ক. গার্মেন্টস সেক্টরের পদবী:
বাংলাদেশে প্রায় হাজার পাঁচেক গার্মেন্টস কারখানা। ছোট বড় দুরকমই আছে। এই কারখানাগুলোতে সারাবছরই স্টাফ মাইগ্রেশন হয়।
এক কারখানা ছেড়ে অন্য কারখানায় জয়েন করেন। এই প্রথায় জুনিয়র হতে শুরু করে সিইও পর্যন্ত আছে। কিন্তু মুশকীল হল, এই কারখানাগুলো বিভিন্ন বিভাগের কোনো নির্দিষ্ট বা ইউনিফাইড অর্গানোগ্রাম ও র্যাংকিং ল্যাডার মেনে চলে না।
ফলে দেখা যায়, একেক কারখানায় একেক রকম ডেজিগনেশন। কোথাও টপ হতে বটম মোট ১০ টি ধাপ আবার আরেক কারখানায় ধাপ ১৫ টি। কোথাও আবার ২০টি। সবচেয়ে অদ্ভূত একটা উদাহরন বলি, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ’অফিসার’ হিসেবে ২ বছর কাজ করার পর তাকে প্রোমোট করে র্যাংক দেয়া হয় ’এক্সিকিউটিভ’ এবং বলা হয় এতে তার প্রোমোশন হল। কিংবা ৩ বছর ’সিনিয়র অফিসার’ ছিলেন, তারপর তাকে প্রোমোশন দেয়া হল-’এক্সিকিউটিভ’।
আবার কোথাও তিনি কাজ করতেন এ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার পদে। কয়েকদিন পরেই তার প্রোমোশন হত ডেপুটি ম্যানেজার। তার আগেই তিনি জব সুইচ করলেন। সেখানে গিয়ে দেখেন তার ডেজিগনেশন হল ’সিনিয়র এ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার’। তারপরের র্যাংক ডেপুটি ম্যানেজার। মাঝখান হতে তিনি একটা র্যাংক হারালেন, সময়ও অপচয়।
আপনি বলতে পারেন, প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে র্যাংকে কী আসে যায়? টাকাই সব। হ্যা, টাকার জন্যই র্যাংক দরকার।
কেন/কীভাবে?
দেখুন: আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের ডিজিএম ও হেড অব এইচআর। আর প্রতিষ্ঠানে সবাই জানে আপনি আসলে এ্যাকটিং জিএম। আপনি যখন ইন্টারভিউ দিতে যাবেন জিএম পদে, আপনাকে জিজ্ঞেস করবেই, আপনি তো জিএম পদে কখনো ছিলেন না, জিএম হিসেবে কীভাবে কাজ করবেন। অনেকে আবার জিএম হিসেবে কখনো কাজ না করে থাকলে, তাকে সেই পদ দেবেনই না। তাকে সেই ডিজিএম হিসেবেই নিয়োগ করবে। আর পদের সাথে মানানসই বেতনের বেশি দেবে না।
অথচ তাদের জিএম দরকার আর আপনাকে জিএম দিলে সেই মতো বেতনও দিত। আপনি পদই শুধু হারাবেন না, বেতনও।
অনেক প্রতিষ্ঠান আবার নানান নাম দেন র্যাংকের। যেমন একই ‘রিক্রূটিং অফিসার’ আরেক প্রতিষ্ঠানে ‘চীফ প্লেসমেন্ট অফিসার’। ফলে বিপদে পড়েন যারা এইচআরে কাজ করেন, তারা। আগত প্রার্থী ঠিক কোন পজিশনে বা প্রোটোকল/স্ট্যাটাসে এখন আছেন তা বুঝতে হিমশীম খান। কোনো এক প্রতিষ্ঠানে আপনি জিএম-এইচআর হিসেবে কর্মরত আছেন, তো তারা সেটার নাম দিয়েছে “হেড অব এইচআর”। তারা ১০ লাইনের একটি কোম্পানী।
এখন আপনি গেলেন ৪০ লাইনের এক কারখানার জবের জন্য। তারা ভাববে, আপনি তো ১০ লাইনের প্রতিষ্ঠানের হেড অব এইচআর ও জিএম। ওনাদের ওখানে হেড অব এইচআরও হল একজন জিএম। কিন্তু তারা আপনাকে জিএম দিতে রাজি না, কারন আপনি তো মাত্র ১০ লাইনের জিএম। ৪০ লাইনের মানে বড় প্রতিষ্ঠানে তো আপনি জিএম হতে পারেন না-ইত্যাদি।
অথচ আপনি হয়তো কোনো একটি বিশেষ কারনে ওই ১০ লাইনের ছোট কারখানাতে জিএম পদ নিয়েছিলেন। আপনার এতদিনের ক্যারিয়ার, যোগ্যতা কোনো মূল্যায়ন পেল না। পদের টাইটেল যাই হোক না কেন, জরুরী কাজ হল, পদের র্যাংকিং ল্যাডার ঠিক করা। আমার মতে, সবগুলো গার্মেন্টস কারখানা যদি একটি ইউনিফাইড ডেজিগনেশন সিস্টেম ও র্যাংকিং ল্যাডার ফলো করে তবে কেউ আন্ডার প্রিভিলেজডও হবে না, ওভার প্রিভিলেজড হবে না।
আমার নিজস্ব মতে, যেকোনো মাপের কারখানাই হোক, ডেজিগনেশনগুলো হতে হবে নির্দিষ্ট র্যাংকিং লেভেলের। কেমন হতে পারে সেটি। দেখুন, আমার মতামত:
লেয়ার বা লেভেল-৫: A বা Associate লেয়ার তথা সার্ভিস স্টাফ-যারা পরিচীত হবেন এসোসিয়েট বা এ্যাসিসট্যান্ট নামে। এখানে ১টিই পজিশন।
লেয়ার বা লেভেল-৪: E বা অফিসার লেয়ার। অফিসার বা এক্সিকিউটিভ যেকোনো একটি টার্ম ব্যবহার করতে হবে। কারন দুটোই এক জিনিস। অফিসারকে প্রোমোশন দিয়ে এক্সিকিউটিভ করাটা একই কুমির ছানা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখানোর মতো। অফিসার লেভেলে ৪টি ধাপ থাকবে-
র্যাংক-২: ট্রেইনী,
র্যাংক-৩: এ্যাসিসট্যান্ট অফিসার/এক্সিকিউটিভ,
র্যাংক-৪: অফিসার/এক্সিকিউটিভ,
র্যাংক-৫: সিনিয়র অফিসার/সিনিয়র এক্সিকিউটিভ
(ইন-চার্জ নামে একটা ঘোড়ার আন্ডা ডেজিগনেশন গার্মেন্টস সেক্টরে সগৌরবে দাপটে টিকে আছে। যারা অফিসারও না, ম্যানেজারও না। ওটা হল একটা নেহাতই ঘোড়ার আন্ডা। ওই অনেকটা “যার নাই কোনো গতি, সেই হয় সহ-সভাপতি”র মতো। আমি এই পজিশনটা একদম আন্দামানে নির্বাসন দেবার পক্ষে। ওটার জন্ম দেয়া হয়েছে কাউকে ম্যানেজার না করে ঝুলিয়ে রাখার জন্য। কেমন?
ধরুন, সে বহুদিন সিনিয়র অফিসার ছিল। এবারতো তাকে ম্যানেজারের রোল দিতে হবে। অথচ প্রতিষ্ঠান তাকে নিয়ে শিওর না, সে কেমন কী করবে। আবার বেতন টেতনও বাড়াতে বেশি মন চায় না, ব্যাস, দাও তাকে ইন-চার্জ করে। না ঘর কা, না ঘাট কা।)
লেয়ার বা লেভেল-৩: M বা ম্যানেজার লেয়ার, যার পজিশনগুলো হতে পারে ৪টি ধাপে-
র্যাংক ৬: এ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার,
র্যাংক-৭: ডেপুটি ম্যানেজার,
র্যাংক-৮: ম্যানেজার,
র্যাংক-৯: সিনিয়র ম্যানেজার।
লেয়ার বা লেভেল-২: জি বা জিএম লেয়ার, যার পজিশনগুলো হতে পারে-
র্যাংক ১০: এজিএম,
র্যাংক-১১: ডিজিএম,
র্যাংক-১২: জিএম।
র্যাংক-১৩: সিনিয়র জিএম। এখানেও ৪টি পজিশন।
লেয়ার বা লেভেল-১: সি/ডি/অথবা পি লেয়ার, যার পজিশনগুলো হতে পারে ১টি বা ৩ টি ধাপে-
র্যাংক-১৪: ডিরেক্টর,
র্যাংক-১৫: এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর,
র্যাংক-১৬: সিইও বা সিওও।
(প্রেসিডেন্ট পোস্টটা এ্যাশ্যাদ চাচার জন্য রিজার্ভ রাখলাম।) এখানেও ৪টি পজিশন। আর উপরে বোল্লা, নিচে কুমিল্লা, একদম টপে CEO।
প্রতিটি লেয়ার ও পজিশনের জন্য সুনির্দিষ্ট কমপিটেন্সী স্ট্রাকচার ও বেঞ্চমার্ক থাকবে, যাতে প্যারামিটার হবে একাডেমিক স্কোর, চাকরির বয়স, ইন্টারভিউ স্কোর ও অন্যান্য যোগ্যতার স্কোর। ওই ম্যাপিংয়ের সাথে কানেকটেড থাকবে ক্যারিয়ারিজম, ক্যারিয়ার পাথ, গ্রোথ ম্যাপ, স্যালারী ও অন্যান্য ফ্যাসিলিটির রেঞ্জ।
এভাবে যদি ডেজিগনেশনগুলো ইউনিফাইড হয়, কিংবা কমপক্ষে পদবী/ডেজিগনেশনের র্যাংকিং লেয়ারটি যদি ইউনিফাইড হয় আর সবখানেই যেকোনো টাইটেলের ডেজিগনেশনেই দেয়া হোক, সেটির ওই ১৩টির মধ্যে যেকোনো একটি মানা হয় (অনেকটা সরকারী চাকরির গ্রেডের মতো), তাহলে কোনো মানুষের চাকরি বদল করলেও তার পদ/পদবী/স্ট্যাটাস নিয়ে ওভার প্রিভিলেজড কিংবা আন্ডার প্রিভিলেজড হবার সুযোগ থাকবে না।
একজন মানুষ ধারাবাহিকভাবে তার ক্যারিয়ার নিয়ে এগোতে পারবেন।
যারা গার্মেন্টস সেক্টরের এইচআর নিয়ে কাজ করেন, তারা ভেবে দেখতে পারেন। বলতে পারেন, ভাই, আমাদের হাতে কিছুই না, সব মালিক ঠিক করেন। মিথ্যা কথা। সব অবশ্যই তারা ঠিক করেন না। আপনারাই বেশিরভাগ ওই কাজ করেন। তাই আমাদের করনীয়টা করে গেলেও অনেক উন্নতি হয়।
খ.জিএম সাপদের ফেসবুকিং
আগের পর্বের লেখায় বলছিলাম, আমাদের বেসরকারী খাতে, বিশেষত আরএমজি সেক্টরে একটি অভিন্ন ও একক র্যাংকিং ল্যাডার ডিজাইন ও ফলো করার বিষয়ে। যাতে করে, একটি প্রতিষ্ঠান হতে আরেক প্রতিষ্ঠানে কিংবা এক সেক্টর হতে অন্য সেক্টরে যাবার সময়ে এমনকি নিজ প্রতিষ্ঠানেই প্রমোশন ও র্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো কর্মী, এমনকি প্রতিষ্ঠানও আন্ডার প্রিভিলেজড ও ওভার প্রিভিলেজড না হয়।
সেই র্যাংকিং ল্যাডারটা অনেকটা ছিল এরকম-
লেয়ার বা লেভেল-৫: A বা Associate লেয়ার তথা সার্ভিস স্টাফ-যারা পরিচীত হবেন এসোসিয়েট বা এ্যাসিসট্যান্ট নামে। এখানে ১টিই পজিশন।
লেয়ার বা লেভেল-৪: E বা অফিসার লেয়ার। অফিসার বা এক্সিকিউটিভ যেকোনো একটি টার্ম ব্যবহার করতে হবে। কারন দুটোই এক জিনিস। অফিসারকে প্রোমোশন দিয়ে এক্সিকিউটিভ করাটা একই কুমির ছানা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখানোর মতো। অফিসার লেভেলে ৪টি ধাপ থাকবে-
র্যাংক-২: ট্রেইনী,
র্যাংক-৩: এ্যাসিসট্যান্ট অফিসার/এক্সিকিউটিভ,
র্যাংক-৪: অফিসার/এক্সিকিউটিভ,
র্যাংক-৫: সিনিয়র অফিসার/সিনিয়র এক্সিকিউটিভ
(ইন-চার্জ নামে একটা ঘোড়ার আন্ডা ডেজিগনেশন গার্মেন্টস সেক্টরে সগৌরবে দাপটে টিকে আছে। যারা অফিসারও না, ম্যানেজারও না। ওটা হল একটা নেহাতই ঘোড়ার আন্ডা। ওই অনেকটা “যার নাই কোনো গতি, সেই হয় সহ-সভাপতি”র মতো। আমি এই পজিশনটা একদম আন্দামানে নির্বাসন দেবার পক্ষে। ওটার জন্ম দেয়া হয়েছে কাউকে ম্যানেজার না করে ঝুলিয়ে রাখার জন্য। কেমন?
ধরুন, সে বহুদিন সিনিয়র অফিসার ছিল। এবারতো তাকে ম্যানেজারের রোল দিতে হবে। অথচ প্রতিষ্ঠান তাকে নিয়ে শিওর না, সে কেমন কী করবে। আবার বেতন টেতনও বাড়াতে বেশি মন চায় না, ব্যাস, দাও তাকে ইন-চার্জ করে। না ঘর কা, না ঘাট কা।)
লেয়ার বা লেভেল-৩: M বা ম্যানেজার লেয়ার, যার পজিশনগুলো হতে পারে ৪টি ধাপে-
র্যাংক ৬: এ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার,
র্যাংক-৭: ডেপুটি ম্যানেজার,
র্যাংক-৮: ম্যানেজার,
র্যাংক-৯: সিনিয়র ম্যানেজার।
লেয়ার বা লেভেল-২: জি বা জিএম লেয়ার, যার পজিশনগুলো হতে পারে-
র্যাংক ১০: এজিএম,
র্যাংক-১১: ডিজিএম,
র্যাংক-১২: জিএম।
র্যাংক-১৩: সিনিয়র জিএম। এখানেও ৪টি পজিশন।
লেয়ার বা লেভেল-১: সি/ডি/অথবা পি লেয়ার, যার পজিশনগুলো হতে পারে ১টি বা ৩ টি ধাপে-
র্যাংক-১৪: ডিরেক্টর,
র্যাংক-১৫: এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর,
র্যাংক-১৬: সিইও বা সিওও।
(প্রেসিডেন্ট পোস্টটা এ্যাশ্যাদ চাচার জন্য রিজার্ভ রাখলাম।) এখানেও ৪টি পজিশন। আর উপরে বোল্লা, নিচে কুমিল্লা, একদম টপে CEO।
প্রতিটি লেয়ার ও পজিশনের জন্য সুনির্দিষ্ট কমপিটেন্সী স্ট্রাকচার ও বেঞ্চমার্ক থাকবে, যাতে প্যারামিটার হবে একাডেমিক স্কোর, চাকরির বয়স, ইন্টারভিউ স্কোর ও অন্যান্য যোগ্যতার স্কোর। ওই ম্যাপিংয়ের সাথে কানেকটেড থাকবে ক্যারিয়ারিজম, ক্যারিয়ার পাথ, গ্রোথ ম্যাপ, স্যালারী ও অন্যান্য ফ্যাসিলিটির রেঞ্জ।
ওই লেখা ৭ জন পড়েছেন, ৩ জন লাইক দিয়েছেন। অতঃপর ভুলে গেছেন। আমার অন্যান্য যাবতীয় হাবিজাবি লেখার মতোই। যাহোক।
আরেকটা চিন্তা মাথায় ঘুরছে বলে লেখা। এই কথাটা অনেকবারই অনেককে বলেছি। লিখেছিও হয়তো।
সেটা হল, আমার অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত পারসেপশন বলে, একটি প্রতিষ্ঠানে ওই যে ৫টি লেভেল বা লেয়ার বললাম, তাদের প্রত্যেকটিরই কিছু ইউনিক ও এক্সক্লুসিভ প্যাটার্ন বা ন্যাচার অব জব আছে বা থাকবে। যেমন:-
লেয়ার-১: সি/ডি/পি লেভেলের রোল/KRA/KPI হবে-আইডিয়া জন্ম দেয়া, প্রতিষ্ঠান ও তার কয়েকটি উইংকে ডিরেকশন দেয়া, প্রতিষ্ঠানের ডিরেকশন ও ডিসকোর্স ঠিক করা, দিবা বা নিশা স্বপ্ন দেখা।
লেয়ার-২: জি বা জিএম লেভেলের রোল/KRA/KPI হবে-স্ট্রাটেজী বানানো, কতগুলো টীমকে গাইড ও লীড করা, পলিসী ভাবনা ও সৃষ্টি করা, ম্যানেজারদের ম্যানেজ করা।
লেয়ার-৩: ম্যানেজার লেভেলের রোল হবে-টীম ম্যানেজ করা, ফিল্ড অপারেশন দেখভাল করা, টীম বিল্ড করা।
লেয়ার-৪: অফিসার বা এক্সিকিউটিভ লেয়ার: এরাই প্রতিষ্ঠানের সব থেকে ভিজিবলি ফাংকশনাল, অপারেশনাল ও এ্যাকটিভ প্রাণ। প্রতিষ্ঠানকে এরাই সচল রাখে, স্বপ্ন অর্জনে জীবন দেয়, সব কাজ এক্সিকিউট করে। এরাই প্রতিষ্ঠানের মূল রেভিনিউ আর্নার। আর এর ভিতর দিয়ে ভবিষ্যত লেয়ার ৩, ২, ১ এর পথে এগোয়। (হ্যা, যদি ম্যানুফ্যাকচারিং হয়, তাহলে ‘শ্রমিক’ বা ‘ওয়ার্কার’ লেয়ার থাকে আলাদাভাবে।
যদিও সত্যি বিচারে, প্রতিষ্ঠানের সবাইই ওয়ার্কার।) সবশেষ একটা কথা বলি। যেটা বলার জন্যই ওপরের বিশাল লেখার গর্ভপাত। লেয়ারগুলোর একবারে ওপরের দিকে লেয়ার ১ ও ২ এ যারা কাজ করবেন, তাদেরকে যদি সত্যিকারে অর্থেই তাদের করণীয় ও প্রত্যাশিত ভূমিকাটি পালন করতে হয়, তাহলে তাদেরকে যাবতীয় প্রদেয় সুযোগ, সুবিধা, এমপাওয়ারমেন্ট দেবার পাশাপাশি আরেকটা জিনিস দিতে হবে। সেটা কী?
সেটা হল তাদের জন্য প্রচুর রিল্যাক্সড ও ফ্রি টাইম। যেই সময়ে তারা ফেসবুক করবেন (সেই সুযোগে ফেসবুকে গ্রূপের পর গ্রূপ জন্ম দেবেন, গ্রূপিং করবেন, দলবাজি করতে ও নেতাগীরি পেতে নোংরামী করবেন), লিংকডইন করবেন, সেমিনারে চা খাবেন, রেডিসনে আড্ডা দেবেন, পুলে সাতার কাঁটবেন, ব্যাংকের বা সাপ্লায়ারের অথবা কাস্টমারের পার্টিতে গেলাস হাতে ঢুলবেন, হাতিরঝিলে গিয়ে বর্ষা এনজয় করবেন, অফিসে আরেকজন জিএমকে নিয়ে লবিতে চা খাবেন, বালি যাবেন, হিল্লি দিল্লি ঘুরবেন। হা হা হা ।
কেন বলছি এসব ফালতু গপ্প? ওই যে, বললাম না, ওনাদেরকে যদি সত্যি সত্যিই ওনাদের কাঙ্খিত ভূমিকাটি পারফেক্টলী পালন করা দেখতে চান, যদি তাদের বেস্ট ভ্যালুটা প্রতিষ্ঠানে ক্যাপিটালাইজ করতে চান, তাহলে তাদের প্রচুর ফ্রি টাইম ব্যবস্থা করে দিতে হবে। যেন তারা রিল্যাক্সড ও এনারজাইজড থাকেন। যেন এনগেজড না থাকেন। লোডেড ও বারডেনড না থাকেন।
৩ টাকার খরচের স্লিপ সিগনেচার আর চিঠির ড্রাফটিংয়ের বানান ভুল ঠিক করা নিয়ে যেন ব্লকড না থাকেন। কেন কেন কেন কেন কেন?
কারন হল, তাদের যে প্যাটার্ন অব জব ও মোড অব এক্সপেকটেশন, সেটার আনজাম দিতে হলে তাদেরকে চোখ বন্ধ করে ভাববার, স্বপ্ন দেখবার ও কল্পনা করবার সময় দিতে হবে। নতুন কিছু সৃষ্টি করতে হলে তাকে রিল্যাক্সড থাকতে হবে। আমার জন্ম দেয়া আইডিয়াগুলোর একটা বড় অংশেরই জন্ম টয়লেটে। হাসবেন না, আক্ষরিকভাবেই টয়লেটে।
অফিস আওয়ারে ফেসবুক/লিংকডইনে ঢুঁ মেরে বেড়ানো জিএমদের নিয়ে যাদের রাগে (আসলে হিংসায়) আমাশয় হবার যোগাড়, তাদের বলি, ওরকমই একটা হারাম ফেসবুকিংয়ের ফাঁকেই আমি আবিষ্কার করি, যে, promo.com নামে একটা দারুন ফ্রি ওয়েবসাইট আছে, যেটার সাহায্য নিয়ে বিনা পয়সায় দারুন দারুন আকর্ষক ভিডিও প্রমো বানিয়ে নেয়া যায়। সাথে সাথে সেটা আমার জুনিয়র টীমকে দিয়ে দিলাম, যাতে তারা সেটার পুরো ফায়দা কোম্পানীকে দিতে পারে।
বিষয়টা আরও ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। সেটা না করলে আপনি আমাকে ভুল বুঝতে পারেন। বড় ব্যাখ্যা এখন লিখবার সময় নেই। কারন, একটু পরেই তিন দিস্তা বিল সাইন করতে হবে। একটা গল্প দিয়ে শেষ বুঝটা দিই।
আমার এক সহকর্মী তার ভাগনের গল্প বলেছিলেন। যিনি মার্সিডিজে (বা ওরকমই একটা প্রতিষ্ঠানে) জব করেন জার্মানীতে। টপ বস।
তারা সারা বছরের চাকরির একটি বড় সময় কাটে বালিতে, সিঙ্গাপুরে, হাওয়াইতে, ফিফি আইল্যান্ডে, ডিজনীতে। না, বিজনেস ডিলে না, অবকাশ যাপনে। অফিস টাইমে, অফিসের খরচে। বিজনেস ডিলের ভ্রমন তো আছেই। তো তাকে কোম্পানী নিজ খরচে সারা বছর অবকাশ কেন্দ্রে রাখে কেন? তাকে কেন সকাল ও বিকালে কার্ড পাঞ্চ করে অফিস করায় না? কেন তার জব কার্ড ম্যাটার করে না? (তার স্যালারী বাংলাদেশী টাকায় ১০ লাখের কাছাকাছি।)কারন একটাই।
কোম্পানী মনে করে, তিনি ওই হিংসা উদ্দীপক ভ্রমন ও বিলাসের মধ্যে থেকে বছর শেষে একটি বিজনেস আইডিয়ার জন্ম দেবেন। যেটা ব্যবহার করে কোম্পানী পরের বছর বা তার পরের বছর তিনশো মিলিয়ন ডলার ব্যবসা করবে। শুধু সেই আইডিয়াটা তার ব্রেইনের গর্ভে কনসিভ করানোর জন্য তাকে এত পয়সা খরচ করে বিলাসীতা করিয়ে বেড়ায়। ও ইয়ে, ভদ্রলোকের পজিশন বা (আমরা যেটা বাংলায় সহজে বুঝি) ডেজিগনেশন হল “চিফ আইডিয়া অফিসার”। ছ্যা, ছ্যা, ছ্যা, অফিসার!! ম্যানেজারও না।
[কী বললেন? আপনি আমার সাথে একমত নন? বিশ্বাস করুন, আমিও চাই আপনি আমার সাথে একমত না হোন। এত্ত বড় বড় লেখা পাবলিক পড়বে না আমি সেটা ভাল করেই জানি। তারপরও ছোট লিখি না বা সিরিজে লিখিনা। কেন লিখি না, তার নিজস্ব একটা ব্যাখ্যা এতদিন দিতাম। তার সাথে সাথে নতুন একটা শিখেছি শ্রদ্ধেয় গালিব সাহেবের কাছে।
সেটা হল, যেই মানুষ তার নিজের উন্নয়নের জন্য এই লেখাটা পড়ার মতো কাজে সামান্য ১৫ মিনিট ব্যয় করতে রাজি না, তার জন্য আমার ভাবনা করারও দরকার নেই। আমার লেখা তার জন্য না। আমার দর্শনের বিপরীতে এই লেখায় অনেক ইংরেজি টার্ম বাংলা ফন্টে লিখেছি। সেটা লেখার গতিশীলতার স্বার্থে। তবুও দুঃখিত।]
#garments #staffmigration #designation #unifiedrankingladder #unanimous #universal #jobdescription #dreaming #relaxtime