বাংলাদেশে ফ্রাস্ট্রেটেড মানুষের মোট সংখ্যা কত? আর অতৃপ্তকাম পরশ্রীকাতর মানুষের?
উগান্ডা নামের একটি দেশের মানুষেরা এতটাই ফ্রাস্ট্রেটেড, এতটাই ফ্রাস্ট্রেটেড, এতটাই ফ্রাস্ট্রেটেড, যে, নিতান্তই ভোলাভালা, নির্বিবাদী, শান্ত, সাত চড়ে রা কাড়ে না-এমন নিপাট ভদ্র মানুষটার পেটেও বিপুল ক্ষোভ, বিক্ষোভ দানা বাঁধা থাকে।
এই উগান্ডায় তাই মানুষ সুযোগ পেলেই ঠিকভাবে হোক বা বেঠিকভাবেই হোক, যাকে মন চায়, যেখানে মন চায়, তার ক্ষোভ ও ফ্রাস্ট্রেশন উগরে দেয়।
এখানে এমনকি আপনি যদি নিস্পাপ মনে একটি ফুটন্ত গোলাপের ছবি পোস্ট করেও লেখেন, “বাহ, আজ সকালে চমৎকার একটি দৃশ্য দেখে সকাল হল।”
ওমনি, অন্তত তিনজন ফ্রাস্ট্রেটেড মানুষ তাতে তীব্র মন্তব্য করবেই-”দেশে যখন পঁচনের গন্ধ, তখন আপনি আছেন গোলাপের সুবাস নিয়ে। তেলবাজি করে তো ভালই আছেন।”
আড়ঙকে ৭০০ টাকার পাঞ্জাবি ১ সপ্তাহের ব্যবধানে ১৩০০ টাকায় বিক্রী করায় বিরাট সাজা দেয়া হয়েছে। জেগে উঠেছে বঙ্গদেশের জাগ্রত জনতার স্বদেশ চেতনা, ন্যায়বোধ। পারলে আবেদ সাহেবকে ফাঁসি দেয়।ভাল লাগে। এই ইর্ষাতুর ন্যায়বোধ।
আচ্ছা?
২০ টাকার বেগুন রোজার আগের দিন ২০ টাকা আর পরের দিন ৮০ টাকা।
২৫ টাকার পেয়াজ ২ দিন বাদে ৫০ টাকা।
মাংসের দাম ৫২৫ নির্ধারন করে দেবার পরও ৬০০ টাকা।
৪৫০ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার ১২০০ টাকা।
১০ টাকা পার জিবির স্থলে ডাটা ১০০ টাকা।
১ তারিখে গাবতলি আরিচা ৩০ টাকা বাস ভাড়া হয়ে যায় ১৫০ টাকা।
১ কোটি টাকার রাস্তা ২০ কোটিতে।
আমাদের গার্মেন্টসে ২ ডলারে প্যান্ট বানিয়ে নিয়ে তা পশ্চিমের আউটলেটে ১২ ডলার।
কতজনকে জরিমানা আর জেল দেয়া হয়েছে?
আড়ঙকে জরিমানা করায় তীব্র উল্লাসের মধ্যে আমি কেন যেন ন্যায্যতা ও নৈতিকতার ছায়া দেখিনা। বরং কেন যেন সাকিব আল হাসানের মতো হিরার ছেলের প্রতি আমাদের তীব্র ইর্ষাকাতরতার একটা মিল খুঁজে পাই।
হাসছেন? হাসুন। কিন্তু আড়ঙের বিচার দেখে ফেসবুকি দেশপ্রেম যে নিরেট দেশপ্রেম নয়, তা নিশ্চিত। ১ সপ্তাহ আগে যদি ৭০০ হয়, সেটা ১ সপ্তাহ পরে ১৩০০ হতে পারবে না-এমন কোনো আইন কি আছে দেশে? ওপেন মার্কেট ইকোনমিতে দাম বেঁধে দেবার কোনো আইন কি থাকে?
এই কি সেই সরকারী দপ্তর না, যারা চালের দাম যখন ৯০ টাকা হয়েছিল, তখন তার দর বেঁধে দিতে বললে ওপেন মার্কেট ইকোনমির দোহাই দিয়েছিল?
ইস্যুপাগল জাতির ইদের আগে শেষ ইস্যু। আর ইয়ে, এরকম একটি কষাই দোকানে এই এত এত মর্দে মুমিনরা না গিয়ে বয়কট করলেই তো তারা সিধা হয়ে যেত। কিন্তু তা তো দেখি না।
আড়ঙে বরং ভীড়ের বর্ননা দেব যেভাবে, তা হল, যেকোনো সময়ে আড়ঙে যান, কেবলমাত্র পশ্চাৎনিশ্বাসই পাবেন ১০০০ ফ্লেভারের।
একটা জিনিস দেখেছেন? আড়ঙের বিচার নিয়ে পোস্ট দিচ্ছে কেবল পুরুষরা। কোনো মহিলাকে দেখলাম না দুটো কথা বলতে। তাহলে কি ধর নেয়া যায়, এই হো হো উলুধ্বনি কেবল আড়ঙে মানিব্যাগধর্ষিত পুরুষদের ফ্রাস্ট্রেটেড দীর্ঘশ্বাসজনিত বহিঃপ্রকাশ?
ঘরের মহিলাকেই যেখানে কনভিন্স করতে পারেননি আড়ঙের বজ্জাতি নিয়ে, তখন দেশকে কী করে…..?
আফসোস! যেই জাতির মাস্টার্স পাশ অফিস কর্মীরা এখনো জানে না, ইংলিশ কমোড, পিশু করতে হুড তুলে রাখতে আর টাট্টি করতে হুড নামাতে হয় (করে উল্টোটা), তারা কাপড়ের দোকানে ন্যয্যতার স্বপ্ন দেখে।যান কেন আপনারা?
এই কুষিদজীবি দোকানে?
বাংলাদেশের ১ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম বলুন, যেটি পণ্যের সঠিক মান ও ন্যায্য দাম রাখে? আর ধুর, ওপেন মার্কেট ইকোনমিতে ন্যায্য দাম বলে কিছু থাকে নাকি?
(এই সারকাজম পোস্টের ত্যানা কমেন্ট: “ভাই কি আড়ঙের দালাল?”
#Aarong #dalal #collaborator #fraud #customer #brand #boycott #frustration