Skip to content

এমপ্লয়ি এনগেজমেন্ট ও এমপ্লয়ার ব্র্যান্ডিংয়ের হাত হদাই

  • by

প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, যে, এই লেখাটির মাঝে আপনি কোনোরকম একাডেমিক ইনসাইট নাও পেতে পারেন। এবং, নিতান্তই নিরুপায় হয়ে এই লেখাটিতে আমি বেশ কিছু বাংলা ও ইংরেজি শব্দ মিলিয়ে লিখেছি-যা আমার নিজেরও একদমই পছন্দ নয়। লেখাটি তৈরী করার জন্য যারা আমাকে ফেসবুক বা লিংকডইনে অথবা ফোনে পরামর্শ/মতামত দিয়ে সহায়তা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

HR বিভাগের ডিসকোর্সের অধীভূক্ত দুটো দুটি ভিন্ন রকম কনসেপ্ট হল Employee engagement এবং Employer branding। তবে এ দুটো আপেক্ষিক বিষয় আবার পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। Employer branding করার জন্য Employee engagement দরকার হয়। আবার, Employee engagement নিশ্চিত করতে হলে Employer branding ও একটি দরকারী টুল। এরা পরস্পর সমার্থক নয়, তবে ইনটিগ্রেটেড। প্রথমটি বলতে গেলে ইনটারনাল এজেন্ডা। দ্বিতীয়টি এক্সটারনাল।

প্রথমেই বলি, Employee engagement বলতে আমরা আসলে কী বোঝাই? বিষয়টি কি কেবলই ডেভোশন, তথা মন-প্রাণ দিয়ে নিঃশব্দে কাজ করে যাওয়াকেই বোঝায়? Employee engagement এর স্বরূপ আসলে কী, বা, ঠিক কী দেখে আপনি বলতে পারেন, যে, আপনার প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এনগেজড?

একটু দেখার চেষ্টা করি, বড় বড় চিন্তাবীদগণ Employee engagement জিনিসটাকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করেন।

Quantum Workplace – Employee engagement is the strength of the mental and emotional connection employees feel toward their places of work.

Gallup – Engaged employees as those who are involved in, enthusiastic about and committed to their work and workplace.

Willis Towers Watson – Engagement is employees’ willingness and ability to contribute to company success.

এবার একটু সহজ করে বলি।

হ্যা, Employee engagement আর যাই হোক, কর্মীরা সপ্তাহের ৬টি দিনই সকাল ৯টা হতে বিকাল ৫টা কাজের চাপে পিষ্ট থেকে টেবিল হতে মুখ তুলতে পারেন না-এমন এনগেজমেন্টকে বোঝায় না।

কর্মীদের মনোযোগ বা ডেভোশন, কর্মীদের নিবেদন বা ডেডিকেশন, কর্মীদের সন্তুষ্টি বা স্যাটিসফ্যাকশন, কর্মীদের সাড়া বা রেসপন্স রেট, কর্মীদের প্রো-এ্যাকটিভনেস বা স্বতঃস্ফূর্ততা, কর্মীদের আন্তরিকতা বা সিরিয়াসনেস, কর্মীদের মধ্যে অংশগ্রহনমূলক মনোভাব বা পারটিসিপেশন, কর্মীদের ওনারশীপ এবং কর্মীদের ফোকাসড এ্যাকশন, প্রতিষ্ঠানের চলার ছন্দ্যের সাথে কর্মীদের এট পার ও এলাইনড থাকা-এই সবকিছুকে একসাথে Employee engagement বলা চলে। অথবা, ভিন্নভাবে বললে, এই বিষয়গুলো কর্মীদের মাঝে দেখা মানে, বলা চলে, যে, তারা এনগেজড। কর্মীরা একটি দল হিসেবে, একটি বডি হিসেবে, একটি যৌথ মিশন হিসেবে যদি প্রতিষ্ঠানের ভ্যালুজ সুরক্ষা করে এর মিশন, ভিশন ও স্বপ্ন বা লক্ষ্যের সাথে এলাইনড থাকে-সেই অবস্থটিকে এনগেজমেন্ট ধরা চলে। এ্যাজ এ হোল, এমপ্লয়ী এনগেজমেন্ট হল ডেভোশন, ডেডিকেশন, ডেলিবারেশন, এলাইনমেন্ট, এটাচমেন্ট, এমপাওয়ারমেন্ট হয়ে ওনারশীপ-এই সবকিছুর একটি সুষম কম্বিনেশন।

Employee engagement নিয়ে হালের প্রতিষ্ঠানগুলো এবং প্রোফেশনাল এ্যাকটিভিস্টদের আগ্রহ বৃদ্ধির অনেক কারন রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতসমূহের অন্যতম হল, কর্মীদেরকে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের পথে সর্বোচ্চটা দেবার জন্য তৈরী করতে এইসব মানব কর্মীদের যন্ত্রের মতো করে নয়, বরং মানুষের মানবীয় প্যাটার্নকে গুরুত্ব দিয়ে স্ট্র্যাটেজি সাজানোর উপলব্ধি আজকাল বাড়ছে। সে কারনেই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কতটা এনগেজড, কতটা ডেভোটেড, কতটা ফোকাসড ও ডেডিকেটেড-তার পাঠ এখন গুরুত্ব পাচ্ছে। এমপ্লয়ী এনগেজমেন্টের ফোকাস: –

১. Better productivity or output;

২. Better working environment;

৩. Better RoI;

৪. Better employee satisfaction;

৫. Intellectual & sustainable growth;

#personalgain #goodorganization #PersonalDevelopment #SelfDevelopment #ReciprocalInterest #MutualInterest #UpskillingReskilling #ViceVersa #BigCompanySmallCompany

পারসোনাল ডেভেলপমেন্ট এবং অরগানাইজেশনাল ডেভেলপমেন্ট একটি রিসিপ্রোকাল বা মিউচুয়াল ইন্টারেস্টের বিষয়, মিউচুয়াল ইনভেস্টমেন্টের বিষয়। যা অনেক সময় আমরা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হই। ফলে ব্যক্তি মনে করে, প্রতিষ্ঠানের ভাল হলে আমার কী লাভ। আবার, প্রতিষ্ঠান ভাবে, মানুষজন গ্রুম করলে তো তারা ভাল জব নিয়ে চলে যাবে, আমার কী লাভ? 

আচ্ছা, ধরুন, আপনার নিয়োগ করা, বা, আপনার বেতনে পোষা একজন বা অনেকজন কর্মী যদি আপনার, অথবা নিজের পয়সায়, সময়ে, এনার্জিতে ও রিসোর্সে আপস্কিলিং, রিস্কিলিং, পারসোনাল ব্র্যান্ডিং, পাবলিসিটি, প্রমোশনাল কাজ করে, তাতে কি আপনার মন খারাপ হওয়া উচিত? কেন দেবেন আপনার পয়সায় তার সুনাম বাড়াবার সুযোগ? বা, ব্যক্তিই বা কেন নিজের খেয়ে কোম্পানীর নাম বাড়াবেন? উত্তরটা পুরোটা পড়লে কিছুটা পেয়ে যাবেন।

পেশাজীবি জগতে একটি ডাইলেমা আছে, সেটা হল, একজন বুদ্ধিমান ও চুজি পেশাজীবির কী করা উচিত-সবসময় বিখ্যাত ও ভাল প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেয়া? নাকি অখ্যাত ও পশ্চাৎপদ প্রতিষ্ঠানে জব নেয়া? কোনটাতে তার লাভ বেশি?

আমি বলি, বিষয়টা আপেক্ষিক ও কমপারেটিভ চয়েজের বিষয়।

জগদ্বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে আপনার ও প্রতিষ্ঠানের সুনিশ্চিতভাবেই অনেক পারস্পরিক প্রাপ্তি আছে। বড় প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ভ্যালুর ট্যাগ আপনার গায়ে লাগবে। তাদের কালচার আপনাকে উন্নত করবে। আপনার কনফিডেন্স বাড়বে। বাজার দরতো বাড়বেই।

তবে, তুলনামূলক পছন্দ তত্ব অনুযায়ী, তুলনামূলকভাবে লো-প্রোফাইল বা অখ্যাত কিংবা ছোট প্রতিষ্ঠানে কাজ করার কিছু ভাল দিকও আছে। তার একটা হল কাজ ও এক্সপিরিমেন্টের অবারিত সুযোগ।

পেশাগত বহু বিষয় আপনি ছোট বা অখ্যাত প্রতিষ্ঠানে ইনিশিয়েট, এক্সপিরিমেন্ট ও এক্সপিরিয়েন্স করার সুযোগ পাবেন-যা বড়, বিখ্যাত ও জগদ্বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে কখনো পাবেন না। কারন, ওখানে আগে হতেই অনেক অ্যাডভান্সড কালচার ও সিস্টেম। ফলে নতুনত্ব কম, চ্যালেঞ্জ কম, বিশাল কমিউনেকেশন চ্যানেল যাতে হারিয়ে যেতে হয়, ব্যুরোক্রেটিক কালচার বেশি, এক্সপিরিমেন্টের স্কোপ কম, লাইফ কিছুটা বাড়তি কমফোর্টেবল বাট মনোটোনাস; মনোটোনি অব হ্যাপিনেস বলা যায়।

অথচ, ছোট ও পশ্চাৎপদ প্রতিষ্ঠানে হাজারটা চ্যালেঞ্জ, অসংখ্য এক্সপিরিমেন্ট করবার সুযোগ, সহজ যোগাযোগ চ্যানেল, ডিরেক্ট ডিসিশন, টারগেট বিশাল, লট অব থিংগস টু ডু। মানে নিজেকে রিচ করবার অনেক চান্স।

তবে হ্যা, আপনার সারাউন্ডিং এবং পিয়ার কোয়ালিটি ম্যাটারস। কাদের সাথে আপনি কাজ করেন-তাদের কোয়ালিটি আপনাকে প্রভাবিত করে। আপনি যদি নীলকন্ঠ্য না হন, তাহলে লো কালচার কোম্পানী ও তাদের পুওরলি গ্রুমড মানুষদের সঙ্গ ও কালচার আপনার ব্যক্তিগত কোয়ালিটি ডাউন করতে পারে। আপনার মধ্যে ফ্রাস্ট্রেশন এসে পড়তে পারে। পুওর কালচার ভাল করতে গিয়ে নিজের মধ্যে দূষণ ঢুকে গেল। উল্টো আবার, আপনার কোয়ালিটি ভাল না হলে একটা উন্নত প্রতিষ্ঠানের কালচার আবার আপনার দ্বারা ডাউন হতে পারে। ভাইস ভারসা।

প্রতিটি উন্নত প্রতিষ্ঠানই নিত্য নতুন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখে। একটি ভবিষ্যতমুখী প্রতিষ্ঠানে ইমপ্রোভাইজেশন ও ইনোভেশনের অংশে শেষ কথা বলে কিছু নেই। আর সেই যাত্রায় তাকে সঙ্গ দেয় তার মেধাবী কর্মীরা। সেই সাথে কর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার পারস্পরিক উৎকর্ষ সাধনে অবদান রাখার বিষয়টি রিসিপ্রোকাল।

একজন উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রফেশনাল এবং একটি উন্নততর প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার সম্পর্ক আগুন আর বারুদের মতো। পরস্পর পরস্পরকে জ্বলে উঠতে সাহায্য করে।

যোগ্য প্রফেশনালের উচিত উন্নততর প্রতিষ্ঠানে কাজ করা। কারন এই রাজযোটক হলে উভয়ে উভয়ের উৎকর্ষ ঘটায়। উভয়ে উভয়কে flourish করতে সাহায্য করে। তা না হলে, প্রতিষ্ঠান প্রফেশনালকে, নয়তো প্রফেশনাল প্রতিষ্ঠানকে ডুবায়।

ব্যক্তির রি-স্কিলিং ও আপ-স্কিলিং যেমন ব্যক্তির উপকার করে, তেমনি সেটা প্রতিষ্ঠানেরও উপকার করে। তাই এটাকে একটা মিউচুয়াল বা রিসিপ্রোকাল বেনেফিট ভাবুন। ব্যক্তি কর্মীর আপস্কিলিং ও রিস্কিলিংয়ের জন্য ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক-উভয় ইনভেস্টমেন্টই মিউচুয়াল বা রিসিপ্রোকাল। ব্যক্তির উন্নয়ন সে ব্যাগে করে বাসায় নিয়ে যায় না। সেটার প্রভাব ও স্ফূরনটা প্রতিষ্ঠানেই পড়ে।

আবার, ব্যক্তি যদি নিজ খরচে আপস্কিলিং করে, সেটাও যে কেবলই প্রতিষ্ঠানের কাজে আসে তা না। প্রতিষ্ঠানের উপকারে আসার পাশাপাশি তার নিজেরও লাভ। প্রতিষ্ঠানের হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রম, বা ব্যক্তির আত্মউন্নয়ন কার্যক্রম-সেটা যার ইনভেষ্টমেন্টেই হোক (সময়, শ্রম, মেধা ও টাকা), সেটার বেনেফিশিয়ারি বোথ সাইডস।

সেজন্য প্রোফেশনাল ও এন্টারপ্রাইজ-উভয়েরই মনে রাখা ভাল, যে, প্রাতিষ্ঠানিক ডেভেলপমেন্ট বা গ্রুমিং স্কিম আর পারসোনাল ডেভেলপমেন্ট ও আপগ্রেডেশন স্কিম-উভয় ক্ষেত্রেই উভয়ের আরও লিবারেল, সচেতন, সেনসিবল ও আধুনিকমনষ্ক হওয়া উচিত। কারন, করলে লাভ উভয়ের, না করলে ক্ষতিও উভয়ের।

ব্যক্তিগত সময়ে নিজের বা কোম্পানীর পয়সায় ট্রেনিং কেন করব, করলে আমার কী লাভ-যারা ভাবেন, তারা মনে রাখবেন, পরের জন্য মেহেদী বাটলে নিজের হাতও রাঙা হয়।

আর, কোম্পানীকে ভাবতে হবে, কর্মীকে পয়সা খরচ করে ট্রেনিং করালে কোম্পানীরই কাজে দেবে। কারন-

এক, বাজারে রেডি হ্যান্ড কমে আসছে।

দুই, রানিং লোকের আপস্কিলিং ও রিস্কিলিং না করিয়ে পয়সা বাঁচাতে চাইলে ঘরের লোক অকেজো হয়ে যাবে। তখন তারই ক্ষতি। আর নতুন মানুষ আনার খরচ বিদ্যমানদের ট্রেইন করবার খরচের চেয়ে অনেক বেশি। প্রোডাকশন লস তো আছেই।

তিন, ঘরের লোককে শেখানোর দায় এমনিতেই আপনার আছে।

Same for personal branding

আপনার কর্মী ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে ব্যক্তিগত বা অফিস সময়ে প্রফেশনাল সভা, সমিতি, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ওয়েবিনারসহ নানারকম ব্র্যান্ডিং কাজে জড়িত হলে তাতে আপনার অ্যাবসলুট ক্ষতি না। লাভও আছে। অপেক্ষাটা কেবল আপনার লাভ-ক্ষতি কষায়। অপরচুনিটি লস ও অপরচুনিটি কসটটা হিসেব করুন।

ব্যক্তির পারসোনাল ব্র্যান্ডিং আপনার প্রতিষ্ঠানকেও ব্র্যান্ডেড করে। লোকে বলে, “অমুক ভাই তো তমুক প্রতিষ্ঠানে আছে। নিশ্চয়ই প্রতিষ্ঠানটা ভাল।” যেজন্য সবাই ব্র্যান্ড অ্যামবাসেডর নিয়োগ করে। মেসি বা শাহরুখ খান যদি আপনার পান দোকানে চাকরি নেন, কার লাভ বেশি? আবার, নিজের খেয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং করলেও নিজের লাভ আছে। লোকে বলে, “অমূক তো তমূক ব্র্যান্ডেড প্রতিষ্ঠানে আছেন। নিশ্চয়ই তিনি অনেক ভাল।” আপনি যদি কোনো কারনে অ্যামাজন, অ্যালফাবেট, মেটা বা কসটকোতে একটা জবে ঢোকেন মাত্র তিন মাসের জন্য-কার লাভ বেশি বলুন তো? বা, যদি শাহরুখ বা টম ক্রুজ বা জাতিসংঘ মহাসচিবের পিএস হন ১ বছরের কনট্রাক্টে? আপনার গায়ে তাদের রং কিছুটা লাগবে কি?

এমপ্লয়ী এনগেজমেন্ট বৃদ্ধি ও নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক কী কী করতে পারে-তা নিয়েই মূলত আজ কথা বলবার কথা। তবে, আমি এখানে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রোগ্রাম বা উদ্যোগের কথা বিস্তারিত বলছি না। কেবল, মোটা দাগে প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগকে কয়েকটি ধারায় বিন্যাস করার চেষ্টা করছি: –

১. আত্মমূল্যায়ন:

Gallup 12 questions বা এরকম আরো সব টুলসের মাধ্যমে এনগেজমেন্ট সার্ভে করতে পারেন। Employee engagement সংক্রান্ত আলোচনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগ হল, আপনার কর্মীদেরকে জানুন। তাদের বুঝুন। তাদেরকে অনুভব করুন। তাদের আবেগ, অনুভূতি ও চিন্তাকে গুরুত্ব দিন। প্রতিষ্ঠানে একটি সফিসটিকেটেড ও ইনক্লূসিভ রিসার্চ টীম থাকাটাকে আমি সবসময়ে প্রমোট করি। এই টীমটি একদিকে যেমন বিজনেস এনালিসিস ও স্ট্যাডি করবে, ঠিক তেমনি, প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিয়ে নিত্য নতুন গবেষণা সম্পাদন এবং তার আউটকাম ম্যানেজমেন্ট বা এইচআরকে সাজেস্ট করবে। আমরা মানুষকে জানবার, বিশ্লেষণ করবার, বুঝবার, মানুষকে প্রোপার ট্রিটমেন্ট দেবার এই দিকটিতেই সবচেয়ে বেশি উদাসীন থাকি।

২. Employer branding:

প্রতিষ্ঠানকে তার ইনহাউস ও ফিজিবল কর্মীদের কাছে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিপন্ন ও স্বীকৃত করা হতে পারে সবচেয়ে অগ্রগন্য কাজ। মনে রাখবেন, কর্মীদের কাছে কেবল তাদের আয় ও পদই সব নয়। একটি পর্যায়ে গিয়ে কর্মীরা কেমন প্রতিষ্ঠানে জব করছি-সেই ভাবনাটা অবশ্যই মাথায় রেখে চাকরি নেন বা করেন।

৩. রোডম্যাপ নির্ধারন:

প্রতিষ্ঠানের মিশন, ভিশন, ভ্যালুজ, গোলগুলো সুচিন্তিত ও সুস্পষ্টভাবে ডিজাইন করা, সব মহলে তার প্রচার করা ও কর্মীদের সাব-কনসাস চিন্তায় তার অবস্থান সৃষ্টি, মানুষকে এর সাথে এট-পার ও এলাইনড রাখা, এবং তাকে টাইম টু টাইম রিশাফল করা জরুরী। প্রতিষ্ঠানের একশন প্ল্যানকে এগুলোর সাথে এলাইনড রেখে ডিজাইন ও এক্সেকিউট করতে হবে। যদিও এই কাজটিকে সবথেকে কম গুরুত্ব দিয়েই আমরা বিজনেস করে থাকি।

৪. ক্যারিয়ারিজম:

প্রতিষ্ঠানে প্রোপ্রার ক্যারিয়ারিজম নিশ্চিত করাটাও একটি প্রাথমিক করণীয়। কর্মীদের সামনে যদি তাদের ভবিষ্যতটি প্রস্ফূট না থাকে, তাহলে তার মনোযোগ, আগ্রহ অন্যত্র যাবে। তবে হ্যা, শুধুমাত্র সুদীর্ঘকাল একই স্থানে চাকরি করাকেই এনগেজমেন্টের নিদর্শন ভেবে বসবেন না। 

৫. প্রোপার HR ম্যানেজমেন্ট:

বিশেষভাবে বলব, ট্যালেন্ট এ্যাকুইজিশন ও ম্যানেজমেন্ট, পারফরম্যান্স ম্যানেজমেন্ট, রিওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট, সাকসেশন প্ল্যানিং এগুলো শক্তিশালী করণে মনোযোগ দিন। একই সাথে ডাইভারসিফাইড ওয়ার্কফোর্স এবং কালচারাল ডাইভারসিফিকেশন এনগেজমেন্টকে ত্বরান্বিত করে। প্রতিষ্ঠানের HR কে এই দিকে নিবিড় নজর দিয়ে কাজ করতে হবে।

৬. Listen to your workforce:

ইন জেনারেল, প্রতিষ্ঠানে পারটিসিপেটরী ম্যানেজমেন্ট এবং কালেকটিভ ডিসিশন মেকিং সংস্কৃতিকে প্রমোট করা খুব জরুরী। কর্মীদের ভেতরে ওনারশীপ সৃষ্টির প্রয়াস নেয়াও জরুরী। এই প্রতিষ্ঠানের ভাল ও মন্দকে যেন তারা ওউন করে। ওনারশীপ যেমন নেবার জিনিস, তেমনি ওনারশীপ দেবারও জিনিস। সেই সাথে এমপাওয়ারমেন্টও। কর্মীরা যেন অনুভব করেন, যে, প্রতিষ্ঠান তাদেরকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তারা যেন নিজেদের এমপাওয়ারড মনে করেন। ব্যাংকের KYC ফরম পূরণের পথ অনুসরন করে, প্রতিষ্ঠানও তার কর্মীদের কাছে থেকে শোনার, জানার সংস্কৃতি চালু করতে পারে। প্রতিষ্ঠানকে উপলব্ধিতে আনতে হবে, যে, কর্মীরা মানুষ, তারা যন্ত্র নন।

৭. ইনটেলেকচুয়াল গ্রোথ:

সার্বিকভাবে প্রতিষ্ঠানে মেধা ও শিক্ষাকে প্যাট্রোনাইজ করা উচিত। কর্মীদের জন্য গণতান্ত্রীক, উদার, আধুনিক ধ্যানধারনা নির্ভর, বুদ্ধিবৃত্তিক একটি কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করুন। কর্মীদের নন-প্রোফেশনাল স্কীল বা মেধাকে প্রমোট করুন, প্যাট্রোনাইজ করুন। অফিস যেন শুধু কাজের যায়গা না হয়, চাকরিকে শুধুই টাকা কামানোর মাধ্যম যেন মনে না হয়। একটি প্রতিষ্ঠানের যদি সবথেকে প্রাধিকার প্রাপ্য কোনো ড্রাইভ থাকে, সেটা হল ওডি ও কন্টিনিউয়াস চেঞ্জ। এই দুটিকে দূরে রেখে কোনো প্রতিষ্ঠান যত দৌড়ঝাঁপই করুক না কেন, ওগুলোর সবগুলোকে বরং নিজের কবর নিজেই খোঁড়ার সাথে তুলনা করা যায়। আবার, একটি প্রতিষ্ঠানের মোস্ট প্রেশাস ক্যাপিটাল বা অ্যাসেট বলে যদি কিছু থাকে, তার একটি হল ইনটেলেকচুয়াল পাওয়ার। দীর্ঘকাল ধরে একটি প্রতিষ্ঠান এক্সিসট্যান্সে থাকার ও অ্যাক্ট করবার ফলে তার যেসব পাওয়ার জন্ম নেয়, তার মধ্যে সবথেকে জরুরী ও মূল্যবান একটা হল এই ইনটেলেকচুয়াল গ্রোথ। যদি সেই গ্রোথ তার না হয়ে থাকে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের কপালে যে শনি আছে-তা বোঝার জন্য জেফ বেজোস হওয়া লাগে না। আফসোস হল, এই গ্রোথে আমরা বেশিরভাগই বামন।

৮. কর্পোরেট কালচার:

প্রতিষ্ঠানে কর্পোরেট কালচার চর্চা ও প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিষ্ঠানকে ডেলিবারেটলী উদ্যোগ নিতে হবে। কর্পোরেট কালচার নিয়ে বিস্তারিত পড়তে পারেন এই লেখায়-[কর্পোরেট কালচার ও কর্পোরেট ইমেজ: টেকসই বানিজ্য উদ্যোগের পথে বাঁধা কোথায়?: https://www.rmgtimes.com/news-article/7027/?fbclid=IwAR2TkBjbT7gHIHVcI2Qcca-qSj1wtku3WwKTZyOO3B4s3iHB-ghwfT2AS_k]

৯. উদারনৈতিক এপ্রোচ:

প্রতিষ্ঠানে বুরোক্রেসিকে অনুৎসাহিত করুন। কর্পোরেট রুলস, বাইন্ডিংস, ফরমালিটি, সেন্সরশীপ, কন্ট্রোল কমিয়ে প্রতিষ্ঠানে অবাধ তথ্যপ্রবাহ, উন্মুক্ত মতামত প্রকাশ, বিতর্ক, স্বচ্ছতা, নমনীয়তা, মানবিকতা, ডায়নামিজম, ডাইভারসিটি, ফ্রেন্ডশীপ, ইনটার‌্যাকশন-এসবকে প্রাধান্য ও প্রমোট করা উচিত। খুব বেশি নিয়ম-কানুন, ফরমালিটি, জটিল সিস্টেম থাকলে সেটিকে সহজ ও একসেসিবল করুন। বৃটিষদের রেখে যাওয়া লিগ্যাসি আমাদের এখানে সরকারী ও বেসরকারী-উভয় রকম প্রতিষ্ঠানেই খুব বেশি বিরাজমান। রাশভারী বস আর গার্ডের বুটের মচমচ শব্দে স্যালুট-এই মান্ধাত্তা আমলের আচার হতে একটু আউট অব বক্স ভাবতে হবে।

১০. উপযুক্ত C&B নীতি:

কর্মীদের জন্য উপযুক্ত C&B নীতি প্রণয়ন করুন আর তার বাস্তবায়ন করুন। দিনশেষে একজন বেসরকারী চাকরিজীবির সবথেকে বড় চিন্তার যায়গাটি কিন্তু ওটাই। কর্মরত থাকাকালে যেমন আন্তরিক ট্রিটমেন্ট পাবে, তেমনি, জব ছাড়লেও যে তাকে একই নীতি ও ধারাবাহিকতার সাথে ট্রিটমেন্ট দেয়া হবে-সেই নিশ্চয়তা কর্মীকে নির্ভার থেকে কাজ করাবে। কর্মীদের জন্য ফ্রিঞ্জ বেনেফিট এবং বিভিন্ন ফিন্যান্সীয়াল/নন-ফিন্যান্সিয়াল ফ্যাসিলিটি/ইনসেনটিভ ডেপ্লয় করা হতে পারে শর্ট টার্মে খুব ভাল টোটকা। এই বেনেফিটগুলো হতে হবে সত্যিকারের গুডউইলের প্রেক্ষিতে। কেবলমাত্র ছবি তোলা, ফেসবুক পোস্টে যেন সেটি পর্যবসিত না হয়।

১১. Team building & synergy:

এমপ্লয়ী এনগেজমেন্টকে গুরুত্ব দেন-এমন প্রতিষ্ঠানের উচিত টীম বিল্ডিংকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া। ইন জেনারেল প্রতিষ্ঠানে টীম স্পিরিট ও টিম বিল্ডিংকে প্রায়োরিটাইজ করুন। টিম বিল্ডিংয়ের হাজারটা মেকানিজম বলা যাবে। সেগুলো আর লম্বা করছি না। বসিং ভারসাস লিডারশীপ ডিবেট তো আমরা সবাই জানি। প্রতিষ্ঠানে লিডারশীপ কোয়ালিটি রমোট করতে যা যা করনীয়, তা লিখতে গেলে আরেক বালাম হয়ে যাবে।

৭. কর্মীদের জব সিকিউরিটি একটি অত্যন্ত ভাইটাল কনসিডারেশন। সিকিউরিটি থাকাটা যেমন জরুরী, তেমনি, কর্মীদের মনে নিরাপত্তাবোধ থাকাটাও ততোধিক জরুরী।

১২. Entertainment:

কর্মীদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন রাখার কথা না বললেই নয়-যার হাজারটা রকম হতে পারে। এর অংশ হিসেবে পিকনিক, ফ্যামেলী ডে, বার্থ ডে সেলেব্রেশন, সাকসেস সেলেব্রেশন, ইনট্রো মেইল, চ্যাটিং প্ল্যাটফরম অফার করা, এ্যানুয়াল জেনারেল মিটিং কিংবা স্ট্র্যাটেজি/KPI সেটিং মিটিং, প্রমোশন পার্টি এরকম হাজারটার কথা আমি বলতে পারব। বুট ক্যাম্প কনসেপ্টটি এখন খুব বাজার পাচ্ছে। মোট কথা হল, কর্মীদের জন্য কর্মস্থলে আনন্দ ও বিনোদনের আয়োজন থাকলে সেটি খরচ নয়, বরং তাকে ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে দেখতে পারেন।

বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক উৎসবের সুযোগগুলোকে কাজে লাগান। উৎসবকে কর্মীদের সাথে কানেকট হবার উপলক্ষ্য বানান। অফিসে ওই উপলক্ষ্যে গেট টুগেদার আয়োজন করুন, বাইরে লাঞ্চে নিয়ে যান, না পারলে সবাইকে ডেকে চকোলেট খাওয়ান, তাও না পারলে ছাদবাগানে বসে কফি খান, গল্প করুন একটা দিন। করেই দেখুন না। 

১৩. প্রশংসা করুন:

প্রশংসায় পাথরও গলে। মানুষ তো আরও সহজ জিনিস। বেস্ট টীম বা বেস্ট পারফরমারদের প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে এপ্রেশিয়েট করার কালচার চালু করুন। রিওয়ার্ড, রিকগনিশন, এমপ্লয়ী কেয়ার স্কীম ইনট্রোডিউস করুন আর সেখানে এক ধরনের সুস্থ প্রতিযোগীতার আবহ তৈরী করুন। অন্যদের সামনে তাকে বা তাদেরকে আইকন হিসেবে উপস্থাপন করুন।

১৪. কমিউনিকেশন চ্যানেল:

কর্মীদেরকে ইনটার‌্যাকটিভ ও ওপেন আপ হতে বলতে বলতে মুখে ফেনা তুললেই হবে না। বরং, তাদের জন্য উদ্যোগ নিয়ে অফিশিয়াল ও আন-অফিশিয়াল চ্যানেল অব কমিউনিকেশন, সোশ্যাল ফোরাম সৃষ্টি করে দিতে হয়। একদম কিছুই যেখানে করা অসম্ভব, সেখানে অন্তত একটি হোয়াটসএ্যাপ গ্রূপও অনেক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। আমি অনেক স্থানেই দেখেছি, কর্মীদের হোয়াটসএ্যাপ গ্রূপেও প্রতিষ্ঠান নাক গলায়, নজর রাখে। এগুলো সবসময়ই কাউন্টার প্রোডাকটিভ। কানেকটিভিটি সৃষ্টি খুব জরুরী। সেটি ডিসটরটেড হলে প্রতিষ্ঠানের অন্য সব ক্ষতির সাথে সাথে ইনটেলেকচুয়াল গ্রোথও কমে যাবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানে একটি প্রোপার গ্রিভ্যান্স ও কমপ্লেইন চ্যানেল ও পলিসী সৃষ্টি করা এবং এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হ্যান্ডেল করাতে জোর দিন। মানুষকে কথা বলতে দিন, ওপেন হবার সাহস দিন। এবং, সেটিকে এক্সেকিউট করুন। 

১৫. নো পলিটিকস:

অফিস পলিটিক্সকে অনুৎসাহিত এবং প্রতিরোধ করুন। আমি আমার এক লেখায় বলেছিলাম, যে, বাংলাদেশের অফিসগুলোতে যদি অফিস পলিটিকস না থাকত, তাহলে বাংলাদেশের জিডিপি গ্রোথ হত ২০%। বসদের অত্যাচার থেকে জুনিয়রদের বাঁচানোর কথা আর না ই বা বললাম।

১৬. শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণও রাখুন:

এনগেজমেন্ট আসলে অরডার করে বানিয়ে ফেলার মতো কোনো বস্তু না। এটি সৃষ্টি করা যায় না, এটি সৃষ্টি হয়। এটি হল এক ধরনের উপজাত। কর্মীদের হার্ড-সফট স্কীল, বেস লারনিং ও ইনটেলেকচুয়াল গ্রূমিংয়ের জন্য প্রোগ্রাম নিন। এই গ্রূমিং প্রোগ্রামগুলো তাদেরকে মানসিকভাবে এনগেজ রাখবে। মনে রাখতে হবে, সিরিয়াস ট্রেইনিং যেন স্রেফ বুট ক্যাম্পে পরিণত না হয়, টীম লাঞ্চ যেন বিজনেস মিটিংয়ে রূপ না নেয়।

১৭. ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স:

এই কনসেপ্টটি এখন খুব পপুলার হচ্ছে। এই ব্যালেন্স কর্মীকে অফিসে এনগেজ হতে প্রভাব রাখে। একই সাথে কর্মীদের ভেতরে ওয়ার্ক লোড তথা KRA, KSA, KPI এর সুস্পষ্ট ও সুষম বন্টনও তাদেরকে জান লড়িয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করে।

মোদ্দা কথা, এই অফিসকে কর্মীর কাছে একান্ত আপন স্থান, নিজস্ব ও নিরাপদ স্থান এবং মানসিক প্রশান্তি ও ভরসার স্থান হিসেবে উপস্থাপন এবং আস্থা অর্জন জরুরী। যাতে করে, তারা গর্বের সাথে বলতে পারে, অফিস ইজ মাই সেকেন্ড হোম। অন্যথায়, আপনি কর্মীকে চোখের সামনে দেখবেন, তাকে ৯টা-৫টা ঘাম ছুটিয়ে অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখবেন, কম্পিউটারে এনগেজ দেখবেন-বছর শেষে রেজাল্ট দেখবেন না।

এখন আসুন, Employer branding সম্পর্কে বলি।

মূলত, ব্র্যান্ড বলতে আমরা কী বুঝি?

ধরুন, বাজারে ৫ রকমের বোতল ভর্তি তথাকথিত মিনারেল ওয়াটার বিক্রী হয়। আমরা বলি ৫টি ব্র্যান্ডের পানি। এখন, সবার পানিই আসে হয় ওয়াসার ট্যাপ হতে, অথবা একটু ভাল হলে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাটির নিচ হতে উত্তোলিত হয়ে। এখন, পানি তো সব একই। খোদার সৃষ্টি পানি-O2 আর H এর মিশেলে।

একেক কোম্পানী সামান্য কিছু মধ্যবর্তি  এফোর্ট তথা ভ্যালু এ্যাডিশন যোগ করে, একেক রকম বোতলে ভরে, নিজের নিজের লেবেল লাগিয়ে দিচ্ছে। দিনশেষে ওই একই ওয়াসার পানি ৫টি ব্র্যান্ডের নিজের নিজের নামে বাজারে আসে। সেই একই ওয়াসার পানি বা ঢাকার মাটির তলে থাকা স্বচ্ছ ঐশ্বরিক সলিল পরিচয় পাচ্ছে, লেবেলড হচ্ছে ওই কোম্পানীর নামে বা আলাদা একটি নামে, আর সেই সাথে প্রচার, প্রসার, সামান্যই ভ্যালু এ্যাডিশন শেষে সেই খোদাপ্রদত্ত স্বাদহীন পানিই হয়ে যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন দামের। আমরা তখন দোকানে গিয়ে আর বলি না,

’এক বোতল পানি দিন তো।’

’একটা পানির বোতল দিন তো।’

’এক পিস গোসলের সাবান দিন তো।’

’একটা ৪ চাকার গাড়ি দিন তো।’

বরং, আমরা তখন বলি,

’আমাকে একটা মামের বোতল দিন তো।’

’আমাকে এক ডজন লাক্স দিন তো।’

’আমি একটা Mercedez কিনতে চাই।’

’আমি আরমানির শার্ট ছাড়া পরি না।’

’আমাদের গারমেন্টস বড় বড় ব্র্যান্ডের কাজ করে।’

’আরেহ, ব্র্যান্ডের জিনিস কিনবি। ব্র্যান্ডের জিনিস তো দাম বেশি হবেই।’

এমনকি, কখনো কখনো, আইটেম ক্যাটেগরীরর চেয়ে ব্র্যান্ড নেমই প্রোডাক্টের বড় পরিচয় হয়ে দাড়ায়, যেমন: – “আব্বাজান, আপনের জামাই একখান হিরো হুন্ডা চায়।” এখানে হুন্ডা দ্বারা বোঝানো হল মোটরবাইককে। মানে, হোন্ডা কাস্টমারদের মনমগজে এতটাই ঢুকে গেছে, যেজন্য, তাদের কাছে ওই বাহনটাই হয়ে গেছে বাইক না, হুন্ডা। সেটা হিরো কোম্পানীর হলেও হুন্ডা, সেটা হারলে-ডেভিডসন হলেও হুন্ডা। কথায় কথায় আমরা বলি, “বেডায় হুন্ডা চালাইয়া আসতেছে।” আমাদের গ্রামে গঞ্জে সেই কোন যুগ হতেই, মানুষ বলে, আমার এক জোড়া ’বাটার জুতা’ কেনা লাগব। মানে, চামড়ার ভদ্রস্থ জুতা বলতে তাদের কাছে বাটাই হল একটি পণ্য। জিনিসটা তখন জুতা না, জিনিসটা সেখানে বাটা।

এভাবেই ব্র্যান্ডিংয়ের হাত ধরে, বগুড়ার মতিন মিয়ার ক্ষেতের ধান হয়ে যায় দি নর্থ বেঙ্গল এগ্রোর ’উৎসব’ চাল, মানিকগঞ্জের গুনাই বিবির সেলাই করা ফুল-লতার খ্যাতা হয়ে যায় ’আড়ং নকশীকাঁথা’; পাবনার মতি মিয়ার তাতের লুঙ্গী বনে যায় ‘ফজর আলী লুঙ্গী’; মাঠে কোথাও না থাকলেও, জেলার পরিচীতি হয় নোয়াখালি অথচ তার স্থানীয় নাম সোনাইমুড়ি; এমনকি, বিজ্ঞানী জগদীশের রেডিও পেটেন্ট হয় মার্কনীর নামে। কখনো আবার দেখুন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরি দাসের আম প্রাণ কোম্পানীর মিক্সারে বোতলে ঢুকে হয়ে যায় ’ফ্রূটো’ আর মানুষ তখন আম খায় না, খায় ফ্রূটো, আবার ডালভাজার বেলায় তারা খায় ’প্রাণ ডাল’, ইউনিলিভারের কাপড় কাঁচা সাবান, সেই বাজারের সোডিয়াম স্টিয়ারিকই সামান্য ভ্যালু ও রিকগনিশনের মিশেলে হয়ে যায় হুইল।

তাহলে দাড়াচ্ছে, একই অর্ডিনারী বিষয়, কনসেপ্ট, বস্তু, আইটেম, কনটেন্ট, পারসন, অরগানাইজেশন-যখন নিজস্ব ভ্যালু এ্যাডিশন, ভ্যালুজ ক্রিয়েশন, ভ্যালুয়েশন, প্রমোশন ও রিকগনিশনের মাধ্যমে একটি নিজস্ব পরিচয়, প্রভাব ও বাজার চাহিদা সৃষ্টি করে, তাকে আমরা ব্র্যান্ডিং বলি। মার্কেটিং ও সেলসের প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ বিষয়টিকে আরো সুন্দর করে বলতে পারবেন। আমি তাই আর কথা বেশি বাড়ালাম না।

তো, এই একই ধারায়, যখন একটি প্রতিষ্ঠান, কোম্পানী, অফিস-তথা একজন এমপ্লয়ার চাকরির বাজারের ক্রেতা তথা চাকরিজীবি, চাকরিপ্রার্থী, অন্যান্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান, জব লিংকার, হেড হান্টার, সল্যুশন প্রোভাইডার-অর্থাৎ জব মার্কেটের সবগুলো পক্ষের কাছে একটি অতি পরিচীত ও স্বীকৃত নাম হয়ে ওঠে, যখন সে হয়ে ওঠে সবার কাছে আরাধ্য একজন এমপ্লয়ার, ওই প্রতিষ্ঠানের চাকরি যখন চাকরিপ্রার্থীদের কাছে প্রতীয়মান হয় আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে, তখন সেই প্রতিষ্ঠান একটি প্রতিষ্ঠিত, নামজাদা এমপ্লয়ার ব্র্যান্ড।

চোখ বুঝে কল্পনা করুন তো, আমাদের দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কতগুলো প্রতিষ্ঠানের নাম আপনি মনে করতে পারেন? তার মধ্যে কতগুলো আছে অনেক অনেক মানুষের স্বপ্নের চাকরির কোম্পানী? এই যেমন ধরুন, আমাদের দেশে ‘বিসিএস’ নিজেই ওভাররেটেড একটি ব্র্যান্ড, যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হল সরকার ও রাষ্ট্র। আমাদের দেশে যুগ যুগ ধরে যেই ব্র্যান্ডেড এমপ্লয়মেন্টটি অতি মাত্রায় ওভাররেটেড, তার আরেকটি নাম ‘বিদেশ’। কেউ একজন মধ্যপ্রাচ্যে উট পালেন। দেশে যখন কেউ জিজ্ঞেস করেন, আপনি কী করেন, তিনি বলে দেন-বিদ্যাশ থাকি। ‘বিদ্যাশ’টাই একটা ব্র্যান্ড। মোবাইল ফাইন্যান্স অথবা MFS এর জগতে তো, খুবই পপুলার, কাউকে মোবাইলে টাকা পাঠানো মানেই-’মামা, আমার মোবাইলে ১০০ টাকা ফ্লেক্সি করো” (ফ্লেক্সিলোড গ্রামীনফোনের সেবা) অথবা, “মামা, আমারে ১০০ টাকা বিকাশ দ্যান তো।” পণ্য/সেবার একজন যোগানদাতার নামই যেখানে হয়ে যায় পণ্যের অঙ্গাঅঙ্গি নাম।

যাহোক। একজন এমপ্লয়ার চাকরির বাজারের সবগুলো পক্ষের কাছে কতটা পরিচীত, কতটা স্বীকৃত, কতটা আরাধ্য, কতটা আদৃত, কতটা মূল্যায়িত এবং কতটা চর্চীত-তার সম্মিলিত রূপই হল এমপ্লয়ার ব্র্যান্ড। আর যে প্রক্রিয়া ও কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে এই স্থানটি করে নেয়া হয়, তাকেই বলছি এমপ্লয়ার ব্র্যান্ডিং। আপনার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা কতজন চাকরিজীবির গোপন স্বপ্ন-সেটিই আপনার এমপ্লয়ার ব্র্যান্ড ভ্যালুর রেটিং। জব সার্কুলার হলে আপনাদের মেইল আইডিতে কতটা বিপুল পরিমাণে আবেদন জমা পরে-সেটিও হতে পারে একরকম ইন্ডিকেটর। অনলাইনে আপনার প্রতিষ্ঠানের দেয়া সার্কুলারে হিট রেট কত-সেটি, অথবা, আপনার নিজস্ব সাইটে কতগুলো রিজুমী জমা আছে আর প্রতিদিন নতুন করে কতগুলো প্রোফাইল লগ হয়-সেটি হতে পারে আপনার জন্য ব্র্যান্ড ভ্যালুর পরিমাপক।

পণ্যের ক্ষেত্রে যেমন আমরা বলি, প্রচারেই প্রসার; বিজ্ঞাপনের বা যেকোনো রকম প্রমোর সার কথাই যেমন নিজের উপস্থিতি জানান দেয়া, মানুষের মনে স্থান করে নেয়া, এমপ্লয়ার ব্র্যান্ডিংও তেমনি, তা হল, একজন এমপ্লয়ার হিসেবে চাকরির বাজারের সব খেলোয়াড়দের নোটবুকে, গুডবুকে, আলোচনায়, চর্চায় স্থান করে নেয়া।

মনে রাখতে হবে, একটি প্রতিষ্ঠান তার ইনহাইজ এমপ্লয়ী এবং বাইরে থাকা সম্ভাব্য সকল পক্ষের কাছেই কিন্তু ব্র্যান্ডিং চাহিদার মুখাপেক্ষি। আমি আমাদের চাকরির বিজ্ঞাপনে সবসময় একটি কথা বলে দিই, আর আমরা সেটি মনে প্রাণে বিশ্বাসও করি, তা হল,

All the job applicants are our most valuable brand ambassadors.

Employer branding এর জন্য কোন পথে হাঁটবেন, কোন কৌশল নেবেন, কোন প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি অবলম্বন করবেন-সেটির খুব ব্যাসিক উত্তর হল-বাজারে থাকা পণ্য মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেখুন। তারা যেই পথে ওয়াসার পানিকে ’মাম’ পানি হিসেবে কাস্টমার, কনজ্যুমার, সাবসক্রাইবারদের কাছে ব্র্যান্ডিং করে, মার্কেটিংয়ের যেই চিরাচরিত ও নিয়মিত কৌশলে হুন্ডা হয়ে ওঠে মোটরবাইক, হুইল হয়ে ওঠে সাবানের অন্য নাম, সেই পথেই এমপ্লয়ারকে নিজেকে ব্র্যান্ডিং করাতে হবে। অর্থাৎ, মৌলিক ব্যকরনটি একই। ওই একই পথে হেঁটেই বিকাশ যেমন হয়ে ওঠে ই-মানির আরেক নাম, আবার বিকাশ হয়ে ওঠে Most Dreamt Job এর ব্র্যান্ড।

প্রোডাক্ট ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য তো প্রথাগত নানা পদ্ধতি ব্র্যান্ডার, মার্কেটিয়াররা অ্যাপ্লাই করেনই।

আমাদের দেশে বিখ্যাত ও জায়ান্ট অনেক ব্র্র্যান্ড বিজনেস করছেন। সেই ব্র্র্যান্ডের মূল উৎপাদক অরগানাইজেশনও একই সাথে জায়ান্ট ও বিখ্যাত ব্র্র্যান্ড। কিন্তু, এই ব্র্যান্ড ভ্যালুটা মূলত প্রোডাক্ট ব্র্যান্ডিংয়ের। প্রোডাক্ট ব্র্যান্ডিংয়ের যে বিপুল কর্মযজ্ঞ, তার সুবাদেই পণ্য ও তার নির্মাতা কোম্পানী বাজারে একটি বড় ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচীত। 

জব ও ট্যালেন্ট মার্কেটেও সেই সূত্র ধরেই বড় ও বিখ্যাত ব্র্যান্ডের উপস্থিতি ও পাবলিক ডিমান্ড আছে। ব্র্র্যান্ডগুলো জব ও ট্যালেন্ট মার্কেটে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি ফেভার, রেসপন্স, প্রিভিলেজ পায় আর সেটা ক্যাপিটালাইজও করে।

কিন্তু, প্রশ্ন হল, ওই প্রতিষ্ঠান ও তাদের এইচ.আর টিমগুলো শুধুমাত্র প্রডাক্ট ব্র্যান্ডিংয়ের পথ ধরে প্রাপ্ত ব্র্যান্ড ভ্যালুই নয়, বরং, আলাদাভাবে এমপ্লয়ার ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য কতটা ও কী কী করতে পারেন, এবং তা করে থাকেন?

(প্রধানত এইচ.আর) এবং ‍পুরো প্রতিষ্ঠান জব ও ট্যালেন্ট বাজারে এমপ্লয়ার ব্র্যান্ডিংকে কতটা ফোকাস দেন? কতটা আলাদা ও বাড়তি এফার্ট দেন?

এমপ্লয়ার ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য আপনার এইচ.আর কী কী ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল ইনিশিয়েটিভ/এফার্ট/অ্যাকটিভিটিজ করে থাকেন? বা, করতে পারতেন?

Employer branding কেন আপনার দরকার?

সহজ কথায় বলতে গেলে বলব, কর্মীদেরকে এবং আপনার সেট-আপের যাবতীয় কিছুর কাছে থেকে, আপনার যাবতীয় ইনভেন্টমেন্টের বিপরীতে, তাদের কাছে প্রত্যাশিত সেরা পারফরম্যান্স তথা রিটার্ন ও এ্যাডিশন নিশ্চিত করতে হলে, প্রতিষ্ঠানকে একটি ব্র্যান্ডে পরিণত করাও জরুরী। নানা কারনেই। শুনি সেই কারণ:-

১. প্রতিষ্ঠানের এমপ্লয়ার ব্র্যান্ড ভ্যালু সেরা মেধাদের আকর্ষণ এবং প্রতিষ্ঠানে ঢোকার পরে তাদের সেরাটা ‍নিংড়ে দিতে উদ্বুদ্ধ, প্রলুব্ধ, উৎসাহিত ও কিছুটা বাধ্যই করে।

২. এমপ্লয়ার ব্র্যান্ড ভ্যালু প্রত্যেক ইন হাইজ কর্মীকে চাকরির পেছনে এনগেজ রাখে। Employee engagement অংশে এই কো-রিলেশন ও এলাইনমেন্টের কথাটি বলেছিলাম।

৩. এমপ্লয়ার ব্র্যান্ড ভ্যালু একইসাথে কর্মীকে তার চাকরির প্রতি সিরিয়াস রাখে, কারন, এই চাকরিটি তার কাছে মূল্যবান। কর্মরত প্রতিষ্ঠানটি হতে চাকরিটি চলে যাওয়া-একজন কর্মীর কাছে কতটা বিশেষ গুরুত্ব রাখে-সেটি অবশ্যই এমপ্লয়ীর পারফরম্যান্সের গতি-প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করে।

৪. এমপ্লয়ার ব্র্যান্ড ভ্যালু প্রতিষ্ঠানের HR বিভাগের কাজকে সহজ করে। বিশেষত টিপিক্যাল কিছু HR Metrics এ HR এর পজিটিভ গেইন নিশ্চিত করতে এমপ্লয়ার ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানো জরুরী, যেমন: – প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের Yield ratio, talent retention, succession rate এর মতো ইনডেক্সে ভাল করতে হলে এমপ্লয়ার ব্র্যান্ড ভ্যালুর সহযোগীতা দরকার।

৫. Employer branding চাকরির বাজারে যেমন প্রতিষ্ঠানকে এ্যাডভানটেজ পাইয়ে দেয়, একই সাথে, তাকে প্রতিযোগীতামূলক ব্যবসার বাজারে কৌশলগত নানা সুবিধা এনে দেয়। পণ্যের মার্কেটিং তথা ব্র্যান্ডিং ড্রাইভকেও পজিটিভ ভাইব এনে দেয় এমপ্লয়ার ব্র্যান্ডিং। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমার পণ্য ও এমপ্লয়মেন্ট পণ্য-উভয় ক্ষেত্রেই নিজেকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়। যেমন: – টেসলা, এ্যাপল, কিংবা ধরুন ইউনিলিভার, যারা এমপ্লয়ার হিসেবেও স্বনামধন্য, (আমাদের দেশে বেশি কদর পায় MNC তকমায়), আবার তাদের পণ্য হুইল বা সার্ফ এক্সেলও ব্র্যান্ড পণ্য।

এমপ্লয়ার ব্র্যান্ডিংয়ের মৌলিক কৌশল আসলে দুটিই-

ক. আপনাকে চাকরিজীবি সম্প্রদায়ের নিকট একটি সত্যিকারের Dream প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরের জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে কাঠামোগত ও তাত্বিক যা কিছু থাকা দরকার সবই করতে প্রস্তুত থাকা;

খ. এই স্বপ্নের প্রচুর প্রচার;

উদ্যোগের স্থলে আপনি ঠিক কোন পথে এগোবেন, তা দুটি ভাগে বলছি-

প্রথমত;

মোটা দাগে, আপনাকে যেসব প্রাথমিক নীতিগত ও কৌশলগত দিক ঠিক করতে হবে: –

১. প্রথমেই আপনাকে ঠিক করতে হবে, আপনি ব্র্যান্ডিং বলতে কী চাইছেন, কতটা চাইছেন-অর্থাৎ, এই বিষয়ে আপনার প্রতিষ্ঠানের ভিশন, ভিউ, এপ্রোচ, গোল, স্ট্রাটেজি ঠিক করে নিতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানের সর্বত্র তার প্রচার এবং সকল রকম এ্যাকটিভিটিজে তার প্রতিফলন থাকতে হবে।

২. প্রতিষ্ঠানের মিশন, ভিশন, ভ্যালুজ সুচিন্তিতভাবে, সুচারুভাবে ডিটারমাইন করতে এবং সেটি ডিসেমিনেট করতে হবে।

২. ব্র্যান্ডিংয়ের কিছু ব্যাসিক গ্রামার আছে। সেটি অনুসরন করতে হবে। পজিটিভ মার্কেটিং করবেন, নাকি নেগেটিভ-সেই সিদ্ধান্ত শুরুতেই নিতে হবে। ব্র্যান্ডিংয়ের গ্রামার একজন মার্কেটিং প্রোফেশনাল বা পেশাদার ব্র্যান্ড প্র্রমোটার সবচেয়ে ভাল জানবেন।

৩. আপনাকে একট দীর্ঘমেয়াদী মাস্টার প্ল্যান করতে হবে। যেখানে আপনার করণীয় এবং কৃত-সবকিছু বিবৃত হবে।

৪. প্রচারেই প্রসার-এই মূলনীতিকে মনে রেখে, আপনি একজন এমপ্লয়ার হিসেবে যা কিছু প্রমিত কাজ করে থাকেন, যা কিছু আপনার ভিশনারী পরিকল্পনা, কর্মীদের জন্য আয়োজিত প্রতিটি পজিটিভ উদ্যোগের কথা আপনাকে প্রচার করতে হবে। এই প্রচারনা হবে বুদ্ধিদীপ্ত, চৌকষ, পরিকল্পিত এবং আবেদনময়ী।

দ্বিতীয়ত;

এবার বলছি, ঠিক কোন কোন সুস্পষ্ট ও মাঠ পর্যায়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ, আয়োজন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করে থাকে-সেগুলো এবং একইসাথে, এই বিষয় নিয়ে আমার সংক্ষিপ্ত সার্ভের ফিডব্যাক হিসেবে যেসব সাজেশনে এসেছে, তার সংক্ষিপ্তসার। এখানে আমি রিডারদের মতামতকে কিছুটা পরিমার্জন করে কোনো কোনো অংশে যোগ করেছি। মন্তব্য ও মতামতদাতাদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাখলাম।

১. প্রতিষ্ঠানকে সকল সোশ্যাল মিডিয়াতে নিয়ে আসুন। পেজ খুলুন, পেজ বুস্টিং করুন পেজটিকে রিচ করুন এবং বস্তুত, পেইজগুলোকে আপনার ভারচুয়াল বিজ্ঞাপনে পরিণত করুন। আপনার নামে নেগেটিভ প্রচারনা হয় কিনা-সেদিকেও নজর দিন।

২. প্রতিষ্ঠানকে সকল মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতেও টেনে আনুন। প্রতিষ্ঠান এবং তার কর্মীদেরকে সোশ্যাল এবং মেইনস্ট্রীম-উভয় মিডিয়াতে তাদের প্রতিষ্ঠানকে রিপ্রেজেন্ট করতে উৎসাহিত করুন।

২. প্রয়োজনে ফরমাল বিজ্ঞাপনও দিতে পারেন-আপনার প্রতিষ্ঠানের এমপ্লয়ারশীপ ব্র্যান্ডিং করে। টেলিভিশনে প্রায়ই সেনাবাহিনীর জব সার্কুলারের মধ্য দিয়ে ব্র্যান্ডিং বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন। এই বিজ্ঞাপন কিন্তু কোম্পানীর বা তার পণ্যের ব্র্যান্ডিং নয়, একজন এমপ্লয়ার হিসেবে আপনি যে বেস্ট চয়েস-তার বিজ্ঞাপন। হ্যা, কোম্পানী ব্র্যান্ডিং এমপ্লয়ার ব্র্যান্ডিংয়ে ভূমিকা রাখে, বিপরীতক্রমে এমপ্লয়ার ব্র্যান্ডিংও কোম্পানী ব্র্যান্ডিং বা পণ্য ব্র্যান্ডিংকে প্রভাবিত করে।

৩. প্রতিষ্ঠানের জব সার্কুলারগুলোতে নজর দিন। জব সার্কুলার যেন স্রেফ একটি বিজ্ঞপ্তি না হয়, ওটা যেন হয় বিজ্ঞাপন। ওগুলোর আধুনিকায়ন, প্রেসাইজনেস, পারফেকশন এবং ব্র্যান্ডিং পোটেনশিয়াল নিশ্চিত করুন। সার্কুলারগুলোতে যেসব রেসপন্ড হয়, সেগুলোর যৌক্তিক ও দ্রূত জবাব দিন। সার্কুলারের আধুনিকায়ন এবং মানোন্নয়ন নিয়ে আমি আলাদা একটি লেখা লিখবার ইচ্ছা রাখি।

৪. প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান ইনহাউজ কর্মী এবং আউটগোয়িং কর্মীরাই প্রতিষ্ঠানের বড় ব্র্যান্ড এমবাস্যাডর। একইসাথে আপনার যাবতীয় জব এ্যাপ্লিক্যান্ট এবং ইন্টারভিউইরাও আপনার গুরুত্বপূর্ণ ব্র্যান্ড পার্টনার। তাদেরকে আপনার ব্র্যান্ড প্রমোশনের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ট্রিট করুন। স্ট্যান্ডার্ড এবং মডার্ন প্রাকটিস ফলো করুন।

৫. প্রতিষ্ঠানে একজন পাবলিক রিলেশন অফিসার কিংবা ব্র্যান্ড প্রমোশন অফিসার নিয়োগ করুন, যিনি নিয়মতান্ত্রীকভাবে আপনার প্রতিষ্ঠানের এমপ্লয়ীং বেনেফিটসকে হাইলাইটে রেখে আপনাকে একটি দারুন এমপ্লয়ার ব্র্যান্ড হিসেবে প্রমোট করবেন সব প্ল্যাটফরমে। আপনার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা যেন চাকরিজীবিদের স্বপ্নে পরিণত হয়, মানে, তার জন্য কাজ করবেন তিনি ও তার টীম।

৬. প্রতিষ্ঠানে কর্পোরেট কালচার তথা প্রাতিষ্ঠানিক, আনুষ্ঠানিক, আধুনিক এবং নিয়মতান্ত্রীক সব ব্যবস্থাপনা চালু করুন। প্রচারনা যেমন চালাবেন, তেমনি, ব্যাকএন্ডে আপনাকে সত্যিকারের একটি আকাঙ্খিত কোম্পানী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাও তো জরুরী-তাই না?

৭. প্রতিষ্ঠানের এইচআর বিভাগ ও এইচআর কালচারকে আধুনিকায়ন, অটোমেটেড, এমপাওয়ারড এবং প্রয়োজনে রিকগনাইজড/সার্টিফায়েড করুন।

৮. ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নিয়ে কিছু এফিলিয়েশন/সার্টিফিকেশন রয়েছে। সেগুলো অর্জনের জন্য সিরিয়াসলী চেষ্টা শুরু করুন। পেলে তার প্রচার করুন। এমপ্লয়ার ব্র্যান্ড হিসেবে আপনার অবস্থান কেমন-সেটা জানতে আনুষ্ঠানিক বা উপানানুষ্ঠানিক জরিপ করতে পারেন। এমপ্লয়িং প্রতিষ্ঠানদের জন্য বিভিন্ন রেটিং ও এ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। সেগুলোর জন্য সাবসক্রাইব করা এবং পুরস্কার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানের অর্জনগুলোকে ক্যাপিটালাইজ করতে হবে।

৯. জব ফেয়ারে অংশ নিন। জব মার্কেটে আপনি যে একজন এ্যাডভান্স লেভেলের খেলোয়াড়, তা উপস্থাপন করুন।

১০. বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যান, আপনার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ট্রেইনিং প্রতিষ্ঠানে, যেকোনো সভা, সেমিনারে, ফেয়ারে যেতে অনুপ্রাণিত করুন। আপনার সিনিয়র কর্মীদেরকে বিভিন্ন প্লাটফরমে কথা বলতে, এমনকি কখনো কখনো স্ট্রাটেজির অংশ হিসেবে পেইড লেকচার দেবারও সুযোগ করে দিন। তারাই আপনার প্রতিষ্ঠানকে সম্ভাব্য এমপ্লয়ীদের কাছে নিয়ে যাবে।

১১. কর্মীদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ফ্যাসিলিটিজ বরাদ্দ করুন। সেটি হতে পারে আর্থিক, হতে পারে অনার্থিক।

১২. প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ, বন্ধুত্বপূর্ণ, সতঃস্ফুর্ত, লিবারেল, পারমিসিভ, ফ্লেক্সিবল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করুন। মডার্ন অফিস ম্যানেজমেন্টকে প্রমোট করুন। তার ভাইব্রেশন পৌছে যাবে ভেতরে ও বাইরে। শুধু ঘটা করে জন্মদিন পালন করলেই হবে না।

১৩. প্রতিষ্ঠানের দারুন একটি ওয়েবসাইট আপনাকে অনেকটা সহায়তা দেবে। সাইটটি যেন অবশ্যই রিচ একটি সাইট হয়। একই সাথে যেন হয় ইনটার‌্যাকটিভ সাইট।

১৪. প্রতিষ্ঠানে ইনটার্নশীপ চালু করুন। এবং সেটি পেইড সার্ভিস হলে আরও ভাল। ইনটার্নদের মূল ওয়ার্কফোর্সে ইনক্লুশনের একটি চ্যানেল সৃষ্টি করুন।

১৫. আপনার ট্যালেন্ট এ্যাকুইজিশন তথা রিক্রূটমেন্ট ও সিলেকশনসহ অনবোর্ডিং প্রক্রিয়াকে দ্রূত, সহজ, মেধা নির্ভর, নিরপেক্ষ, আধুনিক, ছকে বাঁধা ও যোগ্যতা নির্ভর একটি প্রক্রিয়াতে রূপান্তর করুন। জব এ্যাডভারটাইজমেন্ট হতে অফবোর্ডিং-এই লম্বা যাত্রাপথটিকে সহজ, ফ্রেন্ডলী, স্বচ্ছ, ব্যুরোক্রেসীমুক্ত, ডায়নামিক, রিয়েলিস্টিক ও ডিজিটালাইজ করুন।”ট্যালেন্ট এ্যাকুইজিশনে যেমন মনোযোগ দেবেন, তেমনি দেবেন রিটেনশনেও। আউটগোয়িং কর্মীদের ওপরে চালানো এক্সিট ইন্টারভিউ এবং তার ফিডব্যাক হতে নতুন করনীয় বা সংশোধনমূলক কাজ নির্ধারনও ব্র্যান্ড প্রমোশনের পন্থা বটে। ইন্টারভিউয়ের পরে একটি থ্যাংকস গিভিং কিংবা রিজেকশন মেইল প্রতিষ্ঠানকে এক ধাপ এগিয়ে রাখে।

১৬. সত্যিকারের CSR কার্যক্রম বাড়ান। এটি যেন স্রেফ নাম কামানোর ধান্দা না হয়। যেমন: – কর্মীদের ১ দিনের বেতন বাধ্যতামূলক কেটে নিয়ে সেই টাকায় বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ বিতরণ করলেন আপনার কোম্পানীর ব্যানারে। সিএসআরের শুরুটা নিজ ঘরের কর্মীদের দিয়েই শুরু হোক।

১৭. আপনার প্রতিষ্ঠানকে একটি ডায়নামিক, ওপেন এবং একসেসিবল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করুন। পাবলিক ইনটার‌্যাকশন বাড়ান। আপনার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্বচ্ছ রাখুন। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাছে ওপেন হোন। কর্মীদেরকে এনগেজ করুন, এনগেজ রাখুন। পার্টিসিপেটিভ ও কালেকটিভ ম্যানেজমেন্টে বিশ্বাস করুন।

মনে রাখবেন, আপনার প্রতিষ্ঠানের একজন ঝাড়ুদার হতে সিইও, আপনার প্রতিষ্ঠানের সকল interviewee, job applicant রা আপনার সাইলেন্ট ব্র্যান্ড এমবাসেডর, আপনার ফেসবুক পেজ ও লিংকডইন পেজের সদস্য বা ভিউয়াররাও আপনার গুরুত্বপূর্ণ ব্র্যান্ড পার্টনার।

এই দুটি বিষয় নিয়ে আরো বিস্তারিত জানতে প্রখ্যাত ব্যক্তিদের লেখা এই আর্টিকেলগুলো পড়তে পারেন: –

১. Developing and Sustaining Employee Engagement: https://www.shrm.org/resourcesandtools/tools-and-samples/toolkits/pages/sustainingemployeeengagement.aspx;

২. What is employer branding?: https://resources.workable.com/hr-terms/what-is-employer-branding;

৩. How to build your employer brand online and offline: https://resources.workable.com/stories-and-insights/build-employer-brand; ৪. How to improve your employer brand: https://resources.workable.com/stories-and-insights/employer-brand-strategy;

#EmployeeEngagement #EmployerBranding

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *