Skip to content

সোশ্যাল মিডিয়া এবং আমাদের মগজ ধোলাইয়ের মনস্তত্ত্ব: একটি সামাজিক ব্যবচ্ছেদ

[এই লেখাটি লিখতে AI এর বেশ খানিকটা সহায়তা নেয়া হয়েছে।]

আমাদের চারপাশের চেনা সমাজটা কেমন যেন দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তাই না? এই পরিবর্তনের পেছনে মানুষের ভেতরের রূপান্তর যতটা না আছে, তার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করছে কিছু মনস্তাত্ত্বিক মড়ক এবং অদৃশ্য অ্যালগরিদমের কারসাজি। চলুন, আজকের এই পরিবর্তিত বাস্তবতাকে কয়েকটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক কনসেপ্ট এবং আমাদের চিরচেনা ‘হুজুগে’ স্বভাবের আলোয় একটু ব্যবচ্ছেদ করে দেখা যাক।

১. Availability Heuristic & Echo-Chamber Effect: যা দেখি বারবার, তা-ই আমার দুনিয়া

মনোবিজ্ঞানে Availability Heuristic এবং Echo-Chamber Effect নামে দুটি দারুণ কনসেপ্ট আছে। সহজ কথায় এর মানে হলো—আমরা প্রত্যেকেই যার যার পছন্দের একটা ঘেরাটোপে বা নির্দিষ্ট ঘরানায় বন্দী থাকি। ফলে সেখানে একতরফাভাবে নিজের বানানো জগতের যা শুনি, পড়ি বা দেখি—একসময় সেটাকেই একমাত্র সত্যি এবং সেটাকেই পুরো দুনিয়া মনে করতে শুরু করি।

আপনার-আমার চারপাশে কোনো একটা ঘটনা বা বিষয় যখন বারবার ঘটতে দেখি বা সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে প্রচুর নজরে আসে, তখন আমাদের মগজে অবচেতনভাবেই একটা স্থির ধারণা তৈরি হয়ে যায়। আমরা ধরে নিই, চারপাশের বাস্তবতায় বোধহয় সত্যিই এমনটা ঘটছে, এর কোনো ব্যতিক্রম হতেই পারে না! তখন মনে হয়—আরে, সবাই যখন এটা করছে বা বলছে, নিশ্চয়ই এটাই এখনকার ট্রেন্ড; এত মানুষ তো আর ভুল হতে পারে না! ব্যস, এই মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদে পা দিয়ে আমরা নিজেরাও অন্ধের মতো তা-ই বলতে বা করতে শুরু করে দিই। আর এভাবেই, একজনের ভুল ধারণা বা সুক্ষ্ম এজেন্ডা থেকে তৈরি হওয়া অ্যাকশন প্রথমে দশজনে ছড়ায়, আর দশ থেকে ছড়ায় শত-সহস্রে।

আমি ঠিক নিশ্চিত নই, আমার সাম্প্রতিক একটা পর্যবেক্ষণকেও এই ফ্রেমওয়ার্কে ফেলা যায় কিনা। আমি খুব ভালো করেই জানি, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আমার সার্চ ট্রেন্ড, ব্রাউজিং হিস্ট্রি, কানেকশন প্যাটার্ন, গুগলের নানা তথ্য, এমনকি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় আমার ফেসিয়াল এক্সপ্রেশনের সামান্য পরিবর্তনটুকুও অ্যালগরিদম নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করে। তারা আমার মনস্তত্ত্ব অ্যানালিসিস করেই আমার নিউজফিডে তথ্যের ‘খাবার’ পরিবেশন করে।

তবুও একটা খটকা থেকেই যায়। বিগত অন্তত এক বছর ধরে আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই এক অদ্ভুত জিনিস খেয়াল করছি। আমি নিজে কখনোই এসব পোস্ট প্রমোট করি না, এমনকি চোখে পড়া মাত্রই ‘গারবেজ’ ভেবে স্কিপ করে যাই। তারপরও, বর্ষার পানিতে ঢাকার ম্যানহোলের হলুদ মল যেমন ভেসে উঠে চারপাশের সৌন্দর্য বর্ধন করে, ঠিক তেমনি তীব্র সুগন্ধি আর চটকদার মশলা মাখিয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রচারণা ঘুরেফিরে আমার ফিডে আসেই আসে! যেমন:

“নারীর ঘরেই থাকা উচিত,” “নারীর চাকরি করা একেবারেই গুনাহের কাজ,” “নারীর অবশ্যই মাহরাম ছাড়া এক কদমও নড়া উচিত নয়,” কিংবা “ওয়াহিদা-মাসনা-সালাসা-রুবায়ার (বহুবিবাহ) একচেটিয়া গুণকীর্তন।”

মাঝে মাঝে তীব্র বিস্ময় নিয়ে ভাবি— মার্ক জাকারবার্গ সাহেব কি হুট করে তাবলীগে যোগ দিলেন নাকি? তিনি কি এখন পর্দার আড়াল থেকে আমাকে হেদায়েত করার জন্য ‘ডিজিটাল তাবলীগ’ শুরু করেছেন? সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, এই প্রচারের প্রভাব ও বিস্তার কিন্তু আপনার-আমার হাতের নিয়ন্ত্রণে নেই।

২. The Core Vulnerability: বাঙালির পৌরুষত্বে সুড়সুড়ি

মানুষকে নিজের কথায় ওঠানো-বসানো বা বশে আনার সবচেয়ে মোক্ষম অস্ত্রটা কী জানেন? অন্য দেশের কথা না হয় বাদই দিলাম, অন্তত এই ভূখণ্ডের মানুষকে যদি লাইনে আনতে চান, তবে তার সবচেয়ে মারাত্মক ও কার্যকর ট্রিক হলো—তার ‘লুঙ্গি ধরে টান দেওয়া’ কিংবা তার তথাকথিত ‘পৌরুষত্বে একটু সুড়সুড়ি দেওয়া’। এই দাওয়াই দিলেই দেখবেন, বড় বড় ঠাকুরের আসনও কেমন নড়ে উঠে!

আমাদের সমাজে সাধারণ মানুষকে কিছুতেই টাখনুর ওপর কাপড় পরাতে রাজি করানো যাচ্ছিল না। যেই তাদের মাথায় এক লাইনের একটা মনস্তাত্ত্বিক থিওরি ঢুকিয়ে দেওয়া হলো যে—“টাখনুর নিচে কাপড় পরলে পুরুষের যৌনক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়,” ওমনি অলৌকিক জাদুর মতো সবার কাপড় এক লাফে টাখনুর ওপরে উঠে গেল!

নব্বইয়ের দশকে যেমন গণহারে সবার ‘কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার’ হবার ধুম পড়েছিল, হালের দশকে আবার বিপুল হারে ওয়াহিদ-মাসনা-সালাসা-রুবায়ার কর্পোরেট ভার্সন মুরীদ হওয়াও সেই একই হিড়িকের পরম্পরা মাত্র। বাংলাদেশের মানুষের বাল্যবিয়ে প্রমোট করবার পেছনের কারণটা কী? ধর্ম? চরিত্র গঠন? নাহ, একটু গভীরে গিয়ে হাতড়ালেই দেখবেন—ধর্মের লেবাস পরা এই মানসিকতার পেছনে লুকিয়ে আছে এক বিকৃত ‘পেডোফিলিয়া’ বা অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকা বিবাহের আদিম লালসা। চরিত্রের দোহাই দিয়ে এরা আসলে নিজেদের অবদমিত আদিম বাসনাকেই জায়েজ করতে চায়।

বাঙালিদের এই ‘যৌন অবদমন’ এবং কথা শোনানোর পন্থা নিয়ে একটা প্রচলিত রম্য গল্প আছে।

এক লোক দোকানে গিয়ে সিগারেট চাইল। দোকানদার তাকে যে প্যাকেটে দিল, তার গায়ে বড় বড় অক্ষরে সতর্কবাণী লেখা: “ধূমপান করলে যৌনক্ষমতা কমে যায়।”

লোকটি মুহূর্তকাল প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে থেকে গম্ভীর মুখে দোকানদারকে ওটা ফেরত দিয়ে বলল, “ভাই, আমারে ওই ক্যান্সারঅলাডা দ্যান!” মানুষ মৃত্যুর ভয় মেনে নিতে রাজি, কিন্তু নিজের পৌরুষত্বের ওপর আঘাত কোনোভাবেই সইতে পারে না!

৩. Bandwagon Effect & Pseudologia Fantastica: স্রোত, হুজুগ এবং অবাস্তব অলীক কল্পনা

আমরা সবাই কম-বেশি Bandwagon Effect বা স্রোতে গা ভাসানোর কথা শুনেছি। সবাই যা করছে, চোখ-কান বন্ধ করে আমারও তা-ই করা চাই—এটাই এই নিয়মের মূল কথা। এর সাথে যখন যুক্ত হয় Pseudologia Fantastica—অর্থাৎ নিজের বলা মিথ্যাকে একসময় নিজেই অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে শুরু করা—তখন এই তিনের মড়ক আমাদের চারপাশের ‘উগান্ডেশীয়’ সমাজে অতি মাত্রায় দৃষ্ট হয়।

আমাদের চারপাশে বাতাসে গন্ধ পেয়ে আগেভাগেই গা ভাসিয়ে দেওয়া চতুর ‘চাণক্যে’র সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। বাজারে আগামীতে কোন জিনিসের কদর বাড়বে, কোন মালের বিক্রি ‘হটকেক’ হবে—সেটা যেমন ঝানু মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই টের পেয়ে যান, তেমনি আমাদের চারপাশের এই ‘আদম মাড়োয়ারিরাও’ ক্ষমতার বা হাওয়ার বদলের গন্ধটা শিকারির মতো অনেক দূর থেকে পেয়ে যান। ভিউ-এর বণিক, ইমোশন আর সেন্টিমেন্টের পাইকারি বিক্রেতা, ম্যানিপুলেশন আর হাইপের কারবারিরা এই দিক থেকে এক কাঠি সরেস।

কোন ধরনের ভেঁক ধরলে, ঠিক কোন ঝোপটাতে কোপ মারলে ভবিষ্যতে ডিজিটাল ডাল-ভাতের বিক্রিবাট্টা ভালো হবে, প্রোফাইলের রিচ বাড়বে, ফলোয়ার-ফ্যান-সাপোর্টার আর ‘আহা-উহু-সহমত ভাই’দের জোয়ার আসবে—সেটা আগাম রিড করতে পারে কিছু মানুষ। (হয়তো আফসোসের বিষয় হলো, এই ‘কিছু মানুষ’ শব্দটা বদলে এখন ‘প্রায় সব মানুষ’ হয়ে গেছে!)

এই বাতাস বোঝারা তাই ক্ষমতার হাওয়া বদলের আভাস পেলেই দ্রুত রং বদলায়, খাঁটি গিরগিটি হয়ে যায়, সাধুর ভেঁক ধরে। খুব শীঘ্রই আপনি যদি আমাদের চারপাশে প্রচুর আজানুলম্বিত লেবাসি সিনে তারকা, হঠাৎ গজিয়ে ওঠা রুহানী প্রেতাত্মা, সুরমাইয়া বুজুর্গ, রাতারাতি ভোল বদলানো বিজনেস তারকা, কিংবা অবগুণ্ঠন আচ্ছাদিত পর্দার আড়ালের তথাকথিত ‘পর্ণ পীর’দের আধিক্য দেখা শুরু করেন—তখন কথা মিলিয়ে নেবেন।

উগান্দেশিরা যদি দেখে, বাজারে কোনোকিছু ভাইরাল হচ্ছে, তাহলে, সে জীবন দিয়ে হলেও সেই জিনিসে নিজের একটা স্টেক বা কনসার্ন দেখাবেই দেখাবে।

আবার, যদি দেখে, কোনো কিছু ডিফেইম হচ্ছে, তখন সেটার সাথে আশি ক্রোশ দূরত্ব দেখাতে লাগলে নিজের জন্মদাগও মুছে ফেলার জন্য জীবন দেবে।

উগাঙ্গালিরা যদি দেখে, বাজারে কোনো কিছু খুব চলছে, সে গোবর খেয়ে হলেও সেটাকে ওউন করবার, সেটার সাথে তার কনসার্ন দেখবার জন্য পাগল হবে।

আবার, যদি দেখে, সেটা আবার কট খেয়েছে, তাহলে সিরিষ দিয়ে ঘষে হলেও সেটার সাথে তার চৌদ্দপুরুষের কোনো সম্পর্ক নেই-সেরকম ডিজওউন করবার সব চেস্টা চালিয়ে যাবে।

শালার হুজুগে বাঙালিকে যা খাওয়ানো হয় তাই খায়।

কিছুদিন খাওয়ায় রংধনু প্রোফাইল-ব্যাস সবাই আমরা রংধনু।এরপর আসে আমরা সবাই তনুর ভাই-ব্যাস আমাদের সবার প্রোফাইল পিক “আমরা তনুর ভাই”।

এরপর “আই হ্যাভ বিন সেফ” জ্বর যদিও এদেশে কোনো ঘটনা নাই। তারপর আইল লাভ ফর প্যারিস জ্বর। কিছুদিন বাঙালিদের ফেসবুক প্রোফাইল এই জ্বরেও ভুগল। এখন পাবলিক খাচ্ছে প্রিজমা। ব্যাস-সবার প্রোফাইলে প্রিজমা নামক বিকৃত দর্শন ছবির কলেরা মহামারি।খালি হুজুগে মাতো।

শালার মনে হয়, কেউ একজন গু মাইখা ছবি দিলে যদি পাবলিক খায় তাইলে পরবর্তি জ্বর “গুইয়ামা” আসিতেছে। পাবলিক পারেও।সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: প্রিজমা একটি আই ভাইরাসজনিত বিকৃতির নাম।ইহার অতিমাত্রায় সংক্রমনে এইচআইভি সংক্রমন হওয়ার ঝুকি থাকে।

ইহা হতে মুক্তির উপায় হল: যখনি এই ভাইরাসের আলামত দেখবেন সাথে সাথে হাতের ফোনসেটটি নিয়ে টেবিলে গায়ের জোরে একটা বাড়ি দিবেন। সব ঠিক হয়ে যাবে।

হুজুগের মড়ক: ‘সাসটেইনেবিলিটি’র গোল্ড মাইনিং

বর্তমানে করপোরেট দুনিয়ায় এবং আরএমজি সেক্টরে কিছু গালভরা শব্দ খুব হটকেক হিসেবে বিক্রি হচ্ছে—‘পরিবেশ’, ‘গ্লোবাল’, ‘কনজারভেশন’ ও ‘সাসটেইনেবল’। বায়াররা চাচ্ছে, তাই আমরা সবাই না বুঝে অন্ধের মতো গ্রিন ফ্যাক্টরি আর সাসটেইনেবিলিটির পেছনে ঝাঁপিয়ে পড়ছি।

একটা উপমা দেই—ধরুন, জানা গেল আলাস্কায় একটা বিশাল সোনার খনি (Gold Mine) পাওয়া গেছে। জগতের সব মানুষ যদি লাঠিসোঁটা গুছিয়ে আলাস্কা ছুটে যায়, তবে সবাই বড়জোর ‘গোল্ড ডিগার’ (সোনা খোদক) হতে পারবে, কিন্তু সবাই ‘গোল্ডস্মিথ’ হতে পারবে না। পৃথিবীতে সম্পদ সীমিত। আর এখানে একটি তিক্ত সত্যি হল-এখানে কাউকে ওপরে উঠতে হলে কাউকে নিচে নামতে/নামাতেই হবে। সবাই একযোগে বড়লোক হওয়ার ধারনাটি পপুলিজম মাত্র।

আমাদের দেশের উদ্যোক্তারাও অনেক সময় একই ভুল করেন। সবাই একই পণ্য, একই বাজার এবং একই কৌশলের পেছনে ছুটে গিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রাইস ওয়ারে জড়িয়ে পড়েন। অথচ নতুন মূল্য সংযোজন, নতুন বাজার বা ভিন্ন সক্ষমতা তৈরির দিকে নজর দেন তুলনামূলক কম। আবার কোনাকানচিতে হাই-ভ্যালু প্রোডাক্টের কথা যারা বলেন, তারাও আংশিক সত্য বলেন। কারণ এই সেক্টর মূলত Buyer-Driven Market; এখানে উৎপাদক একা সিদ্ধান্ত নিলেই বাজার বদলে যায় না। উৎপাদকের একার হাতে পোডাক্টের চয়েজ না।

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা ও আমাদের নিয়তি

আমাদের এই ট্রাইব বা গোত্রের সমস্যাটা স্রেফ সাময়িক কোনো ‘ট্রেন্ড’ বা ‘ফ্রিক’ না; বিষয়টার শিকড় আরও অনেক গভীরে। এমনকি এই অন্ধত্বকে বোঝাতে ‘হুজুগ’ শব্দটাও আমার কাছে যথেষ্ট মনে হয় না। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার পেছনে পেছনে ছুটে গিয়ে সেই অবুঝ ইঁদুরগুলোর সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার পেছনের আত্মঘাতী মানসিকতাটার সঠিক বাংলা নাম আসলে কী হতে পারে, গায়িজ?

বাংলাদেশে এই হুজুগ বা পপুলার মেজরিটি মেনে চলার এক মারাত্মক প্রবণতা আছে। কিন্তু মনে রাখবেন—’সবাই নিচ্ছে’ কিংবা ‘এটা খুব চলছে’—এই স্রোতে কান দেওয়াটা সবচেয়ে বড় আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

মেজরিটিকে ফলো করার সুবিধা হলো—চ্যালেঞ্জগুলো আগে থেকেই চেনা থাকে, খুঁত কম ধরা পড়ে, এবং দলে অনেক লোক পাওয়া যায়। ফলে ডলা বা বাঁশ খেলে সেটা অনেকের ওপর দিয়ে যায়, একার গায়ে লাগে না।

কিন্তু এর প্রধান অসুবিধা হলো—এখানে প্রতিযোগি আকাশচুম্বী, এবং আমাদের এই ভূখণ্ডের মতো দেশে ‘পপুলার মেজরিটি’ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বেশিরভাগ সময়ই ভুল সিদ্ধান্ত নেয়।

তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ নব্বইয়ের দশকের সেই কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়ার হিড়িক। স্রোতে গা ভাসিয়ে লাখ লাখ ছেলেমেয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ল, কিন্তু দিনশেষে দেখা গেল, সেই তথাকথিত বিজ্ঞানীদের একটা বড় অংশেরই প্র্যাক্টিক্যাল কোনো জব বা কাজের সুযোগ হলো না।

ঠিক তেমনি আজ নারীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও শুধু ট্রেন্ড দেখে দলে দলে বুটিক বা এফ-কমার্সে নামিয়ে দিলেই সবার ভাগ্যবদল হয় না, যদি না তার সঙ্গে প্রফেশনাল স্কিল, সক্ষমতা এবং মার্কেট অ্যানালিসিস যুক্ত থাকে।

তাই অনুরোধ—হুজুগে না মেতে একটু ঠান্ডা মাথায় ডাটা অ্যানালিসিস করুন। স্রোত কোন দিকে যাচ্ছে তা দেখার চেয়ে আপনার সামর্থ্য ও সত্য কোনটা তা যাচাই করুন। নিজে যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, তবে একজন মেন্টরের বা পথপ্রদর্শকের সহায়তা নিন।

তবে হ্যাঁ, মেন্টর চয়েস করার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকবেন; কারণ আজকের বাজারে আসল মেন্টরের চেয়ে মেন্টর সেজে বসে থাকা ছদ্মবেশী গিরগিটি এবং চটকদার মোটিভেশনাল স্পিকারের সংখ্যাই অনেক বেশি।

#SocialMedia #SocialMediaPsychology #Psychology #BehavioralPsychology #CognitiveBias #AvailabilityHeuristic #EchoChamber #BandwagonEffect #ConfirmationBias #MassPsychology #DigitalManipulation #Algorithm #Algorithms #InformationBubble #CriticalThinking #MediaLiteracy #DataDrivenThinking #DecisionMaking #HumanBehavior #Society #SocialAnalysis #CulturalAnalysis #PublicOpinion #NarrativeControl #Mindset #DigitalCulture #OnlineBehavior #Influence #TrendCulture #HypeCycle #viral #freak #Leadership #Mentorship #GenZ #FutureOfWork #BangladeshSociety #Bangladesh #ThoughtLeadership #SocietalTrends #PersonalDevelopment #AnalyticalThinking #craze #facebookmania #facebookhype #facebookdestruction #facebooktrend #crush #trend

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *