Skip to content

এশটাটাশ সমগ্র-৭: সমাজের কোষ্ঠ্য ও কাঠিন্য নিয়ে টুকরো টাকরা

  • by

এটাকে ফাঁকিজুকিও ধরতে পারেন। আবার, লিখিয়ের মনের খেয়ালও। এই এলেবেলে টাইপের ছোট ছোট লেখার ঝাঁক আসলে বড় লেখার উপজাত অথবা জঠরসঙ্গী। মানে, বড় বড় কাঙ্খিত লেখারা কয়লার মাঝে হিরার মতো মিশে থাকে। হিরা তুলে আনতে হলে কয়লাও ঘাঁটতে হয়। আবার ধরুন, চায়ের বাগানে কিছু ছায়াদার অন্য গাছও রাখতে হয়। এই এলেবেলেরা সেই ভূমিকাতেই থাকে। এসব লেখা লিখতে লিখতেই ভাবনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা এসে পড়ে।

তবে, উৎস ও ইতিহাস যা-ই হোক, এই এলেবেলেরা একেকজন একেকটা ধানি মরিচ। প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজস্ব একটি গভীর সাজেশন। দেখুন তো ধরা যায় কিনা সেই ইঙ্গিত।

এক; #skillenhancement #valuationofskill

Employer বলেন, “তোমার মধ্যে কী এমন আছে, তুমি কী এমন পারো, যে, তোমাকে এত বেশি pay করব?”

Employee বলেন, “আপনি আমাকে কী এমন দেবেন, কত বেশি আর দেবেন, যে, এত এত কিছু পেরে দেখাতে হবে?”

এই অচলায়তন ভাঙার দায়ীত্বটি প্রথমে কার?

দুই; #hypocrisy #ungrateful #selfish

স্বার্থপরতা আর অকৃতজ্ঞতা-দুটো মড়ক যে হারে গিলে খাচ্ছে আমাদের, সেটা আমাদের পূর্বপুরুষরা আন্দাজ করতে পারলে বাংলাভাষায় ওই শব্দ দুটোকে জন্ম নিতেই দিতেন না।

একেকটা স্বার্থপর আর নির্লজ্জ অকৃতজ্ঞ’র মুখোমুখি হই, আর শপথ করি, এবারই ‘শ্যাষ’।

কিন্তু, ওই যে, বাংলাতে আমাদের পূর্বপুরুষেরা আরেকটা শব্দ জন্ম দিয়ে গেছেন-

’বেহায়া’।

প্রকাশ্য জনারণ্যে কুকুর কুকুরির ‘নির্লজ্জ’ ‘সঙ্গম’ দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখার অপার আগ্রহবিশিষ্ট একটি জাতি আছে।

সেই জাতিই যে, অন্য মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে উঁকি মারতে উদগ্র বাসনা ধারন করবে-সে আর বিচিত্র কী?

যদিও, প্রকাশ্য রাস্তায় কেউ ছুরি খেয়ে পড়ে থাকলে তখন অবশ্য কাউকে আশপাশে কমই দেখা যায়। ব্যক্তিজীবনে উঁকি মারলেও ব্যক্তির জীবন যখন যায় যায়, তখন আর কেউ উঁকিও মারে না।

আবার যারা যায়, তার একটা অংশ যায় ফেসবুকের রসদ যোগাতে।

তিন; #religiousfanatism #extremeism #religiontrader #communalharmony

ভাল মানুষ আর ভাল মানুষী যেমন এক নয়,

তেমনি, ধর্মান্তপ্রাণ বনাম ধর্মান্ধভান, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ চ্যাতোনা বনাম জাতীয়তাবোধও এক না। আমরা প্রায়শই দেখে থাকব, কেউ না কেউ হা ও হুতাশ প্রকাশ করছেন, মানুষ ধর্ম পালন করেও কেন এত পাপ করছে। (যে কোনো ধর্ম বলছি, আপনি আবার কোলে ঝোল টানবেন না।) ধর্মপালনের সাথে যখন সুশিক্ষা যুক্ত না হয়, তখন সেটি স্রেফ লোভ ও ভীরুতার ধর্ম হয়ে যায়, স্বর্গের লোভ, বা, নরকের ভয় হয় তখন ধর্মের চলক। এই শ্রেনী তখন খোদার সাথেও লুকোচুরি খেলতে দ্বিধা করে না। তাকে ফাঁকি দিয়ে স্বর্গ নরকের মালিকানা হাসিলের চেষ্টা করে। কারন, লোভ ও ভয় কখনো নৈতিকতার মেনটর হয় না। ধর্ম তখন হয় হয়ে যায় অপরাধের ঢাল অথবা ছদ্মবেশ। আর না হয়, হয়ে যায় অপরাধীর অপরাধবোধের চাপ স্খলনের হাতিয়ার। বয়স, পরিবারের চাপ, লিগ্যাসি, সম্পর্কের চাপ, লোকলজ্জা, স্বার্থ যখন হয় ধর্ম পালনের মূখ্য নেপথ্য কারণ, তার বিশুদ্ধতা আশা করা হাস্যকর।

বস্তুত, বঙ্গদ্যাশে নিজেকে ধর্মপ্রাণ দেখানো, ধর্ম চাপানো এবং ধর্মব্যবসা করবার যে তোড়জোর, তার বিপরীতে তাকওয়া অবলম্বন, ধর্মের মর্মবাণী অনুসরন এবং ধর্মের প্রকৃত সৌম্য ও সাম্যবোধ মেনে চলবার ইচ্ছা বড্ড ক্ষীণ।

একই প্রকারে, দ্যাশপ্রেম, দেশাত্মবোধ ও জাতীয়তাবাদের যে তীব্র ঝঙ্কার দেখানো হয় নানা আঙ্গিক ও গ্যাঙ হতে, বাস্তবে তার ছিটেফোটা এবং জাতীয়তাবাদের চর্চা নেহাতই বিরল। দুটো ধারারই একটি ছোট, সুন্দর অথচ জাজ্বল্যমান উদাহরন যদি দেখাতে হয়, তাহলে এই ছবিটি হতে পারতে তার একটি।

রাষ্ট্র নামক কসাইখানার চৌহদ্দীতে সুশীল সমাজ নামক জল্লাদখানায় রাজনীতিক নামক কীটদের সোহবতে বসবাস করবার সবচেয়ে বড় জ্বালাগুলোর একটা হল, আপনি সহজ কথা সহজ করে বলতে পারবেন না।

সত্য ও সোজা কথাকেও নানা সুশীল বর্ম পরিয়ে, ঘুরিয়ে, পেঁচিয়ে, মোলায়েম করে, ডিজিটাল মামলার ভীতি দূর করে বলতে হবে।

ঠিক সেভাবে, কিছু ঘাড় গর্দান মোটা মানুষের রাগ ও ক্ষোভটা যে আসলে ঈশ্বরের ওপর নয়, তার বিধান ও নিদানের ওপরও নয়, আসলে অনুযোগটা কিছু ধর্মব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে, কিছু ধর্মান্ধের বিরুদ্ধে, কিছু ফেসবুক স্কলারের বিরুদ্ধে, সেটা সহজ কথায় বলা যাবে না।

ব্যবসায়ীরা জানে, কীভাবে সেন্টিমেন্টকে নিজের স্বার্থের মতো করে বাঁকানো যায়, কীভাবে সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করা সম্ভব। এটা তারই একটা ক্ষুদ্র নজির।

যুগে যুগে এভাবেই ধর্মকে ব্যবহার করা হয়। সুক্ষ্ণভাবে, কিংবা স্থুলভাবে।

যেভাবেই হোক, স্থুলবুদ্ধির আবুলরা সেটা না বুঝেই ঢাল-সরকি নিয়ে পথে নেমে পড়ে। অদৃশ্য জেহাদে।

একটি বিশ্বাসের মানুষদের প্রধানতম ধর্মীয় উৎসব শুরু হয়েছে। কত কত তাবিজ ও স্বর্গ ব্যবসায়ীর যে হাত ও মুখ চুলকাচ্ছে।

চার; #thinkingoutofbox #genious

হাউ টু থিংক আউট অব বক্স? লেটস ট্রাই।

আপনি ইচ্ছা করবেন, প্ল্যান করবেন, এফোর্ট দেবেন, অতঃপর সফল হবেন।

আবার কখনো কখনো আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে আপনার পারফেক্ট স্কোপটির জন্য। যেখানে আপনি বেস্ট ফিট, যেখানে আপনাকেই কেবল দরকার, যেই স্কোপটি কেবল আপনার জন্যই এতদিন অপেক্ষা করে ছিল।

চামেলির কারিনা আর কাভি খুশি কাভি গাম এর কারিনাকে দেখুন। KKKGর কারিনার অপেক্ষা ও অভাব ছিল চামেলির মতো একটা কাস্টিং অপরচুনিটি। ক্যারেকটা যেন তার জন্যই সৃষ্ট। শুধু প্রকৃত মানুষটির যথাস্থানে এসে পৌছোনোর ও মিলবার অপেক্ষা।

আপনি, তিনি, আমি অনেক কিছু পারি, অনেক কিছু না। আবার, প্রতিটা মানুষই এমন একটা কিছুর জন্য জন্মেছে, এমন একটা কিছু নিয়ে জন্মেছে, যেটা শুধু তারই জন্য।

ব্যাস, স্রেফ সেই সৃজিত চমৎকারটির সাথে সৃজনকারীর ম্যাচ হবার অপেক্ষা। সেই যেমন, রোমান হলিডে’র জন্য অড্রে হেপবার্ন, হাইওয়ে’র জন্য আলিয়া, ব্ল্যাকের জন্য রাণী, কিংবা রামের সুমতির ববিতা। তাই, এই জিনিসের জন্য ও ফিট না-সেটা ভাবা চলুক। আবার-

ও তো ওই জিনিসের জন্য বেস্ট ফিট-এমন করেও কখনো কখনো ভাববার চিন্তাটা করুন।

পাঁচ; #taboo #labeling #croudlearning

🇺🇸 I have a dream- 🇧🇩আমার একটি ধান্দা আছে

আমার স্বপ্ন বা ধান্দাগুলো বলি-

১. একটি কোরাম, সিন্ডিকেট, ট্যাবু ও লেবেল মুক্ত জব মার্কেট।

২. একটি উন্মুক্ত ও ক্রাউড বেজড লার্নিং ও শেয়ারিং সোসাইটি বা ডোম।

৩. একটি ট্রান্সফরমেশনাল ট্যালেন্ট হান্ট ও এনগেজমেন্ট, যেখানে একজন প্রফেশনাল তার সেক্টর, স্পেশালাইজেশনের দাস বনে যাবেন না। তিনি হবেন সৃষ্টিশীলতার মায়েস্ত্রো

ধান্দা ধান্দাই থেকে যায়। আলোর আর মুখ দেখে না।

তাই যানজট ঠেলতে ঠেলতে বাড়ি যাই আর Three Idiots দেখি।

ছয়; #feminism #recession #pandemic #middleclasslife #nakedlife #thuglife ##cosmeticdevelopment

একটি ক্ষুদ্র মানব জীবনে ১টি বৈশ্বিক মহামারি (কোভিড ১৯), দুর্ভিক্ষ (আসছে……….) আর সবশেষে বিশ্বযুদ্ধ (ন্যাটো ভারসাস রাশিয়া-চীন-উ. কোরিয়া)-তিনখানা মহাভারত কেয়ামত চাক্ষুস ও মোকাবেলা করার মহাসৌভাগ্য যদি সত্যিই হয়ে বসে-

তাহলে বিধাতাকে অনেক ধন্যবাদই দিতে হবে।

কিছু মনে করবেন না। এক করোনার অভিঘাতের সময়ই দিনরাত প্রার্থনা করতাম, কবে যাবে এই দুর্যোগ। সে যেতে না যেতেই দুর্ভিক্ষ আর বিশ্বযুদ্ধের দামামা। তাও আবার পারমানবিক যুদ্ধের।

না, আমি অতি মানব নই। চিন্তার রেখা কপালে ভাঁজ ফেলছেই। বিশেষ করে আমরা যারা কোট-টাই পরা শহুরে বাবু হয়ে বসে গেছি, তাদের চিন্তা আরও বেশি।

আগামী বছর মন্দা ও দুর্ভিক্ষ হবে কিনা, আর হলে আমাদের কী হবে-সেই দুঃশ্চিন্তা পুরুষ মানুষ হিসেবে চিন্তার একটি বড় অংশ সারাক্ষণ দখল করে রেখেছে। না চাইলেও দুঃশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না। ঘরের মেয়েরা, শিশুরা হয়তো কিছুটা বুঝতে পারছে, অনেকটা পারছে না। প্রাত্যহিক জীবনে খুব বড় ইমপ্যাক্ট হচ্ছে না।

আসলে হবার উপায়ও নেই। এমনিতেও এদেশে আমরা খুব লীন জীবনযাপন করি। কৃচ্ছতা সাধনের মতো আর স্কোপ নেই। এমনিতেও, ওসব ভবিষ্যতবাণী, সতর্কতা আমাদের আর ছ্যাপেও লাগে না।

কোভিড আসার সময় আমাদের যেই ভয় দেখানো হয়েছিল, আমরা সেই ভয়কে সামান্যতম পাত্তাও দিইনি, ওসব ভবিষ্যতবাণী আমাদের *চুলেও লাগেনি। 

একান্ত বাধ্যগত ও প্রাণ বাঁচানো পণ্য ছাড়া বাদবাকি বিলাসিতা বহুদিন হতেই বর্জিত। উপায়হীন হয়ে। কোভিডের অভিঘাতে বাকিটাও ধুয়ে গেছে। বিগত আড়াইটি বছর মানুষ স্রেফ পশুর মতো করে টিকে আছে। অবশ্য সেই টিকে থাকাকেই রাজনীতিকরা আবার চিৎকার করে সফলতার দাবী হিসেবে উচ্চারন করে যাচ্ছেন।

নিরবে, গোপনে মানুষগুলো স্রেফ পশু হয়ে গেছে। কত হাজার হাজার পরিবার যে নিরবে কতটা অমানুষের মতো সয়ে যাচ্ছে, মরে যাচ্ছে, তার হিসাব বড় ও উন্নত রাষ্ট্রের ক্যালকুলেটরে আসবে না।

সনির মোড়ের পেছনের রাস্তা দিয়ে রাতে দু’জন হাঁটছি, কাল রাতে। এক গলির মোড়ে জনৈক অন্ধ (আসলে চক্ষুসমান) ভিখারী। পথ চলতি মানুষেরা ভিক্ষা দিচ্ছে, দিচ্ছে না। ভিক্ষে যারা দিতেন, সেই মধ্যবিত্তই আজ দরিদ্র। তারা আর ভিক্ষা দেন না। তার মধ্যেও পথ চলতি দুটো গারমেন্টস কর্মী মেয়ে ভিখারীর থালায় একটা কয়েন দিয়ে হেঁটে গেল। ভিখারী চিল চিৎকার করে ওঠে,

”দুই টাকা দিছ ক্যান?”

গলায় তীব্র ঝাঁঝ। মেয়েটা পেছন ফিরে বলে, “না না, পাঁচ টেকার কয়েন দিছি।”

দিন বদলের চাপে ভিকিরিও তার রেট বাড়িয়ে দিতে পারে।

সুদূর ইউক্রেনে যুদ্ধ হয়, এদেশের প্রতিটি ছোটবড় ব্যবসায়ী, তা সে শরীর হতে কামান-যেটার ব্যবসাই করুক, তার পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। দেহপসারিনীরাও রেট বাড়িয়ে নিতে পারে।

কেবল আমরা ’মধ্য’ ছদ্মনামের নিম্নবিত্তরা কিছুই করতে পারি না।

আমরা কোনো কিছুর দাম বাড়াতে পারি না।

আয় বাড়াতে পারি না।

বিকল্প কিছু করতে পারি না।

চুরি করতে পারি না।

লুট করে আনতে পারি না।

ছিনিয়ে নিতে পারি না।

কেবল পারি, প্রতিনিয়ত নিরবে, গোপনে, অশ্রূ চোখে আরও আরও আরও ছোটলোক হয়ে যেতে, আরও নিচে নেমে যেতে, নিজেদের পশুর আরও কাছে নিয়ে যেতে।

পৃথিবী নামক গ্রহের প্রতিটি রাষ্ট্র নামক ভূখন্ড নিজেই এক দানব।

এই দানবীয় সত্তা যখনই ‘উন্নয়ন’ নামক এক ধরনের দানবীয় ভাইরাসের নেশায় আক্রান্ত হয়, তখন ‘উন্নয়ন’ দেবীকে তুষ্ট করতে সুপ্রচুর মানব আত্মা ভেট হিসেবে বলি দিতে হয়।

তবে, ‘ধনী’দের আত্মা হরণ রাষ্ট্রের ক্ষমতার বাইরে। আর, ‘দরিদ্র’ নামক অস্পৃশ্য আত্মায় দেবী তুষ্ট হন না।

তাই দেবী ও তার উন্নয়ন সেবায়েতের প্রিয় ভেট/বলি হল ‘মধ্যবিত্ত’ নামক ‘গরীব’দের আত্মা।

’উন্নয়ন’ দেবীকে তুষ্ট করে ‘উন্নয়ন’ করতে তাই মধ্যবিত্ত (আসলে নিম্নবিত্ত)কে উন্নয়নের খড়গে বলি দেয়া হয়। তাদের আত্মা ও দেহনিঃসৃত ঘনকৃষ্ণ বর্ণের লাল লহু উন্নয়ন দেবীকে শুদ্ধতম নিবেদন দেয়।

দেশে দেশে, রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে তাই উন্নয়নের রোলারে কেবল মধ্যবিত্ত নামক নিম্নবিত্তরা পিষ্ট হয়। উন্নয়নের হুতাশনে কেবল মধ্যবিত্তরা পুড়ে খাক হয়।

মধ্যবিত্ত, তাই দুঃখ করো না। তোমাদের জন্মই হল রাষ্ট্রের উন্নয়ন ক্ষুধার জ্বালা মিটাবার জন্য। তোমার এই মৃত্যু, তোমার এই নিস্পেশন, তোমার এই নিংড়ে ছিরে ছিবড়ে হবারই ছিল। এ আত্মত্যাগ বড় পবিত্র।

রাষ্ট নামক দানবের দানবীয় উন্নয়ন ক্ষুধার খোরাক হয়ে ‘দেশপ্রেম’কে সমুন্নত করার এই দায়ীত্ব তোমার জন্মগত।

তাকে কেবলই এনজয় করো। ’উন্নয়ন’ একটি দৈত্যাকার ক্ষুধার টগবগে লেলিহান শিখার জলন্ত ফার্নেসের মতো।

তার ক্ষুধার বলি হতে হবে সমস্ত মধ্যবিত্তকে। বলি না বলে একটু মাইল্ডলি বললে, উন্নয়নের অগ্নিকুন্ডে সমস্ত ‘মধ্য’ ছদ্মবেশের নিম্নবিত্তের আত্মাহুতি দানের বিনিময়েই উন্নয়ন দেবী পা রাখেন মাটির ধরায়। মধ্য বা নিম্নবিত্তের রক্ত, মাংস, আশা, স্বপ্ন, জীবন-সবকিছুকে জ্বালিয়ে ভস্ম করেই উন্নয়নের উদরে রসদ সরবরাহ করা হয়।

এ হতে মধ্যবিত্তের রেহাই নেই। মধ্যবিত্তের কোনো চয়েজও নেই। এই আত্মদান বাধ্যতামূলক ও অনৈচ্ছিক ও অবভিয়াস।

এবং সেটাই শুরু হয়েছে। প্রথম প্রথম হয়তো নিরবে আসবে, আসন গেড়ে বসবে। তারপর আগ্রাসীভাবে সে থাবা বসাতে শুরু করবে। তার নিরব হানা শুরু হয়ে গেছে। যা কিছু দেখছেন, যা কিছু অনুভব করছেন, যে আতঙ্কে কলিজাটা গলার কাছে উঠে আসছে-তা হতে রেহাই নেই। আজ হোক, কাল হোক, আপনাকে সে গ্রাস করবেই।

হয়তো ভাবছেন, আরেহ, আমি তো এখনো দিব্যি আছি। ওদিকে রেসেশন, উন্নয়ন দেবীর আসূরিক ত্রিশুল বলছে, “আহো, ভাতিজা আহো।”

জগতের সব দেশে, সব জাতিতে, সব যুগেই এটা হয়েছে। উন্নয়ন দেবীর প্রণয়ের মোহে পড়েছে যারাই, তাদের মধ্যবিত্তকে জ্বালিয়ে অঙ্গার করেই সিদ্ধিলাভ হয়েছে। মধ্যবিত্ত উন্নয়নের জ্বালানী মাত্র। তার বুকের পাজরের ওপরেই রচীত হয়ে এসেছে উন্নয়নের সুউচ্চ সৌধ।

দুঃখিনী, দুঃখ করো না।

সাত; #humanmind #lustforfame #famecrazy

প্রশংসা, স্বীকৃতি, টাকা, আধিপত্য ও আনুগত্য-

এই পঞ্চতন্ত্র মিহি চূর্ণ সহযোগে মানবকে সৃজন করা হইয়াছে। তাই তাহার মাঝে এই পাঁচের ক্ষুধা দানবের মতো।

মানবকে জয় করিতে হইলে আর মানব হিসাবে জয়ী হইতে হইলে এই পঞ্চতন্ত্রকে কাজে লাগাও।

আট; #selfdeceit #knowinghuman

‘আত্মপ্রবঞ্চনা’ নামে একটা বস্তু আছে।

নিরুপায় মানুষের জন্য ওই আত্মপ্রবঞ্চনাটাই হল যাদুর জিয়ন কাঠি।

আমরা, মানুষেরা, নিজেকে আত্মপ্রবঞ্চনা দিই ক্ষণে ক্ষণে। বিন্দুমাত্র মন গলবে না, ন্যুনতম সাহায্যও মিলবে না-জেনেও আমরা মানুষের কাছে সাহায্য চাই।

মিলবে না-তা নিশ্চিত জেনেও কেন চাই?

ওই যে, বললাম, না? আত্মপ্রবঞ্চনা?

অবশ্য আরেকটা উদ্দেশ্যও কাজ করে। সেটার নাম

‘আত্মজা’ চেনা, তথা ”মানুষ চেনা।”

নয়; #rebel #socialrevolution #

গোপন একটা এরাদা করেছিলাম, অনেক দিন আর প্রবন্ধ লিখব না। শুধু কবিতা লিখব। কবিতায় প্রাণ সঞ্চারিব, কবিতায়, নিজেরেও।

তবু বলে না, খাসলত। তাই, দুটো যুগপৎ ঘটনা দেখে হাতটা নিশপিশ করছিল। বহুক্ষণ উপেক্ষা করে অতঃপর পরাজিত হলাম। সংক্ষেপে লিখে ফেলে মুক্তি নেব। আর লিখব না। শুধু………….কবিতা।

গতকাল দুটো গ্রুপে দুজন পাঠকের ক্ষুদ্ধ মন্তব্য দিয়ে বলি।

প্রথমজনের মন্তব্য-”বাংলাদেশের প্রাইভেট এমপ্লয়াররা সব লুটেরা, চোর, বাটপার। আর তাদের এইচ.আর রা সব মালিকের কুত্তা।”

দ্বিতীয়জন নয়, আসলে অনেকজনই আবার একটা লেখা খুব কপি/পেস্ট করেছেন, যার সার বত্তা হল, কারো রিজিকে হাত দেয়া উচিত না, কারো পেটে লাথি মারলে তার করুণ পরিণতি হবেই, কারো চাকরি খাওয়া অতি গর্হিত কাজ-ইত্যাদি ইত্যাদি। মোদ্দা কথা, কাউকে কোনো অবস্থাতে চাকরিচ্যুত করা যাবে না।

ধরে নিচ্ছি, যেহেতু এই ফেসবুনীতিগদ্য ভাইরাল হয়েছে, তার মানে, মেজরিটি ওটাই মনে করে-”কারো প্যাডে লাতি দিবেন না।” তাই, তথ্যসচিবকে বহিষ্কার করে, কিংবা গ্রীড বিপর্যয়ের নায়কদের বহিষ্কার করেও সরকার এই ‘মেজরিটি’ ও জাগ্রত জনতার অভিশাপে হয়তো লুলো বা ল্যাংরা হয়ে যাবে। অবশ্য শকুনের অভিশাপে গরু থোরাই মরে। ফেসবুকীরা অবশ্য আবিষ্কার করেছে, রুহের হায় নামে নাকি কী একটা আছে-যেটা নর্থ কোরিয়ার ব্যালেস্টিক মিজাইলের মতো অব্যর্থ।

এইচ.আরে চাকরি করি। প্রতিদিন, প্রতি মাসে, প্রতি বছরে অসংখ্য মানুষকে চাকরিতে নিই। (চাকরি দিই-এত বড় কথা বলবার মতো স্পর্ধা দেখালাম না।) অনেক মানুষ চাকরি পেতে সাহায্য চান, সাধ্যমতো সাহায্য করি। কারো কারো চাকরি হয়, অনেকের হয় না। অনেককে সাহায্যও করতে পারি না। যাদের হয়, যাদের চাকরিতে নিই-তাদের কাছে হিরো হয়ে যাই। তাৎক্ষণিক ‘যৌনতা’র মতো হতবিহবল কৃতজ্ঞতায় আমাদের ভাসিয়ে দেন চাকরিপ্রাপ্তরা। যদিও ক্ষণপতনা সে কৃতজ্ঞতার স্থায়ীত্ব অতি স্বল্প। যাহোক, চাকরি দিয়ে নিশ্চয়ই বিশাল পূণ্য কামাই।

আবার, এর বিপরীতে, প্রতি দিন, মাস, বছরে আমাদের পেশাগত দায়ীত্বের অংশ হিসেবে আমরা প্রচুর চাকরি ’খাই’। নানা কারনেই খাই। সবসময় যে সেটা সঙ্গত-তা নয়। আবার, আমার পেশাগত জীবনে যতগুলো চাকরি খেয়েছি, তার মধ্যে অসঙ্গত অতি অতি সামান্য। তাও নিজের অসঙ্গতি নয়।

চাকরি খেয়ে আবার অভিশাপও নিশ্চয়ই কুড়াই। নিশ্চয়ই কী বলছি, অবশ্যই কুড়াই। প্রকাশ্যে, গোপনে চাকরি খাবার গালি আমি বহুবার খেয়েছি। খুব ঘনিষ্ঠ ও ‘আরোপিত’ বন্ধুত্বের মানুষেরা ভুল ধারনাবশত চাকরি খাবার অভিশাপ আমাকে বহুবার দিয়েছে। (যদিও ভুল ধারনাবশত)।

তো, যারা ‘পেটে লাত্থি’ দেবার বিরোধী, যারা ‘রিজিকে হাত’ দেয়া যাবে না নীতির পান্ডা, তারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন, বিপরীত দিক হতে?

পেটে লাথি দেয়াটা যে কখনো কখনো অবভিয়াস, অবলিগেটরি ও ডিমান্ডিং হয়ে থাকতে পারে-কখনো সেই লাইনে চিন্তা করে দেখেছেন? খুব তো গালি দিয়ে গেলেন কাল? খুব তো বললেন, “কিছু কোম্পানী নির্দয়ের মতো ছাঁটাই করে, কিছু অফিস চাকরি খায়, কিছু এইছাড় গুটি চালে, নাম কামায়, মালিকের পা চাটতে নির্বিচারে চাকরি খায়”-ইত্যাদি ইত্যাদি।

অন্য দিকটা ভেবে দেখেননি? দেখবেন না?

দশ; #employability

আপনার বর্তমান চাকরি আর কোম্পানিটিকে যদি আপনার অতি অতি জঘন্য ও বিষাক্ত লাগে,

আর,

আপনার বর্তমান সুহৃদ ও স্তাবক গোষ্ঠীকে যদি অতি মিঠা লাগে।

তাহলে,

শুধু চাকরিটা আজকেই ছেড়ে দিয়ে দেখুন।

কত ধানে কত চাল আর আপনি কত বড় এলেমদার-কালকেই বুঝে যাবেন, যখন সমানে Application করবেন অথচ ডাক পাবেন না; আবার ডাক পেলেও ইন্টারভিউতে রিজেক্ট হতে থাকবেন।

সেই সাথে, স্তাবক ও সুহৃদ গোষ্ঠী যখন ফোনও ধরবে না, তখন বুঝবেন, কে কার খালু ছিল।

এগারো; #relatives #socialobligation

জোতিষরাজ লিটন দেওয়ান চিশতী হতে পেছাতে পেছাতে আপনি আর্কিমিডিস অথবা কোপার্নিকাসের যুগে চলে গেলেও এমন একজন জোতিষ বা ভবিষ্যতদ্রষ্টা পাবেন না,

যিনি ভবিষ্যতবাণী করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যে,

ভবিষ্যতে, ত্রিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে একটা সময় আসবে, যখন,

বঙ্গদেশে ‘আত্মীয়’ নামে এক ধরনের প্রাণী জন্ম নেবে, যাদের,

জন্ম ও বিস্তার হবে কেবল এজন্যই, যে,

মানুষ হঠাৎ হঠাৎ অন্য কারো সাথে কথা বলবার সময় যাতে বলতে পারে,

”ও, হ্যা, ওই নামে আমার একজন আত্মীয় ছিল।”

বারো; #forgettingpast #rememberingpast #unexpectedluck #outcast #classstatus #classconflict #classdiscrimination

বৃহস্পতিবার। সপ্তাহের সবচেয়ে হর্ণি দিবস। গজবেরও।

তো, বৃহস্পতিবারের বিকেল পাঁচটা। কাওরানবাজার মোড়। হাশরের মাঠের সিচুয়েশন। অফিস ফেরতদের তীব্র চাপ। রাস্তায় মানুষ গিজ গিজ করছে। একটা বাসে কোনোমতে একটু পা রাখার জন্য তীব্র হাহাকার। বাসের ভেতরেও কেয়ামত।

ঠিক এমন সময় একটা খালি দোতলা বাস, সার্ক ফোয়ারা হতে হঠাৎ টার্ন নিয়ে মিরপুর যাবার জন্য UTC প্রান্তের মোড়ে এলো। পুরো বাস ফাঁকা। রাস্তায় দাড়ানো হতবিহবল মানুষগুলো কিছুটা হতচকিত ও দ্বিধান্বিত এই অচিন্তনীয় সুযোগে। বাসটা দাড়িয়ে। তবুও কেউ উঠছে না।

হঠাৎই তেরো বছর বয়সী হেলপার গগদবিদারি চিল চিৎকার দিয়ে ডাকতে শুরু করল,

”অই, কাজিপাড়া, ছ্যাড়াব্যাড়া, মিপপুঁ মিপপুঁ মিপপুঁ।”

ব্যাস, রাস্তার মানুষগুলো অনেকটা পিপড়ের চাকে ম্যাচের কাঠি পড়বার মতো নড়ে উঠল। পুরো রাস্তা একযোগে বাসের দুই দরোজায় হামলে পড়ল। বহু কষ্টে, আস্টেপৃষ্ঠে একজন দৌড়ে ভীড় গলে সবার আগে বাসে ঢুকে পড়ল।

খেলা শুরু এরপর।

ওই লোকের মাথা নষ্ট হবার মতো উপক্রম হয়।

কখনো নিচের তলায় পেছনে বসে, একটু পড়ে লাফ দিয়ে উঠে সামনে যায়। আরেহ, না না না, দোতলায় বাতাস পাব, চলে যায় দোতলায়। ডানের সারিতে বসে। একটু পরে আবার বামের জানালার কাছে। আবার নাহ, লাফ দিয়ে দৌড়ে একদম সামনের সীটে বসে। কী করবে-হঠাৎ পাওয়া অচিন্তনীয় সৌভাগ্যে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। মাথা নষ্ট। বর্ষার নতুন জলে কৈ মাছ যেমন পুকুর হতে ডাঙায় দৌড়ায়-তেমনি।

কিছু কিছু বা অধিকাংশ মানুষের একই অবস্থা হয়।

জীবনে হয়তো একটা স্টিল খোয়াব ছিল-বড়জোর গ্রামের স্কুলে টেন ক্লাস তক পড়ব, সখিনাকে বিয়ে করব, বাপের ভাগ হতে তিন কানি জমি পাব, মধ্য বয়সে সাড়ে তিনটা ল্যান্ডাপ্যান্ডার বাপ হব, সাথে পরকিয়া সাড়ে দুইটা, জমি নিয়ে মামলা থাকবে আটটা। তেল জবজবে টাকা মাথা, পেল্লাই ভূড়ি একটা, ডায়বেটেস, কিডনী রোগে কাতর, বউয়ের মাজায় ব্যথা। জীবনটা সন্ধ্যায় চায়ের টঙে রাজা উজির মারার মধ্যেই আটকা।

কিন্তু, কোনো এক অচিন্তনীয় যাদুর বলে, আজ ঢাকায়। ৯টা ৫ টা না হলে ৮ টা ১০ টা চাকরি, আপিসের বেতনভূক ড্রাইভার আর আপিসের তেলভূক ৪ চাকার গাড়ি। উঠতে নামতে ড্রাইভার সেলুট ঠোকে আর দরোজাটাও নিজের খোলা লাগে না। আপিসে গেলে সাতজন দৌড়ে আসে, কেউ খিলায় লেবুর শরবত, চা নিয়ে আসে কেউ, দুপুরে কী খাবেন-শুধায় তিন জন। বিকেলে আবার কেলাব আছে। সেখানে তাস, পোকার, বিলিয়ার্ডও হয়তো চলে। সাথে সাদা ও লাল পানিও কিঞ্চিত ভয়ে ভয়ে গলায় নেমে যায়।

রাতে বাসায় ফিরতে দেরী। তবুও পোষা বউ পাবদা মাছের ঝোলের তরকারী আর চিকন বাসমতি চালের ভাত বেড়ে অপেক্ষা করে। বাসায় এসি থাকলেও হাতপাখায় বাতাস মেলে। অতঃপর আয়েশে খেয়ে লুঙ্গীর কোষা ঢিলা করে পালঙ্কে ঢিঁড হয়ে শুয়ে কিছুক্ষণ টকশো দেখে দেশের খবর নেয়াও চলে। অতঃপর………………………

না, ১৮+ এ যাবার ভাগ্য নেই। ওটা রহিত হয়েছে বহু আগে।

এই যে অচিন্তনীয় সৌভাগ্য, যা অর্বাচীন বয়সে কল্পনাতেও কখনো আসেনি, তা পেয়ে গেলে মানুষের মাথা নষ্ট মতো হয়। তখনই ধরাকে সরা জ্ঞান করে।

তেরো; #satisfaction #containment #timely

যখন যেটা তোমার দরকার, সেটা তুমি তখন পাবে না। হ্যা, পাবে, যখন সেটা তোমার আর দরকার নেই।

বিশেষ দিনে তোমার মন কেমন কেমন করে, কাউকে পাশে পেতে মন চায়, কাউকে মনের কথা বলতে মনটা তড়পায়। পাবে না, কাউকে পাবে না। পাবে অবেলায়। যখন মনটাই মরে যাবে।

সঙ্গ ও ভালোবাসা দরকার জীবিত মানুষের।

অথচ একজন মানুষ নিঃসঙ্গ অবস্থায় ঘরের মধ্যে মরে পড়ে থাকলে, অতঃপর বাড়ি ভেঙে মানুষের ঢল নামে। ফুলের তোড়ার বন্যা বয়।

চৌদ্দ; #diversity #dynamism #gamechanger

Diversity & Dynamism

Liberalism & permissiveness

Liberty & participation

এরকম আরও কিছু বিষয় বা ফ্যাক্টরকে বলা হয়ে প্রতিষ্ঠান ও সিস্টেমের গেম চেঞ্জার।

 বৈচিত্র নিয়েই মানুষ। একটি প্রতিষ্ঠানে (আমাদের প্রতিষ্ঠানেও) বিভিন্ন ঘরানার, বিশ্বাসের, দৃষ্টিভঙ্গির, চেতনার, বোধের, অঞ্চলের, ভাষার, অভ্যাসের, বয়সের, চরিত্রের, ক্লাসের কর্মী থাকে। প্রতিষ্ঠান এই বৈচিত্র নিয়েই অনন্য।

 ওপরে বলা বিষয়কে যে প্রতিষ্ঠান যত বেশি প্রাধান্য ও গুরুত্ব দিতে পারে, তার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি তত বেশি।

 আমাদের কর্মক্ষেত্রে অসংখ্য ধরন ও বৈচিত্রের মানুষেরা এসে যুক্ত হন। এই বৈচিত্রকে ছেঁটে নয়, বরং তাকে প্রতিষ্ঠানের সাথে এলাইনড ও সিংক্রোনাইজড করে নেবার মধ্যেই কল্যাণ।

 নিজ নিজ টিমের সব রকম ডাইভারসিটিকে বুঝুন, জানুন, অনুধাবন করুন এবং তারই আলোকে ম্যান ডিলিং করুন। আলাদা বৈচিত্রের সহকর্মী বা জুনিয়রের জন্য আলাদা স্ট্রাটেজি বানান।

 মনে রাখবেন, Diversity is positive energy.

পনের; #mentalagony #agitation

মাঝে মাঝে অস্থিরতায় ভরা দিন আসে। আবার আসে খুব অশান্ত একেকটা রাত।

অস্থির, অশান্ত, উত্তাল অথচ অব্যখ্যাত একটা সময়। যার কোনো হদ্দমুদ্দ মেলে না।

কিছু মাস আগে একজন প্রায় অচেনা (স্বল্প চেনা) মানুষের শেষ বিদায়ের রাতটাও ছিল এমনই এক অস্থির রাত। আমরা অনেকগুলো বন্ধু বা সুহৃদের সবারই হয়তো সে রাত ছিল কুৎসিততম রাতের একটা। যখন আমরা প্রত্যেকে জানতাম, আমাদেরই এক প্রায় অচেনা মানব আজ রাতটায় মৃত্যুদূতকে শিয়রে নিয়ে যুঝবেন প্রাণপনে। মৃত্যুদূত সে রাতে জিতে যান। হেরে যায় মানবের লড়াই। কাক ভোরে হার মানে সে যমদূতের হাতে সমর্পিত হয়ে। শিয়রে বসা বন্ধু, স্বজন, দারা, পুত্র, পতিকে না জানিয়ে নিরবে প্রস্থান করেছিল সে হতভাগা। অবুঝ সন্তানরা নতুন ভোরে জানতে পারে, মা আর নেই।

কী কুৎসিত ছিল সেই সকালটা। কী নারকীয়।

মৃত্যু কুৎসিত। কুৎসিত মৃত্যু।

অশান্ত ও অস্থির সেই রাতের মতো সময় আবারও ফিরে আসে। বারবার আসে। বারবার।

ষোলো; #imagefactor #obligationoffame #FanBase #OrganicFan #OrganicPopularity

রেশম পোকার মথের মতো মানুষ নিজেকে নিজেই একটা ঘেরাটোপে বন্দী করে ফেলে।

ব্যক্তিত্বের ঘেরাটোপ, জনপ্রিয়তার ঘেরাটোপ।

চারপাশের মানুষ, ভক্ত, শুভাকাঙ্খীরাও ব্যক্তিকে কখনো কখনো একটা ঘেরাটোপে আটকে ফেলে, তাকে অমরত্বের নামে, ভক্তের দাবীর নামে, একটা ভাবমূর্তির ঘেরাটোপে বন্দী করে রাখে।

ঘেরাটোপে বন্দী দেবতার হয়তো মন চায় আলুর দম দিয়ে দু’খানা লুচি খাবেন। কিন্তু, ভক্তদের সৃষ্ট ভাবমূর্তির বাঁধা তাকে খিলায় বিশুদ্ধ গঙ্গাজল আর নিরামিষ পরমান্ন।

নিজের আর ভক্ত বা সমাজের গড়ে দেয়া ভাবমূর্তির খাঁচায় পড়ে পড়ে কাঁদে হাসনের বাউন্ডূলে মন। অরগ্যানিক-শব্দটি প্রায় বিস্মৃত হতে বসা একটি শব্দ।

আপনি কি মনে করেন, প্রতিনিয়ত যেসব কমপ্লিমেন্ট, চিয়ারস, অ্যাপ্রেসিয়েশন, হুল্লোড়, সহমদ আপনি পান-সেগুলোর পুরোটা অরগ্যানিক?

যদি ১০০% ভাগ না হয়, তাহলে কত পারসেন্ট হতে পারে?

গিভ আ সেকন্ড থট।

আপনার গুনের মুগ্ধ কে হবে, আপনার ভক্ত কে হবে ও কেন হবে-তা নিয়েও মানুষ ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়। আপনার অরগ্যানিক ভক্ত, অনুরাগী, মুগ্ধ খুঁজতে বসলে সেলেব্রিটি আপনি নিজেও তাজ্জব হবেন।

মানুষ আজকাল ফ্যান হবার আগেও হিসেব করে নেয়, আপনার কাছ হতে তার স্বার্থ কতটা মিলবে।

কারো মুগ্ধতা, প্রশংসা, বাহবাতে গলে গেলে যেতে পারেন। আবার, কতটা অরগ্যানিক-সেই সূক্ষ্ণ বিচার করতে গিয়ে নিজের জীবন ও চিন্তাকে জটিল করেও তুলতে পারেন। আপনার স্বাধীনতা।

লক্ষ লক্ষ লোক লালন তীরোধান উৎসবে মেতে উঠেছে দেখে যেমন লালন চিন্তকদের নেচে উঠবার কোনো কারন নেই, বিকজ, এই মচ্ছব লালনিজমকে ভালোবেসে না। লালন জাতে উঠেছে-সেই হাইপে নিজেকে একজন দেখাবার ধান্দা এটা।

সো, আপনার গুনমুগ্ধ ও ফ্যানদের নিয়েও সতর্ক হোন। এখনো ফেসবুকের লাইক ঝুড়িতে করে বাজারে নিয়ে বিক্রী করে দুই আনার বেগুন কেনা যায় না। হ্যা, লাইক ব্যাবসা ও ভিউ বানিজ্য করে পেটে ভাত আনতে চাইলে ভিন্ন আলাপ। লক্ষ্য যদি হয় ভিউ ও বানিজ্য, তাহলে নিজের পশ্চাৎদেশ দেখিয়েও পয়সা কামাই করা যেতে পারে।

সতেরো; #branding #businessethics

আমি প্রোডাক্ট ব্র্যান্ডিং জগতের কেউ নই।

হ্যা, এমপ্লয়মেন্ট ‍যদি কোনো প্রোডাক্ট হয়, তাহলে আমি তার ব্র্যান্ড প্রমোটার বটে। আমি একজন HR পেশাজীবি এবং ফ্রিল্যান্স হেড হান্টার।

তবে আজ কথা বলছি প্রোডাক্ট ব্র্যান্ড ও ব্র্যান্ড প্রমোশনে নৈতিকতা নিয়ে।

একটি পণ্য বা পণ্য বাজারজাতকারী বা নির্মাতা-এক কথায় ব্র্যান্ড ওনার যখন তার পণ্যের ও পণ্যের বিজ্ঞাপন তথা মার্কেটিং টুলস নির্ধারন করেন, তখন ইথিকস এবং ইথিক্যাল অবলিগেশন তাদের মনে কতটা কাজ করে, বা, মার্কেটিং/ব্র্যান্ডিংয়ের পাঠ অনুযায়ী, কতটা কাজ করা উচিত?

আরও পরিষ্কার করে বললে, একটি পণ্য বা তার বিজ্ঞাপন ক্রেতাসাধারনের জন্য আখেরে ক্ষতিকর কিনা (শুধুমাত্র ইনগ্রেডিয়েন্টসের খারাপ মান মিন করছি না, সেগুলোর ক্ষতিকর প্রভাবও মিন করছি।), এবং ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য যেসব পন্থা ফলো করছে, বিশেষত বিজ্ঞাপন, সেগুলো সমাজ ও সমাজের জেনারেশনকে বিপথে চালিত করছে কিনা-সেটি কি তারা বিবেচনায় রাখেন? বিশেষত বাংলাদেশে? মার্কেটিংয়ের তত্ব কী বলে? মনে কি রাখার কথা?

নাকি এখানে সুপ্রাচীন প্রবাদই মেনে নিতে হবে-

”ব্যবসা, যুদ্ধ, প্রেম ও রাজনীতিতে আনএথিক্যাল ও আনফেয়ার বলে কিছু নেই।”

আঠারো; #greed #greedynation #lazy #takenforgranted

লোভি ও ইর্ষাকাতর একটি প্রজাতি আছে পৃথিবীর অধীনস্থ উগান্ডা নামক রাষ্ট্রে, যারা পরেরটা খাওয়া ও পরেরটা দেখে খাওয়ার বিষয়ে রীতিমতো লাশার মতো ওস্তাদ।

এরা এমনকি, কাউকে যদি রাস্তায় “ঘেডি ঘুল্লা” বা ‘জুতার বাড়িও খেতে দেখে, তাহলে,

”আরেহ, ও একলা একলা সব খাইয়া ফেলব নি?” চিন্তা করে, তখুনি গিয়ে বাড়িদাতাকে বলবে,

”অঁরে একলারে খাওয়াইলেন ক্যান, আমারেও জুতার বাড়ি খাওয়াইতে অইব।”

ইর্ষা এমনই এক বিষ, যে বিষ খেলে সদ্য স্বামী মরেছে যে স্ত্রীর, সে ও বলতে পারে,

”স্বামী মরছে সমস্যা নাই, সতীন তো বিধবা হইছে।”

এই নগরের নুলো ভিকিরিটাও, ভিক্ষে পাবার জন্য সামান্য হাকডাক করতেও রাজি না। সেও দাবী করছে, সে ডাটের সাথে পদ্মাসনে বসে থাকবে, আর পূণ্যার্থীরা পূণ্য কামাইয়ের ঠেকায়, স্বর্গে যাবার বাসনায় তার শ্রী-পদে টঙ্কা ঠনঠন করে জমা করে যাবে। 

এই গজবের দেশের নেড়ি কুত্তাটাও, একটা বিস্কিট খেতে পাবার জন্য সামান্য ঘেউ ঘেউ করবার কষ্ট করতেও রাজি না। তার দাবী, সে ন্যাজ গুটিয়ে ফুটপাতে রাজাসনে আসীন থাকবে আর মানবকূল তাকে ভক্তি করে পদপ্রান্তে পছন্দের কেক, কুকিজ, সসেজ, হটডগ নিবেদন করে যাবে।

এই মরার দেশটাতে পরেরটা খাওয়া ও পরের ওপর দিয়ে খাওয়া এখন সর্বজনস্বীকৃত একটি সাংবিধানিক নাগরিক অধিকারের মতো।

এমনকি সেটা করার জন্য সামান্য আয়াস খরচ করাও এখন অপ্রয়োজনীয় হিসেবে গণ্য। বরং, ওটাকে দাতার দায় বলে গণ্য করা হচ্ছে।

কেউ তার নিজের কাজটা করতে আর রাজি না। সবই মাগনার খেলা।

উনিশ; #mothervsaunt #exagiration #overacting

মা’র চেয়ে মাসীর দরদ বেশি হলে অবশ্যই বুঝবেন, আপনার সতর্ক হবার কারন ঘটেছে।

ধরুন, আপনার ক্যান্সার ডিটেক্ট হয়েছে। একই সাথে আপনার চোখ উঠেছে। জনৈক শুভাকাঙ্খী সে খবর পেয়ে আপনাকে দেখতে এসে যদি কাঁদো কাঁদো হয়ে, চোখের জলে ভেসে ভেসে, আহাজারির সাথে বলতে শুরু করে,

”ওরে, তোর যে চোখ উঠল, তুই তাহলে আসছে শুকুকুরবার বিসিএস প্রিলিমিনারীটা কী করে দিবি?”-

তাহলে আপনার কেমন অনুভূতি হবে?

উটকো সবক, অশিক্ষিতের উপদেশ, বেআমলীর ফতোয়া আর ফেসবুক মোল্লার ওয়াজও তেমন লাগাই স্বাভাবিক।

চাকরি চলে গেছে, বউ, পোলাপান, মা-বাপ ৭ দিন ধরে ভুখা, নিজের ইনসুলিন পেন্ডিং হয়ে সুগার লেভেল অধরা-এই আগুনে যার অন্তরটা খা খা করে জ্বলছে, জনৈক বা দলে দলে সুহৃদ যখন তাকে সংগৃহিত ফেসবুক নীতিগদ্য-

”রিজিকের সর্বনিম্ন স্তর হল টাকাপয়সা……………………..” মেসেঞ্জারে কাতারে কাতারে পাঠানো শুরু করে, তার মনের অনুভূতি কেমন হতে পারে?

কারো বাসায় চাল কেনার পয়সা নেই। (মাত্রই সেদিন একজন বেকার সিনিয়র সহকর্মী জানালেন, বহু কষ্টে বাসায় ফেরার সময়ে ১ সের চাল কিনে চোরের মতো বাসায় ফিরেছেন।)

কারো চাকরি গেছে ৮ মাস, বাসা ভাড়া দিতে পারছেন না।

কারো ব্যবসায় লস গেছে। পাওনাদাররা রোজ এসে হুমকী দিয়ে যাচ্ছে।

কারো চাকরি হচ্ছে না। খোদ মা/বাপ বলে দিয়েছে, চাকরি না পেলে বাসায় না ফিরতে।

কারো বেতন হচ্ছে না ৪ মাস ধরে। বউ বলে দিয়েছে, সে তিন মাসের প্রেগন্যান্ট।

কারো বাচ্চা হচ্ছে না, স্বামী চোখের সামনেই বলে কয়ে পরকীয়া করছে।

আমরা খোঁজ নিইনি। ১০ টা টাকা দিইনি। চাকরি দিইনি। দু’চার জায়গায় সিভি ফরোয়ার্ড করিনি। ১ সের চাল কিনে দিইনি। বাসা হতে রান্না করে নিয়ে হাজিরও হইনি। হাসপাতালে দুই রাত বেডের পাশে জাগিনি। জিজ্ঞেসও করিনি। মেসেজও সীন তক করিনি।

কিন্তু, ফেসবুক হতে সংগৃহীত নীতিগদ্য ঠিকই মেসেঞ্জারে পাঠিয়েছি। দেখা হলে, নরকের আগুনের টেম্পারেচার নিয়ে সতর্ক অবশ্যই করেছি। জীবন্ত মানুষটা সাক্ষাত নরকে পুড়ছে-তার নিদান না দিয়ে লাশ হবার পরে তার নরকে পুড়বার চিন্তায় বেশি বেচাইন আমরা।

শুধু তার বুকের আগুনটার উত্তাপ অনুভবের চেষ্টাটাই এড়িয়ে গিয়েছি।

[সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই পোস্টে সদুপদেশ দাতাদের কটাক্ষ করা হয়নি। সাধু ও দরবেশদের পারলৌকিকতা ও আধ্যাত্মিকতা চর্চা বন্ধ করবার দাবী করা হয়নি। নরকের আগুনের জন্য পানি সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তাও অস্বীকার করা হয়নি। কেবলমাত্র উটকো আহা উপদেশ ও উহু উপদেশদাতাদের পিন্ডি চটকানো হয়েছে। এই পোস্টটি কমোডে বসে কম্পোজকৃত।]

বিশ; #grabingpublicproperty

হে বিশ্বচরাচরের মালিক,

আপনার কাছে নালিশ দিলাম।

কেন দিলাম?

কারন, আপনার নমিনেটেড বান্দারা ব্যর্থ, অথবা, তারা করবে না।

কী হয়েছে?

না, মানে, আপনারই কিছু কিছু অতি পূন্যবান কমরেড ও বান্দা গরীবের সুইজারল্যান্ড মিরপুরের প্রতিটি ইঞ্চি রাস্তা, ফুটপাত, বাসাবাড়ির গেট, পর্চ, গলি, তস্যগলি, মাঠ, আমতলা, জামতলা- সবকিছু দখল করে নিয়ে হয় ভ্যানহুসেন গ্যালারী, নয় তো ইটালী, কিংবা ফুটারী খাটোয়ারী বিজনেস সেন্টার বসিয়ে দিয়েছে।

হাঁটার রাস্তা নেই, হাঁটার ফুটপাত নেই, ঘর হতে বেরোনোরও উপায় শীগগীরই বন্ধ হবে। বাসার ছাদ দিয়ে উড়ে অফিস যেতে হবে।

আপনার নমিনেটেড বান্দারা এসবের সমাধানে ব্যর্থ। তাই আপনাকে বলা।

না, ওই দখলদারদের কিছু করতে হবে না।

আপনি শুধু আমাকে আর বউকে দুটো পাঙ্খা গজিয়ে দ্যান। তাহলেই হবে। মিরপুরের দখলদার রাস্তাফুটগলিখেকোদের হটানোর চেয়ে আমাদের দুজনের পশ্চাৎদেশে দুটো লেজ ও পাঙ্খা গজিয়ে দেয়া অনেক সহজ।

হে মহামহিম, মেহেরবানি করে ভ্যানহুসেন মানে যে ভ্যানে বসানো দোকান, ইটালি মানে ইট দিয়ে গড়া দোকান আর খাটোয়ারী যে ছোট সস্তা আম কাঠের চকিতে বসানো বিজনেস-সেই মানে জিজ্ঞেস করে আমাকে শরমিন্দা করবেন না।

আর প্লিজ, আমি মিরপুরের কততে থাকি এবং ‘এ ব্যপারে অফিশিয়াল অভিযোগ দায়ের করব কিনা’ সেটাও জিজ্ঞেস করে আমার হায়া ও ইজ্জতকে ঝুঁকিতে ফেলবেন না। শেষে আবার বাসার সামনে ময়লার গাড়ি অফলোড হবে।

একুশ; #busypeople #hyperbusyness

আমি ঈশ্বরকে অসীম কৃতজ্ঞতা জানাই, যে, তিনি আমাকে খুব, খুব, খুব বিরল ও অতি, অতি ব্যস্ত আর হাইপ্রোফাইল কিছু মহামানবের ‘পরিচীত’ হিসেবে পয়দা করেছেন,

যাদের ব্যস্ততা দেখে খোদ যমদূতও তাদের শিয়রের কাছে পয়গাম নিয়ে এসেও লজ্জা পেয়ে যমালয়ে ফেরত যান আর ঈশ্বরকে বলেন,

“পারলাম না বস, লোকটা এত এত এত ব্যস্ত, যে, আমি তার গলাটা টিপে জানটা বের করতে পারলাম না। তাও একবার সুযোগ পেয়েও ভাবলাম, এই লোকটাকে এখন তুলে নিলে গোটা বিশ্বব্যবস্থা ধ্বসে পড়বে। তাই বিশ্বমানবের কথা ভেবে তাকে মর্ত্যেই রেখে এলাম।”

God save the busiest.

এঁনারা ব্যস্ততার জন্য ফোন করেন না, ফোন ধরেন না, মিসড কল দেখেন না, মেইল মেসেজ পড়েন না, পড়লে উত্তর দেবার সময় পান না।

এহেন ব্যস্ত মহামানবদের দেখে হিংসায় মরে যাই।

মা’কে বলি, মা, বড় তো হচ্ছি, কিন্তু ব্যস্ত হব কবে?

বাইশ; #looting #statebackedloot

একটা সময় ছিল, ঠগিরা গামছাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পথচারির সব লুটে নিয়ে তাকে খুন করত।

এই ডিজিটাল ঠগির যুগে নব্য ঠগিরা গামছা, ধুতি, লুঙ্গি, পাজামা, কোট, স্যুট, পাঞ্জাবি, দড়ি, কাছি, কম্পিউটার, কাগজ, কলম, ভোট, নোট ও ‘বেশ্যা’-সবরকম অস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত লুট করছে প্রকাশ্য জনারন্যে।

একদম ‘নগদে’।

লুটপাট শব্দটা এখন আর যথেষ্ট নয়। যা চলছে, সেটার জন্য নতুন একটা শব্দ বানাতে হবে।

তেইশ; #corporateslavery #corporateexploitation #corporatedeceit #corporatehypocrisy #corporatemockery #lowercasthighercast #cultclassic #heritage

আপনার অঘোষিত ভ্যালু প্রোপোজিশন কী-জানেন? মানে, আপনাকে পে করা হয় কেন জানেন? মানে আপনাকে কীসের জন্য মাইনে দিয়ে বায়না করা হয়েছে-তা জানেন?

আপনি হয়তো ভাবছেন, যে, আপনার পণ্য, বা মেধা বা শ্রমের দাম হিসেবেই কেবল আপনাকে পে করা হয়। আদতে, আরও অনেক কিছু আছে।

১. বিজনেস করার জন্য। আপনার ’কফিল’ এর বিজনেস ইন্টারেস্ট পাহারা ও পালবার জন্য আপনাকে মজুরী দেয়া হয়।

২. সাম্রাজ্য সাম্রাজ্য ফিলিং দেবার জন্য। প্রত্যেক কফিলের জন্য তার প্রতিষ্ঠান একটি এমপায়ার। সেই এমপায়ারে তিনিই স্বঘোষিত সম্রাট। সেখানে তাকে একটা সাম্রাজ্যবাদী প্রভূর মতো উচ্চাসনে বসিয়ে নতমস্তকে কুর্নিশ করে তাকে এমপায়ারের থ্রিল অনুভব করানোর জন্য আপনাকে রাখা হয়েছে। আপনি সেই আয়োজনের কুশিলব হওয়ায় পেমেন্ট পান।

২. প্রতাপ দেখানোর জন্য। ওই যে বললাম, এমপায়ার। সেই এমপায়ারে আপনার ওপর রাগ, গোস্বা, হুহুঙ্কার প্রয়োগ করে নিজ নিজ প্রতাপ প্রমান ও ধার দিয়ে নেবার জন্য আপনাকে বিলিগোট হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তার বিনিময়ে আপনাকে সামান্য কড়ি দেয়া হয়।

৩. ফ্রাস্ট্রেশন উগড়ে দেবার জন্য। এমপেরর বাহাদুর ও তার উচ্চবর্ণীয় লেঠেল, বরকন্দাজ, রাজন্যবর্গের ব্যক্তিগত ফ্রাস্ট্রেশনের ভেন্টিলেশন আপনার ওপর প্রয়োগ করে প্রশমিত করা হবে। মানে আপনি পিকদান। সেটাও আপনার মাইনে পাবার কারন।

৫. প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য। কত্তাদের মনের মধ্যে জমা প্রতিহিংসার আগুন, বিশেষত গৃহরমনীর ওপর সঞ্চিত প্রতিহিংসা উগড়ে দেবার জন্য আপনি আছেন। তাইতে……

৬. এক্সপিরিমেন্ট করবার জন্যও। আপনাকে অভাবনীয় সব কল্পনার ল্যাবের বিলিগোট বানানো হবে। তার জন্য সামান্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে আপনি সামান্য কড়ি পাবেন।

৭. বিনোদন ও একটা দাসানুদাস পালবার খাহেশ চরিতার্থ করবার জন্যও আপনার কদর আছে। মহান অধিপতি কফিলকে বিনোদন যুগিয়ে যাওয়া এবং একটা কর্পোরেট দাস পালবার যে আজন্ম খাহেশ আমাদের মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকে, তাকে চরিতার্থ করবার মালমশলা তো হলেন আপনি। তাই………………

#geneticlegacy #whatmakesus #origination কথা বলতে বলতে একটা ছাঁই চাপা আগুন মনে পড়ল। সেটা দাসত্বকে মহানত্ব দেয়া নিয়ে।

আপনি কি জানেন, ”তৃণমূল হতে উঠে আসা” -নামের একটি খুব পপুলার মিথ প্রচলিত আছে এই দেশে? বিষয়টাকে চোখ বুজে বিশাল মান্যতা ও আবেগ দেখানো হয়। প্রশ্ন হল, কর্পোরেটের আসপেক্টে আপনি বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন?

একদার ভূমিপুত্র অথবা ঘেঁটুপুত্র যদি একদিন রাজপুত্রের আসন পেয়ে যান;

এর ইতিবাচক দিক কী?

এর নেতিবাচক দিক কী?

মনে রাখতে হবে, একদার ঘূঁটেকুড়ুনির পুত্র কিংবা ভূমিপুত্র’র রাজপুত্রের আসনে আসীন হওয়াকে একদল মানুষ নিরঙ্কূশভাবে গেীরাবান্বিত করে থাকেন। গোবরে পদ্মফুল প্রবাদটি এই ন্যারেটিভকে এনকারেজ করেই উদ্ভূত। আবার, আরেকদল আছেন, যারা Cult Classic তত্বে বিশ্বাসী। তারা মনে করেন, ‘ছোটলোকের’ বেটাদের রাজাসনে বসার স্বপ্ন দেখাই পাপ। কূঁজোর আবার চিৎ হয়ে শোয়ার সখ-শ্লেষটির জন্ম এই ধারনাকে ভর করেই।

ধরুন, এক্সট্রিম কেসে, আপনার ড্রাইভার। সে যদি একদিন আপনার কোম্পানীর পেইড সি.ই.ও নিযুক্ত হয়, এর সার্বিক ফলাফল কতটা ইতিবাচক ও কতটা নেতিবাচক হতে পারে? কোন কোন দিক দিয়ে? ভাবতে থাকুন, বলতে থাকুন।

প্রগতিশীল ও উদারনৈতিক চিন্তাধারায় বিশ্বাসীরা ’জন্ম হউক যথা তথা, কর্ম হউক ভাল’-নীতিকে সামনে এনে বলে থাকেন, মানুষ যেমন উৎস হতেই পৃথিবীতে এসে থাকুক, তার পরিবার বা পরম্পরা যেমনই হোক, নিজের মেধা, যোগ্যতা, কাজ, কথা ও ইচ্ছার স্ফূরণ ঘটিয়ে তিনি যেকোনো সময়ে, স্থানে ও পরিস্থিতিতে শাইন ও ফ্লারিশ করতে পারেন। এবং, তার উৎসমূল তার চরিত্র, বিশ্বাস, চিন্তা বা দর্শনে প্রভাব ফেলে না। তিনি সেটাকে নিজের এফোর্ট দিয়ে জয় করে নিতে পারেন।

আবার গোঁড়া ও কট্টরপন্থীরা বিশ্বাস করেন, যে, মানুষ যে অবস্থানেই পৌছাক না কেন, তার জন্ম, পরিবার, জেনেটিক পরম্পরা, ক্লাস অরিজিন-এসব তার আজীবনের চিন্তা, আচরন, দর্শন-এসবকে প্রগাঢ়রূপে প্রভাবিত করে। এর একটা ছাপ তার সবকিছুতেই থাকবে আজীবন।

মূলত আমরা যেই মানুষ, সেই মানুষটি হয়ে উঠি কীসের ভেতর দিয়ে? আমরা প্রধানত আমাদের জেনেটিক লিগ্যাসী, পরিবার, সমাজ ও কমিউনিটি, একাডেমি, বন্ধুমহল, সহকর্মী, দেশ, বৈশ্বিক ব্যবস্থা ও সময়-এগুলোর একটা কমবাইন্ড ফরমেশন। এই সবকিছুর প্রভাব ও জল-কাদা মিলে আমরা আজকের মানুষটি হয়ে উঠি। আমাদের চরিত্র বা অবতার বিনির্মানে এগুলো সম্মিলিতভাবে প্রভাব রাখে। কেউ কেউ বলেন, জেনেটিক পরম্পরাকে কখনো এড়ানো যায় না। সেই মূলত ঠিক করে দেয় মানুষটির অ্যাভাটার। সেজন্য আমরা সন্মন্ধ করতে আজও বংশীয় ছেলে/মেয়ে খুঁজি। জাত-পাতের ঠিকুজি সেজন্য খোঁজা হয়। আবার কেউ বলেন, জন্ম হোক যথা তথা………। তাদের মতে, জন্ম যেমনই হোক, অন্য ফ্যক্টরগুলোর সম্মিলিত দানে মানুষকে ভিন্ন অবতারে রূপান্তর করা যায়। যার প্রমাণ আমি বাস্তব জীবনে অনেকবার দেখেছি। একবার দেখেছি গারমেন্ট শ্রমিকের দুর্দান্ত ইউনিভার্সিটি অবতারে রূপান্তর। আবার দেখেছিলাম মি. মোতালেবের রূপান্তর।

তবুও কেহ কেহ বলেন, দামী রেস্তোরাঁতে যতই ফর্ক আর স্পুন দিয়ে খাক না কেন-একটা অতীত দৈন্যের হালকা আবহ তার সার্বিক অবয়বে থাকবেই। কঙ্কনদাসী যতই কাজলরেখা সাজুক, তার নিত্য জীবনে কঙ্কনদাসীর চরিত্র লুকোনো অতি কঠিন হবে। যাহোক-সত্যাসত্য বিচার দূরহ। আপনাদের কী মনে হয়-মানুষ তার শেকড়ের খাসলত জয় করতে পারে? বা, আদৌ কি জন্মদাগ বলে কিছু থাকে? এটা একটা মৌলিক প্রশ্ন। তা হল, জেনেটিক্যালী এবং পরিবারের বংশলতিকার ধারা হতে মানুষ আদৌ কি কোনো লিগ্যাছি ক্যারি করে? মানুষ কি পুরোটাই নিজেকে নিজে গড়ে? পরিবেশ ও পরিস্থিতি তাতে কিছুটা পালক যুক্ত করে? নাকি মানুষ যা, তার একটা বড় অংশই তার শেকড় হতে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়?

কথার শুরু হয়েছিল মানুষের দাসত্বের দাসখত নিয়ে। মজার কথা হল, এই দাসানুদাস হবার বিষয়টি আমাদের রক্তেই আছে। জাতি হিসেবেই আমরা দাসত্ব প্রিয় জাতি। দাস পালবার, দাসের প্রভূ হবার স্বপ্ন আমরা দেখি।  দাস হতেও আমরা পছন্দ করি। বর্তে যাই আমাদের কেউ আদরের দাস বানালে। অনেক প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানেই দেখবেন, দাসানুদাস থাকে। এবং, তারা খুশি হয়েই এই ভূমিকাতে অভিনয় করে।

অনেকটা আগের দিনের সিনেমায় দারোয়ান রহমত, ড্রাইভার হাসমত, মালি বরকতদের মতো। আজীবন দাসত্ব করেই খুশি। প্রভূ সামান্য কৃপা দেখালে, বা, পিঠ চাপড়ে দিলে কুঁই কুঁই করে, চোখ ভিজিয়ে ফেলে। হয়তো প্যান্টও। প্রভূ কখনো স্বর্গ হতে নেমে তাদের কাতারে ভাত খেতে বসলে তারা আবেগে মরে যায়। আহ, ঈশ্বর এসেছেন ধরায়।

এদেরই একটা শ্রেনী থাকে, যারা কোম্পানীতে নতুন কেউ এলেই দেখবেন, তাকে দেখায়, এই যে দেখছেন জমিজিরাত, বাগান, ইমারত, দশতলা দালান, পুস্কুনি, সব আমার নিজ হাতে করা।

এই শ্রেনীটা তাদের কফিল তাদের তুই তুই করে ডাকে-সেটাও দেখবেন খুব গর্ব ভরে আপনাকে জানাবে প্রথম দিনই। অনেকে আবার চোখ বড় বড় করে আপনার কর্ণকুহর ভারী করবেন অথবা, আপনার কানে সূধা বর্ষণ করে নিজের বুক গর্বে ভরে তুলবেন এই বলে, “জানেন, আমি না এখানে পিয়ন হয়ে এসেছিলাম, আজকে অ্যাডিশনাল পিয়ন পদে পদায়িত হয়েছি।”

দাসত্ব যখন রক্তে মিশে যায়,

স্বপ্ন দেখার আকাশটাতেও বেড়ি পড়ে যায়।

ইচ্ছেগুলো মুখ লুকোয়, বাস্তবতার ঠিকানায়।

স্বপ্ন, ইচ্ছে, বাসনা, চাওয়া, সবই ফিকে। শুধু জানি, সকাল হলেই কড়ির সন্ধানে, পেটের টানে শহরের মাঝখানে কর্পোরেট পাড়াটার পানে ছুটতে হবে। উর্দ্ধশ্বাসে।

ঠিক এই মুহূর্তে বনেদি ও অভিজাত কর্পোরেট পাড়া গুলশানের মোড়ে দাড়িয়ে আছি। শশবস্তে কাঁচকি মাছের ঝাকের মতো মানুষ মুখে ফেনা তুলে দৌড়াচ্ছে। কিলবিল মানুষের ঝাক। রুজির টানে শহরতলি হতে নগরের প্রাণকেন্দ্রে, কর্পোরেট সোনাগাছি পাড়ায় দায়ীত্বের ভাড়ে ন্যুজ্ব মানুষগুলো।

আহা। আহা।

আহা জীবন। আহা স্বপ্ন।

চব্বিশ; #religion #religiousillusion #belief

মহামহিম স্রষ্টার বসত তার সৃষ্টির হৃদয়ে। সেখানে ঢুকে তার বিশ্বাসকে দেখে আসে-সাধ্যি কার?

তুমি কে-বিচার করবার, যে, কে বিশ্বাসী, কে অবিশ্বাসী? তুমি কে, বলবার, কে সহিহ, কে মোরতাদ?

তুমি সেই স্রষ্টা, সেই খোদা, সেই মালিকের খুশির জন্য কী করো-সেটা তোমার ও তার মধ্যেই থাকে। তৃতীয় পক্ষের অনুপ্রবেশ ও অনুধাবনের চেষ্টা বাহুল্য।

ইবাদত বাঁচে নিয়তে। নিয়ত শুধরাও ওহে পূজারী।

তোমার পূজার, তোমার নিবেদনের, তোমার আচারের আড়ম্বরে, শব্দে, প্রদর্শনে কিছুই আসে যায় না। পশুর রক্ত সেই মহাপ্রভূর নিকট যায় না। ও কেবলই রক্ত।

নিয়ত শুধরাও।

পঁচিশ; #intellectualhypocrisy

কড়ির বিনিময়ে দেহ বিক্রী করলে তাকে ‘গতরবেশ্যা’ বলে গালি ঠিকই দিই আমরা জাগ্রত জনতা।

 কিন্তু বুদ্ধি ও বিবেক বিক্রী করে পয়সা নিলে তাকে কখনো বলি না, ‘বুদ্ধিবেশ্যা’।

ছাব্বিশ; #personalityandmood

অল্প পানির মাছ বলে একটি বস্তু আছে জগতে। লাফায় বেশি।

যতটা না পানি, যত বড় না মাছ, লাফ আর ছটফট তার তিনগুন বেশি।

অল্প পানির মাছদের এবং তাদের ছটফটানির জন্য আপনার হার্টে সৃষ্ট মৃদু ইর্ষাকে এড়িয়ে চলুন। হার্ট ভাল থাকবে। রাস্তায় চলবার সময়ে পথকুকুরের ঝাঁক যদি আপনাকে দেখে ঘেউ ঘেউ করে বিরক্ত করতে থাকে, তাহলে আপনিও তাকে থামাতে ঘেউ ঘেউ করে উঠবেন কিনা, অর্থাৎ, পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে নিজের রুচী ও ব্যক্তিত্ববোধ ডাউন করবেন কিনা-আরেকবার ভেবে দেখুন। আপনার মুডের নিয়ন্ত্রক আপনি, নাকি পরিস্থিতি বা অন্য কেউ-ভেবে নিন।

সাতাশ; #hype #flattery #pampering #flirting #freedomofspeech #freedomofopinion #personalfreedom #হীরকরাজারদেশ

প্রিয়ংবদা:

রাজার হঠাৎ ইচ্ছে হল, তিনি এমন এক পোষাক পড়বেন যা সারাবিশ্বের কারো কাছে নেই, একদম ইউনিক আর মোষ্ট এক্সক্লুসিভ। কিন্তু সেই পোশাক হতে হবে তার মন মতো। যে বানিয়ে দিতে পারবে সে পাবে নগদ অর্থ, জমি জমা। যে ব্যর্থ তার গর্দান যাবে। তো দেশ বিদেশ হতে হাজার হাজার মানুষ আসে, রাজাকে পোষাক দেখায়। রাজার মনে ধরে না। দর্জির গর্দান যায়। তো একদিন এক ধুরন্ধর তাঁতী এসেছে। সে চ্যালেঞ্জটা নিল। তবে রাজাকে বলল, এমন একটা পোষাক বানাতে তো সময় লাগে। আর খরচও অনেক। কিছু সময় ও এ্যাডভান্স লাগবে। রাজাতো ডগোমগো। তাকে বিরাট অঙ্কের এ্যাডভান্স দিয়ে দিল। বহুদিন পরে এসে তাঁতী আরো সময় ও এ্যাডভান্স চাইল। মোষ্ট এক্সক্লুসিভ হওয়া নিয়ে কথা। নিয়ে বাড়ি গেল আর রাজার হালে কিছু না করে চুপচাপ ওই টাকায় মাস্তি করতে থাকল। আবার মাস যায়, বছর যায়।

অবশেষে বহুদিন পরে তাঁতী দেখে এবার কিছু করতেই হয়। সে নির্দিষ্ট দিনে একটা শূন্য প্যাকেট নিয়ে রাজার দরবারে হাজির।

রাজাকে কুর্নিশ করে তার বহু প্রশংসা করল। নিজের পোষাকের বহু গুনাগুন বর্ণনা করল। রাজার জন্য কত কষ্ট করতে হয়েছে সেটা বলল। অতঃপর বলল, তবে রাজামশাই, একটা কথা। আমার এই পোষাকের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও তাক লাগানো দিকটি হল, এটি শুধুমাত্র তারাই পড়তে পারবে যারা সবচেয়ে সম্মানি আর তারা এটিকে চোখে দেখতে পাবে না যারা বোকা। তো রাজাতো অধীর আগ্রহে পোষাকটি নিলেন। আগ্রহের আতিশয্যে তখুন অন্দরের সব নারীকে খবর দিয়ে দরবারে আনালেন এমন অভিনব পোষাক দেখতে।

এবার তাঁতীকে বললেন, তাকে পোষাকটি পড়িয়ে দিতে। তাঁতী তার প্যাকেটে হাত ঢুকিয়ে একটি (অদৃশ্য কাল্পনিক) পোষাক বের করে রাজার সামনে ধরলেন। দেখুন জাহাপনা, কী দারুন, কী সুন্দর, অভিজাত আর এক্সক্লুসিভ ডিজাইন, দেখুন দেখুন, দেখতে পাচ্ছেন? পছন্দ হয়েছে? রাজা কোনো পোষাক চোখে দেখতে না পেলেও দমলেন না।

তাঁতী রাজার কাপড় খুলে সেই কাল্পনিক পোশাক নানা ঢঙে রঙে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রাজাকে পড়িয়ে দিলেন। রাজা তো খুশিতে ডগোমগো। তিনি দরবারে এসে সবাইকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখাতে লাগলেন সেই অদৃশ্য পোষাক। এমন আজব পোশাক পেয়েতো তার খুশি ধরে না।

তিনি সভাসদদের জিজ্ঞেস করলেন, পোষাক কেমন হয়েছে। সভার মন্ত্রী, উজির, সেনাপতি, কোতোয়াল, রাণী, শাহজাদারা কেউ ভয়ে কিছু বলে না। তাছাড়া তাঁতী বলেছে, শুধু বোকারা ওই পোশাক দেখতে পাবে না। তাই বোকা উপাধি পাবার ভয়ে কেউ কিছু বলে না যে তারা পোষাক দেখতে পাচ্ছে না।

তারা বরং রাজাকে বাহবা দিতে লাগল, নানা প্রশংসায় রাজাকে ভাসিয়ে দিল। এবার রাজা ভাবলেন, এমন আজব পোষাক তার রাজ্যবাসিকে দেখানো উচিৎ। তিনি রাস্তায় গেলেন। রাস্তার দু’পাশে রাজা আর তার পোশাক দেখতে ভীড় জমে গেল। রাজার ভয় আর বোকা তকমা পাবার ভয়ে কেউ পোষাকের প্রশংসা ছাড়া কিছু করছে না।

হঠাৎ ভীড়ের মধ্য হতে একটা বাচ্চা ছেলে ফিক করে হেসে উঠে বলল, “ছিঃ! রাজা ন্যাংটা!”

ব্যক্তিত্বহীন ও চাটুকারদের নিয়ে যদি সারাক্ষন চলেন তবে সমস্যাটা হল, তারা আপনাকে সত্যিটা কখনো বলবে না। বলবে সেটা যেটা আপনাকে খুশি রাখবে। ফলে আপনি সবসময় একটা মিথ্যা রঙিন জগতে ভাসবেন।

একটা সময় ছিল, মানুষ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যক্তিগত পর্যায়ে চাটুকারিত্ব বা তোষামোদিত্ব করত।

এখন সময় পাল্টেছে।

ব্যক্তিগত মোসাহেবি ও তৈল প্রদান তো আছেই।

তার সাথে যোগ হয়েছে দলগত, গোষ্ঠীগত, কোরামগত এবং কর্পোরেট মোসাহেবি ও চাটুকারিত্ব।

এই শেষ দলটা দলেবলে মিলে এখন গোবরের পায়েসকেও মহামূল্যবান কোহিনুরের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। নিয়ে যায়। এদের গোয়েবলসিয় প্রচারনা নির্দিষ্ট মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করে দেয়।

দল বেঁধে এরা চাটুকারিত্বের সিন্ডিকেট করে পরস্পরের পিঠ চুলকায়।

আর তা দেখে দেখে নেটিজেন বা ফেসবুকাগ্রনতা (ফেসবুক+জাগ্রত+জনতা) গোবরের পায়েসকেই মহাভোগ মনে করে গেলে, কিংবা গেলার জন্য লাইন দেয়।

এই লেখার সাথে আপনি যদি কোনো চলমান হাইপের সম্পর্ক খোঁজেন, তার দায় আপনার।

আটাশ; #ethics

দুধ হতে শুধু মাখনটুকু তুলে নিন।

-অতি সুখাদ্য দুধ তখন স্রেফ পানি।

বিজনেস হতে শুধু ইথিকসটা তুলে নিন।

–অতিকায় বিজনেস তখন একটি তস্করতন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।

অতি বিশালাকায় হাস্তি আপনি। জগতজোড়া আপনার ভাবমূর্তি।

আপনার Profile হতে কেবল ইথিকসটা বাদ দিন।

—আপনি নেহাতই বরাহ শাবক ছাড়া আর কিছু নন।

ঊনত্রিশ; #patronizingthewrong

‘জাগ্রত জনতা’ নামের এক শ্রেনীর উৎকট ইতরমনা দ্বিপদ তৈরি হয়েছে।

এঁরা নগরের পথে পথে ঘোরে। অসুস্থ এদের মেন্টালিটি।

এঁদের কাজই হল অন্যের হয়ে লড়া, জগতের সকলের হয়ে ‘জেহাদে’ শামিল হওয়া, রাস্তায় কিছু ঘটতে দেখলেই অন্যায়ের পক্ষ নেয়া।

ত্রিশ; #humaninstinct #criminology

মানুষ কি নিজের ভেতরে Evil instinct জেনেটিক উত্তরাধিকার নিয়েই জন্মায়? মানে, জন্ম হতেই শয়তান?

নাকি, কিছুটা বীজ নিয়ে জন্মায়? তারপর দুনিয়ার আলো, বাতাস, পানি, Honey খেয়ে খেয়ে ধীরে সুস্থে শয়তানে পরিণত হয়?

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে একজন অন্ধ ছাত্র সেই যামানায় মোবাইল ফোনে অন ডিমান্ড কলের খুব সামান্য একটা রোজগারের চেষ্টা শুরু করল। অন্ধ মানুষ, অতি কষ্টে হাতরে হাতরে নম্বর ডায়াল করত। টাকা স্পর্শ করে বুঝে নিত, ভাংতি দিত। একদিন আমাদেরই মধ্য হতে কেউ একজন চক্ষুষ্মান তার দুটো ফোন সেটই চুরি করে নিয়ে যায়।

সমাজের অধিকাংশ মানুষ ভাল, সমাজটা সেই যুগে একদম পবিত্র ছিল, এখন সমাজটা নষ্ট হয়ে গেছে-এই আপ্তবাক্যগুলো কেন যেন খেলো মনে হয়।

একত্রিশ; #gangculture #musclepower

এই উগান্ডায় নেহাতই একজন ভেতো বাঙাল হয়ে আর অন্তত ১৫-১৭ টি বছর কোনোমতে বেঁচে থাকতে চাই।

কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সেটাও সম্ভব হবে না। তাই,

সীমাহীন ও অসহ্য অন্যায়, অন্যায্যতা, অবিচার, অসঙ্গতি ও অভব্যতায় নিমজ্জিত এই উগান্ডায় কায়ক্লেশে বেঁচে থাকবার জন্য আর বিকল্প না থাকায় কিছু মাসল পাওয়ার, গ্যাঙ পাওয়ার, মানি পাওয়ার, পলিটিক্যাল পাওয়ার কিংবা জন্মগত আধ্যাত্মিক পাওয়ার আছে-এমন মানুষের বন্ধু কিংবা সাগরেদ কিংবা দাসানুদাস চামচা হতে চাই। ইচ্ছে করে, প্ল্যান করে।

আছেন কেউ সদাশয়? মাসল পাওয়ারড কিংবা গ্যাঙ পাওয়ারড? আপনার বন্ধু বানাবেন? সাগরেদ? দাস? চামচা? মূ্ল্য দেব, প্রতিদান দেব, নতজানু আনুগত্য দেব, লাগলে পা টিপেও।

তাহলে জীবনটা বেঁচে যায়। এ ছাড়া এখানে বেঁচে থাকার আশা নাই। সত্যি বলছি-কোনো এক ঘোড়াশাহ মাস্তানের বন্ধুত্ব কামনা করছি।। আছেন কেউ?

গান্ধিজীর উগান্ডায়,

দুর্বলের ঠাই নাই।

বত্রিশ; #toxicpeople #thinkingfuture

”একদিন কোনো না কোনো কাজে আসবে”-

এই আশায় আমরা সারাজীবন প্রচুর অপছন্দের, বিরক্তির, ঘৃনার, ক্ষোভের পাত্রকে (toxic people কে) স্রেফ সহ্য করে যাই এবং উষ্ণ সম্পর্কের অভিনয় চালিয়ে যাই। কখনো ঝেড়ে ফেলতে পারি না।

সত্য হল, পরিতাপের বিষয় হল, আলাদীনের বদনা হতে জ্বিনও বের হয় না, ওইসব জোরপূর্বক সুহৃদও এই জীবনে আপনার কোনো কাজে আসে না।

তাদেরকে হজম করে যাওয়ার কষ্টটা একদমই ফাউ।

#scatteredthoughts #combo #স্টাটাসকথন #এলেবেলে

Tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *