Skip to content

আর্থিক মন্দার চোখ রাঙানী এবং একজন আদার ব্যাপারীর টোটকা

  • by

অনেক সময় হয় না, যে, কেঁচো খুঁড়তে সাপ? কিংবা, আপনার অপত্য বাচ্চা ড্রয়িং খাতায় বা দেয়ালে আঁকিবুঁকি করতে গিয়ে দেখা গেল, সেটা চমৎকার একটি আর্টওয়াক হয়ে বসে আছে?

আজ আপনাদের আঁকিবুঁকির আড়ালে কিছু তেতো টোটকা বলি। এতে সুবিধা হল, একে সিরিয়াস হিসেবে নিয়ে আমাকে সাইজ করা যাবে না। আবার, টোটকা হিসেবে বেশ কড়া কিছু বার্তাও দেয়া হল। এই টোটকার জন্ম সুহৃদ নূর ফয়সালের একটি ফ্লোটিং পোস্টে মজা করে মন্তব্য করবার ছলে। যাকে বরিশালে আমরা বলি, “হাসতামশা”। (যদিও বরিশালে এখানে হ বর্ণটির উচ্চারন ঠিক হ নয়, অনেকটা ‘অ+হ+ঘ’ এর মতো।) তো, সেই ’হাসতামশা’ কমেন্টটাই আপনাদের জন্য তুলে দিচ্ছি।

এখান হতে, কেউ যদি সিরিয়াস কোনো ইনসাইট খুঁজে নিতে চান, সেটা তার মর্জি।

আপনি যদি ’সুলতানাস ডাইন’ বাদ দিয়ে ডাস্টবিনে বিরিয়ানি খোঁজেন, সেটা আপনার চয়েজ।

মন্তব্যের প্রশ্ন ছিল: – ক্রাইসিসের সময়ে আমরা কসট মিনিমাইজ করবার জন্য কী কী করতে পারি?

প্রশ্নের প্রাথমিক জবাব ছিল:

– First of all, determine- Do u really need or mean to control or minimize the cost? Why do you need it? Then, how do you want it to be? Okay, controlling cost will be best achieved, if you close the company. 

ইশশ! দেখেছেন, ঘা শুকাতে পুরো পা-টা কেটে ফেলবার প্রেসক্রিপশন দিয়েছিলাম। না, আসুন, এবার, বাকি টোটকাগুলো বলে ফেলি। কসট মিনিমাইজেশন নিয়ে আমরা খুব বেশি মাতামাতি করলেও আসলে আমি মনে করি, বিষয়টা আরেকটু সুন্দর করে বললে হওয়া উচিত-

ক. কসট অপটিমাইজেশন

খ. কসট জাস্টিফিকেশন

গ. ওয়েস্টেজ রিডাকশন, ও 

ঘ. প্রফিট ম্যাক্সিমাইজেশন

মন্তব্যের টোটকা উত্তর নিচে: –

১. সরাসরি মূল ও বড় আকারের রেভিনিউ যেখান হতে আয় বা ব্যায় হয়-সেখানে হাত দিন। হাতির লাদাও তো বিশাল। সেই লাদা হতে বাঁচান। ৫% ফ্যাবরিক যদি এক্সট্রা কাটা হয়, সেখান হতে সেটিকে ৩% এ আনুন। লে আউট ও চেঞ্জ ওভারে যে হিউজ লস হয়, পিক অব প্রোডাকশনে যেতে যে ৩ দিন খরচ হয়, সেটির কসট নিয়ে ভাবুন। রি-ওয়ার্ক, ড্যামেজ রিকভারি, অলটারনেশন, এয়ার শিপ, শর্ট শিপমেন্ট, আনসোলড লট-এসব একটু আমলে নিন।

২. ইফিশিয়েন্সী যা আছে, তার হতে ৫% বাড়ানোর টারগেট দিন। আমি ওভারঅল ইফিশিয়েন্সি মিন করছি। এবং এটা বিজনেস ইফিশিয়েন্সি। যার ভেতরে হিউম্যান ইফিশিয়েন্সি যেমন আছে, তেমনি আছে ম্যাশিন, মানি ও ম্যাটেরিয়ালেরও। সেটা করবার রাস্তাও বলে দিন। টাইটানিকের ৫% ইফিশিয়েন্সী বৃদ্ধি মানে হিউজ।

৩. সব খরচের তালিকা করুন। একদম টিফিনের কলা কেনার টাকা তক। এবার ঠিক করুন, কোনটা ক্রাইসিসের সময় না করলেও বড় ইমপ্যাকট্ বা ইমেডিয়েট ইমপ্যাক্ট হবে না। অনেক ছোট খরচ আছে, যা কেটে ফেলা সহজ, অথচ তার ইমপ্যাক্ট ভ্যালু হিউজ।আবার অনেক খরচ আছে, যা আকারে বড় অথচ তার পজিটিভ ইমপ্যাক্ট অনেক লো অথবা দীর্ঘমেয়াদী। অপ্রয়োজনীয় বা অগুরুত্বপূর্ণ খাতে খরচ কমানোর গণ-উপদেশে কান দেবেন না। ফিডের খরচ বাঁচাতে আপনি ডিম পাড়া মুরগিটাকে জবাই করবেন, নাকি ডিম না পাড়া মোরগটাকে? প্রফেশনাল এনালিস্টদের কাজটি করতে দিন। ডিপার্টমেন্ট হেডদের দিয়ে কসট অপটিমাইজেশনের চিরাচরিত তরিকা ফলো করলেও এবার একটু প্রফেশনালদের হায়ার করবার কথাও ভাবুন। তাদের ঠিক করতে দিন, যে, কোন খরচটি বাদ, হ্রাস বা দীর্ঘায়িত করলে তার শক ও আফটার এফেক্টে লাভের বদলে লস হবে না। চায়ের আয়োজন হতে দুধ বাদ দিলে কত বাঁচবে আর ফ্যাশন শোতে স্পন্সর করলে কত যাবে-এর মথ্যে তুলনা করুন, যে, এখন আপনার ব্র্রান্ডিং বেশি দরকার, নাকি সারভাইভাল?

৪. এমপ্লয়িদের ফ্যাসিলিটি বন্ধ করলে তার নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট ও অপর্চুনিটি কস্ট কত-সেটা ভেবে করুন। দুম করে দুধ চা বন্ধ করে দিলেন। দুধের খরচ বাঁচালেন। ওঁরা সারামাস প্রডাকটিভিটি কমিয়ে দেবে কিনা-কীভাবে ধরবেন? শুনেছিলাম, বুলগেরিয়ার এক গ্রামে একটা বিড়াল ছিল, বিশাল লেজ। তো একবার শীতের দিনে দীর্ঘলেজি বেড়ালকে বাইরে নিতে, ভেতরে আনতে দরোজাটা যে বাড়তি সময় খোলা থাকে, সেই সময় ভেতরের উত্তাপটুকু যে বেশি নষ্ট হয়, সেটা বাঁচাতে ঘ্যাটাং করে বেড়ালের লেজটা কেটে দিল। এই টাইপ কসট কাট আখেরে ভাল ফল দেবে না। আপনি লিফট বন্ধ করে দিয়ে বিদ্যুৎ খরচ বাঁচালেন। অথচ, কার্গো লিফট বন্ধ থাকায় ৯ তলা হতে নিচতলায় ফ্যাবরিক রোল নামাতে ওঠাতে ৩টা লেবার নতুন করে হায়ার করতে হল। বিদ্যুৎ খরচ বাঁচে ৩ হাজার টাকা, লেবারের বেতন ২৪ হাজার টাকা। দারুন কসট অপটিমাইজেশন।

৫. দীর্ঘমেয়াদে বিজনেস অপারেট করবার জন্য প্রফেশনাল বিজনেস এনালিস্ট ও পেইড সি.ই.ও ও সি.এফ.ও রাখুন। যিনি রাজা, তিনিই ঋষি-এই কথা হয়েছে বাসি। 

৬. একমুখী খাতে বিজনেস না করে অন্তত ৫-৬ টি প্রতিষ্ঠিত ও সম্ভাবনাময় খাতে বিজনেস করুন। ফলে, দুটো ফল করলেও বাকি ৪ টা ব্যকআপ দেবে। এবং, হিস্ট্রি বলে, একটি খাত ফল করলে অন্য একটি বিপরীত খাত রাইজ করবে। যেমন দেখুন, করোনায় সব খাত বন্ধ, পড়ে গেল। ওষুধ, প্রযুক্তি আর খাবার হিউজ রাইজ করল। যার পোশাকের দোকান আর ওষুধের দোকান-দুটোই ছিল, সে একদিকে যেমন হারিয়েছে, অন্যদিকে তার দ্বিগুন গেইন করেছে। আখেরে মার্জিন পজিটিভ।

৭. প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম ভ্যালু প্রপোজিশন অথচ হাই ফ্যাসিলিটেটেড-এমন হাতি খুঁজে বের করুন। হাতি চিড়িয়াখানায় পাঠান।

৮. কর্মী ছাঁটাইকে সবশেষ তরিকা হিসেবে ভাবুন, এবং মরিয়া না হলে ওটি করবেন না। তবে সেটিকে তালিকায় রাখুন। একবার ছাঁটাই হতে যা বাঁচাবেন, হারাবেন তার অনেক বেশি। তাছাড়া স্মার্ট ছাঁটাই করতে বেশিরভাগ এইচ.আর ই অক্ষম।

৯. সার্বিকভাবে অপচয়ে নজর দিন। ১০ বিঘা জমি কিনে ৩ বিঘায় কারখানা করে ফেলে রেখেছেন। বাকি ৭ বিঘা জমির দামের কি মানি কসট নেই?

৮. শুনতে অদ্ভুৎ শোনালেও আমার একজন সুহৃদ তার বিদেশী বসের হতে কোট করেছিলেন, যে, ক্রাইসীসের সময়ে সব গুটিয়ে না এনে উল্টো নতুন করে ইনভেস্ট করুন। এটা বেশ ব্যখ্যাসাপেক্ষ। শুধু বলি, রিজার্ভ হয়ে গেলে, গুটিয়ে গেলে লস বরং বেশি। এখানে আমার প্রিয় একটি কোট বলি-জিরো এক্সপানশন আসলে বিজনেস ডিক্লাইনই।

৯. পিপড়ার মতো চলুন। মানে, বন্যা বা পানির ধারা পার হতে পিপড়ারা সবাই মিলে একটি বল বানায়। তারপর রোল করে করে পানি পার হয়। এত করে বাই টার্ন সবাই পানির তলে গেলেও বেশিক্ষণ থাকে না। ফলে কেউই মারা যায় না। ক্রাইসিসের সময়ে পুরো প্রতিষ্ঠানকে একটি বডিতে রুপান্তর করুন (সম্ভব হবে না যদিও)। সবাইকে নিয়ে বিপদ মোকাবেলা করুন।  একা একা না। সবাই মিলে। আবারও বলছি, কতিপয় স্টার, কতিপয় বড় স্যারকে নিয়ে মিটিং করে ক্রাইসিস প্ল্যান বানাবেন না। সবাইকে নিয়ে কাজ করুন। কসট কাট চাপিয়ে দেবেন না, বরং, সেটা সবার মনের কথা বানান।

হোম অফিস চালু করে কাজের ক্ষতি করার আগে তেলখেকো বড় জিপগুলোর কথা ভাবুন। এই যুগে কেন এখনো ল্যাপটপের বদলে আপনার অফিসে ৭০% ডেস্ক পিসি হা করে চেয়ে আছে-সেটা প্রশ্ন করুন। হোম অফিস করবেন-সবার ল্যাপটপ আছে? ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি হলে আপনি কাকে হোম অফিস করাবেন? লাইনের অপারেটরকে? নাকি প্রোডাকশন সুপারভাইজারকে? ফট করে বলে বসবেন না, যে, আপনার এইচ.আর ম্যানেজারকে। আরে, ওই ব্যাটা যদি বাসায় বসেই অফিস চালাতে পারে, তাহলে ওনার জন্য সারাবছর একটা রুম কেন বরাদ্দ করেছেন আপনি?

১০. সমবায় করুন। কারখানার উন্মুক্ত ৩ বিঘা জমিতে, কর্পোরেট অফিসের ছাদে কারখানার কর্মী/হোমড়াচোমড়াদের নিয়ে সবজি বাগান করুন। উৎপাদন খরচের দামে সেটা কর্মীদের মধ্যে বেঁচুন। লাভও নেই, লসও নেই। আরেহ, মাসে একটা পরিবারের সবজি কিনতেই এখন ৩ হাজার টাকা লাগে। সেই টাকাটা যদি ৮০০ টাকায় নেমে আসে, তাহলে আপনি তাকে ২২০০ টাকা পে-কাট করতে পারবেন।

১১. পে-কাট করুন। তবে যেই পরিমাণ কাট একেকজনের হবে, সেটা আবার পুষিয়ে দেবার জন্য নানা স্কীম নিন। যেন তাদের নেট ইনকাম আর বাইং ক্যাপাসিটি না কমে। ফেয়ার প্রাইস শপে পণ্য সেল করে তাদের পুষিয়ে দিন। তাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে রেশনে নিত্য পণ্য দিন। বিনিময়ে পে-কাট করুন। বিষয়টা জটিল। বিভিন্ন কর্পোরেট চুক্তির আওতায় তাদেরকে যতটা সম্ভব তাদের নিত্য জীবনের দরকারী খরচগুলো বাজার হতে কম পয়সায় পাবার ব্যবস্থা করুন। যেটা তারা একক বা ব্যক্তিগত চেষ্টায় পাবেন না।

১২. গ্রীন কারখানা নামের হাতি পয়দা ও পালা বন্ধ করুন। গ্রীন বিলাসিতার মতো বড় ও ধনী দেশ বাংলাদেশ না। এই দেশে জমি নেই, সেখানে কেন একটা ফুটবল মাঠে ছোট্ট কুড়েঘর বানাবো? তাছাড়া গ্রিন কারখানা করে সত্যি সত্যিই কতটা লাভ হয়, কতটা লস হয়? যে খরচ হয়, সেটা কত বছরে উঠে আসে? যে পরিমাণ অপর্চুনিটি লস দিতে হয়, তার ট্রেড অফ কত? কত পারসেন্ট? বাড়তি দাম পাবেন তো প্রোডাক্টে? অরডার গ্রাবিংয়ে বাড়তি প্রায়োরিটি পাবেন? যে বিদেশি কনসালট্যান্টদের ’পাউয়ার পয়েন্ট’ পেরজেনটেশানে মজে আপনি গ্রিন নাটকে মজেছেন, তারা কি আপনাকে কখনো সত্যিই দেখাতে পেরেছে, যে, গ্রিন কারখানা সত্যিই কসট-ইফেকটিভ? (আমি সত্যিই বিষয়টা জানি না। ভুল করে থাকতে পারি।)

১৩. দূর্নীতি খাতে যে টাকা ড্রেইন হয়-সেটা বন্ধ বা উদ্ধার করুন। না, পিওন, চাপরাশিরা যে ১০-১৫ টাকা বেশি কনভেন্স বিল নেয়, সেটাতে কু-নজর দেবার আগে বড় বড় স্যাররা যে হোয়াইট কলার কমিশন/টু-পাইস/উপহার পান, সেখানে হাত দিন। আরে, ইঁদুরের পুরো গর্ত খুড়লে পাবেন ১ কেজি ধান, অথচ হাতির গোসলের পানি ৩০০০ গ্যালন। বড় বড় ডিলে নজর দিন। ঢাকা শহরের ফ্ল্যাট কেনা কাদের জন্য সহজ হল, কেন হলএকটু তলিয়ে ভাবুন। শুধু টিপি দিলাম। 

১৪. কে.পি.আই (সত্যিকারের কে.পি.আই) চালু করুন। কার কতটা ভ্যালু প্রোপোজিশান থাকার কথা, দেবার কথা, দেওয়া সম্ভব, কত দিচ্ছেন, কত গ্যাপ-তার জন্য কে.পি.আই আর কমপিটেন্সী ম্যাপিংয়ের যুগপৎ বিশ্লেষণ দরকার।

১৫. বিজনেসটাকে একটি প্রফেশনাল বিজনেস প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাড়া করান। আবারও বলি-প্রফেশনাল। এটার ব্যাকসীনে আরও কথা বলতে হত, বলা গেল না। খাতুনগঞ্জে মুগডাল কেনা আর মিরপুর-১ নম্বর বাজারে বেঁচার মতো সরল বিজনেস হতে এবার একটু হাই থটে যেতেই হবে।

১৬. প্যানিক বন্ধ করতে হবে। কর্মীদের মধ্যে যেন রিসেশন ও ক্রাইসীস নিয়ে প্যানিক তৈরী না হয়। সেটা লাভের বদলে লস করাবে। প্রত্যেকের প্রোডাকটিভিটি ডাউন হবে। আখেরে লস। তাদের ভেতরে আস্থা তৈরী করুন, যে, কোম্পানী তাদের পাশে আছে। যদি ভাবেন যে, ক্রাইসীসের সময় কেউ চাকরি ছাড়বে না, তাহলে ওই দিকেও আবার উল্টো ভাবতে পারে, যে, ক্রাইসীসের সময় ছাটাই হতে পারে, তাই আগেই ভাগি। এতে করে প্রোডাকটিভ ও ইফিশিয়েন্ট কর্মী কমে যাবার ঝুঁকি আছে।

ওয়েল, এখানে যা যা বলেছি সবই হাবিজাবি ও হাইপোথিসিস। অত্যন্ত তাত্বিক এবং গোলমেলে ভাবনামাত্র।

আপনি আমার বিশ্লেষণকে বরং মাটির ময়না চলচ্চিত্রে আনু আর তার বালক বন্ধুর কাল্পনিক বল নিয়ে ছোড়াছুড়ি খেলবার মতো টাইম পাসও বলতে পারেন।  এর কোনোকিছুই একজন বিজ্ঞ, জ্ঞানী বা অভিজ্ঞ প্রফেশনালের মতামত নয়। এগুলো একজন হাতুড়ের প্রলাপমাত্র। বিশেষ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সমাজ, প্রতিষ্ঠান এর লক্ষ্য ও নিশানা নয়। তাই, কেউ অফেনডেড হবার কারন নেই।

এবং, পাঠক যদি ভাবেন, যে, এই ব্যাটা এত্ত জানে, তাহলে নিজে ব্যবসা করে না কেন? ওয়েল, ব্যবসা করা, ব্যবসা জানা আর বিজনেস ইফিশিয়েন্সী নিয়ে কথা বলা এক জিনিস না।

ডাবলু মামা। ছা-পোষা কেরানী। বাসার বাজারঘাট করেন না। মামীই করেন।

মামা একদিন অফিস হতে বাসায় ফেরার সময় রাস্তায় কলা বেঁচতে দেখে কলা বিক্রেতাকে বললেন, “ওই, কলা কত করে?” “মামা, কলা ৬০ টাকা ডজন। (মানে ৫ টাকা পিস।)”

মামা নিজেকে খুব হিসেবি, সংসারি ও পটু ভাবেন। খালি মামীর জন্য তার প্রয়োগ ঘটাতে পারেন না।

তিনি কলাওলাকে দিলেন এক ধমক। “ধূর মিয়া, এত দাম নাকি?”

অতঃপর তিনি কলাওলাকে দাম হাঁকলেন, “এক হালি ২৫ টাকা দিলে দাও।” কলাওলা খুশি হয়ে তাকে এক হালি কলা ২৫ টাকায় দিয়ে দিল। (মানে ৬.২৫ টাকা পিস।)

মামা ’জিতে গেছেন’ ভাব নিয়ে খুশি মনে কলা বগলদাবা করে বাসায় ফিরলেন।

কস্ট মিনিমাইজেশন নিয়ে মাঝে মাঝে আজব আজব সব দৌড়ঝাঁপ দেখে মরে যাই। বেশিরভাগ কস্ট মিনিমাইজেশন উদ্যোগ ও পদ্ধতির সাথে উপরের ঘটনার মিল পাই। বাংলাদেশের মতো সবজান্তার দেশে সবাই যখন সবকিছুতে (বিশেষত এইচআরে) এক্সপার্ট হয় আর সেই এক্সপার্টদের সুযোগও দেয়া হয় (কেরেদ্দারী ফলানোর), তখন আর কি?

তবে নির্মম সত্যি হল, ইকনমিক ক্রাইসিস এবং রিসেশন মোকাবেলা আসলে এত সরল কিছু নয়। জগতের তাবৎ ধনী রাষ্ট্র, সুপার পাওয়ারই যেখানে খাবি খাচ্ছে, যেখানে আমাদের রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রযন্ত্র খোদ ঢোক গিলছে, সেখানে একটি একক প্রতিষ্ঠান সত্যি বলতে কিছুই করতে পারবে না। অনেকটা, শুধু, “চেয়ে চেয়ে দেখলাম………………আমার করার কিছু ছিল না।” মানে, কোপটা অনেকটা অবশ্যম্ভাবী। তবে, রেডি হয়ে কোপ খেলে ব্যথাটা সামান্য কম লাগলেও লাগতে পারে। তাছাড়া জানেনই তো, যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ।

ভবিষ্যতে যেকোনো আঞ্চলিক বা জাতীয় বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে প্রস্তুতি ও রেসপন্স করতে পারি তার কিছু সুপারিশ:

১. অফিসে ডিশ কানেকশনসহ টিভি রাখা এবং ক্রাইসিসের সম্ভাবনা দেখা দিলে খবর ও আপডেট রাখতে কাউকে দায়ীত্ব দেয়া।

২. বিশেষ ক্ষেত্রে ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যেদিকে আমাদের কর্মীরা থাকেন, সেসব এলাকায় আমাদের কর্মীদের কানেকশন ব্যবহার করে তথ্য নেয়া। কর্মীদেরকে এলাকায় ইনফরমার তৈরী করতে উৎসাহিত করা। ক্রাইসিস ডে’তে সবার বাসায় ফোন করে সতর্ক করার বিষয়ে সচেতন করা।

৩. অফিসের গেইটগুলোকে শক্তিশালী করা। ক্রাইসিস টাইমে ও দিনগুলোতে গেইট বন্ধ রাখা।

৪. ভবিষ্যতে একইভাবে ইন্টারনেট সিজ হবার সম্ভাবনা রয়েছে, বিধায় বাসা হতেই বাল্ক SMS পাঠাবার ব্যবস্থা করা।

৫. ক্রাইসিসের দিনগুলোতে বিভিন্ন টিমকে দলবদ্ধ করে বাসায় পাঠানো। আগে ছাড়বার বিষয়ে দ্রূত সিদ্ধান্ত নেয়া। বিশেষত মেয়েদেরকে কারো দায়ীত্বে বাসায় পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া।

৬. ল্যাপটপের সংখ্যা বাড়াতে এখন হতে নতুন পিসি কেনার সময় ল্যাপটপ কেনাকে প্রাধান্য দেয়া। কর্মীদের জন্য অফলাইন কাজের একটা প্রস্তুতি রাখা। প্রতিটি কর্মী অফলাইনে কোন দায়ীত্ব সামলাতে পারে, তার একটি তালিকা ও প্রস্তুতি সার্বক্ষণিক রাখা। শুধুমাত্র ছুটি না দিয়ে সত্যিকারের হোম অফিসের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি রাখা। হোম অফিসকে রেগুলার অ্যাটেনড্যন্স হিসেবে রিকগনাইজ করা। দীর্ঘ ছুটি হলে VC তে সবাইকে কানেক্ট করে ইনটার‌্যাকশনের ব্যবস্থা করা।

৭. ক্রাইসিসের দিনগুলোতে সবাই বাসায় পৌছে অফিসকে জানাবার কালচার তৈরী করা। ইনটারনেট না থাকলে ‍SMS কে কাজে লাগানো।

৮. গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের VPN ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেয়া।

৯. ক্রাইসিসের দিনগুলোতে কারখানার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা। কার্গো সম্বলিত গাড়ি না ছাড়া। ছাড়লে তার পৌছানো তক কাউকে ট্রেইলে রাখা।

১০. ক্রাইসিস দিনগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে সতর্কতা ও অনুৎসাহিত করা। প্রত্যেক গাড়ি চালকের ফোনে সবসময় ব্যালেন্স রাখার ব্যবস্থা করা।

১১. কর্মীদেরকে ইন্টারনেট ছাড়াই SMS, বিকাশ, বিল দেবার পদ্ধতি নিয়ে প্রশিক্ষিত করা।

১২. একটানা অফ থাকলে সবার খোঁজ খবর নেবার জন্য টিম ভাগ করে দেয়া।

১৩. দীর্ঘ ছুটির ‍আশংকা তৈরী হলে যার দরকার, তাকে ক্যাশ টাকা সাথে রাখার জন্য বলা বা হেল্প করা।

১৪. ক্রাইসিস ডে গুলোতে বোর্ড সদস্যদের আগেভাগে বাসায় পাঠানো। সবাইকে বের করে দিয়ে তারপর সিনিয়ররা লিভ করা।

১৫. যেদিন আগে ছুটি দিয়ে দেয়া হয়, সেই দিনগুলোতে যেন কেউ লেট অফিস না করে-তা নজরদারী করা।

১৬. গাড়িতে ফায়ার এক্সটিংগুইশার ও পানি রাখা।

১৭. ক্রাইসিস দিনগুলোতে একজন পুরো ব্যবস্থাপনার লিড নেয়া। কারখানাগুলোর জন্য লোক ডেডিকেট করা।

১৮. বড় রকম টার্মঅয়েলের ঝুঁকি থাকলে আগের দিনই সিদ্ধান্ত নেয়া। এখন হতে পুরো দিন বন্ধ রাখবার আশঙ্কা তৈরী হলে আগে হতেই ঘোষনা দিয়ে শুক্র/শনিবারে বিকল্প অফিস করা। অ্যাডজান্টমেন্ট হবে-সেটি তাৎক্ষণিক বলে দেয়া। আবার সেটা করা না গেলে অন্তত রাতেই কে আসবে, কে না এসে হোম অফিস করবে-তা ডিসাইড করে ফেলা।

১৯. ক্রাইসিস ডে তে সবার ফোনে ব্যালেন্স থাকা, চার্জ থাকা, পকেটে ক্যাশ রাখার জন্য সচেতন করা।

২০. ক্রাইসিসের সম্ভাবনা থাকলে এক্সটারনাল মুভমেন্ট সীমিত করতে এনাউন্স করা।

২১. কারখানাতে হঠাৎ উপস্থিত ক্রাইসিসে কিছু সংখ্যক মানুষকে সাময়িক আবাসন দেয়ার ব্যবস্থা রাখা নিয়ে ভাবা যেতে পারে।

২২. সোশ্যাল মিডিয়াতে বিচরনের সময় সতর্ক ও বিবেচনাপ্রসূত হবার জন্য সচেতন করা।

#crisismanagement #recession #economictermoil #recession #economy #cosmeticdevelopment #exploitation #poverty #middleclasslife #nakedlife #thuglife #lipsticktheory #costoptimization #costminimization #costsaving #costmanagement #nationalcrisis #contingencymanagement

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *