Skip to content

আনইভেন বা অসম প্রতিযোগীতার ফল

  • by

স্বামী মরেছে দুঃখ নেই, সতীন তো বিধবা হয়েছে। এই নীতি ব্যক্তি জীবনে প্রয়োগ করে পার পাওয়া গেলেও কর্পোরেট জীবনে প্রয়োগে বিষ ফলতে পারে। কর্পোরেটে আপনার কমপিটিটর প্রতিষ্ঠান থাকবে। তারা একটু খারাপ করলে আপনার ব্যবসা ভাল হবে-সেটা ঠিক। তবে, সে যদি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফল করে, আপনার লং রানে তাতে ক্ষতি।

এক লোক একবার শহরের কৃষি উন্নয়ন দপ্তর হতে শিখে এসে গ্রামের সবাইকে উন্নত জাতের আখ চাষের সুফল ও পদ্ধতি নিয়ে প্রচুর ওয়াজ করতে লাগল। একদিন একজন জানতে চাইল, যে, মিয়া, তুমি একা একা উন্নত আখ চাষ করলেই না তোমার লাভ। একা ব্যবসা করতে পারবে। তাহলে অন্যকে চাপ দিচ্ছ কেন? উত্তরে সে বলল, আমি একা যদি ভাল আখের চাষ করি, চোরেরা কেবল আমার ক্ষেতের দিকেই নজর দেবে, চুরি যাবে কেবল আমার একার আখ। সবাই মিলে করলে ঝড়টা সবার ওপর দিয়ে যাবে। লাভে-ক্ষতিতে বরং কিছুটা লাভই তাতে।

সম্প্রতি একটি প্রতিষ্ঠান তাদের  সাক্ষাৎকারে হাজির হওয়া চাকরি প্রত্যাশীদের যাতায়াত ভাতা হিসেবে ১ হাজার টাকা সম্মানী প্রদান করে বাজারে বেশ সাড়া ফেলেছেন। প্রশংসার বন্যায় ভাসছেন তারা। প্রশংসা আমিও করি। ভাল কাজকে কেন ভাল বলব না। তবে বিপরীত চিত্রটাও একটু বিবেচনায় রাখতে হবে।

আপনার ভাল ও অভিনব উদ্যোগ বাজারে কোনো অসম চাপ কিংবা আন্দোলন তৈরী করছে না-সেটিও মনে রাখতে হবে। অনেকটা যেন আপনার দরিদ্র প্রতিবেশীর ঘরে ঈদের সেমাইও রান্না না হলে আপনি যদি তাকে সাহায্য করতে না-ও পারেন, অন্তত আপনার ঈদ আনন্দের ঝাকমারি যেন তাকে চাপে বা আফসোসে না ফেলে-সেটি নিশ্চিত করবার মতো।

এর আগে ইন্টার্নশিপের বিপরীতে সম্মানি চালু করে কিছু প্রতিষ্ঠান প্রথমে একটা ভাল কাজের নজির স্থাপন করলেন। দেখতে দেখতে কেউ কেউ সেটাকে বেতনে রূপান্তর করলেন। আজকাল অনেক প্রতিষ্ঠান সেই সম্মানি বা বেতনকে এমন একটা লেভেলে নিয়ে গেছেন, যে বাজারের (বেইল কার্ভ অনুযায়ী) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের জন্য অধরা করে করে ফেলেছেন। ইন্টার্নশিপ যদি সত্যিই ইন্টার্নশিপ হয়, তাহলে সেটির বিপরীতে সম্মানী বা বেতন থাকার কথা না। আবারও বলছি, ইন্টার্নশিপ যদি সত্যিকারের ইন্টার্নশিপ হয়, তাহলে ভাতা থাকার কথা না। ভাতা থাকবে অ্যাপ্রেনটিসের জন্য।

তো, এই ভাল কাজকে অতি ভাল করতে গিয়ে বাজারের বাকি পারফরমারদের জন্য বাড়তি ও অন্যায্য চাপ তৈরীর দিকটাও ভেবে রাখবেন। আপনার প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও আত্মিক সক্ষমতা অনেক। আপনি অনেক অভিনব ও খরুচে কাজ করতে পারবেন। করার দরকারও হয়। ব্র্যান্ডিং কে না চায়। তবে সেটাই আবার একটি কর্পোরেট ইকোলজির জন্য চাপ হয়ে দাড়ায়। একটু ভেবে দেখবেন, প্রতিবেশীর ঘরে যেদিন চুলা জ্বলেনি, সেদিন আপনার বারবিকিউ নাইট কেমন হবে? তুলনাটা হয়তো একটু বেশি ব্লান্ট ও Raw হয়ে গেল।

#competitor #balancedpractice #moderateHR #unevencompetition

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *