পেশাজীবি জগতের স্বাভাবিক নিয়মেই, প্রায়ই অনেক মানুষ চাকরি পেতে বিভিন্নমুখী সহায়তা চান। আন্তরিকভাবে সহায়তা করতেও চাই। তাদেরকে আমার কাজের ধরনটি বুঝিয়েও বলি। কানেকটেড থাকতে বলি। কিন্তু যখন কোনো একটা ওপেনিং এর জন্য লোক খুঁজি, তখন আর কাউকে পাই না। মানুষও চাকরি পায় না। আবার আমরা এমপ্লয়াররা উপযুক্ত লোক সময়মতো খুঁজে পাই না। এ বড় ধাঁ ধাঁ। একটি উপযুক্ত চাকরি খুঁজে হয়রান হতে হয়নি-এমন লোক খুব বিরল। আবার, শুনতে অদ্ভুৎ শুনালেও, চাকরি পায়ে পায়ে ঘোরে, এমন মানুষও দেখি। যারা তিন মাস অন্তর অন্তর চাকরি বদল করেন। অনেক সময় ভুলভাবে খোঁজাখুঁজির জন্য চাকরি খোঁজাই সার হয়, জলে যায় সব উদ্যোগ।
কীভাবে কার্যকরভাবে খুঁজবেন চাকরি, সেটা আজ একটু নতুন করে সংক্ষেপে বলি: –
১.
প্রথমেই খুব পরিকল্পিতভাবে ও নিবিড় বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে নিজের ডিরেকশন নির্ধারন করুন এবং তার মাধ্যমে নিজের কাঙ্খিত ও যথাযথ সেক্টর ঠিক করুন। অর্থাৎ, আপনি সরকারী নাকি বেসরকারী চাকরি করবেন- তা নির্ধারনসহ, বেসরকারী হলে আবার, RMG নাকি FMCG নাকি Telecom অথবা Service, কিংবা অন্য কোনো সাব-সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চান-সেটি ঠিক করুন। [https://www.facebook.com/walidur.rahman1/posts/3976758872382090] সেই সাথে আপনার প্রত্যাশিত বা প্রযোজ্য প্রফেশনাল ক্যাটেগরি, অর্থাৎ আপনি HR/Finance/Marketing/Sales/Operations এসবের মধ্যে কোনটিকে নিজের পেশা হিসেবে নিতে চান-সেটি নির্ধারন করুন। এই সিদ্ধান্ত গ্রহনের সময় আপনি কেবলমাত্র আপনার ক্যারিয়ারকে ফোকাসে রাখবেন। ক্যারিয়ার বেঁছে নেবার সবগুলো বিবেচ্যকে সামনে রাখবেন। সেই সাথে আপনার প্রত্যাশিত স্টাটাস/লেয়ার (আপনি ফ্রেশার কিনা, নাকি বিগিনার, মিড ম্যানেজমেন্ট, টপ ম্যানেজমেন্ট; আপনার টার্গেটেড স্যালারী লেভেল ইত্যাদি) ঠিক করুন। সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট লক্ষ্য ঠিক করুন, বাস্তবভিত্তিক লক্ষ্য ঠিক করুন। লক্ষ্য নির্ধারনে সবগুলো বিবেচ্য দিক বিশ্লেষণ করুন, দরকারে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিন।
২. আধুনিক, যুগোপযোগী ও নির্দিষ্ট পজিশনের জন্য মানানসই আলাদা আলাদা রেজ্যুমে বানান। লাল, নীল, সাদা অথবা দেশী বা পরদেশী স্টাইল-বলব না। রেজ্যুমে বানাবেন এমনভাবে, যেন, সেটা আপনার সবথেকে দামী ও আকর্ষক বিক্রয়যোগ্য যোগ্যতাগুলোর সেরা বিজ্ঞাপন হয়। যেটা এক নজর দেখেই একজন নিয়োগদাতা আপনার চেহারা দর্শন না করেও আপনাকে দিয়ে তার কী বেনেফিট হবে-তা নিয়ে আশ্বস্ত বোধ করেন। কমপক্ষে মুগ্ধ হন। সিভি ফাইলের নাম বুদ্ধিমত্তার সাথে ঠিক করুন। আমি হলে করতাম এমন-Walidur Rahman_GM_HR.A.C_15 years_FMCG. আমার নিজের মতবাদ অনুযায়ী, একটি সফল চাকরির ডাক পাবার পেছনে ২৫% ফ্যক্টর হল রেজ্যুমে।
৩. নিজের গুগল ড্রাইভে, ফেসবুকে কিংবা ক্লাউডে একটি রেজ্যুমে পিডিএফে লোড করে রাখুন। নিজের মোবাইলে সবসময় একটি রেজ্যুমে রাখুন। মোবাইলে ও পিসি/ল্যাপটপে সিম্পলনোট অ্যাপ ব্যবহার করুন। অফিসের পিসি বা ল্যাপটপে বসে অফিস আওয়ারে চাকরি খোঁজা ও চাকরির আবেদন-পেশাগত নৈতিকতা ও বুদ্ধিমত্তা বিরোধী।
৪. আর নিজে নিশ্চিত হয়ে নিন, আপনি চাকরি পাবার মৌলিকতম কমোন যোগ্যতাগুলো নিয়ে তৈরী কিনা। যেমন:- একাডেমিক নো-হাউ, প্রফেশনাল নলেজ ও স্কীল, বিজনেস অ্যাকিউমেন, ইংরেজি জ্ঞান, শার্পনেস, স্মার্ট প্রেজেন্টেশন, ইন্টারভিউ স্কীল, টেক স্যাভিনেস, সফট স্কীল, জেনারেল থিংকিং এবিলিটি ইত্যাদি।
৫. যতগুলো স্বনামধন্য কোম্পানীকে আপনার যোগ্যতার জন্য উপযুক্ত মনে হয়, তাদের ওয়েবসাইটের ক্যারিয়ার সেকশনে গিয়ে আপনার একটি প্রোফাইল বানিয়ে রাখুন আর নিয়মিত আপডেট করুন। নিয়মিত আপডেট করলে আপনি স্ক্রিনিং অ্যালগরিদম ও ফিল্টারিংয়েও প্রাধিকার পাবেন। যাবতীয় অনলাইন কাজের লগ ইন আইডি ও পাসওয়ার্ড কোথাও লিখে রাখুন। ওইসব প্রতিষ্ঠানের বড় বড় কর্পোরেট পারসনদের ফেসবুক ও লিংকডইনে ফলো করুন। তাদের সাথে অন ও অফলাইনে ইনটারেক্ট করবার চেষ্টা করুন। প্রতিষ্ঠান ও তার কর্মী-উভয়কে খুঁজে নিন ফেসবুক ও লিংকডইন পেজ হতে। বিভিন্ন টারগেট প্রতিষ্ঠানে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ, আপনার ভৌগলিক এলাকার কেউ, আগের অফিসের সহকর্মী কেউ আছে কিনা-খোঁজ নিয়ে এপ্রোচ করুন।
৬. কখনো কখনো একটা ডেসপারেট ব্লাইন্ড গেম খেলে দেখতে পারেন। সেটা হল, টার্গেট কোম্পানীর এইচ.আর অথবা টপ পারসনকে সরাসরি (কোনো সার্কুলার থাকুক বা না থাকুক) মেইলে এপ্রোচ করতে পারেন। কাজটা রিস্কি যদিও এবং জেনারেল প্রেসক্রিপশন হিসেবে পালনীয় নয়। এমনকি, টার্গেট কোম্পানীর এইচআর হেডদের সাথে ডেলিবারেটলী যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক তৈরী করুন। তাদের সোশ্যাল মিডিয়া একটিভিটিজ এ রেসপন্স করুন। এটি বিভিন্ন টারগেট করপোরেট পারসন, বিশেষত থার্ড পার্টি হেড হান্টারদের কর্মীদের সাথে অবশ্যই করুন।
৭. ফেসবুকে বেশ কিছু দারুন জব হান্টিং পেজ/গ্রূপ আছে। ওগুলোতে মেম্বার হোন। প্রতিদিন অন্তত একবার চেক করুন। কিছু কিছু ব্যক্তিও জব লিংকিংয়ের কাজ করেন। ওনাদের সাথে পরিচীত ও ঘনিষ্ঠ হোন। ওই পেজগুলোর অ্যাডমীনদের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয় রাখার চেষ্টা করুন। শুধু জব খোঁজা নয়, মাঝে মাঝে নিজেও ওইসব পেইজে জব পোস্ট শেয়ার করুন। কী ধরনের জব বিভিন্ন মাধ্যমে পোস্ট হচ্ছে-সেগুলোর ট্রেন্ড এনালিসিস করবার চেষ্টা করুন।
৮. জব পোর্টালগুলোর সবগুলোতে তো প্রোফাইল বানানো সম্ভব নয়। দরকারও নয়। তাই বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে রেটিং জেনে সবথেকে কার্যকরী স্থানগুলোতে নিজের প্রোফাইল বানান ও আপডেটেড রাখুন। প্রতি মাসে অন্তত সামান্য হলেও আপডেট যেন থাকে। তাতে আপনার হিট রেট বাড়বে। সবগুলো পোর্টালে যেন তথ্যগত মিল থাকে। দেশি ও বিদেশী উভয় পোর্টালেই ঢুঁ মারবেন। নোকরি ডট কম ও গ্লাসডোর ডটকম এর বেশ সুনাম শোনা যায়। প্রথাগত পোর্টালের ভরসায় বসে থাকবেন না। কোন ইন্ডাস্ট্রি বা সেক্টরে কোন পোর্টাল বা থার্ড পার্টি বেশি সফল ও একসেস বেশি-সেটি খোঁজ রাখুন। (এই লিংকগুলো অন্য সুহৃদদের লেখা হতে সংগৃহিত। এখনও একটিভ কিনা জেনে নি।):
দেশী জব পোর্টাল:
www.bdjobs.com, http://thousand.careers, www.azadijobs.com, www.femalejobs.com.bd, www.nayadigantajobs.com, www.yellowjobs.com.bd, www.everjobs.com.bd, www.jobsa1.com, www.jobsbd.com, www.chakuri.net, www.keenlayjobs.com, www.jobsinbd.com, www.chakri.com, www.jobstunes.com, www.alokitojobs.com, www.bdjobstoday.com, www.ufixmebd.com, www.bd-career.com, www.jobsbangladesh.com, www.bikroy.com, www.serajobs.com, বিদেশি জব পোর্টাল-www.naukri.com, www.careerbuilder.com, www.indeed.com, www.monster.com, www.roberthalf.com, www.job.com, www.jobdiagnosis.com, www.beyond.com, www.ziprecruiter.com, www.theladders.com, www.glassdoor.com, www.us.jobs.com, www.simplyhired.com, www.gulftalent.com, www.bayt.com, www.expatriates.com,ফেসবুক পেজ/গ্রূপ-Vacancy announcement in BD, Vacancy announcement of Bangladesh, Vacancy Announcement for Apparel Sector BD, Job at MNC & Others in BD, BDHUNT- Recruitment Solution Partner, Job Circular ( চাকরির খবর ), Job Circular – নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রতিদিনের চাকরির খবর, CAREER @ CTG, Job information – জব ইনফর্মেশন, চাকরি খুঁজব না চাকরি দেব, চাকরির খবর।
৯. বিভিন্ন জনের কাছে এলোমেলোভাবে না ঘুরে সুনির্দিষ্ট কিছু কর্পোরেট পারসনকে টার্গেট করুন। তাদের সাথে জব নিয়ে নিয়মিত লিংকড থাকুন। যাই করুন, প্রফেশনালী এপ্রোচ করবেন। তাদের গুড বুকে নিজেকে ঢোকান, তাদের অন ও অফলাইন কাজে রেসপন্স করুন। সামাজিক বা পেশাগত উপলক্ষ্যে তাদের সাথে ইনটার্যাক্ট করুন-অন ও অফলাইনে। গিফট কিংবা একটি চমৎকার কমেন্টও কানেকশন তৈরীতে, কাছে যেতে সাহায্য করে। সবসময় যে শুধু বড় বড় পজিশনের মানুষেরাই আপনার টারগেট হতে হবে-তা নয়। পোটেনশিয়াল দেখুন। জুনিয়র মানুষেরাও জব লিংকিং জগতের খুব ভাল কানেকশন হতে পারেন। অকৃতজ্ঞ-এই বদনামটি যেন আপনার সম্পর্কে কোনো জব লিংকার বা আপনার যেকোনো হবু বা অতীত প্যাট্রোনাইজার না করতে পারেন-সেভাবে চলবেন।
১০. বিভিন্ন প্রফেশনাল গ্রূপ/পেজে নিয়মিত থাকুন, লিখুন, কনট্রিবিউট করুন, পার্টিসিপেট করুন, নিজের পরিচীতি বাড়ান, মন্তব্য দিন, মতামত দিন। সেখানকার জব পোস্টগুলো ফলো করুন।
১১. অভিজ্ঞ ও বিজ্ঞ প্রফেশনালদের কাছে নিয়মিত মতামত নিন। একটি ইন্টারভিউ দিয়ে এলে সেখানকার এইচআরের নম্বর নিন। তাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। ইন্টারভিউ দিয়ে এসে একটি থ্যাংকিং মেইল দিন।
১২. থার্ড পার্টি হেড হান্টিং ফার্ম এখন খুব কাজে দেয়। ওদের সাথে যোগাযোগ করে নিজের প্রোফাইল বানান কিংবা সিভি দিয়ে রাখুন। নিয়মিত যোগাযোগ করুন। কোন ইন্ডাস্ট্রি বা সেক্টরে কোন পোর্টাল বা থার্ড পার্টি বেশি সফল ও একসেস বেশি-সেটি খোঁজ রাখুন।
১৩. লিংকডইনে নিয়মিত হোন। প্রফেশনাল একটি প্রোফাইল বানান-যেখানে আপনার সমস্ত রিকয়ার্ড তথ্য পূর্ণাঙ্গরূপে দেয়া থাকবে। কী ওয়ার্ড ব্যবহারের চেষ্টা করুন। লিংকডইনে ওপেন ফর অপরচুনিটি ও জব নোটিফিকেশন অন করে দিন। আপডেট করুন নিয়মিত। তাহলে এমপ্লয়ারদের নজরে পড়বেন। কানেকশন বাড়ান। ওখানে উন্মুক্তভাবে প্রচুর অফার আসে। নিজের অনলাইন প্রফেশনাল কাজ ও সৃষ্টিতে প্রযোজ্য ও পপুলার হ্যাসট্যাগ ব্যবহার করুন। নজরে থাকবেন বেশি। মাঝে মধ্যে নিজের যোগ্যতা ও চাকরির চাহিদা সংক্ষেপে লিখে নিজের ফেসবুক ওয়ালে কিংবা লিংকডইনে পোস্ট দিতে পারেন। আপনার প্রোফাইল যারা ভিউ করছে, তাদের নক করুন। তাদের কাজে রেসপন্স করুন। মাঝে মধ্যে টারগেট পারসনদেরকে নিজের বিভিন্ন লেখায়, পোস্টে মেনশন করুন। যেকোনো টারগেট প্রতিষ্ঠানে এপ্রোচ করলে সেখানকার কর্মীদের খুঁজে বের করে এপ্রোচ করুন। তাদের সহায়তা নিন। হিট রেট বাড়বে।
১৪. কিছু কিছু বিশেষায়িত পত্রিকাসহ দৈনিক পত্রিকাতে এখনো কিছু কিছু সার্কুলার হয়। সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিন বা দু’দিন ওগুলো দেখুন। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদন করুন। কখনো অন্যের কাছে থাকা কোনো পত্রিকাতে কিছু দেখলে নিজ মোবাইলে চট করে একটা ফটো তুলে নিন। পরে সময়মতো আবেদন করবেন।
১৫. অবশ্যই সার্কুলারের প্রতিটি খুঁটিনাটি মন দিয়ে পড়বেন এবং তা মেনে আবেদন করবেন। নির্দেশনা না মেনে এলোমেলো বা ভাগ্য পরীক্ষামূলক আবেদন করবেন না। কোনো তথ্য অস্পষ্ট মনে হলে সেখানকার এইচ.আর কর্মী অথবা বিজ্ঞাপন দাতার হতে নিশ্চিত হয়ে নেবেন।
১৬. কখনোই আবেদন করতে কভার মেইল লিখতে এবং মেইলের সাবজেক্ট লাইনে কাঙ্খিত পজিশন, বিভাগ লিখতে ভুলবেন না। কভার লেটার যদি দিতে বলে, অবশ্যই দেবেন, সাথে কভার মেইলও দেবেন। সার্কুলারে ওই নিয়ে কিছু বলা না থাকলে শুধু কভার মেইল লিখবেন।
১৭. কখনো কোনো মানুষের সাথে চাকরি বিষয়ক কোনো কাজে দেখা করতে গেলে একটি রেজ্যুমে সাথে নিয়ে যাবেন এবং সেখানে তাৎক্ষণিক ইন্টারভিউ দেবার মতো প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন। বাসাতেও কয়েক কপি রাখবেন।
১৮. নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই, জুনিয়র কিন্তু প্রতিষ্ঠিত প্রফেশনাল কিংবা আগের অফিসের কলিগদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এইচআর প্রফেশনালের সাথে লিংকডআপ হোন। অন্তত এমন ২০ জন লবি সৃষ্টি করুন, যারা আপনার হয়ে বিভিন্ন স্থানে অন্তত চেষ্টা করবেন।
১৯. অযথা ফেসবুকিং এ সময় না দিয়ে বাসে, লঞ্চে, ট্রেনে যাতায়াত কালে সাইটগুলো দেখুন, ফেবু পোর্টালগুলো দেখুন। তাৎক্ষনিক কিছু করতে যেহেতু পারবেন না, তাই পোস্টগুলো সেভ করে রাখুন। পরে আবেদন করুন।
২০. একবারেই মগডালে যাবার চাকরির জন্য বসে না থেকে ছোট কোনো সুযোগ পেলেও শুরু করুন। জীবনের প্রথম চাকরিতে বেতন, পজিশন, সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে বেশি চুজি হতে যাবেন না। যতদিন চাকরি করবেন, স্কীল মাইগ্রেশন ও ট্রান্সফরমেশন বিষয়টি মনে রাখবেন। হুবহু আগের চাকরির মতো চাকরি পাচ্ছি না-এটা বোকাদের কাজ।
২১. মেইল ও এস.এম.এসে নিয়মিত থাকুন। হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, টেলিগ্রাম, মেইল, জুম, গুগলমীট ও মেসেঞ্জার ব্যবহারে অভ্যস্ত ও দক্ষ হোন। প্রিন্ট কপি রেজ্যুমে আজকাল খুব একটা চাওয়াও হয় না, জমা পড়া রেজ্যুমে খুব একটা পাত্তাও পায় না।
২২. শুধু দেশেই না, বিদেশে চাকরিরও চেষ্টা করুন। চাকরি না পাওয়া তক চাকরি না ছাড়ুন-সেটা যেমন অবস্থাতেই থেকে থাকুন। চাকরির ১০০০ তম দিন শেষে নতুন চাকরিতে যাওয়াটা জেনারেল নর্ম। আপনি যদি স্বর্গেও চাকরি করেন, স্বর্গীয় সুখেও থেকে থাকেন, ১০০১ তম দিনে নতুন ও আপডেটেড পজিশনে নতুন চাকরিতে যাবার চেষ্টা করুন। ৭৫০ তম দিনে চেষ্টা শুরু করুন। যেন, ১০০১ তম দিনে নতুন প্রতিষ্ঠানে থাকতে পারেন।
২৩. চাকরি যেকোনো দিন ছাড়তে হতে পারে, বা চলে যেতে পারে-সেই চিন্তা মাথায় রাখুন। চাকরি হঠাৎ চলে গেলে যেন ৬ মাস চলতে পারেন-ততটা অর্থ সেভ না হওয়া তক যাবতীয় বিলাস বা সখ বা সুখ বন্ধ থাকবে। ৬ মাসের স্ট্যান্ডার্ড মান্থলী কস্ট এর সঞ্চয় হয়ে গেলে সখ পূরণ করতে পারেন। ১২ মাসের সঞ্চয় হয়ে গেলে হাত খুলতে পারেন। প্রতি বছরের আয় হতে নিজের যোগ্যতা বাড়াবার মিশনে একটা বাজেট রাখুন ও কাজে লাগান।তবু যদি হঠাৎ চাকরি চলে যায়, প্রথম দিন হতে পরের ৩ মাস, আগের চাকরি হতে বেশি বেতনে নতুন চাকরি খুঁজুন। না পাওয়া তক জমানো অর্থে চলুন। আগের প্রতিষ্ঠান হতে নতুন প্রতিষ্ঠানে যাবার সময়, এমনিতে কমপক্ষে ৩০% রেইজ হল স্ট্যান্ডার্ড। ৩ মাস চলে গেলেও যদি দুঃখজনকভাবে না হয়, তাহলে ৪ হতে ৬ষ্ঠ মাস তক আগের সমান বেতনে জয়েন করুন। ৬ষ্ঠ মাসের শেষেও যদি বেকার থাকেন, তাহলে ৭ম হতে ৯ম মাস ২০ হতে ২৫% কনসেশনে বা স্যালারী কম্প্রোমাইজ করে জয়েন করার জন্য প্রস্তুত থাকুন।১০ মাসের শুরু হতে যেকোনো সারভাইভাল বেতন ও পজিশনে জয়েন করে ফেলুন। পজিশনের ক্ষেত্রে, আপনার পজিশন কখনোই ডাউন করে না যাবার চেষ্টা করুন। নতুন প্রতিষ্ঠান ও বর্তমান প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ভ্যালু যদি আকাশ ও পাতালের পার্থক্য না হয়, তাহলে পজিশন ডিক্লাইন করে যাবেন না। ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়বেন।
২৪. ওয়ার্কশপ ও সেমিনারগুলোতে যান। মোবাইল না গুতিয়ে সময়টা কাজে লাগান। পাবলিক রিলেশন বাড়ান। প্রতি মাসে নতুন কিছু কানেকশন তৈরী করুন। তাদের কাজে লাগান। বৃটিশ আমলে মানুষ শ্বশান ঘাটে দাড়িয়ে থাকত। যখুনি কোনো জাকজমকপূর্ন শেষকৃত্যের দল আসত, খোঁজ নিত, কোন অফিসের কোন কর্মীর লাশ। পরের দিনই সেখানে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আবেদন পাঠাত।
২৫. জব ফেয়ারগুলোতে যান। রেজ্যুমে ড্রপ করুন। অনেক সময়ই স্পট ইন্টারভিউ হয়। সে কারণে আপনি একবারে প্রস্তুত হয়েই যাবেন। এই সবকিছু যদি আপনি নিয়ম করে পালন করেন, নিঃসন্দেহে আপনার সুযোগের সংখ্যা বাড়বে। সবচেয়ে বড় কথা হল, আপনি চাকরিকে যেমন খুঁজবেন, চাকরিও যেন আপনাকে খোঁজে।
#jobhunting #jobsearching #candidature #application #joblinking #howtoconnect #networking