Skip to content

ক. প্রচুর আবেদন করেও ইন্টারভিউ কল কেন পান না? ইন্টারভিউতে ডাক পাবার চান্স বাড়াতে কী করতে পারেন? খ. প্রচুর ইন্টারভিউ দিয়েও কেন চাকরিটা হচ্ছে না? বারবার কেন আপনি ব্যর্থ হচ্ছেন? গ. জব সার্কুলার দেখে কীভাবে এপ্রোচ বা আবেদন করবেন এবং, কীভাবে বা কী কী কাজ করবেন না?

  • by

ক. প্রচুর আবেদন করেও ইন্টারভিউ কল কেন পান না? ইন্টারভিউতে ডাক পাবার চান্স বাড়াতে কী করতে পারেন? ইন্টারভিউ ডাক পেতে চাইলে যা করবেন। (ক্যারিয়ার কথন-বাংলার প্রকাশন-বইমেলা ২০১৯)

প্রায়ই চাকরিপ্রার্থীরা অনুযোগ করেন, তারা সবরকম চেষ্টা স্বত্বেও ইন্টারভিউতে ডাক পান না। ইন্টারভিউতে না যেতে পেলে তারা যোগ্যতার প্রমান দেবেনই বা কিভাবে?

চাকরিপ্রার্থী হিসেবে আপনার, আমার-সবার একটা কমোন দুর্ভাগ্য কী জানেন?

আপনি যত বড় বীর আলেকজান্ডার, জ্ঞানের গন্ডার অথবা পন্ডিত জওহরলালই হোন না কেন, যেকোনো চাকরির ওপেনিংয়ের বিপরীতে আপনি এপ্রোচ (এপ্লাই) করছেন হয় সরাসরি মেইলে। অথবা তাদের দেয়া ATS চ্যানেলে।

যেভাবেই এপ্রোচ করুন না কেন, আপনাকে (মানে আপনার রেজুমে/প্রোফাইলকে) সবার আগে এটেন্ড করবেন একজন জুনিয়র HR অফিসার। খুব ব্যতিক্রম না হলে।

তো, এই ভদ্রলোক বা ভদ্রমহিলা প্রোফাইল স্ক্রিনিংয়ে খুব স্বাভাবিকভাবেই দক্ষ, ইফিশিয়েন্ট ও প্রাজ্ঞ নন। এমনকি সিংহভাগ ক্ষেত্রে তিনি সামান্য ব্রিফডও নন।

আর তার সাথে যুক্ত হবে, একটা বড় সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তাদের অনুসৃত ATS সিস্টেমের সূক্ষ্ণ অথবা স্থূল অসঙ্গতি ও গোয়ার্তুমি।

ফলে বিরাট কোনো মিরাকল না ঘটলে আপনার সুপার ফিট প্রোফাইলখানা আতুরেই মারা যাবার (বা খাবার) নির্মম ভাগ্য বরণ করতে পারে।

ইন্টারভিউতে ডাক কেন পান না, আর ডাক পাবার সুযোগ বাড়াতে হলে কী করতে পারেন:

১. যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য প্রথম নিয়ম হল, আপনাকে সমস্যা যে সমস্যা-সেটা আগে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সুতরাং, ডাক পাবার হার ও রেশিও কতটা হলে তাকে সমস্যা বলা যাবে-তা বুঝে নিন। আপনাকে মেনে নিতে হবে, ক্যারিয়ারে যত ওপর দিকে যাবেন, যত টপ হবেন, আপনার ডাক পাবার হার এমনিতেই আনুপাতিক হারে কমতে থাকবে। অফিসার স্টেজে যে হারে রেসপন্স পেতেন, জি.এম হলে সে সমান ডাক পাবেন না। কারন, অফিসার লেভেলের বাজার বড়, জি.এমের বাজার ছোট। তদুপরি, একটা বয়সের পরে এমপ্লয়াররা একজনকে নতুন করে হায়ার করতে তত ইচ্ছুক বোধ করেন না। প্রথম দায় হতে পারে আপনার রেজুমে। সেটিকে আপনি হয়তো দারুন ভাবছেন, অথচ, সেটি যথাযথ নয়। হয়তো সেটি ATS friendly নয়, ফলে ফিলট্রেশনের প্রথম দৌড়েই আপনি বাদ পড়ছেন। লিংকডইন, Naukri.com, Enhancv.com এর মতো অন্তত ৩টি মাধ্যমে কমপ্লাই করে নেবেন, যেন, অন্তত আপনার স্কোর ৮৫% বা তার বেশি হয়। আধুনিক ও যুগোপযোগী একটি রেজুমে বানান। কোথাও রেজুমে দিলেই তার সাথে একটি আকর্ষক ও প্রফেশনাল কভার মেইল দিন। তবে মনে রাখবেন, ডাক পাবার মাধ্যম হিসেবে রেজুমের স্টেক ২৫%। তার মানে, রেজুমে মানেই সব নয়। বাকি আচে আরও ৭৫%। এই ২৫>৭৫ নিয়মটা গড়পড়তা মানুষদের জন্য। কিন্তু, কিছু মানুষ আছেন, যাদের জবের অপরচুনিটি সৃষ্টির জন্য রেজুমে একদমই কোনো ম্যাটার হিসেবে বিবেচ্য হয় না। তারা সুপার কোয়ালিফায়েড, সুপার জিনিয়াস। তারা চাকরি খুঁজবেন কী, উল্টো চাকরি তাদের খোঁজে। তাদের ক্ষেত্রে এই ২৫>৭৫ নিয়মটা প্রযোজ্য না। আপনি যদি মনে করেন, আপনি ওই দলের, তাহলে রেজুমের পেছনে ঘুরে সময় নষ্ট না করলেও চলবে।

২.হাজার হাজার চাকরি প্রত্যাশীর আবেদন পড়ে। আপনি হয়তো খুবই যোগ্য, কিন্তু, কাকতালীয়ভাবে সেই গতানুগতিক পন্থায় কারো নজরে পড়েননি। তাই, প্রচুর কর্পোরেট লিংক সৃষ্টি করুন। সিনিয়র, পপুলার, বড় পজিশনে থাকা কর্পোরেট পারসনদের সাথে লিংক বানান। পরিচয় ঘনিষ্ঠ হলে তাকে নিজে থেকে একটি রেজুমে দিন। 

৩. শুধু সার্কুলার দেখে তার বিপরীতে এপ্রোচ করলে হবে না। সবগুলো বড় ও ভাল কোম্পানীর জব পোর্টালে/সাইটে গিয়ে নিজের প্রোফাইল বানান আর নিয়মিত ওদের সার্কুলার চেক করে আবেদন করুন। শুধু আবেদন করলে হবে না। ওগুলোতে অটো এলার্ট চালু করেননি বিধায় অনেক চান্স আপনার নজর এড়িয়ে যায়। এলার্ট চালু করুন। নিয়মিত আপডেট না করায় আপনার রিচ কমে যায়। বিডিজবস বা লিংকডইনে নিয়মিত উইন্ডোতে যেমন ঢুকে ঢুকে ফিল্টার করে করে জব খুঁজবেন, তেমনি আবার, আপনি না খুঁজলেও এলার্ট সিস্টেম যেন আপনাকে পপ-আপ মেসেজ দিয়ে নোটিফাই করে, সেই ব্যবস্থাও করবেন।

৪. শুধু টিপিক্যাল ও কনভেনশনাল সাইটে ভিজিট করা বা সার্কুলারের পেছনে পড়ে থাকায়ও আপনার কপাল না খুলতে পারে। তাই, অন্য কিছুর সাথে সাথে ফেসবুকে/লিংকডইনে যতগুলো জব পেজ আছে তার মেম্বার হোন আর আপডেট থাকুন।

৫. আপনার হয়তো বাজার পরিচীতি নেই। কেউ আপনাকে চেনে না। চিনলেও আপনার সত্যিকারের পরিচয় মূর্ত নয়। নিজের দর ও কদর বাড়াতে পরিচীতি বাড়ান। প্রফেশনাল লেখালেখি করুন, আর সিনিয়র রাইটারদের লেখায় ফিডব্যাক দেবার মাধ্যমে তাদের সাথে লিংকড আপ হোন।

৬.মাঝে মাঝে ফেবুতে ও লিংডইনে চাকরি চেয়ে পোস্ট দিতে পারেন। সেটা তবে সংক্ষিপ্ত আর আপনার কোর কোয়ালিফিকেশন সহ। শুধু চাকরি চেয়ে না, চাকরির বিজ্ঞাপনও প্রচার করুন। র‌্যন্ডম নজর রাখুন, কেউ চাকরি চেয়ে পোস্ট দিয়েছেন, কেউ হয়তো সেখানে আপনার চাওয়ার মতো একটা জবের অফার কেউ করেছেন। সেখানে নক করুন।

৭. জীবনে কখনো হয়তো জব ফেয়ারে যাননি। মনে করেছেন, ওখানে কেবল ফ্রেশারদের জব হতে পারে। ভুল। জব ফেয়ারে জয়েন করুন, আর সেখানে রেজুমে ড্রপ করুন।

৮. কোন কোন পোর্টালে আপনার প্রোফাইল আছে, আর কোন কোনগুলো সবচেয়ে কাজের-তা জানেন কি? সবগুলো না হলেও সবচেয়ে কাজেরগুলোতে/অনলাইন জব পোর্টালে নিজের আকর্ষক প্রোফাইল বানান, নিয়মিত ভিজিট করুন আর আবেদন করুন। ওই সাইটগুলোর বিভিন্ন কাজে অংশ নিন।

৯. না বুঝে হাজার/লাখো আবেদন পাঠিয়ে লাভ নেই। এই ভুল অনেকেই করেন। তারপর পুড়তে থাকেন-”ইশ, এত আবেদন করি, টারগেটে লাগে না।” লবণ পানি ভরা সাগরে মিষ্ট পানির তপসে মাছ ধরতে বড়শি ফেললে কে দায় নেবে? আবেদনের আগে অবশ্যই অবশ্যই বিজ্ঞাপনটি ভালভাবে পড়ুুন। ক্রাইটেরিয়া মিললে তবেই আবেদন করুন। না মিললে স্রেফ ভাগ্য পরীক্ষা করার জন্য সিভি পাঠাবেন না। ওদের দরকার ইতিহাসে মাসটার্স, আপনি হলেন অ্যারোনটিক এঞ্জিনিয়ার। হবে?

১০. আপনার বাসার পিসিতে বা ট্যাবে হার্ড ডিস্কে রিজিইম রেখেছেন। কেউ চাইলে চট করে দিতে পারেন না। বলেন, “বাসায় গিয়ে দিচ্ছি।” অথচ, উনি হয়তো আর দ্বিতীয় চান্স পাবেন না আপনাকে কোথাও রেফার করতে। মোবাইলে ও ক্লাউডে সবসময় একটি আপডেটেড রেজুমে রাখুন। গুগল স্টোরেজেও রাখতে পারেন। অনেক মেসেজিং অ্যাপে ফাইল এটাচ করা যায় না, যেমন মেসেঞ্জার। সেটারও সমাধান আছে। খুঁজুন।

১১. আপনি হয়তো একা একাই যা বুঝছেন, তাই করছেন। না, আপনার মতো আরো চাকরিপ্রার্থীকে নিয়ে গ্রূপ বানিয়ে একত্রে কাজ করুন।

১২. শুধু বড় বড় স্যারই নন, ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ভাইবোনদের খুঁজে বের করুন আর তাদের এপ্রোচ করুন।

১৩.কোনো প্রতিষ্ঠানে মেইলে রেজুমে দিলে যদি না ডাকে, তবে ৫/৭ দিনের গ্যাপে সর্বোচ্চ ২ বার রিমাইন্ডার মেইল বা ফোন কল দিতে পারেন। অভিমান ভুলে যান। ক্ষুধা আপনার, আপনার অভিমান করবারও দিন আসবে। ততদিন অভিমানকে, লজ্জাকে, সংকোচকে টাটা, বাই বাই।

১৪.রেজুমে মেইল করেই খাল্লাস-ভাবলে ভুল করছেন। যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছেন সেখানকার HR অফিসারের নম্বর বা মেইল যোগাড় করে তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করতে পারেন। তাদের হাজারটা হ্যাপা। রয়েছে তাদেরও নানা ঝামেলা। আপনার মতো একটি রত্ন হয়তো টুপ করে নজর এড়িয়ে গেছে। বদনসিব না হতে যোগাযোগ করুন।

১৫. বহুকাল কপাল ঠুকে একটা চান্স এসেছিল। নিজের দোষে যেন সেটি বেহাত বা উজাড় না হয়। যেকোনো একটি দুর্লভ ইন্টারভিউতে ডাক পেলে সেটিতে আপনার যোগ্যতার কোনো ঘাটতির জন্য যেন বাদ না পড়েন-নিজের যোগ্যতাকে সেই লেভেলে নিয়ে যান।

১৬. প্রফেশনালের সহায়তা নিয়ে, নিজের মেধা খাটিয়ে হয়তো অসামান্য একটি রেজুমে ও প্রোফাইল বানিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু, নিজের ফেসবুক ও লিংকডইন প্রোফাইল ও ওয়াল মাইরালা, গাইরালা দিয়ে ভরা। ফলে, রেজুমে দেখে আকৃষ্ট হলেও, আপনার ব্যকগ্রাউন্ড চেকে আপনি বাদ পড়তে পারেন। আপনার সামাজিক উপস্থিতি মার্জিত, প্রোফেশনাল ও আধুনিক রাখুন।

১৭.ইন্টারভিউ দিয়ে এসে ভুলে যাবেন না। তাদের ডিসক্রিশনের ওপর ভর না করে ইন্টারভিউ দিয়ে আসার পরে ৭ দিনের মধ্যে কোনো ফিডব্যাক না পেলে ফোনে বা মেইলে ফিডব্যাক জানতে চান।

১৮.ইন্টারভিউ ফেস করা শিখুন, প্রাকটিস করুন টিউটোরিয়াল ধরে।

১৯.বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এইচআরকে সরাসরি সিভি পাঠান চাকরি চেয়ে। অবশ্যই স্মার্ট মেইল বডিসহ।

২০.থার্ড পার্টি হেড হান্টিং প্রতিষ্ঠানে রেজুমে দিয়েই দায়ীত্ব শেষ মনে করলে ভুল করছেন। আপনাকেই সেটাকে নারচার করতে হবে, নাড়াচাড়াও।

২১.প্রচুর লিংক, নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন। অনেকেই ভাবতে, বলতে পছন্দ করেন, “আমি একটু ইনট্রোভার্ট।” আপনি ইনট্রোভার্ট থাকুন, তবে, সেটা নেটওয়ার্ক মেইনটেইন করে। আপনার নেটওয়ার্ককে জানতে দিন, যে, আপনি চাকরি খুঁজছেন। শরমে কাউকে বললেন না। তাতে ক্ষতি আপনার।

২২. চমৎকার রেজুমে, তবে তা ‘কোরা কাগাজ’, মানে ফকফকে সাদা। তাতে অভিজ্ঞতার ছিটেফোটাও নেই। নিয়োগকর্তারা আবার অভিজ্ঞতার পাগল। আপনি ভেবেছেন, কখনো চাকরি তো করিনি, অভিজ্ঞতাও তাই দিইনি। অথচ অভিজ্ঞতা হাতের কাছেই ছিল। ফর্মাল জবের অভিজ্ঞতা না থাকলেও ইন্টার্নশীপ, ভলান্টিয়ার ওয়ার্ক, অর্গানাইজিং জব, শর্ট টাইম ওয়ার্ক, লেকচার, পাবলিশিং, রাইটিং, সেমিনার এটেন্ডিং-এমন যা কিছুকে আপনার প্রেজেন্টেবল এক্সপিরিয়েন্স বলে মনে হয়, সেগুলো রিজিউমে যোগ করুন।

২৩. নিজে নিজেই সবজান্তা হয়ে গেলে ভুল করবেন। একজন প্রোফেশনাল ক্যারিয়ার এ্যাডভাইজারের সাথে কনসাল্ট করুন আর তার সাথে নিয়মিত কথা বলুন।

২৪.যেকোনো কর্পোরেট পার্সনের সাথে মীট করতে গেলে ইন্টারভিউ দেবার মতো প্রিপারেশন নিয়ে যান।

২৫.প্রচুর প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজ ও লিংকডইন পেজ আছে। না চাইতেও সেখানে একটি সিভি এবং দারুন একটি মেসেজ ড্রপ করে রাখুন।

২৬.প্রথম জবটি যাই হোক, জয়েন করে ফেলুন। ভাইবার, মেসেঞ্জার, হোয়াটসএ্যাপ, গুগল ম্যাপ, স্কাইপ ও মেইল-ব্যবহারে অভ্যস্ত ও নির্দিষ্ট সময় পরে পরে আপডেট থাকুন।

২৭.যদি এমন হয় যে সবরকম প্রস্তুতি স্বত্বেও আপনি ইন্টারভিউতে ডাক পাচ্ছেন না, সেক্ষেত্রে আরো যেসব জব সিকাররা আছেন, তাদের সাথে কথা বলুন, তাদের অভিজ্ঞতা জানার চেষ্টা করুন।

চাকরিপ্রার্থী হিসেবে আপনার, আমার-সবার একটা কমোন দুর্ভাগ্য কী জানেন?

আপনি যত বড় বীর আলেকজান্ডার, জ্ঞানের গন্ডার অথবা পন্ডিত জওহরলালই হোন না কেন, যেকোনো চাকরির ওপেনিংয়ের বিপরীতে আপনি এপ্রোচ (এপ্লাই) করছেন হয় সরাসরি মেইলে। অথবা তাদের দেয়া ATS চ্যানেলে।

যেভাবেই এপ্রোচ করুন না কেন, আপনাকে (মানে আপনার রেজুমে/প্রোফাইলকে) সবার আগে এটেন্ড করবেন একজন জুনিয়র HR অফিসার। খুব ব্যতিক্রম না হলে।

তো, এই ভদ্রলোক বা ভদ্রমহিলা প্রোফাইল স্ক্রিনিংয়ে খুব স্বাভাবিকভাবেই দক্ষ, ইফিশিয়েন্ট ও প্রাজ্ঞ নন। এমনকি সিংহভাগ ক্ষেত্রে তিনি সামান্য ব্রিফডও নন।

আর তার সাথে যুক্ত হবে, একটা বড় সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তাদের অনুসৃত ATS সিস্টেমের সূক্ষ্ণ অথবা স্থূল অসঙ্গতি ও গোয়ার্তুমি।

ফলে বিরাট কোনো মিরাকল না ঘটলে আপনার সুপার ফিট প্রোফাইলখানা আতুরেই মারা যাবার (বা খাবার) নির্মম ভাগ্য বরণ করতে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা হল, হতাশ হবেন না এবং সাহস হারাবেন না। কনফিডেন্স লুজ করলে যদি চাকরি পাবার নিশ্চয়তা পান তবে সেটা করুন। আর যদি মনে হয় হতাশ না হয়ে চেষ্টা করে গেলে কিছু হলেও হতে পারে, তবে সেটাই করে যান।

খ. প্রচুর ইন্টারভিউ দিয়েও কেন চাকরিটা হচ্ছে না? বারবার কেন আপনি ব্যর্থ হচ্ছেন?

চাকরিটা কেন হাত ফস্কে বেড়িয়ে যাচ্ছে বারবার তা নিয়ে হয়তো আপনি প্রতিনিয়ত হচ্ছেন হতাশাগ্রস্থ ও বিক্ষুদ্ধ।

প্রচুর জব সার্কুলার দেখে অন লাইন বা অফ লাইন এপ্লিকেশন করছেন, রেজুমে পাঠাচ্ছেন, কিন্তু ডাক পাচ্ছেন না। ভাবছেন, সবই তো ঠিক আছে, তবু কেন ডাক আসে না। ডাকপিয়নের পথ চাওয়া আর ফুরোয় না। মোবাইলে এস.এম.এস আসে না।

অথবা, প্রচুর ইন্টারভিউ এটেন্ড করছেন, প্রতিবারই ভাবছেন, এবার তো ইন্টারভিউতে ফাটিয়ে দিয়েছি। আসবার সময়ে ইন্টারভিউয়ার যেভাবে বললেন, “আমরা আপনাকে শিগগীরই জানাবো”-তাতে এবার শিকে না ছিড়ে যায়ই না।

কিন্তু না, চাকরি কনফার্ম হচ্ছে না।

কেন হচ্ছে এমন?

দিন দিন ফ্রাস্টেটেড হয়ে যাচ্ছেন? মনে মনে হতাশা ও কষ্টে ভুগছেন। কখনো ভেবেছেন, কেন?

কর্পোরেটের পেটের কথা বলব আজ। হয়তো এর কোনো একটা ঘটছে আপনার ক্ষেত্রে।

ইমোশনে ভেঙে না পড়ে আসুন লজিক্যালী ভাবুন। কারনগুলো হতে পারে এমন:

১.রেজুমে, যেটাকে আপনিই শুধু দারুন মনে করেন সেটা হয়তো আসলে মোটেই দারুন না। রেজুমে হতে হবে আপনার স্মারটেস্ট বিজ্ঞাপন, যাতে আপনার বেস্ট সেলেবল ফিচারগুলো নজরকাড়াভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। হাজার হাজার সিভির ভিতরে আপনার রেজুমেটা নজর কাড়তে সক্ষম কিনা, ভেবে দেখুন। না, আমি লাল নীল রেজুমে বানাতে বলিনি কিন্তু। এমপ্লয়ার যে সামান্য এক নজর রেজুমেটা দেখবেন, তাতে তিনি আপনাকে না দেখে রেজুমে দেখে কনভিন্স হবেন কিনা, যে, তারা যাকে খুঁজছেন, সেটা আপনি। মানে, রেজুমেটা আপনার যোগ্যতা ও সম্ভাব্য ভ্যালূ এ্যাডিশনের পারফেক্ট বিজ্ঞাপন কিনা।

২.ইন্টারভিউতে যেসব প্রশ্ন করেছে সেগুলোর বেশিরভাগ সুন্দর এনসার করতে পারেননি মানে স্কোর কম। আবার এনসার করতে না পারলেও, আপনি যে, অজানা জিনিসও এক্সপ্লোর করে জানার সুযোগ করে নিতে পারেন, অন্তত সেটাও এমপ্লয়ারকে আশ্বস্ত করতে পারেননি। প্রাইভেট জবে, এমপ্লয়াররা আসলে সবজান্তাকে খোঁজেন না। সব প্রশ্নের উত্তর পারে-এমন আইনস্টাইনকে তারা আশা করেন না। তারা চান, এমন একজন মানুষ, যিনি প্রশ্ন করতে জানেন, যিনি জানবার ইচ্ছা ধারন করেন, যিনি না জানা জিনিস খুঁজে আনতে পারবেন, যিনি শেখার ক্ষমতা রাখেন, যিনি তার প্রতিষ্ঠানে ভ্যালু ও ভ্যালুজ যোগ করতে সক্ষম-এমন মানুষ।

৩.আপনি যত ভালই ইন্টারভিউ দিয়েছেন তার চেয়েও ভাল কেউ দিয়েছে। মানে আপনি সিরিয়ালে নিচের দিকে। হতে পারে।

৪.ইন্টারভিউতে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, জেশচার, পশচার, এপিয়ারেন্স, গেটআপ আপ টু মার্ক ছিল না। শুধু দিগগজ পন্ডিত আর নামজাদা কোম্পানীর এক্স-এমপ্লয়ী হলেই জব হয় না। প্রাইভেট এমপ্লয়াররা অনেক বুদ্ধিমান ও চুজি।

৫.আপনি আগা গোড়াই সিরিয়াস ছিলেন না। সিরিয়াসনেস বলতে কী বোঝালাম? আমার আরেকটা আস্ত লেখাই আছে এটা নিয়ে।

৬.মরিয়া হয়ে চাকরির প্রয়োজনীয়তা ইন্টারভিউয়ারকে বলেছেন-”স্যার, আমি বাবার বড় সন্তান, আমাকে চাকরিটা দিয়ে দ্যান স্যার।” এই কথা আপনাকে লাভবান করেনি। আপনার অজান্তেই আপনি এলিমিনেট হয়ে গেছেন। ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্যদেরকে মানবিকভাবে বায়াজ করা প্রায় অসম্ভব।

৭.প্রতি ইন্টারভিউতে কিছু ট্রিকী প্রশ্ন থাকে। আপনাকে যা জিজ্ঞাসা করা হয়েছে বলে মনে করে উত্তর দিয়েছেন আর ভাবছেন “ফাটিয়ে দিয়েছেন” আসলে সেটা ছিল না। তার মানে ভুল বুঝে ভুল উত্তর দিয়েছেন। যেমন ধরুন, ”আপনার উইকনেস কী”-আপনি বললেন, আমি কম্পিউটার জানি না। অথবা, আমি আইসক্রীমের প্রতি দূর্বল। দুটোই সত্য, তবে ইন্টারভিউ মিসটেক।

৮.যে ধরনের talent খোঁজা হচ্ছে আপনারটা তা নয় কিংবা বিজ্ঞাপনে যে অভিজ্ঞতা বা কোয়ালিফিকেশন চাওয়া হয়েছে আপনারটা তা নয়। ভেবে দেখুন, একজন এমপ্লয়ার কী চান? একজন মানুষ, যিনি তার প্রতিষ্ঠানকে অর্থ উপার্জন করে দিতে পারবেন। সেটা তিনি যেই পথে আনয়ন করাতে চান, আপনাকে তার সাথে এলাইনড থাকতে হবে। আপনার সব ভাল, সব যোগ্য, হঠাৎ বললেন, আপনি হালাল ইনকাম করতে চান। ব্যাস, উনি হয়তো ব্যাংকার। দেখবেন, আপনি তো তার ফিলসফিরই বিপরীতে। তখন আপনার সব যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও তো আপনি ডিসকোয়ালিফাইড।

৯.চাকরিদাতার কাছে পাওয়ারফুল বা ইনফ্লুয়েন্সিয়াল কোনো লবিং এসেছে। আপনি যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বাদ। লবি ও রেফারেন্সকে ঘৃনা করতে লাগলেন>কেন, আপনি কি কখনো কাউকে সিভি দেন নাই>

১০.আপনার একাডেমিকস-মানে রেজাল্ট, ইংরেজি জ্ঞান, সাধারন জ্ঞান এসব ভালো কিন্তু আইকিউ ও শার্পনেস ভাল না। ওই যে বললাম না, তারা আইনস্টাইন বা সক্রেটীস চান না। তারা চান জেফ বেজোসকে।

১১.ক্রিয়েটিভিটি, প্রবলেম সলভিং পাওয়ার, চ্যালেঞ্জ নেবার ক্ষমতা কম মনে হয়েছে।

১২.বিজ্ঞাপিত ক্রাইটেরিয়া না জেনে বা বুঝেই এপ্লাই করা। ফলে, তারা হয়তো খুঁজছেন কম্পিউটার এঞ্জিনিয়ার, আপনি মাইক্রোবায়োলজিস্ট। অথবা, তারা চান ৪ বছর অভিজ্ঞ মানুষ, আপনি হয়তো ফ্রেশার। অথবা, তারা খুঁজছেন আরএমজি অভিজ্ঞ, আপনি হয়তো নাসায় চাকরি করে এসেছেন।

১৩.একই কোম্পানীতে পাগলের মতো অসংখ্য বিভাগের জন্য এপ্লাই করা। বিশাল সার্কুলার দেখে সরকারী চাকরির মতো ভেবে নিয়ে ৭ ক্যাটেগরীতে আলাদা আলাদা আবেদন করে বসে আছেন। যতই যোগ্যই হন, বাদ পড়বেন বিনা নোটিসে।

১৪.আপনার সব ভাল কিন্তু ইংরেজিতে খারাপ। প্রাইভেট কোম্পানী এই বিষয়ে খুবই চুজি।

১৫.কম্পিউটারে আপনি দুর্বল। স্মার্টফোন রাখেন, অথচ তাতে নাটক দেখা আর ফেসবুকিং ছাড়া কিছু করতে পারেন না।

১৬.আপনি খুবই কোয়ালিফাইড কিন্তু নার্ভাসনেসের জন্য ইন্টারভিউতে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেন না।

১৭.কোয়ালিফাই করলেন কিন্তু আপনার অবাস্তব চাহিদা কোম্পানী মিট করতে পারল না।

১৮.মেইলে সিভি পাঠালেন কিন্তু কভার লেটার বা এট লিষ্ট দু’লাইন মেইলও লেখেন না, যাস্ট এটাচ করে সিভি পাঠিয়েছেন। সিভির ফাইলের নাম ’সাদুল্লাপুর ফটোস্টেট’ বা ‘Noorjahan_CV’।

১৯.ইন্টারভিউ ডেট মিস করে পরে আবার গিয়েছেন বা সময়ের অনেক পরে এসেছেন।

২০.চেয়েছে অভিজ্ঞ কিন্তু আপনি ফ্রেশার কিংবা চেয়েছে ফ্রেশার কিন্তু আপনি ৫ বছরের অভিজ্ঞ।

২১.আপনি অনেক কোয়ালিফাইড ও অভিজ্ঞ কিন্তু কোম্পানী তার চেয়ে জুনিয়র বা কম বেতনের লোক নেবে।

২২.লোক নেবে ২ জন, আবেদন করল ১৫০০ জন। তখন সিভি ফিল্টারিং হয় ডিজিটালি অথবা ম্যানুয়ালি। ফলে আপনি ভুলক্রমেও বাদ পড়তে পারেন। সিভির কিছু ওয়ার্ডিং আছে-যা এ্যালগরিদম মেনে চলে, ফলে স্ক্রিনিংয়েও সিভি বাদ পড়ে। সেটা শিখে নিন অভিজ্ঞদের থেকে। ওয়ার্ডে সিভি দিলে অনেক সময়েই পড়া যায় না।

২৩.প্রচুর বদ কোম্পানি ও থার্ড ক্লাস এইচআর আছে। খামখেয়ালি, মন মর্জি, অবহেলা করে পারফেক্টলী রেজুমে স্ক্রিনীং ও ইন্টারভিউ করে না। করলেও রেজাল্ট দিতে গরিমসি করে। রেজাল্ট হলেও ভুল লোককে চুজ করে। ফলে আপনি তার দুর্ভাগ্যজনক শিকার হন।

২৪.প্রচুর বাজে এইচ.আর আছে। কোম্পানীর টপ ম্যানেজমেন্টও করাপটেড আছে। লোক অলরেডি নিয়ে নিয়েছে। শুধু নিয়ম রক্ষার্থে এ্যাড দেয়। আপনি তার চক্করে পড়ে থাকতে পারেন। তবে হ্যা, গণহারে যেভাবে বিষয়টাকে ফেসবুকে বা লিংকিতে প্রচার করা হয়, বিষয়টা অতটা মহামারি আকারেরও না।

২৫.যেই পজিশনের জন্য কল করেছিল মানে পজিশন ভ্যাকেন্ট হয়েছিল সেই পজিশনে কোম্পানীর ইন্টারনাল জুনিয়রকে প্রোমোট করে ফিল আপ করে ফেলেছে কিংবা ওই পজিশনে লোক নেবার দরকারটা সার্কুলার হবার পরে কোনো কারনে ফুুরিয়ে গেছে।

২৬.শুধুমাত্র ৪টি ডিগ্রী ও ভাল ফলাফল ছাড়া আর কোনো যোগ্যতা ও দক্ষতা আপনার নেই। কোনো কো-কারিক্যুলার নেই। কোনো ফ্রিল্যান্স কাজের যোগ নেই। টিউশনিকে এমপ্লয়াররা মূল্য দেন না।

২৭.চারটি ডিগ্রীর সার্টিফিকেট আছে কিন্তু ভূ-ভারতে কোনো কর্পোরেট পার্সনের সাথে আপনার কোনো লিংক, রেফারেন্স নেই। সামান্য পেট ব্যথাতেও তো মানুষ ফকিরের ফুঁ নেয়।

২৮.আপনার রেজুমেতে ভুল বা অসত্য তথ্য দিয়েছেন কিংবা বর্তমান কর্মস্থলে ভেরিফিকেশনে নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে। ফেসবুক বা লিংকডইনে আপনার টোটাল অনুপস্থিতি অথবা, নেগেটিভ কাজকর্মও  আপনার সফলতার বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারে।

সমস্যাটা বললাম।

সমাধানটা একটু উদ্যোগী ও অনুসন্ধিৎসু হলে নিজেই বের করে ফেলতে পারবেন। ক্যারিয়ার ব্লকেজ যতই আসুক, সামনের রাস্তা যতই ন্যারো ডাউন মনে হোক, তার ভিতরেও ইন্টারভিউ ডাক পাবার ’HACK’ আর ইন্টারভিউ ডাক পেলে তাকে ’CRACK’ করার উপায় আছে। সেই মন্ত্র বা HACK ও CRACK আবিষ্কার করার সফলতা নির্ভর করে আপনার সদিচ্ছা, ডেসপারেট চেষ্টা ও সঠিক পন্থার ওপর। হাওয়া বেঁচে (চিপস), হাওয়া দিয়ে (রিক্সার চাকায়), হাওয়া খেয়ে (রাজনীতিক)ও এই শহরে মানুষ দিব্যি করে খাচ্ছে।

আমি শুধু খুব সংক্ষেপে একটা কথা কানে কানে বলে দিই।

খুব কোয়ালিটি সম্পন্ন ও উপযুক্ত রেজুমে বানান।

নিজের রেফারেন্স ও লবি বানান-নিজ প্রোফেশনে ও অন্য প্রোফেশনে।

প্রতিটি ইন্টারভিউয়ের ভুলচুক নিয়ে বিশ্লেষন করুন।

বিজ্ঞাপন মন দিয়ে পড়ুুন, বুঝুন, কী করতে বলেছে, কী চেয়েছে বুঝুন, সেভাবে আবেদন করুন। বাকিটা আমার একটি বিশাল লেখায় পাবেন। চাইলে বলতে পারেন।

তাহলে অপেক্ষা কেন, ফ্রাস্ট্রেশন কেন? সমস্যার গোড়া যখন জেনেছেন তখন ঝাঁপিয়ে পড়ুন আজই।

চাকরি কেন হয় না, এবং, এই ব্যর্থতা ঘোঁচাতে কয়েকজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বের পরামর্শ:

গ. জব সার্কুলার দেখে কীভাবে এপ্রোচ বা আবেদন করবেন এবং, কীভাবে বা কী কী কাজ করবেন না?

ধরুন তার নাম মি. XYZ——-

সম্প্রতি আবেদন করেন একটি প্রতিষ্ঠানের একটি জব সার্কুলারের বিপরীতে। ডেডলাইন পার হবার পরে এইচআর তার এপ্রোচটি যাঁচাই করে তাদের ক্রাইটেরিয়াতে ক্রসম্যাচ করে রিজেক্ট করে এবং তাকে খুবই ফরমাল ও ভদ্র ভাষায় একটি রিজেকশন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপক মেইল করে। ভদ্রলোক সেই মেইল পেয়ে রিপ্লাই করেন এভাবে-

[Thanks to the authority.

Actually now I got a job in ……………….MNC………………. that is why I would not show much interest to your company. Honesty, I forgot the name of your company till now. I think your system of recruitment process should be improved to get the right people to the right place. You have communication gap between recruiter and recruitee. Dear I studied in pure HUMAN RESOURCE MANAGEMENT in public University. Take it positively not emotionally]

অত্যন্ত ভুলভাল ইংরেজি যার ভাবার্থ  যেকোনো ’এইছারকে’ ভাবে বুঝে নিতে হবে। পুরো লেখায় কনসট্রাকটিভনেস অনুপস্থিত। এবং ভাষা অত্যন্ত আনপ্রোফেশনাল ও আক্রমনাত্মক।

তো, বেচারা হেড অব এইচআর তবুও ভাবতে বসলেন, তারা কি কোনো ভুল করলেন? দেখা যাক তো।

তিনি ওই প্রার্থীর প্রথম এপ্রোচ মেইলটি আবার ওপেন করলেন। সেই মেইল ও শেষের বর্ণিত ফিডব্যাকের- reply মেইলের সাথে মিলিয়ে হেড অব এইচআর হাসবেন, নাকি কাঁদবেন তা বুঝতে না পেরে তব্দা মেরে বসে রইলেন। আর কিছু করতে না পেরে তিনি একটি ফেসবুক স্টাটাস প্রসব করলেন। সেই স্টাটাসে, কেস স্ট্যাডি এমন:-

১. ভদ্রলোকের রেজুমেটি নীলক্ষেত হতে বানানো। নীলক্ষেত ছাঁচে পাটক্ষেতের মন্ড ঢেলে বানানো। ভদ্রলোক হালের একটি নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয় হতে চাকরির বাজারে aborted। তার রেজুমের ফাইলটির নাম “CV mail of …..”

সার্কুলারে টেমপ্লেট টেক্সট দিয়ে নিয়োগদাতা সাহায্য করতে চাইলেও তিনি তার ধার দিয়েও যান নাই।

২. ভদ্রলোকের পড়াশোনা HRM এর ওপর। তিনি আবেদন করেছেন IE এক্সিকিউটিভ পদের জন্য।

৩. IE এক্সিকিউটিভ আবেদন করতে হলে HRM সাবজেক্ট বাঁধা নয়, কিন্তু ন্যুনতম ২.৫ বছরের সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকার কথা সার্কুলারে ছিল। ভদ্রলোক ফ্রেশার ও HRM একাডেমিক হয়েও আবেদন করেছেন। Textiles or AMMT ব্যাক ফ্রেশার হলেও একটি যুক্তি মিলানো যেত।

৪. ভদ্রলোকের মেইলের সাবজেক্ট হল “IE Executive” । জ্বি, ঠিক দেখেছেন, ঠিক এতটুকুই। যদিও সার্কুলারে টেমপ্লেট পর্যন্ত করে দেয়া ছিল।

৫. ভদ্রলোকের মেইলের কোনো বডি নেই। মানে কভার মেইল নেই, কভার লেটারও না। বডি হু হু শুন্যতায় হাহাকার।

সার্কুলারে পরিস্কার বাংলায় লেখা ছিল, কারা আবেদন করতে পারবেন, কীভাবে করবেন। রেজুমে ফাইলের ডিফল্ট নেমিং, মেইলের সাবজেক্ট লিখবার টেমপ্লেট টেক্সট, কভার মেইলে এক্সপেকটেশন বলে দেয়া, কাঙ্খিত অভিজ্ঞতা, ফ্রেশার হলে আবেদন না করা-সবই বাংলাতে বলে দেয়া ছিল। নির্দেশিত পন্থার ধারে কাছে দিয়েও যাননি ভদ্রলোক। 

এর কোনোটা নিয়েই অবশ্য ওই হেড অব এইচআর পাজলড নন। তিনি মাথা কুটছেন অন্য একটা দুঃখ নিয়ে।

সেটা হল, ওই ভদ্রলোক প্রথমেই যেটা জানিয়ে দিয়েছেন, সেটা হল, তিনি বাংলাদেশের ওই ডট…..ডট……ডট প্রতিষ্ঠানে (বাংলাদেশের টপমোস্ট একটি জেনুইন MNC-যার নাম বলতে চাই না।) চাকরি পেয়ে গেছেন। ওই হেড অব এইচআর বুঝে পাচ্ছেন না, এইরকম একজন প্রার্থীকে ওই টপমোস্ট MNC প্রতিষ্ঠান ঠিক কী পথে হায়ার করেছেন। তারা কি তবে আলাদীনের চ্যারাগ হাতে পেয়ে গেছেন-যা দিয়ে টাইম ট্রাভেল করে আজ ততে ৩০ বছর পরে ওই ভদ্রলোক ওদের সিইও হয়ে যাবেন-এমনটি দেখে আসা সম্ভব?

আর বিপরীতে, যাকে ওই টপমোস্ট MNC হায়ার করেছে, এমন একজন প্রার্থীকে প্রাইমারীতেই রিজেক্ট করবার সাহস দেখিয়ে তিনি কি গুনাহে কবিরা সংঘটিত করেছেন কিনা।

যাহোক, মি. এক্স যাই করে থাকুন, তার মতামত তিনি স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতেই পারেন। তবে, মুশকীল হল, বিপ্লবী মনোভাব ও প্রকাশে তো আর এমপ্লয়ার ভিজবেন না।

তাই, সার্কুলার দেখে এপ্লাই বা এপ্রোচ করতে গিয়ে আমরা সাধারন যেসব ধারনাগত ভুলে ভুগি, সেগুলো একটু জেনে নেবেন কি?

১. সার্কুলারে বা জব এ্যাডভারটাইজমেন্টে বলে দেয়া হয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠান কে ও কেমন, তারা কোন স্পেসিফিকেশনের প্রার্থী খুঁজছেন। (অবশ্য অনেক সার্কুলার ও বিজ্ঞপ্তির মান প্রত্যাশিত মানের সাথে বাত্যয় ঘটায়। অনেক বিজ্ঞপ্তি এখনো ট্রান্সপারেন্ট ও প্রাঞ্জল না।) যাহোক।

সেই স্পেসিফিকেশন খুব খুব খুব ভাল করে বারবার পড়তে হয়, যা অনেকে পড়েনই না। শুধু শুরুর দিকের দুই চার লাইন বার্ডস আই ভিউ করেই মাউসের এক ক্লিকে আবেদন পাঠিয়ে দেয়। এটাই ৯০% ঝামেলার জন্য দায়ী।

এটা করবেন না। সময় নিন, লাগলে পোস্ট সেভ করে রাখুন। ঠান্ডা মাথায় বসে, দেখে, বুঝে তবেই সিদ্ধান্ত নিন। এমনকি যদি মনে হয়, আরো কোনো তথ্য আবেদনের আগে জেনে তবেই আবেদন করা উচিত, তাহলে সেটা আগে জানার চেষ্টা করুন।

২. অনেকেই যেটা করেন, সেটা হল, বন্ধু বন্ধুর হয়ে ক্লিক ক্লিক ক্লিক। না, এটা করবেন না। নিজেরটা নিজে করুন। অন্যেরটা আপনি না করুন। এটা বিসিএস না। প্রাইভেট জব। ওই এমপ্লয়ার ও এইচআর টীম যথেষ্ট ক্যালিবারড।

৩. অনেকে আবার সার্কুলার পড়েন ঠিকই, কিন্তু, চিন্তা করেন, ধূর, এত ভেবে, মেনে কী হবে? রেজাল্ট তো সেই থোড়বড়িখাড়া>খাড়াবড়িথোড়। তাই হেলাফেলায় নির্দেশনা না মেনেই এপ্রোচ করে বসেন। এতে করে বিদ্রোহ প্রকাশ হয় ঠিকই, কিন্তু চাকরি আর হয় না।

৪. কোয়ালিটির চেয়ে কোয়ান্টিটি যাদের কাছে বড়, কিংবা পরীক্ষার চিন্তায় যাদের পড়া হয় না, তারা কী করে, আগে আবেদন করি, পরে দেখা যাবে। এতে করে আপনি হাজার হাজার আবেদন করেন ঠিকই, ডাক না পেয়ে হতাশায় ডোবেন ঠিকই, কিন্তু ফল ভাল হয় না। হাজারটা মানহীন আবেদনের চেয়ে মানসম্পন্ন ১০ টা এপ্রোচই বরং কাজে দেবে।

৫. সার্কুলারের প্রতিট নির্দেশনা হুবহু পালন করুন। এক্সপিরিমেন্ট বা কপাল ঠূকবার নীতিতে যাবেন না। এমপ্লয়ার চেয়েছেন H&M ব্র্যান্ডের কাজের অভিজ্ঞতা, আপনি করেছেন GAP। আপনি নিরস্ত হোন। ভাবলেন, একই তো। সামান্য একটু দেখিয়ে দিলেই হবে। ১ মাস সময় পেলেই ধরে ফেলতে পারব। দেখিই না, কী হয়। না, লাভ নেই। নিরস্ত হোন। সার্কুলার দাতারা অনেক হিসেব নিকেশ করে, ভেবে, গবেষনা করেই সার্কুলারের খুঁটিনাটি বানায়। অনেক এক্সপিরিমেন্ট করে তাদের সার্কুলারের টেকসট এমনকি গ্রাফিকস ডিজাইন করা হয়।

আমি বিগত ৩ বছর নানা এক্সপিরিমেন্টের পরে মাত্রই আমার কাঙ্খিত সার্কুলারের মোটামুটি একটি প্যাটার্ন ঠিক করে উঠতে পেরেছি। এত ডিটেল সার্কুলার অনেকেই দেন না। তাই, আপনি যদি আমার সার্কুলার বা এমন পরিকল্পিত সার্কুলারের বিপরীতে এক্সপিরিমেন্ট করতে যান, অযথাই শক্তি ক্ষয় হবে।

৬. চাওয়া হয়েছে, ডেনিম অভিজ্ঞতা, আপনি নন-ওয়াশ প্রোডাক্টে এক্সপার্ট; চাওয়া হয়েছে ৫ বছর অভিজ্ঞতা আপনার আছে ৪ বছর; চাওয়া হয়েছে ফ্রেশার অথচ আপনি ৫ বছরের অভিজ্ঞ, ভাবলেন, বাহ, ফ্রেশারই যেহেতু চলবে, তাহলে আমি তো আরো অভিজ্ঞ আরো লোভনীয়ই গন্য হব, আবেদন করি না। লাভ নেই, বাচ্চার জামা কি আপনার গায়ে লাগবে? এমপ্লয়ার কি না ভেবেই সার্কুলার দেয়? (হ্যা, অনেকেই অবশ্য দেয়। মার্কেট খারাপ করে তারাই।) অথবা, ধরুন চাওয়া হয়েছে মার্কেটিং অভিজ্ঞতা, আপনি সেলসের, চাওয়া হয়েছে ফাইন্যান্সের গ্রাজুয়েট আপনি ম্যাথে অনার্স-আবেদন করবেন না। চাওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট জেন্ডারের প্রার্থী আর আপনি বিপ্লবী হয়ে আবেদন করলেন-কী লাভ?

৭. মেইলের সাবজেক্ট, কভার মেইল বা বডি, রেজুমের ফাইলটির নাম ও টাইপ কী হতে হবে-সেটা নিয়ে কয়েক লক্ষবার বলেছি। আমার দেয়া যেকোনো একটা লেটেস্ট সার্কুলার পড়লেই বুঝবেন। যেমনটা বলে দেয়া থাকে, তেমন করুন। এই জায়গাতে ক্রিয়েটিভিটি খাটাতে যাবেন না। ক্রিয়েটিভিটি রেজুমেতে খাটান। ইন্টারভিউতে খাটান। মদীনা সরিষার তেলের কোম্পানীতে তেল বিক্রেতার আবেদনের রেজুমেকে উড়োজাহাজ আলকাতরার একাউন্টস অফিসারের আবেদনে ব্যবহার করবেন না। আর কখনোই একই কোম্পানীতে একাধিক পদে একইবারে আবেদন করবেন না। আমি অনেকবার দেখেছি, একই লোক একই কোম্পানীতে একই বারে বা বারে বারে, ৮-৯ টা পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন।

কী ভাই, আপনি কি সুপারম্যান? নাকি বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের মতো সব্যসাচী? মাথা কটা আপনার?

#getinterviewcall #crackinginterview #increaseinterviewchances #failureininterview #interviewfailure #increaseinterviewsuccess #jobapproaching #howtoapplyforjob #dontapply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *