মূল্যহীন নাকি অমূল্য?:
সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু প্রফেশনাল ইস্যুতে বিতর্কে ফেসবুক লিঙ্কডইন প্রচন্ড সরগরম। তার মধ্যে একটা হল মোটিভেশনাল এইড আর সিভি রাইটিং এইড। বাংলাদেশে এই দু’টি বিষয়ে কাজ করার ক্ষেত্রটি বেশ ইনস্টিটিউশনালাইজড হয়েছে বিগত বছরগুলোতে। মানুষ এর কাষ্টমারও হচ্ছেন। নিশ্চই চাহিদা ও উপযোগ আছে বলেই বিষয় দুটো মার্কেট পাচ্ছে।
তবে সম্প্রতি এই দু’টো বিষয়ে বেশ তীব্র বিরোধিতাও হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হিংস্র বিতর্কও হতে দেখেছি। যদিও এই হিংস্রতা কাম্য নয়।
বাংলাদেশের বেসরকারী চাকরিজীবিদের যেই অংশটি ফেসবুক ও লিংকডইনের বঙ্গ আকাশে আছেন, তাদের সবাই সার্বজনীনভাবে কাউকে ভালোবাসবেন, পছন্দ করবেন-এমনটা হওয়া অসম্ভব হলেও এনারা Unanimously তথা সার্বজনীনভাবে কাকে ঘৃনা করেন, সেটা বের করা কঠিন না। এই বেসরকারী সমাজ সার্বজনীনভাবে সিভি মেকার এবং মোটিভেশনাল স্পিকারদের যারপরনাই তীব্র ঘৃনা করেন। [আপনি তর্ক করতে পারেন, যে, সবাই তো তা করে না। রাখেন ভাই, যে দেশে মানুষ ইনজেকশন কিনতেও পুরোটা কেনে না, হাফ কিনতে চায়, সেদেশে সবাই একরকম না, সেটা বারবার বলে দিতে হবে কেন?]
এই ঘৃনায় প্রজ্বলিত গোষ্ঠীর সিভি রাইটার বা সিভি মেকারদের নিয়ে যত আপত্তি ও ঘৃনা, তার প্রধান যুক্তি হল, এরা কেন মানুষকে সিভি বানিয়ে দেবার জন্য লোভ দেখাবে, কেন সিভি বানিয়ে দিতে হবে? মানুষ কেন অন্যের কাছে যাবে সিভি বানাতে? কেনই বা সেজন্য টাকা খরচ করতে হবে? একজন চাকরিপ্রার্থী গ্রাজুয়েট সিভি নিজে বানাতে না পারলে তার তো ফাঁসি হওয়া উচিত-ইত্যাদি ইত্যাদি।
অবশ্য ঘৃনকদের ঘৃনার আরেকটা কারন আছে, তা হল, দুই পাতা সিভি লিখে কেন ওরা এত টাকা কামাবে? আপনি এই বিষয়ে যদি বেশি পড়তে না চান, তাহলে বলি: মানলাম, যে নিজের ঢোল তো নিজেকে বানানোই উচিত। কিন্তু সেটা কি সবকিছুতেই? জীবনের সব কাজই কি আপনি নিজেরটা নিজে করবেন? তাহলে তো মানুষ আর বিয়েশাদিও করত না। সবই “এসো, নিজে করি” হত।
বা ধরুন, আপনি একজন ব্যারিষ্টার, কিন্তু যখন আপনার যখন ট্যাক্স ফাইল করতে হয়, আপনি একজন কার্ডিওলজিস্ট, কিন্তু যখন বাচ্চার ডায়রিয়ার চিকিৎসা করতে হয়, আপনি একজন জমিদার, কিন্তু যখন জমির দলিল লিখতে হয়,আপনি একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, কিন্তু যখন আপনার বাড়ির ডিজাইন করতে হয়,আপনি একজন মার্কেটিং ডিরেক্টর, কিন্তু যখন আপনার প্রতিষ্ঠানের বা পণ্যের বিজ্ঞাপন বানাতে হয়, তখন কি সেটা নিজেই করেন, নাকি কারো সাহায্য নেন? একজন মানুষ সব বিষয়ে এক্সপার্ট হওয়া কি বাঞ্চনীয়?কী?
তাও পেটের মধ্যে মোচড় দিচ্ছে? মনে মনে বলছেন, “……..শা…………লা…….আমার একটি চাকরির বিজ্ঞাপনের বিপরীতে গত ২ দিনে ১০০ টি মার্চেন্ডাইজিং রেজুমে এসেছে আমার মেইলে। প্রতিটাই দেখেছি। মুশকীল হল, ওই ১০০ টি সিভির খুব বেশি হলে ১০ টিতে বলা আছে, ওনারা কোন কোন বায়ারের কাজ করেছেন আর ওনারা কোন ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করেছেন। ওনাদের সিভিতে বহু কিছু আছে। কিন্তু এই সবচেয়ে দামী, দরকারী ও ক্যাচি তথ্যটিই সিভিতে নেই। সুতরাং, বুঝে নিন, কেন মানুষ নিজে ডাক্তার হলেও হার্টের চিকিৎসা করতে অন্যের কাছে যায়। [মার্চেন্ডাইজাররা আমাকে নিয়ে আন্দোলনে নামার দরকার নেই। এটি স্রেফ একটি উদাহরন মাত্র।]
যাহোক, উপরে বলা দু’টো বিষয়ে বিতর্ক এড়িয়ে কিভাবে পজিটিভলি বিষয়গুলোকে নেয়া যায় সেটা বলার চেষ্টা করব। কেন মটিভেশনাল স্পিচ ও সিভি রাইটিং এইড খারাপ, কেন তারা পরিত্যাজ্য, কেন তারা ধান্দাবাজ ও ফালতু (!) সে নিয়েতো অনেক যুক্তি শোনা হয়ে গেছে। তাই বিপক্ষের যুক্তিগুলো আর রিপিট করছি না। আমি শুধু পক্ষের কয়েকটি যুক্তি দেব। তবে ভাববেন না, আমি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে সাপোর্ট করছি। আমি সব মতকে শ্রদ্ধা করি (রাজাকার ও ধর্মান্ধদের ব্যাতিত)। আমি শুধু কমপারেটিভ এনালিসিস করে দেখাচ্ছি। কোনটার পক্ষ আপনি নেবেন সেটা আপনার চয়েস।
১.মোটিভেশনাল স্পিচ ও সিভি রাইটিং এইডের সাহায্য নিলে আপনার ক্যারিয়ার ধ্বংস হবার কোনো সুযোগ দেখি না। সাহায্য হতে পারে। তবে ক্ষতির সম্ভবনা আমি দেখি না। পরনির্ভরশীল হয়ে যাবেন-ভয় পাচ্ছেন? ওকে, যদি নিজেই বোঝেন পরনির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছেন সাথে সাথে স্টপ করুন না। ব্যাস।
২.বলতে পারেন, নিজের মোটিভেশনতো আমি নিজে। অন্য মানুষের আমাকে মোটিভেট করতে হবে কেন? ওয়েল, আপনার ডাক্তার আপনি নিজে নন, আপনার বাচ্চার অংকের টিচার নিজে নন, আপনার বাবার মৃত্যুতে তার দোয়া খতমকারী আপনি নন। আজকালতো মানুষ মারা গেলে তার জানাজা পড়াতে, কবর খোড়াতে, গোসল দিতেও প্রোফেশনাল লোককে ভাড়া করতে হয়। তাহলে মোটিভেশনকে একটি কমোডিটি বা সার্ভিস হিসেবে দেখে ওটাকে কিনতে অসুবিধা কোথায়?
৩.”সিভি নিজে যে লিখতে পারে না তারতো এমনিতেই চাকরী করার অন্যান্য যোগ্যতা নড়বড়ে হতে বাধ্য” কিংবা ’যে নিজের সিভি নিজে লিখতে পারে না, সে কেমন করে নিজের চাকরী নিজে করবে’ কিংবা ‘নিজের সিভি লিখতে পারে না এমন লোক মাস্টার্স পাশ করল কী করে’-এসব হল সিভি রাইটিং এইড না নেবার পক্ষে যুক্তি। ওয়েল, আপনি ম্যাট্রিক ইন্টারে ভাল ফল করার পরও কি ছেলেকে এ্যাডমিশন কোচিং পাঠাচ্ছেন না? অনার্স মাস্টার্স পাশের পরও কি বিসিএস দিতে আলাদা করে কোচিং করছেন না? অনলাইনে বিদেশে এডমিশনের সব ব্যবস্থা থাকলেও কেন মানুষ বিভিন্ন ফার্মের সাহায্য নিচ্ছে? অথবা ভাবুন, ট্রিমার দিয়ে নিজেই তো মনমতো শেভ হওয়া যায় তবু মানুষ কেন সেলুনে যায়? কেন যায়?
ভেরিয়েশন, কমফোর্ট ও এক্সপার্টিজ এর জন্য। সিভি রাইটিং এইড যাস্ট একটি এইড যারা আপনাকে হেল্প করবে, মতামত দেবে, ত্রূটি শুধরে দেবে, আপনার জন্য সিভির উপস্থাপন আকর্ষনীয় করে দেবে। আপনি নিজে যদি এক্সপার্ট হন তবে যাবেন না কারো কাছে। তবে সবাই তো এক্সপার্ট নন। তাছাড়া আমি ফার্স্ট ক্লাস হোল্ডার ও ১০ বছরের অভিজ্ঞ হতেই পারি তার মানে এই নয়, ক্যারিয়ার রিলেটেড সব বিষয়ে আমি সেরা হব।
যেমন, আমি ১২ বছর এইচআরে কাজ করি। বাট তবু আমি লেবার ল সম্পর্কে সুপার এক্সপার্ট না। ওটার জন্য আজও আইনজীবির সাহায্য লাগে।
৪.আধুনিক যুগে আমাদের কোন কাজটার জন্য থার্ড পার্টি নেই বলুন। আমরা নিজেরা পারি এমন সব সার্ভিস দেখুন প্রোফেশনাল সার্ভিসের ব্যানারে দেবার ব্যবস্থাও আছে যেমন:-খাদ্য নিজে বানাতে পারি তবু ফার্স্ট ফুড শপ আছে। জামা রেডিমেড কিনতে পারি তবু দর্জি দোকানও আছে। আয়রন নিজে করতে পারি তবু লন্ড্রি আছে। জুতা নিজে কালি করতে পারি তবু মুচি আছে। পরীক্ষার রেজাল্ট নিজের মোবাইলে দেখা যায় তবু দোকানেও ব্যবস্থা আছে। অনলাইনে বই পড়া, কেনা যায় তবু বইয়ের দোকান আছে, বই মেলা আছে। লিল লেখক আছে, কাবিন লেখক আছে, নোটারি আছে।
সিভি রাইটিং সার্ভিস কিংবা মোটিভেশনাল স্পিচ তেমনি একটি সার্ভিস। হ্যা পেইড সার্ভিস। আপনার লাগলে নেবেন, না লাগলে নেবেন না। তাই বলে সার্ভিসটা কি থাকতে হবে না? ৫.কিছু কিছু দুরাচার সব পেশাতেই সব সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রিতেই থাকে। বদ এইচআর, ধান্দাবাজ কমপ্লায়েন্স, ভন্ড অডিটর কি নেই? সেরকম ধান্দাবাজ মোটিভেশনাল স্পিকার বা সিভি রাইটার থাকতে পারে। আমরা তাকে নিয়ে মানুষকে সতর্ক করতে পারি, তার কাছ হতে দূরে থাকতে পারি। কিন্তু তার পেশাটার প্রয়োজনীতা তাতে শেষ হয়ে যাবে না।
অল্পদিন কোথাও কাজ করে কেউ মোটিভেশনার স্পিকার হয়েছেন কিংবা তার নিজের চাকরী/পেশাক্ষেত্রে তিনি (হয়তো) সফল ছিলেন না কিংবা তিনি সংশ্লিষ্ট সেক্টর বা পেশায় কখনো কাজ করেননি এমন অভিযোগের তীর ছুড়তে দেখেছি। তার উত্তরে বলব, মোটিভেশনাল স্পিকার হতে তাকে নিজেকে জীবনে প্রচন্ড সফল হতে হবে-কে বলল?
মোটিভেট করা যদি তার সার্ভিস হয়, সেটাতে তিনি সক্ষম কিনা সেটা দেখুন। তিনি তার পূর্বের পেশায় সফল হলেও ভাল মোটিভেটর নাও হতে পারেন আবার সেটাতে ভাল না হলেও ভাল মোটিভেটর হতে পারেন। জানেন কি, ভাল ছাত্র সবসময় ভাল শিক্ষক হয় না। ভাল খেলোয়াড় সুদক্ষ ক্যাপ্টেন হবার নিশ্চয়তা বহন করে না।
ভাল ছাত্র সুযোগ্য শিক্ষক হবার নিশ্চয়তা বহন করে না।
ভাল মানুষ সুদক্ষ ও সুযোগ্য কর্মী হবার নিশ্চয়তা বহন করে না।
বরং, ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা বলে, ভাল ছাত্র, ভাল প্লেয়ার, ভাল মানুষরা ক্যাপ্টেন, কোচ, শিক্ষক, প্রশাসক, কর্মী হিসেবে সুপার ফ্লপ হন। টেন্ডুলকার, কোহলি, ম্যারাডোনা, রাখাল বালককের উদাহরণ দেখুন। মান্ডেলার মতো সবাই গ্রেইট পারসন ও গ্রেইট রাষ্ট্রনায়ক একসাথে হয় না।
আমাদের দেশে হায়ারিং, সিলেকশন, ইভ্যালুয়েশন প্রক্রিয়ায় (সব প্লাটফরমে ও ফরম্যাটেই) Halo Effect Bias এর জয়জয়কার।
আমরা ধরেই নিই, যে, অমুক প্রচন্ড ভাল মানুষ, মাটির মানুষ, সোনার মানুষ, পীর সাহেব, দরবেশ, কালাচান, ধলাচান, অমূকের মুরীদ, তমুক বংশের দেবতাতুল্য মানুষ।
তাকে একটা পজিশন দিলে আমাদের দুঃখ ঘুঁচবে। তিনি দারুন প্রশাসক হবেন, নেতা হবেন, কর্মী হবেন। আমরা ভাবি, অমুক স্যারতো দেবতার মতো মানুষ, তমুক স্যারতো তুখোড় লোক ছিলেন, সমুক স্যার তো ফেসবুক ফাটিয়ে ফেলেন। ওনাকে ভাগ্যবিধাতা নিয়োগ দিলে নিশ্চয়ই মিরাকল ঘটিয়ে ফেলবেন। আর, ওদিকে ওই দেবতারাও মুহুর্মূহু নিজেরাও দাবী করতে থাকেন, যে, তারা দন্ডমুন্ডের কর্তা হতে পারলে দেখিয়ে দেবেন। দিয়ে দিই তাকে চেয়ার। ফলাফল এক বালতি হতাশা।
আমাদের দেশে সক্ষমতা ও দক্ষতার চেয়ে ভালমানুষি সেজন্য বেশি হাইপ পায়। ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা বলে, এরা সবাই ফেল মারে।
আমাদের ভালমানুষি দরকার না। আমাদের দরকার কাজের মানুষ। কাজের কাজের মানুষ। আমরা ভুলে যাই, যে, যুধিষ্ঠিরের চেয়ে আমাদের একলব্যকে বেশি দরকার।
৬.মোটিভেশন স্পিকিং ও সিভি রাইটিংকে শ্রেফ একটা পেশা বা বিক্রয়যোগ্য সার্ভিস হিসেবে দেখুন। ঠিক যেমন কনসালটেন্সি একটি সেবা বা সার্ভিস যেটা মানুষ পয়সা দিয়ে কেনে। বহুদিন ধরেই তো এইচআর কনসালটেন্সি এমনকি থার্ড পার্টি ট্যালেন্ট সোর্সিং তো চোখের সামনেই গড়ে উঠছে। কেউ কি কনসালট্যান্সিকে নিয়ে বিরোধিতা করছেন? সিভি নিজেই লেখা যায়। নিজেকে নিজে বা সুমহান ব্যক্তিত্বদের জীবনি পড়ে নিজেকে নিজে মটিভেট করা অবশ্যই যায়। পাশাপাশি এই প্রফেশনাল পেইড সার্ভিসও থাকল। কেউ যদি নিজে না পারে তবে সে তাদের কাছে যাবে।
৭.মোটিভেশনাল স্পিকার/সিভি রাইটাররা কেন মেইল দিয়ে, সার্কুলার দিয়ে, ফেসবুকে বক্তব্য দিয়ে, পোষ্ট দিয়ে লোক আকৃষ্ট করছেন? কারন ওটা তার পেশা বা ব্যবসা যাই বলেন। তো সব পেশার মানুষ যদি তার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি বা মার্কেটিং করতে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন, ব্রান্ড প্রোমোশন করতে পারেন এমনকি আজকাল বিদেশে এসকর্ট গার্ল সার্ভিসের জন্য, সারোগেসির মায়েরা পর্যন্ত বিজ্ঞাপন দেন। তো একজন মোটিভেশনাল স্পিকার বা সিভি রাইটার তার বিজ্ঞাপন করবেন না?
৮.ওরা বাঘা বাঘা প্রোফেশনালকেও ঘোল খাওয়াচ্ছে, ওভার এ্যাক্ট করছে, মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে, মেকি সমস্যার আবহ তৈরী করছে, মানুষকে নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে সন্দেহপ্রবন করে তুলছে, সেল্ফ কনফিডেন্স ডাউন করছে। হ্যা, আমার নিজেরও মাঝে মধ্যে ওনাদের কথা শুনে নিজের যোগ্যতা বা স্টাটাস নিয়ে হীনমন্যতা জাগে। তবে সেটা সাময়িক যা সামান্যতেই আবার রিকভার হয়। কিন্তু তার বিপরীতে হাজার হাজার মানুষ সার্ভিস পাচ্ছে-এটা ভাবলে আমার নিজের লাভ বা ক্ষতির হিসাবটা খুব বড় মনে হয় না।
৯.সিভি রাইটারকে বিউটি পার্লারের মতো দেখুন যাদের কাজ হল আপনার নিজস্ব সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলা। আপনার অনেক যোগ্যতা আছে। সেটাকে সিভিতে ফুটিয়ে তোলার কাজটা নিজেও করতে পারেন আবার সিভি রাইটারের মতো প্রফেশনালকেও দিতে পারেন। আরে ভাই, আমাদের ঘরে নাস্তা থাকলেও মাঝে মধ্যে বাইরে রেষ্টুরেন্টে খাই না? নাকি বলি, আমার ঘরে খাবার ও রান্নার জন্য বউ-দু’টোই থাকতে কেন বাইরে খাব? কিংবা এটা বলি, যে বউ নিজের ঘরের খাবার নিজে রাঁধতে পারেনা সে কেমন বউ?
১০.কেউ কেউ মনে করছেন, মোটিভেশনাল স্পিকার হলে তাকে অবশ্যই নিজের সফল হয়ে থাকতে হবে, নিজের ট্রাক রেকর্ড উজ্জল হতে হবে, তাকে অবশ্যই নিজে বড় মাপের কোনো ব্যক্তিত্ব হতে হবে, সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হতে হবে। আপনি জানেন কি, কোয়ান্টাম মেথডের গুরু যাকে একটা বিশাল সংখ্যক মানুষ মোটিভেশনের জন্য দীক্ষাগুরু মানে, তার নিজের পূর্ব পেশায় সফলতা ছিল না? বিষয়টাকে এভাবে দেখুন, কেউ কেউ হয়তো ক্লাসের রেজাল্টে ফেলটুস কিন্তু তারপরও পরবর্তি জীবনে সে ব্যবসায় বা ক্যারিয়ারে মারাত্মক সফল। থ্রি ইডিয়টসের কাহিনী মনে নেই? তাই হয়তো তিনি কেরানী চাকরীতে সফল হননি কিন্তু মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে দারুন সফল হতেও তো পারেন। আরে ভাই এটাও তো একটা পেশা।
তাছাড়া, হ্যা, স্পিকার হিসেবে সফল হওয়া খুব কঠিন একটা পেশা। জানেন কি, বিল ক্লিনটনের বক্তৃতা শুনতে পয়সা দিয়ে লোক আসে? তো প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের কথা শুনতে যদি পয়সা দেয়াটা হালাল হয়, তবে আমার আপনার বড় ভাই কেউ যদি সেই একই কাজ করে তবে দোষ কী? বলবেন ক্লিনটন নিজে সফল আর সে বিরাট মানুষ। এই ব্যাটা কোন আব্দুল্লাহ যে তার কথা পয়সা দিয়ে শুনব? ভাই আপনি তো ওনার কথাগুলো মূল্যায়ন করবেন, তাকে না। আর সফলতার কোনো মানদন্ড নেই। কে সফল আর কে নয় তার নির্দিষ্ট কোনো মানদন্ড আছে কি?
১১.কোনো কোনো সিভি রাইটার বা মোটিভেশনাল স্পিকার বাড়াবাড়ি করেছেন, করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। সেটা তার ব্যক্তিগত দোষ। তাতে পেশাটির দোষ দেয়া ভুল। আর হ্যা, কাউকে বা কারো কাজকে আমাদের যদি ভাল না লাগে, কারো কথার সাথে যদি আমি দ্বিমত হই, কারো দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত না হই, তারপরও তো পরমতকে, অপরের মুক্তচিন্তার অধিকারকে, অপরের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান দিতে হবে। ভায়োলেন্টলী অন্যের মতামতকে আক্রমন করলে, গোয়াড়ের মতো বিরোধিতা করলে, যুক্তিহীনভাবে ব্যক্তিগত আক্রমন করলে আমার নিজেরই ব্যক্তিত্ব নষ্ট হবে। গণতন্ত্র গণতন্ত্র শুধু তো সংসদে বা পল্টনে বললে হবে না। নিজের জীবনেও সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে।
১২.আমি না চাইতেও আমাকে ওরা ইনভাইটেশন পাঠাচ্ছে, অফার পাঠাচ্ছে-এমন কমপ্লেইন আছে। হ্যা, “ওরা” সেটা করছেন। তবে বিষয়টাকে এভাবে দেখি, প্রতিদিন আমার মোবাইলে ৫০ টা অফার মেসেজ আসে মোবাইল বা নানা কোম্পানী হতে আমি না চাইলেও। যুগটাই হয়েছে বিজ্ঞাপন আর প্রচারের। প্রচারে প্রসার। প্রচুর প্রচারনা ছাড়া আজকাল বাঘের দুধও বিক্রি হয়না (আমি আমার কয়েকটা লেখা দিয়ে সেটা বুঝেছি)।
১৩.শেষ কথাটা হল, যাকে ভূতে পায় সে নিজে কি নিজের ভূত ছাড়াতে পারে? বা যে সাইকিয়াট্রিক পেশেন্ট সে কি কখনো বুঝতে পারে নিজের সমস্যা আছে? কিংবা যে লেখক সে নিজে কি কখনো সম্পাদনা করে নাকি সব প্রকাশনীতে একজন প্রোফেশনাল সম্পাদনার লোক থাকে? ভাই জীবনে সব কাজের জন্য আমরা তৃতীয় ব্যাক্তির সাহায্যকে স্বাগত জানাই। তবে মোটিভেশন বা সিভি রাইটিংকেও একটি যাস্ট পণ্য বা সেবা ভেবে নিই। যখন লাগবে মনে হবে, কিনব। যখন লাগবে না, কিনব না। ওয়েল, এতক্ষন এই লেখা পড়ে যদি মনে করেন, আমি মোটিভেশনাল স্পিকার বা সিভি রাইটারদের সমর্থন করছি বা আমি তাদের পক্ষে, তাহলে ভুল করবেন। আমি কখনো কারো পক্ষ নিই না।
শুধু এই ইস্যুতে না, কোনো ইস্যুতে আমি কখনো পক্ষ নিই না (শুধু মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধ, রাজাকার, বাংলাদেশ ইস্যু বাদে, যেগুলোতে আমি চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট)। আমি শুধূ ইস্যুটার বিপরীত দিকটি বললাম। কারন বিরোধী যুক্তিগুলো অনলাইনে প্রচুর পাবেন। বিরোধী যারা তাদের যুক্তিকে পূর্ণ সম্মান রেখেই এই লেখা লিখেছি। কেউ ব্যাক্তিগতভাবে দুঃখ পাবেন না। এবার আপনি আপনার নিজের ডিসকোর্স ঠিক করুন। তবে অন্ধ অনুকরন করবেন না।
আমি এই চরম মেজরিটি প্রায়োরিটা্জড জগতে সবসময় নিজের ডিসকোর্স নির্ধারন করি এভাবে, পৃথিবীতে মানব দানব ফেরেশতা ইবলিস সব থাকবে। আমাকে তাদের সবাইকে নিয়েই বাঁচতে হবে। কারন ওঁদের সবাইকেই বিধাতা কোনো না কোনো কারন সৃষ্টি করেছেন। আমার যেটা ভাল মনে হয় সেটাকে কোলে নেব। যেটাকে খারাপ মনে হয় সেটা হতে নিজেকে দুরে রাখব। যদি আমার মটিভেশন দরকার মনে হয় তবে সেটা পয়সা দিয়ে কিনব।
ওইযে, আমরা পয়সা দিয়ে ম্যাসাজ করাই না। তো শরীরের ম্যাসাজ যেমন কিনি তেমনি মনের ম্যাসাজও না হয় কিনলাম। আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য কিন্তু মোটিভেশনাল স্পিকার বা সিভি রাইটিং নয়। মূল লক্ষ্য ছিল আমাদের সমাজে বিতর্ক তথা কুতর্ক করার মানসিকতা।
#resumemaking #resumewriting #CVwriting #motivationalspeaker #CVaid #influencer