Skip to content

একটি নতুন প্রজাতির ভাইরাসের খোয়াবনামা ও লাইক পাওয়ার উপযোগী ফেসবুক পোষ্ট সম্পর্কে বিনামুল্যে বায়াজড কনসালটেন্সি

  • by

জামানার হালহাকিকতের একটি বায়বীয় বুদবুদ:

জনৈক বুদ্ধিজীবি সুশীল প্রত্যুষে গাড়ু হাতে কোষ্ঠ খালি করিবার মানসে মাঠে গমন করিলেন। মলত্যাগপূর্বক হালকা হইয়া গাড়ু হাতে লইয়া দেখেন উহা পানিশূন্য। বিপদে পড়িয়া তিনি তৎক্ষনাৎ লুঙ্গির খুট হইতে চতুরামি ডাব্বা মানে ইসমার্ট ফোন বাহির করিয়া তাহার ফেসবুক ওয়ালে সাহায্য চাহিয়া স্ট্যাটাস দিলেন। ঘন্টার পর ঘন্টা গেল। তার ফেসবুক ফ্রেন্ড ভক্তকুল তাহাকে ১১১ খানা লাইক, ২১ খানা শেয়ার আর ১৭ খানা কমেন্ট পাঠাইল। কিন্তু তাহাকে যেটা দরকার সেই পানি কেহ নিয়া আগাইয়া আসবল না। অতঃপর দিন গড়াইয়া গেল। রাত নামিল। সুশিল রাতের আধারে লুকাইয়া গৃহে ফিরিলেন। হায় ফেসবুক! হায় লাইক! হায় ফেবু ফ্রেন্ড? হায় নয়া জমানার সমাজ!

আপনি কি লাইক দুর্বল্যে ভুগছেন? লাইকে লাইকে ভরে তুলতে চান আপনার ফেসবুক দেয়াল? যারা দারুন দারুন সব পোষ্ট দিয়েও যথেষ্ট লাইক তুলতে না পেরে মনোকষ্টে ভুগছেন তাদের বলছি, আজ থেকে পোষ্টে লেখার পরিমান কমান, পারলে কিছু লিখবেন না। ভাবনার উপযোগী কিছুতো নয়ই।

শুধু ছবি পোষ্ট করুন। আপনার খাওয়া, না-খাওয়া, প্রেম-বিরহ, ডেটিং, চ্যাটিং, কাটিং, এলাটিং, বেলাটিং, টিজিং, কিসিং, তাফালিং, গোসল, রান্নাবান্না, রিক্সাভাড়া প্রদান, ঘর মোছা, সিড়ি ভাঙা, বাদাম খাওয়া, কাজের মেয়েকে প্রহার, গ্রীষ্মে কম্বল প্রদানের মচ্ছব, শীতে এসি বিতরণের ছবি, পাঞ্জা বিড়ি ফুকছেন এমন ছবি-যা পারেন আপলোড করুন। দেখবেন লাইক পেতে পেতে আপনি ”লাইকা” (কোনো কোনো অঞ্চলে নায়িকা কে ”লায়িকা” বলে।) হয়ে যাবেন। আর হ্যা, পৃথিবী হতে চাঁদে যাওয়া প্রথম কুত্তাটার নাম লাইকা (স্যরি, আজকাল ভাষা খুব অশ্লিল হয়ে যাচ্ছে বোধহয়)।

ফেসবুকে আপনি একটা নগ্ন ছবি দিন, বেকুব হাসির ছবি দিন, পাড়ার মোড়ের রেষ্টুরেন্টে গতদিনের পঁচা ডালপুরি খাবার ছবি দিন, রাস্তায় কুকুর শুয়ে থাকার ছবি দিন। ব্যাস, দেখবেন পোষ্ট করার সাথে সাথে লাখ খানিক লাইক ও কমেন্টস। ফেসবুকে ফটো চলে, ভিডিও ক্লিপ চলে, চটুল কার্টুন চলে, রাস্তায় কুত্তার ঘেউ ঘেউ এর ভিডিও চলে। তাই এটিকে আমার ডিজিটাল ফটো এ্যালবাম, কিংবা আর্ট গ্যালারী অথবা একটি অনলাইন মুভি থিয়েটার মনে হয়।

আপনি একটি কবিতা দিন, দু’লাইন লেখা দিন, একটা গল্প দিন, কোনো আর্টিকেল দিন, চমৎকার একটি বিশ্লেষণ দিন। কেউ পড়বে না। নো লাইক, নো কমেন্টস, নো শেয়ার। শুধু সোয়াইপ করে পরের পোষ্টে চলে যাবে। বড়জোড় হেডিংটা দেখবে। আমি অনেক সময় নিয়ে দেখেছি এই বিষয়টি। সময় কই আমাদের? আপনি আমার সাথে একমত নন? না হোন, সেটা খুব জরুরী নয়।

ফেসবুকের কল্যাণে হঠাৎ করে পৃথিবীতে জ্ঞানের সরবরাহ এবং জ্ঞানদানের হার অনেক বেড়েছে। তাতে অবশ্য কোনো বিশ্বযুদ্ধ বেধে যাবার মতো সমস্যা হয়েছে তা বলব না। তবে সমস্যা হল ফেসবুকীয় জ্ঞানের কাছে মার খাচ্ছে বইয়ের এবং লেখকদের গভীর জ্ঞান। মানুষ ছুটছে সস্তায় পাওয়া ফেবু জ্ঞানের পিছনে যার একটা বড় অংশই ভুয়া।

লক্ষ বছর ধরে মানব সভ্যতার লব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা যা বইয়ের পাতায় জমা আছে তা কেউ আর পড়তে ইচ্ছুক না। আর নিজে থেকে দু’কথা লেখাতো বিরল বস্তু। আর ভাল একটি লেখার পেছনে সময় দিয়ে পড়াতো রীতিমতো পাপের কাজ।

সবাই আছে রেডিও মুন্না, রেডিও পদ্মা, আম্রে মাইরালা-টাইপ ফেবু পেজের জ্ঞান নেয়া আর দেয়ার মধ্যে। একটি সোসাল ফেনোমেনা কতটা ব্যাপক তার একটা প্রজেকশন পাওয়া যায় যখন বিষয়টা আমাদের লাইফে, সমাজে, একাডেমিতে, কোর্স কারিকুলামে, নাটকে, উপন্যাসে, বেডরুমে, রাষ্ট্রব্যবস্থায় ঢুকে পড়ে। বলছি ফেসবুকের কথা। এর প্রচুর পজিটিভ দিক আছে। কিন্তু একই সাথে কিছু নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট আমার মতে আছে। ফেসবুক আমাদের ফ্রাসট্রেটেড (অন্যের সুখ দেখে), ইর্ষান্বিত (অন্যের শনৈ শনৈ উন্নতি দেখে), ইনফেরিয়র ফিলিং (অন্যদের তুলনায় নিজের কিছু নেই ভেবে), মেন্টালি ক্ষিপ্ত (ছাগুদের নানান ছাগলামি দেখে), উদভ্রান্ত (নানা মুনির নানা মত দেখে) করছে বলেও আমার ধারন। সমাজবিজ্ঞানীরা ভাল বলতে পারবেন।

ফেসবুক নামক সামাজিক ভাইরাস আমাদের জীবনে যেভাবে মড়কের মতো শিকড় গাড়ছে তাতে একান্ত ব্যক্তিগত বলে আর কিছু বোধহয় থাকবে না। মানুষ মোটামুটি তার একান্ত ব্যক্তিগত কর্মকান্ড হতে যাবতীয় টুকরা বিষয়ও মিনিটে মিনিটে ফেসবুকে দিয়ে দিচ্ছে। কি খাচ্ছে, কখন খাচ্ছে, কোথায় খাচ্ছে, কার সাথে, কাউকে ভালবাসছে, কাউকে থাপ্পর দিছে, বিয়ে করছে, তালাক, টিজিং, নতুন কাপড়, বিদেশ গমন, শুটকি কেনা, জুতার ফিতা ছেড়া কোনো কিছু আর গোপন নাই। কাল দেখলাম এক মিয়ায় স্ট্যাটাস দিয়েছে “আমার বাসায় আগুন লাগছে। দোয়া করেন”। সেইটাও সমস্যা না। সমস্যা হল যারা পড়ছে তারা লাইকও করছে।

আমি ভাবছি বিভিন্ন জনের বিভিন্ন সময়, পরিস্থিতি, পরিবেশে দেয়া স্ট্যাটাসের একটা লিস্টি করলে কিরকম দাড়ায়!

স্ট্যাটাসনামা:

সকাল ৭টা:

ঘুম ভাঙল। কেতুর চোখে সেলফি, ফিলিং স্লিপি। অতঃপর সারাদিনে বিভিন্ন ঢঙে আর রঙে দেয়া স্ট্যাটাসের কিয়দাংশ: ব্রাশ হাতে সেলফি: দন্ত নিরাময় আমি টয়লেটে যাচ্ছি। উহ পেটের টান, টয়লেটে বসে আছি। টয়লেট শেষ। ফিলিং রিলিভড। অফিস যাচ্ছি। বাসের ভীড়ের চিপায়। বাস থেকে নামছি। ফিলিং এক্সসসটেড। অফিসের লিফটে উঠছি। অফিসে ঢুকছি। অফিসে কাজ করছি। অফিসে কাজ করছি। উহ এত্ত কাজ। লাঞ্চে যাচ্ছি। ফিলিং হাঙগ্রি। শালার বসে ঝাড়ি দিছে। ব্যাটা মরে না ক্যা?

বিকাল ৬টা:

কলিগদের সাথে চায়ের আড্ডায় সেলফি।

শুক্রবার: জুম্মার নামাজ পড়তে আসছি। দারুন লাগছে।বউকে নিয়া নিউমার্কেটে আসছি। গার্লফ্রেন্ডরে নিয়া ডেটিং এ আসছি। ফুর্তি লাগছে। দোয়া করবেন এইবারেরটা যেন চিরস্থায়ী হয়।

চেক ইন: একটু ঘুরতে যাই প্যারিসে। প্রে ফর সেফ জার্নি। সাহারা মরূভূমিতে হাওয়া বদল করতে যাচ্ছি। দোয়া করবেন। সুন্দরবনে ডিমের ওমলেট বানাতে যাচ্ছি। কি মজা। বানিজ্যমেলায় আসছি। শালার দোকানদাররা সব ডাকাত। সিঙ্গাপুর যাচ্ছি। গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে বাসের অপেক্ষায়। রাতের লঞ্চে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করব। আর ভাল লাগেনা এসব ঘোরাঘুরি। কবে যে একটু শান্তিতে থাকব? হোটেল আল সালাদিয়ায় বন্ধুদের সাথে লাল চা খাচ্ছি। অসাম। আগামী পরশু বিয়া করুম। তারপর তরশুদিন হানিমুন তথা “………..”র জন্য যামু খাগড়াছড়ি। প্রে ফর আস। এলাকার গরীব দুঃখীদের গোলাপ ফুল বিতরন করলাম। সেলফি। গভীর রাত। রোমান্টিক পরিবেশ। আমি আর বউ চাঁদ দেখি। অতঃপর…….আমার আমাশা হইছে। কেউ কইতে পারবেন আমাশার সহজ চিকিৎসা কি?

ভাইজানেরা/বুবুজানেরা, গৃহকোনের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়গুলোও ফলাও করে পাবলিক করা আপনার পছন্দের বিষয় হতে পারে। কিন্তু সমস্যা হল আমাদেরকে সেটা গন্ডায় গন্ডায় গিলতে হচ্ছে। আমাদের কি একটু রেহাই দেয়া যায়? নাকি এরপর লোকের চোখের অন্তরালে যা যা করেন সেগুলাও পোস্ট দেয়া শুরু করবেন? দিলে খারাপ হয় না।

এই (কাঁচকলা ওরফে থাম্বস আপ) সিগন্যালটার একটি লোকাল নাম আছে, সেটি আর উচ্চারন করছি না।

চলতি পথে কেউ কাউকে ব্যঙ্গ করতে হলে বা অবজ্ঞা দেখাতে হলে ওই নাম বা শব্দটা বলে, “তুমি আমার………..টা করবা।”

মুখে না বললে হাতের বুড়ো (বা বুড়ি) আঙুলখানা দেখালেও বলা হয়ে যায়, “তুমি কোন বুটের ডাল!”

যুগের বদলে সেই সিগন্যালই নাকি এখন লাইক, পছন্দ, সাবাসীর সিগন্যাল।

কাউকে প্রশংসা করতে হলে, বিনা কষ্টে, সময় নষ্ট না করে, বেশি মাথা না ঘামিয়ে, এক দন্ডও না ভেবে কিছু করতে হলে, তাকে দেখিয়ে দিন একখানা “……র………ল” চিহ্ন।

তিনিও খুশিতে বাকবাকুম। “হ্যাতে আঁরে লাইক মাইচ্চে।” মন খারাপ করবেন না, আমি নিজেও এই ‘বুটের ঝাল’ চিহ্ন অনেককে আগে-পরে দেখিয়েছি। কী করি বলুন, এত ব্যস্ত।

শুনেছি, অনেকেই নাকি তাদের ফেকবুক ও লিংকি পোস্টে জমা হওয়া ‘বুটের ডাল” তথা লাইকের সংখ্যা গোণেন। অনেকে আবার অন্যের সাথে তুলনাও করেন, কার কতগুলো ‘লাইক’। লাইকের সংখ্যা দিয়ে আমাদের হ্যাডোম, জনপ্রিয়তা, এমনকি মানুষ হিসেবে দামও বিচার হয় আজকাল। যার যত লাইক, সে তত বড় হাস্তি।

যদিও এই লাইক বাজারে নিয়ে গিয়ে এর বদলে বেগুন, মুলা, আলু কিনবার জন্য কাজে লাগানো যায় না।

লেবু বেশি চিপলে তেতো হয়ে যায়। বাঙালি যেকোনো কিছুকে চিপে তেতো বানিয়ে ফেলতে ওস্তাদ।

আমরা বাঙালিরা যেকোনো কিছুকে পঁচিয়ে ফেলতে ওস্তাদ। সে ভাত পঁচানো হতে মানুষ, শিল্প হতে টুইটার। এমনিতে এই বিশ্বব্রহ্মান্ডে একটিই জাতি আছে, যারা ‘ইমু’ নামের একটি মেসেজিং অ্যাপকে যোগাযোগ মাধ্যমের বদলে ‘স্বামী বিদেশ’ এ্যাপে পরিণত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমি টুইটার (X) একাউন্টটা সামান্য সচল করবার উদ্যোগ নিই। তো, প্রথম প্রায় মাস দুয়েক আমার ফিডে বা পপ আপ নোটিফিকেশন উইন্ডোতে প্রায়ই ভেসে আসত ‘জৈনক’ ‘ঊর্মিলা চৌধুরী’ নামের ‘ভদ্রমহিলা’ বা তার মতো আরও কিছু ফেইক আইডিধারীর হানিট্র্যপের নানা পোস্ট। আমি প্রথম কিছুদিন জিনিসটা বুঝিনি, যেহেতু নতুন। তারপর বুঝতে পারলাম, যে, বাঙালি এখানেও চলে এসেছে। ফেইক আইডি দিয়ে টুইটারকেও হানিট্র্যাপ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে।

এমনিতে ফেসবুক ও ইউটিউবে ‘ভিউ বিজনেস’ এর জন্য মড়কের মতো মনিটাইজেশনের ধান্দা তো আছেই।

এবার লিংকি দাদুর কথা।

এই দাদুর সাথে ওঠাবসা প্রায় ১০-১২ বছর। এই সময়টাতে ‘লিংকি কানেকশন’ ও ‘ফল+ওয়াড়’ নামের দুটো ‘জিনিস’ ব্যাপক বেড়েছে। অঙ্কের বিচারে ২৯,৯৬০ আর ৯১,০০০। কিন্তু কাজের কাজ লবডঙ্কা।

তো, আমরা এই লিংকি দাদুকেও পঁচাতে ছাড়িনি। এমনিতে পলিটিক্যাল ও সোশ্যাল পোস্টে আমরা ছিলামই। এখন কান ও চোখ পাতলে আপনি ইনস্টা, ইউটিউব, ফেসবুকের সাথে একটা ভ্রাতৃত্ব খুঁজে পাবেন। অচীরেই এটা টিকটক ও ইমু হয়ে গেলেও অবাক হবার কিছু নেই।

এমনিতে বিপুল কানেকশনের তো এন্ড রেজাল্ট রসগোল্লাই। দলে দলে লিংকিতে হিজরতের রহস্যও বেশ মজার, সেই গুড়ের নাম ”লিংকিতে আইডি খুললে ভাল চাকরি পাওয়া যায়।” তা বেশ, পড়াশোনার বালাই নেই, রিচ কনটেন্ট দেখারও কষ্ট নেই। আছে আবজাব আর ভিউ বিজনেস। আছে শো অফ। আছে সামাজিক মাধ্যমে খোমা দেখিয়ে আবার নিজেকে অধরা করে রাখার ডাট। আছে পোস্ট করে হাওয়া হয়ে যাওয়া, যেন রাজকন্যা রাপুনজেল তার দীর্ঘ কেশ ঝুলিয়ে রেখেছেন বারান্দায়, মানুষ দেখে মুগ্ধ হবে, কিন্তু, কন্যা ধরা দেবে না। আছে সামান্য পসার বাড়লে, সামান্য স্টাটাস হলেই লকড, কনফাইন্ড ও সিকিওরড হয়ে যাওয়ার তাড়া। 

লিংকি দাদুর উঠানে তাই চকচকে প্রোফাইল ও পোস্ট দেখে আবেগে আপ্লূত হয়ে কিছু করলে তার দায়দায়ীত্ব আপনার। অতি উচ্ছাসে ও আবেগে ভাসবেন না। সামাজিক মাধ্যমে আমাদের খোমা সবসময়ই আমরা চকচকে করে রাখি। আমি বেশ কিছু চকচকে ও ঝাকমারি খোমাদের নানা উপলক্ষ্যে যাচাইয়ের সুযোগ হওয়ায় দেখেছি।

ঝাকমারি রেজুমে আর ‘মধু মধু মধু’ লিংকি প্রোফাইল দেখে অতঃপর বাজিয়ে দেখতে গিয়ে রাগে মাথার চুল ছেড়ার দশা। ভেতরটা একদম ফাঁপা। বাজারের ‘কংলোমারেট’, ‘জায়ান্ট’, ’সুনামধন্য’, ‘প্রাউড’ ও ‘ব্রাহ্মন’ প্রতিষ্ঠান-সবখান হতেই বাজিয়ে দেখা হয়েছে। সব ঠনঠন। খোমা ও বোমার জোরে বরাতে কিছু করে খাচ্ছে। বাজিয়ে না দেখে কাউকে কিনবেন না। বাজিয়ে না দেখে যেমন ঢোল কেনা যায় না, তেমনি প্রোফাইল আর রেজুমে দেখে কাউকে মন দেবেন না। লিংকি দাদুর জমিনে ‘মধু মধু মধু’ পোস্ট দেখে গলে যাবেন না। 

পিঠা উৎসব আর ফাল্গুনের রঙিন ঝলমলে ছবি দেখেই অযথা ইর্ষায় পুড়বেন না।

ভাইরে, নরকেও একটা সিনেমা হল থাকবে। সেখানে সব রঙিন লাগতে পারে, আদতে জায়গাটা রঙিন না।

বাস্তবে, ওই পিঠা কতটা লবণাক্ত লাগে, আর ফাল্গুনের সেলফীর ঝাঁজ কতটা-সেটা আপনার জানার কথা না।

আমি তো দেখেছি, কর্মীদের জবরদস্তি ক্লাব সদস্য হয়ে নর্তনকুর্দন করতে বাধ্যও হতে। চাকরি করতে হলে বাধ্যতামূলক ঘাড়ে কেশর ঝোলাতে। এখন ওই কেশর দেখে আপনার হয়তো আফসোস হয়, ইশ, অমুক তো সিংহের মতো জব করে। আমাদের এখানে আমরা সব বিলাই। আদতে, ওই কেশরের মধ্যে কাস্টর অয়েল মেখে জোর করে তার ঘাড়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে কিনা-সে খবর আপনি রাখেন?

অন্যের, অন্য কোম্পানীর চাকচিক্য দেখে এত অল্পতে জাজমেন্টাল ফুল হবেন না। অ্যামবিশন রাখুন, বড় হোন, ইর্ষার শিকার হবেন না।

ব্রাহ্মন প্রতিষ্ঠান আর তাদের ওখানকার ঠাকুর-দেওতা-দেবী-সবই দেখা হয়েছে। মানুষ হিসেবেও আমরা বাঙালরা ওঁচা, প্রতিষ্ঠান তো মানুষ নিয়েই হয়, তাই প্রতিষ্ঠানও ঠনঠন, তবে বাজে খুব জোর।

অবিশ্বাস করতে শিখুন, প্রশ্ন করতে শিখুন, নিজের ভেতরে প্রশ্ন জাগাতে শিখুন। 

নিজের গায়ে নেবেন না। আপনাকেই বলা হয়েছে-এই প্রিজুডিস আপনার মাথায় সারাক্ষণ ঘোরে কেন?

#facebookmania #facebookhype #facebookdestruction #facebooktrend #socialmediadomination #socialmediamanipulation #socialmediadestruction #socialmediahype #socialmediaaholic #socialmediatrial #moralpolicing #currentworld #virtuallife #likecomments #hypocrisy  #hypocritenation #knowledge #phenomena #reading #checkin #class #socialdepreciation

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *