Skip to content

আমাদের তথাকথিত আমজনতার সরলতার কাহন

  • by

কাহন-১: আমজনতার স্বরুপ উন্মোচন:

ইয়ে, আকিকা না হওয়া তক পদ্মা সেতুর নাম আপাতত পদ্মা সেতুই থাকছে। তো পদ্মা সেতুর নির্মানযজ্ঞে সপ্নায়মান, দূর্নীতির ছায়া ঘনায়মান, আত্ম ইনভেস্ট করায়মান শেষে, ৩ বছর পার হয়ে, মিডিয়ার ’দৃশ্যমান’ নাটক শেষ হয়ে এবার নতুন পর্বের সূচনা হতে চলেছে। সেটার নাম হতে পারে স্ল্যাব ও ওয়াকওয়ে বসানোসহ বিরিজের পূর্নাঙ্গ ‘দন্ডায়মান’ পর্ব। এক কিলোমিটার দন্ডায়মান, তিন কিলোমিটার দন্ডায়মান-এভাবে। যাইহোক পদ্মা সেতু আমার আজকের টপিক না।

যদিও, বিরিজটা ফাইনালী প্রায় করে ফেলায় সরকারকে আমি অবশ্যই টুপি খোলা ধন্যবাদ দেব। কারন, এই বিরিজে যদি ‘বেশ্যা ব্যাংক’, মিডিয়া, বিম্পী, জাতির বিবেকসমূহ ও অন্যান্যদের দাবী মতে, বিশাল অঙ্কের লেনাদেনা হয়েও থাকে (বা না হয়েও থাকে), তবুও,  এই বিরিজ আশা, অর্থনীতি, বানিজ্য, সক্ষমতা, সাহসিকতা, আত্মসম্মান, দম্ভ, জাতীয়গত মেরুদন্ড, রাজনৈতিক প্রতিশ্রূতি-অনেক সেকটরেই এত এত এত বেশি পুষিয়ে দেবে, যে, ওই দূর্নীতির কলংক ছাপিয়ে যাবে। তবে, এই বিরিজ নির্মানের যতটা কৃতিত্ব ও ধন্যবাদ গোটা সরকারের প্রাপ্য, তার ৯৯% ই যাবে ’শেখের বেটি’ ব্যক্তি শেখ হাসিনার ক্রেডিটে। বাকিরা সবাই মিলে ১%।

প্রয়াত জামিলুর স্যার সহ যে বা যারাই এই সুবিশাল স্বপ্নের পিছনে ছিলেন, তাদের সশ্রদ্ধ সালাম। আর যেই হারামি দো-পেয়েরা ‘পদ্মা বিরিজে শিশুদের মাথা লাগবে’ রটিয়ে দিয়ে কেড়ে নিয়েছে অনেকগুলো তাজা প্রাণ, তাদেরও জাতি কোনোদিন ভুলবে না আশা করি।তবে ইয়ে, পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান ও দন্ডায়মান শেষে যখন সেটি সত্যি সত্যি মার্চ-২০২২ এ দৌড়ায়মান হবে, সেদিন হতে ঢাকা হতে বাগেরহাট-২.৫ ঘন্টায় পৌছে যাবার দিবাস্বপ্নে যদি কারো দিনে দুপুরেই দ্রূতগমন স্বপ্নদোষ বা অর্গাজম হতে শুরু করে, তিনি ও তারা একটু থামুন, এক গেলাস পানি খান, বাথরুমে ঢুকে হালকা পিসাব করে আসুন। তক্তপোষে বসুন সুস্থমতো। এবার শুনুন, পদ্মাসেতু হবার পরে আপনি ক্যাতর আলী এখন যেমন ম্যান্তা দিনে ৯ ঘন্টা আর ইদের চান্দে ১৯ ঘন্টায় বাড়ি যান, ২০২৩ সালেও আপনি ও আমি সেই ১৯ ঘন্টাতেই যাব। প্রমাণ চান?

একটু কষ্ট করে পদ্মাসেতুর দক্ষিণে আরেকটা সেতু আছে-যমুনা সেতু। বলা হত, ওটা হবার পরে নাকি পঞ্চগড় যেতে ৩.৫ ঘন্টা লাগবে। তা, এখন ম্যান্তা চান্দে বগুড়া যেতেই ৬ ঘন্টা কাটে, আর ইদের চান্দে তো খোদ গুগলও জানে না, বাস কখন পঞ্চগড় পৌছাবে। আরও ‍যদি বুঝতে চান, তাহলে শুনুন, ছোটকালে ঢাকা টু বাগেরহাট রুটে ফেরী ছিল ৮ টা। তখন ঢাকায় আসতে লাগত ১২ ঘন্টা। আজকে ফেরী ১ টা। তারপরও লাগে ১২.৫ ঘন্টা।

তাই বলি কি, স্বপ্ন একটু কমাইয়া কমাইয়া দেখেন। যাই হোক, শীব ভানতে ধানের গীত গাইলাম কেন? কারন, পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদের দেশের সাধারন জনগনের দিবাস্বপ্ন আর ’গালের টোল’ নিয়ে নানা ঘাঁইকিচিং শুরু হয়ে গেছে। গত ৫ বছর উঠতে, বসতে, ঘুমাতে, থু ফেলতে, হাগতে, মুততে লেভি আর সারচার্জ দিতে দিতে জেরবার আমরা জানতাম, ওই পয়সায় পদ্মায় বিরিজ বানানো হচ্ছে, বিরিজ হয়ে পোষাইয়া দিবে। তা একদফা পকেট খালি করে নিয়ে তো বিরিজ হল। তাহলে আবার সেটাতে উচ্চহার ঢোল বসিয়ে পয়সা তুলে আনতে হবে কেন, আর সেই পয়সায় আবার কোথায় বিরিজ হবে জানি না। [যদিও টুল নিয়ে কোনো রাজকীয় ফরমান এখনো ফরমানো হয় নাই।]

তবে শীব ভানতে ধানের গীত আজকে অন্যত্র। সেটা হল, পদ্মা বিরিজে নাকি বেপুক দূর্নীতি হয়েছে, আর সেই দূর্নীতি নিয়ে বিবৃতি ফককুল ভাই, তোড়াবোড়া গুহার রিজবি ভাইয়ের দল বেপুক সোচ্চার হয়েছেন। [খাম্বা রাজার প্রাগৈতিহাসিক গল্প অবশ্য তারা বিস্মৃত হবারই কথা, যেখানে স্বয়ং ছোট খাম্বারাজ আজ কবরে আর বড় খাম্বারাজ লন্ডন নগরে।] সাধারন গণিমতের, আই মীন, সাধারন জনগনের করের টাকার সহিহ ব্যবহার নিয়ে ফককুল আর কোকো ভাইয়ের বিম্পির আহাজারি দেখেই আমার সাধারন জনগন নিয়ে একটা লেখা লিখবার কথা মনে হল। এতে আরও বাতাস দিয়েছে, সাম্প্রতিককালের কিছু ফেসবুক কলাম, যেখানে ইনিয়ে বিনিয়ে বলার চেষ্টা ছিল, এই দেশের সব সরকারী কত্তা, অফিচার, সুচিব, মুন্ত্রী সব চোর, বাটপার, দূর্নীতিবাজ, ঘুষখোর ইত্যাদি ইত্যাদি…………..আর তাদের ভাষ্যমতে, দেশের ‘সাধারন জনগন’ সব মহা পবিত্র ও সহিত বুজুর্গ। উহা হালকা পাতলা হইলেও সহ্য হইত।

কিন্তু দেশের তাবত মিডিয়া, ফেসবুক জাগ্রত জনতা, বিম্পি, হেপাচোত, জামাইয়াত-সবাই ’সাধারন জনগন’ জিনিসটার মাহত্ম্য নিয়ে এত বেশি কচলানো শুরু করল, যে, হাতটা নিশপিশ করতে শুরু করল। বাংলার আকাশে বাতাসে ’সাধারন জনগন’ নামে একটি মিথ্যে মীথ প্রচলিত আছে।

উপনিষেদ না হলেও, বঙ্গনিষেদ মতে, এই ’সাধারন জনগন’ হল ভোলাভালা, সহজ, সরল, সৎ, চরিত্রবান, অনুগত, সুশৃঙ্খল, পরোপকারী, দেশপ্রেমিক, অসাম্প্রদায়িক, প্রতিবেশিপরায়ন, মানবদরদী ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি সবরকম মানবীয় গুণে গুনান্বিত এক উৎকৃষ্ট মানব চরিত্র বিশেষ। কথায়, লেখায়, সংবাদে, কলামে, সম্পাদকীয়তে, টকশোতে সবখানেই এই ‘সাধারন ভোলাভালা জনগন’ এর জয়গান, বন্দনা। ভাবখানা এমন, এই সাধারন জনগন নামক প্রাণীরা কলা ছিলে খেতেও জানে না। এবার আসুন, বাস্তবতায়।

এই ‘সাধারন জনগন’ জিনিসটি বাংলাদেশে নিতান্তই একটি মীথ। ভুল মীথ বা মাইথ। ওটার অস্তিত্ব সেই দাপর বা সত্য যুগে থাকলেও কলির বঙ্গদেশে কণামাত্রও এর সত্যতা পাবেন না। যাদুঘরেও পাবেন না ‘সাধারন জনগন’ এর দেখা। কারন বাস্তবতা বলে,এই সাধারন জনগন রেলের ওয়াগন দুর্ঘটনায় পড়লে তার থেকে তেল চুরি করে গ্রামশুদ্ধ।এই সাধারন জনতাই বাস খাঁদে পড়লে আহত নিহতদের গা হতে গহনা, মানিব্যাগ, দামী জিনিস লুট করতে ন্যাস্ত থাকে। এই সাধারন জনগনই পদ্মা বিরিজের দুই পাড়ে ইদের চান্দে বিশাল জট লাগলে যাত্রীদের হাগা মুতার জন্য দুম করে ৫০ টাকা পার হাগা/মুতা কিংবা ২৫০ টাকায় আলুভর্তা ভাত বেঁচা শুরু করে। বিনা পয়সায় এক গেলাস কলের জলও দেয় না।

এই সাধারন জনগন নামের ভোলাভালা গ্রূপই বাড্ডা বা লালমনিরহাটে একজন নির্দোষ মা বা বাবাকে মনের হাউশ আর  ম্যাঁখোর বিরুদ্ধে জমা অবদমিত ’কাম’, স্যরি ক্ষোভ উগরে দিতে পিটিয়ে মারে। এই সাধারন জনগন রাস্তা হতে করোনার ত্রাণের গাড়ি লুট করে নেয়।এই সাধারন জনগনই সরকারী চাকরি পেয়ে নিজে, বাপ, মা, শালা, শালী, ভাতিজা, দেবর-সবাইকে নিয়ে লুটপাটে নামে। এই সাধারন জনগনই কোরবানীর সময়ে ৫০ বাড়ি হতে মাংস নিয়ে সেটা আবার সন্ধ্যা বেলায়ই চড়া দামে বেঁচে দিয়ে আসে।

এই সাধারন জনগনই মাত্রাহীন আবলামোর ভুল ধারনাবশত গরীবের ডাক্তার রাকিবকে ‘ভুল চিকিসসা’ দেবার অপরাধে পিটিয়ে মেরে ফেলে।এই সাধারন জনগন ট্রেনে ঢাকা হতে ময়মনসিং যায়-টিকিট কাটে না। এই সাধারন জনগনই নতুন কেনা বোয়িংয়ের ডিসপ্লে টেনে ছিড়ে বাড়িতে নিয়ে যায়। নতুন ট্রেনে পাথর ছুড়ে ট্রেন ভাঙে বা মানুষ মারে। এই সাধারন নামের অসাধারন জনতাই পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন কিনে নিজের নিজের ততোধিক পাকনা পোলাপানকে গিলিয়ে জিপিএ৫ হাসিল করে। এই সাধারন জনগনই রাস্তায় কেন সালাম দেয়নি-সেই নিয়ে দুই গ্রাম যুদ্ধ করে। এতটাই সাধারন এরা।

দূর্নীতি নিয়ে ব্যপক সোচ্চার বাংলার সাধারন জনগণ। সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিদিনই সরকার, রাজনীতিক বা বড় ব্যবসায়ীদের দূর্নীতি নিয়ে বিপুল সংখ্যক বিষোদগার আপনি দেখতে পাবেন। তবে এই বিষোদগার বা বিপ্লবের পেছনে থাকা প্রেক্ষাপটটি কিন্তু নিখাঁদ সততা নয়। আসল সত্যটা হল, সবার মনে মনে একটি তীব্র আক্ষেপ, “ইশশ! ওই দেড় হাজার কোটি কেন আমার হল না!” 

আর সবশেষ,এই সাধারন জনগনের একটা বিশাল অংশই সেদিন ’৫২ তে, ‘৬৯ এ, ‘৭১ এ বঙ্গবন্ধু, অস্থায়ী সরকার, মুক্তিসেনা ও গেরিলাদের যুদ্ধকে ‘গন্ডগোল’ ও পোলাপাইনের ঝামেলা/ষড়যন্ত্র-বলে তাচ্ছিল্য ও বাঁধাগ্রস্থ করেছিল। ’সাধারন জনগন’ এর এই অসাধারন অংশটিই স্বাধীন বাংলাদেশে ‘রাজাকার’ নামে পরিচীত হয়েছিল। এদের তৎকালীন সংখ্যাটা খুব উপেক্ষা করার মতো ছিল না।

অবশ্য বিগত দুই দশকে এরা নিজেদের গা হতে ‘রাজাকার’ লেবেলটি সুচারুভাবে মুছে ফেলে নিজেদের ‘সাধারন তৌহিদী জনগন’ হিসেবে লাইমলাইটে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। আর তার সাথে মিশে গেছে ফেসবুক কেন্দ্রীক একটি বিশাল সংখ্যক জাগ্রত সাধারন জনতা, যারা ফেসবুক করেই স্বর্গে যাবার স্বপ্নে বিভোর। মানুষের স্পর্শকাতর ও ইলমবিহীন ধর্মভীরুতাকে অপব্যবহার করে এই সাধারন জনগনই যেকোনো সময়ে দাঙ্গা আর সহিংসা উসকে দেয়। এই দেশে সেই একাত্তরের মতো আর কোনো ’অসাধারন জনগন’ নেই। পুরোটাই আজ ‘সাধারন জনগন’।বাহ সেলুকাস! কী বিচিত্র এ দেশ!

কাহন-২: আহা গরিবস!

সকালে হাঁটতে বেড়িয়ে পথে কাঁচা আমের ভ্যান নজরে পড়ল। মনে পড়ল, দুয়েকদিন আগেই নিটোল কাঁচা আমের ডাল খেতে চেয়েছিল। আমি হাঁটা থামিয়ে দাম জানতে চাইলাম।

৪০ টাকা কেজি। আমি চোখের আন্দাজে ৫টা তুলে দিলাম।

বিক্রেতা আমগুলো পলিব্যাগে ভরে ওজন করল। আমি ১০০ টাকার একটা নোট দিলাম। তিনি আমাকে আমের ব্যাগ আর ১০ টাকা ফেরত দিলেন।

”চাচা, কতটুকু হয়েছে? কত দাম?”

তিনি হাসিমুখে বললেন, ”১ টাকা কম দিলাম।”

আমি আমের পলিব্যাগটি আবারও ওজন দিতে বললাম। তার মুখ কালো হয়ে গেল।

ওজন এলো ২.১৩ কেজি। ৪০ টাকা করে ৮৫.২ টাকা। আমি ফেরত পাব ১৪.৮ টাকা। বা অন্তত ১৪ টাকা।

তিনি এর আগে নিজে হতে ১০ টাকা দিয়েছিলেন-মনে পড়ে? আর বলেছিলেন, ১ টাকা কম দিলেন।

আদতে তিনি বেশি রেখেছেন অন্তত ৪ টাকা। এবং, সেটি প্রতারনা করে, আমার অনুমতি ছাড়াই। কারন, প্রথমবার আমি ওজন বা দাম কোনোটাই ট্র্যাক করিনি। তিনি যা বলেছেন, দিয়েছি।

তবে নিটোলের সাথে পার্টনারশিপে জীবনের কিছু কিছু জিনিস অতি সহজের বদলে সামান্য অন্যভাবে দেখতে শিখেছি তো। তাই আবার দেখা।

বিক্রেতাকে আমি কিছু বলিনি। সে নিজে হতেই ৪ টাকা বের করে আমাকে ধরিয়ে দিল, “ভাই, কিছু মনে নিয়েন না, রাখেন। আর এই নেন, এই ১ টাকাটাও রাখেন।”

একজন ভ্যান হকারের মুখে ‘স্যরি’ আমি প্রত্যাশা করি না। কিন্তু, তার চোখে ও শরীরি ভাষায় প্রতারনা ধরা পড়বার লজ্জা ও অনুতাপ (সামান্য হলেও) এখনো আশা করবার মতো ‘বলদ’ ও ‘সেকেলে’ এখনো আমি।

যারা এখনো বিশ্বাস করেন ও বলে থাকেন, “বাংলাদেশের সাধারন আম জনতা সৎ, বিশ্বাসী, সরল”, আমি তাদের দলে নিজেকে আবিষ্কার করতে না পেরে বড্ড কষ্ট অনুভব করি।

আমার আত্মা এত নেগেটিভ কেন?

কাহন-৩: আমজনতার রামরাজত্ব:

বেশ কয়েক বছর আগে এক ভদ্রলোকের কিছু ‘প্রগতিশীল’ ও ’সুচিন্তিত’ লেখা পড়ে ভাল লাগল। এরপর হতে তার লেখা চোখে পড়লে পড়তে শুরু করলাম। হালকা প্রতিক্রিয়াও জানাতে থাকলাম।

মাঝে একদিন আমি কোলকাতায় ভাগে মাছ কেনা, নিত্য পণ্যের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগা বিক্রীর প্রশংসা করে, এবং, আমাদের এখানে ভাগা কেনা নিয়ে হীনমন্যতাজনিত ফুটানি নিয়ে একটি লেখা লিখলাম।

এই ‘ভদ্রলোকে’র আঁতে খুব ঘাঁ লাগল।

ফুটানী বাঙালদের প্রতিনিধি হয়ে তিনি তার দেয়ালে বাঙালদের চিরায়ত জমিদারিত্ব, অতীত গৌরব, আভিজাত্য, এবং আমার মতো “ভাগা’র প্রশংসাকারীদের বেশ এক হাত নিয়ে ভাগায় মাছ কেনার মতো ফকির যে বাঙালিরা কোনো যুগেই ছিল না, বাঙাল যে যুগ যুগ ধরে নবাবের জাত-তার ইতিহাস তুলে ধরে বেশ কড়া ভাষায় (কার্যত আমাকেই) বেশ এক হাত নিলেন।

এমনকি, লেখাটা নিয়ে তাকে যখন ইনবক্সেও আকারে ইঙ্গিতে সামান্য লিখলাম, তিনি তার অবস্থান হতে সামান্য নড়লেন তো না-ই, এমনকি একজন মানুষকে ইঙ্গিত করে অভব্য ভাষায় লিখেও, আর, একটি ভুল ধারনাকে ভুল ভাবে উৎসাহিত করবার ভুল করেও তিনি বিন্দুমাত্র কুঞ্চিত হলেন না।

তার প্রগতিশীলতা নিয়ে আমার ভুল ভাঙল। পরমতসহিষ্ণু নয়-এমন প্রগতিশীলতায় আমার পোষায় না।

একই রকম প্রগতিশীল আমার আরেকজন সুহৃদ ছিলেন। ছিলেন বলতে, তিনি মরে যান নাই, যাস্ট এখন আমি আর তার সুহৃদ নেই। এমনিতে দেখতে, শুনতে সবই ঠিকঠাক। গড়পড়তা বাঙালি যেমন হয়, তার বেশি কিছু না। ভাত খান, সুন্দর লেখেন, সুন্দর বলেন, (সুন্দর গেলেন কিনা জানতাম না।) মেয়ে মানুষও ভালোবাসেন, পর্দানশীন সাকিবপত্নির অ্যাডভোকেসিও করেন, ছ্যাড়কাড়কেরও গালাগাল করেন, জনতাকেও কিঞ্চিত বেইল দেন-এই আরকি। বেশ প্রগতিশীল একটা হাইড আউট। তার ভেতরে ঘাঁপলা।

ভদ্রলোক একদিন একখানা বেশ আবেগী ও চিন্তার উদ্রেককারী লেখা প্রসব করলেন। লেখার বিষয়, ‘সমাজটা উচ্ছনে গেল।”

কীভাবে গেল?

না, তার অফিসে আজ হতে বহু যুগ আগে রোজার সময় শুনশান (শ্মশানের) নিরবতা থাকত। যারা রোজা রাখত না, আর যাদের রোজা রাখার নেই (এক কথায় ভোজদার), তারা খুব চুপেচাপে, চামেচিকনে, অত্যন্ত সংকোচের সাথে (হয়তো দুইহাত জড়ো করে পশ্চাৎদেশে চেপে) কোথাও চিপায় চাপায় গিয়ে তড়িঘড়ি দু’টো মুখে দিত। কেউ জানতও না।

উটকো কেউ “রোজা আছেন নি?” জিজ্ঞেস করলে ’পাপী’ ভোজদাররা ভয়ে, শরমে থতমত খেয়ে একটা ঢোঁক গিলে বলত, “হ্যা, হ্যা, নিশ্চয়ই।” সামাজিক বিশুদ্ধতার চাপে অফিসের হরগোবিন্দ বাবুও ভয়ে পানিও খেতেন না। (মানে অফিসের সমাজে বেশ একটা নুরানী সেন্সরশিপ ছিল তখন।)

ভদ্রলোকের আক্ষেপ হল, কয়েক দশক পরে ‘ইদানিং’কার অফিসে, সোশ্যালে মানুষজন খুব ’বেয়াদব’, ’কুফফার’, ’মোরতাদ’ হয়ে গেছে। সে কী ঔদ্ধত্য মানুষের! সব দলবেঁধে, বুক ফুলিয়ে চা-কফি প্রকাশ্যে খাচ্ছে। ব্যালকনীতে তামুক ফোঁকা চলছে। দুপুরে দলবেঁধে লাঞ্চে যাচ্ছে। এসব অধঃপতন তিনি মেনে নিতে পারছেন না। সমাজটা গোল্লায় গেল।

তা, এই সমাজেরই আরেকটি অংশ যখন তারই যেকোনো কাজকে গোল্লায় যাওয়া ভেবে হা হুতাশ করে, তখন তার কেমন লাগে; বা তাদের সেই লাগাকে তিনি কীভাবে নেন-তা জানতে খুব ইচ্ছে করে।

এমনিতে ভদ্রলোক বেশ কট্টর, পরমতঅসহিষ্ণু, অভিজাত ঘরানার সমর্থক। যার তার সাথে মেশেন না, যার তার কাজকে, কথাকে, মতামত ও শিক্ষাকে গোণায় ধরেন না। কথায় কথায় একে, ওকে, তাকে বেকুব, ছাগল, নিকম্মা, নিচুজাতের তকমা দিয়ে বসেন। এই যে, মানুষের ব্যক্তিমতকে অশ্রদ্ধা করবার প্রবণতা যার ভেতরে, তার এই ধর্মবোধ তার জন্য ৭০ হুরের স্বর্গে যায়গা নিশ্চিত করবে তো?

আমার আরও জানতে খুব ইচ্ছে করে, এই দেশের বাঙালরা ইউরোপ, আম্রিকায় যখন পাড়ি জমায়, তখন সেখানে তাদের সংযম ও ঈমান মুহুর্তে মুহূর্তে আহত-নিহত হয় কিনা?

সেখানকার ধর্মচারীরা তাহলে সেখানে টেকেন কীভাবে-সেই নিয়ে জনাব অমি রহমান পিয়াল সাহেবের এক লেখা পড়ে আমি এই বিষয়টা নিয়ে আরও চিন্তায় পড়ি। তিনি বঙাল দেশের ঈমানদারদের প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, যে, এই দেশের মানুষের রোজা এত সহজে আঘাত পায় কী করে? কাউকে পানি খেতে দেখলেই তাদের রোজা হালকা হয়ে যায় কেন? আর বিপরীতে তারা ইউরোপের নগ্নতার দেশে কীভাবে তাহলে এত সংযম রাখেন?

যাহোক, ভাগা ঘৃনক ভদ্রলোকের গরম পোস্ট পড়ে বছর তিনেক হয়তো কেটেছে।

আমি আজ যদি ওই ’ভদ্রলোক’কে বাঙাল মূলকে অহরহ ভাগায় মাছ কেনা হতে শুরু করে আড়াইশো গ্রাম গোমাংস বিক্রীর মচ্ছব ও তার প্রতি জনঅভিনন্দনের বন্যাটা সামান্য দেখাতে পারতাম, তাহলে মরেও একটু শান্তি পেতাম। অবশ্য, ফুটানির লুঙ্গি পুরোনো হয়ে গেলে সেটার অস্থানের ফুটো দিয়ে কালো বা ধলো পশ্চাৎদেশ দৃশ্যমান হলে আর আগের মতো শরম মালুম হবার কথা না। কয়েক বছর ধরে আমাদেরকে যেভাবে ধনী দেশের তাবিজ গেলানো হচ্ছিল, আর আমরাও বেকুবের মতো সেই দিবাস্বপ্নকে মিথ্যা জেনেও তাকে বিশ্বাস করে নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত হয়েও ধনীগীরি উপভোগ শুরু করেছিলাম, অকাল ক্ষণপতন তখনই ললাটে লেখা হয়ে গিয়েছিল।

বাংলা, বিহার, ওড়িষ্যার চিরায়ত নবাব বাঙালরা এখন বেশ সোনামুখ করেই ভাগা কিনছে। ফুটানিতে বাধছে না। বাঙালরা চিরকালই ঋন করে ঘি খাবার সমঝদার। এঁরা আম্বানীদের বেশুমার খরচ নিয়ে টিপ্পনি কাটে, উপদেশ ঝাড়ে। আবার এরাই নিজের বিয়েতে নিজ আয় ও সঞ্চয়ের দশগুন ধার করে মেজবান করে।

যাহোক, কথা হল, বাঙালি ভাগা ও মাছের ঝুটা কিনছে। সাধারন মানুষ যেমন কিনছে, কয়েক যায়গায় পড়লাম, যে, ধনীরাও নাকি দিব্যি কিনছে। কারওয়ান বাজারে পাঙাসের ঝুটা কাঁটা কেনা নিয়ে তো এক মহা ফেসবুককাব্যই রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেছে। (যদিও এই ভাইরালের অন্যতম মাজেজা ভারত বয়কটের হাইপের মতোই হাইপ মাত্র।)

কাল আবার দেখলাম, এক ভদ্রলোক, ওসব কাঁটা, গিলাকলিজির ভাগা যে মানুষ অভাবে পড়েই কিনছে-সেই পপুলার ধারনাকে ভুল প্রতিপন্ন করে লিখেছেন, ওসব তথাকথিত উচ্ছিষ্ট বরাবরই একদল ভোজন রসিকের নন-কনভেনশনাল রেসিপির জন্য আরাধ্য ছিল, আর, আজকাল সৌখিন মধ্যবিত্ত ও ধনীরা তাদের সখের বেড়াল কুকুরের খানার জন্য ওগুলো কিনছেন। ফলে চাহিদা বাড়ায় সরবরাহ ও দাম বেড়েছে। তার মতে, ঝুটা-কাঁটার মহাকাব্যিক শোকগাঁথার রহস্য আসলে অভাব না, বাস্তবতা ও সৌখিনতার মিশেল। সাধু সাধু। বাঙালি, কোনো কিছু ভাইরাল করবার আগে সামান্য ভেবে দেখবার মতো মাথাটা ঘামাতে চায় না।

বলছিলাম, যে, কয়েক বছর আগে সাধারন মানুষ নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম।

কথায় কথায় আমরা ‘সাধারন মানুষ’ ও ‘গরীব মানুষ’ নামের ভুল সমবেদনা ও অ্যালিবির খুব ব্যবহার করি। যেন এই দেশের সাধারন মানুষ আর গরীব মানুষ সব ফেরেশতা। যদিও আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস হল, আমাদের দেশের সিংহভাগ মানুষ (#সবাই১ না)ই অসৎ, চরিত্রহীন ও ন-মানুষ। তবুও, সুধীজনের মতামতকে সম্মান দিয়ে ধরে নিই, যে, দেশে ’সাধারন মানুষ’ নামে একটি নিরীহ ও ভাল মানুষের উপস্থিতি আছে।

এই সাধারন মানুষেরা নাকি ব্যাপক কষ্টে আছে। গতকালই পড়লাম, দেশের ৪ কোটি মানুষ খাদ্য যোগাড়ের জন্য নাকি ঋন করে চলছেন। অবশ্য অনলাইন মাধ্যমে প্রাপ্ত ৯৯% তথ্য ও তত্বই ভুয়া। এটাও ভুয়া কিনা জানি না। অবশ্য, যেই দেশে খোদ রাষ্ট্রই নিজে ভুয়া ও বানোয়াট পরিসংখ্যান প্রসব করে, ইনকিউবেট করে, সেখানে তথ্যের সততা সুদূর পরাহত।

তো, এহেন কষ্টে থাকা সাধারন মানুষদের একখানা, না না, দু’খানা ফিরিস্তি দিই। ফিরিস্তি বিশ্বাস না হলে মিরপুর ১০ হতে মিরপুর ১ এর দীর্ঘ দুই কিলোমিটার সড়কের দুপাশের বিপুলায়তন ভ্যান হুসেন গ্যালারী ও ফুটারী প্লাজার ঈদ বাজারের মৌমাছির মতো ভীড়টা একটু নজরে আনুন।

গতকাল রাতে আমি আর নিটোল হেঁটে বাসায় ফিরছি। বাসার সামনেই একটি ভ্যানে পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও আলু বিক্রী হচ্ছে। আমরা সামান্য পেঁয়াজ ও আদা কিনলাম। হঠাৎ দেখি, তার ভ্যানে দুটি মিষ্টি কুমড়ো। বাজার করতে যারা মোটামুটি অভ্যস্ত, তারা জানবেন, পেঁয়াজ ও রসুন যারা ভ্যানে বিক্রী করেন, তারা সাধারনত সব্জি বিক্রী করেন না। তা-ও আবার এই রাতে। দাম জিজ্ঞেস করলাম-মাত্র ২০ টাকা কেজি, যদি আস্তটা নিই। ওজন করলাম। ৫.৩ কেজি। ১০০ টাকা হলেও নিটোলের দামাদামিতে ৮০ টাকায় দিয়ে দিলেন। কুমড়োটা নিলাম।

বাসায় আসতে আসতে একটা ভিন্ন চিন্তা মাথায় এলো। নিটোলকে বললাম, দেখো, বাজারে মিষ্টি কুমড়ো এখনো ৪০-৫০ টাকা কেজি। ভ্যানে সাধারনত দাম আরেকটু বেশিই থাকে। উল্টো মাত্র ২০ টাকা কেজি। তাতে আবার পেঁয়াজের ভ্যানে মিষ্ট কুমড়ো। ব্যাপারটা বেশ ব্যতিক্রমী; আর, সন্দেহজনক না হলেও কৌতুহলদ্দীপক তো বটেই।

আমার ধারনা, ওই ‘সাধারন’ ভ্যানওয়ালা মিরপুর পল্লবীতে বিদ্যানন্দ্য’র উদ্যোগে যে ‘আল্লার দান’ কৃষক বাজারটা খোলা হয়েছে,  যেখানে সরাসরি মাঠ হতে কৃষকের কাছ হতে কেনা সব্জি ৫-১০ টাকা দামে উন্মুক্তভাবে বিক্রী হয় (প্রান্তিক কৃষকদের অবিক্রীজনিত ক্ষতি হতে রক্ষা করতে তাদের এই উদ্যোগ।), সেখান হতে সস্তায় কিনে এনে এই লোক কুমড়ো দুটো আবার রি-সেল করছে। যেহেতু অতি সস্তায় কেনা, তাই বাজার হতে অনেক কমে সে বিক্রী করে দিচ্ছে। কারন, তারপরও মোটা লাভ। অথচ, বিদ্যানন্দ্যের ওই বাজার ব্যবসায়ী মনোভাবকে সহায়তা করতে নয়, কৃষককে বাঁচাতে, আর সাধারন ক্রেতা, যারা উচ্চমূল্যে কিনতে পারেন না, তাদেরকেও কম দামে পণ্য দেয়ার জন্য; মোট কথা, কৃষক ও দরিদ্র অথবা মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ব্রিজিং করে উভয়কে উপকৃত করাই তাদের নিয়তে ছিল।

এই ভ্যানের তথাকথিত ‘সাধারন’ নামের অসাধারন বাঙালদের রিসেল করে ধান্দা করার জন্য না। অথচ সে করছে (আমার ধারনামাত্র।)

মজার ব্যাপার হল, মাত্র গতকালই এক ভদ্রলোকের লেখা পড়ছিলাম। উনি এলাকার ‘সাধারন’ ক্রেতাদের উপকার করবার জন্য নিজের খামাদের উৎপাদিত ডিম এনে এলাকায় ন্যায্য ও কম দামে ক্রেট (খাঁচি) ধরে বিক্রী করতে শুরু করেন। একজন দু’জন করে ব্যাপারটা বেশ ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে আসতে থাকে। সবচেয়ে বেশি আসতে থাকে এলাকার ধনী মানুষেরা, যারা বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুবই কষ্টে আছেন।

এর মধ্যেই এক মহিলা ঘন্টাখানিক আগেই এক ক্রেট ডিম নিয়ে যাবার পরে আবার এসেছেন ডিমের জন্য। একজনকে এক ক্রেটের বেশি বেচা হবে না জানিয়ে তাকে এত দ্রুত আবার আরেক ক্রেট ডিম কিনবার কারন জিজ্ঞাসা করায় তিনি বললেন, আগেরটা আমার দোকানের জন্য নিয়েছি। এই ক্রেটটা আমার ভাইয়ের দোকানে বিক্রীর জন্য।

ভাবুন অবস্থা। একজন মানুষ ‘সাধারন’ মানুষদের উপকারের জন্য ন্যায্য ও কম দামে ডিম বিক্রী করছেন। আর ’সাধারন’রা সেটা হতে ফায়দা লোটার ধান্দা করছে।

এই হল আমাদের সাধারন জনতা। যারা নাকি আবার বাংলা, বিহার, ওড়িষ্যার নবাবের বংশধর। ইদানিং ‘জালিম ছ্যড়কাড়ের’ কারনে খুব কষ্টে আছে।

অনেকে আবার আমার সেই অভিজাততন্ত্রে বিশ্বাসী দুই সাবেক সুহৃদের মতো বিশ্বাস করেন, যে, আজকাল সমাজটা পঁচে গেছে। সেই ‘আগের’ দিনগুলোই ছিল স্বর্ণযুগ।

সে এক কল্পিত স্বর্ণযুগ, যার সত্যিকারের অস্তিত্ব কখন, কোন দাপর যুগে ছিল-কেউ জানে না।

তবে আমি, মানে এই অপাংক্তেয় ও দুরাচার মানুষটা, বাঙালদের সেই স্বর্ণযুগের অস্তিত্ব কোনোকালেই দেখি না; যেই যুগে বঙ্গদেশের সকলে পীরে মোদাচ্ছের ছিল।

বরং, আমি তো দেখেছি, সেই ৪৫ বছর আগের বাংলাদেশেও আমার তীর্থযাত্রী চাচা আমার বাবার অংশের ৩ শতক ভিটেবাড়িও দখল করে নিয়ে পরের বছর তীর্থযাত্রা করে এসে বাড়ির ইবাদতালয়ের নেতা বনে গিয়েছিলেন।

আর সেই যুগেই আমাদের কলোনীতে কাজ করা ‘সাধারন মানুষ’, ‘গরীব মানুষ’ কাজের বুয়া শরিফার মা ও তার সন্তানেরা দিনের বেলায় আমাদেরই বাসায় ‘মুরগা’র সালুন দিয়ে সহানুভুতি ও সাম্যবাদের ভাত খেত, আর রাতেই তারা দলবল বেঁধে আমাদের খামারের মুরগীগুলো চুরি করে নিয়ে যেত। নিক, আহা, গরীব মানুষ! আহা, সাধারন মানুষ!

সেই গরীব মানুষ, যারা রেলের মালগাড়ি দুর্ঘটনায় পড়লে সেটাতে লুট করে; বাজারে আগুন লাগলে দোকানে লুট করে। সেই সাধারন নামের অসাধারন মানুষ, যারা আগুন লাগলে পানি না ছিটিয়ে, কিংবা গাড়ি দুর্ঘটনা হলে মানুষকে হাসপাতালে না নিয়ে কিংবা না নিতে দিয়ে মোবাইলে কনটেন্ট বানাবার ধান্দায় ভিডিও করে। আহা স্বর্ণযুগ! আহা সাধারন মানুষ!

#integrityofmass #honesty #massmentality #GenerationZ #GenZ #millennialgeneration #generationgap #clashofgeneration #deviationofgeneration #deviationofnation #deviationofcountry #socialdeviation #socialdecay #massmentality #commonpeople #masspeople #ordinarypeople #socalledprogressive #extremeism #fanatism # hypocrisy #aristocrate #elegant #elitism #wastage #ambiguity #marginalpeople #socalledpoverty #goldenera

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *