Skip to content

মৃত্যু তোমাদের কন্ঠ্যের শাহার রগের চেয়েও নিকটবর্তী

  • by

এই গল্পটির মূল গল্পটি মি. লিও তলস্তয়ের লেখা-What Men Live By  ।

একদম ছোটবেলায় চুরি করে বড় ভাইয়া আপুর ইংলিশ র‌্যাপিড রিডার বইয়ের গল্প পড়তে গিয়ে গল্পটি আমি পড়ি। একটি বিশেষ ঘটনাতে স্মৃতি নাড়া পড়ায় এই গল্পটি অনেক দিন পরে আমি স্মরন করি আর লিখে ফেলি। মূল গল্পটির নাম ও লেখকের নাম মনে না পড়ায় নেটিজেনদের সাহায্য নিই। সবার আগে মাসুদ চৌধুরী ভাই তথ্য দিয়ে বাধিত করেন।

স্বর্গীয় দেবদূত একবার অভিশাপপ্রাপ্ত হয়ে মর্ত্যে প্রেরিত হলেন। সে শীত ও ক্ষুধায় কাতর হয়ে একটি গির্জার দরোজায় পড়ে ছিল। জনৈক মুচীর তাকে দেখে দয়া হওয়ায় তাকে সঙ্গে করে নিয়ে এলো। তাকে সে খাবার ও আশ্রয় দিল। তার জুতার কারখানায় তাকে কাজ দিল। তাকে নাম দিল মিখাইল। 

তো, মিখাইল দেবদূত হওয়ায় অদৃশ্য ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারীও ছিল।  সে সারাদিন নিরবে কাজ করত। মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকত।  তো, একদিন এক ধনী লোক তাদের কারখানায় এসে একজোড়া বুটের অর্ডার করল। বুটের জন্য দামী চামড়া সে নিজেই দিল। আর বারবার করে বলে দিল, যে, সে একজোড়া হাই নেক বুট চায়।

দোকান মালিক মিখাইলকে কাজটি করতে বলে দিলেন। বুটের ক্রেতা তার কাজ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে জানতে চাইল, “সে কি পারবে?” উত্তরে মিখাইল স্বভাবজাতভাবে মৃদু হেসে কাজে মন দিল।

নির্দিষ্ট ডেলিভারীর দিনে মিখাইলের হাতে জুতাটা দেখা গেল। মালিক খুব অবাক হয়ে দেখল, মিখাইল বুট নয়, একজোড়া চপ্পল তৈরী করেছে সেই চামড়া দিয়ে। এই দৃশ্য দেখলে বুটের ক্রেতা ঠিক কীরকমভাবে ক্ষেপে গিয়ে কী করবেন-সেই চিন্তায় মালিকের বুক দুরুদরু করতে লাগল।

একটু পরেই ওই ধনী ক্রেতা বুট ডেলিভারী নিতে আসবেন। তিনি মিখাইলকে প্রচুর বকলেন। মিখাইল কেবল মুখ তুলে একবার স্মিত হাসি দিল। আবার কাজ করতে লাগল। 

এর একটু পরেই সেই ধনী লোকটির ড্রাইভার হন্তদন্ত হয়ে গাড়ি নিয়ে দোকানে এলেন। তিনি নেমেই মালিককে বলতে লাগলেন, আমরা খুব দুঃখিত। তবু বলছি, যদি সম্ভব হয়। ওইদিন মালিক যে বুট জুতাজোড়া বানাতে দিয়েছিলেন, সেটি আর দরকার নেই। তিনি মারা গেছেন। যদি এখনও না বানিয়ে ফেলে থাকেন, তাহলে, ওই চামড়া দিয়ে তার জন্য চপ্পল বানিয়ে নিতে বলেছে তার পরিবার হতে। 

মালিক অত্যন্ত অবাক হয়ে মিখাইলের দিকে তাকালেন। মিখাইল আগের মতো মৃদু হেসে বলল, ”ওই যে, ওখানে চপ্পল জোড়া রাখা আছে।” 

মালিক পরে যখন মিখাইলকে এমন অদ্ভূৎ কাকতালীয়তার কথা জিজ্ঞাসা করলেন, তখন মিখাইল বলল, “ওই দিন তিনি যখন খুব কনফিডেন্স ও গর্ব ভরে বুট জুতার কথাটা বারবার বলছিলেন, আমি দেখলাম, তার পেছনে একজন মৃত্যুর দূত দাড়িয়ে আছেন। অর্থাৎ, তার সময় শেষ। সেটা দেখেই আমি হেসেছিলাম।”

[অনুলিখিত ও স্মৃতি হাতড়ে লেখা গল্পটির বয়ান এদিক সেদিক হতে পারে।]

মানুষ চলমান সময় হতে তিন কুড়ি বছর পরে কী কী হবে ও করবে-তা নিয়ে কত ফ্যান্টাসীতে ভোগে। আগামী বছর কোথায় বেড়াতে যাবে, সামনের মাসে আসবে-সেভাবে একটা গাড়ি অর্ডার করে, সারামাসের জন্য এক বস্তা চাল কেনে, পুরো মাসের মাসকাবারী বাজারে করে কত হাউশ নিয়ে।  অথচ, তার মাসকাবারীর ভারী ঝুড়িটি বয়ে নিচ্ছে যে মিন্তি, তারই সাথে সাথে একজন মৃত্যুদূতও হয়তো আছেন। শুধু ক্ষণ গুনছেন।

মানুষ ২০ বছরের প্ল্যান করে, এক দশকের স্বপ্ন দেখে, কালকের জন্য পরিকল্পনা সাজায়, একটা জুতা কেনে আর দোকানদারকে শুধায়, ১ বছর যাবে তো?” অথচ, তার নামে হয়তো হুলিয়া জারি হয়ে বসে আছে। মৃত্যুর দূত জুতা কেনার সময় তার সাথেই ঘুরছে। আজ হয়তো আর বাসায় ফেরার মতো হায়াতও নেই।  মানুষ দুনিয়াতে চিল করছে। অথচ তার নাম মৃত্যুদূতের তালিকায় অলরেডি উঠে বসে আছে।

বিধাতার প্রতি মানুষের বিশ্বাস সৃষ্টির অন্যতম কারন ছিল শেষ আশ্রয় হিসেবে সৃষ্টার কাছে আর্জি ও শোক মন্থনের উপায় খোঁজা। এটুকু জানবেন, গোটা বৃহ্মান্ড এবং এর জীবনবিন্যাস একটি সুবিশাল ক্যানভাসের অংশ। স্রষ্টা এর কারিগর ও নিয়ত্তা। তিনি সবকিছু প্লান করেই রেখেছেন। সেই প্ল্যানের ঘুটি হিসেবে আমরা হাসি, মরি, বাঁচি, কাঁদি, কাজ করি, যুদ্ধ করি, সন্ধি করি। সবই আগে ঠিক করা। আমরা শুধু একটা সুবিশাল উপন্যাসের নাট্যরূপ দিচ্ছি মাত্র, নিজের নিজের রোল প্লে করছি স্ক্রিপ্ট না জেনেই। তারই অংশ হিসেবে বিধাতা কিছুদিনের জন্য আমাদের রোল প্লে করতে পাঠান। এই উপন্যাসে আমার ভুমিকা ফুরোলেই বিধাতা স্বর্গোদ্যানে ফিরিয়ে নেবেন। যতটুকু সময় আমাদের ভুমিকা আছে ততটুকুই আমরা এই মাটির গ্রহটাতে জীবন যাপন নামক রোল প্লে করি।

#death #lifespan #transitory #humanlife #shortspanoflife #uncertainty #suddendeath #futureplan #condolence #death #God

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *