ছোট ছোট স্ট্যাটাস বা অনুলিখন-যাই বলেন, অবস্থার প্রেক্ষিতে লেখার কেতা তো ভার্চুয়াল জগতে আছেই। ওই স্ট্যাটাসগুলোই পরে কখনো একসাথে পড়লে নিজেরই বিচিত্র লাগে। তাই বিভিন্ন সময়ে লেখা কিছু ছোট স্ট্যাটাস নিয়ে ক্ষুদে ডায়রী:
এলেবেলে-১: ৫.১১.১৬: #winningpoverty #poverty #magicalchange #aladinslamp #magicalfortune #blackmagic
জসিমের স্যুটকেস: ছোডকালে ছিনেমায় দেখতাম আলমগীর বা জসিম ফকিরের পোলা। ধনী মানুষের মাইয়া শাবানা বা রোজিনারে বিয়া করায় তাকে শশুর বা শাশুরী ব্যপক অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। নায়ক শপথ করে বড়লোক হয়ে তাকে দেখিয়ে দেবে। ব্যাস। অতঃপর, নায়ক ও নায়িকা হাতে একটা সামান্য ব্যাগ নিয়ে হাটা শুরু করে। আস্তে আস্তে ক্যামেরা রোল হয়, সময় আগায় আর আলমগীরের জুতা প্যান্ট ব্যাগ দামী হতে থাকে, প্রথমে বাস, তারপর রিক্সা, তারপর স্কুটার, তারপর দামী গাড়ি হতে নায়ক নামেন। হাতে দামী ব্রিফকেস। দুই তিন মিনিটে ফকিরের পোলা হতে নায়ক বিশাল ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট।
কাইলকা রাইতে শপথ করছি নায়ক জসিম বা আলমগীরের মতো কোনো একটা ছু মন্তর করতে হবে। এইরকম শর্টকাটে গাড়ি আর বাড়ি না হলে আর চলছে না। নিজের গাড়ি না থাকায় কাইল রাইতে ফার্মগেট হতে মাকে ডাক্তার দেখাইয়া রিক্সায় মিরপুর আসছি। রিক্সাওয়ালাকে খালি পায়ে ধরতে বাকি রাখছি রাজি করতে। সিএনজি ওয়ালারাতো আমাদের ঈশ্বর। তারাতো আমার ইচ্ছায় যাবেন না। যেমতে হউক গাড়ি আর বাড়ি আমার লাগবই। বাড়িওয়ালা তার নখদন্ত বের করেছেন এই দু’বছর পর। তাই বাড়িও জরুরী হয়ে পড়ছে। কেউ আমারে নায়ক আলমগীর বা জসিমের ঠিকানাটা দিবেন? একটু তাদের পায়ের ধুলা নিয়া আমার এই গাড়ি/বাড়ির নতুন ধান্দাটা শুরু করতে চাই।
জ্বিন বশীকরণ: বাসার কাছেই এক গলিতে চায়ের একটা বিশাল মচ্ছব বসে সন্ধ্যায়। তো, তার পাশের এক চোরা গলিতে হাঁটতে গিয়ে নজরে এলো একটা পোস্টার।
বাবুলাল টিপরা
সিদ্ধ তান্ত্রিক
কামরূপ কামাক্ষা ও কোহেকাফ হতে মোক্ষপ্রাপ্ত
আজমীর হতে খেলাফত প্রাপ্ত।
তার ফুঁ’ তে জগতের প্রায় সকল লক্ষ্য, পারপাস সার্ভ করা যায়। সবচেয়ে বিস্ময়কর, নারীর মন বশীভূত করবার দাওয়াইও তিনি দেন। দাওয়াই নাকি অব্যর্থ।
তার সহায়তায় জ্বিন চালান দিয়ে শত্রুকে ঘায়েল করা যাবে, যদি শত্রু ডোলান ট্রাম্পেটও হয়। পার্সেলেও ফুঁ পাঠান। অনলাইন সেবা। হোয়াটসঅ্যাপে ঝাঁড়ফুঁক হয়। তবে দরবারে এসে অফলাইন সেবা নিলে রেট বেশি।
তো, এই কামেল জ্বীনের ব্রোশিয়ারে ও পোর্টফোলিওতে ‘মনের মতো চাকরি প্রাপ্তি ও চাকরিতে বড় পদ এবং তৎমধ্য দিয়ে সমাজে বড় ’পোঁদ’ পাবার সার্ভিসটা মিসিং। মূলত ওটার খোঁজেই আমি এত খুঁটিয়ে ওনার পোস্টার পড়ছিলাম।
বহুদিন হতে একখানা বড় হদ (মানে কুম্পানী), বড় পদ (মানে পজিশন) ও বড় ’পোঁদ’ (মানে টাকায় ঠাসা ঢাউস মানিব্যাগের জন্য ফুলে ওঠা ফোঁদ) পাবার বড় খাহেশ। অরগানিক পথে খাহেশ সিদ্ধ হচ্ছে না। কেউ এমনিতে সাহায্যও করছে না। বরং, কিছু কিছু দুষ্টু মানুষের কথা শুনতে পাচ্ছি, যারা নাকি আমার বড় পদ ও ফোঁদ প্রাপ্তি বান মেরে আটকে রেখেছে।
তাই বান ছোটাতে বাবুলাল টিপড়া, অথবা, বাবাজান পিঁপড়াকে দরকার।
কেউ কি আমার বাবাজান পিঁপড়া, সুগারএমপ্লয়ার হবেন?
এলেবেলে-২: ৫.১১.১৬: #magicalrain
বেহায়া বৃষ্টি আজ বিশ্ববেহায়াকেও হার মানিয়েছে। এত যে ঝরল, তবু কামনা বাসনায় এতটুকু কমতি নেই। শুধু ঝরছে আর ঝরছে। রাত ১১ বাজে। রাস্তায় মানুষ কমে এসেছে। কিছু দুষ্টু ছেলেমেয়ে হাত ধরাধরি করে বৃষ্টিতে ভিজে ঘরে ফিরছে হাত ধরাধরি করে। ওদের মতো হিংসা কাউকে সহসা হয়নি। সারারাত জেগে আজ বৃষ্টি দেখব। ঘুমাব না। মনে হচ্ছে আজ এই সিজনের শেষ বৃষ্টি। প্রাণভরে বৃষ্টি দেখে নিতে হবে না? নিটোল আর আমি দু’জনেরই বৃষ্টি অসম্ভব পছন্দ। আফসোস হল কেউই বৃষ্টিতে ভিজতে পারি না। কিন্তু আজ রাতের যে মাতাল বৃষ্টি তাতে মনে হচ্ছে একটা রিস্ক নেয়া উচিৎ। বৃষ্টিকে এত ভাল কখনো লাগেনি আগে। আজ রাতটাকে লাগছে যেন পাগল হই। ঢাকার পিচঢালা রাস্তায় সারারাত খালি পায়ে হাঁটি।
এলেবেলে-৩: ৮.১১.১৬: #socialchange
ঢাকা শহরে কিংবা আজকালকার গ্রামেও কি আজও এই অবস্থা আছে যে, হুটহাট কিছু না বলে, না জানিয়ে, প্রোগ্রামহীনভাবে কোনো বন্ধু বা আত্মীয়’র বাসায় গিয়ে হাজির হব আর কিছুটা কোয়ালিটি এবং সামাজিক সময় কাটাব? আড্ডা দেব আর গৃহকর্তা/কর্তী সেটাতে বেজার নয় বরং খুশি হবেন। মোবাইল নামক বিশ্রি একটা সিস্টেম আসার ফলে বড্ড আনুষ্ঠানিকতা মেনে বন্ধুত্ব ও আত্মীয়তা করতে হয়। ১২.১১.১৬: বাসার সাথে পিচ্চিদের একটা মডেল স্কুল। আজ ভোরে ঘুম ভেঙে সাতটার সময় বারান্দায় দাড়াতে দেখি স্কুলের গেটে ক্ষুদে ক্ষেদে পিচ্চিরা এই সাতসকালে হাজির ক্লাস করতে। এই সকাল সাতটায় পৌছতে নিশ্চই তারা আরো একঘন্টা আগে ছয়টায় উঠেছে।
আমি এডাল্ট মানুষ যদি সাতটার আগে না উঠি তবে এই দুধের বাচ্চারা কেন কিভাবে উঠবে।? এভাবে কাকডাকা ভোরে স্কুলে ধর্না দেয়া বিদ্যা গিলে তারা মানুষ হবে তো অশিক্ষিত বাবা মায়েরা? নাকি ডিগ্রীধারি অমানুষ? শিক্ষা যদি এত সস্তা হত তবে গ্লাসে গুলে খাইয়ে দেয়া যেত। কত কুৎসিত ভন্ডামি শিক্ষার নামে। স্কুল এত সকালের শিফট কেন বসায়? নিশ্চই অনেকগুলো ব্যাচ ধরতে? যত ব্যাচ তত পয়সা। বাবা-মা’গুলো এত নির্বোধ কেন হয়?
এলেবেলে-৪: #prediction #knowthyself
১২.১১.১৬: কত পদের ধান্দাবাজ যে চারপাশে! কত ধান্দায় যে তারা ঘুরছে। কত ভঙ ধরে যে ধান্দা বাগাচ্ছে! বাহারি গালভরা ভঙ দিয়া মুরগি ধরেছে। দেখে বিনোদিত হই। ভঙ ধরা ভন্ড বাবাজিরা: আপনাদের কিন্তু আমি ভাল করেই চিনি। ভঙ করে কি পেতে চান?
১৩.১০.১৬: অতি কনফিডেন্ট মানুষ বলে থাকে ”আমি মানুষের মুখ দেখেই মনের খবর বলে দিতে পারি, ভাত টিপলে হাড়ির খবর বলতে পারি, চোখে কী আছে পড়তে পারি, দিন দুনিয়ার সবই জানি, মুখে না বললেও সব বুঝতে পারি” ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে ভাগ্যের পরিহাসটা কী জানেন? মানুষ তার ৭০-৮০ বছরের মানব জনমের ভবলীলা সাঙ্গ করে যখন যাবার সময় হয়, তখনো সে তার মনের খোঁজ নিজেই পায় না, সে কী চায়, কী বলতে চায়, কীই বা চেয়েছিল তার খবরই শেষ করে উঠতে পারে না। নিজেকে নিজেই চেনে না। সে আবার অন্যের মনের খোঁজ!
এলেবেলে-৫:
১৭.১১.১৬: #lastdream #deathroll
চল্লিশ পঞ্চাশ বছর জীবন ও সঙসার নামক একটা স্বল্পদৈর্ঘ নাটকের নোটঙ্কি হয়ে অভিনয় করার পর ভূমি শয়ান। খালি হাতে, সস্তা কাপড়ের পোষাক পড়ে। পেছনে পড়ে রয় কিছু ছাপানো নোট, কয়েক হাত মাটি, একটা আধটা বঙশধর। রূপ রস রঙ কিছুমাত্র অবশিষ্ট রয় না। তবু এত তরিকায় ছোট্ট জীবনকে চকচক করতে এত নগ্ন চেষ্টা কেন? কেন মনে হচ্ছে সময় বড্ড কমে আসছে?
মরে যাবার আগে সবগুলো না হাঁটা পথ হাঁটতে চাই, সবগুলো গাছের ছায়ায় বসতে চাই। শেষ নিশ্বাসটি ফেলবার আগে আরেকবার আমার প্রাণের ক্যাম্পাসের বৃষ্টি ভেজা জারুলের বেগুনি দৃষ্টিতে নিতে চাই। রমনার সেই নাগালিঙ্গম গাছটাকে আরেকবার ছুঁতে চাই। সময় পাব কি আরেকটু? প্রয়ানপ্রহর কাছে ডাকে। তার পদধ্বনি টের পাই।
১৮.১১.১৬: #freeadvice
আপনার কি দুনিয়ার যেকোনো বিষয়ে উপদেশ দরকার? বিনামূল্যে উপদেশের জন্য যোগাযোগ করুন আমার সাথে। রসিয়ে রসিয়ে আপনাকে মনের মতো উপদেশ সরবরাহ করে থাকি। বঙ্গদেশে তো দেখি উপদেশ দেয়াটাকেও পেশাদারিত্ব দেয়া সারা। আয়োজন করে উপদেশের অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। ফেসবুক খুলতেই উপদেশ আর উপদেশ। কিছু উপদেশ বিক্রেতা তো আবার রীতিমতো তারকা।
এলেবেলে-৬: ১৮.১১.১৬: #disguisedstatement
নিজের লেখায় নিজে তো ব্যখ্যা করার দরকার নেই। শুধু একটা জবাবদিহিতা করি। বন্ধু আলি আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করে, এত অফট্র্যাকের বক্তব্য কেন দিই। বন্ধু, আসলে যা কিছু লিখি তা অবশ্যই কোনো ঘটনার জেরে বা ত্যক্ত হয়ে। আর না হয় কোনো ভদ্দরনোককে বলার জন্য। যেহেতু সমাজে থাকি আর মধ্য (পড়ুন নিম্ন) বিত্তদের আবার সবাইকে নিয়ে মানিয়ে চলতে হয়, তাই এরকম ঘোপেঘাপে বলি। একটু কড়া হয়তো হয়, তবে মাঝেমধ্যে কড়া চা তো সবাইই একটু চায়, তাই না? যাদের বলতে চাই তাদের তো সব কথা বলতে পারি না।
মানুষ যদি বান্দরের বিবর্তিত জাত হয়ে থাকে, তবে মনে রাখতে হবে, উত্তরাধিকার সূত্রে আমিও খান কতক কেনাইন দাঁত আর নখ পেয়েছি। ওগুলাকে মনুষ্য সমাজে চলার জন্য থাবার মধ্যে লুকিয়ে রাখি। তাই এত নিরীহ, গোবেচারার মতো ট্রীট করোনা। কেনাইন দাঁত বিধাতা ঘাস খেতে দেন নাই।
#scatteredthoughts #combo #diary #wealth #middleclasslife #nakedlife #thuglife #rain #relative #relationship #childhood #education #imagination #assumption #death #স্টাটাসকথন #এলেবেলে