Skip to content

ইলেকশন? নাকি গণতন্ত্রের ইরেকশন

  • by

রাত ১২ টা বাজে। কাল যেহেতু ছুটি আর আজ মহান লাইলাতুল ইলেকশন, তাই ঘুমানোর তাড়া কম আছে। তার ওপর এলাকার কুকুরগুলো কেন্দ্র পাহারা দেবার জন্য চিৎকার চেচামেচি করে করে তাদের উপস্থিতির জানান দিচ্ছে। ঘুমানোর উপায় নেই।

তায় আবার ঢাকার মানুষ গত ৪৫ দিনের তাতানো উত্যুঙ্গু উত্তেজনা নিয়ে আজ রাতটা কোনোমনে সম্বরন করতে পারে, নাকি না পেরে………………………পতন……….তাই নিয়ে ভাবছিলাম। আর টিভিতে চোখ মুখ বড় করে ইলেকশনের খবরদাতা ও খবর পাঠকের সৃষ্ট কৃত্রিম ইলেকশন উত্তেজনা নিচ্ছিলাম।

টিভি খবর আর টিভি বিনোদন নিয়ে কিছু পুরোনো চিন্তা ঝাড়ার জন্য কীপ্যাড নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। বাংলাদেশে সবকিছুই মৌসুমী। ওয়াজের মৌসুম আছে। মোনাজাতের মৌসুম আছে। ব্রহ্মচারী হবার মৌসুম আছে। কুকুরের রোমান্টিকতারও মৌসুম আছে। মৌসুম আছে গণতন্ত্রের। আন্দোলনেরও। আন্দোলনের মৌসুম আগে ছিল ডিসেম্বর।

এখন অবশ্য মৌসুমটার নাম ‘ইদের পরে’। যাহোক, ঢাকা শহরের কানাচে আনাচে গভীর হাইবারনেশনে থাকা আমাদের সেবাদাতা মহান পীর সাহেবদের ঘুম ভেঙেছে। তারা বিগত ৪৫ দিন আমাদের কলিজা ভাজা ভাজা করে আমাকে সেবা দেবার জন্য তাকে নিযুক্ত করতে কান ভাজা ভাজা, মানে ভোটের ক্যানভাস করেছেন। পরিবেশ ধ্বংসকারী ২৫০০ টন বর্জ্য, অষ্টপ্রহর শব্দদূষণকে ডেইজি আপার মিষ্টি সালাম দিয়ে পরিবেশন করে আমাদের কী সিদ্ধী সেবা তারা দেবেন-তার কিছু নমুনা দেখিয়েও দিয়েছেন।

ইন্সুূরেন্সের দালালরা আপনার কাছে যেমন অনাহুত এসে আপনার মরার পরে আপনার সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া স্বজনদের আরও বাড়তি কিছু পয়সা কী করে পাইয়ে দিয়ে যাবেন-তার উমেদারী করে, আপনার স্বাস্থ্য নিয়ে আপনার চেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখায়। আমাদের হাইবারনেটেড সেবকরা তেমনি লাং ফিসের মতো ভোটের পানি হাওয়া পেয়েই ঘুম ভেঙে আমাদের সেবা দানের টিকিট কিনতে উদগ্রীব হয়ে পড়ে।  একেকজন হবু সেবাদাতা জিতলে যা যা করবেন বলে প্রতিশ্রূতি দিয়েছেন, আর যারা যারা তাতে আপ্লূত হয়েছেন-উভয় গ্রূপ যদি একটু খোলাসা করতেন, যে, ওই সব প্রতিশ্রূত বিষয়গুলোর কোন আইটেমখানা সিটি কর্পোরেশনের এক্তিয়ারের মধ্যে আছে? আরে, আমাদের রোজকার হাগামুতা ক্যামতে স্বাস্থ্যসম্মত আর পরিবেশ সুরক্ষা করে সাফ করবেন-সেটা নিয়ন্ত্রণের একতিয়ারও তো আপনাদের একার না।

তো আপনারা সেবাটা করবেন কী করে? খাল উদ্ধার করবেন? সেটা তো ওয়াসার এক্তিয়ারে। রাস্তা হকারমুক্ত করবেন? সেটা সমাজকল্যান আর স্বরাষ্ট্রতে। মশা মারবেন? ওষুধতো স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় আনবে। যানজট কমাবেন? সেটা সেতু মন্ত্রণালয়ের হাতে। নৌকা বাইচে একজন দোহার মাঝি থাকে। যার কাজ হল মাঝি বা দাড়িদের উত্তেজিত করা। আমাদের ধ্বজভঙ্গ আক্রান্ত রাজনৈতিক চেতনাকে তাই উত্তেজিত করার দায়ীত্ব নিয়েছিল টিভি চ্যানেলগুলো। অবশ্য তারা জোতিষ রাজ লিটন দেওয়ানের বড়ি (আংটি আঁরি) আর রাঙ্গামাটির রাজমহনী সাধক বাবার কামরূপ কামাক্ষার মোক্ষ তেল বেঁচবারও দায়ীত্ব নিয়েছেন।

টিভি আর তার সাম্বাদিকরা বিগত ৪৫ দিন আমাদের কৃত্রিম ইরে(লে)কশন ক্যাম্পেইনের মতো ভায়াগ্রার মাদকে উত্তেজিত করে গেছেন। যারা উত্তেজিত হন নাই, তারাও কনফিউজড-যে, তারা কি উত্তেজিত, নাকি ন্যুজ। তো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষ্যে ঢাকার সেবার কাঙাল বাঙালদের আরেকবার সেবক ও সেবিকা বেছে নিতে বাধ্য করার সুযোগ এসেছে।

সেবক ও সেবিকাদের যোগ্যতা, চেহারা, ভাষা ও টাকার যে বহর গত ৪৫ দিনে দেখলাম, তাতে এই সেবক সেবিকাদের সেবা পেয়ে আগামী ৫ বছর আমরা আবার মৃত্যুসূধা সেবন না করি-সেটাই ভাবছি। মরার দেশে আমি চাই বা না চাই, আমাকে আমার নেতা বাঁছতেই হবে।

আর ২ তারিখ হতে আমাকে উঠতে চলতে ফিরতে ওই মহান সেবক সেবিকাদের সেবায়েত হতেই হবে। লেখক আনিসুল হক সাহেবের এক বন্ধু একবার গ্রাম হতে শহরে এলেন। একদিন বন্ধুকে প্রস্তাব দিলেন, চলো, আমরা পুরোনো বন্ধুরা মিলে একটা ’লীভ টুগেদার‘ (গেট টুগেদার) আয়োজন করি। সেই লীভ টুগেদার হয়তো কখনো আর নাও হয়ে থাকতে পারে।

তবে ইলেকশন বা সেবক সেবিকা মেনে নেবার দিনটি চলেই এলো। রাজনীতিকরা যেমন তেমন। তারা একটু দুষ্টু হবেন, বেহায়া হবেন-সেটাতো রাজনীতি বিজ্ঞানের ড্যাডি অ্যারিস্টটলই বলে গেছেন। আমি আর নতুন করে কেন দুঃখ পাব? তো, তারা তাই যা মনে চায় করুক। কিন্তু আমাদের তথাকথিত আম পাবলিকের কেন ইলেকশনের গরমে ইরেকশন হচ্ছে, জানি না। একেকজনের উত্তেজনা দেখে ভয় হচ্ছে। আম পাবলিক এই উত্তেজনা নিরসন কীভাবে করে। (না, এই আম কথাটা ম্যাংগো হতে আসেনি, এসেছে আমাশা হতে। বাঙালি তো রাজনীতি নিয়ে আমাশাগ্রস্থই।)

সান্ডার তেল ও ’মরো না’ ভাইরাসের মলম:

গুলিস্তানের ভীড়ের মধ্যে আপনি আর কিছু না শুনলেও সান্ডার তেলের রগরগে বর্ননা ঠিকই শুনতে পাবেন। তবে হয়ে থাকতে পারে, আপনি এই মহা ধন্বন্তরি সান্ডার তেল আগে কখনো সচক্ষে দর্শন করতে পারেননি। না হয়ে থাকলে হতাশ হবেন না। গত ডেঙ্গু আইপিএল মৌসুমে শ দুয়েক বঙ্গবাসী পটল তুললেও সান্ডার তেলের নির্মাতারা ডেঙ্গুনাশী সান্ডার তেল বাজারে আনার আগেই ডেঙ্গু মৌসুম শেষ। গোপন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, সান্ডার তেলওলারা এবার আগাম রেডী হচ্ছেন।

টুক করে একদিন ফেসবুকে ছড়ানো হবে-সূত্রাপুরি ‘মরো না’ ভাইরাল হয়েছে। ব্যাস, গোটা শহরটাতে ছুঁচোবাজি শুরু হবে। মন্ত্রীরা বিবৃতি দেবেন, ফেসবুক ডক্টরেটরা টিকটক প্রেসক্রিপশন দেবেন, ইব্রাহিম সাহেব এন্টারকোটিকের বরফের পানি সাজেস্ট করবেন, সিনিক জাগ্রত জনতা আমলীগের দোষ খুঁজবেন, রিজভী সাহেব বক্তব্য ড্রাফট করতে করতে ঘর্মাক্ত হবেন, মুরগী সাদেক খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইবেন, ছক্কা ছয়ফুর রীট করবেন, হিরো আলম ফাঁকে দুই সিটিরই মেয়র হিসেবে নিজেকে ঘোষনা করবেন। এই ফাঁকে দিয়ে গোল দেবে সান্ডার তেল। লাগালেই ’মরো না’ ভাইরাল।

টিভি নিউজে বারবার দেখাচ্ছে, চীন হতে ৩৬১ জন বঙ্গ সন্তানকে আজ রাতে ঢাকায় এনে ১৪ দিন আশকোনা হজ্জ ক্যাম্পে নিবিড় তত্বাবধানে রাখা হবে, যেখানে দর্শনার্থী এলাউড হবার কথা না। তা ভাল কথা। এই কয়েকদিন আগে রোহিঙ্গাদের জন্য যারা নিজ নিজ স্ত্রীকে পর্যন্ত পারলে তাদের কাছে বর্গা দিয়ে তাদের মেয়েদের নতুন করে বিয়ে করে উদ্ধার করেও দিতে প্রস্তুত ছিলেন, ঘরের তক্তপোষ ছেড়ে দিয়ে বার্মায় যুদ্ধ করতে চেয়েছেন,, সেই মহান বাঙালিদের কেহ কেহ নাকি চীন হতে ওই ৩৬১ জন জাত ভাইকে (আমাদেরই ভাই বোন) দেশে আনবার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন। (হ্যাতেরা মরুক না ওয়ানো। আমগো কিঁয়া)।

তবে আগামী দিন তিনেক পরে আশকোনার হজ্জ ক্যাম্পে একটি অভাবনীয় দৃশ্য দেখবেন। বাবা-মায়েরা, পাড়ার চাচীরা, এই সান্ডার তেল, ঘইষ্যাখালির গরম পীর সাহেবের পড়া সরিষার তেল, মন্টূ কবিরাজের ধন্বত্বরি গাছের রস নিয়ে হাজির। এক চামচ কোৎ করে খাইয়ে দিলেই মরো না কর্পূরের মতো উবে যাবে।

কে যেন ফেসবুকে পরামর্শ দিয়েছে, হজ্জ ক্যাম্পে আর্মি বসাতে। তবে তা তো আর হবার নয়। ফলত, আগামী সপ্তাহে দেখবেন, নভোচারীর পোষাক পরা ’আইনশৃঙ্খলাবাহিনী’ দর্শনার্থীদের থেকে নববর্ষের সালামী নিয়ে তাদের সান্ডার তেলসহ ভিতরে যেতে দিচ্ছেন। আর মরো না পেত্নিকে তাড়াতে এসে ওনারা চমৎকার করে নিজেদের সাথে করোনা (নাকি ধরো না)কে পুরো ঢাকায় বিলি বন্টন করতে নিয়ে যাচ্ছেন। আফটার অল, এটি একটি ছ্যাচড়া কমিউনিস্টদের দেশ। যা খাব, সবাই মিলেই না খাব।

স্ক্রলে বৃটেনের তালাকপ্রাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষনা চোখে পড়ল। ইউরোপের নয়া নোটঙ্কি (ট্রাম্পের খালাতো দাদা) বরিসের দেশ গতকাল ইউরোপের কাছ থেকে অবশেষে তালাক পেয়েছে। আগে জানতাম শুধু চরিত্রহীন বা অতৃপ্ত বেটা বেটিরা তালাক নেয়-দেয়। এবারই দেখলাম একটি দেশও তালাক চায়। তা, ইউরোপ স্বামীর সাথে জোটবদ্ধ দাম্পত্য যদি বৃটেন খারাপ মনে করে, তাহলে তারাই আবার কমনওয়েলথ নামক রক্ষিতা কেন মেইনটেইন করবে-জানি না।

সাংবাদিক সাহেব এক ফাঁকে পেঁয়াজের একটা খবর দিলেন। নির্বাচনের উত্তেজনার ভিতরে পেঁয়াজ এখনো যায়গা করে নিতে পারছে দেখে ভাল লাগল। পেঁয়াজের দাম ও জিনিসের দাম বাড়ানোর তরিকাটা বলে শেষ করি?

বাজারে গরুর মোলাম গোসত ছিল ৩৫০ টাকা। সেই ১৯৫৩ সালে না, মোটে এই ২০১৭ সালের দিকে। ২০১৮ তে মাড়োয়ারীরা ঠিক করল, এবার আমরা গরুর গোসতে বাম্পার করব। তো সিস্টেম করে পরের দিন হতে শুরু করল। এক লাফে কেজি ৩৫১ টাকা করল। বাড়ালো এক টাকা। ব্যাস, আর কিছু করা লাগে না। সাম্বাদিক ও ফেসবুক জাগ্রত জনতা মুহূর্তে তাকে ভাইরাস করে ফেলল।

গরুর গোস নিয়ে পয়দা হল কৃত্রিম হাইপ। এক টাকা মূল্য বৃদ্ধি ফাঁকে দিয়ে দাড়ালো ৬৮০ টাকায়। মন্ত্রী, নেতা, পাতি, হাতি-সবাইমিলে বিস্তর সভা সেমিনার, চোখ রাঙানী হল। বাজার হতে মোটামুটি শ তিনেক কোটি টাকা দুইয়ে নেয়া গেল। অতঃপর গরুর গোসের দাম নেমে ৫৭০ টাকা করল কসাইরা।

তারপর একটা সাংবাদিক সম্মেলন করে হিসেব নিকেশ করে দেখিয়ে দিল, নাহ, এই দেখেন, দাম কমালাম তো অনেকটা। এর কম আর দেয়া যায় না। কারন, ট্রাম্প ইরান আক্রমণ করছে। ব্যাস, ২০১৭র গরু ৩৫০ হতে মাত্র তিন মাসে ৫৬০ টাকা স্ট্যান্ডার্ড হয়ে গেল। হে হে হে। বিশ্বাস হয় না? পেঁয়াজের দাম কিন্তু এখনো ১৫০ টাকা। নতুন পেঁয়াজ কিন্তু এখনো আসতাছে আর আসতাছে। আসতাছে আর আসতাছে। আপনি যদি ভেবে থাকেন, পেঁয়াজ আবার সেই শায়েস্তা খাঁর যুগের মতো ৩৫ টাকা কেজেতে ফিরে যাবে, তাহলে আপনি মুড়ি খান। ওটা আর ৮০ টাকার নিচে দেয়া হবে না। ওটাই এবারের টার্গেট।

যেমন মসুর ডাল। ৫৮ টাকা হতে ৯০ তে গেছে। সয়াবিন ৫০/৬০ হতে ৯০ করে নেয়া হয়েছে। মোটা চাল ২৫ টাকা হতে প্রথমে ৮০ করে তারপর আস্তে আস্তে ৫৬ তে ঠেকিয়ে ওটাই স্টান্ডার্ড করে দিয়েছে। সিস্টেম।

একা সরকারকে গাল দিতে নেমে পড়বেন না। আপনার বাবা, চাচা, ভাই, আপনি নিজে কি সিন্ডিকেটের অংশ না? লেখা শেষ মনে করেছিলাম। টিভির রিমোট টিপে বন্ধ করতে যাব, এমন সময়, দুপুরে পেপারে পড়া খবরটার কথা মনে পড়ল। সেটাতেই তবে শেষ করি। প্রাচ্যের অক্সেফোর্ডের ৬৭ জন বীর সেনানীকে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, র‌্যাগ, ভর্তি জালিয়াতির দায়ে বহিষ্কার করা হয়ে গেল। তা দেশের সবচেয়ে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গেলে একটু মতিভ্রম হতেই পারে। আর ১৩ টাকার দুপুরের খাবার খেয়ে ধুঁকতে থাকা আমাদের মতো বিসিএস ক্যাডার হতে আসা ছাত্ররা ভর্তি জালিয়াতি করবে না তো কী করবে? কসমিক কণা নিয়ে পিএইচডি করে নোবেল পাবে? গণরুমে একরাত থেকে এসে উত্তরটা দিয়েন।

তবে সবাই তো এক না। কেউ কেউ এখান থেকে বিসিএস হয়। কেউ গুগুলে যায়। আর কেউ কেউ দেশোদ্ধার, একটি বড় অংশ খোদার সম্মান উদ্ধার, কেউ কেউ সাম্যবাদ রক্ষা আর কেউ আত্মোদ্ধারে নামে। এই নব্য ভ্যানগার্ডদের একটি অংশ এই সেদিনই শাহবাগে উদ্যত বন্দুক (ওই ছোট পিস্তল আরকি) হাতের আদম ব্যাপারীকে আচ্ছামতো পেঁদিয়েছে। হারামজাদার এতবড় সাহস, সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার আন্দোলকদের সে বন্দুক দেখায়? একদল আবার ব্যাটার বউয়ের পেট ক’মাসের পোয়াতি-তা নিয়ে দেড় বছর ব্যাপী এক পিএইচডির থিসিস প্রকাশ করেছে।

দেখে শুনে মনে হতে পারে, আজকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র কাজ হল আন্দোলন। যেমন লাইব্রেরীর কাজ হল বিসিএস প্রসব করা। রেগিং নিয়ে ইদানিং কথা শোনানোও একটি ফ্যাশন। মনে হতে পারে বিষয়টা নতুন।

তা দাদারা গত ৩০ বছর ধরে তো রেগিং নিয়ে সাহিত্য, সিনেমা, নাটকে কত কত আবেগি নির্মান দেখতাম। সিনেমাতে র‌্যাগ ডে’র কত রগরগে দৃশ্য থাকত। তখন কি রেগিং হালাল ছিল? মুশকীল হল, লেখাটা এতক্ষণ পাবলিকের মোটামুটি ভাল লাগলেও, এই মাত্র, এই মাত্র, এই প্যারাটা পড়তেই একদল হেটার্স সৃষ্টি হল। এত্তবড় সাহস, ঢাবিকে নিয়ে কটুক্তি! প্রথমেই মন্তব্য করা হবে,

ওই ব্যাটা! তুই কি সাত ঘাটের (ওই আরকি, সাত কলেজ পড়ুন) মরা? মানে ছাত্র?

না না দাদারা, আমিও একজন সাবেক ঢাবিয়ান। (ঢাবিয়ানটা কী জিনিস, তা নিজেও জানি না।) আপনার যদি সন্দেহ হয়, তাহলে আপনি আগে বলুন, মহসীন হলের কোণায় যে ঘুঁইটি চাপা গাছটা আছে, সেটা কি হলুদ চাঁপার, নাকি ম্যাজেন্টা?

মনে করতে থাকেন।

#election #politics #DU #pricehike #coronavirus #covid19

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *