সত্যি গ্রোথ, মিথ্যা গ্রোথ:
লেজ হচ্ছে এমন একটা বেয়াড়া অঙ্গ বা অংশ, যেটা চাইলেও লুকোনো যায় না। যেমন করেই হোক, সেটা প্রকাশ হয়ে বসেই। বিশেষ করে অস্থানে সেটা বেশি ঘটে।
সত্য হল সেরকম একটা লেজ, সে প্রকাশিত হবেই।
এই কিছুদিন আগেও উগান্ডেশ ছিল একটি মধ্যম আয়ের খ্যানাডা দেশ। যার রাজধানী ছিল লস অ্যাঙ্গেলেস।
তো, এই উন্নত দেশ, মধ্যম আয়ের দেশ, উদীয়মান ব্যাঘ্রের মিথ্যা আস্ফালনটা ক্ষনে ক্ষনে প্রকাশ হয়ে পড়তই। তারই একটা লেজ ছিল জি.ডি.পি নামক বোগাসের বিপুল বৃদ্ধির বিপরীতে শ্রিংকেজ অব এমপ্লয়মেন্ট ঘটতে থাকা। গোটা বিশ্বের তাবৎ অর্থনীতিবীদ, সমাজবিজ্ঞানী ও এনালিস্টদের কাছে এ ছিল এক বিষ্ময়, যে, অর্থনীতি বাঘের মতো বাড়ছে, আর এমপ্লয়মেন্ট ঠিক সেই সময় কমছে। এ যেন প্রেগন্যন্সি পিরিয়ড বাড়ছে আর পেটের মাপ কমছে-সেরকম।
যাহোক, সবাই সবই বুঝত, কেবল বলত না। সেই সময় কে যেন সাহস করে ‘দেশে ২৬ লাখ বেকার’ এমন একটা বোগাস বো ছুড়ে মেরেছিল। যদিও সেই সময় ’নিঃস্বব্যাংক’ (বিশ্বব্যাংক) আবার বলেছিল, যে, ওটা ২৬ লাখ না, ৪ কোটি ৮০ লাখ। জিডিপির বিপুল বৃদ্ধি নামক বোগাস লেজ প্রকাশের মতো করে প্রকাশ হয়ে পড়ত ওই বেকারত্বের আজব হারের মধ্য দিয়ে।
আ-কার, ঈ-কার, বেকার:
তো, নতুন করে আবার গতকাল বা পরশু সম্ভবত, কে বা কাহারা যেন রটিয়ে দিয়েছে যে, দেশে বেকার বেড়েছে। সে হবে হাজার বা লাখ খানিক। সঠিক ‘কড়িসংখ্যান’ হল ২৭.৪ লাখ।
তো, আমার কৌতুহল জাগছে অনেকগুলো খটকা নিয়ে-
১. বৃদ্ধিটা তুলনা করা হয়েছে কোন সময়কালের ’এশটাটিশটিকশে’র সাথে?
২. বেকারত্বের বিশুদ্ধতম সংজ্ঞা কি বাংলাদেশে আছে? (নেই)
৩. বাংলাদেশে যত জরিপ হয়, সেগুলোর সত্যতায় ও নিখূঁতত্বে কেউ বিশ্বাস করে? (মনে হয় না) বি.বি.এসের বেকার জরিপে সঠিক ডাটা পাওয়া, নেয়া ও দেয়ার ১% ভরসা কি কেউ করবে? মনে হয় না। কোরবাণীর সময় দেশে ১ কোটি ৭ লাখ, ২১ হাজার ৭ শো ২৯ টা গরু, ছাগল, পাঁঠা, খাসি ও ভেড়া আছে-এই স্ট্যাট দেখেই তো আন্দাজ মেলে।
৪. এই ২৭.৪ লাখ লোক রোজ কী করে? কেবল খায়, ফেসবুক করে, বাজারে যায়, লাল চা খায় আর টং দোকানে মাস্তি করে দিন কাটায়?
৫. এদের বয়স কত? কত বছর বয়স হতে কারো কর্মহীনতাকে বেকারত্ব বলা যাবে? কেউ যদি ১৭ বছর বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়, কাজও না করে, তাকে কি বেকার ধরা হবে? কেউ যদি ১২ বছরের হয়, কিন্তু, পড়াশোনাও করে না, কাজও না, সে কি বেকার বলে তকমা পাবে? আবার, বেকারত্বের সংজ্ঞায় একটা বয়স রেঞ্জ ধরা হয় (ধরুন ২৫-৪৫ বছর), যে বয়সে কর্মহীন থাকলে বেকার বলা হবে। তো, সেই বয়সের রেঞ্জ যখন বানিয়েছে, সেই সময় কি ১১ বছরের বালকরা মানুষ খুন বা রেপ করবার মতো ছিল? ছিল না তো। তাহলে আজকের ১৩ বছরের বালক, যে, পড়াশোনা করে না, আবার আয়ও করে না, তাকে বেকার ধরা হবে না কেন?
৬. চাঁদাবাজি, সুপারি ভিত্তিক কিলিং, যৌনব্যবসা, টিউশনী, দালালি, ফাপরবাজি করে ১৬ বছর বয়সী কেউ টাকা আয় করলে কি তাকে তবুও বেকার বলা হবে? ৩৫ বছরের কেউ ওভাবে আয় করতে পারলে সে কি বেকার? সরকারের বালাম কী বলে?
৭. তালিকাভূক্ত বা জরিপভূক্ত বা সংজ্ঞায়িত বেকাররা কতদিন বসে বসে খানা খেলে বেকার ধরা হবে?
৮. এই ২৭.৪ লাখের মধ্যে কত জন গ্রাজুয়েট, কতজন এইচ.এস.সি, কতজন এস.এস.সি, কতজন আন্ডারমেট্রিক, কতজন পি.এইচ.ডি, কতজন মাদ্রাসা পাস, কতজন নারী, কতজন পুরুষ, কতজন মিক্সড জেন্ডার, কতজন ধনী, কতজন গরীব?
৯. এই ২৭.৪ লাখ কি কোনোরকম কাজকাম জানে? নাকি ভাত খাওয়া, ফেসবুক করা আর চুগলি করা বাদে কিছুই পারে না?
১০. ৪.৬৩ % সংখ্যাটা সম্ভবত বেকারত্ব বৃদ্ধির হার। কথা হল, মোট কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যার মধ্যে কত সংখ্যক বেকার সেটা দিয়ে পারসেনটেজ হয়। কথা হল, ’কর্মক্ষম’ এর মানদন্ড কী? স্রেফ বয়স? স্রেফ আয় না করাই বেকারত্ব?
১১. সবশেষ প্রশ্ন হল, এই ২৭.৪ লাখকে কি আগামী দিনে রাজনৈতিক নাটকের ডামাডোলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মিছিল, মিটিং, রোডব্লক, দাঙ্গা, শো-অফে ভাড়ায় খাটানো যায় না? তাদেরও উপকার হয়, দলগুলোরও।
**উঈদ অল রেসপেক্ট টু এভরি হিউম্যান সোউল। লেখাটা বেকার ও বেকারত্বকে পরিহাস করে নয়, সেটাকে নিয়ে তৈরী ন্যারেটিভ ও রাষ্ট্রীয় তামাশাকে ফোকাস করে।
রেখেছ বেকার করে, কমপিটেন্ট করোনি:
আমার ফেসবুক ও লিংকডইন নেটওয়ার্কের একটা বড় সংখ্যক মানুষ হলেন ফ্রেশার বা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চাকরীখোঁজক (Jobseeker)। তাদের একটা বড় সংখ্যকই বিপদে পড়া প্রার্থী। ছোটোখাটো বিপদ না, অমানবিক রকমের বিপদ। আমার নিজেরই নিজের জন্য অসহায় লাগে। আমি নিজে খুব বড় হাস্তি কেউ না। তার উপর আমার নেটওয়ার্কটা খুব ছোট। সময়টাও সত্যি খুব খারাপ। চাকরীর বাজারের ভয়াবহতম অবস্থা। বলতে গেলে নতুন কোনো এমপ্লয়মেন্ট তৈরী হচ্ছে না অনেক দিন ধরেই। বরং, কিছু বছর ধরে সেটা নামছে আর নামছে।
#workforce #labordivident #laborshare #laborclassification বাংলাদেশের শ্রমবাজার কাঠামো নিয়ে একবার একটা সিরিয়াস জরিপ হয়েছিল। জরিপটা হয় ২০২২ সালের আপডেটকে বেস ধরে। ওই সময়কার প্রেক্ষাপটে শ্রমবাজারের কিছু আগ্রহোদ্দীপক বিশ্লেষন দেখি:
মোট জনসংখ্যা: ১৬৯.৮ মিলিয়ন;
কর্মক্ষম (১৫–৬৪ বছর): ১১৩.৭ মিলিয়ন;
১৫ বছরের কম ও ৬৫+ বয়সী (অকর্মক্ষম): ৫৬.১ মিলিয়ন;
কর্মক্ষম এর মধ্যে যারা কাজ করছেন বা করতে আগ্রহী (শ্রমশক্তি) ৭২.০৬ মিলিয়ন ( ৬৩.৬%);
কর্মক্ষম এর মধ্যে যারা কাজ করেন না, বা করতে আগ্রহী নন (শ্রমশক্তি নয়) ৪১.৬ মিলিয়ন (৩৬.৪%);
কর্মক্ষম এর মধ্যে যারা কর্মজীবি, অর্থাৎ যেকোনো রকম আয়সূচক কাজ করছেন ও আয় করছেন: ৬৮.৩ মিলিয়ন;
কর্মক্ষম এর মধ্যে যারা বেকার, কিন্তু সক্রিয়ভাবে কাজ খুঁজছেন: ৩.৭৬ মিলিয়ন;
শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ: ২৬.৬ মিলিয়ন (৩৬.৯%);
শ্রমশক্তিতে পুরুষের অংশগ্রহণ: ৪৫.৫ মিলিয়ন (৬৩.১%);
নারী শ্রমশক্তির মধ্যে কর্মে নিয়োজিত নারীর সংখ্যা ২৫ মিলিয়ন (৯৪.৩%); যার মধ্যে formal jobs (সরকারি+প্রাইভেট): ২.৫–৩.১ মিলিয়ন নারী (সর্বোচ্চ ১২% এর মতো); Informal+Self-employed sector: ২০–২২ মিলিয়ন নারী;
কর্মক্ষম এর মধ্যে ১.৫ মিলিয়ন সরকারী চাকরিতে, ১১ মিলিয়ন প্রাইভেট সেক্টরে, ৩১ মিলিয়ন সেলফ এমপ্লয়েড, ২৪.৮ মিলিয়ন অনানুষ্ঠানিক খাতে;
পরিচীতরা মনে করে, আমাদের হাতে কত চাকরী। চাইলেই আমরা কিছু করতে পারি। MBA করা প্রার্থীর পিয়নের চাকরি চাইবার ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানুষ চাকরি হারিয়ে বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে/বিদেশে শিফট হয়ে, মাথা গরম করে চাকরি ছেড়ে, বড় কিছুর আশায় নতুন কোথাও জয়েন করে আসল চেহারা টের পেয়ে ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তায় পড়ে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
চরম ফ্রাস্ট্রেশনে ফ্রেশাররা। কোথাও ডাক পর্যন্ত পাচ্ছেন না। বিপদে পড়া মানুষগুলোর জন্য কিছু করতে ইচ্ছে করে, চেষ্টা করি বিভিন্ন সুযোগের সাথে ওনাদের লিংক করিয়ে দিতে। কিন্তু চাকরীদাতা, লিংকার, মিডলম্যান ও ইন্টারভিউয়ারদের অযৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি, প্রতিষ্ঠানের সেঁকেলে ও ভুল সিস্টেম আর চাকরীদাতাদের খামখেয়ালী ও আন্তরিকতার অভাব এই প্রার্থীদের হতাশার অতলে ডোবাচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে বড় বড় পজিশনে থাকা কিছু মানুষের সাহায্য করার অনীহা আর পায়াভারি হয়ে বড়শিতে খেলার মেন্টালিটি।
পাশাপাশি (কিছু কিছু) প্রার্থীদের সীমাহীন অদক্ষতা, অযোগ্যতা, ক্ষমার অযোগ্য সিরিয়াসনেসের অভাব আর টপ ক্লাস চাকরীর প্রতি তীব্র টান তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরতে দিচ্ছে না।
দেশে ২৭.৪ লাখ বেকার>চাকরী নেই- এটা যেমন সত্যি, তেমনি, দেশের বড় সংখ্যক প্রতিষ্ঠান যোগ্য ম্যানপাওয়ারের অভাবে ধুঁকছে, লস করছে। অফিসার হতে ডিরেক্টর-উপযুক্ত ম্যানপাওয়ারের তীব্র হাহাকার।
তবে হ্যা, আমার একযুগের এইচআর শিক্ষা বলে, আমাদের দেশের একটা বড় সংখ্যক প্রতিষ্ঠান (সবাই না) ট্যালেন্টেড ও স্মার্ট এমপ্লয়ী পাবার অধিকার রাখেন না। কারন তারা স্মার্ট লোক হায়ার করতে চান নাকি অন্য কিছু চান-সেটা নিজেরাই জানেন না। ১০০ লোক ইন্টারভিউ করে একজন পাওয়া যায়না প্রায়ই।
অনেক আগে একবার একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিরেক্টর সোর্স করতে গিয়ে রাগে চুল ছেঁড়ার অবস্থা হয়েছিল। ভাবি, কী রকম মানুষ নিয়ে কোম্পানীগুলো চলছে। স্যরি, আমি বলতে চাচ্ছি না, আমি কোনো বিরাট আবদুল্লা হয়ে গিয়েছি। কিন্তু আমার মতো অযোগ্যর চেয়েও যদি আরো অযোগ্য একদলকে দেখি বড় পদ বাগিয়ে বসে আছেন তবে কী করা উচিৎ? ওঁদের চেয়ার দখল করে রাখার কারনে নিচের দিকের বা বাইরের মার্কেটের ট্যালেন্টেড মানুষেরা বড় পদে যেতে পারছেন না। এ এক অসহ্য অচলাবস্থা।
বেশ কিছু বছর আগে ফেসবুকে একটা নিউজ ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। আমাদের তথাকথিত জিপিএ-৫ ধারীদের সত্যিকারের অবস্থাটা সবাই এতদিন বলাবলি করত, ফিসফিস করত, চুপচাপ কানাকানি করত, অনেকে আমতা আমতা করে পাশ কাটাতো।
সেইবার ওই সাংবাদিক একবারে লুঙ্গী টান মেরে খুলে জিপিএ-৫ এর দোদুল্যমান সতিত্ব একবারে ঘুঁচিয়ে দিয়েছিলেন। একজন মহান বুদ্ধিজীবি সাংবাদিক আবার বলে বসলেন, এরকম সাংবাদিকতা নৈতিকতা বিরোধী, এরকম তাদের চেহারা দেখানো ঠিক হয়নি, প্রশ্নগুলি যথাযথ নয়, এসব প্রশ্ন না পারা মানেই তারা লেখাপড়া করেনি-তা ঠিক নয় ইত্যাদি ইত্যাদি। হ্যা, নীতি পুলিশিং, সিটিজেন জার্নালিজম, পপুলিজম-এসব নিয়ে কথা বলবার অবশ্যই অবকাশ আছে। ওগুলোও বাড়াবাড়ি রকম হচ্ছে-ঠিক। আবার, মেধার অবনমন যে হয়েছে-সেটা অতি অবশ্যই সত্যি।
যাহোক সাংবাদিকতার মান আমার ভাবনার বিষয় নয়। দেশের শিক্ষার মান কেমন-সেটা বলার আমি কেউ নই। আমি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা বা পর্যালোচনা কোনটাই করব না। সেটা বিশেষজ্ঞদের কাজ। আমার এই ভিডিও দেখে আলোড়িত হবার কারণ ভিন্ন।
অনেক দিন আগে একজন তথাকথিত উচ্চ ডিগ্রিধারী গবেটকে নিবিড়ভাবে যথানিয়মে মেধাযাচাই করে তার অন্তঃসারশুন্যতা অনুধাবন করে অতঃপর তাকে অধঃস্তন একটা পদে নিয়োগ করায় তখন আমার এইচ আরে দক্ষতা, আমার মেধা, আন্তরিকতা, উজবুকতা, বুদ্ধিবৃত্তির জোর, আমার সার্বিক বিচক্ষণতা-এসব নিয়ে ব্যপক প্রশ্নের মুখে পড়ি।
ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী একজন বিজ্ঞ লোককে নিম্নশ্রেনীর পদে নিয়োগ করাটাই ছিল এতকিছুর কারন। তিনি সার্টিফিকেটধারী ইঞ্জিনিয়ার-এটাই ছিল তার একমাত্র যোগ্যতা আর আমার একমাত্র ভুল। এমনকি আমিও আমার যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহের মধ্যে পড়ি যে সত্যিই আমি উজবুক কিনা।
GPA-5 দের নিয়ে নিউজ ভিডিওটি দেখে আমার সেই ক্ষতে সেবার একটু হলেও মলম লেগেছিল। আর আমি কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাস পেয়েছিলাম, যে, না আমি হয়তো ভুল ছিলাম না। সার্টিফিকেট মানেই শিক্ষিত নয়।
সেই বৃটিশ আমল হতে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে শাসকের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক বিনয়াবনত ও ভারবাহী কেরাণী সৃষ্টি ও যোগান নিশ্চিত করবার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। তার ফলস্বরূপ আমরা কেরাণীর উমেদার তৈরী করে চলেছি, আর তার ফল হিসেবে বেকারত্বের বাড়বাড়ন্ত দেখছি। এর কুফল বৃটিশের সময়ও দেখা হয়েছে।
সেই সময়কার একটা শোনা কথা, কথাটা বেশ হাস্যরসের জন্ম দিয়েছিল।
বৃটিশের শেষ দিকে ভারতের কলকাতা কেন্দ্রিক বাবু সমাজের তরুণদের একটা বড় গোষ্ঠি লেখাপড়া জানা বেকারে পরিণত হয় যেহেতু এই কেরানী সৃষ্টির পড়াশোনার সিস্টেমে ব্যাঙের ছাতার মতো যতো গ্রাজুয়েট বের হত তত চাকরীতো ছিলনা। তো কলকাতা কেন্দ্রীক বেকার যুবকদের একটা বিরাট জনগোষ্ঠী তৈরী হল।
সমস্যা এতটাই প্রকট হয়ে উঠল যে, বেকার যুবকেরা দলবেধে শ্মশান গেটে দাড়িয়ে থাকত। যখনই দেখত মোটামুটি ধনী কারো লাশ আসত তখনি তারা দৌড়ে যেত। লাশের সাথের লোককে জিজ্ঞেস করে জেনে নিত কোন অফিসের কর্মচারী ছিল এই লাশ।
ব্যাস, তার অফিসের নাম ও পজিশান জেনে নিয়ে পরদিনই তারা একটা চাকরীর দরখাস্ত পাঠাতো সেই অফিসের বড় বাবু বরাবর। তার ভাষা ছিল-
Dear Sir, learning from the burning ghat, that a post has been vacant, I am a jobless applicant, roaming like a vagabond, will be obliged if the job is grant……….
আজকাল যেই হারে সোনার এ- প্লাস বের হচ্ছে তাতে অচীরেই এদেশেও এরকম শুরু না হয়। বা বলতে পারেন, শুরু হয়ে গেছে। শিক্ষার
ওবামা প্রেসিডেন্ট হবার পর জাপানি প্রধানমন্ত্রী তার সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হতে ওয়াশিংটন যাবেন। কিন্তু তিনি ইংরেজী পারেন না।তো প্রধানমন্ত্রীর দোভাষীরা তাকে দু’টো ইংরেজি শিখিয়ে দিয়ে বললেন আপনি এই দুটো কথা শেষ করে চুপ করে যাবেন বাকিটা আমরা চালিয়ে নেব। আপনি যখন ওবামার সাথে প্রথম হ্যান্ডশেক করবেন তখন জিজ্ঞেস করবেন “How are you” আর যখন ওবামা এর উত্তর দেবেন তখন আপনি বলবেন “Me too”। ব্যাস আপনার কাজ শেষ। যাহোক নির্দিষ্ট দিনে ওবামার সাথে জাপানি প্রধানমন্ত্রির মোলাকাত হল।
বাট প্রধানমন্ত্রী একটা ছোট ভুল করে ফেললেন। তিনি “How are you” এর বদলে ওবামাকে জিজ্ঞেস করলেন,
“Who are you”?
প্রশ্ন শুনে ওবামা তো আকাশ থেকে পড়লেন। যাহোক তিনি প্রধানমন্ত্রীকে লজ্জায় না ফেলে কিছুটা কৌতুক করে বললেন,
“Well, I am Michel’s husband”.
প্রধানমন্ত্রী মনে করলেন তিনি ঠিক পথে আছেন। উত্তরে তিনি শিখিয়ে দেয়া দ্বিতীয় বাক্যটি ঝাড়লেন
“Me too”.
অতঃপর ওবামার হার্টফেল।
ইংরেজি নিয়ে এরকম কৌতুক আরও আছে। কৌতুকের পাত্র স্থান-কাল-পাত্র অনুযায়ী বদল হয়। এই গল্পে পাত্র হল জনৈক ক্রিকেট ক্যাপ্টেন।
তো কোনো এক ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে। ক্যাপ্টেন ——– ও সেঞ্চুরী করেছেন। তো কমেন্টেটর ম্যাচ শেষে তার কাছে আসলেন ম্যাচ জয় ও সেঞ্চুরির প্রতিক্রিয়া নেবার জন্য। ঘটনাক্রমে ক্যাপ্টেন সম্প্রতি বাবা হয়েছেন। তাকে কমেন্টেটর ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করলেন “কংগ্রাচুলেশান ক্যাপ্টেন, হোয়াট ইজ ইওর রিঅ্যাকশান বিইং এ প্রাউড ফাদার”? ইংরেজিতে অকাট মুর্খ ক্যাপ্টেন ——- ভাবলেন নিশ্চই তাকে ম্যাচ উইনিং নিয়েই প্রশ্ন করেছেন। তিনি উত্তর দিলেন ”মি এ্যান্ড মাই টীম ইজ সো হ্যাপী। ইনফ্যাক্ট ইট ওয়াজ এ টীম ওয়ার্ক।” স্পেশালি দি ওপেনারস ডিড ভেরী গুড।” কমেন্টেটর অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন।
গল্প দুটো অনেক পুরানো এবং অবশ্যই হুবহু বলতে পারলাম না বিধায় মোটামুটি করে বললাম। দয়া করে ভাববেন না অশ্লীল কমেডি হচ্ছে কিনা। না, ঘটনা তা না। গল্প দুটো প্রায়ই আমি ব্যবহার করি ইংরেজীতে দখল থাকার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে। ইংরেজী না পারলে অবস্থা কি হয় সেটাতো দেখলেনই। ইংরেজীতে দক্ষতা ছাড়া বর্তমানে কোনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরী পাওয়া বা পেলেও সেটা ভালভাবে করার কথা ভাবাও যায় না।
সেখানে কিযে ভয়ঙ্কর দুর্বল লোকেরা প্রতিনিয়ত চাকরীর জন্য আসেন তা সত্যিই না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। মাস্টার্স করা ছেলেমেয়েরা আসছে এমনকি কেউ কেউ নিজের ডিগ্রীর নামটা ইংরেজিতে লিখতে পারেন না।বিবিএ করা ছেলে। গরুর উপরে ১০ টা সেনটেন্স লিখতে দিলে পারছেন না। কি ভয়ঙ্কর অবস্থা।
কেউ কেউ বলতে পারেন না না, আপনি সারাদেশের শিক্ষিত মানুষকে এই সামান্য দু’চারজনকে দিয়ে মেজার করছেন কেন?
না ভাই, আমি সবার মূল্যায়ন করছি না। আমি শুধু আমার প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি। আর সমস্যার গভীরতা ও ধরনটাকে কানেক্ট করবার চেষ্টা করেছি।
তৃণভোজি জনগোষ্ঠীর হাতহদাই:
ঘিয়ের কেজি দুই হাজার,
গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকা,
দুধের কেজি ১১০ টাকা (তা ও আধা পানি, সিকি কেমিক্যাল),
ডিমের ডজন ১৫০ টাকা (প্লাস্টিকের জুজুসহ),
আলুর কেজি ৭০-৮০ টাকা,
ভাতের কেজি ৬০-৮০ টাকা (নানা ক্যাঁচালসহ),
বিষের কেজি (জানা নাই)।
উন্নত ভূ-খন্ড উগান্দেশে বিগত বহু মাস ধরে সদাইপাতির দাম খ্যানাডা, লসএঙ্গেলেস বা টুকিওর কাছাকাছি। ফলে, আমাদের আদি পুরুষ বান্দরের মতো ঘাসপুছ খাবার উপক্রম হয়েছে অনেকেরই। বিশেষত খাদ্যতালিকার সবচেয়ে দামী ও দরকারী বস্তু আমিষ কাটআপ করে জীবন বাঁচাবার লড়াইয়েই বেশি ন্যাস্ত হতে হচ্ছে। ঘটনা সত্য। (যদিও বানিজ্য মেলা বা অ্যানিম্যাল দেখবার লাইন দেখে মাঝে মধ্যে আমার মনে হয়, এসব সবই ছ্যাড়কাড় বিরোধী প্রচারনা মাত্র।)
প্রোটিনের অভাবে কিডনী মাথায় না উঠলেও আমাদের মাথার মগজ যে ঠিকই কমে ও কমছে-তা নিয়ে আমার বেশ নিশ্চিত একটা ধারনা জন্মেছে। এখন আপনি বলতেই পারেন, যে, জগতে এত এত নিরামিশাষী মানুষ আছে। এমনকি এই যে, আমাদের পরম আরাধ্য ও প্রিয় ’মুদীর ভাই’ও নাকি নিরামিশাষী। তিনি স্রেফ শাকপাতা খেয়েই তো এতবড় সালতানাতের মোটামুটি লাইফটাইম সুলতান বনে গেছেন। তাহলে আপনার এত চিন্তা কী নিয়ে?
বঙ্গীয় ভূখন্ডে এই জিনিসের একটা সাইড এফেক্ট বা ফিউচার কনসিকুয়েন্স নিয়েই আমার যত দুশ্চিন্তা।
এমন করে আর বছর দশেক চলবার পরে কী হবে?
দেশের অর্ধেক মানুষ মরে যাবে? জানি না। বিদেশ পালিয়ে যাবে? সম্ভব না।
তাহলে কী হবে?
হবে হল, যদি এই হারে উচ্চমূল্য বহাল থাকে, তাহলে গড়পড়তা প্রতিটি শিশু, প্রতিটি কিশোর, প্রতিটি শিক্ষার্থী, প্রতিটি তরুণ প্রোটিন ঘাটতি নিয়ে বাড়তে থাকবে। অন্যান্য খাদ্য উপাদান আর অবশ্যম্ভাবিভাবে তার সাথে বোধ ও শিক্ষার ঘাটতি তো আছেই-নিয়ে বাড়তে থাকবে।
ফলে, ভবিষ্যত তো পরে। আগে আজকে কী হচ্ছে তাই বলি।
১. পোস্ট গ্রাজুয়েট ফ্রেশার চাকরি প্রত্যাশী। “আমাকে একটি চাকরি পেতে সহায়তা করুন।” এতটুকু ব্যক্তিগত চাওয়াকেও সঠিকভাবে আরেকজনের কাছে পেশ করতে অক্ষম। চাকরির আবেদন করতে একটি পূর্ণাঙ্গ কভারমেইল লিখতে পারে না। একটা ছোট গুগল ফরম পূরণ করতে দিলে অর্ধেক তথ্যই দেবে না। বাকিটা আবার পড়ে বুঝতে না পেরে ফাঁকা রাখে।
২. এক বছরের চাকরিজীবি। এখনই ম্যানেজারের পজিশন পেতে আগ্রহী। বেতন চাই ৭০ হাজার। ম্যানেজারের দায়ীত্ব কী-জিজ্ঞেস করলে একটাই উত্তর দিতে সক্ষম-”টিম চালাতে হবে।” টেক্সটাইল এঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলি। জিন্স ও ডেনিমের ভেদ জানে না। ফ্যাশন ডিজাইনারের সাথে বসি। ৫ জন দেশী বা বিদেশী ফ্যাশন ডিজাইনারের নাম জানে না। অভিজ্ঞ ও পশ কংলোমারেটের এইচ.আর অফিসার। ৫০ হাজার টাকা বেতন চাই। একজন ক্যানডিডেটকে ঠিক করে ইন্টারভিউ কল করতে পারে না।
আপনি হয়তো ভাবছেন, এ তো নতুন জেনারেশনের সমস্যা। ‘শিখখিৎ’ মানুষদের ইস্যু। বাদবাকি সব ঠিক আছে। তাছাড়া গরীব দেশে এত গ্রাজুয়েট দরকারই বা কী? আমাদের দরকার বৃত্তিমূলক শিক্ষা। তাহলে আপনাকে বৃত্তিবাজদের অবস্থাও দেখাই।
৩. একটা কাপড়ের দোকানের সেলসগার্ল। সামান্য ত্যানা বেচার জন্য যতটা জ্ঞান, বুদ্ধি ও দক্ষতা থাকা লাগে-সেই সামান্যটুকুও নেই। কথাটা তক বলতে পারে না। কাস্টমারের কাছে নিজেদের অক্ষমতা ও দুর্বলতা ঢাকবে-সেটাও স্মার্টলি করতে পারে না। শুধু কাষ্ঠপুত্তলিকা। মুদী দোকানের ছোকরা। সে বসে থাকে ম্যাকবুক নিয়ে। কাস্টমারকে জিনিস দেখাতে অনীহা। মুরগীর দোকানের সার্ভিস বয়। মুরগীটা পিস তক করতে পারে না। প্রসেস করে বাসায় আনলে দেখা যাবে পেটের মধ্যে নাড়িভুড়ি রয়েই গেছে।
আমাদের নীতিনির্ধারক, ভাগ্য নির্ধারক, রাজনীতিক, আমলা, কামলা, নেতা, ত্রাতাদের প্রভূত ধন্যবাদ।
আপনারা খুব খুব সফলভাবে আমাদের শিক্ষা, শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনাটাকে ধ্বংস করেছেন। অত্যন্ত সুচারুভাবে। সেই ধ্বংসের স্বরুপটা নিয়ে লিখতে হলে কলমে কালি ফুরিয়ে যাবে। একদা আমি লিখেছিলাম কিছুটা। যাহোক।
ধ্বংসের একটা শাখা হিসেবে শিক্ষাক্রমের হাত ধরে মেধার বিকাশ, বুদ্ধির উৎকর্ষতা, দক্ষতার প্রকাশ তো জিরো। বাকিটা যা থাকতে পারত, তারও জানাজা দেয়া সারা। ফলে কী হয়েছে বলি।
১৭ বছরের অ্যাকাডেমিক জীবন শেষ করা, মানে, এই সুদীর্ঘ, চ্যালেঞ্জিং, কষ্টকর ও ব্যয়বহুল যাত্রা শেষ করা একজন শিক্ষার্থী যদি ধরুন ডিগ্রী শেষ করতেও না পারেন, যদি তার বিশেষ কোনো দক্ষতা না-ও তৈরী হয়, যদি তার জ্ঞানের বহর খুব কমও হয়, তবুও, তার মধ্যে যদি অন্তত মৌলিক বুদ্ধিমত্তা, সৃষ্টিশীলতা, ভিশন, স্বপ্ন, ডেসপারেশন, সিরিয়াসনেস, ক্যারিয়ারিস্টিক ভাবনা, দায় ও দায়ীত্ববোধ আর কিছু লাইফ স্কিল অন্তত তৈরী করে ছেড়ে দেয়া হত, তবুও তাকে এমপ্লয়াররা গড়েপিটে নিয়ে উপযুক্ত মানুষ করে তুলতে পারত। বিশেষত মৌলিক বুদ্ধিমত্তা আর সৃষ্টিশীলতাটুকু থাকলেও।
আপনারা অত্যন্ত হাই সাকসেস রেটে ওটুকুও তাদের মগজ ও সিস্টেম হতে গায়েব করে দিতে পেরেছেন। ফলত, তাতে করে আমার ভাই ও বোনেরা আস্ত ৪টা ডিগ্রী নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন, অথচ সামান্য একটা A-4 কাগজের বিজ্ঞাপন কীভাবে দেয়ালে সাঁটাতে হয়, সেটুকু বুদ্ধি তক তার ঘটে নেই।
একজন মাস্টার্স পাস (দেশের প্রচন্ড ব্যয়বহুল একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী) মানুষকে একটি দুই লাইনের A-4 সাইজের কাগজে সাদাকালো নোটিশ কোনো একটা স্থানে সাময়িকভাবে লটকাতে দেয়ায় ভদ্রলোক বোথ সাইড টেপ দিয়ে পুরো দেয়াল মাখিয়ে সেটাতে কাগজ লটকেছেন। ওই আঠা দেয়াল হতে ওঠাতে হলে পুরোটা আবার ডিসটেম্পার করাতে হবে। পাশেই কাঁচের দেয়াল, সেখানে স্কচ টেপ দিয়ে লটকালেই হয়ে যেত।
এইটুকুতে তার অযোগ্যতা প্রমাণ হয় না। আমার ফোকাস হল, এই সামান্য ভাবনা ও বুদ্ধিটা করবার মতো চিন্তা তার মাথায় যে আসে না, বা সে করে না-সেটা অ্যালার্মিং।
বাসার সামনে দুটো নারকেল গাছ। সেটা হতে নারকেল পাড়বার লোক মেলে না। বাসায় দারোয়ান দরকার পড়েছিল। বিশ্বব্রহ্মান্ড খুঁজেও দারোয়ান মেলেনি। ড্রাইভার চাকরি ছাড়লে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে, ড্রাইভার নেই দেশে। বাসার ডিসটেম্পার করাতে হলে রং মিস্ত্রীর দীর্ঘ বিলম্বিত শিডিউল পেতে বর্ষা এসে পড়ে। রং মিস্ত্রী নেই। দর্জি দোকানে কাপড় দিলে আটবার ডেলিভারী পেছায়। সেলাই করার পর্যাপ্ত কারিগর নেই। আবার যারা আছে, তাদের সেলাই দক্ষতা ও গুনাগুন যাচ্ছেতাই। রাজমিস্ত্রীর দেখা পাওয়া ভাগ্যের বিষয়। বাসার বুয়া তো ডুমুরের ফুল। যারা আছেন, তারা বিল গেটস। মর্জি না হলে আপনার বাসায় থু ফেলতেও আসবে না। রেস্টোর্যন্ট দিন, সার্ভ করবার জন্য মাস্টার্স পাশ পোলাপান পাবেন কিছু। খাবার বানাবার কারিগর পাবেন না। মায় খেজুর রসের সিজনে গাছ কাটবার গাছি দশ গ্রাম খুঁজে আনতে হয়।
দেশে নাকি ১৮ কোটি মানুষ, আর নাকি ১৯ কোটি বেকার। তাহলে মানুষগুলো গেল কই? কী করে তারা খাচ্ছেন? যারা বেকার, তারা সারাদিন তাহলে সময় কাটায় কী করে? (সম্ভবত টিকটক, রিলস, গাইস, প্রেন্ডস, চিলস, মাস্তিস, স্লিপস-এর মতো অতি উৎপাদনশীল ও ইনকাম জেনারেটিং কাজে মত্ত থেকে।)
৪. রান্নার কুক বুয়া। পোলাও রান্না করতে অক্ষম। শুধু ভাত রাঁধতে পারবে।
৫. ড্রাইভার ক্যানডিডেট। গাড়ির মেকানিজম সম্পর্কে কোনো বেইসিক আইডিয়াও নেই। শুধু চালাতে পারে।
৬. অভিজ্ঞ পিওন। চা বানানো বা ফটোকপি চালানোতেও অক্ষম।
আমার খুব সিরিয়াসলি ভয় হয়, আর বছর দশেক পরে অফিস পিওন, রান্নার বুয়া, দারোয়ান, মেসেঞ্জার, ড্রাইভার, মুচি, রাইডার, কেরানি, আরদালি-এসব মানুষও বন্ধু দেশ হতে আমদানী করতে হয় কিনা।
এমনিতেও অবশ্য আমরা তখন বিশ্বের এক নম্বর ধনী দেশ হয়ে যাব। তখন আমরা আরব শেঠদের মতো নিজেরা কাজ করব না। গরীব প্রতিবেশী দেশের গরীবসকে দিয়ে ওসব ছোট কাজ করাবো। আর আমরা মাস্তি করব।
৭. পে-রোল অফিসার। কোনো সফটওয়্যারে কাজ করতে অক্ষম। ইন্টারভিউ কল করা হয়েছে। দেশের বাড়িতে যাচ্ছে ‘বার্ষিক ডাঙ্গুলি টুর্নামেন্ট’ অ্যাটেন্ড করতে। শেষ না করে আসতে পারবে না।
৮. সঙ্গীত শিল্পী। সা-রে-গা-মা-পা-ধা-নি-সা জানেন না। শুধু গাইতে পারেন।
৯. ম্যাথের হাউস টিউটর। শুধু পাটিগণিত পারেন। এলজেবরা পারবেন না।
১০. অ্যাডমিন ম্যানেজার প্রার্থী। গুগল করে একটা তথ্য বের করতে অক্ষম।
১১. নার্স। ওষুধ খাবার গাইডলাইন বাংলায় লিখে দিতে অক্ষম।
১২. ক্লাস নাইনের বাচ্চা। স্কুলের নাম, নিজের নাম, বাপ ও মায়ের নাম শুদ্ধ বাংলা ও ইংরেজিতে লিখতে অক্ষম।
১৩. জি.পি.এ গোল্ডেন বাচ্চা। ইংরেজি ভর্তি ফরম পড়তে অক্ষম।
১৪. দুই বাচ্চার মা। সন্তানের জামার সাইজের স্টিকার/ল্যবেল পড়ে দর্জিকে বলতে অক্ষম।
১৫. চার সদস্যের পরিবারের কর্তা। ১ লিটার দুধ যে ১ কেজি দুধ না-সেটুকু বুঝতে অক্ষম।
১৬. বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের প্রফেসর। সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারন যে পিতার ক্রোমোজমের ওপর নির্ভর করে (মায়ের না), সেটা জানেন না। দলবাজিতে সুদক্ষ, অথচ চোথা ও মোথার বাইরে গবেষনা বা পড়াশোনা করতে বা করাতে পারেন না।
১৭. আঠারো বছরের টিন বা লোহার বাচ্চা। ধান গাছে যে তক্তা হয় না-জানে না। FOOD VLOG চেনে, BLOG চেনে না, DOGGY STYLE পারে, অথচ Dog চেনে না। কনডম চেনে, কনট্রাসেপটিভ পিল চেনে, মেনসট্রুয়াল সাইকেল যে কোনো অসুস্থ্যতা না, সেটা জানে না। প্রজন্ম রিসর্ট চেনে, রিসর্টের রেট জানে, রিসর্টের টাকা কীভাবে নিজে আয় করতে হয় জানে না। অবশ্য ‘শুয়ে’ টাকা আয় করবার রাস্তা তারা খুব দারুনভাবে রপ্ত করেছে। লাভ রোডে দামী বাইকে খাটোকেশী ও এলোকেশীদের আধিক্যের বহরে সেটা বোঝা যায়। প্রজন্মের সিনিয়রকূল শুতে জানে, কনসিভ করতে বা করাতে জানে, শোয়ার ইমপ্যাক্টে জন্মানো অফস্প্রিংটাকে কীভাবে মানুষ করতে হয় জানে না। সেগুলো বড় হয় পশুত্বের গ্রুমিং নিয়ে।
১৯. ষোলো বছরের টিন বা দস্তার কন্যা। পোচের জন্য ডিমটাও ভাঙতে পারে না।
আর কত বলব? (এই রে, এখনো আপনার একবারও মনে হল না, এই যে বেটা এত কথা বলছে, শালা নিজেকে কী মনে করে? দিগগজ? আইনস্টাইন? আল্লামা?)
২০. CSE Graduate. ChatGPT’র মুখদর্শনও করে নাই কখনো।
২১. C-suit কর্তা। কারো ফোন কীভাবে এটেন্ড করতে হয়-পারে না।
২২. ফেসবুক ফাটিয়ে ফেলা জাগ্রত বিপ্লবী। “চাকরি প্রার্থী নয়, চাকরি দাতা খুঁজছি”-এই মেসেজটা যে জব ক্যানডিডেট খোঁজার জন্য নয়-এতটুকু মেসেজও বুঝতে অক্ষম। (ইনবক্স করে বলে, ভাইয়া, আপনার একটা জব অ্যাড দেখলাম।)
এতকিছুকে দেখে যদি চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়, তাহলে আসল বিপদের ঠাওর এখনো করে উঠতে পারেননি।
একটা দেশে কনজিকিউটিভলি জেনারেশন আফটার জেনারেশন তৈরী হচ্ছে, যেখানে বিজ্ঞানী তৈরী হচ্ছে না, গবেষক তৈরী হচ্ছে না, শিল্পী তৈরী হচ্ছে না, শিল্প তৈরী হচ্ছে না, সাহিত্যিক তৈরী হচ্ছে না, দার্শনিক তৈরী হচ্ছে না, বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা গবেষনা প্রতিষ্ঠান বা থিংকট্যাংক তৈরী হচ্ছে না, বিশ্বমানের ডাক্তার, এঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট, টেকনোলজিস্ট তৈরী হচ্ছে না। কেবল প্রশাসক ও কেরাণী বাড়ছে।
ওসব তৈরী যে দরকার-সেই বোধটা পর্যন্ত হারিয়ে যাচ্ছে। প্রোটিনের দাম যদি হয় স্বর্ণের দামের সমান, তাহলে যথাযথ পুষ্টি যে পেটে যাচ্ছে না বিশাল জনগোষ্ঠীর, ভিটামিন, মিনারেল, ফ্যাটের ঘাটতিতে পেটে যে যাচ্ছে কেবল স্টার্চ, তার পরিণতিতে মেধা ও প্রতিভার অবনমন হতে বাধ্য। মেধা তো বাতাস আর পানি খেয়ে গ্রো করে না। হল্লিক্স আর কমপেলান খেলে অবশ্য কৃত্রিমভাবে বাড়তেও পারে। যদিও পানির দামও এখন আর সস্তা না। (অবশ্য সার্বিক যে সামাজিক পঁচন ও মেধার অবমূল্যায়নের মড়ক, তাতে প্রোটিন গিলিয়েও কিছু হবে না।)
আস্তে আস্তে যেটা হচ্ছে, তা হল পঁচনটাকেই উন্নতি হিসেবে বিশ্বাস তৈরী হওয়া, মুঢ়তাকেই প্রজ্ঞা হিসেবে সার্টিফায়েড করার চর্চা গড়ে ওঠা, অন্যায়টাকেই বীরত্ব বলে প্রতীয়মান করবার চর্চা, অধঃপতনকেই উন্নয়ন ভাবার অবিমৃশ্যকারীতা, গুঁয়ের গন্ধকে গোলাপ ভাবার প্রবণতা। টিকটক সম্রাট ও ভাইরালদেরকে জাতীয় বীরের আসন দেবার অপদার্থতা। ভিউ সম্রাজ্ঞীদের জাতির মাতার সিংহাসনে বসাবার চেষ্টা। এবং, শুধু মাস্তি ও শোয়াকেই মানব প্রজাতির জন্মলক্ষ্য ভেবে নেবার গণবিশ্বাস। প্রোটিনের অভাবে এমনিতেও নিরামিষ ও নিরামিষাশী জনগোষ্ঠী এই দেশে বাড়ছে। তার বাইরেও অবশ্য অন্য কারনে তৃণভোজী একটি প্রাণীর পুরুষ প্রজাতিরাও (আদর করে পাঁঠা ডাকা হয়) মাত্রাতিরিক্ত হারে বাড়ছে। হতে পারে সেটা আয়োডিনের অভাবে। অথবা, শাসক ও রাজন্যদের শাসন ও শোষণ প্রক্রিয়াকে অমরত্ব দানের অভিলাষেই।
#jobhunting #unemployment #jobseeker #qualification #GPA5 #education #Englishproficiency #Aplus #carnivorous #herbivorous #lackofprotein #pricehike #economiccrisis #cosmeticdevelopment #GDPgimmick #laborcrisis #laborshortage #scarcityoflabor #talentdeviation #lackoftalent #declinningtalent #beefprice #malnutrition #relactancetowork #idleworkforce #workforcestatistic