিভ টুগেদার করলেও যতদিন একসাথে থাকে, ততদিন কেউ কাউকে ফাঁকি দেয় না, ফিনল্যান্ডাররা অতি উচ্চমানের শিক্ষাব্যবস্থার ধারক, ভারতীয়রা প্রচন্ড জাতীয়তাবাদী, জার্মানরা স্বকীয় চিন্তার বাহক। এবার আপনি বাংলাদেশের, মানে, আমরা বাঙালদের একটি জাতীয় বৈশিষ্ট বলুনতো। দয়া করে দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়ীক-এই দুটো বাদ দিয়ে বলবেন। ভাবতে থাকুন। এইসব কারনেই অনেক আগেই বলেছি, এই দেশে করোনা মোকাবেলা দুনিয়ার সকল দেশের মোকাবেলার বাস্তবতা হতে একদমই এক্সট্রা অর্ডিনারি হতে বাধ্য। বিশ্বে ২০২০ সাল ব্যাপী অনেক কিছুই ঘটবে, যা আগে কখনো ঘটেনি, আগে কখনো মানুষ ভাবেও নি। নতুন বাংলা বছর শুরু হল। জীবন ও সভ্যতা সাল ও ঋতু মেনে না চললেও, সমাজজীবন তো কিছুটা একে মেনে চলেই। তাই সবাইকে নতুন বাংলা সনের শুরুতে শুভকামনা। যেকোনো উছিলাতেই হোক, পৃথিবীর মহাঈশ্বর আমাদের অতি দ্রূত ক্ষমা করুন। [অনেকেই ভাবতে পারেন, ব্যাটা সারাক্ষণ দেশের বদনাম করে। না, স্যরি, আমি বাংলাদেশের একজন গর্বিত মানুষ। এই দেশ নিয়ে আমার অনেকই আবেগ। কিন্তু তার সাথে অনেক কষ্ট থাকাটা অস্বাভাবিক তো নয়। আমি সমালোচনা করি হয়তো, কিন্তু ‘কতা ঠিক নাকি বেঠিক জোরে কন?”] 

এলেবেলে-২২:

যেকোনো ম্যাসিভ ও মাস স্কেলের প্রোগ্রাম ও ক্রাইসীস ম্যানেজমেন্টে অন্যতম দরকারী বিষয় হল ইনফরমেশন ও ডাটাবেস। বিশেষত যদি সেটা করোনার মতো একটি গ্লোবাল প্যানডেমিক হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ২০০৮ সালে সর্বপ্রথম একটি জাতীয় ডেটাবেস তৈরীর উদ্যোগ নেয়া হয়। যদিও ওই বেসটি ঠিক ভোটারদের, নাকি সব নাগরিকের-তা এক ডিলেমা। আমাদের NID কে মানুষ এখনো ভোটার কার্ড বলেই জানে। বিষয়টা এমন নয়, যে, জনসংখ্যা ও জনমিতি নিয়ে দেশে কোনো কাজ এর আগে হয়নি। হয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং আরও নানা সরকারী প্রতিষ্ঠান সারাবছরই গাদা গাদা জরিপ করে। অর্থ ঢালা হয়। তিন টাকার বিড়ি ৩ কোটিতে দেখিয়ে কর্তাদের ফ্ল্যাটের টাকা উঠে যায়। কিন্তু কাজের কাজ হয় না। দুই দিন পর পর ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়। ১০ বছর পর পর আদমশুমারী। কিন্তু এই এত এত জরিপ, ডাটা কালেকশন, টাকার শ্রাদ্ধ হয়ে যায়, ডাটা আর ডাটাবেস হয় না। আমি নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বাংলাদেশের যাবতীয় সরকারী ও বেসরকারী জরিপ ও ডাটা সংগ্রহ আসলে কী জিনিস। হাস্যকর বলে একটা শব্দ বাংলায় আছে। সেটাও যথার্থ হবে না। একটা উদাহরন দিই। আমার এই চার দশকের জীবনে কখনোই কোনো আদম শুমারীর লোক আমার কাছে আসেনি। ভোটার তালিকার কাজেও না। NID যখন করতে গিয়েছি, কেউ আমার কাছে কোনো ডকুমেন্ট চায়নি। আমার দেয়া তথ্যের কোনো ভেরিফিকেশন হয়নি। আমি সৎ থেকে সব তথ্য সঠিক দিয়েছি। কিন্তু সংগ্রহকারী ও প্রস্তুতকারীদের তরফে কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। ফলে রহিমের স্থলে করিমের নামে কার্ড ইস্যূ হওয়া কোনো ব্যাপারই না। ঠিক এই কারনেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের NID বানায়, পাসপোর্ট বানায়। কোনো বাঁধা নেই। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হল, বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে এমনকি মরতে গেলেও NID দেখানোর একটি নিয়ম হয়েছে। সীম কিনবেন, জমি কিনবেন, একাউন্ট খুলবেন, পাসপোর্ট করবেন, জিডি করবেন-NID চাই। ভাবখানা এমন, NID আছে, মানেই সব ঠিক আছে। যেই NID আবার দেশের সব নাগরিকের নেই। সম্ভবত ১৮ বছর না হলে NID দেয়া হয় না। কথা হল, যাদের বয়স ১৮’র কম, তাদের যেকোনো কাজে তাহলে কোন দলিলটি ব্যবহৃত হবে? এমনতো না, ১৮ বছর বয়স না হলে এদেশের মানুষ আর কোনো কাজ করে না। বলছিলাম ডাটাবেসের কথা। দেশে মোট জনগন এবং তাদের সবার একটি ডিজিটাল ডাটাবেস করাটা খুব কঠিন কোনো কাজ না। যেই ডাটাবেসে সবার একটি ইউনিক নাগরিক আইডি থাকবে। সেই আইডিটাই হবে তার আজীবন সকল সরকারী ও বেসরকারী কাজের ইউনিক প্রমাণপত্র। এই আইডির বিপরীতে একটি ন্যাশনাল ডেটাবেসে রক্ষিত হবে দেশের ১ দিন বয়স হতে জীবিত সকল লোকের জন্ম, মৃত্যু, বাপ দাদা চৌদ্দ গুষ্টিসহ আয় রোজগার, ঠিকানা, ফোন নম্বর, অবস্থান, অফিস আদালত, ইএমআই, পাসপোর্ট, ত্রান বিররণ, অভাব, অভিযোগ, বিল, ভাল কাজ, মন্দ কাজসহ যাবতীয়, যাবতীয় তথ্য। শুধুমাত্র এমন একটি ডাটাবেস থাকলে রাষ্ট্রীয় যেকোনো প্রোগ্রাম অত্যন্ত সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা যেত। কিন্তু তাতো হবার নয়। একেকটা বিপদ আসবে, আর তখন তালিকা হবে। তালিকা আবার করবে নেতারা। যারা শুধু নিজেদের লোকদেরই তালিকায় জায়গা দেবে। যদিও জানি না, নিজেদের লোক তারা বাঁছে কী করে। ভাসমান লোকদের তালিকা কী করে করে তা কেউ জানে না। দুর্গম চরাঞ্চল কিংবা বস্তিতে কেউ যায় না। কিন্তু তালিকা হয়। সেটা না থাকায় যেটা হচ্ছে, বা হতে থাকবে, তার নাম হযবরল। উদাহরনস্বরুপ: কর্মহীন হয়ে পড়া একজন সরকারী ত্রাণ পাবে। তাকেই আবার এলাকার মহানুভব ব্যক্তিরা ত্রাণ দেবে। সেই আবার পাশের এলাকায় ট্রাক হতে ত্রাণ পাবে। ঘরে রেখেই আবার অন্য কোথাও রাস্তায় যাবে। পরেরদিন সেই আবার ভ্যান নিয়ে সবজি বিক্রী করবে। সরকার কর্মহীন হিসেবে মোবাইলে টাকা পাঠাবে। সে সেই টাকা পেয়েও রাস্তায় মুরগী বেঁচবে। ফলাফল-টাকাও যাবে, মানুষও ঘরে ঢুকবে না। বর্তমান পৃথিবীতে তথ্য যার কাছে, ক্ষমতা তার। এই সহজ পাঠটা কেউ নেয় না। 

এলেবেলে-২৩:

পৃথিবী একসময় ছিল কেবল বেঁচে থাকা ও বাঁচিয়ে রাখার জন্য জীবন-এই বাস্তবতা ভিত্তিক। পৃথিবী তার তথাকথিত সভ্যতা ও রেনেসাঁর সন্ধান পাবার পরে, কখনোই তার সত্যিকারের প্রায়োরিটিগুলোকে, সত্যিকারের গুরুত্বগুলোকে পাত্তা দেয়নি। স্বীকার করেনি। আজ তার ফল ভুগছে। ভাবতে অবাক লাগে, একটি গোটা পৃথিবী তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করছে। একসাথে, এক তালে, এক বেগে। আমি মন হতে বিশ্বাস করি, পৃথিবীর এই অভিনব, অদৃষ্টপূর্ব ও অলঙ্ঘনীয় বিপদ মনে হয় না, সভ্য পৃথিবী কখনো দেখেছে। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধও এমন ব্যপক ও অলঙ্ঘ ছিল না। এমন অসহনীয় বিপদ কি কখনো ভেবেছিল পৃথিবী? এমন বিপদ, যেখানে বাবা-মা বিপদে পড়লে সন্তান কাছে যেতে পারে না? সন্তান বিপদে পড়লে মা মাথার কাছে বসে থাকতে পারবে না? এই হৃদয় বিদারক বিপদে কেন খোদা ফেললেন আমাদের? একটা উত্তর হতে পারে-শিক্ষা। স্রষ্টা মঙ্গলে পা রাখতে চাওয়া মানবকে দেখাতে চাইলেন, তোমার দৌড় মঙ্গলেই। তোমার দৌড় আনবিক বোমায়ই। তুমি তুচ্ছ, ক্ষুদ্র, অসহায়, সামান্য; বিন্দুর চেয়েও অস্থায়ী তুমি। যেই পৃথিবী আমাজনকে পুড়িয়ে কফির বাগান করে, যেই পৃথিবী মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়ার নিরক্ষীয় বন কেটে রাবার বাগান করে, যেই পৃথিবী একজোট হয়ে দুনিয়ার দেশে দেশে ক্ষুদ্র ও মাইনরিটির ওপর চাপিয়ে দেয়া দানবীয় রাষ্ট্রীয় উচ্ছেদ ও খুনের বিচার করে না,  যেই পৃথিবীর প্রেসিডেন্টরা মনে করে, গ্লোবাল ওয়ার্মিং স্রেফ ধাপ্পা,  যেই পৃথিবীর মানুষ ক্রীকেট ম্যাচে হেরে যাওয়াকে একজন তণুর মৃত্যুর চেয়ে বেশি শোকাবহ মনে করে, যেই পৃথিবী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও গবেষনায় খরচ করার চেয়ে সিনেমা ও সামরিক খরচে বেশি আনন্দ পায়,  যেই পৃথিবী নিজের ভোগের জন্য অন্যের জল আটকে দেয়, যেই পৃথিবীর রাষ্ট্রসমূহ আকাশ হতে বোমা মেরে পিপড়ার মতো মানুষ মারে আর বাকি রাষ্ট্র নিজেদের পাজামার ফিতা আগলাতে ব্যস্ত থাকে, যেই পৃথিবী প্রতিনিয়ত খোদাকে চ্যালেঞ্জ করে, তার প্রতি বিশ্ববিধাতার এই সামান্য একটু ধাক্কা প্রাপ্য ছিলই। আপনি যদি প্রকৃতি মাতায় বিশ্বাসী হন, তাহলেও আমাদের পৃথিবী তার প্রতি পাপ কম কিছু করেনি।

এলেবেলে-২৪:

যেই দেশের মানুষ মালকোঁচা মেরে কাঁচাবাজারে করে, সেই দেশে ভীড় এড়িয়ে কী করে বাজারে যাব জানি না। পাবলিক তো শিখবেও না। ভাবছি, হাতে একটা ৩ ফুট লাঠি নিয়ে বের হব। দোকানের কাউন্টারে দাড়ালে তিন ফুটের মধ্যে কেউ বগলের তলা দিয়ে উঁকি মেরে কাছে আসার চেষ্টা করলে জায়গা বরাবর একটা কষে দেব। তাতে ব্যাটা অন্তত পরবর্তি ৭ দিন কাউকে সংক্রামিত করার সুযোগ পাবে না। দেশ ও দশের উপকারে এটুকুতো করাই যায়? 

এলেবেলে-২৫:

আমার মনে পড়ে না, জীবনে কখনো এমন শ্বাসরুদ্ধকর ও ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকার সময় এসেছে কিনা। ভয় দুটো হল-ফোন বাজার ভয়। পরিবারের কারো ফোনের ওপাড়ে একটা অনাকাঙ্খিত খবরের ভয়। মা’কে নিয়ে।  প্রতিদিন ঘুম ভাঙার পরে ভয়। অ্যাজমার রোগী নিটোলকে নিয়ে। খুব খেয়াল করে দেখি-জ্বরজারির কোনো চিহ্ন নেই তো! নিজেকে নিয়ে? কিছু অসমাপ্ত ও অতৃপ্ত কাজ রয়ে গেছে। খুব ছোট হলেও খুব কাম্য কাজগুলো। সেটুকু করে যেতে না পারার কষ্ট বাদে খুব কিছু হারানোর নেই।

এলেবেলে-২৬:

তা যারা ভাবছেন, খোদা নিশ্চই আমাদের এত বড় একটা গজব দেবেন না। এত গরীব দেশ আমরা। আমাদের নিশ্চই রহম করবেন। ভাল। খোদার রহম হতে কখনো নিরাশ হতে নেই। তবে দুঃখের বিষয় হল, যদি খোদাকে দিয়ে এই গজব বন্ধ করাতেই চান, তাহলে তার রহম হবার মতো কী কী উদ্যোগ গত ৯০ দিনে জাতি হিসেবে আমরা করেছি, সেটাও ভাবুন। ”মসজিদে জুমা হতেই হবে”-ফজরের নামাজ না পড়াদের এই আন্দোলন ছাড়া আর কিছুই না। হাহ। খোদারে নিয়া মশকরা। আর যদি মনে করেন, সরকার আপনাকে বাঁচাবে, তাও ফক্কা। সরকার যা যা করতে বলেছে, তার কয়টা আপনি আমি করেছি? ৫০% ও করিনি। ২৫ ভাগ লোকও করিনি। সরকারের কী ঠেকা পড়েছে-অবাধ্য ঘোড়াকে নদী পাড় করাবে? সুতরাং, আমাদের জন্য দরোজা খুলে গেছে। দুয়ারে পালকি দাড়াবে। নওশা সেজে বা দুলহান সাজে উঠে পড়বেন। ইয়ে, পালকি কিন্তু কখনো আর নাইওর আসবে না। 

এলেবেলে-২৭:

একটা সত্যি কথা কি বলব? যত যাই বলেন আর আক্রান্তের হারের সেই সুনিশ্চিত এক্সপোনেনশিয়াল যাত্রা চোখের সামনে দেখেন, তারপরও বলি,  আসলে এখন পর্যন্ত আমরা করোনার ছোবলের ডোমিনো এফেক্ট বুঝতে ব্যর্থ হয়েছি। আর আমার ধারনা, কত্তিপক্ক এখনো কোনো একটা মিরাকলের আশায় আছেন। সেই মিরাকল হতে পারে, গরম/মুসলিম কান্ট্রি/তেতুল হুজুরের দোয়া/অতীতের সফলতা/ল্যাংটার নাই বাটপারের ভয়-এই আপ্তবাক্য   জানুয়ারী, ফেব্রূয়ারী, ৮ মার্চ-তিন মাসে কত্তিপক্ক যদি অন্তত, মানুষকে ঘরে কেন থাকতে হবে-সেই প্রচারনাটাও করত আর বাজার ঘাটে কীভাবে সবাই ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে বাজার করতে হবে-সেই কায়দা মশকো করাতো, হাও কিছু কাজের কাজ হত। দুঃখজনক সত্যি হল, এখনও সিংহভাগ লোক সচেতন না। ভীতও না। এমনকি বিশ্বাস করে, দূর, কিচ্ছু হবে না। 

এলেবেলে-২৮:

২৮ টা দিন। যাস্ট ২৮ টা দিন দেশটাকে সিম্পলী স্ট্যান্ড স্টিল করে রাখতে পারলে একটি গোটা জাতি বেঁচে যেত। কীভাবে? মনে করুন, ২৬ তারিখ ছুটি বা লকডাউনের শুরু হল। সেইদিন যাদের যাদের সংক্রমন ছিল, তারা নতুন করে আর কাউকে সংক্রামিত করতে পারবে না। করলেও বড়জোর বাসার লোককে কেবল। যেহেতু অল লকড। অলরেডি যাদের আগেই ইনফেক্ট করে ফেলেছে, বাকি ১৪ দিনে তাদের রোগও প্রকাশিত হয়ে পড়বে। তারপরও বাদবাকি মিসম্যানেজমেন্টে আরও কিছু সংক্রামিত হলেও সেটা বাফার ১৪ দিনে প্রকাশ ও লকড হয়ে যেত। যদি হ্যা, সিস্টেমটা একটি টোটাল সিস্টেম হত। করা গেল না। মাত্র ২৮ টা দিনও মানুষকে ঘরে রাখার ব্যবস্থা করা গেল না। মানুষও থাকল না। ২৬ তারিখ হতে আজ ১৩ এপ্রিল। প্রতিদিন নতুন আক্রান্ত হার বাড়তে বাড়তে 94-58-112-139, আজ ১৮২। তারপরও সাধারন ছুটিকে কারফিউতে রূপান্তর করা গেল না। এই ১৯ দিনে ডিসট্যান্সিং এর ন্যুনতম শর্তও পূরন হয়নি। মানুষ রাস্তায় জলকেলী করছে। জলে গেছে এই ১৯ দিনের জাতীয় উৎপাদনের ক্ষতি। আজ পর্যন্ত যা ব্যবস্থাপনা ও অবস্থা, তাতে আমাদের ১৭ কোটিকেই একবারের জন্য হলেও করেনার স্বাদ নিতে হবে। তাই বলি কি, তুলে দিন সব লক। ইনফেক্টেড যেহেতু হতেই হবে, যত আগে হয়, তত ভাল। তাতে অন্তত উৎপাদন ও অর্থনীতি বন্ধ থাকার লস কমবে। মানুষ বাইরে বের হলেও যদি অন্তত, জ্বি, অন্তত ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করত, তাও কিছুটা বাঁচত। না, তা হবার নয়। বাঙালি অন্যের বগলের তলা দিয়ে ঢুকে দোকানে সদায় করবে। মুখের ওপর হাঁচি দেবে। সারাবছর নামাজ না পড়লেও জুমা নিয়ে জেহাদ করবে। মসজিদে না পারলে ছাদে জামাত করবে। সস্তা ইলিশ কিনতে বাজারে যাবে। ‘স্বাস্থ্যবিধি’ নামক ভায়াগ্রা দিয়ে কারখানা চালাবে। জ্বি, এটাই এই দেশের নির্বংশ হবার জন্য যথেষ্ট। ভাগ্যের পরিহাস হল, এই দেশে কারফিউও আসবে, জিরো লক ডাউনও হবে, শুট অ্যাট সাইটও হয়তো হবে। ক্রমান্বয়ে। যদিও খোদার কাছে দোয়া করি, তা না হোক। 

এলেবেলে-২৯:

করোনার মহাকাল চলে যাবার পর কে কী করবে, তা দেখছি। অদৃষ্টের নির্মম পরিহাস হল-১.এই মহাকাল খুব শিগগীর যাচ্ছে না। কীভাবে? চায়নার লেগেছে ৯০ দিনের বেশি। বাকি দুনিয়ার ২০০ দেশের সবারই কমপক্ষে এমন করে ৯০ দিন অল কোয়ায়েট থাকতে হবেই। তাতে মোট কতদিন হবে? ২.এই মহাকালের ঘূর্ণিতে আমাদের অনেকেই আর পাড়ার মোড়ে মালাই বা টঙ চা খেতে জিন্দা রাহেগা নেহি। ভবিতব্য। তবু বলি, যদি বেঁচে যাই-ইনশা আল্লহ–জীবন ও বিশ্বাসকে আমূল বদলে নেব। এক নতুন মানব। এখনকার আমার সাথে যার কোনো সংযোগ নেই।

এলেবেলে-৩০:

বাংলাদেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক চরিত্র ও বাস্তবতা এবং নাগরিকদের সার্বিক চরিত্র যদি গভীরভাবে ভাবেন, তাহলে খুব সহজেই বুঝবেন, করোনার মতো একটি দানবীয় দুর্যোগের সাথে টোটাল ফাইট এদেশে সম্ভব না। এটাই তিক্ত সত্যি। পৃথিবীর তাবৎ দেশ লড়ছে চিকিৎসা ও সংক্রমণ আটকাতে, অর্থনীতিকে বাঁচাতে। বাংলাদেশ লড়ছে, বঙ্গফেসবুক লড়ছে -চাল চোর ধরতে /গরু ছাগলদের ঘরে ঢোকাতে/ভ্যাকসিনের ভ্যাসেকটমি করতে/ত্রাণ দিয়ে করোণা বাড়াতে/সরকারি প্রণোদনা দুইয়ে নিতে/পুলিশের সাথে টিলো এক্সপ্রেস খেলতে   বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের মেধাহীনতা ও অদক্ষতা দেখে হার্টফেল আটকাতে। বহু আগেকে যেন এক বিদেশি বঙ্গদেশের অবস্থা দেখে বলেছিল, এই দেশ নির্ঘাত আল্লাহ চালায়। আল্লাহর কাছ হতে দ্রূত মাফ পাবার বা আদায় করে নেবার কোনো চেষ্টাও নেই। যতটা চেষ্টা আছে মসজিদে কোন দশজন জুমার কোটায় যায়গা পাবে-তার দখল ও মারামারি নিয়ে।

এলেবেলে-৩১:

প্রিয় প্রশাসন:বাজারে যাবার জো নেই। কোনো দোকানে মানুষ দূরত্ব বজায় রাখে না। গায়ের মধ্যে পড়ে জিনিস কেনে। আমি নিজে সচেতন। কিন্তু আহাম্মকদের আহাম্মকির ভয়ে যেতে পারছি না। অনেকক্ষণ দূরে দাড়িয়ে থাকি। যেই একটু ফাঁকা হতে দোকানের কাউন্টারে যাই, দশজন এসে বগলের তলা দিয়ে উঁকি মেরে জিনিস কিনতে চায়। বাজারের গলিগুলোতেও মানুষ গিজগিজ করছে। দূরত্ব মেইনটেইন করার কোনো লক্ষণ বা ইচ্ছা কারোর মধ্যে নেই। বাজারগুলোতে কি একটু বাটি চালান দেবেন? আর দয়া করে ‘বুঝিয়ে’ ‘শুনিয়ে’ নীতি এবার বাদ দিন। বাঙাল লাঠির বাড়ি খাবার দিনও পাড় হয়ে গেছে। ফিলিপিন্সের নীতি অনুসরন না করলে এদেশের কয়েক কোটি সংক্রমণ আটকাতে পারবেন না।

এলেবেলে-৩২:

লেখালিখি কিংবা চলমান অন্যান্য কর্মযজ্ঞে মন দেবার মতো অবস্থায় নেই। মানসিক অবস্থা তাকে সাপোর্ট করছে না। যা লিখছি, তাও একরকম ঘোরের ভিতরে লেখা। বিধায় লেখার কমেন্টে প্রতিউত্তর দেয়া হচ্ছে না। যেটা আমার একদম স্বভাবের বিপরীত। পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষমা করবেন। ২. আমাদের দেশের পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, র‌্যাব, ডাক্তার, মেডিক-এনাদের নিয়ে কখনোই আমার খুব বেশি অভিযোগ ছিল না। গরীব এই দেশে যেমনটা থাকার কথা, সেটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতাম। চলমান কেয়ামতে ওনারা যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন এই চৈত্র মাসের রোদের ভিতরে, তাতে তাদের জন্য শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যায়। ৩. বাংলাদেশের প্রশাসন, বিশেষত পুলিশ ও আর্মিকে ঠিক কী কারনে ফোর্স এপ্লাই করতে দেয়া হচ্ছে না, জানি না। গত ১৭ টি দিন ছুটির নামে দায় এড়ানো লক ডাউনে পুলিশ প্রথম প্রথম যা একটু পিটাপিটি করেছে। তারপর যতই হুমকি ধামকি দিক, তারা তাবলিগের কর্মীদের মতো করে গান্ধিবাদী সচেতনতা ও অনুনয় করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ কবে হতে এত নরমপন্থী দেশ হল? যেই দেশে মুখের আগে লাঠি চলত? নাকি মিস সাইয়েমার পরিণতি দেখে বাকিরা ’পুতিয়ে’ গেছে? দরিদ্র ও শ্রমজীবি মানুষের রাস্তায় বেরোনোর একটা ব্যখ্যা থাকতে পারে। কিন্তু বাকিরা, যারা পুলিশের সাথে টিলো এক্সপ্রেস খেলছে, তাদের গুলি করে ফেলে দিলেও কম হত। এই হারামজাদারা গোটা দেশের ১৭ কোটি মানুষকে মেরে ফেলবে। কিংবা, যেই উন্মাদগুলো মসজিদ বন্ধ থাকায় ছাদে জামাত করছে-তাদের পশ্চাতদেশে রুলের বাড়ি কেন দেয় না জানি না। দেশে তো এই সেদিনও ক্রসফায়ার নামে একটা খেলা ছিল। ৪. প্রতিটি মহল্লায়, বিশেষত গ্রামে গলিতে গলিতে সামাজিক দূরত্ব নয়, সামাজিক সঙ্গম চলছে। এই উন্মাদ জনগোষ্ঠীকে যদি খোদা তায়ালা ঠাডা ফেলে মেরে ফেলতেন, তাহলে নিরীহ লোকগুলো বেঁচে যেত। ৫. রপ্তানীমুখী শিল্প, বিশেষত গার্মেন্টস, যেখানে সারাবছর আমরা নিয়মমতো ৪০ লক্ষ কর্মীকে স্যালারী দিয়ে আসছি, এমনকি তাদেরও এবার বাংলাদেশ ব্যংক নিজে স্যালারী দেবে, কারখানার হাতে দেবে না, যদি লুটে খায়। আমার প্রশ্নটা হল, যারা সারাবছর কর্মীদের নিয়মমতো দেখভাল করে (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া), তাদেরই যখন বিশ্বাস করতে পারলেন না (এতটাই বিশুদ্ধতা রক্ষার তাগিদ), তখন সারা বছর যারা সরকারী চাল, ত্রাণ লুটে খায়, তাদেরকেই আবার ত্রাণ বা ১০ টাকার চাল বিতরণের সুযোগ কেন দেয়া হল? ৬. সারাদেশ লকডাউন। ঘর হতে বেরোনো বন্ধ। অফিস লকড। এই অবস্থায় বাংলাদেশে ব্যংক প্রণোদনা দেবার জন্য যেই বিশাল কর্মযজ্ঞ চাপিয়ে দিয়েছে আর তার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে ২০ এপ্রিল, সেটা কীভাবে করব কেউ জানি না। একেকটা টীমের ১০ জনের মধ্যে যেখানে হাতে পায়ে ধরে হয়তো একজনকে অফিসে আনা যাচ্ছে। ৭. পারতঃপক্ষে ঘর হতে বের হই না। অতি জরুরী যখন হয়, বাজারে কীভাবে যাব জানি না। আমি নিজে সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে যাই। সারা রাস্তায় সবার হতে ৬ ফুট দূরত্ব মেইনটেইন করে যাই। অথচ দোকানে গেলে সবাই ভিমরুলের মতো একসাথে ঝাঁক বেঁধে দোকানে দাড়ায়। কিছু বললেই ছ্যাত করে ওঠে। দোকানদাররাও কিছু করে না। বহু আগে কিছু মার্ক করে দিয়েছিল। সেগুলো ধুয়ে মুছে গেছে। ভয়ে দোকানে যেতে পারি না। অন্যের অন্যায়ের সাজা আমি কেন পাব? ৮. ত্রাণ বিতরণ যারা করছে, তাদের ৯০% গলাগলি করে কাজটা করছেন। এনারা উপকার করতে গিয়ে উল্টো দেশের ক্ষতিই করছে। যে বা যারাই কিছু না কিছু অবদান রেখেছেন, তাদের প্রণতি। কিন্তু, আজকে যে দানকারী, সামনের মাসে তিনিই যে, অর্থকষ্টে পড়বেন না-আমার খুব ভরসা হচ্ছে না। মধ্যবিত্তরা সবখানে মরে। 

এলেবেলে-৩৩:

সারাটা দেশ যখন বন্ধ, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ করেছে, সকল শ্রমিকের একাউন্ট খুলতে হবে ২০ এপ্রিলের ভিতর। সেই একাউন্টে তারা টাকা পাঠাবে। তা, জনাব বঙ্গ ব্যাংক, ছুটিতে থাকা লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের একাউন্ট কীভাবে খোলা হবে? আলাদিনের চেরাগ দিয়ে?একাউন্ট না খুলতে পারলে বেতন বনধ্। লক ডাউন থাকায় অফিসে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে যেকোনো কারখানায়। তা আমাদের অফিশিয়ালরা কারখানায় ঢুকতে না পারলে তারা শ্রমিকের টাকা পাবার যে বিশাল একটা ডকুমেন্টেশন কর্মযজ্ঞ আপনারা চাপিয়ে দিয়েছেন, সেটা কী করে করবে? ২. বঙ্গ ব্যাংক আরেকখান ফরমানে আদেশ করেছে, প্রোনদোনা ওরফে সুদের কর্জের টাকায় ‘কর্মকর্তা’র মাইনে দেয়া যাবে না। কেন গোঁ? কর্মকর্তারা কি তবে পাথর খেয়ে বাঁচবে? এই বৈষম্য করার বৈধ ক্ষমতা কি আইনে আছে?  ৩. দুঃখিত বঙ্গ ব্যংক। শ্রম আইন নামক আজব সোনাভানের পুঁথিতে কর্মকর্তা নামক কোনো বস্তুর অস্তিত্ব নাই। ওই ২০০৬ এর চোথা অনুযায়ি আর আপনাদের সহদর ভ্রাতা শ্রম আদালতের রায় অনুযায়ী গার্মেন্টসের সকল দাসানুদাসরাই নাকি শ্রমিক। আমার কথা নহে, আদালতের কথা কহিলাম। ৪. তা, তর্কের খাতিরেও যদি বলি, টাকাটা তো লোন দেয়া হবে। তা কেউ যদি লোন নিয়ে কর্মকর্তাকেও দিতে চায়, আপনার আপত্তির কারন? 

এলেবেলে-৩৪:

আমার একটি জাতির কথা খুব মনে পরে। নূহ আঃ এর জাতি।  যখন তিনি তাদের সতর্ক করতে করতে করতে গলদঘর্ম হয়ে পাগল সাব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, তখনো তার উম্মত আসন্ন গজব নিয়ে ঠাট্টা মশকরা করত। আজ, হ্যা, আজ যখন সারাবিশ্বে আক্রান্ত ১২ লাখ, মৃত ৬৫ হাজার, বাংলাদেশে আক্রান্ত বাড়ছে দ্বিগুন হারে, তখনও, জ্বি, তখনও, এই আজ ৫ এপ্রিল তারিখেও বলা যায়, এখনও বাঙালি ১০% ও ভাবিত না। এইসব করোনা ফরোনা তাদের ছ্যাপেও লাগে না। মোটেও।বিশ্বাস হচ্ছে না?

এলেবেলে-৩৫:

না। আর ভয় করছে না।না। আর কারো ওপর রাগ হচ্ছে না।না। আর কোনো কিছুর ওপর হতাশ লাগছে না।না। কাউকে কিছু বলতেও ইচ্ছে করছে না।না। আর অসহায় লাগছে না।না। অন্ধের দেশে জন্মে আর আফসোস লাগছে না।এ এক অভিশপ্ত জনপদ। বোধহীন জনপদ। স্বার্থপর জনপদ। নিঠূর বাস্তবতার জনপদ। ভন্ড জনপদ। হে আল্লহ, জানি আপনি ফেসবুকে নেই। তবু তো আপনি সর্বজ্ঞাত। এই দেশের সবরকম পাপ ও আবুলিত্ব সত্বেও আপনি দয়া করুন। শেষযাত্রাটুকুতেও মানুষ তার স্বজনের শেষ চোখের পানিটুকু পায় না- এমন গজব তুলে নিন। অন্তত, আমরা বুক পেতে ১১ লক্ষ নিরাশ্রয় রোহিঙ্গাকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি, সেটুকু পূণ্যের বদলে?

এলেবেলে-৩৬:

আসবেনা, আসবেনা, আসছে, আসছে করে করোনা মহামারি দেশে ঢুকে পড়েছে। মুসলমানদের হবেনা, মসজিদে কিছু হবে না করতে করতে মসজিদের সেক্রেটারি মরেছে। ভারতে তাবলীগের প্রধান মসজিদ হতে শতিনেক আক্রান্ত। মওলানা সাদ নিজেও সম্ভাব্য আক্রান্ত। পেয়ারা পাকিস্তানে জুমার ওয়াক্তে ৩ ঘন্টা লকডাউন করেছে জুমা জমায়েত আটকাতে। মসজিদে ওয়াক্তিয়া নামাজ নিষিদ্ধ।। হারাম শরিফেও জুমার ওয়াক্তে কারফিউ। কেবল বাংলাদেশের বীরপুঙ্গব মানুষ ততোধিক গোয়ার্তুমিতে মত্ত। তা আজকে যারা যারা মসজিদ উপচে দিয়েছেন, তাদের মধ্যে কতজন ফজরের সময় মসজিদে গিয়েছিলেন?যেসব উজবুকের ধারনা, এসব হল মসজিদ বিদ্বেষের প্রচারনা, তারা আরেকটু পড়াশোনা করুন।

এলেবেলে-৩৭:

করোনা ভাইরাসটি যেহেতু সুদূর চীন বা ইতালি হতে বাতাসে শিমুল তুলার মতো উড়ে উড়ে কিংবা লক্ষিন্দরের ভেলার মতো ভেসে ভেসে বাংলাদেশে আসেনি, সুতরাং, একটা বিষয় পরিষ্কার। করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে এসেছে হয়, প্রবাসী, যারা গত ৮ মার্চের আশপাশে দেশে ফিরেছেন, কিংবা বাংলাদেশী যারা একই সময়ে বিদেশ ভ্রমন করেছেন-তাদের হাত ধরে। সবাই না। তারা, যারা সরকার নির্দেশিত রুম কোয়ারেন্টাইন মানেননি এবং খোলা গরুর মতো মাঠে ঘাস খেয়ে বেড়িয়েছেন, বাপের ব্যাটা হয়ে। যারা শশুর বাড়ি বেড়িয়েছেন, বাজারে, চায়ের দোকানে, বালিকা বউয়ের সান্নিধ্যে কাটিয়েছে, ধুমধাম করে বিয়ে করেছে-তারা। তারা, যারা বলে বেড়িয়েছে, “মুসলমানের করোনা হয় না।”    আর,তারা, যারা বিদেশ ফেরতদের সান্নিধ্যে ইচ্ছে করে গেছে। তারা, যারা ইচ্ছে করে জনসমাগমে মালাই চা খেতে গেছে। তারা, যারা বলেছে, “করোনায় সামান্য সর্দি জ্বর হয়।” এরা সবাই দায়ী। পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটকে তো ফাঁকি দিলেন। কিন্তু ৮ মার্চ হতে অনওয়ার্ড বাংলাদেশে যতজন মানুষ মারা গেছে বা (খোদা নাখাস্তা) মারা যাবে, যত আর্থিক ও মানবিক বিপর্যয় হবে, যত লোক গরীব হবে, চাকরি হারা হবে, যত মা সন্তান হারাবে, যত সন্তান এতিম হবে, এই এত এত পাপের জন্য হাশরের মাঠে আপনাদের যে ধরা হবে, জবাবদিহী করতেই হবে-তা নিশ্চিত থাকেন। আর যদি আপনি নিজেই করোনায় মরেন, তাহলে মরার সাথে সাথে কবরেই সওয়াল জবাব ও ডান্ডার বাড়ি শুরু হয়ে যাবে।

এলেবেলে-৩৮:

বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল মহান সত্বা, যারা এই বৈশ্বিক কেয়ামতে মানুষের জন্য কিছ না কিছু করে যাচ্ছেন, তাদের সশ্রদ্ধ অভিবাদন ও দোয়া।বিশেষত বাংলাদেশের-সকল কর্মরত ডাক্তার ও মেডিক্যাল স্টাফ  সকল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্য।  সকল সশস্ত্র বাহিনী সদস্য।  সকল সরকারি বেসরকারি ফিল্ড অপারেশনস কর্মী।  সকল স্বেচ্ছাসেবী। সকল সংবাদকর্মী।সকল সেবাদাতা কর্মী।সকল উৎপাদক কর্মী।সকল দাতা।আপনাদেরকে কখনো ফরমালি হয়তো ধন্যবাদ জানানো হয় না। অনেক কটু কথাই বলা হয়। আজ এই ক্ষণে বাংলাদেশের সব মানুষ নিশ্চই আপনাদের স্যালুট দিচ্ছে। দেবে। খুব শিগগিরই যেদিন খোদা এই দুর্যোগ তুলে নেবেন, আপনাদের নিশ্চই রাষ্ট্র একটি জাতীয় ধন্যবাদ দেবে। **যেসব অসভ্য ও নিকৃষ্ট মানব এই কেয়ামতে কোনো না কোনোভাবে মানুষের ক্ষতি করছেন, বিশেষত যারা মনের হাউশে রাস্তায় নেমেছেন, তাদেরকে জানাই হৃদয়ের অন্তস্থল হতে থুতুর ছিটা।

এলেবেলে-৩৯:

হে আমার রাষ্ট্র!   তুমি রাজস্ব ভোগকারি তোমার ১২/১৩ লাখ রাজকর্মচারিকে দায়িত্ব নিয়ে ১০ দিন ছুটিতে পাঠালে। তদান্তে আরো ৫ দিন ঘরে ছুটিতে রাখলে। সেই তুমিই আবার রাজস্ব উৎপাদক প্রায় ১ কোটি শিল্প কর্মিকে শুধুমাত্র স্বাস্থ্যবিধির তাবিজ দিলে। দায় নিলে না তোমার উৎপাদকদের; নিলে ভোগকারীদের। আমি।তোমার এই একচোখাত্ব নিয়ে দুঃখিত নই। আমি বরং তোমার আসন্ন একটা সমস্যা নিয়ে ভাবিত।তা, প্রিয় দেশ, ৫ তারিখ হতে যখন ১ কোটি শিল্পকর্মী রাস্তায় নামবে, তার সাথে নামবে অগনিত সাপোর্ট সার্ভিস, তখন হতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কীভাবে, কোন ছাঁকনি দিয়ে কাকে আটকাবে? পুরো ঢাকাই তো পথে নেমে যাবে। বাড়তি ৫ দিনের হোম কেরেন্টিন কী কাজে দেবে ওই ১২/১৩ লাখ লোকের?

এলেবেলে-৪০:

ভারতের দিল্লির তাবলীগ কেন্দ্রীয় মসজিদ নিজামুদ্দিনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমাবেশ। ফলাফল, ৭ জনের করোনায় মৃত্যু। শ খানেক আক্রান্ত, যার কয়েকজন সুদূর আন্দামানের। তাবলিগের বিশ্বনেতা জনাব সাদ কান্দলভির বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। মসজিদের কয়েকশো লোককে জোরপূর্বক কেরেন্টিন।ভারতের পাঞ্জাবের এক শিখ ধর্মগুরু নিষেধ সত্ত্বেও ধর্মীয় সমাবেশ করে নিজেও করোনায় মরেছে, ৪০ হাজার গ্রামবাসীকে কেরেন্টিনে ঢুকিয়েছে।পাকিস্তানে সিন্ধুতে তাবলিগ মারকাজ মসজিদ হতে করোনা সংক্রমন। আক্রান্ত একাধিক। ফলাফল, পুরো মসজিদের সবাইকে কেরেন্টিন।মালয়েশিয়ায় মহামারি ছড়ানোর অন্যতম সূত্র ছিল, নিষেধ স্বত্ত্বেও তাবলীগের সমাবেশে যোগদান।  বাংলাদেশে যে বা যারাই বড় বড় গলায় বলে চলেছেন, উপাসনালয়ে/মসজিদে করোনা ছড়ায় না, খোদার ঘরে যাওয়া বন্ধ করা যাবে না, মরলেও না, মরলে মরব হায়াত ফুরালে-তাদেরকে হয়তো সরকার আটকাবে না। মসজিদের ইমাম ও মওলানা, যারা মাসায়েল জেনেও সত্যিটা বলছেন না, যারা গোয়াড়ের মতো মসজিদ।মন্দির বাজারে জমায়েত করে যাবেন, তাদের নামে সরকার মামলা না করতে পারলেও, ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষ খুনের জন্য হাশরের মাঠে যে ধরা হবে না-কে জানে?যারা যারা ভারতের লো স্প্রেড রেট দেখে আমোদিত, আশান্বিত হয়ে, বঙ্গদেশের ৪৯ দেখে রাস্তায়, গলিতে চা খেতে নেমে গেছেন, তারা জানুন, ভারতের গতি বাড়ছে, গতকাল ২২৭ জন আক্রান্ত। বাংলাদেশে গুটি গুটি পায়ে বাড়ছে। এপ্রিলের ৭/১০ তারিখের দিকে সুনামি শুরু হতে পারে। ঘরে থাকুন। ঘরে থাকুন। সরকারকে, জনগনকে বাঁচতে বাঁচাতে দিন। তা না হলে এরপর চা তো চা, কবরের মাটিও পাবেন না।

#corona #Covid19Pandemic #realization #Bangalination #education #government #scatteredthoughts #combo #স্টাটাসকথন #এলেবেলে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *