Skip to content

এশটাটাশ সমগ্র-৮: সমাজের কোষ্ঠ্য ও কাঠিন্য নিয়ে টুকরো টাকরা: নাগরিক কোষ্ঠকাঠিন্য ও ভাগ্যের ললাটদেবতা

  • by

এই লেখা বা, বলা ভালো লেখার চেইনটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মুডে লেখা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র একেকটি পোস্টকে জোড়া দিয়ে চেষ্টা করেছি একজন নগর জিপসীর মনোঃজগতটাকে ফ্রেমড করতে। প্রতিটি লেখা এক একটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে লেখা। ভাল লাগবে কিনা জানি না।

এক; পেশাদার ম্যাচিওরড নাগরিক: #overmatured

আমি কি ম্যাচিওরড হয়ে গেছি? ২০০৬ এ পেশাগত জীবন শুরু করলাম। মাত্র ইউনিভার্সিটি পাশ করা যুবক আমি। প্রবল উৎসাহে কাজ অকাজ সব করি। প্রানান্ত ছুটাছুটি করি। প্রথম প্রেমে পড়ার মতো ইমোশন। কেউ প্রশংসা করলে আসমানে ভাসি, গাঢ় আবেগে কেঁদে দিই। আবার কেউ বকলেও কেঁদে বুক ভাসাই। আহা, কি বোকাই না ছিলাম। আজকাল আবেগগুলো ভোঁতা হয়ে গেছে। আজ আর কোনো কিছুতেই উদ্বেলিত হই না। মনে হচ্ছে এতদিনে ম্যাচিওরড হতে পেরেছি। খারাপ কী?

দুই; পাবলিক নুইসেন্স: #publicnuisance

আইনস্টাইনের অপ্রকাশিত কয়েকটি তত্ত্ব: আপনি জানেন কি, পাবলিক পরিবহনের সিটে আপনি কিভাবে বসেন সেটা ইন্ডিকেট করে রাতে বিছানায় কিভাবে ঘুমান। যারা পাবলিক গাড়িতে অন্যের গায়ে ঢলে পড়েন তারা বিছানায় সঙ্গীকে কোলবালিশ ভেবে পা তুলে দেন। যারা পা ছড়িয়ে বসেন তারা বিছানায় ঘুমের মধ্যে আড়াআড়ি হয়ে যান। যারা পাবলিক গাড়িতে অন্যের উরুতে উরু লাগিয়ে বসতে অভ্যস্ত তারা বাসায় ঘুমের মধ্যে সঙ্গিকে ঠেসে শ্বাস বন্ধ করে দেন। তত্ত্বগুলো প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি সায়েন্স ম্যাগাজিনে।

তিন; পাছে লোকে কিছু বলে: #publiccriticism #publicmockery #masscriticism

সম্ভবত প্রয়াত মনিষী লুৎফর রহমানের একটা গল্প পড়েছিলাম। এক লোক বাড়িতে কুয়া হতে জল তুলছিল। এমন সময় তার কয়েকজন বন্ধু দেখা করতে আসায় দড়িসহ আস্তে আস্তে বালতিটি কুয়ায় ছেড়ে দিল যাতে তার বন্ধুরা তাকে পানি তুলতে না দেখে। এবার আসেন বর্তমান জগতে। আপনি ফুটপাতের দোকানে তিন টাকার শেখ সিগারেট টানছেন মনের আনন্দে। হঠাৎ একজন কলীগকে আসতে দেখলেন। কী করবেন? আপনি স্ত্রী (যাকে নিয়ে নিত্য নানান ঢঙে সেলফী দেন)’কে সাহায্য করতে বাসার ডিনারের প্লেট ধুচ্ছেন। এই পিক ফেবুতে আপলোড করতে পারবেন? শাহজালালে চেকইন পোষ্টতো করছেন তো অনেক। মতিঝিলের অফিস হতে ৬ নম্বর বাসে ঘেমে নেয়ে বাসায় ফিরছেন-সেই সেলফী দিতে পারবেন?

চার; নাগরিক ভন্ডামী: #overreaction #exageration #overacting

আমি সীমিত জ্ঞানে যতটা জানি, কোনো মুসলিম মারা গেলে ধর্মীয় রীতি হল প্রথমে শোনামাত্র ইন্না লিল্লাহি…….. মনে মনে বা মুখে বলা যার উদ্দেশ্য মৃত্যুর উপলক্ষে একবার খোদার কথা স্মরন করা। এরপর দু’হাত তুলে মৃতের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করা। এরপর সশরীরে মৃতের বাড়ি গিয়ে পরিবারকে সান্তনা দেয়া, এরপর তার কাফনের ব্যবস্থা, জানাযায় অংশ নেয়া, অতঃপর দাফনের জন্য কবর পর্যন্ত যাওয়া। ভার্চুয়াল মিডিয়াতে (ফেবু/অন্যান্য) শোক প্রকাশ ধর্মীয় প্রথা নয়। যেই বাক্য দিয়ে তা করি (ইন্নালিল্লাহি……) এটা শোকবাণী না। মৃতের জন্য দুটি কথা, পরিবারকে সান্তনা দিয়ে দুটি কথা এসব শোকবাণী।ভার্চুয়াল মিডিয়াতে শোকবাণী তখনই অর্থবহ হয় যখন সত্যিকার জগতের কাজগুলোও করা হয়। আর যদি সেটা না করে গাদা গাদা শোকবাণী প্রচারিত হয়-সেটা মৃতের উপকার বা তার প্রতি ভালবাসার প্রকাশ নয়। অন্যকিছু।

পাঁচ; উপভোগ্য শোক: #pretending #fakesorrow

আমরা অনেক সময় শোক জানানোর বা্স্তবতার মুখোমুখি হই। কিছু অঞ্চলের মানুষ ”শোক“ উচ্চারন করতে পারেন না। বলেন-শুক। কিছু কিছু সময় মনে হয় আমরা আজকাল শোক নয় শুকই জানাতে চাই। তো শোক আর ”শুক” এর মধ্যে তফাৎ কী? শোক হল তাই যা শক থেকে আসে আর শুক হল তাই যা শক না পেলেও দেখাতে হয়। শোক হল কারো দুঃসংবাদে মনে শক পাওয়া আর শুক হল দুঃসংবাদ শুনে শুধু শুধুই আহা উহু করা। শোক হল কারো দুঃখে তার পাশে দাড়ানো আর শুক হল কারো দুঃখ দেখে আরো দুরে ভাগা যাতে ঝামেলায় জড়াতে না হয়। শোক হল কারো মৃত্যুতে তার পরিবারের সবার দেখভালে অংশ নেয়া আর শুক হল তিন দিনের দিন মিলাদ খেতে গিয়ে কেঁদে গড়াগড়ি খাওয়া। শোক হল কেউ বিপদে পড়লে টাকা ধার দেয়া আর শুক হল ট্রেনে ডাকাত পড়লে বন্ধুকে অনেক দিনের পাওনা টাকা শোধ দেবার চেষ্টা করা। শোক হল কারো দুর্দিনে পাশে দাড়ানো আর শুক হল টিভিতে টি টোয়েন্টি ম্যাচ দেখতে দেখতে মোবাইলের কী প্যাডে আহ, উহ, ইস, পাশে আছি……..ইত্যাদি। ফাইনালি শোক হল দুইহাতের পাতা জড়ো করে সত্যি সত্যি দোয়া করা আর শুক হল দুই হাতের পাতার মধ্যে স্মার্টফোন ধরে কী প্যাডে “দোয়া করি আপনি স্বর্গে যান…….” ইত্যাদি ইত্যাদি।

ছয়; চোরের মনে পুলিশ পুলিশ: ##judgementalattitude #CognitiveBias #ConfirmationBias #inferioritycomplex #SuperiorityComplex #SupremacySyndrome

এক মহল্লায় এক তাহাজ্জুদ গুজার বুজুর্গ আর এক সিঁদেল চোর থাকত। একদিন ফজরের ওয়াক্তে তাহাজ্জুদ গুজার লোকটা পুকুরঘাটে ওজু করতে বসল। একই সময় সিঁদেল চোর সারারাত চুরি করে হাতমুখ ধোয়ার জন্য পুকুরের অপর পাড়ের ঘাটে নামল। বুজুর্গ লোকটা চোরকে দেখে ভাবল, আহা, ওই লোকটাও মনে হয় আমার মতো সারারাত তাহাজ্জুদ পড়ে এখন ফজর পড়তে মসজিদে এসেছে। আর চোর তাহাজ্জুদ পড়া বুজুর্গকে দেখে ভাবল, বেটা নিশ্চই আমার মতো চোর। সারারাত চুরি করে এখন বাসায় যাচ্ছে।প্রত্যেকের মনে একটা আয়না আছে। সেটাতে সবকিছু নিজের মতো দেখতে চায়।

সাত; আপনারে আপনি চিনে নে:

ধরুন আপনার অজ্ঞাতে আপনার কিডনিটা এক টাউট বেঁচে দিল। দূর হতে আপনাকে দেখিয়ে দরদামও করল। অতঃপর ক্রেতা এসে আপনাকে বলল, ভাইজান, একটু বেশী করে পানি খাইয়েন, কিডনিটা কিনলাম। আপনার নিশ্চই ভাল লাগবে না? তাই আপনি অন্যের অনুপস্থিতিতে তার সমালোচনা করে তার মানসম্মান বিক্রি বা বিকৃত করলে সেটাওতো তার অগোচরে তার কিডনি বেঁচার মতোই হল তাই না? আপনি যদি ধর্মপ্রাণ হন, তবে জেনে রাখুন, সকল ধর্মে গীবত গর্হিত কাজ। শুধু কিছু প্রথা পালনই সাধুতা নয়। আর যদি ধর্মপ্রাণ নাও হন, তবু, ভাবুন তো, অন্যের অজান্তে তার নামে তাবিজ বেঁচা বা তার ধ্বংস কামনা করে আগরবাত্তি জ্বালা কোনোটাই কি এযুগে খুব লজিক্যাল কাজ?

আট; আমি যখন আমিই নই: #misleading #pretending

আমাদের বাগেরহাট মাজার এলাকায় একজন সাধারন মানুষ ছিলেন যার নাম ইরান। আমরা ইরান ভাই বলতাম। তো তিনি চকবাজার হতে নানান রকম আতর, তসবি, জায়নামাজ ও অন্যান্য জিনিস কিনে বাগেরহাটে মাজারের দোকানগুলোতে পাইকারি বিক্রি করতেন। চতুর দোকানদাররা জিনিস বেচার সময় কাষ্টমার আকর্ষন করার জন্য ডাকত, “নিয়ে যান ভাই, ইরানের তসবিহ, ইরানের জায়নামাজ”……. লোকজনও ভাবত তাইতো “ইরানের” তসবিহ…..আসলেওতো ইরানের তসবিহ। ইরানের তসবি ভেবে ব্যপক বিক্রি। এখন বলেন এই দুই নাম্বারিতে ইরান ভাইর দোষটা কোথায়? এইবার বলেন আমার অজ্ঞাতে যদি কেউ আমার নামে তাবিজ বেঁচে বেড়ায় তাহলে আমার কি করার আছে?

নয়; আট আনার কপাল: #roleofdestiny #whatislotted #fate

একদা এক দেশে এক ভিক্ষুক ছিলেন। তিনি রোজ একটা বড় বাজারের মোড়ে ভিক্ষা করার জন্য একটা পথ দিয়ে হেটে হেটে যেতেন। তো একদিন ঈশ্বরের কাছে দেবতারা অনুরোধ করলেন, ওই লোকটাকে ঈশ্বর যেন এক থলে টাকা উপহার দেন। ঈশ্বর বললেন, ভাগ্যের পরিবর্তন শুধুমাত্র ঈশ্বরের দয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়। ব্যক্তিকেও তার জন্য দায়ীত্ব নিতে হয়। তারপরও দেবতারা তাকে পিড়াপিড়ি করায় ঈশ্বর রাজি হলেন। পরদিন ওই ভিক্ষুকের চলাচলের নিয়মিত রাস্তায় ঈশ্বর এক থলে স্বর্ণমুদ্রা ফেলে রাখলেন। যেন সে সেটা যাবার পথে পেয়ে যায়। কিন্তু ওই ভিক্ষুক সারারাস্তা ঠিকঠাক হাটলেও টিক ওই পয়েন্টের কাছে এসে মনে মনে ভাবল, রোজই তো একভাবে ভিক্ষা করি। আজ দেখি তো, চোখ বন্ধ করে অন্ধ সেজে ভিক্ষা করলে কেমন হয়। সে ঠিক ওই স্পটটাই চোখ বন্ধ করে অন্ধ সেজে ভিক্ষা মাঙত মাঙতে পাড় হয়ে গেল। টাকার থলে পড়েই রইল। বঙ্গবাসী যেকোনো যেকোনো ২ লাইন লেখা দেখলেই সাঁই করে সোয়াইপ করে চলে যান। পড়তে তাদের অনীহা। ফলাফল, জব সার্কুলার চোখের সামনে থাকলেও তারা লেখা এড়াতে গিয়ে ওটাকেও এড়িয়ে যান। চাকরী তাদের খোঁজে। তারা চাকরীর খোঁজ পান না।

এক গ্রামে ‘এক বিঘাইত্যা’ নামে সত্যি সত্যিই এক বিঘত উচ্চতার এক ছেলে ছিল।

তো, এক বিঘ্যাইত্যার আবার মোটামুটি ইর্ষনীয় সম্পত্তি, ধনদৌলত ছিল, যা নিয়ে তার প্রতিবেশী ৭ মামার সাথে তার ব্যাপক প্রতিযোগিতা আর শত্রুতা ছিল। এক বিঘাইত্যার মামারা, আর সাত মামীও তাকে সাইজ করা আর সম্পত্তি দখলের জন্য সারাক্ষণ নানা রকম ষড়যন্ত্র করত।

তো, একদিন সাত মামা আর মামী মিলে প্ল্যান করল। রাতের বেলা এক বিঘাইত্যার ঘরে বাইরে হতে হুড়কো এঁটে দিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারবে। কথামতো, রাতে ঠিক ঠিকই সাত মামা আর মামী মিলে এক বিঘাইত্যাকে তার বসত ঘরের মধ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় বাহির হতে তালা মেরে দিয়ে ঘরে আগুন দিয়ে সুন্দর করে ঘরে দিয়ে নাক ডেকে ঘুমাতে লাগল।

ওদিকে এক বিঘাইত্যা আগে হতেই কী করে যেন টের পেয়ে যাওয়ায় সেই রাতে বুদ্ধি করে একটা কোলবালিশ কাঁথার নিচে মুড়ি দিয়ে রেখে বাইরে কাটায়। কপালের বরাতে বেঁচে যায়।

সকাল বেলা উঠে সাত মামা আর মামী এক বিঘাইত্যার পুড়ে ছাঁই হওয়া বাড়ি দেখে আনন্দে আটখানা। যাক, ইঁচড়ে পাঁকা আর ধনী ভাগিনা শেষ। এবার তার সব সম্পত্তি ভাগাভাগি করে নিলেই হল। আনন্দে তারা সাত ভাই মেজবান আয়োজনে গেল।

ওদিকে, এক বিঘাইত্যা সাইজে ছোট হলে কী হবে, বুদ্ধিতে ধানী মরিচ।

সে সকাল বেলায় বসত ঘর পোড়া ছাঁই একটা বস্তায় ভরে বাজারের দিকে গেল। সেদিন খুব জোর বাতাস বইছে। এক বিঘাইত্যা বাজারের এক মাথায় দাড়িয়ে সেই ছাঁইয়ের বস্তার মুখ খুলে দিল সব ছাঁই উড়িয়ে। জোর বাতাসে সেই ছাঁই উড়ে সারা বাজারের দোকানদারদের চোখে গিয়ে ছ্যাড়াব্যাড়া অবস্থা। আর সেই সুযোগে এক বিঘাইত্যা সব দোকানে ঢুকে ক্যাশবাক্স হতে সব টাকা নিয়ে চম্পট। দোকানদারদের জানবারও উপায় নেই, কাজটা কে করল।

পড়ন্ত বেলায় এক বিঘাইত্যা এক হাতে টাকার বস্তা, আর আরেক হাতে করে দুটো ইলিশ মাছ ঝুলাতে ঝুলাতে বাড়ি হাজির। তাকে দেখে তো সাত মামা আর মামীর চোখ ছানাবড়া। সবাই ঢোক গিলে জিজ্ঞেস করল, সে কীভাবে এত টাকা বানালো?

এক বিঘাইত্যা বলে, “মামারা, মামীরা, আমার ঘর পোড়া ছাঁই সব বাজারে নিয়ে গিয়েছিলাম। বাজারে আজকাল ছাঁইয়ের দাম স্বর্ণের চেয়েও বেশি। সব ছাঁই বেচে এত টাকা পেলাম। কিন্তু, তোমরা তো শুধু আমার শোবার ঘরটাই জ্বালিয়ে দিয়েছ। যদি আমার গোয়াল ঘর, গোলাঘর, বৈঠকঘর-সব জ্বালাতে তাহলে আরও ছাঁই পেতাম, আর আরও অনেক টাকায় বেচতে পারতাম।

এই শুনে সাত মামী তক্ষুনী তাদের স্বামীদের ওপর চড়াও হল। তাদেরও ছাঁই বেচে বড়লোক হওয়া চাই। কতকটা নিজেদের নির্বুদ্ধিতা, আর কতকটা বউয়েদের চাপে হতবুদ্ধি হয়ে সাত মামা রাতের বেলায় তাদের বাড়ির সব ঘরে আগুন দিল। আগুনে দাউ দাউ করে যখন ঘর পুড়ছে, এক বিঘাইত্যা তখন উঠানে আরাম করে বসে ইলিশের কাটা চিবোচ্ছে।

সকাল বেলায় সাত মামা বড় বড় বস্তায় করে ঘরপোড়া সব ছাঁই নিয়ে বাজারে রওনা হল। বাজারে গিয়ে তারা যেই না দোকানে দোকানে জিজ্ঞেস করতে লাগল, “ভাই, কালকের চেয়েও দামী আর বেশি ছাঁই আছে। কিনবেন নাকি?”

আর যায় কোথায়, গতকাল সব খোয়ানো দোকানদাররা ধরে নিল, এই বেটারাই গতকাল বাটপারি করে তাদের টাকাপয়সা নিয়ে গেছে। আজ তাদের ছাড়া যাবে না। সারা বাজারের লোকজন মিলে তাদের কীভাবে হাটুরে মারটাই না দিল-সেটা আন্দাজ করে নিন। আর ঘরবাড়ি তো আগুনে গেছেই।

শোনা এই গল্প শেষ।

অনেক মানুষই তার সাময়িক দুঃসময়ে, বিপদে ভাগ্যকে, ভাগ্যবিধাতাকে দোষারোপ করতে শুরু করে। তবে, অনেক সময় দেখা যায়, ওই আপাত দুঃসময়, ওই বিশেষ সমস্যাটিই আখেরে তার জন্য সৌভাগ্যের দ্বারা খুলে দেয়। আর, সেই অস্থিরমতি মানব সন্তানের মন যেন বলতে থাকে,

”ইশ……খোদা, তুমি আরও আগে কেন এই বিপদটা দিলে না?”

অদৃষ্টরে শুধালাম চিরদিন পিছে,

অমোঘ নিষ্ঠূর বলে কে মোরে ঠেলিছে?

সে কহিল, ফিরে দেখ, দেখিলাম আমি,

সম্মুখে ঠেলিছে মোরে পশ্চাতের আমি। -চালক (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

যেভাবেই দেখুন না কেন; আপনি আপনার চিন্তার সন্তান।

আপনি আজ যা, তার জন্য আপনার ভাগ্য দায়ী, সমাজ দায়ী-অনেক কথাই বলতে পারেন। তবে সত্য হল, আপনি যা, তার জন্য দায়ী আপনার চিন্তা।

আপনার চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির ব্যপ্তি ও গুনাগুনই আপনাকে আপনি হিসেবে গড়ে দেয়।

চিন্তাকে বদলাতে না পারলে আপনি যা আছেন-তা ই থেকে যাবেন। চোর যে চোর-সেটা তো তার চোরামি চিন্তার কারনেই।

একজন অফিসারের উদাহরন দিই। অন্য কারো একজনের লেখা হুবহু কপি/পেস্ট করে নিজ দেয়ালে পোস্ট করেছেন। যেহেতু সামান্য আয়াস দিয়ে ‘কালেকটেড’-এই কথাটুকু লেখার কষ্টও করেননি, তাতে ধরে নেয়া যায়, যে,

১. কালেকটেড যে লিখতে হয়-সেটুকু চিন্তাও তার নেই। অথবা,

২. লেখাটিকে কার্যত নিজের লেখা হিসেবে চালাবার খুব স্থুল একটা চেষ্টা।

তো, তার ওই পোস্টের নিচে গিয়ে খুব ভদ্র ও সুন্দরভাবে লিখলাম, যে, লেখাটার মূল লেখকের নামটা উল্লেখ করে দিতে। আরও অন্তত ১০ জন মন্তব্য করেছেন। মাসখানিক আগের পোস্ট।

একজন মন্তব্যকারীরও তিনি উত্তর দেন নাই। নট এ সিঙ্গেল ওয়ান। একটু ঘুরে দেখলাম তার প্রোফাইল। না, তিনি আদতে মন্তব্যের উত্তর দেনই না।

এখন, মন্তব্যের উত্তর না দেয়া অপরাধ? না।

আমার ক্যাচ সেটা না। ক্যাচ হল, এই যে, একজন জুনিয়ার কর্মী (তিনি সাধারনত এতটা এনগেজড থাকবার কথা না অর্থে) মন্তব্যের উত্তর দেবার সময় পান না এক মাসেও। অথবা, উত্তর যে দিতে হয়, সেটাও ভাবেন না বা জানেন না। এই চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি তাকে আজীবন তার এখনকার মানুষটাই বানিয়ে রাখবে।

মানুষটা মানে পদ, পদবী, স্ট্যাটাস না। মানুষ মানে একান্তই নিজের ভেতরে মানুষটা।

#brainchild তুমি মানো আর না মানো, জানো আর না জানো, তোমার সাথে যা কিছু ঘটে, তুমি যা কিছুর সংস্পর্শে আসো, তোমার ভাগ্যে যা লটকে থাকে, যার জন্য তুমি যারপরনাই পেরেশান, উচ্চকিত, তার প্রায় সবটাই তোমার দুই হাতের কামাই। তার প্রায় সবটাই তোমার নিজের কাজের প্রতিফল।

নিজের কোনো দুর্ভাগ্য, হতাশা ও দুঃখের জন্য স্বর্গ ও মর্ত্যের সকল মানব, দানব, দেবতাদের দোষারোপ করে, অভিশাপ দিয়ে ও রোষে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দেবার আগে একবার একটু ছোট করে ভেবে নিও, যে, ওই দুর্ভাগ্য, হতাশা আর দুঃখের পেছনে তোমার দায়টা কোথায়? অধিকাংশ সময়ই তোমার দুর্ভাগ্যবোধ, যার জন্য তুমি কষ্ট পাও, তার মুখোমুখি হলে আগে নিজেকে বলো, You deserve it. আর আপনারাও অন্যের আপাতঃ দুর্দশা দেখেই আর্দ্র হয়ে উঠবেন না।

একজন ধর্মীয় বুজুর্গ (প্রকৃত পরিচয় মনে করতে পারছি না) বলেছিলেন, ”তোমাকে যদি কেউ এসে বলে অমুক আমার একটি চোখ গেলে দিয়েছে, সাথে সাথে তার কথার উপর ভর করে রিএ্যাক্ট করো না। হতে পারে, সে নিজে হয়তো ওই লোকের দুটি চোখই আগে গেলে দিয়েছিল।” প্রোপারলি বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান করলে অনেক সময়ই দেখা যাবে, কথিত বা অভিনয়রত ভিকটিমই আসলে ক্রিমিনাল ছিল আর কথিত ক্রিমিনালই হলে ভিকটিম।

এই সেদিনও এক মহাহারামজাদার হারামিপনার স্বরুপ উন্মোচিত হল, যে শুধু অভিযোগ করত, ভাগ্য তাকে বারবার প্রতারনা করেছে, তার বসেরা তার সাথে অবিচার করেছে। আমরাও তেমনটা মনে করতাম। ফাইনালি আবিস্কার করলাম, সবটাই সে ডিজার্ভ করে।

আমার সহকর্মীদের আমি প্রায়ই একটি কথা বলি, ”আপনারা আমাকে Deluded ও Derailed করতে পারবেন না। এবং, আমি চোখের জলে গলি না।” মজা করে বললেও, কথাটা অনেকখানি সত্য। চোখের জল দেখে গলে যাবার ও আমার সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হবার বিষয়ে আমি খুবই সতর্ক ও কঠোর।

তবে এই কঠোরতা জন্মগত না। ৩ হতে ৪টি ঘটনা হতে শিখে আমি এই কঠোর হবার ব্রত নিয়েছি। ৩ জনই চোখের জল দিয়ে নিজেদের সাধু ও নিপিড়ীত দেখানোর চেষ্টা করেছিল। সে যে সে চোখের জল নয়। একদম মাসুম ও মজলুমের চোখের জলের অভিনয়। আমি কিছুক্ষণের জন্য হলেও প্রভাবিত ও বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। আপনিও হতেন, এতটাই নিখূঁত ছিল সে চোখের জল।

পরবর্তিতে আমি অনেক মূল্য চুকিয়ে উপলব্ধি করেছি, ওই তিনজনের তিনজনই অপরাধী, অভিনেতা এবং ভেকধারী। তাদের ওপর হওয়া অন্যায়ের যোগ্য দাবীদার ছিলেন তারা। সবশেষ আজকে একজনের চোখের জলের ইতিহাস ও গোঁমর ফাঁস হল। অনেক দেরী হল, তবে হল। ব্যস। এই শেষ।

চোখের জলে ভেজার পর্ব শেষ আমার। আর গলব না। জবে রেফার করে নাক ও মাথা কাটা যাবার ইতিহাসগুলোর কথা আর বললাম না।

দশ; নাগরিক নগ্নতা: #knowingthefact

আফসোস। ”আপনার জিপার খোলা”-এটা বললে আমরা বিদ্যুত গতিতে জিপার লাগাই কিন্তু ”আপনার চরিত্রের দরজা খোলা”-বললে আমরা বেহায়ার মতো হাসি। অন্যের মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে আমরা হাসাহাসি করি অথচ নিজের গায়ের দুর্নীতি আর বদমায়েসির গন্ধ অন্যেরা পাচ্ছে তা নিয়ে ভাবি না। আমার বেতন টীমের সবার চেয়ে কম তা নিয়ে কষ্টে ভুগি কিন্তু আমার কর্মযোগ্যতা সবার নিচে সেটা নিয়ে ভাবিত হইনা। বড় অফিসার অথচ কম দামী মোবাইল কিনেছে-এমন দেখলে তাকে সময়ে অসময়ে খোঁচা দিই অথচ আমার পজিশানের তুলনায় আমার ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত নিচু শ্রেনীর-সেটা নিয়ে কোনো চিন্তা নেই।নোয়াখালির লোক আঞ্চলিক ভাষায় কথা বললে তাকে নিয়ে পরিহাস করি কিন্তু নিজে নির্লজ্জ ও নগ্নভাবে তোষামোদী ও তেল মর্দন করছি-সেটা অনুধাবন করতে পারছি না। কেন পারছিনা? এগারো; আপন আপন করিস যারে, সেতো………: ৫০টি বছর সংসার করার পর কোনো এক প্রভাতে আপনি একজন স্ত্রী হিসেবে যদি জানতে পারেন আপনার স্বামীপ্রবর আপনাকে পাবার প্রয়োজনে আপনাকে শাদী করেন নাই, তবে সেই ৫০টি বছর পরে আপনার অনুভুতি কেমন হইবে? কিংবা যদি জানিতে পারেন যে আপনার ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও দক্ষতা আপনার ক্যারিয়ারের উর্দ্ধগমনের জন্য দায়ী নহে। অন্য কাহারো বিনোদন ও অন্যান্য সুবিধা করিয়া দিতে আপনার শনৈ শনৈ উন্নতি ঘটিয়াছে তবে তাহা কেমন লাগিবে?

#scatteredthoughts #combo #স্টাটাসকথন #এলেবেলে #collection #combined #maturity #emotion #hypocrisy  #hypocritenation #misuse #misinterpretation #love #family #ambiguity #destiny #lot #defame #blame #fraud #exploit #illminded #condolence #socialization #death #condolence #prestige #status #class #shame #facebookmania #facebookhype #facebookdestruction #facebooktrend #socialmediadomination #socialmediamanipulation #socialmediadestruction #socialmediahype #socialmediaaholic #socialmediatrial #moralpolicing #transport #etiquette #decency #seat

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *