Skip to content

ক. ক্যারিয়ার রিস্ক কমাতে এবং সাকসেস বাড়াতে প্রফেশনালদের, বিশেষত সিনিয়রদের সোশিও-প্রোফেশনাল নেটওয়ার্কিংয়ের গুরুত্ব; খ. নেটওয়ার্ক বানানো ও বাড়ানোর জন্য এবং চাকরি তথা ক্যারিয়ারের জন্য কাউকে, কীভাবে প্রোফেশনালী এপ্রোচ করতে হয় ও কীভাবে এপ্রোচ করতে হয় না? গ. প্রোপার এপ্রোচিং ও এফোর্টের ভিতর দিয়ে মামু-খালু পাতানো, তথা নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি ও ক্যারিয়ার লিংকিংয়ের কিছু জেনেরিক ও ইউনিভার্সাল পন্থা;

  • by

(ক তে ক্যারিয়ার- কেন্দ্রবিন্দু-বইমেলা ২০২৪ এ প্রকাশিত।)

ক. ক্যারিয়ার রিস্ক কমাতে এবং সাকসেস বাড়াতে প্রফেশনালদের, বিশেষত সিনিয়রদের সোশিও-প্রোফেশনাল নেটওয়ার্কিংয়ের গুরুত্ব:

“বড় বড় স্যাররা, সিনিয়ররা, কর্পোরেট পারসনরা চাইলেই আমাকে একটা জব দিতে পারেন”, “তারা ইচ্ছা করে আমাকে একটা জব দেন না”-এমন ভুলভাল ধারনায় বিশ্বাস করেন না-এমন লোক খুব কমই আছেন।

বিষয়টাতে সত্যির ছোঁয়া যে নেই, তা নয়। তবে মিথ্যাও আছে। বড় বড় স্যার, সিনিয়র, মুরব্বীদেরও ক্ষোভ, রাগ, অসুবিধা, সীমাবদ্ধতা আছে। তারাও সারাদিন নিজের ভয়ানক ব্যস্ততার ফাঁকে আপনাকে জব ম্যানেজ করে দেবার মতো সুবিধাজনক অবস্থায় সবসময় থাকেন না। তাছাড়া, সব বড় মুরব্বিরই জব দেবার মতো একসেস থাকবে-তা ঠিক না। সর্বোপরি যেটা বলতে চাই, তা হল, অধিকাংশ বড় বড় মানুষ, স্যারদের জব দেবার বিষয়ে অভিজ্ঞতা খুবই তিক্ত। তাছাড়া, বিনা পরিচয়ে বা স্বল্প পরিচয়ে আপনার আমার জন্য চাকরির উমেদারী করবেন-সে রকম মহামানব জন্মানো আজকাল সম্ভব না। এখনকার জগতটা প্রতিযোগিতার। ব্যস্ততার। কে কার জন্য দুই মুহূর্ত ভাবে? আপনি এখন কথা বললেন, তিনি হু হা করলেন। ফোন রাখলেন। তিনি ভুলে গেলেন। তাছাড়া, তার ওরকম ফোন অনুরোধের পরিমানও তো অনেক। শুধুমাত্র আপনি নক করলেন আর ঠিক তখুনি তার হাতে আপনার একান্ত কাঙ্খিত জবটা টসটসে আঙুরের মতো ঝুলন্ত থাকায় তিনি তক্ষুনি আপনাকে ট্যাগ করে নেবেন-এরকম মিরাকল কি জীবনে অসংখ্য হয় কখনো?

জব সিকারদের সাহায্য করা নিয়ে তাদের জ্বালিয়ে খাক করে ফেলেছে প্রচুর মানুষ। তাই চুন খেয়ে তাদের গাল পুড়লে, আপনার দই দেখে তাদের ভয় হবেই। জব সিকারদের জন্য কিছু করার মতো তাদের অতীত মানসিকতা পুড়িয়ে অঙ্গার করে ফেলেছে অনেক জব সিকাররা। তাই নতুন করে নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে চান না তারা।

এই খবর কে কে জানেন? হয়তো জানেনই না।

আর বাংলাদেশে না জেনেই জাজমেন্টাল ধারনা করে ফেলাটাই নাকি স্মার্টনেস। ওই যে, কাউকে কাউকে বলতে শুনবেন, “মুখ দেখে মনের খবর বলে দিতে পারি।”

অনেক আগে একবার বা দু’বার আমি লিখেছিলাম।

এখনও প্রায়ই আমি এই কথাটি অনেককে বলে থাকি।

প্রতিষ্ঠানে উপরের দিকে যারা কাজ করেন, তাদের সোশিও-প্রোফেশনাল #network #নেটওয়ার্ক ও প্লাটফরমে জড়িত হওয়া, এ্যাকটিভ থাকা, পরিচীত থাকা ও রাখা অত্যন্ত জরুরী। অন্তত এই ২০২৪ সালের পৃথিবীতে। যেই বিষয়ে এখনো অনেক সিনিয়রের আপত্তি আছে। আমার ওই তত্ব অনেকে পছন্দও করেন না। যখন এমন কারো সাথে কথা হয়, তিনি বলে থাকেন, “না ভাই, আামি এইসব ফেসবুকটেসবুক করি না।” আমি বেশ ক’বার চাকরি প্রত্যাশীদের স্বামী/স্ত্রীদের জব লিংকিংয়ের অনুরোধ পেয়ে যখনই তাদেরকে বলেছি তাদের চাকরি প্রত্যাশীকে সোশ্যাল প্ল্যাটফরমে আমার সাথে লিংক করে দিতে, তারা আমাকে বলেছেন, যে, তার পার্টনার ফেসবুকে/লিংকডইনে নেই।

ফেসবুক নেহাতই সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বা মিডিয়া এবং লিংকডইন প্রোফেশনাল মিডিয়াম হিসেবে পরিচীত হলেও, আমি এই মিডিয়ামগুলোকে সোশিও-প্রোফেশনাল নেটওয়ার্ক হিসেবেই দেখি। এই কাতারে আছে messaging apps or instant messaging (IM) platforms, যেমন হোয়াটসএ্যাপ, ভাইবার, মেসেঞ্জার ভিত্তিক গ্রূপিং, প্লাটফরমিং।)

অনেকেই মনে করেন, সিনিয়র কর্মীরা ফেসবুক, লিংকডইনে ব্যস্ত থাকা কাউন্টার প্রোডাকটিভ। অনেকে আবার এক কাঠি সরেস। তাদের বিশ্বাস, ফেসবুকে পড়ে থাকা কোনো ক্লাসি লোকের কাজ না।

যাহোক। ভিন্নমত সম্মানের।

তবে, নেটওয়ার্কের বাইরে থাকার প্রবণতা আখেরে ভাল ফল দেয় না। কীভাবে-সে নিয়ে অন্য কখনো বলব।

আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রকাশ্য বা এপারেন্টলী খুব মিশুক, বন্ধুবৎসল বা সামাজিক হিসেবে প্রতীয়মান না হলেও, আমার পেশাগত জীবনে আমি সোশিও-প্রোফেশনাল নেটওয়ার্ক বজায় রাখা, এ্যাকটিভ রাখা ও বাড়িয়ে চলার নীতিতে বিশ্বাস করি।

ব্যক্তিগত ও কর্পোরেট সময়ের কিছুটা সেই নেটওয়ার্কে খরচও করি। নানারকম ভ্যালু এ্যাডেড প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে।

তার ফলাফল দ্বারা আমি নিজে যেমন উপকৃত হই, আবার তেমনি, আমার প্রতিষ্ঠানকেও বেনেফিটেড করি।

সম্প্রতি এই নেটওয়ার্কের একজন সৃহৃদ কোনো এক সামাজিক মাধ্যমে আমারই প্রতিষ্ঠানের সদস্য কারখানার একজন কর্মীর অসতর্কতা ও অসচেতনতাবশত সৃষ্ট ও রিলিজ করা একটি ভুল কনটেন্ট আমাকে মেসেজ করেন। আমি সেই কনটেন্টের ওজন ও প্রতিফল আন্দাজ করতে পেরে সাথে সাথে অনুসন্ধান ও প্রতিকারের ব্যবস্থা করলাম। ভয়াবহ তরিৎ গতিতে। ইস্যু সমাধান হল।

সময়মতো ব্যবস্থা না হলে বিষয়টা খারাপ হতে পারত।

ওই সুহৃদের সাথে কখনো খুব কথাও হয়নি। অথচ, তিনি নিজ দায়ীত্বে তার নেটওয়ার্কে থাকা একজন প্রোফেশনালকে কত বড় উপকার করে দিলেন।

প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র প্রফেশনালরা সোশ্যিও-প্রফেশনাল প্লাটফরমে না থাকাটাকে তো আমার আজকাল রীতিমতো অপরাধ মনে হয়।

রিসোর্স-অপরচুনিটি-পিপল, যেকোনোটা যোগাড়ের জন্য নেটওয়ার্কের বিকল্প নেই। তদুপরি, ভাল হোক বা খারাপ, আজকাল জবের বাজারের একটা বড় দখল চলে গেছে সিন্ডিকেট ও কোরামে। নেটওয়ার্ক না বাড়ালে একেবারে নিখাঁদ অরগানিক জব অপরচুনিটি খুব কমে গেছে। নেটওয়ার্কে না থাকলে আপনি যত বড় পালোয়ানই হোন, বিপদে পড়ার সম্ভাবনা অনেক। বিশেষত সিনিয়র বয়সে।

এজন্যই সোশিও-প্রোফেশনাল নেটওয়ার্ক বজায় রাখতে হয়। আর, সেজন্যেই বড় স্যারদের ফেসবুকে, লিংকডইনে দেখলে ‘গেল গেল গেল’ রব না তুলে তলিয়ে দেখলে ভাল হয়।

খ. #network #নেটওয়ার্ক বানানো ও বাড়ানোর জন্য এবং চাকরি তথা ক্যারিয়ারের জন্য কাউকে, কীভাবে প্রোফেশনালী এপ্রোচ করতে হয় ও কীভাবে এপ্রোচ করতে হয় না:

আপনি একজন ফ্রেশার কিংবা অভিজ্ঞ প্রোফেশনাল। কোনো এক কারনে আপনি আরেকজন কর্পোরেট পার্সনকে এপ্রোচ করতে চান। সেটা হতে পারে সাহায্য চেয়ে, হতে পারে তথ্য চেয়ে, কিংবা হতে পারে পরামর্শ দিতে/নিতে বা চাকরি চাইতে। তো, যে কারনেই হোক, আমাদেরকে বিভিন্ন কারনে অভিজ্ঞ প্রোফেশনালদের এপ্রোচ করতেই হয়। কারন এই ডিজিটাল যুগে ক্যারিয়ার এক্সপানশন কিংবা সাসটেইনেবিলিটির জন্য কানেকটিভিটি ও লিংকিং খুব গুরুত্বপূর্ন। তো, অনেকেই জানেন না, ঠিক কীভাবে একজন কর্পোরেট পার্সনকে এপ্রোচ করতে হয়। বিশেষভাবে তিনি যদি আপনার একদম অপরিচীত কিংবা তার সাথে আপনার আগে কখনো কোনো ইনটার‌্যাকশন না হয়ে থাকে:

১.একদম কখনো কোনোদিন যার সাথে আপনার কোনো ইনটার‌্যাকশন হয়নি, তাকে শুরুতে সালাম/সুপ্রভাত জানান। ”কেমন আছেন”, “আমি অমুক, অমুক স্থানে জড়িত আছি” “আপনার প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কাজে জড়িত”, “আপনার লেখা বা পোস্ট, আপনার আঁকা ছবি, আপনার প্রোফেশনাল একটিভি আমি ফলো করি”, ”ভাই, আপনি যদি সময় দেন তাহলে কিছু কথা আলাপ করতে চাই”, “স্যার/ম্যাডাম, আমি মিঃ এক্স, আপনার সাথে ফেসবুকে/লিংকডইনে যুক্ত, আমি আপনার কাছ হতে কিছু প্রোফেশনাল এ্যাসিসট্যান্স নিতে চাই”, “স্যার, আপনি কেমন আছেন? আমি আপনার সাথে কানেক্টেড হতে চাই”-এরকম সূচনা মেসেজ দিয়ে শুরুন। অর্থাৎ, আপনি প্রথমে ওই ভদ্রলোক/ভদ্রমহিলার সাথে পরিচীত হোন, তার সাথে সম্পর্ক বা জানাশোনা, তথ্য বিনিময়, ইন্টার‌্যাকশনটা শুরু করুন। ধীরে ধীরে আপনি তাকে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবস্থা অনুযায়ী সাহায্য চান। হ্যা, আপনি যদি স্রেফ একটি তথ্য বা পরামর্শ নেবার জন্যই এপ্রোচ করে থাকেন, তাহলে প্রথমে সংক্ষেপে তার সাথে পরিচীত হোন, তারপর তার সম্মতি নিয়ে তাকে প্রশ্ন করুন। তবে মনে রাখবেন, পরিচয় পর্ব গাঢ় করতে গিয়ে যেন, আজকে হাই, কালকে তার উত্তর পেয়ে হেলো, পরশু আবার, কেমন আছেন, তরশু আপনার লেখা ভাল লাগে, তার পরদিন আপনি কোথায় কাজ করেন, তারপর আরেকদিন একটা কথা বলতে চাই, বলব, …………এভাবে ইনবক্স ডিপ্লোম্যাসিতে গেলে আবার গণেষ উল্টে যাবে। বুদ্ধি এপ্লাই করুন।

২.কখনোই একদম প্রথম মেসেজটি/এ্রপ্রোচটি যেন এভাবে শুরু না হয়: “ভাইয়া, আপনার ফোন নম্বর/ইমেইল আইডিটা দেবেন”, “ভাই, আপনার কাছে একটা সাহায্য দরকার”, “স্যার, আপনাদের ওখানে কোনো পোস্ট খালি আছে”, ”স্যার, আমার একটা চাকরি দরকার”, “স্যার, আমার জন্য কিছু করা যায়?”, “ভাইয়া, আমি জবলেস, সাহায্য করুন”, “ভাইয়া, আপনি খুব ভাল মানুষ” ইত্যাদি।

৩.ভাইয়া, আপু, আপ্পি, বস, মামা-এমন ইনফরমাল এড্রেসিংগুলো পরিহার করাই বোধহয় সার্বিকভাবে মঙ্গলজনক। অনেকেই এমন ইনফরমাল এড্রেসিং এ সহজবোধ করেন না। তাছাড়া কর্পোরেটে স্যার/ম্যাডাম/ভাই/সাহেব-এইগুলোই বেশি উপযুক্ত। 

৪.একজন কর্পোরেট পারসনকে যদি আপনি আপনার কাজে লাগাতে চান কিংবা তার থেকে কোনো কাজ পেতে চান, তাহলে দীর্ঘমেয়াদী পথে এগোবেন। প্রথম রাতে বিড়াল মারার চেষ্টা করলে ফল ভাল হয় না।

৫.তার কাছে কোনো সাহায্য চাইবার আগে দেখে নিন, তিনি সেটার সাথে সংশ্লিষ্ট কিনা।

৬.একজন টার্গেটেড পারসনের অনলাইন একটিভিটিতে লাইক/কমেন্ট/রিভিউ দেবার মধ্য দিয়েও তার সাথে ইনটিমেট হতে পারেন।

৭.প্রায়ই যেটা হয়, লিংকডইনে কারো কানেকশন রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করলাম। তার কয়েক মিনিট/ঘন্টা পরেই তিনি মেসেজে তার একটা সিভি এটাচ করে বা না করে অনুরোধ করেন, ”স্যার, আমার প্রোফাইলটি দেখুন। কোনো জব আছে?” এটি ভুল।

৮.অনেক সময় অনলাইনে বিশেষত লিংকডইনে জব সার্কুলার পোস্ট করলাম, বলেও দিলাম অমুক মেইল আইডিতে সিভি মেইল করুন। মন্তব্যে কেউ কেউ শুধু লেখেন, “Plz view my profile for the job”। জব প্রোভাইডারকে ডিরেক্ট না করে তিনি তার পোস্টে ঠিক যেভাবে চাকরি বা কাজটির জন্য এপ্রোচ করতে বলেছেন সেভাবে করুন।

৯.অনেককে আবার মেসেঞ্জারে সিভিটি দিতে বলার পরও বলেন, স্যার, মেইল আইডিটা দেবেন?

১০.অনেকে অভিযোগ করেন, মেসেঞ্জারে বা লিংকডইন মেসেজবক্সে সিভি এটাচ করার বাটন খুঁজে পাচ্ছি না। আমি যতটা জানি, মোবাইলে এই সমস্যা হতে পারে। পিসি, ল্যাপটপ, প্যাডে এই সমস্যা নেই। তাই ওখান হতে চেষ্টা করবেন। আর সবসময় মোবাইলে আপনার সিভির ওয়ার্ড ভারসন হতে হাই রেজুলেশনে জেপিজি করা ফাইল প্রস্তুত রাখবেন (স্ক্যান কপি নয়)। যখনি কেউ মেসেঞ্জারে বা লিংকডইন মেসেজে সিভি দিতে বলবেন, সাথে সাথে দিন।

১১.একজন কর্পোরেট পারসনকে অফিস আওয়ারে মেসেজ দিয়ে তার উত্তর সাথে সাথে আশা করবেন না। অফিস আওয়ারে তিনি আপনার সাথে চ্যাটবক্সে সময় দেবেন-এমনটা আশা না করাই উচিৎ। তাই বলে আবার তার ব্যক্তিগত সময়ে বা গভীর রাতে মেসেজ দেবেন না। তাই উপযুক্ত সময় হল লাঞ্চ আওয়ার, সকাল ৯টা পর্যন্ত, কিংবা রাত ৬ টা হতে রাত ৮ টা ভাল সময় হতে পারে।

১২.একজন প্রোফেশনালকে বিভিন্ন উৎসবে, উপলক্ষ্যে মেসেজ পাঠান। হ্যা, তাকে কোন ভাষায় বা কোন ধরনের মেসেজ পাঠানো উপযুক্ত সেটা ভেবে নেবেন।

১৩. আপনি যদি একজন সিরিয়াস ক্যারিয়ারিস্ট হয়ে থাকেন বা হতে চান, ক্যারিয়ারের জন্য কোনো সিনিয়র প্রোফেশনালের বা নেটওয়ার্কের সাহায্য নিতে চান, তবে, দয়া করে, দয়া করে, দয়া করে, নিজের ফেসবুক আইডি, লিংকডইন আইডি, জিমেইল আইডি, মেসেঞ্জার আইডি আপনার সিভিতে দেয়া পূর্ন নামের অনুরূপ করুন। এর পেছনের পটভূমিকা অনেকবার ব্যখ্যা করেছি। তাই ব্যাখ্যায় আর গেলাম না।

আর দয়া করে এলোমেলোভাবে না ঘুরে একটা পরিকল্পনামতো জব হান্টিং করুন। অসংখ্য যায়গায় অপরিকল্পিত ঘোরাঘুরি না করে বরং টার্গেটেড কিছু ক্যারিয়ার মেনটরের সাথে লেগে থাকুন। আপনারা মেনটরদের কাছে আসেন, সাহায্য চান অথচ কিছুদিন পরেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। ফলে যখন সত্যিই একটা জবের অফার হাতে আসে, তখন আর লোক পাই না।

ক্যারিয়ার, প্রিপারেশন, সিরিয়াসনেস-তিন নিয়ে আমি প্রায়ই কথা বলি। কেউ কেউ জানতে চান, সেটা কী?

একটা উদাহরন বলি। একজন বিএ পড়ুয়া আর আরেকজন মাস্টার্স পড়ুয়া ছাত্র। প্রত্যন্ত গ্রামে থাকে। সেখান হতে কী করে যেন আমার সাথে জুড়ে গেছেন। এই দুজন মানুষ প্রায় প্রতিদিন মেসেজ করেন, “ভাই, অমুক বিষয়টা বলেন, তমুক প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেব, ওই বিষয়ে কীভাবে রেডি হব, তমুক কথাটা যে বললেন, সেটা আরেকটু বুঝিয়ে বলেন, কোন সাবজেক্টে বেশি বাজার চাহিদা, কোন জবে ভবিষ্যত ভাল, ইত্যাদি ইত্যাদি।

তাদের মধ্যে বিএ পড়ুয়া ব্যক্তির সাথে কথা ঠিক হয়েছে, ইদের পরে ঢাকায় আসবেন। তাকে গার্মেন্টসে QI পদে নিয়োগ করে দেব। সে সেই চাকরি করেই বিএ পড়া শেষ করবে। তারপর স্টাফ হবে। তারপর ক্যারিয়ার গড়বে। এনার্জি, উদ্যম, সাহস, সিরিয়াসনেস, উদ্যোগ একেই বলে।

তার সাথে যোগাযোগ ১ বছর ধরে। এর মধ্যে একবারও বলেনি, একটি জব দিন। বলেছে, বুদ্ধি দিন, পরামর্শ দিন। মাস্টার্স শিক্ষার্থী গ্রামে থেকেও তার ক্যারিয়ার সিরিয়াসনেস দিয়ে আমাকে মুগ্ধ করেছেন। সেদিন জানতে চান, কম্পিউটারে সব এপ্লিকেশন পারি। আর কোন এ্যাডভান্সড কোর্স করব? চেয়ে দেখি, আমিও সবগুলো পারি না। ধন্য আপনারা। আমার শিক্ষা নেয়া উচিৎ।

সারকথা হল, কর্পোরেট জগতটা একটা ফরমাল ও মেথডিক্যাল জগত। ব্যক্তিগত ধ্যানধারনা, পছন্দ, দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে সেখানে ফরমালিটি ও এপ্রোপ্রিয়েটনেস জরুরী। আপনি কোনটা করবেন, সেটা এবার অবস্থা অনুযায়ী নিজেই ঠিক করে নিন।

[অনুগ্রহ করে লেখার গুঢ় অর্থ না ভেবেই বেফাঁস মন্তব্য করে না বসি। লেখা কপি না করি। প্রায়ই বিভিন্ন জনের ওয়ালে আমার লেখা আবিষ্কার করি। নামে বা বেনামে। আর অনুরোধ, শেয়ার করুন লেখা। আরেকটা অনুরোধ, বাংলা অক্ষরে বাংলা লিখুন।]

গ. প্রোপার এপ্রোচিং ও এফোর্টের ভিতর দিয়ে মামু-খালু পাতানো, তথা #Network #নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি ও ক্যারিয়ার লিংকিংয়ের কিছু জেনেরিক ও ইউনিভার্সাল পন্থা:

ছোটবেলায় মা বলতেন, মামু খালু ছাড়া চাকরি হয়না। সরকারী চাকরির কথা মাথায় রেখে ওটা বলতেন। আজকালকার দিনে সরকারী চাকরির চেয়ে বহুগুনে বেসরকারী চাকরির বাজার ও চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সব যায়গায় একটা হাহাকার, রেফারেন্স ও লিংক ছাড়া আজকাল চাকরি হয় না। আমি নিজেও বলছি, দুঃখজনক হলেও সত্যি, যে, আমাদের ভাল ভাল চাকরির বাজারটার একটা বড় অংশই সিন্ডিকেট, নেটওয়ার্ক, কোরামের হাতে কুক্ষিগত হয়ে গেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে দেশী ও বিদেশী কিছু হেড হান্টিং ফার্মের দৌরাত্ম। ফলে অর্গানিক রিচ খুব কমে গেছে। তাই একদম টিপিক্যাল ও ট্র্যাডিশনালভাবে জব ম্যানেজ করা বেশ কঠিন হয়ে গেছে। বিশেষত সিনিয়র পজিশনে। আমি বেশ কিছু সিনিয়র প্রফেশনালকে চিনি, যারা নিজেরা বিশ্বাস করতেন, যে, তারা বেশ যোগ্য, এবং, তাদের বাজার দর বা এমপ্লয়্যাবিলিটি ভ্যালু বেশ চড়া। অথচ, তাদের অনেকেই বিগত ৬ মাস হতে ১২ মাস জবলেস। একটা বড় কারন নেটওয়ার্ক ও জ্যাকের স্বল্পতা। এই লেখায় সিন্ডিকেট বা নেটওয়ার্কের পিন্ডি চটকাবো না। ওই কাজ আরেকদিন, অন্যত্র। এই লেখার ফোকাস ভিন্ন।

কীভাবে বাড়াবেন লিংক?

১.কর্পোরেট পারসনদের সরাসরি ফেসবুক, লিংকডইনে মেসেজ দিন, পরিচীত হোন, পরিচয় দিন, তথ্য, জ্ঞান, প্রশ্ন বিনিময় করুন।

২.একদিনে সব করে তারপর ডুব দেয়া নয়, নিয়মিত (প্রতিদিন নয় কিন্তু) যোগাযোগ রাখুন।

৩.সিনিয়রদের প্রথম পরিচয়েই চাকরি চেয়ে বসবেন না। কীভাবে কথা শুরু করতে হয় সেটা নিজেই ভেবে নিন। তবে কখনোই মাই ডিয়ার স্টাইলে নয়। “ভাইয়া/আপু স্টাইলেও নয়।

৪.প্রতিদিন হাই, হ্যালো, কেমন আছেন টাইপের মেসেজ দিয়ে দায়ীত্ব শেষ মনে করবেন না। নিয়মিত যোগাযোগ মানে হাই হ্যালো নয়।

৫.আপনার ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ব্যাচের ভাইয়েরা কোথায় কে আছেন, খুঁজে লিংকড হোন।

৬.জব ফেয়ারে যান। সিভি ড্রপ করুন।

৭.টপ লেভেলের যে কটা জব পোর্টাল আছে, সবগুলোতে সিভি আপলোড করুন, প্রোফাইল বানিয়ে নিয়মিত আপডেট করুন।

৮.বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজ/লিংকডইন পেজে নিয়মিত সদস্য হোন। ইন্টার‌্যাক্ট করুন।

৯.বিভিন্ন প্রোফেশনাল ফেসবুক গ্রূপ/লিংকইন গ্রূপের সদস্য হোন, নিয়মিত ইন্টার‌্যাক্ট করুন।

১০.নিজে লেখার চর্চা করুন। যেকোনো বিষয়ে। যারা ফিডব্যাক দেন, তাদের সাথে ইন্টার‌্যাক্ট করুন।

১১.কখনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিলে সেখানকার এইচআর পারসনদের কনটাক্ট নিন। নিয়মিত মেইল বা মেসেজ বিনিময় করুন।

১২.কোনো কর্পোরেট অনুষ্ঠানে গেলে মানুষের সাথে যেঁচে পরিচীত হোন। বিজনেস কার্ড নিন। কার্ড দিলে মনে করে সেখান হতে মেইল আইডি নিয়ে মেইল করুন। বিশেষভাবে ফেসবুকে বা লিংকডইনে যোগাযোগ রাখুন।

১৩.কোনো ওয়ার্কশপ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, দাওয়াতে গেলে প্রোফেশনাল পারসনদের সাথে নিজে যেঁচে পরিচীত হোন। পরিচয়টা কন্টিনিউড রাখুন।

১৪.আর হ্যা, যার সাথে লিংক করতে চাচ্ছেন, তিনি যদি সিরিয়াস মানুষ হন, আপনার “দুঃখিনি রাতের পাখি” টাইপের ফেসবুক বা লিংকডইন আইডি তাতে বাঁধ সাধবে। নিজের পূর্ন নাম দিয়ে আইডি খুলুন। ইমেইল আইডিতেও একই কাজ করুন। লিংকডইন প্রোফাইল যত্ন নিয়ে সাজান। তারপর মাঠে নামুন। 

১৫.অনলাইন কর্মকান্ডের অর্থাৎ ভার্চুয়াল জগতে উপস্থিতির ব্যাপারে মার্জিত ও সতর্ক হোন। আপনার ওয়ালের চিত্র কর্পোরেট পারসনকে আকৃষ্ট না বিতৃষ্ণ করবে-নিজেই ভাবুন।

১৬.যার সাথেই টার্গেট করবেন, নিয়মিত থাকবেন। শুধু হাই হ্যালো না করে, একটি পরিপূর্ন নেটওয়ার্কিং বলতে যা বোঝায়, তাই করুন। মনে রাখবেন, বিরক্তির উদ্রেক হয়, এমন কিছু করবেন না। কথা ও এপ্রোচে স্মার্ট হোন।

১৭.একজন সিনিয়র কর্পোরেট পারসনকে “ভাইয়া”, “আপ্পি” সম্বোধন করলে তিনি সেটা সহজভাবে নাও নিতে পারেন। স্যার, ম্যাডাম, ভাই বা আপা মনে হয় চলে। আর অবশ্যই প্রথম এপ্রোচে কিংবা দু’দিন আলাপেই ফোন নম্বর চেয়ে বসবেন না। কিংবা লিংকড হয়েই সিভি দিয়ে চাকরি চেয়ে বসবেন না।

১৮.আপনি এপ্রোচ করা মাত্র তিনি আপনাকে সবরকম রেসপন্ড করা শুরু করবেন-এমন ভাবলে আপনার ভুল হবে। বিশেষত ব্যস্ত অফিস আওয়ারে তিনি আপনার মেসেজ/প্রশ্ন’র উত্তর দেবেন সময় নিয়ে-আকাশ কুসুম কল্পনা হবে। আবার রাত গভীরে তাকে মেসেজ/ফোনে দেবেন কিনা সেটাও মনে হয় বলে দেবার দরকার পড়ে না।

১৯.নিজে লিখুন যেকোনো বিষয় নিয়ে। সেটা বড়দের পাঠান, মতামত চান। এভাবেও লিংক হয়।

২০.কথা বা মেসেজ লিখতে মার্জিত, স্মার্ট ও প্রোফেশনাল হোন। আবেগ কম করুন।

২১. সোশ্যাল হোন। আত্মীয়, বন্ধু ও পেশাজীবিদের সমাজে যাতায়াত করুন। পারলে ক্লাব, জিম, অ্যাসোসিয়েশনে যান। আমার এক মেনটর বলতেন, যেই ক্লাসে আপনি যেতে যান, সেখানে পৌছাবার আগেই সেই ক্লাসের লাইফস্টাইল ও সোশ্যাল স্ট্যাটাসের চর্চা আপনাকে বাড়তি সুবিধা দেবে। আপনার লাইফস্টাইল ও সোশ্যাল স্ট্যাটাস আপনাকে অন্যদের নজর কাড়তে ও আপনার প্রতি এক ধরনের সমীহ তৈরীতে সাহায্য করবে। ফলত তাতে আপনার নেটওয়ার্ক বড় হবার সুযোগ তৈরী হবে। আপনি যেমন মানুষ, তেমনটা লাইফ স্টাইল ও ক্লাস মেইনটেইন করে চলার পরামর্শই আপনাকে প্রায় সবাই দেবেন। সেটাই এখন তক সবচেয়ে পপুলার নিয়ম। তবে এতে কিছু ক্ষতিও হয়। আমার এক মেনটর আমাকে বলেছিলেন, বড় যদি হতে চান, তাহলে বড় হবার আগেই বড়দের লাইফস্টাইল অনুসরন করুন। তাতে আপনার চারপাশের মানুষও আপনাকে দাম দেবে, কাছে ভিড়বে। নেটওয়ার্ক বাড়বে। সেই সাথে সুযোগ আসতে থাকবে। মানুষ আপনাকে সমীহ করে হলেও সুবিধা দেবে। ফলে, কিছুদিন পরে আপনি আপনার কাঙ্খিত পজিশনে যাবার সুযোগ পাবেন। #EarlyCelebration

একই সাথে আরেকটা দিক বলি। আপনি যদি আয় অনুযায়ী ব্যয় এই নীতিতে চলেন, তাতে জীবন গড়পড়তা ভাল চলবে। তবে এর একটা ট্রেড অফ আছে। সেটা হল, আপনি যদি আপনার ব্যক্তিত্ব ও মনুষ্যত্বের সাথে কমপ্রোমাইজ করে আপনার চেয়ে নিচের ক্লাসে চলেন, তাতে করে আপনার ব্যক্তিত্ব, রুচী, আত্মবিশ্বাস, সাহস, উদ্যম মার খাবে, কমে যাবে। এই যেমন ধরুন, বড় কোম্পানীতে ছোট পদ, নাকি ছোট কোম্পানীতে বড় পদ-কোনটা প্রেফারেন্স হওয়া উচিত? সেই প্রশ্নে যদি আপনি ছোট কোম্পানীতে বড় পদে যান, তাহলে পদের গরম পাবেন, মোটা বেতন পাবেন। কিন্তু, থার্ড স্ট্যান্ডার্ড পরিবেশ ও মানুষের সাথে মিশতে মিশতে আপনার ব্যক্তিগত ক্লাস ডাউন হবে, রুচি ও পছন্দ নিম্নগামী হবে, ব্যক্তিত্ব হ্রাস পাবে, লারনিং জিরো হবে, নেটওয়ার্ক ডাউন হবে। আপনার দৃশ্যমান, অদৃশ্যমান, আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক অ্যাডভাইজারদের বাহাস ও ন্যারেটিভসহ, বিভিন্নভাবে #network #নেটওয়ার্ক=নেটওয়ার্থ-এই থিমকে অন্ধবিশ্বাস করে আপনার সযতনে গড়ে তোলা নেটওয়ার্ক আসলে ফলাফলের বিচারে একটা ফক্কা, বা মিথ মাত্র। বাস্তবে এই নেটওয়ার্ক ও তার পেছনে আপনার অপরিসীম শ্রম ও ত্যাগ নেহাতই ভুয়া। স্বার্থের ছোট্ট একটা পদ্ম যদি আপনার হাতে থাকে, তাহলে আপনার কিছুই লাগবে না। মক্ষিকা ঘুরঘুর করবে। ভুরভুর করবে। আর যদি তা না থাকে, তাহলে আপনার বিশাল তথাকথিত নেটওয়ার্ক আসলে ইরানের নেটওয়ার্কের মতো হবে। আপনার অবস্থা সেখানে অনেকটা রক্ষিতার মতো। এমনিতে ক্লাবে, পার্টিতে তাদের বউরাই বাহুলগ্না থাকবে। যেদিন বউ ঘরে যায়গা দেবে না, তখন রক্ষিতার খোঁজ পড়ে। আপনি সেই রক্ষিতা হবেন। বউ হতে পারবেন না।

#necessityofnetworking #powerofsocialmedia #joblinking #headhunting #reference #lobbying #mentors #managingjob #howtoapproach #properapproaching #howtoconnect #careerlinking #quorum #seriousness #mentoring #searching #career #jobhunting

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *